Wednesday

Bengali Story Books |Bangla Boi Review Collection |Bangla Golpo Free Download | Humayun Ahmed, Somresh Mojumdar,Anisul Haque, Masud RanaAnd More

SHARE

Bengali Story Books |Bangla Boi Review Collection |Bangla Golpo Free Download | Humayun Ahmed, Somresh Mojumdar,Anisul Haque, Masud RanaAnd More

Bengali Story Books |Bangla Boi Review Collection |Bangla Golpo Free Download | Humayun Ahmed



বোতলে করে ভূতের বাচ্চা নিয়ে আসে। কে জানেন? স্বয়ং লেখক হুমায়ূন আহমেদ। হোমিওপ্যাথির বোতলে করে তার এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে ভূতের বাচ্চাটাকে পকেটে করে পুরে বাড়িতে আনেন তিনি। তারপরই ঘটে যত কান্ড। যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়। তবে কিনা বাচ্চা ভূত বলে কথা, তাই বেশিকিছু চাওয়াও যায় না। আবার লেখক হুমায়ূন ছাড়া কেউ এই ব্যাপারটা বিশ্বাসও করে না। হুমায়ূন আহমেদ স্কুলে পড়াকালীন ছিলেন খুবই অমনোযোগী। ক্লাসে বত্রিশ জন ছাত্র-ছাত্রীর ভেতর তার রোল নাম্বারই ছিল বত্রিশ তা জানা আছে নিশ্চয় আপনাদের। তো এই অমনোযোগী ছাত্রের জীবনের অনেক অদ্ভুত রহস্যের মধ্যে এটা এক স্মরণীয় রহস্য। তাদের অঙ্ক স্যার ছিলেন বেশ কড়া। কথায় কথায় বেতের ভয় দেখাতেন। নাম্বার দেওয়া বেত গুলো মোটা চিকন নির্ধারন করে। একদিন মার খেয়ে তার বন্ধু মুনির তাকে ভূত পোষার কথা বললো। হুমায়ূন অবাকও হলেন কিন্তু আগ্রহ নিয়ে গেলেনও। গিয়ে দেখলেন রবীন্দ্রনাথের মতো একজন বুড়ো মানুষ। এ যেনো স্বয়ং রবীন্দ্রনাথই। হুমায়ূনকে তিনি কবিতা পড়েও শোনাতেন। যেগুলো রবীন্দ্রনাথের লেখা ছিল। তো সেই বুড়োই তাকে ভূত সাপ্লাই করলো। সেই ভূত নিয়ে অঙ্ক স্যারের কি গজগজানি । বোতলের ভূতের বাচ্চাকে তিনি ক্লাসের সবার সামনে গিলে খেয়ে ফেললেন। সবাইকে বোঝালেন ভূত-প্রেত বলে কিছু নেই। কিন্তু অঙ্ক স্যার পড়লেন বিপদে। সেই বিপদ থেকে উদ্ধার হওয়ার জন্য আবার সেই বুড়োর শরণাপন্ন হতে হলো। অঙ্ক স্যারের পেট থেকে ভূত বের করে ফের বোতলে পুরে দিলো বুড়ো। তারপর বোতল ভূত নিয়ে শুরু হতে লাগলো অবিশ্বাস্য ঘটনা। স্কুলের ছুটি, ফুটবল ম্যাচে জেতা এগুলো কি বোতল ভূতের জন্যই নাকি তা এমনি এমনি ঘটে তা কিশোর হুমায়ূন বুঝতে পারেন না। দিনশেষে গিয়ে বোতলের ভূতের বাচ্চাকেই তিনি স্বীকৃত দেয়। বোতল ভূতকে নিয়ে কি কি কান্ড হয় তা জানতে ইচ্ছে করছে? তাহলে চট করে পড়ে ফেলুন বোতল ভূত। মাত্র ঘন্টার ব্যাপার। . পাঠ প্রতিক্রিয়া: কিশোর গল্পে একটা সরল বিশ্বাস থাকে। আমি সেই সরলতাটাকে উপভোগ করি। এই বইয়ের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। সরলা মনে পড়েছি সরল বিশ্বাসকে উপভোগ করেছি। ভূত বলে আসলেও কিছু নাই তা আমরা বড়রা বুঝি। কিন্তু কিশোরদের বোঝাবে কে? সত্যি কথা বলতে আমিও সেই অবুঝ সময়ে চলে গিয়েছিলাম। ভূতের বিশ্বাস ভর করেছিল। একটা ভূতের বাচ্চার জন্য হঠাৎ মায়ারও জন্ম নিয়েছিল মনে। কিন্তু পড়া শেষে আবার যে বড়দের ধারণা সেই বড়দের ধারণায় রয়ে গেলো। ভূত বলে কিছু নেই। যদি ভূত বলে কিছু নাই থাকে তাহলে ভূত নিয়ে লেখক কেনো লিখলেন। ভূত আছে বলেই লিখেছেন। ভূত আছে এমনটা বিশ্বাস করলে আমি আমার কিশোর বয়সকে উপভোগ করতে পারছি। আর বইটা পড়ার পর শ্রেষ্ঠ প্রতিক্রিয়া এটাই যে, লেখক আমাকে আমার কিশোর মনের সরলতাকে উপলব্ধি করালো। এতেই আমি বেজায় খুশি। বইটির উৎসর্গপত্র আমার কাছে বেশ লেগেছে। কি মমতামাখা ছিল তা। নাহ্ আর বেশিকিছু নয়। কিশোর জীবনে ফিরতে হলে চলুন আবার পড়ে ফেলি সময় করে "বোতল ভূত"। . বই: বোতল ভূত লেখক: হুমায়ূন আহমেদ প্রকাশনী: প্রতীক প্রকাশনী সংস্থা প্রকাশকাল: আগষ্ট ১৯৮৯ ঘরানা: কিশোর গল্প পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪ মুদ্রিত মূল্য: ৩৫ টাকা (তৎকালীন মূল্য) প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ অলঙ্করণ: রফিকুন নবী . ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৫/৫ ________নিষাদ নিনিত

বই : দ্য মিস্ট লেখক : স্টিফেন কিং | Bangla Book Review | Bangla Boi PDF

অজপাড়া গাঁয়ের একটা গ্রাম। সে গ্রামের পরিচিত এবং বড় একটা বাড়ি। যেখানে প্রতিদিন বিকেলে বাচ্চাদের হৈ চৈ এর কোলাহল শোনা যায়। সন্ধ্যা হলেই কূপীতে আলো জ্বালিয়ে পড়তে বসার তাড়া, আর পড়ার তালে তালে ঘুম। যেন সারা রাজ্যের ঘুম পড়ার সময়েই ভর করে। সেই ঘুম ঘুম চোখে ভাত খেয়ে বাড়ির মুরুব্বীদের কাছে ভূতের গল্প শোনা আর ভয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরা। এ যেন পরিচিত এক গল্প। গ্রাম বলতেই আমরা এমন একটা আদর্শ গল্প কল্পনা করি। চিরচেনা এ জগতের কতটুকুই বা আমরা চিনি? আমরা আমাদের প্রিয়জনদের পাশে থেকেও যখন নিজেকে একা অনুভব করি, খুব করে চাই সব যেন আগের মতো হয়ে যাক, কিন্তু কিছুই যেন বদলায় না তখন মনে হয় এ কোন অচিনপুরীতে এলাম আমি। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রঞ্জু। খুব ছোটবেলায় রঞ্জুর মা রঞ্জু আর রঞ্জুর বড় বোন লিলিকে নিয়ে তার নানার বাড়িতে এসেছিল। রঞ্জুর মা তার বড় নানীর একমাত্র মেয়ে, বড় নানী অপ্রকৃতস্থ থাকায় রঞ্জুর নানা আবার বিয়ে করেন সে ঘরের সন্তান নবু, বাদশা এবং সফুরা। রঞ্জুর মা এ বাড়িতে আসার কিছুকাল পরেই মারা যায়। তবুও সময়ের সাথে আর পরিচিতদের মধ্যে সংসারের অতিরিক্ত হিসেবে মানুষ হলেও তারা নিজেদের পরিবারহীন মনে করেনি। রঞ্জুর আপন বলতে শুধু ছিল তার বোনই, একদিন লিলিরও বিয়ে হয়ে যায়। লিলির বিয়ের পর সব যেন কেমন হয়ে যায়, তার প্রথমবারের মতো মনে হতে থাকে সে খুব নিঃসঙ্গ । জীবন চলমান, সময়ের সাথে তা নিজ গতিতে বয়ে চলে। পরিবারে নতুন সদস্য আসে, অতিরিক্ত সুন্দরী হওয়ায় সবাই তাকে ডাকে লাল বউ । আর রঞ্জু বলত লাল মামী। সমবয়সী মামা নবুই ছিল তখন রঞ্জুর কাছের একজন। তারা দুজনেই নিষিদ্ধ টান অনুভব করে সে লালমামীর প্রতি। রহস্যময়ী সে লালমামীর আচরণের কারণে রঞ্জু তাকে একই সময়ে ঘৃণা এবং ভালবাসতে শুরু করে। তবুও কেমন যেন বাঁধহীন, অগোছালো হয়ে যায় সংসারটা। যাদের মাঝে বড় হলো তাদেরই কেমন জানি অচেনা লাগতে শুরু হয়। কেউ আপন না জেনেও এই বাড়িটার, বাড়িরমানুষগুলোর প্রতি রঞ্জুর একটা মায়া তৈরী হয়। অদৃশ্য এক টান অনুভব করে সে বাড়িটার প্রতি কিন্তু তাকে যে যেতে হবে তার ডাক পড়েছে, এই অচিনপুরী ছেড়ে তাকে একদিন না একদিন যেতেই হবে আবার অচেনা কোন জায়গায়, অচেনাদের মাঝে। বই - অচিনপুর লেখক - হুমায়ুন আহমেদ

Humayun Ahmed's Book List Tags


  • dighir jole kar chaya go pdf download


  • tetul bone josna pdf

  • kothao keu nei by humayun ahmed download

  • bohubrihi humayun ahmed pdf

  • kathpencil by humayun ahmed

  • pufi humayun ahmed pdf

  • josna o jononir golpo humayun ahmed pdf

  • ditiyo manob by humayun ahmed

  • mirar gramer bari by humayun ahmed

  • misir ali apni kothay


  • kobi humayun ahmed
  • aaj himur biye
  • himur ache jol
  • humayun ahmed er uponnash
  • shuvro by humayun ahmed free download
  • nondito noroke by humayun ahmed
  • humayun ahmed science fiction pdf

  • himur ditiyo prohor pdf download
  • opekkha by humayun ahmed pdf
  • tomake by humayun ahmed pdf download
  • lilaboti by humayun ahmed pdf


  • krishno pokkho by humayun ahmed pdf
  • books of humayun ahmed download





-------------- মিসির আলির চশমা হুমায়ূন আহমেদ কাহিনী সংক্ষেপ: মিসির আলি চোখ পরিক্ষা করার জন্য ডাক্তারের কাছে গিয়েছেন। ডাক্তারের নাম হারুন। চোখ পরিক্ষা করার পর ডাক্তার মিসির আলির পরিচয় পেলেন। ডাক্তার হারুনের বিশ্বাস সে তার মায়ের আত্মার সাথে কথা বলে। যখনই ডাক্তার হারুন বিপদে পড়ে তখনই তার মা তাকে সাবধান করে। তার মায়ের আত্মা বলেছে আজ রাতে হারুনকে তার স্ত্রী হত্যা করবে। এই ভয়ে হারুন বাড়ি যেতে চাই না। মিসির আলি তাকে অনেক বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠালেন। তার স্ত্রীর কাছে মিসির আলির কথা বললেন। তার স্ত্রী মিসির আলির ভক্ত ছিলেন। তার স্ত্রী মিসির আলিকে চিঠি লিখলেন। আপনি তো অনেক রহস্যের সমাধান করে থাকেন। প্রহেলা এপ্রিলে আমার ছেলের মৃত্যু হয়। কিন্তু সে স্বাভাবিক ভাবে মৃত্যুবরণ করে নি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমার ধারণা শাশুড়ি তাকে হত্যা করেছে। আর আমার স্বামী হারুন তার মায়ের আত্মার সাথে নাকি কথা বলে। এখন আপনার কাছে অনুরোধ আমার ছেলে হত্যার রহস্যটা বের করে দিবেন। মিসির আলি হারুনের সাথে কথা বলছে। হারুনের কথা গুলোও কেমন জানি মনে হয়। অনেকটা আগাম জানার মতো। মিসির আলি জিজ্ঞেস করলেন, যে আমার পাশের ঘরের ঘড়িতে কইটা বাজে বলেন তো। হারুন বলল, তার মা তাকে বলেছে যে মিসির আলির পাশের ঘরে কোন ঘড়ি নেই। মিসির আলি বললেন কথা তো সত্যিই। এভাবে আরো অনেক কিছু আগাম বলে দিলেন। মিসির আলি রহস্য বের করার জন্য লেখকের সাহায্য নিলেন। মিসির আলি কি পারবে ডাক্তার হারুনের ছেলের খুনি কে বের করতে? হারুনের সাথে যে তার মায়ের আত্মার কথা হয় এটি মিথ্যা প্রমাণ করতে? জানতে হলে পড়ে নিন মিসির আলির চশমা। পাঠ-প্রতিক্রিয়া: হুমায়ূন আহমেদ বরাবরের মতোই এই বইটিতেও রহস্য বের করেছেন। মিসির আলি রহস্য বের করার জন্য লেখকের বাড়িতে উঠে। সেই রহস্য বের করার দায়িত্ব লেখকের ওপর পড়ে। লেখক মিসির আলির বর্ণনানুযায়ী রহস্য বের করা শুরু করেন। রহস্য বের করতে লেখকের অনেকটা বেগ পেতে হলেও তার অনেক আগেই মিসির আলি হারুনের ছেলের মৃত্যুর রহস্য বের করে লিখে খামে বন্দি করে রেখেছেন। বইটি যতই সামনে এগিয়ে গেছি ততই অবাক হয়েছি। খুব নিখুঁত ভাবে মৃত্যুর রহস্য বের করেছেন। বইটি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। চাইলে আপ্নারাও পড়ে দেখতে পারেন। ----------------- "নিউইয়র্কের নীল আকাশে ঝকঝকে রোদ"- একজন নিষ্ঠাবান লেখকের জীবনের সাথে সংগ্রাম করার সময় কাটাবার ইতিহাস। বাংলাদেশের প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদ কেমোথেরাপির সময় যে অনুভব উপলব্ধি করেছেন তা পাঠককে জানানোর একটি মহৎ উদ্দেশ্যও বলা যায় । একজন লেখক কতটা লেখাপ্রিয় হলে এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও লেখালেখি চালিয়ে যাওয়া যায় তা এই মানুষটি না জানালে হয়তো জানায় হতো না। কিছু কিছু মানুষ থাকে যারা সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এক অবাক করা বিষ্ময় আর আশ্চর্যময় বুদ্ধিদৃপ্ত নিয়ে জন্মায়। তাদের মাঝে হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন। ক্ষণজন্মা এ মহৎ ব্যক্তির এই বই সম্পর্কে রিভিউ লিখতে পারবো না আমি। শুধু আপনাদের মাঝে তুলে ধরার জন্যই কিছু কিছু জিনিস উল্লেখ করে যাচ্ছি। "কেমোথেরাপি হলো একটি দীর্ঘ বেদনাদায়ক নিঃসঙ্গ ভ্রমণ। যে তরুণী আমার এই ভ্রমণ সহনীয় করার জন্য শক্ত হাতে আমার হাত ধরে আছে তার নাম শাওন। আমার দুই পুত্র নিনিত-নিষাদের মমতাময়ী মা। "নিউয়র্কের নীল আকাশে ঝকঝকে রোদ"- বইটি এই তরুণীর জন্য। যে করুণা, মমতা এবং ভালোবাসা সে আমাকে দেখিয়েছে, পরম করুণাময় যেন তা বহুগুণে তাকে ফেরত দেন, এই শুভ কামনা।"_____তাঁর যতগুলো বই পড়েছি তার মাঝে এই উৎসর্গপত্রটা আমার কাছে যেনো সবচেয়ে বেশি মায়াবতী আর সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল মনে হয়েছে। বইটি লিখতে গিয়ে বিখ্যাত এ লেখক কয়েকটি গল্প লিখেছেন। তার কিছুটা ব্যক্তিগত, কিছুটা কল্পনাকৃত, কিছু কিছু জীবনের বাইরের কথাও উল্লেখ করেছেন। তেমনি এক গল্প 'আইনস্টাইন, আপ সাইড ডাউন'- শিরোনামের গল্পে তিনি কয়েকটা লাইন লিখেছেন যা হলো---"আইনস্টাইনের ব্রেইন পরীক্ষা করেও কিছু পাওয়া যায় নি। একজন সাধারন আমজনতার ব্রেইনের চেয়ে ম্যাক্সিম গোর্কি বা আইনস্টাইনের ব্রেইন আলাদা কিছু না। আমরা কি এখন 'যাক বাঁচলাম' বলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারি? না, পারি না। আমজনতা থেকে কিছু মানুষ আলাদা হয়ে যাবে। আলাদা তারা কীভাবে হয়, কেন হয়, এই তথ্য কারোরই জানা নেই। আমি সবসময় আলাদা মানুষ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। যদি কোনো রহস্য পাওয়া যায় ------ কেন তারা আলাদা। কীভাবে আলাদা?" হুমায়ূন আহমেদকে জানার পরিধিটা বিস্তৃত। তাকে জানার জন্য দুই একটা বই পড়লেই যথেষ্ট হয়ে যায় না। তাঁকে ভালো লাগা মন্দ লাগার ব্যাপার খুঁজতে হলে তার পুরোটা জানতে হবে। এবং যা থেকে তাঁকে ভালো লাগার দিকগুলোই বেশি বেড়িয়ে আসবে। তাহলে দেড়ি না করে চটজলদি পড়ে ফেলুন মৃত্যুর মুখোমুখি বসে থাকা একজন লেখকের অনুভূতির কথা। জীবনের কথা। তাঁর জীবনদর্শনের কথা। প্রতিটা বইয়েই তার গল্প শুরু করার নিজস্ব ঢঙে আপনাকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে যাবে। "নিউয়র্কের নীল আকাশে ঝকঝকে রোদ"-বইয়ের শুরুটাও যেনো লোভনীয়। শুরুটা দিয়ে আপনাকে প্রবেশ করার আমন্ত্রণ জানালাম। পুরোটা পড়ে শেষ করার দায়িত্বটা একান্তই আপনার। "আমি যেখানে আছি সেই রেস্টহাউজের জানালা দিয়ে তাকিয়ে পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতার লাইন মনে এল। ঝকঝক করছে রোদ। আকাশ ঘন নীল। জানালার পাশে অচেনা এক বৃক্ষের পাতায়ও রোদের রঙ লেগেছে। রোদ আমাকে কখনো অভিভূত করে না, আমি বৃষ্টিরাশির জাতক, কিন্তু আজ আকর্ষণ করলো। আমি অভিভূত গলায় উচ্চারণ করলাম, নিউইয়র্কের নীল আকাশে ঝকঝকে রোদ!" . পাঠ প্রতিক্রিয়া: ক্ষণজন্মা এই বিখ্যাত লেখকের সম্পর্কে যতই বলি না কেন তা খুব কম হয়ে যায়। হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনিই একমাত্র বাংলা সাহিত্যের লেখক যাকে লেখালেখি নিয়ে কখনোই পেছনে ঘুরে তাকাতে হয় নি। বেগ পেতে হয় নি কখনো। যখন যা লিখেছেন তখন তাই পাঠক মনে জায়গা করে নিয়েছে। জাদুমন্ত্রের মতো এক আকর্ষণী ব্যাপার ছিল তাঁর মাঝে। সকল শ্রেণির পাঠককে সমানভাবে টেনেছে তাঁর লেখনী। বইটি কতসময়ে পড়া যায় তা বলছি না। তাঁর লেখার কৌশল বা আকর্ষণ এমনই তীব্র যে, যেকোনো পাঠককে শেষ পৃষ্ঠা পড়া পর্যন্ত বসিয়ে রাখতে সক্ষম। বইটি পড়ে জানতে পেরেছি অনেক অজানা কিছু। যার বেশির ভাগই লেখক সম্পর্কে। লেখকের ভক্ত, অনুরাগীদের সম্পর্কে জেনেছি। জেনেছি তাঁর জীবনের সাথে টিকে থাকার সংগ্রামের কথা। তাঁর মহৎ মহৎ স্বপ্ন সম্পর্কে জেনেছি। একজন লেখকের জীবদ্দশা কতটা বিস্তৃত হলে সে লেখা নিয়ে জীবনের শেষ ধাপ পর্যন্ত বাঁচতে চান তাও উপলব্ধি করতে পেরেছি। যখন সারা বাংলাদেশ থেকে তাঁর ভক্তরা তাঁর জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন তখন তিনিও ভক্তদের জন্য বসে বসে কলম চালিয়ে গেছেন ভালোবাসার সাথে। কেমোথেরাপির অসহ্য যন্ত্রণার আড়ালে তাঁর লেখার আনন্দ বিলিয়ে গেছেন অকৃপণ ভাবে। বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদ পুরুষ কেমোথেরাপির যন্ত্রণা যে পর্দার আড়ালে ঢাকতে চেয়েছিলেন সেই পর্দার প্রতিটা পরত উপভোগ করতে হলে পড়তে হবে "নিউয়র্কের নীল আকাশে ঝকঝকে রোদ"। . বই: নিউয়র্কের নীল আকাশে ঝকঝকে রোদ লেখক: হুমায়ূন আহমেদ প্রকাশনী: অন্যপ্রকাশ প্রকাশকাল: একুশের বইমেলা ২০১২ ঘরানা: ব্যক্তিগত প্রবন্ধ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫ প্রচ্ছদ: মাসুম রহমান মুদ্রিত মূল্য: ২০০ টাকা . ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৮৫/৫ _______নিষাদ নিনিত ------------------------------- হুমায়ূন আহমেদ এর আরেকটি অসাধারণ বই পড়লাম বইয়ের নামঃ মেঘ বলেছে যাব যাব লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ প্রকাশকঃ অবসর মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০ টাকা #স্পয়লার_অ্যালার্ট বইটির প্লট মূলত মধ্যবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন বিভিন্ন দিক এবং কঠিন বাস্তবতা বলা যায়। বইটির মূল চরিত্র হাসান নামক এক বেকার যুবক।হাসান এর দুই ভাই তারেক, রকিব; বোন লায়লা , ভাবি রীনা , আর মা বাবা নিয়ে মোটামুটি হাস্যোজ্জল একটি পরিবার এর ছবিই বইয়ের শুরুতে চিত্রিত হয়। হাসানের সাথে তিতলির ভালোবাসার দিকটি বইয়ের প্রথম অর্ধেক অংশে পরিলক্ষিত হয়। তিতলির পরিবারের মাধ্যমেই লেখক মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি স্বরূপ তুলে ধরেছেন। ( যারা বইটি পড়েন নি তারা এখান থেকে রিভিউটি পড়বেন না....) তবে বাস্তবতার সবচেয়ে কঠিনতম দিকটিও যেন দেখা মিলবে এই বইটিতে । তিতলির বিয়ে শওকতের সাথে হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে, রীনার সপ্ন ও হাস্যোজ্জল সেই সংসার ধংসের মাধ্যমে কিংবা হিশামুদ্দিন সাহেবের বলা জীবনের বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে । বইটির শেষ পাতাটি কিন্তু আমাদের এই কঠিন বাস্তবতার কথাটিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়ঃ “ মানুষের কল্পনার সাথে বাস্তবতার মিল খুব একটা হয় না । কল্পনা করতে ভাল লাগে হাসানের অসুখ সেরে গেছে। সে শুরু করেছে আনন্দময় একটা জীবন। বুড়িগঙ্গায় নৌকায় করে ঘুরতে গিয়েছে। নদীতে খুব ঢেউ উঠেছে। চিত্রলেখা ভয় পেয়ে বলছে, এ কথায় নিয়ে এলে ? আমিতো সাঁতার জানি না। নৌকা এমন দুলছে কেন? নৌকার মাঝি হাসিমুখে বলছে, টাইট হইয়া বহেন আপা আমি আছি কোন চিন্তা নেই। খুব সহজে কল্পনা করা যায়, তারেক ঘর গোছাতে গিয়ে হঠাৎ খুঁজে পেয়েছে রীনার লেখা চিঠি – চিঠিটা খুব ছোট্ট । রীনা লিখেছে, তুমি কোনোদিন জানবে না আমি তোমাকে কতটা ভালবাসি। চিঠি পরেই তারেক বের হল। যে করেই হোক রাগ ভাঙিয়ে রীনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। বাস্তব কখনও গল্পের মত হয় না। বাস্তবের রীনা ফিরে আসে না।বাস্তবের হাসানদের সঙ্গে কখনো বুড়িগঙ্গার জলের উপর চিত্রলেখার দেখা হয় না। “ বইটিতে প্রিয় চরিত্র হাসান আর রীনা ভাবি। লেখক হাসানকে এভবেই তুলে ধরেছেন যে সবারই প্রিয় চরিত্রের জায়গা দখল করবে। অনেক সময় আমার মনে হয়েছিল হাসানকে হয়ত একটু বেশিই ভালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষ মনে হয় এত ভাল হয় না। বইটি পরার সময় আমি অন্যরকম কিছু অনুভুতি পেয়েছি। এমন কছু জায়গা আছে যা পড়লে চোখে পানি আসতে চায় কিন্তু অদ্ভূত চোখে কখনো পানি আসে না। বইটি শেষ হওয়ার পর ও অন্য ধরণের একটা অনুভূতি কাজ করে। ২৪৪ পৃষ্ঠার এই বইটি পাঠক হৃদয় কে ভালভাবেই স্পর্শ করবে। আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি কারণ রিভিউটিতে অনেকখানি স্পয়লার ছিল তবে আমি নিশ্চিত এতি এমন একটি বই যাতে স্পয়লার এ কিছুই যায় আসে না। My rating: 4.7/5 বই থেকে কয়েকটি লাইন দিয়ে দিচ্ছিঃ ১. মানুষের বিপদে এখন আর মানুষ এগিয়ে আসে না। এ যুগের নীতি হচ্ছে বিপদ্গ্রস্ত মানুষ এর কাছ থেকে দূরে চলে যাওয়া। যে যত দূরে যাবে সে তত ভাল থাকবে। ২.না বলতে পারাটা অনেক বড় গুন। বেসিরভাগ মানুষ না বলতে পারে না। এতে তারা নিজেরাও সমস্যায় পরে, অন্যদেরও সমস্যায় ফেলে। ৩.মানুষের প্রধান সমস্যা হল সে কোন কিছুই খুতিয়ে দেখে না।তার সব দেখা। সব observation ভাসা ভাসা। তুমি একশ টাকার নোট অনেকবার দেখেছ। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে তুমি বলতে পারবে না একশ টাকার নোটের দু পিঠে কি ছবি আছে। ৪. বাস্তব আশার পথ ধরে না- বাস্তব চলে নিরাশার এবড়োখেবড়ো পথে। ৫.দু ধরনের মানুষ মিথ্যা বলতে পারে না। সবল মনের মানুষ এবং দুর্বল মনের মানুষ। ৬. মানুষের সবচেয়ে বড় বন্ধু অর্থ। স্বার্থহীন বন্ধু । যে মানুষের চারদিকে শক্ত দেয়াল হয়ে মানুষকে রক্ষা করে। ৭. সঙ্গপ্রিয় মানুষের নিঃসঙ্গতার শাস্তি – কঠিন শাস্তি। এই শাস্তি মানুষকে বদলে দেয়। ৮. মানুষ ভবিষ্যৎ জানে না। জানে না বলেই মনের আনন্দে বর্তমান পার করতে পারে। ৯. You have to be cruel, only to be kind. আর রিভিউটি কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। -------------------------- #বই_রিভিও বই : আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই লেখক : হুমায়ূন আহমেদ প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ প্রকাশনা : কাকলী প্রকাশনী মোট পৃষ্ঠা: ৩৮৮ মূল্য: ৪০০ টাকা পাঠ্য প্রতিক্রিয়া : "হুমায়ূন আহমেদ" স্যারকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন হয় না , একটা মানুষ একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচিত্রনির্মাতা। একটা মানুষের মাঝে এতো গুন থাকে কীভাবে তা সত্যি অবাক করা বিষয় । তার লিখা অসংখ্য বই এখন আমাদের অসংখ্য অবসর সময় সুন্দর করে তুলে। আমার মতে স্যার সহজ সাবলীল ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করতে পারতেন খুব সহজে তাই তার এবং তার লিখার এতো জনপ্রিয়তা । "আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই" বইটা মূলত তার ব্যাক্তি জীবন নিয়ে লিখা এবং তার নিজেকে নিয়ে লিখা কিছু বইয়ের উৎস । এখানে তার মা -বাবা , ভাই -বোন সবার কথা আছে , শিক্ষা জীবন এবং তার বেড়ে উঠার জায়গা গুলোর পরিচয়ও উঠে এসেছে এই বইতে । প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে নানাবাড়ি - দাদাবাড়ি যে আদরের আর খুব বেশী আনন্দের স্থান তা বিভিন্ন কথায় আর কিছু ছোট ছোট কাহিনী তে স্যার এই বইতে প্রকাশ করেছেন । বাবার হাত ধরে বই পড়ার অভ্যাস হয়ে ওঠা এবং তার সাহিত্য জীবনের সূচনা'র ঘটনা গুলো বলেছেন । দেশের পড়া লিখা শেষ করে বিদেশ যাওয়া আবার দেশে , জীবনে হাজার রকমের মানুষের সাথে পরিচয় হওয়ার আর বিভিন্ন রকমের বন্ধু - বান্ধব বানানো এবং চার - পাশে যে কতো রহস্যময় মানুষ আছে তাঁদের কথা জানা এবং এতো মানুষের মাঝ থেকেই গল্পের চরিত্র গুলো তুলে আনা এসব কিছু লিখেছেন ।তার জীবনে ১৯৭১ এর যুদ্ধের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা'র কথা বলেছেন , যারা খুব আগ্রহ নিয়ে জানতে চান -যুদ্ধের সময় " হুমায়ূন আহমেদ " কোথায় ছিলেন ! কি করছিলেন ! তাঁরা এই বই পড়লে জানতে পারবেন এসব প্রশ্নের উত্তর ।তার গল্পের নায়িকা গুলোকে তিনি কীভাবে দেখছেন আর কীভাবে সাজাচ্ছেন সেসব বলেছেন ।ক্ষুদ্র থেকে নিজেকে বড় করে তোলা , জীবন সংগ্রামে হার না মেনে মাথা উঁচু করে শিশু কাজল থেকে সবার প্রিয় "হুমায়ূন আহমেদ ' হয়ে উঠার কথা তিনি খুব অবলীলায় বলে গেছেন । প্রকৃতিও যে মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে তা খুব ভালো ভাবেই প্রকাশ করেছেন । বইয়ের নাম অনুসারে বলা যায় , নিজেকে খুঁজে পাওয়ার যে আকাঙ্খা তা ছোট বড় সব মানুষের আছে , এই আকাঙ্খা তার জীবনেও ছিল , নিজেকে খুঁজতে খুঁজতে একদিন মানুষের জীবনটাই ফুরিয়ে যায় তখন পারি জামতে হয় অন্য কোন ভুবনে ,স্যার এর নিজস্ব নিজেকে খুঁজে বেড়ানোর কথা গুলোই তিনি এই বইতে বলতে চেয়েছেন । বইটা পড়ে শেষ করেই রিভিউ লিখতে বসলাম তাই বইয়ের হাজার কথা মাথায় ঘুরছে , কোন কথা লিখব আর কোনটা বাদ দিবো বুঝে উঠতে পারছি না তাই কথা গুলো এতো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে ।স্যারকে জানার জন্য এবং তার জীবন সম্পর্কে যাদের অতি আগ্রহ আছে তাঁরা এই বইটা পড়ে নিজেদের আগ্রহের কিছু চাহিদা মেটাতে পারবেন । তাই সবাই "আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই" বইটা সংগ্রহ করে পড়ে ফেলুন । শুভ হোক আপনার পাঠ্য কার্যক্রম। ( "হুমায়ূন আহমেদ" এর লিখা "আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই" বইয়ের পিডিএফ প্রয়োজন হলে আপনার ইমেইল এড্রেস কমেন্ট করুন অথবা আমাকে ইনবক্স করুন) ------------------------- #প্রিয়ন্তের_রিভিউ বই: আমার আছে জল লেখক: হুমায়ূন আহমেদ প্রকাশনী: শিখা প্রকাশনী পৃষ্টা: ৬২ মুদ্রিত মূল্য: ১০০ টাকা প্রথম প্রকাশ: ১৯৮৫ আমার আছে জল, আমার আছে জল আমার আছে জল, আমার আছে জল সেই জলে যেন পদ্ম পুকুর অচেনা এক বন বাশি সুর বিষাদে কোমল আমার আছে জল, আমার আছে জল আমার আছে জল, আমার আছে জল #কাহিনী_সংক্ষেপ: স্টেশনের নাম "সোহাগী" ৷ দিলুর আগে জানা ছিল না যে স্টেশনের নামও এত সুন্দর হতে পারে ৷ দিলুর স্বপরিবার বেড়াতে এসেছে কিছুদিন সময় কাটানোর জন্য ৷ তাদের সাথে রয়েছে বিলাত ফেরা সাব্বির অন্যতম ফটোগ্রাফার আর তাদের পরিবারের অন্যতম সদস্য জামিল ভাই ৷ দিলু জামিল ভাইকে পছন্দ করে ৷ তার সব কথায় জামিল ভাই আর জামিল ভাই ৷ জামিল ভাইও তার সাথে গল্প করে তাকে ভূতের গল্প শুনে শিখায় কিছু ধাধা ৷ যে ধাধা দিয়ে দিলু তার বাবাকেও আটকে দেয় ৷ দিলুর একটি ডায়েরি ছিল সে সব কিছু তাতে লিখে রাখতো ৷ এমনি কি জামিল ভাইয়ের কথাও ৷ তার মা সেই ডায়েরি পড়ে সব জানতে পারে ৷ এরপর থেকেই সে একটু অন্যরকম হয়ে যায় ৷ দিলুর বড় বোন নিশাত আর জামিল দুজন দুজনকে ছোটবেলা থেকে পছন্দ করে ৷ কিন্তু হঠাৎ করে নিশাতের বিয়ে হয়ে যায় ৷ নিশাতের একটি মেয়ে হওয়ার পর নিশাতের বর কবির মারা যায় ৷ এখনো জামিল আর নিশাত একে অপরকে মনে প্রাণে চায় ৷ একদিন নিশাত দিলুকে তাদের ছোটবেলার কাহিনীগুলো শুনায় ৷ দিলু সব জানতে পেরে তার কিশোরী বয়সের প্রেমকে বিসর্জন দেয় ৷ তারপর কি হয়? দিলু শেষ পর্যন্ত কি করেছিল? আর নিশাত কি তার ছোটবেলার প্রেমকে ফিরে পেয়েছিল? ঐদিকে সেই ফটোগ্রাফারের কি হয়েছিল? সে তাদের সাথে আসার কি অন্য কোনো কারণ ছিল? কি হয়েছিল শেষ পরিনতি? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আপনাকে পড়তে হবে কথার যাদুকর হুমায়ূন আহমেদ স্যারের অন্যতম বই "আমার আছে জল" বইটি ৷ #পাঠ_প্রতিক্রিয়া: খুব ছোট একটি বই ৷ হঠাৎ করেই বইটা শেষ হয়ে যায় বুঝতেই পারিনি ৷ ছোট বা সারাধণ একটি গল্পের মাঝে যে অসাধারণ গল্প ফুটিয়ে তুলেন এটা স্যারের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট ৷ শেষটা যে এমন চমক হবে সেটা ভাবতেন পারিনি ৷ শুধুমাত্র বইটার শেষটা জানার জন্য হলেও বইটা পড়া উচিত ৷ যেখানে রয়েছে অসাধারণ এক চমক ৷ বইটিতে পানি নিয়ে একটা ধাধা আছে সেটাও চমৎকার ৷ বইটির পিডিএফ পড়েছিলাম বানানে অসংখ্য ভুল তাই একটু বিরক্তই লেগেছে ৷ বইটি পড়ার সাথে সাথে সিনেমাটিও দেখেছি সেটাও খুব ভালো লেগেছে ৷ স্যারের সিনেমাগুলোতে তার মধ্যে গানগুলো একটু বেশিই প্রিয় ৷ প্রতিটা গানই ভালো লাগে ৷ সব মিলিয়ে খুব ভালো ছিল ৷ তার মাঝে ভালোলাগার লাইন: * জীবন সহজও নয় জটিলও নয় ৷ জীবন জীবনের মতো ৷ আমরাই একে জটিল করি, সহজ করি ৷ * -জান আপা,আমি কখনো মশা মারি না ৷ -তাই নাকি? -হ্যা ৷ কারণ—যেসব মশা মানুষকে কামড়ায় তারা সব স্ত্রী—মশা ৷ আমি নিজে মেয়ে হয়ে একটা মশাকে কি করে মারি,বলো? #বইয়ের_রেটিং: ৪.৮/৫ ------------------ #বইয়ের_গল্প বই: নন্দিত নরকে জনরা: সামাজিক উপন্যাস লেখক: হুমায়ূন অাহমেদ প্রকাশনী: অন্যপ্রকাশ প্রকাশ কাল: অন্যপ্রকাশ সংস্করণ বইমেলা ২০০৯ পৃষ্ঠা: ৭৮ প্রচ্ছদ: কাইয়ুম চৌধুরী মুদ্রিত মূল্য: ১০০ কাহিনী সংক্ষেপ: গ্রাম্য প্রেক্ষাপটে এক নিম্নবিত্ত পরিবারের কাহিনী নন্দিত নরকে। উত্তম পুরুষে খোকার বয়ানে লেখক গল্পটা বলেছেন। অার্থিক টানাপোড়ন অার নির্মল ভালোবাসার মধ্য দিয়ে চলে খোকাদের সংসার। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবা। মাস্টার্স পড়ুয়া খোকা নিজের একটা চাকরির অভাবে শামুকের মত যেন খোলস গুটিয়ে থাকে। বছর খানেকের বড় বোন রাবেয়া কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী পাড়ার বখাটে ছেলেদের নোংরা কথার মর্ম না বুঝে যে খিলখিল করে হাসে। সমস্ত দিনের কথা খোকা অার ছোট বোন রুনুকে নির্দ্বিধায় বলে যায়। কিশোরী রুনু ভাইয়ের সামনে সেসব অশ্লীল কথা শুনে লজ্জায় মাথা নুইয়ে চলে যায়। পৃথিবী নামক নরকে রাবেয়ার মত সহজ সরল মানসিক প্রতিবন্ধী পরিবারের কাছে গৃহীত হলেও সমাজের চোখে কেবল মাংসপিণ্ড। খোকাদের পরিবারে অারো একজন থাকে বাবার বন্ধু, মাস্টার কাকা। ছোটভাই মন্টুর সাথে একঘরে থাকে অার তাদের পড়ায়। অভাবের সাথে পাঞ্জা লড়েও তাদের সংসার ভালোই চলছিল। হঠাৎ একদিন অাবিস্কার করল রাবেয়ার গর্ভবতী! সমাজ সংস্কারের ভয়ে নিজেদের ঘরে বসেই গর্ভপাত করাতে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে চুপচাপ রাবেয়া পৃথিবী নামক নরককে বিদায় জানায়। অদ্ভুত কিছু রহস্যাবৃত কারনে মাস্টার কাকাকে খুনের দায়ে ফাসি হয় কিছুটা রাগী অার অনেকটা সাহসী ছেলে মন্টুর। কে করেছিল রাবেয়ার সর্বনাশ, মন্টুই বা কেন মাস্টার কাকাকে খুন করে? তবে কী মাস্টার কাকাই....!!!


Bengali Story Books


নিজস্ব মতামত : দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিতাজ্য এ কথাটা মাথায় রেখেই হয়ত মন্টু মাস্টার কাকাকে খুন করে ফেলে। কাকার সাথে একরুমে থাকার কারনে হয়ত কিছুটা অাঁচ করতে পারে মন্টু যা পরিবারের অন্যকেউ পারে না। সত্তুরের দশকে লেখা নন্দিত নরকে এখনকার সমাজটাকে যেন অারো প্রকটভাবে চোখে অাঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় কতটা হিংস্র এ সমাজ মেয়ে জাতির জন্য তার উপর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হলে তো কথাই নাই। একদলা মাংসের প্রতি লালসায় ভুলে যায় মনুষত্যবোধ। সুন্দর এ পৃথিবীতে জন্মটা যেখানে অানন্দের সেখানে পাগলী মা হয় কিন্তু বাবা হয় না কেউ। ----------------------- রিভিউ- এইসব দিন রাত্রি। "বাস্তবতা এতই কঠিন যে কখনও কখনও বুকের ভিতর গড়ে তোলা বিন্দু বিন্দু ভালবাসাও অসহায় হয়ে পড়ে"। কিছু কিছু গল্প কখনো পুরোনো হয় না, কিছু গল্প চোখের সামনেই নিয়ে আসে ভয়াবহ বিষণ্ণতা। ঠিক এমনি একটা গল্পের প্লট নিয়ে লিখা হুমায়ুন আহমেদ আর উপ্যনাস এইসব দিন রাত্রি। নব্বইয়ের দশকে রাজধানীর বুকে একটি মধ্যবৃত্ত বাঙালী পরিবার। পরিবারটিকে কয়েকজন ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের মানুষ আর তাদের দিবারাত্রির গল্প নিয়ে রচিত হয়েছে এই অসাধারণ উপন্যাসটি। এই পরিবারের মধ্যমণি হলো নীলু। নীলু বাংলার সেই নারীশ্রেণীর প্রতিনিধি। যারা স্বামীর সংসারে এসে পরিবারের প্রতিটি মানুষকে মুখে শুধু হাসি দেখতে চেয়েই শুধু শান্ত হয় না, প্রতিটি মুখের হাসির জন্য রীতিমত লড়াই করে। নীলুর স্বামী সফিক, সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন একজন আত্নপ্রবণ মানুষ। সংসারে টাকা দিয়েই সে তার সমস্ত দায়িত্ব শেষ করে। নীলু শ্বাশুড়ী মনোয়ারার মধ্যে কোন বিশেষত্ব নেই। আর পাচটা শ্বাশুড়ী মতো তারও একমাত্র কাজ পুত্রবধূর ত্রুটি বের করা কিন্তু মনে মনে তিনি নীলুকে প্রচন্ড ভালোবাসেন, লোক দেখানো ভালোবাসা নয়, অন্তরের নির্যাস থেকে খাটি ভালোবাসা। নীলুর শ্বশুর হোসেন সাহেব সাদামাটা মানুষ। স্ত্রীর কাছে তিনি যেন অনুজীব। তারপরেও প্রতিটি কাজে তা ভীষণ উৎসাহ। বিয়ের সাত বছর পর নীলুর একটা কন্যাসন্তান জন্ম হয়। নীলু সংসারের প্রতিটি মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন করলেও নিজের সন্তানের ব্যাপারে সে পুরোপুরি ব্যর্থ একজন মা। নীলুর চাকুরীর কারণে এই মেয়েটি কখনোই মায়ের ভালোবাসার পূর্ণতা পায়নি। এছাড়াও নীলুর সংসারে আর দুটি মানুষ আছে। কিন্তু দেবর রফিক আর ননদ শাহানা। রফিক তার ভাইয়ের সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্র। পড়াশোনার পর বেকার এই ছেলেটা সব সময় কিছু কিছু না নিয়ে ব্যস্ত। তারপর হঠাৎ একদিন শারমিনের সাথে হয় বন্ধুত্ব। শারমিন বিশাল কোটিপতি পিতার একমাত্র সন্তান। তাদের বন্ধুত্ব দুর্ঘটনার মতো একদিন বিয়েতে পরিণতি পায়। আর শাহানা বড় আবেগী মেয়ে। তার এই আবেগ বাড়িওয়ালা আশ্রিত এক আত্নীয় আনিসে প্রতি দুর্বলতা হয়ে বুকে বিধতে শুরু ক।রে বাইরে থেকে শান্ত, সুন্দর মেয়েটির ভেতরের চঞ্চলতা কখনো নীলুকে খুব ভয় পাইয়ে দেয়। এদের ছাড়াও আর একজন মানুষ আছে যাকে ছাড়া এই লেখা অসম্পূর্ণ । তিনি হলেন কবির মামা। মনোয়ার দূরের সম্পর্কের ভাই। নিজ কর্মভূমিকে নীলগঞ্জকে আদর্শ করে গড়ে তোলার জন্য এই মানুষটি তার শেষ নিঃশ্বাসটুকু বিলিয়ে দিয়ে যান। আসলে কিছু মানুষ থাকে যারা নিজের জন্য বাচতেই শিখায় । কবীর মামা তাদের মাঝেরএকজন। এভাবে কাছের মানুষগুলোকে নিয়ে নীলুর দিনগুলো কেটে যাচ্ছিলো। কখনো টুকরো সুখ, কখনো উদ্বেগ আবার কখনো কিছু কান্না দিয়ে। কিন্তু হঠাৎ একদিন নীলুর মেয়েটি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। শত ঝড় আর বাধার পরেও নীলুর একই সরলরেখায় জীবনে কালো আধার নেমে আসে। নীলু কি পারবে নিজের অভাগী মেয়েটিকে আবার বুকে টেনে নিতে? পারবে আধার থেকে আলোর গল্প লিখতে? পারবে দিবারাত্রির যুদ্ধে জয়ী হয়ে? পরিশেষে, বইঃ এইসব দিন রাত্রি। লেখকঃ হুমায়ুন আহমেদ। প্রকাশনীঃ অনন্যা। পেইজ সংখ্যাঃ ৩১১. বিক্রিত মুল্যঃ ২০০. প্রচ্ছদঃ সমর মজুমদার।


Bangla Golpo Free Download

বুক রিভিউ বইয়ের নামঃ নীল অপরাজিতা লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ
বইয়ের ধরণঃ উপন্যাস প্রচ্ছদঃ ধ্রুব এষ প্রকাশনাঃ মাওলা ব্রাদার্স প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯১ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৬৯ গায়ের মূল্যঃ ১৬০ টাকা ব্যক্তিগত রেটিং: ৩.০০/৫.০০ জীবন মানে অজস্র অনুভূতির এক সমন্বয়...... জীবন মানে অজস্র গল্পের সমাহার, সাথে অসংখ্য মানুষের আনাগোনা। এসব মানুষ সবসময় পূর্বপরিচিত হয়না। কখনো কখনো একদম অপরিচিত মানুষ-ও কালের পরিক্রমায় অতি আপনজন হয়ে ওঠে। আগে কখনোই যার মুখ দর্শন-ও করা হয়নি, এমন মানুষেরাও হয়ে ওঠে খুব কাছের লোক। কখনো কখনো এসব মানুষেরা যত দ্রুত জীবনে আসে, তত দ্রুতই হারিয়ে যায়। কিন্তু এসব স্বল্প পরিচিতির রেশ অনেক দিন রয়ে যায় জীবনে। এমনই এক গল্প নিয়ে হালের জননন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচনা করেছেন "নীল অপরাজিতা" উপন্যাসটি। স্বল্পপরিচিত মানুষের হঠাৎ জীবনে আগমন ও হঠাৎ-ই মিলিয়ে যাবার গল্প এ উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। এর পাশাপাশি সৃজনশীল মানুষের প্রচলিত নীতিবিরুদ্ধ জীবনযাপনের গল্পও উঠে এসেছে এ উপন্যাসের প্রতিটি পরতে পরতে। গল্পের সূচনা হয় শওকত সাহেব নামক একজন সাহিত্যিকের অবকাশ যাপনের উদ্দেশ্যে যাত্রা দিয়ে। শহর জীবন থেকে সাময়িক মুক্তিলাভের আশায় তিনি নদীর তীরবর্তী এক নির্জন গাঁয়ের পানে পা বাড়ান। কিন্তু সেখানে গিয়েই যত রাজ্যের বিপত্তি। আজীবন শহুরে জীবনে অভ্যস্ত সাহিত্যিক গ্রাম্য জীবনে নিজেকে ঠিক মানিয়ে নিতে পারেন না। ঘটতে থাকে নানা রকমের বিপদ। সময়ের প্রয়োজনে পরিচয় হয় নানা মানুষের সাথে। এভাবেই এগিয়ে যায় উপন্যাসের গল্প! এর মধ্যে এমন অনেক কিছুই ঘটে, যা তিনি কখনো কল্পনা পর্যন্ত করেননি। কী সেসব ঘটনা? জানতে হলে পড়তে হবে উপন্যাসটি। এবার আসি চরিত্র বিশ্লেষণ সংক্রান্ত আলোচনা। প্রসঙ্গত, হুমায়ূন আহমেদের লেখা এমন ধরনের হয়ে থাকে যে তাতে গম্ভীর কোনো বিষয় থাকে না। তাই অনেকের অভিযোগ থাকে, তার লেখার চরিত্রের বিশ্লেষণ করবার মত তেমন কিছুই থাকে না। এ ব্যাপারটা মাথায় রেখেই চরিত্র বিশ্লেষণ অংশ শুরু করছি। উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রে রয়েছেন শওকত সাহেব নামক এক সাহিত্যিক। লেখালেখির নতুন উদ্দীপনা লাভের জন্য চিরচেনা পরিবেশ ছেড়ে গ্রামে আসেন। পরিচিত হন অনেক অচেনা, অজানা মানুষের সঙ্গে। একেকজন একেক কিসিমের মানুষ। কারো সঙ্গে কারো যেন মিল নেই কোথাও! নতুন পরিবেশে এসে নানা রকম সংকটের সম্মুখীন হতে হয়। এ চরিত্রে ব্যক্তি হুমায়ূন আহমেদের জীবনের ছাপ পাওয়া যায়, যদিওবা বইটির ভূমিকাতে তিনি এটাকে তার "অস্বস্তির কারণ" বলে উল্লেখ করেছেন। এভাবে গল্প এগিয়ে চলে এক চূড়ান্ত পরিণতির দিকে। কী সেই পরিণতি? প্রিয় পাঠক! এ প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে চোখ রাখতে হবে উপন্যাসের পাতায়। উক্ত সাহিত্যিক ছাড়াও আরেকজনকে প্রধানতম চরিত্রে রাখা হয়েছে। তার নাম পুষ্প। গ্রামের স্কুল মাস্টারের মেয়ে সে। সাহিত্যিক গ্রামে বেড়াতে গেলে তাদের বাড়িতেই আশ্রয় নেন তিনি। সাহিত্যিকের সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব তার উপরে অর্পিত হলে তার সান্নিধ্য লাভের সুযোগ পায় মায়া। এরপর ঘটতে থাকে একের পর এক অঘটন। নানা টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে গল্প এগিয়ে চলে এক সমাপ্তির দিকে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রাখা হয়েছে মোফাজ্জ্বল করিম নামে এক ব্যক্তিকে। পেশায় গ্রাম্য হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক এ লোকটা খুব বাকপটু স্বভাবের। অনর্গল কথা বলতে পারবার এক অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে তার। তার এ স্বভাব নির্জনতাপ্রিয় লেখকের অত্যধিক বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবুও তার বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই এ নিয়ে। সবকিছু জেনে-বুঝেও চুপ করে থাকেন তিনি। মুখে যেন কোনো রা নেই। উপরোক্ত চরিত্রত্রয় ছাড়াও আরো কিছু চরিত্র ঔপন্যাসিক তার উপন্যাসের গল্পের স্বার্থে সৃষ্টি করেছেন। এগুলোর মধ্যে বাবু, বজলুল হায়দার, ওসি সাহেব প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এদের পাশাপাশি লেখকের স্ত্রী ও তার কন্যা স্বাতী উপন্যাসের গল্পে সক্রিয় কোনো চরিত্র না হলেও তারা বেশ গুরুত্বপূর্ণ এক স্থান দখল করে আছে এ উপন্যাসে। এসব চরিত্রের সংমিশ্রণ গল্পটিকে আলাদা এক ব্যঞ্জনা দান করেছে। সৃষ্টি করেছে নতুন কোনো পথের, যে পথ ধরে ক্রমশ এগিয়ে গেছে উপন্যাসের প্রবাহমান স্রোতধারা। উপরোক্ত আলোচনার পরে যে অংশের আলোচনা আসে, তা হচ্ছে ভাষাগত বিশ্লেষণ। ঔপন্যাসিক তার রচিত অন্যান্য বইয়ের মত ভাষারীতির একই ধারা এ বইটাতেও বজায় রেখেছেন। বরাবরের মত সহজ শাব্দিক প্রকাশে তিনি নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। পাশাপাশি, কীভাবে গল্পে জটিলতা সৃষ্টি করে পাঠককে পরবর্তী অংশ পাঠে অধিকতর মনোযোগী করে তোলা যায়, সে ব্যাপারে তিনি বরাবর-ই সিদ্ধহস্ত বলে প্রমাণিত। এ বইটাতেও তার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। এসব তো গেল ভালো দিককার কথা। এবার মন্দ দিক নিয়েও কিছু কথা হোক। নইলে তো এ লেখাটাকে পক্ষপাতদুষ্ট রিভিউ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রথমত, ব্যক্তিগতভাবে উপন্যাসের গল্পে শুধু পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখবার জন্য অপ্রয়োজনে জটিলতা বাড়ানোর ব্যাপারটা তেমন ভালো লাগেনি আমার কাছে। দ্বিতীয়ত, গল্পের শেষ পরিণতি বেশ আকর্ষণীয় হলেও মাঝে কিছু ব্যাপার জগাখিচুড়ি টাইপের মনে হয়েছে। মনে হয়েছে, এসব দিকে আরো কিছু মনোযোগ দিলে হয়ত শ্রেয় হত। তাতে গল্পের কিছু দিক আরেকটু পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারত হয়ত। ব্যক্তিগতভাবে গম্ভীর ধরনের লেখা পছন্দ হওয়ায় হয়ত এমন লেখা খুব একটা ভালো লাগেনি আমার। তাই বলে সকলের যে লাগবে না, তা কিন্তু নয়। পরিশেষে বলতে চাই, উপরোক্ত বিষয়গুলো বাদ দিলে তেমন খারাপ ছিল না বইটি। মানব জীবনের নানা দর্শন এতে ফুটে উঠেছে, যা যেকোনো মানুষের উপকারে আসবে বলে আমার ধারণা। এছাড়া, পাঠকদের মধ্যে যারা বিশেষত উঠতি সাহিত্যিক রয়েছেন, তারা এ বইটি পড়লে বহুলাংশে উপকৃত হবেন বলে আমার বিশ্বাস। সবমিলিয়ে, বইটি পড়ে দেখতে পারেন আপনিও। এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, কোনো পণ্ডশ্রম হবে না। সবশেষে, আন্তরিক ধন্যবাদ ও বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই তাকে, যিনি এ বইটি আমাকে গিফট করেছেন। ------------- #বই_রিভিউ বইয়ের নামঃ 'মৃন্ময়ী' লেখকঃ 'হুমায়ুন আহমেদ' 'মৃন্ময়ী' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। মৃন্ময়ীর বাবার আসল নাম মইনু মিয়া।তার বাবা ছিলেন দর্জি, তাই ছেলেও দর্জি হবে ভেবে এই নাম রেখেছেন। কিন্তু মইনু মিয়া বাপ দাদার পেশায় না গিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক হিসেবে। সেকেন্ড ইয়ারে পড়ার সময়েই অবশ্য তিনি এফিডেভিট করে নিজের নাম বদলে রেখেছেন মাইন খান। তার বাবা-দাদারা দর্জি ছিলেন। সেই সুবাদের বাপ দাদার রক্ত শরীরে আছে বলে দর্জি ব্যাপারটা রক্তে মিশে আছে। তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে এখন গার্মেন্টসের ব্যবসা করেন। তার গার্সেন্টেসের নাম 'মৃন্ময়ী এ্যাপারেলস' মৃন্ময়ীর এই ব্যাপার টা একেবারেই অপছন্দ.. বিদেশি লোকজন কলারে মৃন্ময়ী লেখা শার্ট পরবে।মানুষের ঘাড়ের ঘামের সাথে বসবাস। ওর মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে বাবার মত এফিডেভিট করে নাম বদলে ফেলবে। মৃন্ময়ীর এক ভাই আছে তার নাম টগর।যদিও সে মৃন্ময়ীর আপন ভাই না। মৃন্ময়ীর বাবা যুবক বয়সে বিয়ে করেছিলেন, সেখানে এই ছেলে হয়। এরপর তিনি বিদেশে চলে যান এবং সেখান থেকেই তাকে ডিভোর্স দিয়ে দেন।তারপর তিনি মৃন্ময়ীর মাকে বিয়ে করেন। মৃন্ময়ীর যখন ৫ বছর বয়স তখন টগর ওদের বাড়িতে থাকতে আসে টগর। মৃন্ময়ীর চোখে টগর হচ্ছে ঢাকা শহরের সবথেকে সুন্দর তিনজন যুবকের মধ্যে একজন। টগরকে অনেক ভালবাসে মৃন্ময়ী। অবশ্য এমন ভাইকে সব বোনই ভালোবাসবে। রাত দুটার সময়ও মৃন্ময়ী যদি ওর ভাইকে বলে দুটা দেশি মুরগির ডিম এনে দাও। সে কোনও প্রশ্ন ছাড়াই এনে দিবে।টগরের কাছে কিছুদিন যাবত একটা ছেলে আসে।ওর নাম টুনু। মৃন্ময়ীর বাবার ধারনা সে পুলিশের ভয়ে এবাড়িতে রাত কাটাতে আসে। ওর কেন জানি মনে হয় ওর বাবা আজাহার চাচাকে ভয় পান। ব্যবসার বিভিন্ন কাজে যদিও আজাহার চাচার সাহায্য ওর বাবা নিয়ে থাকেন। আজাহার সাহেব বিভিন্ন দুই নম্বরি ব্যবসা করেন। একবার তিনি উমরা হজ্জ করে আসার সময় মৃন্ময়ীর জন্য মিষ্টি তেতুল ও আকিক পাথরের তসবিহ নিয়ে আসেন। আর ওর বাবার জন্য আনেন অদ্ভুত এক উপহার। কাফনের কাপর। এই উপহার অন্য কেউ দিলে ওর বাবা রাগারাগি করার কথা কিন্তু আজাহার চাচা দেয়াতে তিনি কিছু বলতে পারেননি।আজাহার চাচার এক লাজুক ছেলে আছে, শুভ। যে ছোটবেলায় মৃন্ময়ীকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। এরই মধ্যে মৃন্ময়ীদের কলেজে নতুন একজন টিচার এসেছে যে নিজেকে সবার থেকে আলাদা প্রমান করতে চায়। যার কারনে মৃন্ময়ীর তার উপর কিছুটা চাপা রাগ... পরে অবশ্য তিনি মৃন্ময়ীকে আলাদা ভাবে ডেকেছিলেন... আচ্ছা মৃন্ময়ী কি এই স্যারের প্রেমে পড়ে যাবে? নাকি আজাহার চাচার ছেলে শুভর প্রেমে পড়বে? কিজানি। এমনও হতে পারে যে ওর ভাই টগরের কাছে টুনু নামে যে ছেলেটা আসে, যে কিনা পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়ায় তার প্রেমেও পড়তে পারে। এরকম রহস্যময় কাহিনী নিয়েই এ উপন্যাস..!!" পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ হুমায়ুন স্যারের প্রতিটি বই যেন রহস্য আর আকর্ষণে ভরপুর.. এই বইটি ও এর মধ্যেই একটি.. তবে মৃন্ময়ী এমন একটি চরিত্র! যার নাম শুনেই বইটি পড়ার জন্য মন আকুপাকু করতে থাকে। যা-ই হোক! অসম্ভব সুন্দর একটি বই.. শেষ পর্যন্ত কে হবে মৃন্ময়ীর মৃন্ময়! জানার জন্য পড়তে হবে 'মৃন্ময়ী --------------------- #বই_রিভিউঃ বইয়ের নামঃ 'হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম' লেখকঃ 'হুমায়ুন আহমেদ' প্রকাশনীঃ 'অন্বেষা' প্রকাশকালঃ বইমেলা'৯ মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০ টাকা পৃষ্ঠাঃ ১২৬ পৃষ্ঠা ================== পকেট ছাড়া হলুদ পাঞ্জাবী, ঘামে জবজবে হয়ে রাস্তার মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি হিমু উদ্ভ্রান্তেরর মতো.... হঠাৎ একটা গাড়ি এসে তার সামনে থামলো। হিমু স্তব্ধ হয়ে গেলো!! গাড়ির ড্রাইভারের সিটে যে বসে ছিলো তাকে দেখে হিমুর মনে হতে লাগলো, সে যেনো পদ্মিনী গোত্রের কোনো তরুনীর মতো.. কুঈন অব সেবা, হের রয়েল হাইনেস বিলকিস হয়তো আঠেরো-উনিশ বছর বয়সে এই মেয়ের মতোই ছিলো... কিং সোলায়মান হয়তো এই জন্যই বিলকিস কে দেখে অভিভূত হয়েছিলেন... কিন্তু হিমু অভিভূত হতে পারলো না!! কারন মেয়েটিকে সে চেনে বলে মনে হচ্ছেনা! মেয়েটির সাথে কথা বলার পর সে জানতে পারলো ওর নাম মারিয়া! কিন্তু তবুও সে মারিয়াকে চিনতে পারলো না তাই, তুই-তুমি-আপনি-আজ্ঞে বলো সম্বোধন করতে থাকে মারিয়াকে। আর মারিয়া ও এতে বেশ বিরক্ত হয়েছিলো... মেয়েটি গাড়ি চালাচ্ছিলো!! এই ব্যাপার টা অবশ্য হিমুকে একটু ভাবাতে সাহয্য করলো মেয়েটির ব্যাপারে.. একটি মেয়ে! যার কিনা সাজগোজের দিকে এতো নজর, সে ২০০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি ও চালাতে পারে!! শাড়ী পরে সে গাড়ি চালাচ্ছে কেমন করে? ব্রেক চাপার সময় পায়ের মধ্যে শাড়ি টা বিঁধে যায় না!! আসলে ৫ পছর আগে মারিয়া হিমু কে প্রেমপত্র দিয়েছিলো সাংকেতিক চিহ্নে.... হিমু এই চিঠির পাঠোদ্ধার করতে পারেনি। ওর শিষ্য বাদল অবশ্য মাত্র তিন মিনিটেই চিঠিটার সমাধান করে দিলো! হিমু সেই চিঠির জবাব তো দেয় ই নি, উল্টে মারিয়াদের বাসায় যাওয়া-আসা বন্ধ করে দিয়েছিলো.. ওদের সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এই ভয়ে, যদি সে মায়ায় জড়িয়ে যায়?? হিমুদের কখনো মায়ায় জড়াতে নেই কি না!! পরে অবশ্য হিমু মারিয়ার চিঠির উত্তর পাঠায়, আসগর সাহেব কে দিয়ে লিখিয়েছিলো.. তার হাতের লেখা খুব সুন্দর তো!!সেই জন্যই... । । সেদিন রাস্তায় পুলিশের হাতে হিমু গ্রেফ্তার হয়। তার কাছে মারিয়া ছাড়া আর কারো নাম্বার ছিলো না.. তার পর সে মারিয়া কে ফোন দিলে মারিয়ার বাবা সহ উচ্চ পদস্থ সবাইকে দিয়ে থানায় ফোনের বন্যা বসিয়ে দিলো..! ওসি সাহেব তো ভয়েই কূপকাৎ! হিমু কে অবশ্য তিনি আগেই ছেড়ে দিয়েছিলেন.. মারিয়ার বাবা, আসাদুল্লাহ্ সাহেবের সাথে হিমুর পরিচয়, বই কেনার সূত্রে.. আসাদুল্লাহ্ সাহেবের একটি বই খুবি পছন্দ হয়েছিলো, কিন্তু টাকার জন্য কিনতে পারছিলেন না! তখন হিমু তাকে ১০০ টাকা ধার দেয় বইটা কেনার জন্য.. মারিয়া হিমু কে ঋণ পরিশোধ করার জন্য অনেক খুঁজেও পেলো না, কারন হিমুরা এক যায়গায় বেশিদিন থাকে না! তাই গত পাঁচ বছরে অনেক খুঁজেও মারিয়া হিমুকে পেলো না! আসাদুল্লাহ্ সাহেব শয্যাশায়ী হয়ে গবেষনা করেন যে, 'প্রত্যেক মানুষকে সৃষ্টিকর্তা ৫ টি নীলপদ্ম দিয়ে পৃথিবীতে পাঠান। আর সেগুলো হচ্ছে - প্রেম-ভালোবাসা' তার মতে, তার মেয়ে মারিয়ার নীলপদ্ম গুলো সে হিমু কে দিয়ে দিয়েছে। সেই জন্যই হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম!!! #পাঠ_প্রতিক্রিয়াঃ স্যারের বই এর রিভিউ দেওয়ার যোগ্যতা হয়তো আমার নেই। তবে, আমার পড়া অসাধারন একটি বই.. সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত ৫ টি নীলপদ্ম, মারিয়া হিমু কে দিয়েছিলো ঠিক ই, কিন্তু হিমুর নীলপদ্ম মারিয়াকে দেয় নি!! খুব কম সংখ্যক লোক ই পারে, এমন হাল্কা মিষ্টি চাঁপা রঙের শাড়ি পড়া, চুনা পাথরের লাল মালা, মিষ্টি পারফিউমের সুভাষ আর বাতাসে উড়ন্ত চুলের মিষ্টি মেয়েটিকে এড়িয়ে, উপেক্ষা করে চলে যেতে..হের রয়েল হাইনেস বিলকিস কে দেখে কিং সোলায়মান বিমোহিত হতে পারে, তবে হিমুরা নয়! কারন সবাই তো আর হিমু না. ------------------ বইয়ের নামঃ হিমুর দ্বিতীয় প্রহর লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ বইয়ের ধরণঃ উপন্যাস প্রচ্ছদঃ সমর মজুমদার প্রকাশনাঃ কাকলী প্রকাশনী প্রথম প্রকাশঃ ১৯৯৭ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১২৮ মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০ টাকা . জগতে মানুষ বড় অদ্ভুত রকমের প্রাণী। কিছু কিছু মানুষ জগতে থাকে, যাদের আচরণ আর দশজন মানুষের গড় আচরণের মত হয় না। আপাতদৃষ্টিতে এদের আচরণ আমাদের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয়। এমন অস্বাভাবিক আচরণের আড়ালেও হয়ত লুকিয়ে থাকে অনেক অজানা সত্য। . এমনই অস্বাভাবিক স্বভাবের অধিকারী ব্যক্তিকে নিয়ে সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তার লিখনীর মাধ্যমে তুলে আনলেন বইয়ের পাতায়। সৃষ্টি করলেন এক জনপ্রিয় চরিত্রকে। সে চরিত্রের নাম "হিমু"। আমরা যারা বর্তমান সময়ের বাংলা সাহিত্যের পাঠক, তারা সকলেই কমবেশি এ নামের সাথে পরিচিত। কারণ এটি এখন আর শুধু একটি চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটা এখন একটা বইয়ের ধারাবাহিক সিরিজের নাম। হিমু নামক তরুণ কোনো প্রকার স্বাভাবিক আচরণ করতে আগ্রহী নয়। বিভিন্ন অদ্ভুত আচরণ করতেই তার যত আগ্রহ! এসব আচরণের মধ্যে রয়েছে, পকেটবিহীন হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে দেওয়া, খালি পায়ে মধ্যরাতে নির্জন এলাকায় হেঁটে বেড়ানো, মাঝেমধ্যে মানুষের ভবিষ্যৎ বলে দেওয়া ইত্যাদি। এমন অদ্ভুত আচরণের গল্প এ উপন্যাসের মূল উপজীব্য। এছাড়া এক অশরীরী অবয়বকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে এ উপন্যাসের গল্প। শেষ পর্যন্ত এ রহস্যের সমাধান মিলে। কিন্তু কী সে সমাধান? জানতে হলে পড়তে হবে উপন্যাসটি। . এবার আসি চরিত্রগত বিশ্লেষণ অংশে। বলা বাহুল্য, কেন্দ্রীয় চরিত্র নির্ভর এ উপন্যাসে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রাখা হয়েছে হিমুকে। অদ্ভুত আচরণ করা তার কাছে একরকম নেশার মত। অদ্ভুত ধরনের জীবনযাপনেই যেন তার যত আনন্দ! এমন অদ্ভুত আচরণের জন্য কেউ কেউ তাকে পাগল বলে আখ্যা দিতে দ্বিধা করে না। তবুও তার আগ্রহের কমতি নেই কোথাও। নিশুতি রাতের শহুরে গলি তাকে হাতছানি দিয়ে সদা ডাকে। শহরের গলিতে গলিতে সে নগ্নপদে হেঁটে বেড়ায়। শালবনের নির্জন অরণ্যদেবীর ডাকে সাড়া দিয়ে সে ছুটে যায় সেখানে। এক গলিতে ঘুরতে গিয়ে এক অশরীরী অবয়বের দেখা পায় সে। সে রহস্যের সমাধানে সে ছুটে যায় যুক্তিপ্রিয় ব্যক্তি মিসির আলীর কাছে। এর মধ্যে ঘটে যায় অনেক ঘটনা। এক পর্যায়ে রহস্যের সমাধান মিলে যায়। সে সমাধানের কথা জানতে চাইলে চোখ বুলাতে হবে উপন্যাসের পাতায়। . আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রাখা হয়েছে মিসির আলীকে। যুক্তিপ্রিয় মিসির আলী হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র। হিমু ও মিসির আলীকে আলাদা সিরিজ রচিত হলেও কখনো কোথাও এ দুজনের সাক্ষাৎ ঘটেনি। এ উপন্যাসে সে কাজটাই করেছেন ঔপন্যাসিক। বিপরীতধর্মী এ দুই চরিত্রের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে এ বইটিতে। লেখকের ভাষায়, "ম্যাটার এবং এণ্টিমেটার এক হলে যা হয়, তার নাম 'শূন্য'।" যুক্তিপ্রিয় মিসির আলীর সাথে হিমুর এ আকস্মিক সাক্ষাতকে ঘিরে ঘটতে থাকে অনেক ঘটনা, যা জানা যাবে বইটা পড়লে। . উপরোক্ত দুইটি চরিত্র ছাড়াও আরো একটা চরিত্র এ উপন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তার নাম মীরা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, হিমু সিরিজের অন্যান্য বইয়ে নারী চরিত্রের মধ্যে রূপা চরিত্রের আধিপত্যের কথা শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু এখানে ব্যতিক্রম দেখা যায়। প্রাক্তন কলেজ শিক্ষক আশরাফুল সাহেবের মেয়ে মীরা। ঘটনাচক্রে হিমুর সাথে বেশ কয়েকবার তার দেখা হয়ে যায়। প্রথম সাক্ষাৎ হয় রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া মানিব্যাগ ফেরত দিতে গিয়ে। এগিয়ে চলে উপন্যাসের গল্প। . এবার আসা যাক উক্ত উপন্যাস নিয়ে নিজস্ব মতামত ও এর ভাষাগত বিশ্লেষণের আলোচনার অংশে। আমার কাছে এটাকে কোনো রিভিউয়ের সবচেয়ে কঠিন ও জটিল অংশ বলে মনে হয়। প্রথমত বলে রাখি, হুমায়ূন আহমেদের লিখনীর ভাষাশৈলী নিয়ে বলবার মত দুঃসাহস আমার নেই। হুমায়ূন আহমেদ এমন ভাষায় লিখে গিয়েছেন যে তা যেকোনো পাঠককে বইয়ে আটকে রাখতে যথেষ্ট। পাঠকের মনোযোগ বইয়ের প্রতি নিবন্ধ রাখতে তার লিখনীর জুড়ি মেলা ভার। তার অন্যান্য লেখার মত এ বইটিতেও এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। এর পাশাপাশি তার উপস্থাপনা ক্ষমতার কথাও বলতে হয়। একটা সাধারণ গল্পকেও মোহময় করে উপস্থাপন করবার এক জাদুকরী ক্ষমতা ছিল এ ঔপন্যাসিকের। এ কারণেই হয়ত তাকে কখনো কখনো "গল্পের যাদুকর" বলে আখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে। যা হোক, বরাবরের মত এ উপন্যাসেও সাধারণ গল্পকে অনন্য সাধারণ করে তোলা হয়েছে। বরাবরের মত সহজ, সাবলীল ভাষায় রচিত হয়েছে এ বইটি। সকল ধরনের পাঠকের কথা মাথায় রেখে হয়ত এমন করা হয়েছে। ঔপন্যাসিকের লিখনরীতি ও উপস্থাপনার ভঙ্গি দারুণ লাগলেও কেবল বিনোদনধর্মী এমন লেখা খুব একটা ভালো লাগেনি আমার। বরাবরের মত তার এ লেখাতেও শিক্ষণীয় খুব বেশি কিছু আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। . পরিশেষে বলতে চাই, সকলের লিখনরীতি কখনোই এক হবার নয়। আবার, সবার লিখনীতে যে শুধু শিক্ষণীয় ব্যাপার থাকবে, ব্যাপারটা তাও নয়। ব্যক্তিগতভাবে ক্লাসিক লেখার ভক্ত হবার কারণে এ ধরণের লিখনী আমাকে হয়ত তেমন টানে না। তাই বলে যে অন্যদের কাছেও খারাপ লাগবে, তা কিন্তু নয় মোটেও। যারা বিনোদনধর্মী লেখা পছন্দ করেন, তাদের কাছে এ বই নিশ্চয়ই মন্দ লাগবে না একটুও! . সবশেষে, এ বইটি আমাকে গিফট করে যিনি নিজেকে ধন্য করেছেন (���), তার প্রতি রইলো অসীম কৃতজ্ঞতা। সকল প্রকার ব্যক্তিগত অন্তঃদ্বন্দ্বের কথা ভুলে গিয়ে তিনি এভাবেই নিজেকে আরো বেশি বেশি ধন্য করুন, এটুকুই চাওয়া! ��� . Happy Reading! � . ব্যক্তিগত রেটিং: ৭/১০ ---------------------------------- #বইয়ের_গল্প বই: নিষাদ জনরা: সমকালীন উপন্যাস লেখক: হুমায়ূন অাহমেদ প্রকাশনী: প্রতীক প্রকাশনা প্রকাশ কাল: ৬ষ্ঠ মুদ্রণ, জানুয়ারি ২০০৪ প্রচ্ছদ: বিদেশী তৈলচিত্র অবলম্বনে মুদ্রিত মূল্য: ৫৫৳ কাহিনী সংক্ষেপ: জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে এই অার্বতে ঘেরা হলেও অামাদের জীবনটা চক্রাকার। একজন মানুষ হয়ত মৃত্যুর মধ্য দিয়েই ইহজাগতিক ক্রিয়া সাঙ্গ করে। কিন্তু জীবনের চলার পথে কখনো কখনো মনে হয় যদি অার একবার এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হত তবে হয়তো কোন ভুল কিংবা পরাজয়ের গ্লানিটা মুছে নতুন করে জীবনটা সাজানো যেত নতুন ভাবে। 'নিষাদ' গল্পটা এমনই এক প্যারালাল জীবনে বসবাসকারী মনিরের গল্প, যার ডাকনাম টুনু। অামাদেরও কিন্তু কখনো কখনো তার মনে হয় এঘটনাটা অামরা অাগে থেকেই জানতাম বা এমন ঘটনা অামার সাথে অাগেই ঘটেছে। ঠিক তেমন মনিরের জীবনেও এমন ঘটনা বারবার হতে থাকে। ছোট বেলায় তার বাবার মারা যাওয়ার ঘটনা থেকেই এমন রহস্যময় জীবনের শুরু হয়। প্যারালার জীবনে কখনো মনিরের বাবা বেঁচে যায় অাবার অন্য জীবনেই তার বাবা নেই। বড় হবার পরও এ সমস্যার সমাধান হয় না একজীবনে সে স্ত্রী, পুত্র নিয়ে সংসার করে, অন্যজীবনে পুত্রহারা। এসব সমস্যা থেকে উদ্ধার পেতে দ্বারগ্রস্থ হয় মিসির অালী। কিন্তু এ অদ্ভুত রহস্যময় জীবন থেকে শেষ পর্যন্ত কী মুক্তি মেলে টুনু তথা মনিরের জানতে অবশ্যই শেষ পর্যন্ত বইটা পড়তে হবে। নিজস্ব মতামত: কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সে প্যারালাল জগতের উল্লেখ থাকলেও তার কতটা বাস্তবিক সে সম্পর্বে তেমন ধারনা নাই অামার। তবে এই প্যারালাল জীবনের ঘটনাগুলো বেশ ইন্টারেস্টিং লাগে। বইটাও তাই বেশ উপভোগ্য ছিল। ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর যদি দুঃস্বপ্নটা সত্যি হয়ে যায় এমন এক শিহরণের মত ছিল বইয়ের গল্পটা। 'ডেজাভ্যু' অর্থাৎ ভবিষ্যতের কিছু ঘটনা অাগে থেকেই ঘটে যাওয়ার মত যে অনুভূতি সেটা সত্যিই কখনো কখনো বেশ অসস্তিকর হতে পারে যদি না তার সঠিক ব্যাখা পাওয়া যায়। পরিশেষে বলব প্যারালাল চগত সম্পর্কে যাদের অাগ্রহ তারা নিঃসন্দেহে পড়তে পারেন ভালো লাগবে। ------------------- হুমায়ূন আহমেদ মারা গেছেন ছয় বছর হতে চলল। আসছে মাসের ১৯ তারিখ ছয় বছর পূর্ণ হবে। এই যে এত বছর হুট করে চলে গেল তার চলে যাওয়ার, পাঠকের হৃদয় কি তাকে ভুলতে পেরেছে? আসলে ঠিক তা সম্ভবও না। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে হুমায়ূন বলতেন, 'যেকোনো সময় ও যেকোনো পরিস্থিতির জন্য কবিগুরু গান-কবিতা লিখে গেছেন। এজন্য তিনি আমার এত প্রিয়।' রবিঠাকুরের এই সর্ব পরিস্থিতির জন্য সাহিত্য সৃষ্টির ভিন্ন সংস্করণ এই হুমায়ূন আহমেদ। রবিঠাকুর লিখে গেছেন গান-কবিতা আর হুমায়ূন লিখে গেছেন উপন্যাস। মোটামুটি সবরকম পরিবেশ-পরিস্থিতি ও প্লট নিয়েই হুমায়ূন লিখে গেছেন। মাত্রই ওল্ডম্যান এন্ড দ্য সি শেষ করেছি। ছোটখাটো আরও দুয়েকটা বই পড়া দরকার। ভাবতে ভাবতে পেয়ে গেলাম হুমায়ূন আহমেদের হিজিবিজি। হুমায়ূন যতটা ক্রেজ পাঠকের পেয়েছেন সেটা অন্য কেউ পায়নি, তা মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। এমন একজন ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন নিয়ে যদি তারই কোনো লেখা বই প্রকাশিত হয়, তাহলে ক্রেজটা কেমন হবে? তাও যদি হয় হুমায়ূনের জীবদ্দশায় প্রস্তুত করা সর্বশেষ পাণ্ডুলিপি? 'হিজিবিজি' ঠিক তাই। ভূমিকাতে প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম সেই কথাই বলেছেন। মাজহার লিখেছেন : 'ছাপার আগে হুমায়ূন আহমেদ তাঁর প্রতিটি বইয়ের প্রচ্ছদ দেখতেন, মতামত দিতেন। হিজিবিজি তার সর্বশেষ গ্রন্থ যেটির প্রচ্ছদ তিনি দেখেছেন, অনুমোদন দিয়েছেন ছাপানোর।' এরপর হুমায়ূনের আরও কোনো বই হয়ত প্রকাশ পেয়েছে, তবে সেগুলো শাওন বা মাজহারের হাত দিয়ে; হুমায়ূনের অনুমোদিত নয়। আমার হাতের কপিটি প্রথম বইমেলার পঞ্চম মুদ্রণ। ২০১৩ বইমেলাতে বের হওয়া বইটির একই বইমেলাতে যে আরও অসংখ্য মুদ্রণ হয়েছে, বলার অপেক্ষা রাখে না। 'হিজিবিজি' মূলত আত্মজীবনী ধরণের বই। আবার ঠিক আত্মজীবনীও না। আত্মজীবনীর কোনো ধারা মেনে তিনি লিখেননি। লিখেছেন তার জীবনের বিশেষ-অবিশেষ বিভিন্ন ঘটনা। সেসব কেবলই নিজের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও লেখক জীবন নিয়ে। ছোটখাটো মোট ছাব্বিশটি রচনা এতে আছে। এধরণের আত্মজীবনী ধাঁচের রচনা আরও আছে তাঁর। আমার ছেলেবেলা, ফাউন্টেনপেন, রংপেন্সিল, কাঠপেন্সিল, হোটেল গ্রেভার ইন, ইত্যাদি আরও রচনা আছে। সেসব আবার বিভিন্নভাবে সমগ্রও করেছেন প্রকাশকরা। হিজিবিজির প্রথম রচনাটিই তার মায়ের রসিকতা নিয়ে। সেখানে তাঁর মাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। দ্বিতীয় রচনায় লিখেছেন গবেষক ও লিপিতত্ত্ববিদ দেওয়ান গোলাম মোর্তজাকে নিয়ে তার স্মৃতিকথা। আছে তার বিখ্যাত নাটক অয়োময় রচনা ও শুটিংয়ের বিভিন্ন গল্প। আছে বর্ষবরণ নিয়ে এক আমেরিকানের মুগ্ধতা। হুমায়ূনের জীবনের এমন অনেক টুকরো টুকরো কথা, হাহাকার ও আবেগের সম্মিলন এই 'হিজিবিজি।' রাজনীতি নিয়েও আছে দুই পৃষ্ঠার একটি রচনা, যেখানে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের রাজনীতির প্রকৃত রূপ। একজন লেখক, লেখকজীবনের বাইরেও যে একজন সাধারণ মানুষ, সেই সাধারণ মানুষের সাধারণ জীবনযাপনের অসাধারণ এক প্রতিচ্ছবি 'হিজিবিজি।' বইটা আগেও পড়েছিলাম। আবার পড়লাম। এইসব বই পুরাতন হয় না, পড়তে বিরক্তি আসে না, ক্লান্তিও বোধ হয় না, এগুলো আনন্দ নিয়েই বারবার পড়া যায়। বই : হিজিবিজি লেখক : হুমায়ূন আহমেদ প্রকাশনী : অন্যপ্রকাশ পৃষ্ঠা : ১২৮ মূল্য : ২৫০ টাকা

Humayun Ahmed Books List

বই:দেয়াল লেখক:হুমায়ূন আহমেদ হুমায়ূন আহমেদের পাল্লায় পড়ে ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোও হাস্য-রসাত্মক কথোপকথনে গা ভাসাতে বাধ্য হয়েছে এই গ্রন্থটিতে। অথচ ঐতিহাসিকগণ সাক্ষ্য দেয় যে,উনাদের অনেকেরই নাকি *রসবোধের সুইচটি অফ ছিলো; একথাটি বিলকুল অস্বীকার করা যাবে না। ১৯৭১-১৯৭৫ এ সদ্যস্বাধীন শিশু বাংলাদেশটির ভাগ্যাকাশে ঘটে যাওয়া ঘৃণিত ঘটনাবলীকে উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছে এই গ্রন্থখানার গড়ন। ক্ষমতালিপ্সা হচ্ছে শক্তির মতো অবিনাশী আর ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য।আর এই নোংরা ব্যাধির নিষিদ্ধ টানে পারস্পরিক হিংসা-প্রতিহিংসার দরুন আমরা হারায় জাতির সূর্যসন্তানদের। আমরা হারিয়েছি *বঙ্গবন্ধুর মতো রাষ্ট্রনায়কোচিত রাজনীতির বটবৃক্ষেকে,আমরা হারিয়েছি নিরাপরাধ-মেধাবী-প্রজ্ঞা ও দুরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা তাজউদ্দীন,মনসুর,কামরুজ্জামানদের;কর্ণেল তাহের,খালেদ মোশাররফ,শাফাত জামিলদের মতো বাঘা বাঘা সেনা-অফিসারদের। যারা কিনা পাকিদের করা কুচক্রীতার বিরুদ্ধে পরস্পর সীসাঢালা প্রাচীরের মতো দুর্গ গড়েছিল,আবার সেই প্রাচীরেরই প্রত্যেকটা স্তম্ভ ঘষে পড়েছিল নিজেদের রেষারেষি-কষাকষির এবং হাঙ্গামা-হুজ্জোতের কারণে। এই সকল বিশুদ্ধ-সত্যগুলাই লেখক পরিবেশন করেছেন তার পাতানো কাল্পনিক চরিত্রের হাস্য-রসাত্মক কথোপকথনের মাধ্যমে। এই গ্রন্থে লেখক কর্ণেল তাহেরর প্রতি যতখানি না নেক-নজরে তাকিয়েছেন তারও চাইতে বেশি গুণে খড়গহস্ত হয়েছেন মোশতাকের চণ্ডাল প্রবৃত্তির প্রতি। এই গ্রন্থখানা যতখানি না সমালোচিত হয়েছে এর তথ্য উপাত্ত ও হুআ'র শেষ উপন্যাসের কারণে তারও চাইতে বেশি আলোচিত হয়েছে গাঁইতি-শাবল-চুরি-কাঁচির নিচে বারংবার কতল হওয়ার কারনে!! তবে লক্ষ্যনীয় বিষয় এই যে,এই গ্রন্থে লেখক তাঁর উত্থাপিত তথ্যগুলোর সতীত্ব রক্ষার্থে বিভিন্ন সহায়ক গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। অন্যান্য দূর্বল ইতিহাস-নির্ভর গ্রন্থে; মিথ্যার তুফানে যা কিছু সত্য খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে, সেই সক্ষ্মাতিসূক্ষ সত্যগুলোকেই হুআ তাঁর পবিত্র ইচ্ছায় কাহিনাকারে এখানে লিপিবদ্ধ করেছেন। হূমায়ুনীয় সাহিত্য সম্পর্কে নাক উঁচু পাঠকদের কুচকানো ভ্রু টা হয়তোবা কিঞ্চিৎ পরিমান মসৃণ হতে পারে তাঁর এই পবিত্র ইচ্ছায় নির্মিত সৎ সাহিত্যের সরল বর্ণনায়। পরিশেষে, ইতিহাস সম্পর্কে আমরা যারা *পলায়নবাদী নীতি অনুসরণ করি; এই বইটি তাঁদের জন্য "উপন্যাস কোটেড ইতিহাস" দাওয়াই হিসেবে ক্রিয়াশীল হবে বলে আশা করা যায়। -------------- #বই_রিভিউ বই - বৃষ্টি ও মেঘমালা লেখক - হুমায়ূন আহমেদ পৃষ্ঠা - ১১৭ প্রকাশনী - পার্ল। মুল্য - ২০০ বইয়ের ধরন - সমকালীন উপ্যনাস। দ্বীপের নাম মায়া দ্বীপ। সারা দ্বীপ জুড়ে কদমগাছ থাকবে। বর্ষায় কদম ফুল ফুটবে। যেহেতু দ্বীপের নাম মায়া দ্বীপ, এখানে খুঁজলে সব আপন জনকেই পাওয়া যাবে। তাদের খুব কাছে যাওয়া যাবে না কিন্তু তাদের পায়ের শব্দ পাওয়া যাবে। দেখা যাবে প্রিয় পদরেখা। কিন্তু তাদের ছোঁয়া যাবে না কারণ মায়া তো আর ছোঁয়া যায় না। কেন্দ্রীয় চরিত্র হাসান একটি ছোট কোম্পানীর মালিক । কাজ ছাড়া পৃথিবীর আর কোন কিছুই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না। তার ছেলে অন্তুকে সে ভীষণ ভালোবাসে। লীনা হাসানের পি.এ। অত্যন্ত নরম স্বভাবের মেয়ে। লীনার মা‌ ও ছোট বোন বীণা এই‌ তাদের সংসার। মৃত ভাইয়ের বন্ধু ফিরোজের সাথে তার বিয়ে মোটামুটি পাকা হয়ে আছে। বন্ধু মারা যাওয়ার পর বন্ধুর পরিবার সব দায়িত্ব পালন করে। বন্ধুর প্রতি কতটা মমতা তা ফিরোজ চরিত্রের মাঝ দিয়ে উপলব্ধি করা যায়। ইয়াকুব আলী ‌বিত্তবান একজন ‌মানুষ। গাজীপুরে তার দু'শ বিঘা‌ জমির উপর ‌একটা‌ পার্ক বানাতে চান তার একমাত্র নাতনি এলেনের জন্য। মূলত হাসানের তৈরি একটা পরীর মূর্তি দেখেই তার ইচ্ছা কাজটা হাসান করুক। কিন্তু কাজ শেষ করতে হবে জুনের ৯ তারিখ। পার্ক বানানোর ‌বিশাল কাজ ‌শুরু হয়েছে। এখানে লীনাও আছে। হাসান বানাচ্ছে এক গোলকধাঁধা। সেই গোলকধাঁধা থেকে একটা বাচ্চা ছেলের কান্না শোনা যাবে। সবাই কান্না শুনবে কিন্তু কেউ বাচ্চাটাকে খুঁজে পাবেনা। সবাই কান্না শুনবে কিন্তু কান্নার উৎস খুঁজে পাবেনা। লীনা এক সময় তার বিবাহিত স্যার হাসানের প্রেমে পড়ে যায়। বিষয়টি লীনার মা ,বোন এমনকি ফিরোজ ও বুঝে ফেলে। অন্যদিকে হাসান কাজের ব্যস্ততার কারণে ‌পরিবারে ঠিক মতো সময় দিতে পারে না। এ নিয়ে তার স্ত্রী নাজমার অভিযোগও কম নয়।‌ অভিযোগের ‌মধ্যে এসে যায় লীনার প্রসঙ্গও। হাসান ব্যস্ত তার মায়ানগর তৈরী করায়। অতি‌ বাবা ভক্ত অন্তু অসুস্থ ‌অবস্থাও কাছে পায়না বাবাকে। অসুস্থ অন্তু মাদ্রাজে তার বাবার জন্য অপেক্ষা করছে। কেঁদে কেঁদে বলছে - বাবা কোথায়? Where is my dad? কিন্তু সে ব্যস্ত তার স্বপ্ন নিয়ে। একদিন হাসানের কাছে একটা চিঠি আসে। আর তার কারনেই গল্প নেয় এক নতুন মোড়। কী ছিলো সেই চিঠিতে যার কারণে গল্পে আসে এক নতুন মোড়? কেইবা পাঠালো সেই চিঠি? হাসান কি পেড়েছিলো বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করতে? অথবা কি হলো হাসান, লীনা আর ফিরোজের ত্রিভুজাকার ভালোবাসার? অথবা হাসান কি সময় পেয়েছিলো বাবাভক্তি ছেলের জন্য? প্রতিক্রিয়া - সব মিলিয়ে উপন্যাসটি অসাধারণ। অসাধারণ বলেই যেকোন পাঠকের উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে বলে মনে করি। আর শেষ অবশ্যই আপনাকে একটা বড় ধরণের ধাক্কা দিবে। হাসানের নিজের সম্পর্কে অভিমত- "যার ভেতর অন্ধকার থাকে সে আলো নিয়ে খেলতে পারে না, আমি সারাজীবন আলো নিয়েই খেলেছি" কিন্তু আসলেই কি হাসান আলো নিয়ে খেলতে পেরেছিলো এমন একটা প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। রেটিং - ৯/১০ ------------ হিমু ক্যারেক্টারটিকে হুমায়ূন আহমেদ এমন ভাবেই সৃষ্টি করেছেন যেন সে সবসময়েই গতানুগতিক ধারার বাইরে সমাজের রক্তচক্ষু এড়িয়ে কিছু করতে পারে। : স্বাভাবিকভাবেই তরুন সমাজ তাদের সেই সকল পাগলামি করতে না পারার আক্ষেপ পূরন করছে হিমুর বইগুলোর মাধ্যমে । যেমন আমারও এমন কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও করতে পারিনা। কিন্তু হিমু সেটা পেরেছে। যতই পড়ি ততই মুগ্ধ হই, আর ভাবি “হিমু হতে পারলে কিন্তু মন্দ হয় না।” এত সাবলীল কথোপকথন বারবারই আপনার মনে প্রশ্ন সৃষ্টি করতে বাধ্য “কেন এতদিন পড়েননি?” গল্পের প্রতিটি চরিত্র একদম জ্যান্ত , যেন চোখের সামনে তারা কথা বলছেন কিংবা ঝগড়া করছেন। হিমু সম্পর্কে কিছু বলার নাই। : কিছু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মধ্যে আছে মাজেদা খালা , পল্টু সাহেব, রানু এবং বাদল মাজেদা খালার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল পল্টু সাহেবের সাথে কিন্তু পল্টু সাহেবের কক কক(বদ অভ্যাস বলা যায়) করার কারনে সেই বিয়ে আর হয়ে উঠেনি। মানে, অনেক টাকা পয়সা থাকা সত্ত্বেও বিয়ে না করেই কাটিয়ে দিয়েছেন পল্টু সাহেব । বড় রকমের নেশা বই পড়া। আর তিনি বাসায় সাজিয়ে রেখেছেন মাজেদার ছবি। গল্পের শুরুতে পল্টু সাহেবের দুইটা কিডনিই নষ্ট হওয়ার কথা বলা হয় । মাজেদা খালা প্রথমে হিমুকে কিডনি দেওয়ার জন্য রাজি করালেও সেটা আর হয়ে উঠেনি। কিডনী দেওয়ার বিষয়টাকে হিমু একটা ছেলেখেলা হিসেবে নেয়। যখন খালা তাকে গাড়িতে তোলে তখন সে জানতে চায় কিডনী উনি নিজেই চুরি দিয়ে কেটে নিবেন কিনা। গাড়ির শীতলতায় সে রোদের কাকের জন্যও আফসোস করে। দুটা কাক তো অতি গরমে মারাও যায়। তার মাথায় আসে কাকের জন্য স্বর্গ থাকলে কি স্বর্গে একটু পরপর ডাস্টবিন থাকবে? খালা অবশ্য কিডনীকে সহহজলভ্য হিসেবে জানলেও ওসব বিক্রেতা ফকির মিসকীন টাইপের বলে হিমুকেই সিলেক্ট করা। পল্টু সাহেব বেশ মজার মানুষ। উনার সাথে কথা বললে শুধু কিডনি কেন, হার্ট লিভার সব দিতে মন চাইবে। মাজেদা খালার এমন ধারণায় হিমু জানায় শুধু চামড়া নিয়ে সে কেমনে বাচবে! হিমুর এইরকম নানান প্রকাশভঙ্গিতে আপনি অবশ্যই হাসতে বাধ্য। গল্পের শেষ পর্যন্ত এই হাসি থামাতে পারবেন না। : হিমু পল্টু সাহেবের বাসায় গৃহভৃত্যের কাজ নেয়। রানুকেও নিয়ে আসে ঐ বাসায়। যে একটা ভার্সিটিতে পঠাশোনা করে। বাদলও যোগ দেয় তাদের সাথে। তার ভার্সিটি অফ হওয়াতে হিমুর সাথে থাকতে এসে জড়িয়ে যায়। সে পিজিক্স পড়ায়। এক পর্যায়ে রানুর সাথে বাদলের বিয়ে হয়। : ধর্মের বিষয়েও এসে হিমুর মনে জটিল চিন্তা তৈরি হয়। পানির ধর্ম নিচের দিকে যাওয়া, কিন্তু মানুষের ধর্ম কি! : পল্টু সাহেব হিমুকে চাকর হিসেবে জানলেও তার উপদেশ তিনি অগ্রাহ্য করছেন না। হিমুর যুক্তিতে তিনি কিডনির প্রতিও আগ্রহ হারায়। অন্যের শরীরের অংশ কেন তিনি নিবেন? হাসপাতালে বই পড়ার প্রতিও সাজেস্ট করে সে। বিড়ালের সিমকার্ড খাওয়া নিয়ে পরাবাস্তব গল্প শুনাচ্ছে পল্টুসাহেবকে। উনিশ বছরের একটা মেয়েকেও দাড় করানো হয়। যার সুগঠিত স্তনদুটি ভোরের আলোয় ঝলমল করছে। রবীন্দ্রনাথের "...... পূজোর কুসুম দুটি' নামক চরণও সে প্রসঙ্গে আসে। বিষয়টা আমার কাছে পল্টু সাহেবের মত বিদঘুটে লাগে। পরাবাস্তব গল্পে রবীন্দ্রনাথ আসে হাফ প্যান্ট পরে! : পল্টু সাহেবের আত্বীয় সাত্তার সাহেব আসে। উনার মতলবে সম্পত্তির বিষয়টা প্রাধান্য পায়। পরে এটা নিয়ে মজার পরিস্থিতি হয়। তিনি জেলে যায় এবং সেখানে নরকযন্ত্রনা ভোগ করে। সেখানে উনার সাথে থাকা এক কয়েদি প্রতিরাতে উনার গায়ে পেশাব করে। গল্পে এক ছিনতাইকারী (সোহাগ) নিয়েও সাবলীল বর্ণনা আছে। এই চরিত্রটাও পাঠককে আনন্দ দিতে বাধ্য। এখানে হুমায়ূন স্যার লিখেছিলেন 'বাংলা শব্দভাণ্ডারে তেমন জুতসই গালি নেই। বেশীরভাগ গালি জন্তু জানোয়ার সম্পর্কিত। তাছাড়া, বই জুড়ে পাবেন থানা-পুলিশ খাওয়া-দাওয়া নিয়ে বেশ আমুদে তথ্য। আছে ফিলোসপিক কথাবার্তা। : এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মত বই। পড়ার সময় একা একা পড়তে চাওয়ার চেষ্টা করবেন। যাতে কেউ বইটা কেড়ে না নেয়। হাসি চেপে রাখার চেষ্টাটা গল্প অব্দি চালিয়ে যেতে হবে। পানি রাখবেন পাশে। দামের ব্যাপারটা একদম হাতের নাগালে। ধরুন একদিনের নাস্তার খরচ।

বই - হিমুর মধ্যদুপুর লেখক - হুমায়ূন আহমেদ





More Words For Bangla Boi

  • bangla golper boi
  • bangla boi
  • bangla book
  • bangla ebook
  • bengali story books
  • bengali books pdf
  • bangla book pdf
  • bangla golpo pdf
  • bangla story book
  • bangla books
  • bengali ebook
  • bangla e book
  • bangla golpo book
  • bangla novel
  • bangla boi pdf
  • bengali books online
  • bangla ebook pdf
  • bangla book free download
  • bangla islamic book
  • bengali books free download
  • bengali ebook library
  • bangla book online
  • bangla novel pdf
  • bengali ebook collection
SHARE

Author: verified_user