Monday

উপন্যাস ' দ্য গ্র্যাস ইজ সিংগিং | বাংলা উপন্যাস রিভিউ

SHARE

উপন্যাস ' দ্য গ্র্যাস ইজ সিংগিং | বাংলা উপন্যাস রিভিউ



উপন্যাস ' দ্য গ্র্যাস ইজ সিংগিং | বাংলা উপন্যাস

অস্থিতিশীল পরিবারের শিশুরা বড় হয় এক রকম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে। নিরন্তর পারিবারিক অশান্তি শৈশব, কৈশোরকে এমনভাবে বিষিয়ে দেয় যে তার সামাজীকিকরণে যথেষ্ট ঘাটতি থেকে যায়।
উঠতি বয়সের এই ঘাটতির সাথে রাজনৈতিক ও সামাজিক অসঙ্গতি যোগ হলে তো সোনায় সোহাগা।
এমনই এক মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস ' দ্য গ্র্যাস ইজ সিংগিং'।

লেখক পরিচিতি:
১৯১৯ সালের ২২ অক্টোবর ইরানের কারমানশাহ্ শহরে জন্মগ্রহণ করেন ডরিস লেসিং। কিন্তু বাবার ভূট্টার খামারের তত্ত্বাবধানের খাতিরে শৈশব কাটান রোডেশিয়াতে এবং জীবনের একটা পর্যায়ে এসে ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পেশাজীবনে তিনি নার্স,টেলিফোন অপারেটর, গাড়ি চালক ও স্টেনোগ্রাফারের চাকরি করলেও লেখক হবার স্বপ্নটা ছিলো ছোটবেলা থেকেই। ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয় ডরিস লেসিং এর প্রথম উপন্যাস দ্য গ্র্যাস ইজ সিংগিং।
প্রথম উপন্যাসেই বাজিমাত করেন তিনি। পরবর্তীতে Children of Violence নামে সমষ্টিগত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস প্রকাশিত হয় যাতে রাজনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীর অবস্থান বর্ননা করেন।
২০০৭ সালে নোবেলবিজয়ী এই লেখক ২০১৩ সালে লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন।


দ্য গ্র্যাস ইজ সিংগিং কাহিনী সংক্ষেপ:


অস্হিতিশীল পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা মেরীর মনে বিয়ে ও পরিবার সমন্ধে এক প্রকার বিদ্বেষ তৈরী হয়েছিলো সেইসাথে ছিলো যৌনজড়তা। মদ্যপ বাবার মানসিক ও শারিরীক অত্যাচারে মায়ের মৃত্যুতে বাবার সাথে সম্পর্কছিন্ন করে মেরী একা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। ত্রিশ বছর বয়সে বন্ধুদের ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণে বিয়ের ব্যাপারে কিছুটা শিথিল হলো।
মেরীর যখন বিয়ে ও নিঃসঙ্গতা কাটানোর প্রয়োজনে পুরুষ সঙ্গীর দরকার তখন তার সাথে পরিচয় হয় ডিকের। পরস্পরের প্রয়োজনে বিয়েটা তাদের প্রয়োজন মেটাতে অক্ষম হয় মেরীর জীবনের অতীতছায়া ও ভবিষ্যত শঙ্কা। 
মানসিক অশান্তি, ডিকের কিছুটা অবহেলা মেরীকে নীতিবিবর্জিত করে কৃষ্ণাঙ্গভৃত্য মোজেজের প্রতি দুর্বল করে। প্রচণ্ড পুরুষ বিদ্বেষী মেরী মোজেজের সাথে তার বাবার চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্যের মিল খুঁজে পেলে এবং সামাজিকতার খাতিরে মোজেজের থেকে দূরে সরে এলেও অমোঘ নিয়তি তাকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেয়।

মেরী টারনারের মৃত্যু দিয়ে শুরু উপন্যাসের খুনীও ধরা দিয়েছিলো স্বেচ্ছায় একদম কাহিনীর গোড়াতেই। 

মেরী টারনারের মৃত্যু দিয়ে শুরু উপন্যাসের খুনীও ধরা দিয়েছিলো স্বেচ্ছায় একদম কাহিনীর গোড়াতেই।
অস্হিতিশীল পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা মেরীর মনে বিয়ে ও পরিবার সমন্ধে এক প্রকার বিদ্বেষ তৈরী হয়েছিলো সেইসাথে ছিলো যৌনজড়তা। মদ্যপ বাবার মানসিক ও শারিরীক অত্যাচারে মায়ের মৃত্যুতে বাবার সাথে সম্পর্কছিন্ন করে মেরী একা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। ত্রিশ বছর বয়সে বন্ধুদের ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণে বিয়ের ব্যাপারে কিছুটা শিথিল হলো।
মেরীর যখন বিয়ে ও নিঃসঙ্গতা কাটানোর প্রয়োজনে পুরুষ সঙ্গীর দরকার তখন তার সাথে পরিচয় হয় ডিকের। পরস্পরের প্রয়োজনে বিয়েটা তাদের প্রয়োজন মেটাতে অক্ষম হয় মেরীর জীবনের অতীতছায়া ও ভবিষ্যত শঙ্কা।
মানসিক অশান্তি, ডিকের কিছুটা অবহেলা মেরীকে নীতিবিবর্জিত করে কৃষ্ণাঙ্গভৃত্য মোজেজের প্রতি দুর্বল করে। প্রচণ্ড পুরুষ বিদ্বেষী মেরী মোজেজের সাথে তার বাবার চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্যের মিল খুঁজে পেলে এবং সামাজিকতার খাতিরে মোজেজের থেকে দূরে সরে এলেও অমোঘ নিয়তি তাকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেয়।


  বাংলা উপন্যাস  পাঠ পর্যালোচনা 


দ্য গ্র্যাস ইজ সিংগি মূলত বর্ণবৈষম্য, লিঙ্গবৈষম্য এবং শ্রেণীবৈষম্যের পটভূমিতে রচিত।
মোজেজের প্রতি মেরীর খামখেয়ালীপূর্ণ আচরণ বর্ণবৈষম্যের প্রতীক। তবে মোজেজ উপন্যাসের সবচেয়ে শক্তিশালী চরিত্র। বর্ণসমতা প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া সমাজে তার মতো কৃষ্ণাঙ্গরা সাদাদের দ্বারা নিপীড়িত হলে সে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। যদিও তার প্রতিবাদের পথ সঠিক ছিলো না এবং ফলাফলও ছিলো জিঘাংসাপূর্ণ।
উপন্যাসটি সাম্রাজ্যবাদের প্রতি অঙ্গুলী নির্দেশ করতে সফল হয় টনি মারস্টনের চরিত্রের মাধ্যমে। এ কাহিনীর অন্যতম নিপীড়িত চরিত্র ডিক। নীতিবান, পরিশ্রমী, স্বপ্নালু এ মানুষটা শ্রেণীবৈষম্য ও সাম্রাজ্যবাদের স্বীকার।

যা কিছু অসঙ্গতি :
লেসিং এর উপন্যাসে, চার্লি ও সার্জেন্টের বর্ণনায় মোজেজকে অনেকটা খুনী ও অপরাধী মনে হয়েছে। যদিও মোজেজের কর্মকাণ্ড ছিলো সাদা-কালোর উর্দ্ধে সাধারণ প্রতিবাদী মানুষের মতো।
সচরাচর অনুবাদ সাহিত্য এড়িয়ে চলা আমি লোডশেডিং এর রাতে মোবাইলের আলোতে পড়ে শেষ যেহেতু করেছি সেহেতু অকপটে স্বীকার করতে হবে অসম্ভব সুন্দর প্রচ্ছদের ভেতরে কিছু একটা আছে। 
হ্যাপি রিডিং
- Ann Shamima
SHARE

Author: verified_user