Sunday

The Girl On The Train - You don't know her, But she knows you | Bangla Review

SHARE

The Girl On The Train -  You don't know her, But she knows you | Bangla Review

The Girl On The Train -  You don't know her, But she knows you | Bangla Review
The Girl On The Train -  You don't know her, But she knows you 


"You don't know her, But she knows you." 


মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের মধ্যে সভ্য হয়ে মিলেমিশে বসবাস করে। এই সমাজেই কোন একদিন একটা ঘটনা ঘটলে সমাজের মানুষগুলোর আলাদা আলাদা রূপ বেড়িয়ে আসে। বুঝা যায় যে, কেউই খাঁটি না। কোন না কোন মতলব বা উদ্দেশ্য আছেই। আর স্বার্থপরতা সে তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। সেই লুকায়িত রূপগুলোতে থাকে হিংসা, আক্রোশ, প্রতিশোধ-স্পৃহা, নিজে বাঁচার চেষ্টা। হয়তো দেখা যাবে যাকে সবচাইতে ভালো বলে জানতেন তার থেকেই সবচাইতে জঘন্য কাজটা হয়েছে। ভালোর পিছনে লুকিয়ে থাকে এক ভয়ানক অন্ধকার। সেই অন্ধকারের মাত্রা বা তীব্রতা কখনো কখনো কল্পনাতীত।

"One for sorrow, Two for joy, Three for a Girl. Three for a girl. I'm stuck on three; I just can't get any further."

দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন। পলা হকিন্সের লেখা থ্রিলার যা প্রকাশের সাথে সাথেই বেস্টসেলারের মর্যাদা অর্জন করে। ফ্ল্যাপ থেকেঃ র‍্যাচেল প্রতিদিন একই কমিউটার ট্রেনে চেপে যাতায়াত করেন এবং পথের দুধারে বাড়িঘর দেখে নানান স্মৃতিকাতরতায় ভুগেন। এই রোজ রোজকার দেখাতে একটা বাড়ির ছাদে ও বারান্দায় একজোড়া দম্পতিকে দেখে তার মনে হয় সে ওদের চেনে। ওদের নাম দেয় 'জেস' এবং 'জেসন'। ওদের রোমাঞ্চটা র‍্যাচলকে তার ফেলে আসে জীবনের কথা মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু একদিনের কয়েক সেকেন্ডের একটা ঘটনা র‍্যাচেলের পুরো জীবনটাকেই বদলে দেয়। বইটার প্রধান তিন চরিত্র র‍্যাচেল, আনা আর মেগান। একজন মদ্যপায়ী, একজন মিথ্যাবাদী এবং আরেকজন প্রতারক। কাকে বিশ্বাস করবেন? বইটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার। সাথে ডার্ক থ্রিলারের তকমাটাও জুড়ে দেয়া যায় নিঃসন্দেহে।

"I fell asleep last night thinking of you, I was dreaming about kissing you. I woke this morning with my head full of you, desperate to touch you. don't expect me to be sane, I can't be, not with you."
কাহিনীপ্রসঙ্গ : র‍্যাচেল ওয়াটসন। মধ্যবয়সী মদ্যপায়ী একজন নারী। স্বামী টম ওয়াটনের সাথে তালাক হওয়ার পর থেকে মদ্যপানের অভ্যাসটা আরো তীব্র হয়। তবে এখনও র‍্যাচেল তার প্রাক্তন স্বামীকে প্রচন্ড ভালোবাসে এবং তার ওয়াটসন নাম ব্যবহার করে। র‍্যাচেল তার বান্ধুবী ক্যাথির সাথে একটা ফ্ল্যাটে থাকে। তার বান্ধুবী যাতে তার বেকারত্বের খবর জানতে না পারে সেজন্য সে প্রতিদিন একই কমিউটার ট্রেনে সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে চলে যায় এবং সন্ধ্যায় ফিরে আসে। এই যাতায়াতের পথে আসেপাশে থাকা বাড়িঘরগুলো তাকে বিভিন্ন স্মৃতিকাতরতায় আক্রান্ত করে তুলে। সেগুলো মধ্যে একটা সবচাইতে বেশী প্রভাব ফেলে আর তা হলো সিগন্যালের পাশেই একটা বাসার একজোড়া দম্পতি। র‍্যাচেল তাদেরকে 'জেস' আর 'জেসন' নামে ডাকে।

আনা ওয়াটসন। র‍্যাচেলের সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর টম আনাকে বিয়ে করে। তাদের একটি মেয়েও আছে ইভি। যে বাড়িতে একসময় র‍্যাচেল আর টম থাকতো সেখানেই এখন থাকে আনা আর টম। টমের সাথে বিচ্ছেদটা র‍্যাচেলের মেনে নিতে কষ্ট হয়েছিল বিধায় প্রায় প্রায়ই র‍্যাচল টমকে ফোন করতো কিংবা মেইল পাঠাতো অথবা বাসায় চলে আসতো যেটা আনা একদমই সহ্য করতে পারতো না। কোনভাবেই না। এককথায়, র‍্যাচেলকে ও ঘৃণা করতো। ও জানতো টম ওকেই ভালোবাসে তাই র‍্যাচেলকে তালাক দিয়েছে।

মেগান হিপওয়েল। টমের মেয়ে ইভির আয়া এবং টমের বর্তমান প্রতিবেশী। টমের পাশের বাসাতেই থাকে। বাহ্যিকগত দৃষ্টিতে মেগান অনেক সুখী কেননা তার স্বামী স্কট হিপওয়েল ওকে অনেক ভালোবাসে। আসলেই কি তাই? নাকি পুরোটাই সাজানো মিথ্যে? নিজের ভেতর লুকিয়ে রাখা গোপনীয়তা গুলো আস্তে আস্তে তাকে মানসিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয় এবং একটা পর্যায়ে সে অনিদ্রায় ভুগে। কিন্তু কারো কাছে তা প্রকাশ করে না।
সবকিছুই ঠিকভাবে চলছিল কিন্তু একদিন অতিরিক্ত মদ্যপানে অচেতন হয়ে যায় র‍্যাচেল। চেতনা ফিরলে নিজেকে আহত আর রক্তাক্ত অবস্থায় আবিষ্কার করে। কিছুতেই মনে করতে পারে না সে আগের রাতের ঘটনা। সেদিনের শীর্ষ খবরের একটা ছিল মেগান হিপওয়েলের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ। পুলিশ র‍্যাচেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কেননা আনার মতে সে সেদিন র‍্যাচলকে ওখানে দেখেছিল যেখান থেকে মেগান নিখোঁজ হয়ে যায়। পাশাপাশি নানানভাবে অভিযুক্ত করতে চায় যাতে নিজের স্বামীর কাছ থেকে ওকে দূরে সরিয়ে রাখা যায়। র‍্যাচেলের কিছুই মনে পড়ে না। কোনভাবেই মনে করতে পারে না। পুলিশের কাছে সে মনগড়া গল্প বলে। নিজের এই না জানা গল্পগুলো খুঁজে বের করতে নিজেই এই ঘটনার সাথে জড়িয়ে যায়।

মেগান নিখোঁজ হলো কেন? কেইবা মেগানকে নিখোঁজ করলো? র‍্যাচেল সেদিন রাতে ওখানে কি করছিল? কেন সে রক্তাক্ত আর আহত অবস্থায় ছিল? আনা কি সত্যিই র‍্যাচেলকে দেখেছিল নাকি মিথ্যে অভিযোগ দিল? এসবের মূলে কে আছে? র‍্যাচেল? আনা? মেগান নিজে? টম ওয়াটসন? নাকি স্কট হিপওয়েল? এসব জানতে হলে পড়তে হবে পলা হকিন্সের দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন।

লেখক প্রসঙ্গ : পলা হকিন্স একটানা পনের বছর সাংবাদিকতার কাজ করেন। জিম্বাবুয়েতে জন্ম তবে ১৯৮৯ এর দিকে চিরতরে লন্ডনে চলে আসেন। সেখানেই বসবাস করা শুরু করেন। দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন তার প্রকাশিত প্রথম থ্রিলার। এছাড়া, গতবছর তার প্রকাশিত বই ইন টু দ্য ওয়াটার গুডরিডস চয়েস এওয়ার্ডে বেস্ট সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বলে ঘোষিত হয়েছে।

"Parents don't care about anything but their children. They are the center of the universe; They are all that really counts. Nobody else is important, no one else's suffering or joy matters, none of it is real."

ডার্ক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার হলেও চরিত্রগুলো আর গল্পটা বেশ খোলামেলা ছিল। তার মানে, এই না যে গল্পের শুরুতে বা মাঝামাঝিতে এসে বুঝে যাবেন কে আসল ভিলেন? আপনাকে শেষ অবধি আটকে রাখবে লেখিকা। প্রতিটা চরিত্রেই এমন কিছু দোষ আছে যার জন্য কাউকেই বিশ্বাস করা যায় না। লেখার স্টাইলটা বেশ জোড়ালো ছিল। চরিত্রের বিন্যাস, চরিত্রের ভালোর গভীরে মন্দ, চরিত্রের প্রতি দুর্বলতা সব দিক মিলিয়ে একেবারে পরিপূর্ণ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বলা যায়। হয়তো এ জন্যেও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের পেছনের সব ইতিহাস ভেঙ্গে রেকর্ড করেছিল বইটা। বাতিঘর প্রকাশনী থেকে কিশোর পাশা ইমন এর অনুবাদে বইটা পাবেন। অনুবাদ কেমন হয়েছে বলতে পারলাম না। কারন আমি ইংলিশ হার্ডকভার পড়েছি। যা হোক, পড়তে পারেন আশাহত হবেন না।

বই : দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন The Girl on the Train
লেখক : পলা হকিন্স Paula Hawkins
মূল্য : ২০০ টাকা (ইংলিশ লোকাল পেপারব্যাক)

#জ্ঞানগেলা
#সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার


Review Writter : Wazedur Rahman Wazed
SHARE

Author: verified_user