Monday

Bengali Story Books | Bangla Uponnash

SHARE

Bengali Story Books  | Bangla Uponnash

Bengali Story Books  | Bangla Uponnash


গল্পঃ ভালোবাসার এক নতুন অধ্যায় (প্রথম পর্ব)
 তামান্না আজমী
ভাবতেই কষ্ট হয়,
আমি আর আমার খুব অপছন্দের মানুষটা একই আকাশের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টি অনুভব করছি..! 
ফেসবুকে এই স্ট্যাটাসটা দিয়েই তরী অফলাইনে চলে গেলো। তার এখন খুব মন খারাপ। প্রতি বৃষ্টির রাতেই তার মন খারাপ থাকে। আর মন খারাপের সময় ফেসবুকে বসে থাকতে তার ভালো লাগেনা। হয় এসময় সে বই পড়ে নাহয় জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বৃষ্টি দেখে।
সেই কখন থেকেই আকাশ গুমগুম শব্দ করেই চলছে।আর তার সাথে এখন যোগ হয়েছে ঝুম বৃষ্টি। তরী তার মোবাইল ফোনের ডাটা অফ করে স্ক্রিনের দিকে তাকালো। এখন রাত ৪:১২ বাজে। আজকে অনেক রাত হয়ে গিয়েছে বলে তরী আর বই নিয়ে বসলো না। আজ সে বৃষ্টি দেখবে।
তরী জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ আসা বাতাসগুলোর সাথে বৃষ্টি বারবার তাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে। তার ভীষণ ভালো লাগছে।
বৃষ্টির সকালগুলোতে সবার ঘুম গাঢ় হয়।তরীর ঘুমও গাঢ় হলো আজ। সে আজকে দুপুর অবধি ঘুমালো। মা'র ডাকাডাকিতে বাধ্য হয়েই তাকে এসময় ঘুম থেকে উঠতে হয়েছে। নাহলে আরো কিছুক্ষণ সে ঘুমাতো। মাঝে মাঝে তার মনে হয় সে যদি কখনো মা হয় তাহলে সে তার সন্তানদের ঘুমে কখনোই ব্যাঘাত ঘটাবেনা।যতক্ষণ ইচ্ছে তাদের ঘুমাতে দিবে। পরক্ষণেই তার মনে পড়ে সে তো কখনো মা'ই হতে পারবেনা! এমনটা করবেই বা কীভাবে!

Bengali Story Books  | Bangla Uponnash
আজ শুক্রবার। তরীর স্কুল বন্ধ। তরী একটা প্রাইমারি স্কুলের টিচার। প্রতিদিন যখন শতশত বাচ্চা দেখে স্কুলের সামনে তার বুকটা একসাথে কষ্টে আর আনন্দে ভরে উঠে। বাচ্চাদের সাথে সময় কাটানোর জন্যেই মূলত তার প্রাইমারি স্কুলের টিচার হওয়া।
দুপুরের খাওয়া বাবা আর মায়ের সাথে সেড়ে তরী তার নিজের রুমে এসে মোবাইলের ডাটা অন করলো। এইসময়ে সে কিছুক্ষণ ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপের পোস্ট দেখে কাটায়। মাঝে মাঝে গ্রুপগুলোতে যখন তার বয়সী মায়েরা নিজের সন্তানদের ছবি দেয় তখন তার খুব কষ্ট হয়। তার সাথেই এমন হলো কেনো? সে স্বাভাবিক মহিলাদের মতো না কেনো? কেনো সেই শুধু মা হতে পারবেনা? এসব প্রশ্ন নিজেকে বারবার করে আর মোবাইলের স্ক্রিন চোখের জল দিয়ে ভিজিয়ে ফেলে।
আজকে ফেসবুকে অন্যদিনের চেয়ে ভিন্নরকম কিছু ঘটলো। ফেসবুকের নোটিফিকেশন চেক করতে যেয়ে সে দেখলো কাল রাতের পোস্টে অচেনা কেউ একজন কমেন্ট করেছে। কমেন্টে লিখা- " আপনার লেখা কথাগুলো আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি কি এটা কপি করে একটা ছবিতে লিখে আমার কভার পিক দিতে পারি?" তরী রিপ্লাইতে "জ্বী, দিতে পারেন" এটা লিখে নিউজফিড ঘাঁটতে লাগলো। নিউজফিড স্ক্রল করা শেষে সে যখন ডাটা অফ করতে গেলো তখন দেখলো আরেকটা নোটিফিকশন।ঐ লোকটা আবারো কমেন্ট করেছে।এবার লিখা-"আমি আপনাকে একটা ছবি ইনবক্সে পাঠিয়েছি। দয়া করে কি একটু মেসজটা দেখবেন?" তরী রিপ্লাইতে লিখলো,"আপনি পারমিশন চেয়েছেন, দিয়েছি।আবার ছবি পাঠানোর দরকার কি ছিলো।আজব তো!" তবে লিখেই সে লেখাগুলো ইরেজ করে দিলো। কেনো জানি লোকটার ভদ্রতা তাকে একটু মুগ্ধ করেছে। লোকটা তো না জিজ্ঞেস করেও লেখাগুলো নিতে পারতো! থাক ছবিটা নাহয় সে একটু দেখলোই।
মেসেঞ্জারের মেসেজ রিকুয়েস্ট থেকে লোকটার মেসেজ দেখার সময় তরী এই প্রথম খেয়াল করলো যে লোকটার ফেসবুক আইডির নাম 'নদ আহমেদ'। সে এই নামটা দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। পুরনো অজস্র স্মৃতি তার মনের দেয়াল ভেদ করে চোখের পর্দায় ভেসে উঠতে লাগলো। আর সেই সাথে মোবাইলের স্ক্রিন টপটপ করে পড়া কিছু অশ্রু ফোটা দিয়ে ভরে গেলো।
আচ্ছা এই নদ কি তার সেই পুরনো নদ, যাকে সে মনেপ্রাণে চেয়েছিল? যেই নদ তাকে ভালোবাসার অসংখ্য মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়ে সমাজের ভয়ে পিছু হটে গিয়েছিল? এটা কি সেই মানুষটাই যে নাকি তার কখনো বাচ্চা হবেনা জেনে, পরিবারের দোহাই দিয়ে তাকে এভাবে ফেলে চলে গিয়েছিল?
তরী মেসেজ রিকুয়েস্ট একসেপ্ট না করেই আগে তার প্রোফাইল চেক করলো। নাহ, এ সেই নদ নয়। প্রোফাইলে যেই লোকটার কিছু ছবি দেখা যাচ্ছে সে অন্য কেউ। এবার তরী লোকটার মেসেজ করা ছবিটা দেখলো। ছবিটাতে একটা ছেলেকে পিছন দিকে ঘুরে আকাশের পানে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ঝুম বৃষ্টির কারণে ছেলেটাকে আবছা আবছা দেখা যাচ্ছে। আর ছেলের আকাশে সেই কথাগুলো লিখা।
"ভাবতেই ভালো লাগে,
আমি আর আমার খুব পছন্দের মানুষটা একই আকাশের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টি অনুভব করছি..!"
ছবিটা দেখে তরী নিজের মনেই একটু হেসে ফেললো। ছেলেটা নিজের মতো করে কথাটা একটু ঘুরিয়ে নিয়েছে।
আহা! কারো কষ্ট লাগে আর কারো ভালো লাগে। সবার একসাথে কষ্ট লাগেনা কেনো আর সবার একসাথে ভালো লাগেনা কেনো? হয়তো কারোর ভালো লাগা আর সেই সময়ই কারোর খারাপ লাগাটা হচ্ছে প্রকৃতির একধরণের খেলা, যা মানুষের বোধগম্য নয়!



গল্পঃভালোবাসার এক নতুন অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
*তামান্না আজমী*
ছবির সাথে একটা ছোট্ট মেসেজও ছিলো সেখানে। সেখানে লিখা ছিল-"ছবিটায় লেখাটা খুব ভালো লাগছে না? মনে হচ্ছে যেনো এই ছবির জন্যই শুধু কথাগুলো লিখা হয়েছে! একটু মডিফাই করে নিয়েছি দেখে মাইন্ড করবেন না প্লিজ।" তরী মেসেজ রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করে রিপ্লাই দিলো, "হুম। ভালো লাগছে।" তরীর রিপ্লাই দেওয়ার সাথে সাথেই নদ আবারো টেক্সট করলো,"থ্যাংকস আ লট।"
সেদিনের মতো তরীর সাথে নদের চ্যাটিং শেষ। তাদের মাঝে প্রায় ১ মাস আর কোনো কথা হয়নি। সেদিনের পরে কিছুদিন তরী কেনো যেনো লোকটার মেসেজের অপেক্ষা করেছিল। হয়তো 'নদ' নামটার জন্যেই এই অপেক্ষা! তবে মেসেজ না করাতে নদ ধীরে ধীরে তরীর মেসেজ লিস্টের নিচে নেমে যাচ্ছিলো। আর নদ নামটা না দেখতে দেখতে তরী ভুলেই গিয়েছিলো তাকে।Bangla Uponnash
রাত ঠিক ৩টা বাজে তরীর মোবাইল বিপ বিপ শব্দ করে উঠলো।মোবাইল হাতে নিয়েই তরী দেখলো নদ নামের সেই লোকটা তাকে মেসেঞ্জারে মেসেজ পাঠিয়েছে। প্রায় এক মাস পরে লোকটা তাকে আজ হঠাৎ করে মেসেজ পাঠিয়েছ কেনো এটা ভাবতে ভাবতেই তরী মেসেজ সিন করলো। মেসেজে লিখা ছিল,"আপনার সেদিনের স্ট্যাটাসটা আজকে দেখলাম। খুব ভালো লেগেছে। সেটা কি কপি করতে পারি? যদি অনুমতি দেন তাহলেই করবো। আর এতো রাতে ডিস্টার্ব করার জন্য সরি।" তরী রিপ্লাইতে লিখলো, "কোন স্ট্যাটাসের কথা বলছেন?" একটু পরেই নদ মেসেজ পাঠালো,"আচ্ছা, তুমি কি বৃষ্টির মাধ্যমে এখনো আমাকে কষ্ট পাঠাও?! কেননা বৃষ্টির সময় যখনই আকাশের দিকে তাকাই বৃষ্টি এসে বারবার আমার চোখ ভিজিয়ে দিয়ে যায় :)। এটার কথা বলছিলাম"। এর প্রত্যুত্তরে তরী বললো,"আচ্ছা কপি করেন।"
সেদিন রাতে নদের সাথে তরীর ভালোই কথা হলো। তারা দুইজন ভারচুয়ালি পরিচিত হলো। কিছুদিন কথা বলার পরে নদ আবারো হারিয়ে গেলো।
নদের সাথে কথা বলে তরীর কাছে তাকে কেমন যেনো খুব কাছের কেউ মনে হলো। লোকটা কি সহজেই না তাকে নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বলে গেছে। কিভাবে সে একটা মেয়েকে মনেপ্রাণে ভালোবেসেছে আর কিভাবেই না ছোট্ট একটা ভুল বুঝাবুঝির কারণে তারা আলাদা হয়ে গেছে। সে তখন শুধু নদের কথা শুনেই গেছে নিজে কিছু বলতে পারেনি। বলবেই বা কি! তার জীবনের ঘটনাটাও যে ঠিক এরকমই। তবে তার ছোট্ট একটা ভুল বুঝাবুঝির কারণে আলাদা হতে হয়নি, বড় একটা অক্ষমতা, সমাজের ভয় ও ভালোবাসার মানুষটার পিছু হটে যাওয়ার কারণে আলাদা হতে হয়েছে। তরী যতক্ষণ নদের সাথে চ্যাটিং করেছে ততক্ষণ তার শুধু তূর্য ওরফে তরীর দেওয়া নাম 'নদের' কথাই মনে পড়েছে। তাইতো তরী কখনো সেধে সেধে নদ আহমেদ নামের লোকটার সাথে কথা বলেনি। লোকটার প্রশ্নের শুধু জবাব দিয়ে গেছে আর যথাসম্ভব কম কথা বলেছে।
আবারো ১৫ দিন পরে নদ তরীকে মেসেজ পাঠিয়েছে। এবার আর সে হারিয়ে যায়নি। টানা ২ মাস প্রতিদিনই সে তরীর সাথে মেসেঞ্জারে চ্যাটিং করেছে। এখন তরীরও তার সাথে কথা বলতে একটু একটু ভালো লাগে। এরমধ্যে নদের সাথে তরীর একদিন মেসেঞ্জারে অডিও কলে কথাও হয়েছে। তরী নিশ্চিত হতে চেয়েছিল যে এটা তার পূর্বপরিচিত নদ না। নাহ, কন্ঠ শুনে সে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পেরেছে যে এটা নদ ওরফে তূর্য হোসেইন না। এটা অন্য কেউ।
তরীর তেমন কোনো বন্ধু নেই। তার একটাই খুব ভালো বন্ধু ছিল,যাকে বলে বেস্টফ্রেন্ড। আর সে ছিল তূর্য। কোনো বন্ধু না থাকার কারণে ধীরে ধীরে মেসেঞ্জারে চ্যাটিং করা নদের সাথেই তরীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠতে লাগলো। তরীর কাছে নদ শুধুই একজন বন্ধু। নদের কাছেও কি তরী শুধুই একজন বন্ধু নাকি বন্ধুর চেয়েও কিছুটা বেশি?





---


Bangla Uponnash
বৌ--
নাজনীন তার সবজির টালটার সামনে আসল। হাতে একটা কুলা। তার টাল ভরা নতুন সীম। কি সুন্দর যে লাগছে! আজ সে নতুন সীমের ভর্তা আর তরকারি করবে। জয়নাল তার হাতের রান্না খুব পছন্দ করে। সে যেই তরকারিই রান্না করে জয়নালের কাছে তা খুবই সুস্বাদু মনে হয়।
জয়নালের সাথে বিয়ে হয়েছে তার প্রায় দশ বছর হতে চলল। তার দুইটা মেয়ে আছে। একজনের বয়স আট আর একজনের বয়স পাঁচ।
জয়নাল সেই সকালে নাস্তা খেয়ে তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেছে। কি বলে কাজ আছে! এত যে কিসের কাজ! সেই জানে।
নাজনীন দেখল অনেকটা বেলা হয়ে গেছে। বাসায় এসে রান্নাঘরের সামনে সীম নিয়ে কাটতে বসল।
এই সময় দেখল জয়নাল বাসার ভিতরে ঢুকছে। জয়নালকে দেখে নাজনীনের চেহারাটা উজ্জ্বল হয়ে গেল। কিন্তু এরপরই যা দেখল তাতে তার চোখ কপালে উঠে গেল। সে হা'করে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে লাগল। দেখল জয়নালের পিছনে পিছনে লাল বেনারসি শাড়ি পড়া একটা মেয়ে ঢুকল। সাথে জয়নালের দোকানের ছেলে, সালাম। সালামের এক হাতে কিছু ব্যাগ আর অন্য হাতে মিস্টির প্যাকেট।
জয়নাল নাজনীনের কাছে এসে বলল,
-এই হচ্ছে নতুন বৌ। এরে ঘরে লইয়া যাও।
-নতুন বৌ মানে!
-নতুন বৌ মানে। বিয়া করা নতুন বৌ।
এই বলে বারান্দায় যেয়ে জয়নাল বসল।
- ইস! গলা শুকিয়ে গেছে। অনেকখানি হাঁটতে হইছে। নাজনীন, এক গেলাস পানি দাও।
-আরে তুমি এখনও বইয়া আছ! নতুন বৌরে ঘরে লইয়া যাও।
হতবিহ্বল নাজনীন এবার উঠানের মাঝখানে এসে দাঁড়াল।
- ঘরে লইয়া যামু মানে! এরে আমার ঘরে লইয়া যামু ক্যান!
- তোমার ঘরে লইয়া যাইবা ক্যান! পাশের ঐ ঘরটায় লইয়া যাইবা। আচ্ছা ঠিক আছে। আমিই কইয়া দিতাছি।
জয়নাল নতুন বৌ এর দিকে তাকিয়ে বলল," তুমি ঐ ঘরটায় গিয়া বিশ্রাম লও।"
নতুন বৌ জয়নালের দেখিয়ে দেওয়া ঘরটায় গিয়ে ঢুকল।ঘটনার আকস্মিকতায় নাজনীন এতক্ষণ বুঝতে পারছিল না আসলে কি হয়েছে! এখন সে যেন সব কিছু বুঝতে পারল।
সে কন্ঠস্বর তীক্ষ্ম করে জয়নালের দিকে তাকিয়ে জোরে বলে উঠল।
- তুমি একখান বিয়া করছ! আমার জন্য সতীন নিয়া আইছ!
- আহা, সতীন কইতাছ ক্যান! তোমারে আপা বা বুবু কইয়া ডাকব। আর চেহারাটাও দেখছ কেমন মায়া মায়া।
- চেহারা মায়া মায়া! ছাতা। ডাইনির লাহান দেখতে। ওরে এ আমার কি সব্বনাশ হইলরেএএএ!
এই বলে সে উঠানে বসে বিলাপ করে কাঁদতে বসে গেল।
- কি কর! নতুন বৌ আইছে। খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা কর। তা না কানতে বইয়া গেলা। ঐ সালাম, তুই টাকা লইয়া কুদ্দসের দোকানে যাইয়া এক পাতিল বিরিয়ানি নিয়া আয়। কুদ্দুসরে কইবি যেন ভালো মত রাইধা দেয়।
সালাম টাকা নিয়ে তাড়াতাড়ি করে বাজারের দিকে রওয়ানা দিল। এদিকে নাজনীন কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে জয়নালের কথা শুনছিল। তারপর আবার শুরু করল।
-আমার কি হইবো গোওওও! ওরে আমার কপালটাই ফাটা রেএ! এইরহম ফাটা যে, কোন সুইঁ সুতা দিয়াও এই ফাটা কপাল সেলাই করা যাইব না! আমারে এহন সতীনের ঘর করতে হইব!
তার কান্না শুনে আশেপাশের অনেকেই এ বাড়িতে আসল। এসে একেকজন একেককথা বলতে লাগল। কেউ কেউ জয়নালকে রীতিমত ধমক ধামক দিতে লাগল। বলল যে জয়নাল এই কাজটা মোটেও ভালো করেনি। নাজনীন এত সুন্দর আর এত ভালো একটা বৌ। তারপরও সে কেন বিয়ে করে একটা সতীন আনল।
জয়নাল বারান্দায় বসে বসে সবার কথাই শুনছিল। এই সময় তার আট বছরের মেয়েটা এসে তাকে এক গ্লাস পানি দিল।
সে পানিটা নিয়ে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, " যাও, ঐ ঘরে নতুন বৌ বইসা আছে। তার সাথে যাইয়া কথা কও।"
- খবরদার! ঐ ঘরে যাবি না। ঐ ঘরে গেলে তোর ঠ্যাং ভাইঙা দিমু।
মেয়েটা ভয়ে ভয়ে নাজনীনের দিকে একবার তাকিয়ে অন্য দিকে চলে গেল।
- ওরে আমার এই দুনিয়ায় আর কেউ আপন রইল না রেএএএএ! আমার এহন কি হইব গোওওও! আমি এহন কই যামু রেএএএএ!
সবাই তাকে সান্ত্বনা দিতে লাগল। কেউ কেউ বলল যে একটু কষ্ট কইরা যেন সতীনের সাথে মেনে নেয়। কি আর করবে। এই কথা শুনে নাজনীনের কান্না যেন আরো বেড়ে যায়। কেউ কেউ আবার বলতে লাগল যে মনে হয় দুই মেয়ে দেখে ছেলের আশায় জয়নাল আরেকটা বিয়ে করেছে। তা নাহলে ঘরে এত সুন্দর বৌ থাকতে কেউ আরেকটা বিয়ে করে। এই বলে সবাই বেশ আফসোস করতে লাগল।
জয়নাল বসে বসে দেখতে লাগল।
একবার নতুন বৌ ঘরের দরজায় এসে দাঁড়িয়ে দেখল। তারপর আস্তে ফিক করে হেসে দিল।
তা দেখে নাজনীন রেগে বলে উঠল, " আর একবার যদি তাকাইয়া হাসস, তবে বাড়ি মাইরা তোর মাথা ফাটাইয়া ফেলমু।"
নতুন বৌ ভয়ে তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকে গেল।
- আচ্ছা। অনেক হইছে। ঘরে নতুন বৌ। বহুত কাম পইড়া রইছে।
এরপর জয়নাল প্রতিবেশীদের বলল যে, এখন যেন তারা যার যার বাসায় চলে যায়। সময় হলে তাদের খবর দেয়া হবে।
প্রতিবেশীরা যাবার কিছুক্ষণ পর নাজনীনের একমাত্র ছোট ভাই মাসুম বাসায় ঢুকল। নাজনীন মাসুমকে দেখে আরেকবার ডুকরে কেঁদে উঠল।
- ওরে আমার ভাই গোওওও! এ আমার কোন সব্বনাশ হল রেএএএ! তোর দুলাভাই নতুন বৌ ঘরে নিয়া আইছে!
মাসুম তার বোনের দিকে একবার তাকিয়ে দেখল। তারপর জয়নালের দিকে তাকাল। দেখল জয়নাল তার দিকে তাকিয়ে হাসছে।
- আহা! বুবু কান্দন থামাও তো!
- আ!!! তুই আমার আপন ভাই হইয়া, আমার কষ্ট না বুইঝা! আমারে থামতে কস!
- নতুন বৌ কই?
- ডাইনিটা ঐ ঘরে আছে।
মাসুম আবার জয়নালের দিকে তাকাল। জয়নাল মাথা ঝাঁকালে, নতুন বৌ যে ঘরে আছে তাড়াতাড়ি সেদিকে হেঁটে গেল।
নাজনীন হা করে তার ভাই এর কান্ড দেখতে লাগল। অনেকক্ষণ হয়ে যাবার পরও, যখন দেখল ওঘর থেকে মাসুম বের হচ্ছে না তখন আবার জয়নালের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল।
- দেখছ! ডাইনিটার ঘরে মাসুম গিয়ে ঢুকেছে! আর বেরও হচ্ছে না!
জয়নাল হেসে দিল।
- বের হবে কেন! নিজের বৌ এর সাথে কথা বলছে।
- নিজের বৌ মানে!
- আরে এটা তো আমাগো মাসুমের বৌ। সমস্যা হইছিল বলে চুপ করে বিয়ে করছে। আমারে খবর দিছে। তাই বইলা আমি বৌ নিয়া আইলাম।
নাজনীন আবার কিছুক্ষণ চুপ করে কথাগুলো বুঝার চেষ্টা করল। তারপর বলল,
- আরে! আমারে আগে বলবা না!
নাজনীনের কান্না কাটি এক মিনিটেই উধাও হয়ে গেল। তার মধ্যে ব্যস্ততার ভাব চলে আসল।
- তুমি ঠিকই কইছ। কত সুন্দর বৌ! কেমন মায়াকড়া চেহারা! তা তুমি আমারে আগে বললেই পারতা! শুধু শুধু আমার কত কষ্ট হইল!
- কি আর কষ্ট হইল! হাত পা বিছাইয়া একটু খানি বিশ্রাম নিলা। আর তোমার গলা শুইনা সবাই তোমারে একটু দেইখ্যা গেল।
নাজনীন রাগ রাগ গলায় বলল, " আমিও যে কি! চিন্তা না কইরা হুদাই চিল্লাচিল্লি করলাম! এই বুইড়া বয়সে তোমারে আবার কেডা বিয়ে করব! আর যদি বিয়ার কথা মাথায়ও আনছ, তো মাথায় চ্যালা কাঠ দিয়া একটা বাড়ি দেব!"
-ঘরে এইরহম একটা ডাইনি থাকলে আর কোন ডাইনির দরকার আছে নি!
-কি আমি ডাইনি!
জয়নাল তাড়াতাড়ি বলল,
- আরে ঘরে নতুন বৌ। খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করবা না!
- আরে তাই তো!
নাজনীন ব্যস্ত হয়ে তাড়াতাড়ি কাজ করতে চলে গেল।সেদিকে তাকিয়ে জয়নাল মাথা নেড়ে হেসে উঠল। তার বৌটা আসলেই খুব ভালো মনের মানুষ। এইরকম একটা মানুষরে কি কষ্ট দেওয়া যায়!
# তাসলিমা সুলতানা বন্যা



---


বাচ্চার হাসি (১ম পর্ব)
.
(এই পর্ব পড়ে যদি ভাল লাগে তবেই পরের পর্ব লিখব। নতুবা এখানেই শেষ  )
.
.
.
বাচ্চা?
হ্যা মশাই, বাচ্চা। পারবেন না?
কিন্তু বাচ্চা কেনো!? বাচ্চা কি দোষ করলো? বললো পেশাদারী খুনি আধার দাস।
তা জেনে আপনি কি করবেন? টাকা দেবো, আপনি কাজ টা করে দেবেন। সহজ হিসেব।
সামনে বসা লোকটি বললেন।
না জনাব। আমার কাজের কিছু নিয়ম আছে। কোনো কারন ছাড়াই আমি কাওকে খুন করতে পারবো না। আগে বলুন আপনার সাথে সেই বাচ্চার শত্রুতা কী? গম্ভীর ভাবে বললো আধার।
কি জ্বালাই ফেললেন মশাই! আচ্ছা শোনেন, আমার বাড়ির পাশের কলেজ এ পড়া একটা মেয়েকে আমি পছন্দ করতাম। মেয়েটার বডি ফিগার ছিলো দেখার মত। অনেক কষ্টে পটিয়েছিলাম। বিয়ের পিড়িতে বসাবো বসাবো ভাব, এমন সময়ে মেয়ের পরিবার থেকে তার বিয়ে ঠিক করে ফেললো। মেয়েও ত প্রচুর বাপ মা মানে, বোঝেন কিনা? বড় সুশিল মেয়ে। বাপ মায়ের কথায় বিয়ে করে নিলো। বিয়ের ২-৩ মাস যেতে না যেতেই সে ত পোয়াতি হয়েছে মশাই! বোঝেন ঠেলা! যে শরীর আমার ভোগ করার কথা, সেই শরীর অন্যের ভোগে চলে গেলো। কেমনটা লাগে? তারপর প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকলাম। অন্যেরা ত মেয়ের প্রতি প্রতিশোধ নেয়। আমি ভাবলাম অন্যভাবে প্রতিশোধ নেই। বাচ্চার বয়স এই বছর দেড়েক হবে। এতদিন দেরী করলাম কেন বলুন ত?
লোকটি হাসতে হাসতে প্রশ্ন করলো।
আধার বললো, হেয়ালী না করে পুরো কাহীনি বলুন। আমি আপনার কৌতুক শোনার জন্য বসে নেই।
লোকটি একটু চুপ থেকে বললো, আরেহ মশাই, এত্ত চটেন কেন। বলছি। কারন হলো, ভাবলাম বাচ্চাটার প্রতি মেয়েটার একটু মায়া পড়ুক। তাহলেই ত আমার প্রতিশোধ আরো দ্বিগুন কার্যকর হবে। কি বলেন? আপনার কাজ অনেক সহজ। কোথায় কিভাবে তাকে পাবেন আমি বলে দিচ্ছি। আপনি শুধু যাবেন, বাচ্চার মাকে বাধবেন। বেধে তার সামনে বাচ্চাটাকে খুন করে আসবেন। বুঝলেন কিনা? পারলে একটু ভণিতা করে খুন করবেন। মানে ইনিয়ে বিনিয়ে আরকি.. বলতে বলতে কুৎসিত হাসি হাসতে থাকে।
আধার কিছুক্ষন ভাবতে লাগলো, এই কাজে ঢুকেছে বছর দুই হয়েছে। এর মধ্যেই ভালো ফলাফল পেয়েছে সে। কাজেও অনেক পটু। এত্তদিন সব বুড়ো জোয়ান ছেলে মেয়েদের খুন করছে। কিন্তু এইবার একটা নিষ্পাপ বাচ্চাকে খুন করার কথা শুনে তার মন টা দমে গেলো। নাহ, এই পেশাই ঢোকার আগেই সে সব মায়া মমতা জলাঞ্জলি দিয়েছে। টাকাই সব। বাচ্চা বলে ত আর কম টাকা দেবে না।
কিছুক্ষন চুপ করে থেকে আধার বললো, কাজ হয়ে যাবে। কিন্তু পেমেন্ট টা একটু বেশি লাগবে।
অবশ্যই মশাই। টাকা না থাকলে কি আর এখানে এসেছি? যা লাগবে নিঃসংকোচে বলে ফেলুন। মুখে হাসি রেখে বললো লোক টা।
আধার বললো, এমনিতে আমি ৫ এর বেশি নেই না! কিন্তু এই কেসে ১০ দিতে হবে আপনার।
মাত্র ১০ হাজার? চোখ বড় বড় করে বললো লোক টা।
ঠাট্টা করেন আমার সাথে? ১০ লাখ বলেছি লাখ! রেগে উঠলো আধার।
আরেহ নাহ নাহ মশাই। চইটেন না। আচ্ছা, যা চান তাই পাবেন। শুধু একটা ব্যাপার দেখবেন। বাচ্চাটাকে নৃশংস ভাবে হত্যা করবেন আপনি আর তার মা যেন তার সামনে থাকে। বুঝলেন ত? শীতল গলাই বললো লোকটা। আধার তার চোখে স্পষ্ট ভাবে প্রতিশোধের আগুন দেখতে পেলো। এডভান্স ৫ লাখ নিয়ে আধার বাইরের আধারে মিশে যেতে লাগলো.

এত্ত চিন্তা করো কেন বলোতো? আমি কি কচি খুকি? এখন আমিও কিছু খুকির মা।
হাসতে হাসতে বললো চাঁদনী।
যা বলেছি তাই করবা। নিজে বাচ্চা আবার ভাব নেয় যেন কত্ত বড় হয়ে গেছে।
গোফের তলে মুচকি হাসতে হাসতে বললো অপূর্ব।
কি? কি বললে তুমি?
কপট রাগের অভিনয়ের সঙ্গে বললো চাঁদনী।
না না, কিচ্ছু বলিনি। তুমি ত এখন মা.. এখন ত আসলেই তুমি অনেক বড়। কই? আমার সোনামণি টা কই? দেখি একটা গুডবাই কিস দিয়ে যায়।
অপূর্ব তার বাচ্চাকে কোলে নিয়ে পরম মমতায় বাচ্চাটির কপালে একটা চুম্বন উপহার দিলো।
এই যে মিস্টার? আমার টা কোথায়?
গম্ভীর ভাবে বললো চাঁদনী।
তোমাকে কিসের কিস? তুমি না বড় হয়ে গেছ? বড়দের আমি গুডবাই কিস দেই না।
হাসি চাপতে চাপতে বললো অপূর্ব।
যাও। লাগবে না। ভাগো এখান থেকে।
রাগ করে বললো চাঁদনী।
অপূর্ব হাসতে হাসতে তাকেও একটা কিস দিয়ে চলে গেলো তার কাজের গন্তব্যস্থলে। আর চাঁদনী তার বাচ্চাকে নিয়ে ঢুকে গেলো ঘরে।
বুঝছিস ছুটু? আজ বাম চোখ টা খুব বেশি নাচচে। নিশ্চয় খারাপ কিছু ঘটবে। কি বলিস?
চাঁদনী তার ছুটুকে বললো। ছুটু কি বুঝলো তা ঠিক বোঝা গেল না কিন্তু মুখ টা গম্ভীর করে রাখলো। চাঁদনী হাসতে হাসতে বললো,
আরেহ? তুই কি বুঝলি? এত্ত গম্ভীর হয়ে গেলি যে? চল ছাদে গিয়ে বসি। তোর বাবা যাওয়ার পর কিচ্ছু করার থাকেনারে। ভাগ্যিস তুই ছিলি।
বলতে বলতে ছুটুকে নিয়ে ছাদে উঠে গেলো চাঁদনী। হঠাৎ ছাদ থেকে দেখলো গেটের বাইরে একটা লোক ঘুরঘুর করছে। চাঁদনী কিছু না বুঝে ছাদ থেকে চেচিয়ে বললো,
কাকে চান ভাইয়া? কোনো সমস্যা?
লোকটি উপরে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বললো, আসলে আমি অপূর্ব হালদার এর বাড়ি এসছিলাম। এইটা কি ওনার বাড়ি?
হ্যা, ওনারই বাড়ি। আপনি দাড়ান, আমি নিচে আসছি।
এই বলে চাঁদনি ছুটুকে নিয়ে তার ঘরে বসিয়ে রেখে লোকটির কাছে গেলো। দরজা খুলে বললো,
ভেতরে এসে বসুন। আমি অপূর্বকে ফোন করে জানাচ্ছি। আপনার নাম যেন কী?
আমার নাম আকাশ। নাম বললেই চিনবেন উনি। এক গ্লাস জল পেলে খুশি হতাম।
আচ্ছা, আপনি একটু বসুন। আমি জল আনছি। চাঁদনী এই বলে জল আনতে চলে গেলো। কিছুক্ষন পরে এসে দেখে লোকটি বসার ঘর থেকে উধাও। কিন্তু ছুটুর ঘর থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে। এই প্রথম চাঁদনীর মনে ভয় জাগলো। না জেনে অচেনা লোককে ঘরে এনে ভুলই করে ফেলেছে বোধ হয়। ঘরে কোনো পুরুষ না দেখে যদি তাদের ক্ষতি করে দেয়! এই ভাববে ভাবতে সে আস্তে আস্তে পা বাড়ালো ছুটুর ঘরের দিকে। গিয়ে দেখে লোকটি ছুটুকে কোলে নিয়ে তার কান্না থামানোর চেষ্টা করছে। চাঁদনী একটু জোরে বললে ফেললো,
এখানে কি ভাইয়া? আপনাকে ত বলেছিলাম বসার ঘরে অপেক্ষা করতে। আমি ওর বাবাকে ফোন করে বলছি আপনার কথা।
সেটি ত আর হচ্ছে না চাঁদনী। তোমার ফোন ত আমার কাছে। টেবিলের উপর কেও ফোন রেখে চলে যায়? এই বলে লোকটি চাঁদনীর ফোন টি থেকে সিম কার্ড খুলতে লাগলো।
চাঁদনীর শিরদাড়া বেয়ে ভয়ের ঠান্ডা স্রোত নেমে গেলো। এবার বোধ হয় আর রক্ষে নেই। ঘরে যা আছে তাই যদি দিয়ে দেয়, তবুও কি লোকটি তাদের ক্ষতি করবে? ভাবতে ভাবতে চাঁদনী বললো,
দয়া করে আমাদের কোনো ক্ষতি করবেন না। বাড়ি যা গহনা টাকা পয়সা আছে, আপনি নিয়ে নিন। আমি আপনার নামে থানায় কোনো কমপ্লেইন করবো না। দয়া করে আমারের ক্ষতি করবেন না।
লোকটি মুখ দিয়ে আফসোসের শব্দ করে বলতে লাগলো,
তুমি ভুল করছ চাঁদনী। আমি ত তোমার টাকা পয়সার জন্য আসিনি। আমি এসেছি তোমার জন্য। ওহ না, ভুল হয়ে গেছে। আমি এসেছি তোমার ছুটুর জন্য।
এই বলে লোকটি ছুটুকে আদর করার চেষ্টা করলো, কিন্তু ছুটু আরো জোরে কান্না করতে লাগলো। দেখে মনে হলো লোকটি কিছুটা বিরক্ত হয়েছে।
চাঁদনী বললো, যা করার আমার সাথে করুন। দুধের বাচ্চার সাথে আপনার কি শত্রুতা বলুন? তার কেন ক্ষতি করবেন?
হাসতে হাসতে বললো লোকটি,
ঠিকই বলেছ, দোষ বাচ্চাটার নয়। দোষ তোমার। কিন্তু তার শাস্তি ভোগ করবে বাচ্চাটা। কেন শুধু শুধু যাকে চেনোনা জানোনা তার সাথে বিয়ে করতে গেলে? যাকে পছন্দ করতে, তাকে বিয়ে করলেই ত হতো। তার মন ভাঙ্গার কি দরকার ছিলো?
কি আজেবাজে বকছেন? আমি কাওকে পছন্দ করতাম না। এইসব মিথ্যা কথা। আপনার ভুল হচ্ছে, আপ্নি যাকে ভাবছেন সে অন্যকেও হয়তো। তোতলাতে তোতলাতে বললো চাঁদনী। অতিরিক্ত ভয় পেলে সে তোতলাতে থাকে।
দুঃখিত। তোমার কথা রাখতে পারলাম না।
এই বলে লোকটি পকেট থেকে একটি ধাড়ালো ছুড়ি বের করে আস্তে করে ছুটুর গলা কেটে ফেললো! একটুও হাত কাপলো না লোকটির। চিৎকার করে উঠলো চাঁদনী। পাশ থেকে একটা ফুলদানী উঠিয়ে তেড়ে গেলো লোকটির দিকে
SHARE

Author: verified_user