Tuesday

বইঃ বাদশাহ নামদার লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ | Humayun Ahmed Books Download

SHARE

বইঃ বাদশাহ নামদার লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ | Humayun Ahmed Books Download 


বইঃ বাদশাহ নামদারলেখকঃ হুমায়ূন আহমেদপ্রকাশনীঃ অন্যপ্রকাশধরনঃ ঐতিহাসিক উপন্যাসপৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৩১।মুদ্রিত মুল্যঃ ৪০০টাকা মাত্র। 



বইঃ বাদশাহ নামদার লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ কাহিনী সংক্ষেপ


মোঘল সাম্রাজ্য, এ এমন এক সাম্রাজ্য, যে সাম্রাজ্যের প্রতিটি চরিত্র ইতিহাসের পাতায় কোননা কোন ভাবে কিংবদন্তী হয়ে আছে।
শত শত বৎসরের ইতিহাস, ঐতিহ্য। যুগেযুগে হয়েছে বহু গবেষণা, রচিত হয়েছে কালজয়ী বিভিন্ন পুস্তিকা।
ঠিক তেমনি এক কিংবদন্তী তুল্য চরিত্র নিয়ে লেখা হয়েছে এই বই। সে কিংবদন্তীর নাম "আল সুলতান আল আজম ওয়াল খাকাল আল মোকাররম, জামিই সুলতানাত-ই-হাকিকি ওয়া মাজাজি, সৈয়দ আলসালাতিন, আবুল মোজাফফর নাসিরুদ্দিন মোহাম্মদ #হুমায়ূনপাদশাহ গাজি জিল্লুল্লাহ"। 
সম্রাট হুমায়ূনের বাবা ছিলেন মোঘল সাম্রাজ্যের আরেক কিংবদন্তী সম্রাট বাবর। ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে হুমায়ূন অসুস্থ হয়ে পড়েন, হুমায়ূন ছিলেন সম্রাট বাবরের চার ছেলে সন্তানের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ এবং সবচেয়ে প্রিয়। ভবিষ্যৎ মোঘল সাম্রাজ্যের অধিপতি হিসেবে যাকে বিবেচনায় রেখেছেন সম্রাট বাবর। 
ছেলের দুরারোগ্য ব্যধিতে যখন সকল হাকিম কবিরাজ ব্যর্থ, ঠিক তখনি সম্রাট বাবর স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করলেন যাতে তাঁর প্রানের বিনিময়ে তাঁর সন্তানকে আরোগ্য দান করা হয়, স্রষ্টা দোয়া কবুল করলেন, হুমায়ূন আরোগ্য লাভ করলেন এবং সম্রাট বাবর মৃত্যুবরণ করলেন, তার তিনদিন পর সিংহাসনে বসলেন হুমায়ূন।
বাদশা হুমায়ূন ছিলেন বড্ড বেখায়ল প্রকৃতির মানুষ। যার কিনা রয়েছে শাসক স্বত্বা ছাড়াও একটি ভিন্ন মনুষ্য রূপ, যেখানে বসবাস করে ভাবাবেগ, ভালোবাসা, স্নেহ, মমতা, ক্ষমা করার এক অতিমানবিয় গুণাবলী, এবং সর্বোপরি এক কবি স্বত্বা, যিনি কিনা তাঁর প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ে শের বাঁধতেন।
যিনি ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী, যার ছিল পৃথিবীকে জানার এক অপার্থিব আকাঙ্খা, যিনি ছুটে বেড়াতেন নতুনের খোঁজে, যেখানে প্রকৃতি মিশেছে মানব মনে শুন্যতা তৈরীর সকল উপাদান নিয়ে।
বারবার আক্রান্ত হয়েছেন আফগান সেনাদের দ্বারা, কিন্তু তিনি এমনি এক ব্যক্তিত্ব'র অধিকারী ছিলেন যে ভয়ংকর শেরশাহ পর্যন্ত সৈন্যদের নির্দেশ দিলেন যাতে কোন ভাবেই পরাজিত হুমায়ুনকে আটক, জখম বা হত্যা করা না হয়, কারন তিনি হয়তো শের শাহ'র প্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু তিনি মনের দিক থেকে এক অনন্য মানুষ, যার মানবিক গুনাবলিতে মুগ্ধ তাঁর শত্রু পক্ষও। 
ভুলেভরা আর আবেগিয় চিন্তার হেতু হারিয়েছেন রাজত্ব, ছুটে চলেছেন পথেঘাটে, জলে জঙ্গলে, এসেছেন এ বাঙ্গাল মুলুকেও, তবুও তিনি ছিলেন সম্রাট, যে মানুষটি তাঁকে আবার সর্বস্ব ফিরে পাবার স্বপ্ন দেখিয়েছেন এ দুঃসময়েও, তিনি ইতিহাসের আরেক সাহসী কিংবদন্তী বৈরাম খাঁ। 
মৃত্যুর হাতছানি যাদের পিছু ছাড়েনি এক মুহূর্তও, যেখানে আপন রক্ত করেছে বিশ্বাস ঘাতকতা, যেখানে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়নি কেউই, সেখানে বৈরাম খাঁ ছিলেন সম্রাট হুমায়ূনের সকল আশার প্রদীপ, যার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর অপরিসীম আনুগত্যতায় সম্রাট হুমায়ূন ছিলেন রাজ্য হারা সম্রাট, চাঁদের আলোতে খোলা ময়দানেও ছিলেন তিনি সম্রাট, যে বৈরাম খাঁ না থাকলে হয়তো হুমায়ূনের ইতিহাস লেখা হতো অন্য ভাবে, যে বৈরাম খাঁ'র সহযোগিতা না পেলে হুমায়ূন ফিরে পেতেন না তাঁর হারানো সাম্রাজ্য, আর হয়তো ইতিহাস পেতনা আকবর দ্য গ্রেটকে। 
বাদশাহ হুমায়ূনের নানা উত্থান পতন আর হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া সব ঘটনার সমন্বয় ঘটেছে এ বইতে, তো পাঠক চলুন হারিয়ে যাই বাদশাহ নামদারের ভুবনে, যেখানে অপেক্ষা করছে শত বছরের পুরনো, অথচ জীবন্ত সব কিংবদন্তীর অনুভূতি। 




বইঃ বাদশাহ নামদার লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ পাঠানাভূতি


লেখক বইয়ের শুরুতেই বলে দিয়েছেন যে হুমায়ূন এমন এক চরিত্র, যেখানে অতিমাত্রায় কোন রং চড়ানোর প্রয়োজন নেই, কারন তাঁর জীবন আর প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড এতটাই নাটকীয় যে অবলীলায় সেটি ফিকশনের চেয়েও বেশি কিছু। এ বইটির মূল উপজীব্য ইতিহাস হলেও এটি কোন নিখাদ ইতিহাস নয়, এতে আছে প্রেম, জোছনা, আছে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা, আছে মানবিকতার গল্প, আছে নিষ্ঠুরতা আর রক্তের দাগ। 
মন্ত্রমুগ্ধের মতন পড়ে গেছি বইটি। লেখকের লেখার গতি এতটাই বেশি ছিল যে মনে হচ্ছিলো জীবন্ত ছবিগুলো আমার চোখের সামনে দিয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে, রাজ প্রাসাদ, যুদ্ধের ময়দান কিংবা হেরেম ভেসে উঠেছে আমার সামনে। মনে হচ্ছিলো আমি টাইম মেশিনে চড়ে ফিরে গিয়েছি সে মোঘল সাম্রাজ্যে। সাধারনত ইতিহাস আশ্রিত বইগুলোতে বাহুল্যতা থাকে, কিন্তু এ বইটি একদমি ব্যতিক্রম, বাহুল্যতা বিবর্জিত, ইতিহাসকে যে এভাবেও উপস্থাপন করা যায়, এভাবেও ভালো লাগানো যায় সেটি এ বই না পড়লে হয়তো অনুভব করতে পারতাম না। 
তবে, কিছু জায়গায় ভালো না লাগারও কারন ছিল। যেমন আমার মনে হয়েছে লেখার গতিটা মসৃণ ছিলোনা, মনে হয়েছে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় লাফিয়ে যাচ্ছে, ঘটনাগুলো ঠিক মতো জোড়া লাগছেনা। কিছু চরিত্রের আবির্ভাব ঘটেছে ঠিকই কিন্তু কিছুক্ষণ পর তাঁদের আর দেখা যায়নি, অথচ আবির্ভাব ঘটেছে গুরুত্বের সাথেই।
সবচেয়ে বেশি চোখে লেগেছে বৈরাম খাঁ চরিত্রটির উপস্থাপনা নিয়ে। অনেক জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই নেই হয়ে গেলো, আমার মনে হয় বৈরাম খাঁ'কে লেখক ঠিক সেভাবে ফোকাস করেননি প্রথম দিকে, তিনি যতটা ফোকাস পাবার কথা, শুরুতে সেটি ছিলোনা, যদিও বা শেষের দিকে এসে সেটি গুরুত্ব পেয়েছে। তাছাড়া বর্ণনা ভঙ্গিতেও কখনও কখনও মনে হয়েছিলো যে খুব দ্রুত টানা হচ্ছে, আরেকটু স্লথ হলে হয়তো আরও ভালো হতো। 
এছাড়া বইয়ের প্রচ্ছদ এবং বাঁধাই, কাগজের মান ছিল দুর্দান্ত।

©Foysal Khan
SHARE

Author: verified_user