Wednesday

Bengali Short Story Books pdf free Download

SHARE

             Bengali Short Story Books pdf free Download


Bengali Short Story Books pdf free Download


  • bangla uponnash book পুতুলের বিয়ে


    পুতুলের বিয়ে

    Loading...
    আমি সেই মেয়েটিকে চিনতাম। ওর নাম লাবনী। লাবণী আমার শৈশবকালের খেলার সাথী। একসাথে বড় হয়েছি আমরা। একসাথে একই স্কুলে পড়েছি। লাবনী আর আমার রোল সবসময় পাশাপাশি থাকতো। তবে ও থাকতো আমার উপরে। ছাত্রী হিসেবে খুবই ভালো ছিল। অসাধারণ বলা যেতে পারে। আমি সবসময় চাইতাম কি করে ওকে পেছনে ফেলা যায়। তবে বারবার ব্যর্থ হয়েছি। ও বিশেষ করে অংকে এক্সপার্ট ছিল। এই অংক সাব্জেক্ট আমাদের ব্যবধান গড়ে দিতো অনেক। অংকে ও পেতো ৮০ আর আমি পেতাম ৪০ অথবা টেনেটুনে পাশ। অংকে আমি ভয়াবহ রকমের কাঁচা ছিলাম।
    .
    লাবণীর খুব স্বপ্ন ছিল সে পড়াশোনা শেষ করে ইঞ্জিনিয়ার হবে। আমাকে প্রায়ই বলতো, দেখিস আমি একদিন এদেশের নাম করা একজন ইঞ্জিনিয়ার হবো। তখন আর আমাদের কোন অভাব থাকবে না। আমি বেতন পেয়ে বাবার হাতে সব টাকা দিয়ে দিবো। ওর বাবা ছিলেন রিক্সাচালক। পরিবারের অবস্থা নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন। লাবণী খুব করে চাইতো সে তার বাবাকে আর রিক্সা চালাতে দিবে না। রিক্সা চালাতে খুব কষ্ট হয়। আমি লাবণীর খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। ও আমাকে সব কথা বলতো। ওর কথা, ওর পরিবারের সবার কথা।
    .
    লাবণীদের বাড়ি আমাদের বাড়ির খুব কাছেই। আমরা একসাথে স্কুলে যেতাম। কোনদিন ও আমাকে ডেকে নিয়ে যেতো। আবার কোনদিন আমি ওকে ডেকে স্কুলে যেতাম। আমাদের আলাদা একটা জীবন ছিল। আমরা একসাথে খেলতাম। পুতুল খেলা ছিল ওর প্রিয়। ও মাঝে মাঝে আমাকে দাওয়াত দিতো, 'আজ বিকেলে আমাদের বাড়ি আসবি। আমার পুতুলের বিয়ে।' সুন্দর করে বর-কনে বানিয়ে বিয়ে দিতো । একদিন বর-কনেকে দেখিয়ে আমি বললাম, লাবণী... এই বর পুতুলটি আমি আর কনে পুতুলটি তুই। এখন বিয়ে দে। হঠাত সে রেগে গেল। আমাকে লাঠি হাতে দৌড়ানি দিলো। চিৎকার করে বলতে থাকলো, আমি আর কোনদিন তোর সাথে খেলবো না। সেদিন লাবণী খুব লজ্জা পেয়েছিল। পরবর্তী ৭ দিন আমি আর ওর নাগাল পাই নি।
    .

    Also Read : Bangla Golpo

    আমরা তখন ক্লাশ ফাইভে পড়তাম। আমার স্পষ্ট মনে আছে। একদিন লাবণীকে বড়ই পেড়ে দিতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে গিয়েছিলাম। হাত মচকে গেল। মা আমাকে সেদিন খুব মেরেছিল। লাবণী গিয়ে মা'কে বলল, চাচি আর মেরো না। ও হাতে খুব ব্যথা পেয়েছে। আর মেরো না। ওর এমন লাজুক লাজুক কথায় মা হেসে ফেলেছিলেন।
    Bengali Short Story Books pdf free Download

    .

    এভাবেই আমাদের দিন কাটছিল। বেশ আনন্দে, চোখ ভরা স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছায় আমরা ছিলাম অদম্য। সেবার আমাদের স্কুল গ্রীষ্মকালীন ছুটি হয়ে গেল। একমাস ছুটি। আমি ছুটিতে নানুবাড়ি বেড়াতে চলে যাই। ফিরলাম স্কুল খোলার ঠিক আগের দিন।
    .
    সকালের নাস্তা সেরে আমি লাবণীর আশায় বসে আছি। অনেক দিন পর আবার একসাথে স্কুলে যাবো। কী মজা! লাবণি চুলের বেণী দুলিয়ে দুলিয়ে এসে বলবে, এই বল্টু চল তাড়াতাড়ি। রিয়াজ স্যারের ক্লাশ শুরু হয়ে যাবে। লাবণী আমাকে বল্টু বলে ডাকতো। ছোটবেলায় সামান্য মোটা ছিলাম। প্রথম প্রথম খুব রাগ করতাম। পরে আর রাগ করতাম না। ভালোই লাগতো। ওর মিষ্টি কন্ঠে বল্টু ডাক বেশ শোনাতো।
    .
    আমি ব্যাগ কাঁধে দাঁড়িয়ে আছি। ক্লাশ শুরু হতে আর পাঁচ মিনিট বাকি। লাবণীর কোন পাত্তা নেই। আমি মনে মনে খুব রেগে যাচ্ছিলাম। মা এসে বললেন, কীরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? স্কুলে যাবি না?
    আমি বললাম, যাবো তো। লাবণী আগে আসুক।
    মা মুচকি হাসলেন। আমি মায়ের হাসির কোন অর্থ খুঁজে পেলাম না। মা বললেন, লাবণী তো আর স্কুলে যাবে না। এখন থেকে একা একা স্কুলে যেতে হবে তোকে।
    আমি বললাম, কেন? ওর কি অসুখ করেছে?
    মা বলল, আরে পাগল! লাবণীর বিয়ে হয়ে গেছে দশদিন হল। ও এখন শ্বশুর বাড়িতে।




    .
    আমি মায়ের কথা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মাথাটা চক্কর দিয়েছিল কয়েকবার। লাবণীর বিয়ে হয়ে গেল। কীভাবে সম্ভব! তাহলে ওর স্বপ্নের কি হবে! ও তো ইঞ্জিনিয়ার হতে চেয়েছিল! ও চেয়েছিল নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের অভাব ঘোচাতে।
    যে মেয়ে এখনও পুতুল পুতুল খেলে। ঠিক মতো পুতুলকে সাজাতে পারে না। সে কীভাবে একটি সংসার সামলাবে। আমি দৌড়ে মায়ের সামনে থেকে চলে যাই। কি কারণে যেন আমার বুকের ভেতরটা মুচড়ে যাচ্ছিল। আমি সেদিন আড়ালে খুব কেঁদেছিলাম আমার খেলার সাথীর জন্য।
    .
    তারপর দীর্ঘদিন আর দেখা হয় নি লাবণীর সাথে। আমি পড়াশোনার জন্য শহরে চলে আসি। আজ দেখা হল প্রায় দশ বছর পর। অবশ্য মায়ের কাছে সে প্রায়ই আমার খবর নিতো। আমি কেমন আছি। কোথায় আছি। আমার ছবি দেখতো মায়ের কাছ থেকে নিয়ে। একদিন সে মাকে বলল, চাচি আমি বল্টুর একটা ছবি নিয়ে গেলাম। মা আমাকে ফোনে সব বলতো। আমার বুকটা ফেটে যেতো। আমি কোনদিন মায়ের কাছে জানতে চাই নি লাবণী কেমন আছে। কারণ, আমার মন বলতো লাবণী ভালো নেই। কীভাবেই বা ভালো থাকে বলুন। যার স্বপ্ন ভেঙে যায় বারবার সে আর যাই থাকুক ভালো থাকতে পারে না।
    .
    লাবণী বাপের বাড়ি এসেছে। আমি বাড়িতে এসেছি শুনে সে আমাদের বাড়ীতে ছুটে এসেছে।
    আমি বারান্দায় একটি চেয়ারে বসে আছি। একটি গল্পের বই পড়ছি। হঠাত সামনে একটি মহিলা এসে দাঁড়ালো। গায়ে জীর্ণ শাড়ি। কয়েক জায়গা ছেঁড়া। মুখমন্ডল জুড়ে স্পষ্ট অভাব আর রোগ-শোকের ছাপ। কোলে একটি মাস ছয়েকের শিশু। গায়ে কোন জামা নেই। নগ্ন। বাচ্চাটির নাক দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে। সেদিকে লাবণীর কোন খেয়াল নেই। সে এক দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে আছে।
    .
    আঙুল ধরে আছে আরেকটি ছোট ছেলে। বছর চারেক হতে পারে বয়স। ছেঁড়া প্যান্ট। বড় বড় চোখে আমার দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে। আমি ছেলেটিকে বললাম, বাবু তোমার নাম কি? ছেলেটি সম্ভবত লজ্জা পেল। মায়ের শাড়ীর আঁচলের মধ্যে লুকিয়ে যেতে চাইলো। কোন কথা বলল না। মায়ের কাছে শুনেছি লাবণীর তিন সন্তান। বড়টি মেয়ে। বয়স ৯ বছর।
    .
    আমার আর চিনতে সময় লাগলো না লাবণীকে। কিন্তু এ কি হাল হয়েছে ওর! কি সুন্দর ফুলের মতো মেয়েটি। কেমন যেন মৃত লাউ ডগার মতো নেতিয়ে পড়েছে। কোন প্রাণ নেই।
    .
    আমি বললাম, কেমন আছো লাবণী?
    সে উত্তরে বলল, আছি ভালো। কিন্তু সে জানতে চাইলো না আমি কেমন আছি। লাবণীর মুখে বল্টু ডাক শুনতে আমার খুব ইচ্ছে করছিল। কতদিন এই ডাকটি শুনি না।Bengali Short Story Books pdf 
    লাবণী আরো কিছুক্ষণ আমার দিকে নিষ্পলক চেয়ে থেকে বলল, তোমার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শেষ?
    আমি শান্ত গলায় বললাম, হু।
    লাবণী আর কোন কথা বলল না। ওর চোখজোড়া নিমেষে ভিজে উঠলো। আহারে! আজ লাবণীও পড়াশোনা করে ইঞ্জিনিয়ার হতে পারতো। অথচ সে আমার চেয়েও মেধাবী ছিল।
    .
    কিছুক্ষণ পর মাকে ডেকে লাবণী বলল, চাচি আমি গেলাম। বলে আর এক মুহুর্তও অপেক্ষা করলো না।
    লাবণী চলে যাচ্ছে। আমি তাকিয়ে দেখছি ওর চলে যাওয়া। ডান হাত দিয়ে লাবণী বারকয়েক চোখ মুছলো আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম। লাবণীর আঁচল ধরে থাকা ছেলেটি তখনও ঘুরে ঘুরে আমার দিকে দেখছে। বড় বড় চোখ। সেই চেনা চোখ। বড় হবার স্বপ্নে উজ্জ্বল থাকতো সবসময়। ছেলেটি তার মায়ের চোখ পেয়েছে। লাবণী ঠিক এই ভাবেই আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো একসময়!
    .
    .
    পুতুলের বিয়ে
    ©জনি আহমেদ


    Bengali Short Story Books pdf free DownloadThe Life Destroyer

    কান ধরে ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে আছি বিশ মিনিট ধরে । দাড়িয়ে থাকতে মোটেও ভালো লাগছে না । আদনান,রাকিব,নিশাত হারামিগুলা আমার দিকে তাকিয়ে দাত কেলিয়ে হাসছে । রাগে ফুসছি ,ইচ্ছা করছে ওদের মাথাগুলো ইট দিয়ে ছেচে ঘিলু বের করে ফেলি । ওদের জন্যই এই অবস্থা আজকে ।
    ঘটনা হলো, কলেজে এসে ক্লাসে বসতে না বসতেই আদনান হারামজাদা আমার চোখের সামনে একটা চুলের ক্লিপ ধরলো আর বললো, "মামা ,দেখো এইটা কি?"
    আমি: চুলের ক্লিপ । তুই কি ক্লিপ পড়া শুরু করছস নাকি ?
    আদনান: ধুরররর হালা । আমি পড়তে যামু ক‍্যা ?
    আমি: তাইলে এইভাবে দেখানোর কি হইছে ?
    আদনান: আরে বেটা এটা নিশাতের । খুলে নিছি মাথা থেকে । ও এখন নিতে আইবো এইটা । মাঠে অনেকক্ষণ দৌড়াইছে । এখন তুই আর আমি এইটা দিয়া ক‍্যাচ ক‍্যাচ খেলমু ।
    আমি: না ভাই । ওই হারামি নিশাত যে চিল্লানি দেয় । কান ছাতু কইরা দিবো ।
    আদনান: আরে ব‍্যাটা ক্লাসে সবার সামনে কি চিল্লানি দিবো নাকি ? ওর কি বুদ্ধি নাই ?
    আমি: তাও ঠিক । কিন্তু ওরে দিয়া বিশ্বাস নাই । দিতেও পারে রে ।
    আদনান: আরে কিছু হবে না ।
    আমি: আচ্ছা ঠিক আছে ‌। তোর কাছে গেলে আমারে দিবি ।‌ আমারে ধরতে আইলে তোর কাছে
    দিমু । ঠিক আছে ?
    আদনান: হুম ‌। ওই যে হারামিটা আইসা পড়ছে ।
    আদনানের হাতে ক্লিপ ছিল । তাই নিশাত প্রথমে দৌড়ে আদনানের কাছে গেলো । আদনানের কাছে যেতেই আদনান ক্লিপটা ছুড়ে দিল আমার কাছে । আবার আমার দিকে আসলে আমি আদনানকে দিলাম ‌।
    অনেকক্ষণ ধরেই নিশাত দৌড়াদৌড়ি করছে ক্লিপ নেওয়ার জন্য । আমি আর আদনান ওর মাথার ওপর দিয়ে একজন আরেকজনের কাছে পাস করছি ক্লিপ । নিশাত মনে হয় হাপিয়ে গেছে । কিছুক্ষণ রাগি চোখে তাকিয়ে থাকলো আমার দিকে , তারপর আমার দিকে আসতে লাগলো । কিন্তু ক্লিপ তো আদনানের হাতে । আমার দিকে আসে ক‍্যা ? কাছে এসেই আমার
    হাতে একটা চিমটি বসিয়ে দিলো । বাবাগো বলে চিল্লানি দিলাম । ওর যে বড় বড় আর ধারালো নখ । চিমটি দেওয়া জায়গায় রক্ত জমে গেছে । হাত বুলাতে বুলাতে বললাম,
    আমি: এটা কি হইলো ? চিমটি দিলি ক‍্যান ?
    নিশাত: বেশ করেছি । আরেকটা দিবো ।
    আমি: ধুররররর বা* । (অনেক জোরেই বলে ওঠলাম )
    কে যেন মোটা গলায় বলে ওঠলো, "ওইইই হারামজাদা, কি কইলি ?"
    তাকিয়ে দেখি Higher Math এর সামাদ স‍্যার আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে ।
    আমি স‍্যারকে দেখে জিভে কামড় দিলাম । অতঃপর আমার জায়গা হলো ক্লাসের বাইরে তাও
    আবার কান ধরা অবস্থায় । আর যাদের জন্য আমার এই অবস্থা তারা সুন্দর ক্লাসে বসে বসে
    দাত কেলাচ্ছে । আমার ছোটবেলা থেকেই একটা বাজে অভ‍্যাস । রাগ হলেই বা* বলে ফেলি ।
    এর জন্য অবশ্য অনেক মার খেতে হয়েছে বড়দের হাতে । তারপর ও অভ‍্যাস টা রয়ে গেছে ।
    দুই বছর পর...
    ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি । প্রথম ক্লাস টেস্ট আজকে । কালকে রাতে কিছুই পড়ি নাই । ভাবছি
    আদনানের খাতা দেখে চালিয়ে দিবো । কিন্তু আদনান হারামজাদা যেন নীতিবান হয়ে গেছে ।
    আমাকে উপদেশ দিলো, এভাবে দেখে লেখা ঠিক না । যা রাগ ওঠলো । রাগের মাথায় বলেই
    ফেললাম, বা*র কথা কও !!?? স‍্যার আমার দিকে কটমট করে তাকালো আর আমার পেপার বাতিল ঘোষণা করা হলো । একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ক্লাস থেকে বেরিয়ে এলাম ।
    পাঁচ দিন হয়েছে ফেসবুকে একটা মেয়ের সাথে প্রেম হয়েছে । মেয়েটা দেখতে অনেক সুন্দরী,
    নাম লাবণ‍্য , খুলনা থাকে । রাজশাহী থেকে খুলনা এসেছি দেখা করার জন্য । একটা রেস্টুরেন্টে বসেছি ওকে নিয়ে । অর্ডার করেছি চল্লিশ মিনিট হয়ে গেলো কিন্তু খাবার সার্ভ
    করার নাম নেই । অথচ বলেছিল Only 20 mins লাগবে স‍্যার । পঞ্চাশ মিনিট বসে থাকার
    পর এসে বললো, "স‍্যার আমাদের কিচেনে প্রবলেম হয়েছে ।আজকে আর কিছু করতে পারছি
    না । স‍্যরি স‍্যার ।" পঞ্চাশ মিনিট বসিয়ে রেখে এই কথা !!?? মেজাজ চরমে ওঠে গেল । আমার মুখ দিয়ে বের হয়ে গেলো, "বা*র কথা বলেন ?? এতোক্ষণ বসিয়ে রাখলেন কেন তাইলে ??" লাবণ‍্য দেখি আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে । এটা নিয়ে তুমুল
    তর্ক করার পর লাবণ‍্য আমার সাথে ব্রেকআপ করে চলে গেল । আমি আবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে
    বের হয়ে এলাম রেস্টুরেন্ট থেকে ।
    পড়াশোনা শেষ করে একটা কোম্পানিতে যোগ দিয়েছি । ভালোই চলছে দিন । মাস শেষে চল্লিশ হাজার টাকা বেতন । আমার জন্য এটাই যথেষ্ট । চাকরি পাওয়ার পর থেকেই মা বিয়ে বিয়ে করে মাথা খেয়ে ফেলছে । প্রতিদিন সকালে নাস্তা খাওয়ার সময় এই বিষয়ে কথা বলা মায়ের রুটিন হয়ে গেছে । আজকাল ইচ্ছা করেই ভাজিতে, তরকারি তে লবণ কম দেয় । যদি কিছু জিজ্ঞেস করি তাইলে বলে, "আমি বুড়ো হয়ে গেছি । আর পারি না ।এবার একটা বিয়ে করে বউয়ের হাতের রান্না খা ।" তাই পারতপক্ষে আমি মায়ের সাথে কথা বলি না ।আজকেও খেতে বসেছি ।দেখি ব্রেড তেলে ভাজছে ঠিক ই কিন্তু ডিম নাই । মাকে বললাম, "মা…ডিম কি শেষ হয়ে গেছে নাকি??"
    মা: না । ডিম কেন শেষ হবে ? দুইদিন আগেই না আনলি ।
    আমি: তাইলে ব্রেড টা কি ডিমে ভিজিয়ে ভাজা যেতো না ?
    মা: মনে থাকে না আমার । একটা বিয়ে করে নে । বউ ই তোকে খাওয়াবে ।
    রাগ ওঠে গেল । প্রত‍্যেক দিন এমন ভালো লাগে নাকি । খাবার রেখে ওঠে পড়লাম ।
    মা: কিরে না খেয়ে ওঠে পড়লি যে ? খাবি না ?
    আমি: এই বা*র নাস্তা আমি‌‌ খাবো না । কক্ষনো না ।
    অফিসে গিয়ে কড়া মেজাজে বসে আছি । ডেস্কে ফাইল রয়েছে , আজকে কমপ্লিট করে বসকে
    হ‍্যান্ডওভার করতে হবে । কিন্তু সকালের ঘটনায় রাগ ওঠে গেছে । ফাইল টা খুলেও দেখার ইচ্ছা করছে না । পিওন এককাপ কফি নিয়ে এলো । চুমুক দিয়ে দেখি এ যে শরবত । ব্ল‍্যাক কফিতে কেউ এতো চিনি দেয় ??!!
    আমি: ওই রহিম , রহিম ।
    রহিম: জ্বি স‍্যার ‍?
    আমি: বা*র কফি আনছোস ?
    সব কলিগ রা দেখি আমার দিকে তাকিয়ে আছে । একটু পর বস ডাকলেন আমাকে । কেবিনে
    গিয়ে দেখি বস অত‍্যন্ত রাগান্বিত অবস্থায় বসে আছেন । আমি বসের টেবিলের সামনে গিয়ে
    গলা খাঁকারি দিলাম । বস বললেন, রুদ্র সাহেব বসেন । কিছু কথা আছে ।
    আমি: জ্বি বলুন স‍্যার । আমার কাজে কোন সমস‍্যা আছে স‍্যার ?
    বস: আপনার কাজ নিয়ে কোন সমস‍্যা নেই কিন্তু আপনি যে কলিগদের সাথে কথায় কথায় বা* বলেন এটা মোটেও ঠিক না । Next time আমি কিন্তু এটা নিয়ে কোন অভিযোগ শুনতে চাই না ।
    আমি: আমি তো সবসময় বলি না স‍্যার । আমার রাগ ওঠে গেলে আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায় ‌
    অটোমেটিক ।
    বস: অফিসটাকে নিজের বাসা ভাবলে চলবে না । নিজের মুখ সামলে রাখুন ।
    আমি চেয়ার থেকে ওঠে চলে দরজা দিয়ে বের হতে যাবো এমন সময় রহিম ও কফির মগ হাতে
    বসের রুমে ঢুকছিলো । ধাক্কা খেয়ে গরম কফিটা আমার গায়ে পড়লো । বসের কথাগুলো শুনে
    এমনিতেই রাগ ওঠে গেছিলো । অনিচ্ছাকৃত ভাবেই আমার মুখ দিয়ে বের হয়ে গেলো, "বা*র
    কানা কোনাহানকার !! দেইখা চলতে পারস না ??"
    স‍্যার শুধু বললেন, ভেবেছিলাম আপনাকে একটা সুযোগ দিবো । কিন্তু আপনি সেটার ও যোগ‍্য না । রুদ্র সাহেব, I am sorry to say...You are fired....
    একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বসের রুম থেকে বের হয়ে এলাম । বক্সের মধ্যে আমার সব জিনিসপত্র
    ভরে বের হয়ে এলাম অফিস থেকে । দোকান থেকে সিগারেট ধরিয়ে টানছি আর মনে মনে
    ভাবছি , "এই বা* আমার জীবনটা ধ্বংস করে দিলো".....
    বা* ...The Life Destroyer
    লেখা: রুদ্র নীল ।
Loading...
SHARE

Author: verified_user