Sunday

Japan Kahini Bangla Book Review | Japan Kahini Free Ebook Download | Japan Kahini PDF

SHARE

Japan Kahini Bangla Book Review | Japan Kahini Free Ebook Download | Japan Kahini PDF



Japan Kahini Bangla Book Review | Japan Kahini Free Ebook Download | Japan Kahini PDF


জাপান কাহিনি japanKahini জাপানি প্রেম-ভালোবাসা-বিয়ে
জন্ম, মৃত্যু আর বিয়ে
এই তিন কি সত্যি ভাগ্য নিয়ে?

Japan Kahini By Ashir Ahmed


Buy This Book From Rokomari "Japan Kahini"

জন্ম আর মৃত্যু পুরোপুরি নিজের কন্ট্রোলে না থাকলে ও বিয়ের ব্যাপারটি মনে হয় ৯০% জাপানিদের নিজেদের কন্ট্রোলে।
প্রাপ্তবয়স্ক হবার আগেই এরা জেনে যায়, এদের বাঁচার সম্ভাবনা ৮৫ বছর। এই ৮৫ বছরের জীবনকে কিভাবে ডিজাইন করবে, এ নিয়ে চিন্তা শুরু হয় টিন-এজ থেকেই।
প্রথম ২০-৩০ বছর হবে লার্নিং পিরিয়ড, ৩০-৬০ আর্নিং পিরিয়ড আর বাকি সময়টুকু হবে স্পেন্ডিং পিরিয়ড। তারপর ঠুস।
১৮ থেকে পাত্র-পাত্রী খোঁজো, ২৫- ৩৫ এর মধ্যে বিয়ে করো।
পাত্র-পাত্রী খোঁজে কি করে? বিয়ে করার আগে স্টেপ গুলো কি?
আগেই বলেছি ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে কিছুদিন বুয়েটে কাটিয়ে আন্ডারগ্রেড থেকেই আমি জাপানে। ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সটা আমার জাপানি ক্লাসমেটস দের সাথে কেটেছে।
ক্লাসে যেমন আমরা ছোট বেলা থেকে এসো নিজে করি DIY (Do It Yourself) শিখি, পাত্রপাত্রী খোঁজার কাজটা ও এখানে অনেকটা “এসো নিজে করি” র লিস্টে পড়ে গেছে। আপনি ঘোড়া চালাতে চালাতে বনে ঢুকবেন, সেখানে বিপদে পড়া কোন রাজকুমারী কে উদ্ধার করে জীবন সঙ্গী করে নেবেন- সেই দিন শেষ দাদা। এখানকার রাজকুমারীরা কি আর তেমন বিপদে পড়ে? নায়ক সাজার সুযোগটা কই, কন দেহি।
১৮ বছর বয়স মানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ। ছেলে হোক মেয়ে হোক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেই কে কোন ক্লাবে ভর্তি হবে সে নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। ক্লাস ফাঁকি দেয় এমন ছাত্র অনেক পাবেন, কিন্তু ক্লাব এক্টিভিটি ফাঁকি দেবে এমন ছাত্র কম। কি ধরনের ক্লাব হয় জানেন?
স্পোর্টস ক্লাব-এই ধরেন ফুটবল, বেসবল, জু-দো, দৌড়-ঝাপ অলিম্পিকে যেসব স্পোর্টস থাকে মোটামুটি সব। সাহিত্য সংস্কৃতি ক্লাব - আর্ট, ডিজাইন, মিউজিক, নোবেল পড়া, মাঙ্গা কার্টুন ক্লাব । শিক্ষা মূলক ক্লাব - ইংলিশ, জার্মান, ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, রোবট ক্লাব, কম্পিউটার ক্লাব।
তবে জনাব, রাজনীতির কোন ক্লাব নেই। জিয়া-মুজিব হল নেই। সাদা নেই, নীল নেই- আর্জেন্টিনার পতাকা নেই। রংধনু থাকলে থাকতে ও পারে।
কিছু মজার মজার ক্লাব আছে যেমন এসো খাই ক্লাব, এসো হাসি ক্লাব, এসো নাচি ক্লাব ইত্যাদি।
৫০% পাত্র পাত্রী নির্ধারন হয়ে যায় এই ক্লাব এক্টিভিটির মাধ্যমে। একটা ক্লাবে যে সময়টুকু ছাত্ররা এক সঙ্গে কাটায় তাতে একজন আরেকজনকে জানাশোনা এবং জীবন সঙ্গী হিসাবে বেছে নেবার জন্য যথেষ্ট বলতে পারেন। প্লেবয় টাইপের ছেলে কিছু যে থাকে না তা নয়। মুখে প্রকাশ না করলে ও মনে মনে অনেকেই ক্লাব এক্টিভিটির সাথে সাথে জীবন সঙ্গী খোঁজে।
আমি প্রথম ভর্তি হলাম ব্যাডমিন্টন ক্লাবে।
মিলিটারি টাইপের নিয়ম কানুনরে ভাই, মিলিটারি।
ব্যাডমিন্টন আপনি যতই ভাল খেলেন না কেন, প্রথম এক মাস আপনাকে কোর্টের ভেতরে ঢুকতে দেবেনা, র‍্যাকেট ও ধরতে দেবেনা। আপনার কাজ হবে কোর্ট ক্লিন করা, কর্ক টোকানো, নিউজপেপার গোল করে র‍্যাকেটের মত বানিয়ে দিনে ১০০ বার ঢিলা দেয়া। ডরমিটরিতে ফিরে বড় ভাইদের জন্য ডাইনিং টেবিল সাজাও। নেংটু হয়ে একসঙ্গে গোসল করো আর মাঝে মাঝে বড় ভাইদের পিঠ মেজে দাও ইত্যাদি।
হাগলে হাইসে নি? ব্যাটা আমারে আবুল পাইসস? আমি কি তোর চাকর? তুই খেলবি ব্যাডমিন্টন আর আমি তোর কর্ক টোকামু? যাহ খেল্লাম না। ৩ সপ্তাহের মধ্যে ইস্তফা দিলাম।
তারপর ঢুকলাম ইংলিশ স্পিকিং ক্লাবে। আমি তখন তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। আমার খুব কাছের একজন বন্ধু সেই ক্লাবের সদস্য। সে বলল - তোমার তেমন বন্ধু নেই, ক্লাবে আসো অনেক বন্ধু পাবে। তাছাড়া এই ক্লাবে সুন্দরী মেয়েদের সংখ্যা বেশি। এই প্রস্তাবে কেউ অরাজি থাকতে পারে? বছরে ২ বার ক্লাব এর এলাম্নাই রা আসেন। ওনারা বড় বড় কোম্পানিতে চাকুরী করেন। আমাদের নিয়ে খাওয়া দাওয়া ফুর্তি করেন, ভ্রমণে নিয়ে যান। গিফট ও দেন। আমাদের কোন চাঁদা দিতে হয় না। ইন ফ্যাক্ট এসব এলাম্নাইদের অনেকেই কিন্তু পাত্রী খুঁজতে আসেন।
ক্লাবে আমি ছিলাম একমাত্র বিদেশী ছাত্র। পাত্র-পাত্রী খোঁজার ব্যাপারটি টের পেয়েছি আরও বহুকাল পরে। চাকুরীজীবনে যখন বন্ধুবান্ধব থেকে শুভ বিবাহের কার্ড পাচ্ছিলাম তখন দেখি আরে এই পাত্র-পাত্রী দুজনকেই তো আমি চিনি। এরা তো আমাদের ইংলিশ স্পিকিং ক্লাবের সদস্য।
ধরুন ২৫% কাপল তৈরি হল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব এক্টিভিটির মাধ্যমে। বাকি ৭৫% কি করে? ২৫% হয়তো কর্মস্থলে বিয়ে করেন। আমার দেখা ডাক্তারদের অধিকাংশই নার্সদের বিয়ে করেছেন। উল্টাটাও সত্য। নার্স রা ডাক্তার বিয়ে করেছেন। অনেক মেয়ে নার্স, বিমান বালা হতে চান যাতে পছন্দের একজন ডাক্তার বা পাইলট ধরতে পারেন। অনেক মেয়ে টি,ভির স্পোর্টস এনাউন্সার হতে চান যাতে বড় বড় প্লেয়ার দের কব্জা করতে পারেন।
বাকি ৫০%?
৯০ দশক থেকে একটা নূতন পদ্ধতি শুরু হয়েছে- এটাকে বলে গো-কন বা গ্রুপ-পাত্রপাত্রী দেখা পদ্ধতি। নূতন স্টাইলের পাখি ভাই ব্যবসা বলতে পারেন। পাত্র পাত্রীরা হাল্কা প্রোফাইল জমা দেন। জাপানি পাখি ভাই প্রোফাইল দেখে ৫ জন পাত্র, ৫ জন পাত্রী কে একসঙ্গে কোন একটা রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করে দেন। খাওয়া দাওয়া হয়, হইচই হয়। এর মধ্যে একে অপরকে পছন্দ হলে পরবর্তী স্টেপে যান। ওয়ান টু ওয়ান ইন্টারভিউ এর চেয়ে এটাতে অনেক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কেউ কোন প্রেশার ফিল করেন না। আমি আপনাকে রিজেক্ট করলাম বা আপনি আমাকে রিজেক্ট করলেন- এসব ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকা যায়।
এই ধরনের পদ্ধতিতে ধরুন ২০% কবুল হল।
বাকি ৩০%? এদের কথা পরে আসছি। বিয়ের স্টেপ নিয়ে কি বলতে চাচ্ছি তার একটু সামারি করি-
(১) প্রথম স্টেপ- থিওরি। একে অপরকে চেন। কথা বল। নিজের প্রেফারেন্স মিলিয়ে দেখ। মেয়ে পটানো, ছেলে পটানো নিয়ে বাজারে বিভিন্ন বই পাওয়া যায় - মেয়ে পটানোর ১০১ টি সূত্র বা ছেলে পটানোর আড়াইটি সূত্র।
আশি-নব্বই দশকে টোকিও তে রপ্পঙ্গি নামের একটা জায়গা বিখ্যাত ছিল। একে বলতো হান্টিংস্পট। ছেলেরা যেত মেয়ে শিকার করতে, মেয়েরা যেত ছেলে শিকার করতে। রপ্পঙ্গি তে কেবল মাত্র সাদা আর কালোরা হান্টেড হতো। আমার এক বাংলাদেশি বন্ধু আক্ষেপ করে বলেছিল - শালার, সাদা ও হতে পারলাম না, কালা ও হতে পারলাম না। আমরা সবদিক থেকেই বঞ্চিত।
আমার এক ভারতীয় বন্ধু ছিল। মাথায় নারিকেল তেল লাগিয়ে কোট টাই পড়ে হাইস্কুলের হেডমাস্টার সেজে উপস্থিত হতো।
(২) দ্বিতীয় স্টেপ- প্রাক্টিক্যাল (অপশনাল)। ডেটিং এ যাও। মানসিক কম্প্যাটিবিলিটি চেক করো। ডেটিং এর জন্য সুন্দর সুন্দর স্পট আছে। আরো অন্তরঙ্গ মুহুর্ত কাটানোর জন্য একরকম হোটেল আছে - নাম লাভ হোটেল। ৪-৬ ঘণ্টার জন্য। কুইক রেন্টাল সিস্টেম।
(৩) তৃতীয় স্টেপ- প্রপোজাল। এই কাজ টি করতে হয় ছেলেদের। ছেলেটিকে প্রমাণ করতে হয় যে সে বড়ই রোমান্টিক। প্রপোজ করার জন্য কোন ধরা বাঁধা নিয়ম নেই। মেয়েটাকে খুশি করতে হবে। বুঝিয়ে দিতে হবে যে, য়্যু রিয়্যেলি কেয়ার। তবে অনেকে সেই দিন সেই ক্ষণ, সেই জায়গা, সেই কথা টুকুকে স্মরণীয় করার জন্য মজার মজার ঘটনা ঘটিয়ে বসেন। প্রপোজ করার কায়দা, প্রপোজ এর উপহার, প্রপোজের স্থান, কাল নিয়ে ও বই আছে। দিন হিসাবে ২৪ শে ডিসেম্বর, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, অথবা মেয়েটির জন্মদিন বেছে নেয়ার প্রবণতা বেশি।
(৪) চতুর্থ স্টেপ- কনের পিতার সম্মতি। ট্রাডিশনালি, ছেলেকে যেতে হয় কনের বাড়িতে। হাঁটু গেড়ে বসতে হবে বাবার সামনে। বলতে হবে, আপনার মেয়েকে সম্প্রদান করতে হুজুরের আজ্ঞা হয়। কনের বাবা এত সহজে মেয়েকে ছাড়েন না। ছেলেকে কঠিন কঠিন প্রশ্ন করে বসেন। সব ফাঁস হওয়া প্রশ্ন। কিন্তু উত্তর দিতে হবে নিজের ভঙ্গিতে। প্রশ্নগুলোর ভাবখানা এমন যে, তোর কতো বড় স্পর্ধা যে আমার মেয়েকে বিয়ে করতে চাস। আমার মেয়ে যে তোর কাছে সুখী হবে তার প্রমাণ দেহ।
কোন বাবাই পারতপক্ষে তার মেয়েকে ছাড়তে চাননা। নিজে যতটুকু আদর যত্ন করে মেয়েকে বড় করেছেন, চোখের সামনের ছেলেটি তার কন্যাকে তার চেয়ে ও বেশি গুরুত্ব দেবে এটা বিশ্বাস করতে চাননা। সেটা কাবুলিওয়ালাই হোক আর হৈমন্তীর বাবাই হোক। কাহিনি একই।
বাকি ৩০% এর কাহিনি বলা হয়নি। বড়ই করুন কাহিনিরে ভাই, বিয়ে দিল্লিকা লাড্ডু হোক বা কুমিল্লার রসমালাই হোক- এসব অর্জন করতে হয়। ছেলে-মেয়ের হাতের মোয়া না রে ভাই। কয়েকটি উদাহরণ দেই- Japan Kahini Free Ebook Download
(১) বিশেষ করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার আগেই বাবা-মার ব্যবসার হাল ধরেন বা গ্রামেই কৃষক, জেলে হিসেবে থেকে যান, তাদের জন্য কোন রেডিমেট বর-কনে নেই। আপনি রোমান্টিক হোন আর ঢাকান্টিক হোন, সব ফেল। ৮০ র দশকে যখন এদের অর্থনৈতিক অবস্থা তুঙ্গে ছিল, তখন অনেক পাত্র গ্রুপ করে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনে যেতেন। বিয়ে করতে। এই ট্যুর এর ব্যবস্থা করতেন ট্রাভেল এজেন্সি গুলো। এই ট্রিপের নাম ছিল বিয়ে-সাদি ট্রিপ। মাঝখানে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনে কিছু আজে বাজে মিডলম্যান তৈরি হওয়াতে বিয়ে-সাদি ট্রিপ বেশিদিন এগুলো না।
(২) অনেকেই এরেঞ্জড ম্যারেজ এর ওপর নির্ভর করেন। বিয়ে-শাদি ডট কম জাতীয় সাইট ও আছে। এতে ৫% মেলে কিনা জানিনা। বার বার বিয়ের ইন্টারভিউ দেন। এক সময় জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসে। তবে এই কিসিমের লোক আত্মহত্যা করেন না। সমাজ সেবক হয়ে উন্নয়নশীল কোন দেশে চলে যান। হোশি কুনিও নামের যে ব্যাক্তি টি রংপুরে নিহত হলেন, কেন জানি মনে হচ্ছে এই লোকটি এই ক্যাটাগরির।
(৩) জাপানে ৯০ দশকের শুরুর দিকে একটা নাটক ছিল। প্রচণ্ড জনপ্রিয়। নাম ১০১ তম প্রপোজাল। এই নাটকের কাহিনি দিয়েই শেষ করছি।
ভদ্রলোকের বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। নাম হোসিনো। ৯৯ বার বিয়ের ইন্টারভিউ দিয়েছেন। মেলাতে পারেন নি। চেহারা সুন্দর না। কথাবার্তাতে কোন স্মার্টনেস নেই। ইন্টারভিউ তেমন আগায় না।
১০০তম ইন্টারভিউ টা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। এক সুন্দরী মেয়ে। নাম কাওরু। পিয়ানো শিক্ষক। কাকতালীয় ভাবে এই মেয়ের ছোট বোন আর ভদ্রলোকের ছোটভাই একই ইউনিভার্সিটির বেসবল ক্লাবের সদস্য। মেয়েটির একটি বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের দিন বর সাহেব এক্সিডেন্ট করে মারা যান। মেয়েটি বিয়ে করবেনা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সুন্দরী মেয়েদের যে অবস্থা হয়। এখান থেকে ওখান থেকে প্রস্তাব আসে। তার দায়িত্ব হলো শুধু প্রত্যাখ্যান করা।
এক সময় এক পিয়ানো বাদক কে পছন্দ করে বসে। কিন্তু বার বার তার পুরনো স্বামীর কথা মনে পড়ে গেলেই পিছিয়ে যায়। ছেলেটাও একটু প্লেবয় টাইপের। তাই একদিন ডেট করলেও দ্বিতীয় দিন দ্বিধায় ভোগে।
এক সময় বাবা মা র চাপে পড়ে সে ও ইন্টারভিউ দেয়া শুরু করে। প্রথম ইন্টারভিউ তেই হোসিনো সান এর সাথে দেখা। প্রথম দেখাতেই রিজেক্ট। কিন্তু ছোট ভাই, ছোট বোনের কারণে যোগাযোগ চলতে থাকে।
এক সময় হোসিনো সাহেব এক চিলতে আশা নিয়ে মেয়েটিকে প্রস্তাব করে বসেন। বাংলা সিনেমা হলে ডায়লগটি কি হতো বুঝতেই পারছেন। জাপানি মেয়েটি ভদ্র হাসি হাসে। এই হাসি-র মানে খুব সিম্পল- তুমি আমার যোগ্য নও রে বাছা, যোগ্য নও। দ্বিতীয় জনমে ট্রাই করো।
হোসিনো সাহেব সাদাসিধে ভাবে মেয়েটিকে বলেন, আমার যোগ্যতার ঘাটতি কোথায়। আমি পূরণ করে ফেলব। বলো, কী করলে আমি তোমার যোগ্য হবো।Japan Kahini PDF
মেয়েটি বলতে চায়, তুমি আমার লেভেল এর না। কিন্তু বলে অন্য কিছু। বলে আমাকে যারা ভালবাসে তারা বেঁচে থাকেনা।
ছেলেটি এই সুযোগটি নেয়। দৌড়ে গিয়ে এক চলন্ত ট্রাকের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে। ট্রাক থেমে যায়।
তখন সে তার বিখ্যাত ডায়লগ টি ছাড়ে- আমি মরবো না, আমি মরতে পারিনা, তোমাকে আমি ভালোবাসি বলে প্রকৃতি আমাকে মরতে দেবে না। বলো তোমাকে সুখী করার অধিকার আমার আছে, একবার বলো ইয়েস। ব্যাক গ্রাউন্ডে বাজতে থাকে Say Yes গানটি।
এই ডায়ালগ শুনে মেয়ে কাঁত হয়ে গেল।
বিয়ের প্রস্তুতি চলতে লাগল। বিয়ের প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত টাকা আয় করার জন্য রাতে কন্সট্রাক্সন কোম্পানি তে কাজ নিল। ছোট ভাই তার জমানো টাকা বড় ভাইয়ের আসন্ন সুখের জন্য উৎসর্গ করে দিল। দোকানের সবচেয়ে দামি রিং টি কিনে আনলো।
সব কিছু ঠিকঠাক। বিয়ের আর কয়েকদিন বাকি। মেয়েটি তার আগের স্বামীর চেহারার একই চেহারার লোকের সাথে দেখা পায়। কথা বার্তায় স্মার্ট। ডিভোর্সড পাবলিক। তার ছোট একটি মেয়ে আছে। মেয়েটি পিয়ানো শিখতে আসে কাওরুর পিয়ানো ক্লাসে। একদিন পিয়ানো শিখতে এসে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। মেয়ের সেবা দিতে গিয়ে মেয়ের বাপের সাথে পরিচয়। পরিচয় থেকে পরিণয়। পুরনো স্বামীর চেহারা ওয়ালা এই নতুন লোককে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর স্থির করে হোসিনো সান কে কঠিনভাবে বলে দিবে, এদিকে যেন পা না বাড়ায়।
হোসিনো সান এমন এক লোক যে কিছুতেই হাল ছাড়তে নারাজ।
কাকতালীয় ভাবে এই নতুন বর আবার হোসিনো সান এর কোম্পানির বস। যোগ্য পাত্রের প্রতিযোগিতায় বসের কাছে হেরে গিয়ে চাকুরী ছেড়ে দিলেন। পুরুষ বলে কথা। ছ্যাকা খাওয়ার আত্মপ্রতিশোধ।
মানুষ ডুবে মরে যাবার আগে, শেষ খড়টুকু আটকে ধরার চেষ্টা করে। হোসিনো সান তার শেষ চেষ্টাটুকু করতে যান।
মেয়েটি আবারো ভুল করে বসে। হোসিনো সানকে নিম্নলিখিত কথা গুলো বলে আরো রাগিয়ে দেয়।
তুমি আমার যোগ্য নও রে বাপ। তোমার কি আছে? না আছে ডিগ্রি, না আছে পয়সা, না আছে স্মার্টনেস। মেয়েটি এক একটা অযোগ্যতার কথা বলে আর হোসিনো সান প্রমাণ করতে চান যে উনি অযোগ্য নন।
এবার সে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি নেবে। শুরু হলো রাত দিন পরিশ্রম। এই লোককে ঠেকায় কে?
কাওরু কে ১০১ তম প্রস্তাবটি করে বসে। বলে, যদি পাশ করি তাহলে আমি এই আংটি খানা চার্চে রেখে আসবো। এই ডিগ্রি দিয়ে যদি আমি তোমার যোগ্য হই, তাহলে এই আংটি তোমার। ফেল করলে আমি আমাকে অযোগ্য হিসেবে মেনে নেবো। আর কোনদিন বিরক্ত করবোনা।
কাওরু কৌতূহল বসত নতুন পাত্রের আগের বউ এর সাথে যোগাযোগ করলেন। জানলেন, এই লোক শুধু কাজের মধ্যেই থাকেন। মেয়ের জন্মের পর থেকে বউ কে আর বউ হিসাবে দেখেন না। দেখছেন, মেয়ের মা হিসাবে।
মেয়েটি এখন আবার দ্বিধায় পড়ে গেল। ওর চেহারা দেখলে মনে হয় দ্বিধায় পড়া ওর শখ। কাকে বিয়ে করবে? হোসিনো সান নাকি বস? বস নাকি হোসিনো সান?
বাহির বলে নতুন বস
ভিতর বলে হোসিনো সান
বেচারা ব্যারিস্টারি ফেল করে বসলো। সব আশা আকাঙ্ক্ষা চুর্ন-বিচুর্ন করে দিয়ে ১০,০০০ ডলারের আংটি খানা সমুদ্রে ফেলে দিয়ে কন্সট্রাকশন কাজে মনোযোগ দিল।Japan Kahini Bangla Book Review
সব বউদের ই একটা গোপন ইচ্ছা থাকে, সেটা টাকা পয়সা মান-সন্মানের উর্ধ্বে। সে চায় - স্বামী তাকে যথেষ্ট সময় দিবে। একটু জ্বর আসলেও কপালে হাত দিয়ে বলবে, অম্মা এতো পুড়ে যাচ্ছে। একুট সাজু গুজু করলে সেটার দিকে খেয়াল করবে, একটু প্রশংসা করে বলবে - বাহ তোমাকে আজ পরীর চেয়ে ও সুন্দর লাগছে।
এসব দিক থেকে চিন্তা করলে, হোসিনো সানের র‍্যাঙ্কের আশেপাশে কেউ নেই।
এক দৌড়ে চার্চে গেল। গিয়ে দেখে আংটিখানা নেই। যা বোঝার বুঝলো। ব্যারিস্টারের ডিগ্রি তার কাছে এখন কিছুই না।
বিয়ের পোশাকেই ছুটে এল হোসিনো সানের কাছে। রাস্তার ধারে কন্সট্রাকশনের কাজ করছেন। নাট বল্টু লাগাচ্ছিলেন।
হোসিনো সান দেখলেন ওয়েডিং ড্রেস পরা পরির মত একটা মেয়ে তার দিকেই ছুটে আসছে। মেয়েটি কি আবার তাকে অপমান করবে? নাকি কোন গুড নিউজ? কাওরুকে দেখে বলল-
আমার কাছে তো এখন আর কিছু নাই
টাকা যা ছিল সব শেষ।
চাকুরী খানা ছিল, তা ও ছেড়ে দিয়েছি।
পরীক্ষায় ও ফেল করেছি ....বিরাট একটা "নাই" লিস্ট দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন সে মেয়েটির অযোগ্য।
হোসিনো সান একটি করে অযোগ্যতার কথা বলে, মেয়েটি শুধু মাথা নাড়ে।
সে যে কেন যোগ্য তা মেয়েটি আজ অন্য দাঁড়িপাল্লা দিয়ে মেপে এসেছে। জ্বল জ্বল চোখে বললো -আমাকে গ্রহণ করো।
কিন্তু, কিন্তু
আমি তো আংটি ও ফেলে দিয়েছি। আংটি পাব কই?
মেয়েটি দেখল রাস্তায় পড়ে আছে একটা গোল বল্টু। সেটাই তুলে দিল হোসিনো সান এর হাতে। বললো পড়িয়ে দাও।
চারটি চোখের আনন্দাশ্রু অ্যালুমিনিয়ামের বল্টুর ওপর পড়তেই হীরার মতো ঝিলিক দিয়ে উঠলো।
চেহারা, টাকা পয়সা, স্মার্টনেস সব অপশনাল রে ভাই। যেসব গুণগুলোর কারণে ভালোবাসা মাপার ব্যারোমিটারটি উর্ধ্বদিকে ওঠে, হোসিনো সানের তা সবই ছিল। যারা এই গুণ গুলোর মর্ম বোঝে তাদের সংসার একরকম। যারা বোঝেনা, তারা বোঝেনা। তারা যে বোঝেনা এটা ও বোঝেনা।
SHARE

Author: verified_user