Monday

শাশুরির কমেন্ট - সিগনাল যখন এসেছে তখন স্যাটেলাইট জায়গামতই পৌঁছায় গেছে

SHARE

শাশুরির কমেন্ট - সিগনাল যখন এসেছে তখন স্যাটেলাইট জায়গামতই পৌঁছায় গেছে



গার্লফ্রেন্ড হঠাৎ ফোন দিয়ে রাজ্যের সমস্ত রাগ আমার উপর ঝেড়ে বললো, "এক্ষুনি রিলেশনশিপ স্টাটাস দে, নাহলে তোর সাথে ব্রেকাপ।"
গোখরা সাপের মত ওর ফোসফোস শব্দ শুনে মুহূর্তেই ভীত বিড়াল হয়ে গেলাম। আমি মিনমিনে গলায় বললাম, "কিন্তু বাবু আমার আব্বা তো ফেসবুকে এড আছে। আব্বা দেখলে কাজের বুয়াকে দিয়ে আমারে ঝাড়ু পেটা করবে সিউর।"
গার্লফ্রেন্ড গলায় বজ্রধ্বনি সেট করে উত্তর দিলো, "আমার আইডিতে আমার বাবাও তো এড আছে! সমস্যা কী? তুই এখন রিলেশনশিপ স্টাটাস দিবি নাকি আমি ব্রেকাপ বাটন পুশ করবো, বল।"
প্রেমিকার "থ্রেট টু ব্রেকাপ" শুনে বাঘের তাড়া খাওয়া হরিণের মত কাঁপতে কাঁপতে রিলেশনশিপ স্টাটাস দিলাম।
আবু আল সাঈদ in a relationship with ড্যাশ ড্যাশ
দু মিনিট হতে না হতেই আমার আব্বার কমেন্ট, নটিফিকেশন বার তখন ৬.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পনে মুহুর্মুহু শব্দে কাঁপছে।
শুদ্ধ উচ্চারন এবং অর্থসহ পাঁচ কালেমা পাঠ করে ভয়ে ভয়ে কমেন্ট সুরঙ্গে ঢুকে পড়লাম। তারপর আব্বার কমেন্ট পড়ে আমার হৃদয়টা সাইবেরিয়ার বরফের মত শীতল হয়ে গেল।
আব্বার কমেন্টটা ছিল, "শেষ কবে কেঁদেছি মনে পরেনা। আজ এত বছর পর আমার চোখে আবার জল। না এটা কোন কষ্টের কান্না নয়, এটা সুখের কান্না।
তোকে নিয়ে আমি আর তোর মা খুব চিন্তায় ছিলাম। হন্যে হয়ে খুঁজেও তোর জোড়া মেলাতে পারিনি। কোন মেয়েই তোকে পছন্দ করেনা। আজ তুই প্রমাণ করেছিস তুই স্বাবলম্বী, নিজের কাজ নিজে করতে শিখেছিস।"

                   The Girl On The Train

আব্বার কমেন্ট পড়ে এত গর্ব লাগছিল যেন মাত্রই হামাগুড়ি দিয়ে এভারেস্ট জয় করে ফেলেছি। আব্বার কমেন্টের রিপ্লাই দিলাম, "আব্বা, আমি সেই বংশের পোলা যার দাদা, দাদীরে বিয়ের মঞ্চ থেকে তুলে এনে বিয়ে করেছে। আমার শরীরে তাঁর রক্ত যে আমার ডায়নী নানীর হাত থেকে খসে এনেছে আমার আম্মাকে।"
এরপর দেখি শাশুরির কমেন্ট! নিমিষেই বুঝে গেলাম সিগনাল যখন এসেছে তখন স্যাটেলাইট জায়গামতই পৌঁছায় গেছে।
শাশুড়ির কমেন্ট, "ছিঃ ড্যাশ ড্যাশঃ ছিঃ! আমার ভাবতেও ঘৃণা হচ্ছে তুই আমার মেয়ে হয়ে এই কাজ করতে পারলি! এই করতে তোকে আমি পেটে ধরেছি, এই মুখ আমি কাকে দেখাবো! তোকে এক্ষুনি ব্লক করবো।"
শাশুড়ির কমেন্ট দেখে ভয়ে কেঁপে উঠলাম। আমার গার্লফ্রেন্ড এক সের হলে শাশুড়ি তো দেখছি সোয়া সের।
দেখলাম গার্লফ্রেন্ড শাশুড়ির কমেন্টে এংরি রিয়্যাক্ট দিয়ে কমেন্টের রিপ্লাই দিলো, "মা, ভালোবাসা যদি কোন অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আমি সে অপরাধে অপরাধী। মা জানো, ওর গালে যখন মশা কামড়ায় তখন ব্যথা পাই আমি। আবার ও যখন মশা মারতে গালে থাপ্পড় মারে তখনও ব্যথা পাই আমি।
ও খেলে আমার পেট ভরে যায় আবার আমার বমি হলে ওর পেটে খালি হয়ে যায়। আমাদের ভালোবাসাটা এতটাই গভীরে গেছে মা। প্লিজ, তুমি বাঁধা হয়ে দাড়াবে না। তুমি বাঁধা হয়ে দাড়ালে কিন্তু ওকে হারপিক খেতে বলবো। কারণ, ও হারপিক খেলেই আমি মরে যাবো।"
আমি কমেন্ট পড়ছি আর আবেগে কাঁদছি। আমার গার্লফ্রেন্ডকে ব্লক করার কথা শুনে আমি আর ঠিক থাকতে পারলাম। আমিও রিপ্লাই দিলাম, "ড্যাশ ড্যাশকে ব্লক করার আগে আমাকে ব্লক করুন। ওর আইডি কালো ঘরে পাঠানোর আগে আমার আইডিকে কালো ঘরে পাঠান।"
সাথে সাথে প্রেমিকার রিপ্লাই, "না মা, না। ওর কোন দোষ নেই। তুমি আমাকে আগে ব্লক করো।"
এরই মধ্যে আমার নটিফিকেশন বারে আইলা, সিডর,
রেশমা, নার্গিস এই চারবোন একসাথে হানা দিয়ে জানান দিলো আমার শ্বশুর কমেন্ট করেছে।
শ্বশুরের কমেন্ট, "খামোশ, কী-বোর্ড সামলে স্টাটাস দে হারামজাদা! ফুটপাতের এত মেয়ে থাকতে তুই আমার মেয়ের পিছু লাগলি! আ আ আ আ "
আমাকে থ্রেট দিতে গিয়ে আমার শ্বশুরের "আ আ আ আ" অবস্থা যে বাংলা সিনেমার আনোয়ার হোসেনের মত হয়েছে সেটা আর বুঝতে বাকী রইলো না।
আমি দ্রুত রিপ্লাই দিলাম, "ডক্টর! ডক্টর! এম্বুলেন্স এম্বুলেন্স! এই কে কোথায় আছিস! শ্বশুরকে বাঁচা।"
সাথে সাথেই গার্লফ্রেন্ড রিপ্লাই দিলো, "বাবাআআআআআ বাবাআআআআআআ।
বাবা, প্লিজ রিপ্লাই দাও। তোমার জন্য আমি এমন হাজারটা বলদকে ব্লক করতে পারবো, তবু তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। প্লিজ, বাবা রিপ্লাই দাও।"
আমি মনে মনে একটু স্বস্তি পেলাম। মনের ভেতরে বসন্তের দখিনা হাওয়া বয়ে যেতে লাগলো। যাক আর কোন বাঁধা নেই, আপদটার বিদায় হয়েছে। অন্যরকম আনন্দ ঢেউ খেলতে লাগলো মনে।
কয়েক সেকেন্ড পর হঠাৎ নটিফিকেশন এল, শ্বশুরের রিপ্লাই, "না রে মা কিছুই হয় নাই, প্র্যাঙ্ক করছিলাম। ওই হারামজাদারে ব্লক কইরা দে।"
হুম! তারপর আমি ব্লকড এবং বাকীটা ইতিহাস।
© আবু আল সাঈদ
SHARE

Author: verified_user