Thursday

Bengali Ebook Collection - online bangla library | গল্প : দাঁড় কাক।

SHARE

Bengali Ebook Collection - online Bangla library | গল্প: দাঁড় কাক।





রিপার বাবা জিজ্ঞেস করলেন ' তুমি কি সরকারি চাকরি করো? আমি তখন বললাম 'না আংকেল বেসরকারি। রিপার বাবা বললেন ' আমার সরকারি চাকরি চাই। আমি বললাম ' কিন্তু আংকেল এই বয়সে আপনি সরকারি চাকরি কি করে পাবেন😞!! আমার কথা শুনে রিপার গলায় খাবার আটকে গেছে - আমি ওর দিকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিলাম। রিপা পানি খেয়ে আমার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে! আর আংকেল তাকিয়ে আছেন আন্টির দিকে। আমি মনে মনে চিন্তা করলাম - এখন আবার কি ভুল করলাম রে বাবা!! Bengali Ebook Collection
- - আমি মেঘ। মেঘালয়ের মেঘ না - আমি মানুষ মেঘ। GF এর বাবার মায়ের সাথে প্রথম দেখা করতে এসে এমন উল্টাপাল্টা উত্তর দিব আগে বুঝি নি! রিপা কিছু দিন থেকে আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছিল ' বাবার মায়ের সাথে দেখা করানোর জন্য - তারপর ও আমি সব উল্টাপাল্টা করে দিছি। রিপার বাবার সাথে অল্প কিছু কথা বলে বের হয়ে আসলাম ওদের বাসা থেকে। রিপাদের বাসা থেকে বের হওয়ার সময় - রিপার মুখ অনেক কালো ছিল। মেকআপ না করার জন্য না ' এই কালো আমার উপর রাগ করে। কপাল খারাপ হলে যা হয় আরকি ? আমি রিপাদের বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় রিক্সা না পেয়ে হেটে হেটে যাচ্ছি বাসাতে। রিপার বাসা থেকে আমাদের বাসা ১৫ মিনিটের রাস্তা। আমি রাস্তা পার হয়ে ফুটপাত দিয়ে হাটা শুরু করলাম - বিকাল বেলা আকাশে তেমন একটা রোদ নেই। রাস্তার পাশে বাদাম ভাজা বসেছে। আমি ৫ টাকা বাদাম কিনে খাচ্ছি আর হাটছি। তখন ফোন বেজে উঠল আমার। আমি পকেট থেকে ফোন বের করে দেখি রিপা। আমি চারটা বাদাম মুখে দিয়ে ফোন রিসিভ করলাম। তখন রিপা আমায় বলল "bangla uponyas
- তোমায় কে বলেছে বাবার সাথে মজা করতে? আমি বললাম ' আমি কি মজা করলাম? আংকেল বললেন উনার সরকারি চাকরি চাই? আমি তখন বললাম ' এই বয়সে আপনি সরকারি চাকরি কি করে পাবেন? খারাপ কিছু কি বলেছি তুমি বল 😞। আমি ফোনে কথা বলে বলে হাটছি। রিপা আমার কথা শুনে থমকে গিয়ে - ২মিনিট চুপ থেকে 'রাগ মাখা কন্ঠ নিয়ে আস্তে করে বলল ' হারামজাদা" বাবা বুঝাতে চেয়েছেন উনার সরকারি চাকরিজীবী জামাই চাই!! আমি : ও আচ্ছা এইটা। রিপা : জ্বি এইটা👿। রিপা আর কথা না বলে এক ঝুড়ি বকা দিয়ে ফোন কেটে দিল। আমি ফোন রেখে বাদাম খেয়ে খেয়ে বাসার উদ্দেশ্যে হাটতে থাকলাম। সুন্দরী মেয়েদের রাগের সময় বেশি ফোন দিয়ে বিরক্ত করা ঠিক না এতে রাগ বেড়ে যাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
 online bangla library
- - আমার এত কপাল খারাপ কেন আমি জানি না। সারা দিন যাচ্ছে তা হলো আমার সাথে আর রাতে যখন খাবার খেতে বসলাম তখন বাবা আমার দিকে তাকিয়ে খাবার খেয়ে খেয়ে বললেন ' ছাদে এইসব পাখির বাসা কে রেখেছে। আমি খাবার খেয়ে খেয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে বললাম ' ঐটা কাক পাখির বাসা - ওদের বৃষ্টিতে কষ্ট হয় তাই আমি ওদের জন্য বাসা বানিয়ে দিয়েছি। বাবা : ও আচ্ছা এখন চাকরি ছেড়ে তুমি কাক পাখি পোষবে? আমি বললাম ' আব্বা আইডিয়া খারাপ না - তবে একটা খারাপ খবর আছে আর সেটা হলো আমার চাকরি চলে গেছে। আমার কথা শুনে বাবা মা ছোট বোন হা। নতুন চাকরিতে বাবা ঢুকিয়ে দিয়েছেন ৭দিন হয়নি তার মধ্যে চাকরি নেই!!


                                  

                :কষ্টের ভালবাসা | ভালোবাসার রোমান্টিক মেসেজ



- - বাবা আমার দিকে তাকিয়ে আছেন রাগ করে। মায়ের হাতে রুটি উল্টানোর খুন্তি। আমি বুঝতে পারলাম - অবস্থা খারাপ! আমি মাথায় হাতিয়ে হাতিয়ে বললাম ' ইয়ে মানে ফোন এসেছে এই বলে খাবার প্লেট নিয়ে দৌড়ে রুমে। রাতে খাবার এর সাথে বাবা মায়ের গালি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। রাতে আর রিপার সাথে কথা হলো না। সকালে বসে আছি - কবির ভাইয়ের চায়ের দোকানে। ফুতপাতের পাশে কবির ভাইয়ের দোকান। ছোট্ট দোকান তবে বেশ ভাল চা পাওয়া যায়। আমাকে সকাল সকাল দেখে কবির ভাই বললেন ' মেঘ ভাই আজ আপনার অফিস নেই? আমি কবির ভাইয়ের কথা শুনে ' কপাল ভাজ করে বললাম ' চাকরি চলে গেছে। কবির ভাই তখন বলেন ' ইন্নালিল্লাহ!! ভাইজান কিছুদিন আগেই না - চাকরি পাইলেন? আমি চায়ে চুমুক দিয়ে বললাম ' চাকরি মানে কি? চাকরি মানে চাকর হওয়া। আমি কি চাকর? দুই দিন সকালে কাকের গান শুনতে গিয়ে অফিসে যেতে দেরি হয়ে যায়। তাই বস বললেন আর অফিসে আসতে হবে না! বাসায় থেকে নাকি কাকের গান শুনতে!!
- - আমার কথা শুনে কবির ভাই মাথায় হাতাচ্ছেন। মাথায় হাতিয়ে হাতিয়ে বলেন ' ভাইজান কাউয়া পাখির গান? বিষয়টা বুঝলাম না। আমি চা শেষ করে বললাম ' বুঝতে হবে না।
- - এই ভাবে দুদিন কেটে গেল রিপার সাথে কথা হলো না। চাকরি নেই - Gf নেই। বাসায় সারাদিন বকা আর বকা ' তাই বসে থাকি আমি পার্কে একা একা। সে দিন যখন রিপা আমায় ফোন দিয়ে জানতে পারল আমার চাকরি চলে গেছে - তখন ও গিরগিটির মতন রঙ পাল্টে আমার সাথে ব্রেকআপ করার কথা বলে দিল। আমি রিপাকে অনেক বুঝালাম। বললাম 'দেখ বাবু আমি চাকরি একটা খুঁজে নিব। আমাকে এক মাস অন্তত সময় দাও। কিন্তু রিপা সেই সময় ও আমায় দিল না!!

গল্প : দাঁড় কাক।


- - আমার আর রিপার গল্পের শুরু হয়েছিল - একটা বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে। রিপা প্রথমে আমাকে দেখে আমার ফোন নাম্বার চাইলো। তারপর থেকে আমাদের মাঝে বন্ধুত্বের শুরু আর শেষে প্রেম। ১বছরের সম্পর্ক ছিল আমাদের। ও যখন যা বলত আমি তাই করতাম। আমি ওকে প্রচন্ড ভালবেসে ফেললাম। হয়তো রিপাও আমাকে অনেক ভালবাসতো। একদিন ওর শরীর খারাপ ছিল বলে আমি সারা রাত দাঁড়িয়ে ছিলাম ওর বাসার নিচে বারান্দার পাশের রস্তায়। আমার ভাল লাগছিল না। রিপা অবশ্য অনেক বার বলেছিল - বাসায় যাও আমি ঠিক আছি। কিন্তু আমি ওর কথা শুনলাম না - আমি বললাম তোমার বাসার পাশে দাঁড়িয়ে থাকলে আমার মনে হয় তুমি আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছো। ওকে কোন দিন সন্ধেহ করিনি - যদিওবা ওকে প্রায় রাতে আমি ওয়েটিং কলে পেতাম। আমি ওকে কিছু জিজ্ঞাস করলে ও বলতো ফ্রেন্ড কল দিছলো। আমি রিপাকে বিশ্বাস করে বলতাম ঠিকা আছে কোন ব্যাপার না।।online bangla library
- - যে রিপার জন্য এতো কিছু করেছি' আজ যখন সেই রিপা সামান্য চাকরির জন্য আমার কাছে ব্রেকাআপ চাইলো - আমি হাজারো রিকুয়েস্ট করে বললাম ' এক মাস অন্তত সময় দাও। আর সেই সময় ও যখন ও আমায় দিল না - তখন ভিতর আমার ফেটে যাচ্ছিল। রাতে যখন বসে ছিলাম ছাদে একা তখন আমার বন্ধু জয় আমায় বলছিল ' ভাই মন খারাপ করিস না। মেয়েরা এমনি হয়। আমি তখন আকাশ চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললাম ' মেঘেরা মন খারাপ করে না। মেঘেরা ঘুরে বেড়ায় আকাশের এক পাশ থেকে অন্য পাশে - মেঘ মেঘালয়ে। জয় আমার কথা শুনে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। মুখে নীরবতা নিয়ে।।
- - আমি রিপার কথা শুনে ব্রেকআপের জন্য গেলাম ওর সাথে দেখা করতে। পরেরদিন সকালে ও আমায় ফোন দিয়ে পার্কে যাবার কথা বলছিল। আমি দুপুরবেলা রিপা আসার আগেই পার্কে গিয়ে বসে থাললাম। আমি বসে বসে গাছপালা দেখছি। আশপাশে কোন কাক পাখি নেই। থাকলে গান শোনা যেত। আমি বসে ছিলাম একা একা তখন রিপা চলে আসলো। রিপা আমার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি ভেবে ছিলাম ব্রেকআপের সময় অন্তত মেয়েটা আমার সাথে ভাল করে কথা বলবে' কিন্তু না। ও আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে থাকল। এক কথায় বলা যায় ও আমাকে অনেক গালি দিয়ে ব্রেকআপ করার উদ্দেশ্য নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছে' কিন্তু আমিতো মেঘ। আমি মানুষের উদ্দেশ্যে পানি ডেলে দেই মানুষের অজান্তে। রিপা যখন বকা দিচ্ছিল তখন আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তারপর পকেট থেকে একটা আইফোন বের করে ওর হাতে দিয়ে বললাম ' তোমার জন্য এনেছি। আমাদের ব্রেকআপ উপহার। রিপা এতো দামী আইফোন উপহার পেয়ে খুশিতে আত্মহারা। ও আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল ' Thank you মেঘ।।
- - আমি রিপার রঙ পাল্টানো দেখে মুচকি হাসি দিলাম। রিপা আমার হাতে ধরে বলল ' প্লিজ কিছু মনে করো না। তোমায় অনেক বকা দিয়ে ফেলেছি - আসলে আমার মাথা ঠিক ছিল না। দেখো তুমি আমার থেকে আরো ভাল মেয়ে পাবা। আমি রিপার মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বললাম ' কোন ব্যাপার না।
* বাসায় এসে। রাতে খাবার না খেয়ে ঘুমিয়ে পরলাম - স্বপ্ন দেখার চেষ্টা করলাম। কয়েকটা কাক পাখি গান গাচ্ছে আর আমি সেটা শুনছি একা একা ।।
- - পরেরদিন সন্ধ্যায় যখন ছাদে বসে আকশের মেঘ দেখছিলাম তখন জয় কোথা থেকে ছোটে এসে আমায় বলল। দুস্ত ঝামেলা হয়ে গেছে।শুনলাম আজ সকালে রিপাকে পুলিশ ধরেছে - ও নাকি চুরি করা আইফোন ব্যবহার করছিল। আমি তখন জয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বললাম ' আইফোনটা আমি চোর বাজার থেকে কিনেছিলাম - তারপর রিপাকে দিয়েছিলাম। আমি জানতাম আইফোনের উপর থানায় চুরির মামলা আছে। ফোন অন করা মাত্র পুলিশ ধরবে। জয় আমার কথা শুনে নীরবে মাথায় হাতাচ্ছে। আর আমি তাকিয়ে আছি আকাশের দিকে। তখন আমার ফোন বেজে উঠল। আমি পকেট থেকে ফোন বের করে দেখি অফিসে বসের কল। আমি ফোন রিসিভ করে বললাম 'Bengali Ebook Collection
- - হ্যালো স্যার কেমন আছেন? বস তখন বললেন' মেঘ সাহেব আপনি তো দেখছি জাদুকর মানুষ মশাই!! আমি আজকে সকালে ভোরে ঘুম থেকে উঠে' গিয়েছিলাম ছাদে। তখন দেখি কয়েকটা কাক বসে আছে ছাদে। আমি : তারপর? বস : তারপর আবার কি? আমি তো ওদের গান শুনে রীতিমতো হা!! আমি অবাক হলাম - এরা এতো ভাল গান জানে আর আমি আগে জানতামই না ! আরো অবাক করা বিষয় হলো " আমি কোন দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠি না। আর যদিওবা উঠি তা হলে ছাদে যাই না। কিন্তু আজ কেন জানি আমার ঘুম ভেঙে গেল আর ছাদে যেতে ইচ্ছে করল। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না!! আচ্ছা মেঘ সাহেব আপনি কি করে জানলের কাকেরা এতো ভাল গান করে ?? সবাই তো এটা জানে না!! সবাই তো কাকের গানকে অপছন্দ করে। আমি বসের কথা শুনে চুপ করে থাকলাম। কিচ্ছু বললাম না। বস বললেন ' মেঘ সাহেব কালকে থেকে আবার অফিসে জয়েন করেন প্লিজ। প্লিজ আই রিকুয়েস্ট ইউ। আমি বসে কথা শুনে কিছুক্ষণ চুপ থেকে' তারপর বললাম ' স্যার কাক কেমন করে ডাকে? বস তখন বললেন - - কা কা কা কা কা।
* মেঘের গল্প চলতে থাকবে - - - - - - -



লেখক : তানভীর রায়হান।
গল্প : দাঁড় কাক।

Also Read : 
bengali upanyas pdf free download
indian bangla book pdf free download
bangla uponnash online reading
bangla uponyas




[এক]
রিনি আতিককে শুরুতেই বলেছিলো এভাবে আসার প্রয়োজন নেই। আতিক রিনির কোনো কথা শুনলে তো! চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথের দূরত্ব কি মুখের কথা? এতটা পথ ড্রাইভ করে আসার কি কোনো প্রয়োজন ছিলো? সারাক্ষণ খালি এ্যাডভেঞ্চার, আর এ্যাডভেঞ্চার। আতিক বলেছিলো, সন্ধ্যার আগে ওরা ঢাকায় পৌঁছে যাবে। এখন কি হলো? রাস্তায় কয়েক জায়গায় জ্যামে পড়ায় এখন চারিদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। সামনে আবারও জ্যাম। আল্লাহ্ই জানেন, ঢাকায় কখন পৌঁছাবে!
আতিকের চাকরীর সুবাদে রিনি চট্টগ্রামে থাকে। বাবার বাড়ি ঢাকায়। আতিক একটা কাজে ঢাকায় যাবে, সেই সুযোগে রিনিও সাথে যাচ্ছে। দুটো দিন বাবার বাড়িতে কাটিয়ে দেয়া যাবে।
“এই শুনছো! অন্ধকার হয়ে এলো তো। আর কতক্ষণ?”
বুঝতে পারছি না! ঈদের সময় ছাড়া এত জ্যাম কখনও দেখিনি।
“তাহলে এখন কি করবে?”
সামনে একটা শর্টকাট আছে বলে জানি। বড় বাসগুলো ওই রাস্তায় ঢোকে না। দেখি ওই শর্টকাট দিয়ে ট্রাই করবো।
আরেকটু সামনে এগোতেই হেডলাইটের আলোয় বামে একটা সরু রাস্তা চোখে পড়লো আতিকের। পেছনে অনবরত অন্যান্য গাড়ির হর্ন পেয়ে সাত-পাঁচ না ভেবে সেই রাস্তায় গাড়ি নামিয়ে দিলো আতিক। রাস্তাটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। চারপাশে জঙ্গলা গাছ-গাছালি ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ছে না।
“কি হলো! এই রাস্তায় তো একটা লাইট পোস্টও নেই। তুমি এই রাস্তা চিনো তো?”
হুম! অনেকদিন আগে একবার এই রাস্তা দিয়ে গিয়েছিলাম! আমতা আমতা করে বলে উঠে আতিক।
আতিক নিজেও নিশ্চিত নয়, এটা সেই রাস্তাটাই কিনা! এর আগে একবার দিনের বেলায় গিয়েছে। তখন রাস্তাটা এমন জঙ্গলা প্রকৃতির ছিলো না।




Bangla e book


“এ্যাই! এ্যাই! সামনে তাকাও!”
তীব্র গলায় চিৎকার দিয়ে ওঠে রিনি।
হেডলাইটের আলোয় রাস্তার মাঝখানে কি যেন একটা দেখা দিয়ে মিলিয়ে গেলো। ঘটনার আকস্মিকতায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে আরেকটু হলে জঙ্গলার ভেতর গাড়ি নিয়ে ঢুকে যেতো আতিক।
“স্টপ শাউটিং, রিনি! ইউ আর গেটিং অন মাই নার্ভস!” গাড়ি থামিয়ে রিনির দিকে ফিরে বলে ওঠে আতিক।
তুমি দেখে চালাবে না? উল্টাপাল্টা রাস্তায় গাড়ি নিয়ে আসবে, আর আমি শাউট করবো না? তুমি এখানে গাড়ি থামালে কেন?”
“দেখতে হবে না, ওটা কি ছিলো?”
না, না, কোনো দরকার নেই। এরকম অন্ধকার রাস্তাতেই তো গলা কেটে ডাকাতি করা হয়। তুমি ইঞ্জিন স্টার্ট দাও।
আতিক কথা না বাড়িয়ে চাবি ঘুরিয়ে ইঞ্জিন চালু করতেই ওদের গাড়ির পেছনে কিছু একটা এসে ধাক্কা দিলো। আতিক ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। মনে হচ্ছে আরেকটা গাড়ি। হেডলাইট অফ করে রেখেছে। এই অন্ধকারে হেডলাইট অফ করে ড্রাইভ করছে কিভাবে?
“আমি বলেছিলাম না? এখন হলো তো। আজ ডাকাতের হাতে বুঝি জানটা খোয়াতে হবে।”
আহ! তুমি চুপ করো তো। আমি দেখছি।
“এই যে ভাই, আমাদের গাড়ির পেছনে ধাক্কা দিলেন কেন? আর এই অন্ধকারে হেডলাইট না জ্বালিয়ে ড্রাইভ করছেন কিভাবে?” জানালা দিয়ে মাথা বের করে পেছনে তাকিয়ে আতিক চিৎকার দিয়ে বলে ওঠে।
পেছনের গাড়ি থেকে কোনো জবাব আসে না। তবে গাড়িটা একটু পিছিয়ে গিয়ে আবারও ফিরে এসে ধাক্কা মারে।
“এই যে! এই! এই! কি, হচ্ছে কি এসব?”
তুমি চলো তো। ওই গাড়িটা ভালো কোনো মানুষ ড্রাইভ করছে না। নিশ্চয়ই ডাকাত দলের গাড়ি। তুমি চলো তো।


রিনি সাথে থাকায় আতিক কোনো রিস্ক নিতে মন থেকে সায় পায় না। আতিক ইঞ্জিন চালু করে সামনে এগোতে থাকে।
“আতিক! ওই গাড়িটা আমাদের পেছন পেছন ফলো করে..”
রিনি তার মুখের কথা শেষ করার আগেই ওরা তীব্র একটা ঝাঁকুনি অনুভব করলো। এবার চলন্ত গাড়িতে ধাক্কা দেয়ায়, ধাক্কাটা আগের চাইতে অনেক জোরে অনুভূত হয়েছে।
“আতিক, তুমি স্পিড বাড়াও। ওরা যেন আমাদের ধরতে না পারে।”
আতিক গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দেয়। এ মুহূর্তে গাড়ির গতি প্রায় আশি কিলোমিটার। তবু খুব একটা লাভ হয় না। একটু পর আবার ঝাঁকি!
রিনি চিৎকার দিয়ে ওঠে। আতিক কোনো রকমে তাল সামলায়। গাড়িটা এবার ওদের বামে চলে এসেছে। রিনির দিকটায়। রিনি সমানে চেঁচিয়ে যাচ্ছে।
আতিক ঘাড় ঘুরিয়ে বামে তাকায়। ওপাশের গাড়ির ড্রাইভিং সিটে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। তাহলে গাড়িটা চালাচ্ছে কে? ভাবতে ভাবতেই আবার পাশ থেকে প্রচন্ড জোরে আরেকটা ধাক্কা।
এবার আতিকের করার কিছুই ছিলো না। ধাক্কা খেয়ে ওদের গাড়িটা রাস্তা থেকে পড়ে উল্টে গেলো। চোখের সামনে সবকিছু অন্ধকার হয়ে যাবার আগ মুহূর্তে আতিক অনুভব করলো ওর ভেতর কেমন যেন একটা তোলপাড় ঘটে যাচ্ছে। এরপর আর কিছু মনে নেই।
[দুই]
“স্যার! ও স্যার!”
আতিক চোখ মেলে তাকায়। নিজেকে রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় আবিষ্কার করে যারপরনাই অবাক হয়। চোখের সামনে লুঙি পরিহিত হালকা পাতলা গড়নের একজন লোক বসে আছে। আতিক চোখ মেলতেই লোকটার পান খাওয়া দাঁতগুলো বেরিয়ে পড়ে।
“যাক! আল্লাহর দরবারে লাখ লাখ শোকর। দুইজনেই জানে বাঁইচ্যা গেছেন।”
রিনি! আমার স্ত্রী কোথায়?
“ওই যে! ম্যাডামও সুস্থ্য আছেন।” আঙুল তুলে একটা গাছের নিচে কয়েকজন গ্রাম্য মহিলার সঙ্গে বসে থাকা রিনিকে দেখিয়ে দেয় লোকটা।
আতিক উঠে দাঁড়ায়। শরীরে কোথাও কোনো ব্যথা অনুভব করছে না। তেমন কিছু হয়নি বলেই মনে হচ্ছে।
“স্যার, আপনেরা এই রাস্তা দিয়া আইতে গেলেন ক্যান? এই রাস্তাডা তো ভালো না। রাইতের বেলায় চোর ডাকাইতেরাও ডরে এই রাস্তায় আহে না।”
কেন? কাল রাতে তো আমাদের একটা গাড়ি..!
“হ, জানি। রাইতের বেলায় এই রাস্তায় কেউ আইলে এইডাই হয়। একটা গাড়ি আইসা ভয় দেখায়। ক্ষতি করে।”
ব্যাপারটা তাহলে আপনারা জানেন! এমন করে কেন বলুন তো? কার গাড়ি ওটা? পুলিশ ধরে না কেন?
“ভূতের গাড়ি পুলিশ ধরবো ক্যামনে?” পান খাওয়া দাঁতগুলো বের করে হেসে উঠে লোকটা।
ভূত?
“ঘটনাটা তাইলে খুইল্লা বলি। শুনেন স্যার। অনেকদিন আগে আপনের মত এক সায়েব হের বউরে মারনের লাইগা গাড়ি নিয়া এই রাস্তা দিয়া যাইতেছিলো। অনেক ইসপ্রিডে চালাইতেছিলো। হ্যায় চাইছিলো এ্যাক্সিডেন কইরা বউরে মাইরা ফালাইবো। আর এ্যাক্সিডেন হওনের আগে গাড়ি থাইক্যা লাফ দিয়া নিজের জান বাঁচাইবো। কিন্তু, খোদার কি লীলা দ্যাখেন। এ্যাক্সিডেনের আগে হ্যায় নামতে পারে নাই। গাড়ির দরজা জাম হইয়া গেছিলো। পরে এ্যাক্সিডেন হইছে ঠিকই, কিন্তু হের বউ না মইরা হ্যায় নিজেই মরছে। পাপীরে আল্লাহতায়ালা নিজ হাতে শাস্তি দিছে।”
তাহলে এখন সমস্যা কোথায়?
“এ্যাক্সিডেনের কয়দিন পর থেইকা এই রাস্তায় রাইতের বেলা কেউ গেলে হেই গাড়িটা আইসা ধাওয়া করে। মাইনষে কয়, বউরে মারতে পারে নাই বইলা হের আত্মা মাইনষের বউয়ের ক্ষতি করোনের লাইগা ঘুইরা বেড়ায়। তাই এই রাস্তায় রাইতের বেলায় কেউ চলাচল করে না।”
আতিক কিছু বলে না।
“আপনের উল্টা গাড়ি আমরা সিধা কইরা রাস্তায় তুইলা দিছি। আপনে ইস্টাট দিয়া দ্যাখেন, চলে কিনা।”
আতিক গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে ইঞ্জিন স্টার্ট দেয়। সব ঠিক আছে বলেই মনে হচ্ছে।



ভয়ংকর পথ  | Bangla e book



“স্যারে কি নিজে চালাইয়া যাইতে পারবেন?”
হ্যাঁ, পারবো। আমার তেমন কিছু হয়নি। কি বলে যে আপনাদের ধন্যবাদ দেবো। আতিক পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে।
“স্যার! স্যার! এই কাম ভুলেও কইরেন না। আমরা কেউ ট্যাকার জন্য আপনেগোরে সাহাইয্য করি নাই।”
আতিক বুঝতে পেরে টাকা বের না করে মানিব্যাগ থেকে নিজের একটা কার্ড বের করে দেয়।
“কখনও কোন প্রয়োজন হলে নির্দ্বিধায় চলে আসবেন। রিনিকে একটু ডেকে দিন না।”
পুরোটা পথ আতিক আর রিনির মধ্যে কোনো কথা হলো না। রিনি এখনও গতরাতের ভয়ানক অভিজ্ঞতা সামলে উঠতে পারেনি।
[তিন]
বাবার বাড়িতে পৌঁছে রিনি দৌড়ে গিয়ে মায়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাউমাউ কান্না জুড়ে দিলো। কান্নার দমকে রিনির পিঠটা ফুলে ফুলে উঠছে। আতিক তার শ্বশুর-শাশুড়িকে কোনো সালাম না দিয়ে পাশ কাটিয়ে রিনির বেডরুমে গিয়ে ঢুকলো।
আতিক জানে না, ওর কি হয়েছে! ওর মাথায় বার বার শুধু একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে। তা হলো, রিনি নামের ওই হারামজাদীকে মেরে ফেলতে হবে। আতিক বাথরুমে ঢুকে ভেতর থেকে দরজাটা লাগিয়ে দেয়।
আতিকের শেভের জন্য বেসিনের ওপর চকচকে নতুন ব্লেড রাখা আছে। আতিক ব্লেডটা নিয়ে পকেটে পোরে। সুযোগমত রিনির গলায় ঠিকভাবে একটা পোঁচ দিতে পারলেই কেল্লাফতে। রক্তের তৃষ্ণায় আতিকের চোখ দুটো চক চক করে ওঠে।
(সমাপ্ত)





Loading...
SHARE

Author: verified_user