Thursday

Bangla Golpo Oporadhi By Alif Khan | Bangla Story Online | Bangla Book PDF

SHARE

Bangla Golpo  Oporadhi By Alif Khan | Bangla Story Online | Bangla Book PDF



গল্পের নামঃ "অপরাধী"
.
লেখকঃ আলিফ খান (মেন্টাল)
.
গল্পটা শুরু হয়েছিল সেদিন,,
আমির খান না না সেই আমির খান না।আমির ইন্টার ১ম তে পড়ে।আমিরের বাবা আমির খানের বিরাট ভক্ত তাই ছেলের নাম আমির খানই রেখে দিয়েছে।যদিও আমির অনেক লম্বা আসল আমির খানের মত খাটো নয়।
যাই হোক,আমির খুবই ভিতু ছেলে।এখনকার ছেলেদের মত মেয়ে দেখলেই শিশ কিংবা ফেসবুকে মেয়ে দেখলেই এড দিয়ে চান্স মারা এসবের মধ্যে নেই।
ফেসবুকে নিজের প্রোফাইল পিকটাও আমির খানের দিয়ে রেখেছে।কারন একটাই সে দেখতে কালো। তার নিজের ছবি দিলে সেগুলা স্কিনশট দিয়ে বিভিন্ন ট্রল পেইজে পোষ্ট করে মজা নেয়।
এভাবেই সাদামাটা দিন-কাল চলছিল তার।
একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমির ফেসবুকে ঢুকল।তাকে কেউ একজন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়েছে। একাউন্ট নাম "মাহিয়া মাহি" ছবি দেয়া নাইকা মাহিয়া মাহির।
আমির একসেপ্ট করে ফেসবুক বন্ধ করে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে কলেজ চলে গেল।
কলেজ শেষ করে দুপুরে ফেসবুকে ঢুকল।
কিছুক্ষন পরই সেই মাহিয়া মাহির ম্যাসেজ
.
মাহিঃস্যার আমি বাংলাদেশ থেকে অভিনেত্রী মাহি বলছি
আমিরঃ মজা নেন আমার সাথে
মাহিঃ মজা না করলে কি করবো, একদিন তো মরেই যাব
আমিরঃকে আপনি? আমার পরিচিত কেউ আমার সাথে মজা নিচ্ছেন
মাহিঃ আপনারে চিনলে সত্যি এড দিতাম না
পাথরের টুকরা
আমিরঃ আমি পাথরের টুকরা হইলে, আপনি তেলাপোকার খালামনি
.
এভাবে খুনসুটি কিছুক্ষন চলার পর বন্ধ হয়ে গেল।
রাতে আমিরের এক বন্ধু বলল "মাম্মা এরকম ফেইক একাউন্ট হাজার হাজার ফেসবুকে"
তারপর রাতে আবার ফেসবুকে আসল আমির।
.
আমিরঃ আমার একাউন্টে কোনো ফেইক আইডির জায়গা নাই
মাহিঃ বলদের নানা ফেইক আইডি চিনেন আপনি
আমিরঃ খুব ভাল চিনি।এবং আমি খুব বুঝতে পারছি এটা ফেইক
মাহিঃ হাম্বার দাদা এত বেশি কেন বুঝেন
আমিরঃ সাবধান একদম গালি দিবেন না।আপনার কথাবার্তাই ছেলে ছেলে গন্ধ পাচ্ছি।মেয়েরা এভাবে কথা বলে নাকি
মাহিঃ ০১৯৬****১৪*
আমিরঃ আমার বন্ধুরা বলছে অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করতে আর অপরিচিত নাম্বারে কল না দিতে
মাহিঃ দিলে কি হয়?
আমিরঃ আইডি হ্যাক হয়ে যায়
মাহিঃ ও মোর আল্লা। ওইটা আমার নাম্বার
.
তারপর আমির ফোন দিতেই ওইপাশ থেকে "এত বলদ কেন" 
আমিরঃ এইটা নিশ্চিত চায়না ফোন ভয়েস চেঞ্জ করে কথা বলছেন
মাহিঃ ওকে রাখলাম
আমিরঃ না না ভালই তো লাগছে। সরি
.
এভাবেই শুরুটা।কথা হত ফেসবুকে ফোনে।
আমির জেনেছিল মেয়েটির নাম "তানিশা সুলতানা মাহি" ক্লাস ৯ম এ পড়ে। চিটাগাং থাকে।
এভাবেই ফোনে,ফেসবুকে,ম্যাসেঞ­­্জারে কথা চলছিল। তারপর একদিন আমির মাহিকে দেখতে চাইল।
মাহি তার ৬টা ছবি আমিরকে দিল।
আমিরঃ বাহ তুমি তো নাইকা মাহির চাইতেও বেশি সুন্দর।আকাশের চাঁদ
মাহিঃ পাম পরে দাও।তুমার ছবি দাও
আমিরঃ না না আমি দেখতে অনেক খারাপ।
মাহিঃ এতদিন যাবত কথা বলছি হয়ত বন্ধুর চাইতে কিছুটা বেশি হয়ে গেছো। আমার কি তোমাকে দেখতে ইচ্ছা করে না"
আমিরঃ প্রথমে কি বললা ;
মাহিঃ কিছু না। ছবি দাও
.
আমির তার ছবি দিল।দেখতে কালো,চাপা ভাংগা,চিকন আমিরকে দেখে মাহির রিপ্লে ছিল "প্রথমবার সুন্দর দেখে পা বাড়িয়েছিলাম,এবার অসুন্দর দেখেই পা বাড়াই,দেখি ভালবাসাটা কোথায়? "
তারপর তাদের কথা হত।তাদের কথা বলার মাধ্যম ফেসবুক কিংবা ফোন থেকে ইমু,হোয়াটস এপ এ চলে গেল কিছুক্ষন পর পরই ভিডিও কল।তাদের রিলেশনশিপটা আন-অফিশিয়াললি ভালবাসা হয়ে গিয়েছিল।শুধু মুখে বলা বাকি ছিল।তাদের দুজনেরই আগে রিলেশন ছিল সেগুলা শেয়ার করে নিল।
তারপর একদিন আমির বলছে,,
আমিরঃ আমি আজকে কি স্বপ্নে দেখছি যানো
মাহিঃ কি
আমিরঃ আমার সাথে একটা মেয়ের বিয়ে হইতেসে। পাত্রির ঘোমটা খুলার পর দেখি একদম তোমার মত চেহারা।তারপর আমি অজ্ঞান হয়ে গেছি আর ঘুম থেকে উঠে গেছি।
মাহিঃ আমিও আজকে সেইম স্বপ্ন দেখছি
আমিরঃ দুজনকে সেইম স্বপ্ন দেখানোর মানে কি? তাহলে কি আল্লাহ চায় এটা হোক।
মাহিঃ হয়ত
আমিরঃ আল্লাহ যা চাইবে তা তো আমাদের করতেই হবে বাধ্যতামূলক। তাই আমি মেনে নিলাম শুধু আল্লাহর ইচ্ছায়।
মাহিঃ আমিও।
.
তারপর ভিডিও কলটা কেটে দুজনেরই ঠোটের কোনে মুচকি হাসি।
এভাবে রিলেশনশিপ শুরু।তারপর থেকে কথা বলার মাত্রা আর বেড়ে গেল। রাত ১০টা থেকে সকাল ৫টা অবদি কথা হত।
প্রায় ৬মাস হয়ে গেছে।তারা এখন দুজন দুজনকে ছাড়া ১মিনিট থাকতে পারে না।
এবার তারা প্লানিং করছে দেখা করার।
দুজন মিলে ফিক্সড করলো ১২তারিখ দেখা করবে।আমির ঢাকা থেকে চিটাগাং যাবে।মাহি বোরকা পড়ে দেখা করতে আসবে।
আমিরঃসকাল ১০টায় বাস। কত টাকা নিয়ে বের হব?
মাহিঃ ১০হাজার।
আমিরঃ এত কমে হবে নাকি? আমার জমানো টোটাল ১৫হাজার নিয়েই বের হব এবং আমার মাহিমনির জন্য একটা সারপ্রাইজ গিফট থাকবে
মাহিঃ আমার কিচ্ছু লাগবে না শুধু তোমার হাতে হাত রাখতে চাই।
পরের দিন আমির বাসে উঠে গেছে।বাসে সারাক্ষন কথা বলতে বলতে গেল। চিটাগাং যেই পার্ক এ তাদের দেখা করার কথা সেখানে আমির বসে আছে। হাতে একটা গিফট এবং একটা লাল গোলাপ।
কিছুক্ষন পর আমির দেখতে পাচ্ছে। বোরকা পরে কাধে ব্যাগ ঝুলিয়ে একটা বাচ্চা মেয়ে যার মুখ ঢাকা এদিকেই আসছে। কিছুটা দূরে থাকা অবস্থায় দৌড়ে এসে আমিরকে জড়িয়ে ধরলো। পার্ক এর অন্যরা সবাই তাকিয়ে আছে।মাহি আমিরকে জড়িয়ে ধরে কাদছে।
আমিরঃ এই পাগলী কাদে কেন? ছাড় সবাই দেখছে।
মাহিঃছাড়ব না। 
আমিরঃ আচ্ছা এদিকে মানুষ। চল ওইদিকে যাই।
তারপর তারা একটু ভিতরের দিকে গেল যেখানে মানুষ নেই বললেই চলে।
তারা দুজন বসলো।
.
হঠাত ৫-৬টা ছেলে আসলো। তাদের ঘিরে ধরল, একজন আমিরের গলায় ব্লেড ধরলো।
আমিরঃ প্লিজ যা লাগে নিয়ে যায় কিন্তু আমার মাহির কোনো ক্ষতি করো না।
তখন সেই ৫জনের থেকে ১জন বলে "যা করার তোকেই করবো,ম্যাডামকে করবো কেন?
তখন আমির মাহির দিকে তাকিয়ে দেখে মাহি বোরকা খুলে আধুনিক ড্রেসে দাঁড়িয়ে আছে আর আমিরের দিকে তাকিয়ে হাসছে।
এদিকে ওরা আমিরের মোবাইল,১৩হাজার টাকা সব হাতিয়ে নেয়। ফুলটা পারাচ্ছে সবাই এবং শেষ এ মাহিও একটা পাড়া দিল।
ছেলেগুলা গিফটটা ছিড়ে দেখে "একটা আই-ফোন" 
মাহি আমিরকে বলেছিল তার মোবাইলটা ভাংগা তাই আমির এটা নিয়ে এসেছিল।
ছেলেগুলা সব হাতিয়ে নিয়ে বলছে "ম্যাডাম চাহিদা অনুযায়ী পেলাম না তো"
মাহিঃ ঘাড়ের রক কেটে দে
আমিরঃ দাড়াও দাড়াও আর ৫হাজার টাকা দিতে পারবো।
মাহিঃ জলদি ব্যাবস্থা কর। অন্য ছেলের আসার টাইম হয়ে গেছে।
আমির তার বন্ধুর কাছে রাখা ৫হাজার টাকা বিকাশে এনে ওদের দিল। ওরা ওকে ভাড়া দিয়ে চলে গেল।
আমির প্রায় ৫মিনিট মাটিতেই থুম খেয়ে বসে ছিল।তারপর উঠে আস্তে আস্তে এসে বাসে উঠে গেল।
ঢাকায় এসে তার বন্ধুকে সব বললে,আমিরের বন্ধু বলে,
বন্ধুঃ চল মামলা করমু
আমিরঃ থাম। আদালতের কাঠগড়ায় ওকে দাড়াতে দেখতে পারবো না আমি কিন্তু মনের কাঠগড়ায় ও সারাজীবন অপরাধী হয়ে থাকবে।




-----


Bangla Story Online
-"অর্থি,, ও অর্থি? তোর বাবা এসেছে। তাড়াতাড়ি আয়,, দেখে যা। ডাকছে তোকে।"
অর্থি মায়ের কথার তাল না দিয়ে প্লেটে ভাত বাড়তে লাগলো। দুধ টা গরম হবে কখন কে জানে! আম্মা তো আবার ঘন জ্বাল পড়া দুধ ছাড়া খায় না। এর ভেতর কি একবার গিয়ে দেখে আসবে সত্যিই কি বাবা এসেছে তার মায়ের ঘরে?? হুর.... এটা কি আদৌ সম্ভব নাকি! মায়ের কথা শুনে শুনে নিজের জ্ঞান বুদ্ধি ধীরেধীরে লোপ পাচ্ছে তার....
বেশ খানিকটা সময় নিয়ে দুধ টা জ্বাল করলো অর্থি। তারপর ভাতের মাঝে ঢেলে নিয়ে একদম নরম করে মাখিয়ে দিয়ে নিজের হাত ধুয়ে ফেললো সে। চিনির কৌটো খুলে পাশেই সামান্য চিনি ঢেলে সে পা বাড়ালো মায়ের ঘরের দিকে। এই টুকু সময়ের ভেতর মা একটা বার ডাকেও নি। সেই যে বাবা এসেছে বলে ডাকছিল সেটাই শেষ ডাকা। ঘুমিয়ে টুমিয়ে পড়লো নাকি আবার কে জানে!
ঘরে ঢুকতেই অর্থি দেখলো সে যা ভেবেছিল সেটাই। তার মা ঘুমিয়েই পড়েছে। ডাকবে কি? ভাতের প্লেট আর গ্লাস একপাশে নামিয়ে রেখে হালকা গলায় ডাকলো অর্থি,
-"আম্মা, আম্মা? ঘুমিয়ে পড়েছো?"
শান্তি বেগম এ ডাকের কোনো জবাব দিলেন না। দেখে মনে হচ্ছে গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। দ্বিতীয়বার মাকে ডাকতে গিয়ে গলা কেপে উঠলো অর্থির। গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেও তো আম্মা নিশ্বাস ফেলছে না! আম্মা কি তাহলে আর কোনোদিন তার ডাকের জবাব দেবেন না? ভাবতেই বুকটা কেপে উঠলো অর্থির। খুব ধীরগতিতে সে হাত রাখলো তার মায়ের বুকে। উহু,, বুক ওঠানামা করছে না। এরপর হাতের পালস দেখার জন্য হাত ধরতেই সে টের পেল তার মায়ের হাত টি ঠাণ্ডা বরফ হয়ে রয়েছে। এক অদ্ভুত ঠান্ডা,, এমন ঠাণ্ডাভাব সে কখনওই অনুভব করে নি। মায়ের হাত হাত থেকে নামিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো অর্থি। সে বুঝতে পারছে না এখন কি করবে সে! চিৎকার করে কাঁদবে? ছুটে বের হয়ে যাবে রাস্তায়? লোক ডাকবে? না.. আপাতত একটিও করতে ইচ্ছে করছে না তার। সে মায়ের ফোনটি খুঁজতে লাগলো। কোথায় রেখেছে আম্মা ফোনটি??
ঐতিহ্য চুলোয় রান্না বসিয়েছে। নিহাল সন্ধ্যায় ফেরার সময় খাসির মাংস এনেছে। বায়না ধরেছে আজ রাতে খাসির মাংস দিয়ে গরম ভাত খাবে। প্রথম প্রথম এই গরমের ভেতর এসব ঝামেলা করতে রাজী না হলেও পরবর্তীতে নিহালের বায়নায় কাছে হারতে হয়েছে তাকে। অবশ্য এখন তেমন একটা গরমও লাগছে না। আকাশে মেঘ ধরিয়েছে। বৃষ্টি হবে হয়তো....
-"এই ঐতিহ্য? তোমার ফোন বাজে.."
রান্নাঘর থেকেই চেঁচিয়ে উত্তর দিল ঐতিহ্য,
-"দিয়ে যাও।"
-"আমি কাজ করছি। তুমি নিয়ে যাও।"
কথাটা শোনার সাথে সাথেই মেজাজ টা চরম লেভেলের খারাপ হয়ে গেল ঐতিহ্য। এই ব্যাটার আবদার পূরণ করতেই এতো রাতে এসব রাঁধতে বসেছে সে!!
ঘরে এসে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কিছুটা অবাক হলো ঐতিহ্য। আম্মার নাম্বার থেকে কল এসেছে। বাবা মারা যাবার দিন ওভাবে বাড়ি ছেড়ে বেড়িয়ে আসার পর থেকে কখনোই তার মা তাকে কল করেনি। তাহলে হঠাৎ আজ কি এমন মনে করে কল দিল? তার প্রেগন্যান্সির খবর পেয়েছে নাকি কোনোভাবে!! ফোন রিসিভ করে মৃদু গলায় ঐতিহ্য বললো,
-"হ্যালো,, আম্মা...."
সাথেসাথেই ওপাশ থেকে শুনতে পেল অর্থির গলার আওয়াজ।
-"আপু.......?"
আপু ডাক শোনার সাথে সাথেই বুকের ভেতর থেকে এতদিন পুষিয়ে রাখা অভিমানের পাথর টি নেমে গেল ঐতিহ্যর। এতোদিনের তীব্র এক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেল শেষমেশ...
-"কেমন আছিস রে তুই? রাগ করেছিলি আমার উপর.. না?"
ধীর গলায় উত্তর দিল অর্থি,
-"উহু..."
-"তাইলে এতোদিন একটাবার কল দিস নি কেন! এতোটাই খারাপ কি তোর এই বোনটা? বল,, খুব খারাপ?"
-"উহু...."
-"এই কয়টা মাস এভাবে আমাকে ভুলে থাকতে পারলি তুই? একবারো আমার সাথে কাটানো সময় গুলোর কথা তোর মনে পড়লো না?"
-"মাফ করে দাও আমায়, আপু। আমার ওভাবে সেদিন কথা বলা উচিৎ হয় নি।"
-"আরে বোকা,, কাঁদছিস কেন? আমি তোর ওদিনের কথায় কিছুই মনে করিনি। তুই তো ভূল কিছু বলিস নি।"
-"ভুলই বলেছি.. বাবার যখন যেভাবে মৃত্যু লেখা ছিল সেভাবেই হয়েছে। শুধুশুধু সেদিন না বুঝে যা নয় তাই বলেছি। প্লিজ, আপু আমাকে মাফ করে দাও..."
-"আমি কিছুই মনে করিনি... বাদ দে এসব কথা। তুই কোথায়? কেমন আছিস? আর আম্মার নাম্বার দিয়ে কল দিলি যে!"
মায়ের কথা উঠতেই হুশ ফিরলো অর্থির। সে কি বলতে কল করেছিল,, আর কি বলছে!!
-"হ্যাঁ,, আপু। আ.. আম্মা আর নেই।"
বলেই ব্যাকুল স্বরে কাঁদতে শুরু করলো অর্থি। ঐতিহ্য কিছু সময় নিল সব কিছু বুঝে উঠার। তারপর কাঁপাকাঁপা গলায় বললো,
-"ইন্নালিল্লাহ... কখন কিভাবে? আর কোথায় তোরা?"
-"বাসায়, আপু। প্লিজ, তুমি তাড়াতাড়ি চলে এসো। এখনি আসো, আপু। আম্মাকে এভাবে একা নিয়ে থাকতে ভয় লাগছে।"
হতভম্ব হয়ে ঐতিহ্য বললো,
-"একা মানে? ভাইয়া ভাবি কোথায়?"
-"নেই,, তুমি তাড়াতাড়ি আসো।"
-"হু,, আমি আসছি। তুই একদম ভয় করিস না। পারলে নিচ তলার ভাড়াটিয়া দের কাওকে ডাক।"
-"তুমি তাড়াতাড়ি আসো, আপু।"
ফোন কেটে দিয়ে আর একসেকেন্ড দেরি করলো না ঐতিহ্য। চুলো বন্ধ করে দিয়ে নিহালের সামনে এসে বললো,
-"ওঠো, তাড়াতাড়ি। গুলশান যেতে হবে। আম্মা মারা গেছে। বাসায় কেউ নেই অর্থি ছাড়া। ও খুব ভয় পাচ্ছে। তাড়াতাড়ি যেতে হবে।" 
ঐতিহ্যর কথা শুনে হতবাক হয়ে গেল নিহাল। কি সব বলছে ঐতিহ্য?
-"উঠছো না কেনো? তুমি কি যাবে না আমার সাথে?"
-"যাবো..... কে কল করেছিল?"
ঐতিহ্য বিরক্ত গলায় জবাব দিল,Bangla Book PDF
-"যার ইচ্ছে সে কল করেছিল.. তোমাকে এখন বলতে আমার হবে কে কল করেছিল! আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না তোমার? আমার নিজের আম্মার মৃত্যুর খবর নিয়ে মজা করবো আমি!!"
ঝাড়ি খেয়ে আর কোনো প্রশ্ন করলো না নিহাল। যে অবস্থায় ছিল দুজন সেই অবস্থায়ই বেড়িয়ে পড়লো গুলশান ২ এর উদ্দেশ্যে।
সারারাতে মাহসানের কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না। ফোনটাও বন্ধ। হয়তো অতৈন্দ্রিলা নামের মেয়েটার সাথে এক অপবিত্র খেলায় মেতে আছে। তাই আর রাতে শান্তি বেগমকে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিল না অর্থিরা। দুই বোন মিলে সারারাত মায়ের পাশে বসে স্মৃতিচারণ করতে লাগলো মায়ের। মাঝে সামান্য মাহসান এবং তৃষ্ণার ব্যাপার নিয়েও হালকা আলোচনা হয়ে গেল অর্থি এবং ঐতিহ্যর মাঝে।
খুব ভোরের ট্রেনে তৃষ্ণাকে নিয়ে তৌহিদ রওনা হলো ঢাকার উদ্দেশ্যে। রাতে শাশুড়ি মারা যাবার খবর পেলেও তৃষ্ণার এই অবস্থা নিয়ে রাতেই রওনা হবার সাহস পাচ্ছিল না তৌহিদ। ওদিক থেকে অর্থিও নিষেধ করছিল। তাই ভোরের অপেক্ষাতেই পুরো রাত নির্ঘুমে কাটিয়ে ভোর হবার সাথে সাথেই তৃষ্ণাকে নিয়ে রওনা হলো তৌহিদ। সিটে বসেই বোনের উদ্দেশ্যে বললো,
-"কাঁদছিস কেন! আল্লাহর জিনিশ আল্লাহ নিয়ে গেছে। কেঁদে কেঁটে কি লাভ?"
-"লাভ লোকসান হিসেব করে কেউ কাঁদে না, ভাইয়া।"
-"তারপরও কাঁদবি না। কান্নাকাটি করে নিজের শরীর খারাপ করার কোনো মানে আছে!"
-"তুমি বুঝবে না। আম্মা আমার কাছে কি ছিল আমি জানি.... কেন আমি কাল আসতে গেলাম! আমি না আসলে বোধহয় আম্মার কিছু হতো না।"
-"বোকার মত কথা বলছিস কেন! তোর আশা যাওয়ার সাথে মারা যাবার কি সম্পর্ক! পৃথিবী টা দিনেদিনে কুসংস্কারে ভরে যাচ্ছে।"
তৌহিদের কথার পিঠে কোনো কথা বললো না তৃষ্ণা। পুরো রাস্তা নিরবে অঝোর ধারায় চোখের জল ফেললো সে।
দুপুর ১২ টার দিক বাসায় ফিরলো মাহসান। বাসার সামনে এত ভিড় দেখে কিছুটা অবাক হলো সে। গাড়ি থেকে নেমে উপরে উঠতে যাবে এমন সময় এক ভাড়াটে এসে বললো,
-"আরে ভাই! কোথায় ছিলেন আপনি?"
মুখে বিরক্ত ফুটিয়ে মাহসান জবাব দিল,
-"আপনাকে বলতে হবে!"
মাহসানের উত্তরে কিছুটা লজ্জিত বোধ করলো লোকটি। হালকা কেশে বললো,
-"আমাকে বলতে হবে তেমন কিছু বলি নি। আপনার মা কাল রাতে মারা গেছে। অথচ আপনার কোনো খোঁজখবর নেই। আপনার জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে যোহরের নামাযের পর মাটি ঠিক করেছে। তাই বলছিলাম....."
লোকটির কথা শুনে আর দেরি করলো না মাহসান। দৌড়িয়ে উঠে গেল দোতালায়...
যোহরের নামায শেষে মাটি হয়ে গেল শান্তি বেগমের। ছেলেমেয়ে, আত্মীয়স্বজন পরিবার ছেড়ে চিরকালের মতো সেও বিদায় নিল স্বার্থপর এই পৃথিবী ছেড়ে। তাকে ধোয়ানো থেকে শুরু করে মাটি পর্যন্ত সব দিকের দায় দায়িত্ব পালন করলো তৌহিদ।
বিকেলের মাঝে সব আত্মীয় স্বজন যে যার মত চলে গেল। মহসিন চৌধুরী এবং শান্তি বেগমের একসময়কার এই সুখের নীড়ে শুধু রয়ে গেল তার ছেলেমেয়েরা। নিহাল এবং তৌহিদ মাগরিবের নামাযের উদ্দেশ্যে বের হতেই ঐতিহ্য ঢুকলো তার ভাই মাহসানের ঘরে। মাহসান এই ভরা সন্ধ্যায় ঘর অন্ধকার করে বিছানায় শুয়ে রয়েছে। ঘুমিয়েছে কি?
-"ভাইয়া,, ঘুমিয়েছো?"
চোখ খুলে উঠে বসলো মাহসান। বললো,
-"না,, আয়।"
-"নামাযে গেলে না?"
-"না।"
-"অন্যদিন নাই বা পড়লে। আজ তো আম্মার খাতিরে নামাযে যেতে পারতে।"
ওপাশ থেকে মাহসানের সাড়া না পেয়ে ঘরের আলো জ্বালালো ঐতিহ্য। তারপর ভাইয়ের পাশে গিয়ে বসলো।
-"কিছু কথা ছিল..."
-"বল।"
নিজের মনকে সাহস যুগিয়ে ঐতিহ্য তীক্ষ্ণ গলায় বললো,
-"আমি আর নিহালের সাথে থাকতে চাই না।"
ঐতিহ্যর এ কথায় হতবাক হয়ে মাহসান বললো,
-"কেন! কি সমস্যা?"
-"অনেক সমস্যা।"
-"আমাকে খুলে বল। কিছু করেছে নিহাল?"
-"ও একটা ক্যারেকটারলেস ছেলে, ভাইয়া। ওর মতো বাজে স্বভাবের ছেলের সাথে আমি সারাজীবন কাটাতে পারবো না। ওর আমাকে ছাড়াও বাইরে হাজার টা মেয়ের সাথে রিলেশনশিপ আছে। আমি নিজে চোখে ওকে বাজেবাজে সব মেয়েদের সাথে দেখেছি।"
-"কি সব বলছিস এগুলো! নিহালকে দেখে, ওর সাথে কথাবার্তা বলে তো এসবের কিছুই বোঝা যায় না। তুই কি ঠিকঠাক জেনে বলছিস?"
-"হু... আমি নিজ চোখে দেখেছি।"
বোনের কথায় নিজেকে আর সামলাতে পারলো না মাহসান। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
-"কেন! নিজে ওর হাত ধরে পালিয়ে গিয়েছিলি না! তাহলে আজ আমাকে এসব বলতে আসছিস কেন! পালানোর সময় এসব মনে ছিল না! এখন যা হবে নিজে সামলা। হারামজাদা নিহালের বাচ্চা নিহাল। ওরে দেখেই আমার ক্যারেকটারলেস মনে হইছে। ক্যারেকটারলেস না হলে কোনো শিক্ষক ছাত্রীর সাথে প্রেম করতে পারে! পালিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করতে পারে! ওই কুত্তার বাচ্চা কই রে! ওরে যদি আজ আমি ওর জায়গা না দেখাই দিছি আমার নাম মাহসান না। শালার সাহস দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি আমি। আমার বোনের সাথে বাটপারি করে! কোথায় ওই কুত্তার বাচ্চা?"
বলতে বলতেই ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে গেল মাহসান। ছোট্ট একটা নিশ্বাস ফেলে ঐতিহ্যও পিছু নিল তার ভাইয়ের।
নিহাল এবং তৌহিদ মসজিদ থেকে বের হতেই তৌহিদ বললো,
-"আপনি বাসার দিকে এগোন। আমি দেখি হালকা নাস্তা টাস্তা নিয়ে আসি।"
-"চলুন,, একসাথেই যাই।"
-"আমার সামান্য কাজও ছিল। আপনি যান,, আমি আসছি।"
আর কথা বাড়ালো না নিহাল। মৃদু হেসে রওনা দিল বাড়ির দিকে।
বাসায় ঢোকার সাথেসাথেই মাহসান এসে সরাসরি পাঞ্জাবির কলার চেপে ধরলো নিহালের। পরিস্থিতি কিছু বুঝে উঠবার আগেই নিহালের গালে কষিয়ে থাপ্পড় বসিয়ে দিল মাহসান।
-"শুয়ারের বাচ্চা। ঘরে বউ রেখে বাইরে বেশ্যা দরকার পড়ে তোর? তাইলে বিয়ে করছিলি কেন! বেশ্যাপাড়ায় গিয়ে নিজের শরীরের ঝাঁজ মেটাইতে পারিস নাই? আমার বোনের সাথে চিটারী করিস তুই? চিনোস আমারে? তোর কি হাল করতে পারি আমি সে সম্পর্কে তোর কোনো আইডিয়া আছে? ছোটলোকের বাচ্চা ছোটলোক। আমার বোনকে কষ্ট দিছোস তুই! বান্দির পো আমার বোনরে কষ্ট দিছোস!"
অর্থির ঘরে চুপচাপ শুয়ে ছিল তৃষ্ণা। হঠাৎ মাহসানের চেঁচামেচি শুনে বেড়িয়ে এল ঘর ছেড়ে। ড্রইং রুমে এসে অবাক হয়ে গেল সে। মাহসান ঐতিহ্যর হাজবেন্ডের কলার ধরে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করছে। পাশেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে সেই কান্ড দেখছে ঐতিহ্য এবং অর্থি। কি হচ্ছে এসব!! এগিয়ে গিয়ে মাহসান কাঁধে হাত রেখে তৃষ্ণা বললো,
-"কি করছো এসব! ছাড়ো ওকে! এভাবে গালিগালাজ করছো কেন!"
মাহসান তৃষ্ণার হাত কাঁধ ছেড়ে নামিয়ে দিয়ে বললো,
-"তুই সর এখান থেকে। তোর কাছে জবাবদিহি করতে হবে আমার!"
তৃষ্ণার সাথে এভাবে কথা বলতে দেখে এবারে মুখ খুললো ঐতিহ্য। ভাইয়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো,
-"ছাড়ো ওকে,, ভাইয়া।"
-"ওকে ছাড়বো কি! ওকে আজ বুঝাই দিব কি ভুল টা করেছে ও!"
ভাইয়ের কথায় উঁচু গলায় ঐতিহ্য বললো,
-"ছাড়তে বলেছি ছাড়ো। আর তুমি কি বুঝাবে ওরে! তুমি নিজেই তো একটা ক্যারেকটারলেস। ঘরে বউ রেখে বাইরে শরীরের ঝাঁজ মেটাও। প্রেগন্যান্ট বউকে এই সময়টায় সাপোর্ট না করে বাজে ব্যবহার করো তার সাথে। মাত্রই তো তার নমুনা দেখলাম।"
বোনের এমন কথায় হতভম্ব হয়ে নিহালকে ছেড়ে দিল মাহসান। ওদিক থেকে ঐতিহ্য বলার উপরেই আছে....
-"নিহাল এমন ধরনের ছেলে নয়। নিহালের সাথে সারাজীবন কেন, মরনের পরও আমি ওর সাথে থাকতে চাই। এতোক্ষণ তোমাকে মিথ্যা বলেছি। শুধুমাত্র এটাই বোঝানোর জন্য,,,,, নিজের বোন বোন আর অন্যের বোন কারো বোন নয়? নিজের বোন মেয়ে আর অন্যের বোন কারো মেয়ে নয়? নিজের বোন মানুষ আর অন্যের বোন মানুষ নয়? নিজের বোনের কষ্ট আছে আর অন্যের বোনের কষ্ট নেই? নিজের বোনের বেলায় ঠিকই ষোলো আনা অথচ অন্যের বোনের বেলায় এক আনা!! তুমি ভুলে গেলে আবারো তোমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি, তৃষ্ণা ভাবিও কারোর বোন।"
(চলবে)
SHARE

Author: verified_user