Friday

Bengali Detective Story Khun | Bengali Detective Books PDF Free Download

SHARE

Bengali Detective Story  Khun | Bengali Detective Books PDF Free Download



Bengali Detective Story  Khun | Bengali Detective Books PDF Free Download

খুন -AhNaaF Ishaan



-হুয়াট!! খুন?.... কোথায়?.... কিন্তু আপনি কে?
লাইনটা কেটে গেলো। ইন্সপেক্টর রাতুল আতঙ্কিত হয়ে তার সহকর্মী দের ডাকলেন।
-আমাদের এখনি এক জায়গায় যেতে হবে।এক লোক ফোন করে বললো ৫মিনিটের মধ্যে নাকি একজন খুন হবে। আর ঐ লাশটা যেনো সিটি হসপিটালে পাঠানো হয়।
-স্যার এমন ফালতু ফোন অনেক আসে। এইসব ভুয়া লোক ফোন দেয়।
-না, ব্যাপার টা কেমন অদ্ভুত লাগতেছে আমার। কিছু তো একটা আছে। চলো আমার সাথে।
ইনস্পেক্টর রাতুল যখন তার বাহিনী নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালেন, ততক্ষণে খুন টা হয়ে গেছে।ইনস্পেক্টরের চোখ কপালে উঠে যাওয়ার মতো অবস্থা।এতই অবাক হয়েছেন। রক্তাক্ত লাশটা পড়ে আছে। এমন দৃশ্য তার কাছে নতুন কিছুনা। তার অবাক হওয়ার কারণ ভিন্ন।
লাশের পাশে খুনিও বসে আছে। বেকুবের মতো লাশের দিকে তাকিয়ে আছে, ডান হাতে পিস্তল। পুলিশ কে দেখেও পালিয়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই তার মাঝে।
ইনস্পেক্টর কিলার কে চিনতে পারলেন।
Bengali Detective Story  Khun | Bengali Detective Books PDF Free Download
-আরে এতো সিরিয়াল কিলার জগলো!!
যে কিলার বেহিসাবি খুন করেছে অথচ পুলিশ তার নাগাল পর্যন্ত পায় নি সেই খুনি আজকে তার সামনে। কয়েকবছর ধরে পুলিশ প্রশাসন জগলোকে খুঁজছে। কিন্তু অনেক ধূর্ত দুর্ধর্ষ এই সিরিয়াল কিলার কে কখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। সেই খুনিই কিনা আজকে খুন করে লাশের পাশে বসে আছে। পুলিশের জন্য অপেক্ষা করছিল নাকি? তাছাড়া ফোনে বলা হয়েছিল ৫মিনিটের মধ্যেই খুন হবে। তাদের আসতে পুরো ২০মিনিট লেগে গেলো অথচ খুনি পালায়নি।
যাইহোক ইনস্পেক্টর রাতুল বেশ খুশি, এত ভয়ঙ্কর একটা খুনি কে তিনি ধরতে পারলেন এই সুযোগে হয়তো তার প্রমোশন টাও হয়ে যায়।
থানায় নিয়ে আটকে রাখা হল জগলো কে।
ইনস্পেক্টর এর মনে এখনো অনেক প্রশ্ন, তাই উনি জগলোর সাথে কথা বলতে গেলেন।
- ব্যাপার টা কেমন ঘোলাটে লাগছে। তোর মতো একটা ভয়ঙ্কর খুনি খুন করার পর লাশের পাশে বসে থাকার কথা না। কাহিনী টা কি? আর এই লোকটি কে খুন করতে কে তোকে টাকা দিয়েছে বল।
-এই ছোট জীবনে টাকার বিনিময়ে অনেক খুন করেছি। সঠিক সংখ্যা টি বলা সম্ভব না। তবে এইবারের মতো আজিব ব্যাপার এর আগে আর দেখিনি। ভাই ভাই কে, ছেলে বাবা কে, স্বামী স্ত্রী কে টাকার জন্য খুন করায়। এমন অনেক কেস আমার হাতে এসেছে। কিন্তু এইবারের টা সম্পূর্ণ আলাদা।
-প্রথম থেকে বল এইবার কি হয়েছিল?
-৩ঘন্টা আগে একটা ফোন আসে। আমার মোবাইলে একটা ছবি mms করে বলে এই লোকটি কে খুন করতে হবে। আমার একাউন্টে টাকাও দিয়ে দেয়। জায়গার নাম ও সময় সব বলে দেয়। নির্দিষ্ট সময়ে আমি গিয়ে পৌঁছাই। ছবির সাথে মিলিয়ে নিয়ে লোকটির দিকে অস্ত্র তাক করি। 
কিন্তু আমায় অবাক করে দিলো! এই প্রথম আমি কারো চোখে মৃত্যুর ভয় দেখতে পেলাম না। লোকটির মুখ দেখে মনে হল মরে যাবে এই জন্য সে খুশি।Bengali Detective Story  Khun
আমি আর সময় নষ্ট করলাম না। গুলি চালালাম। সায়লেন্সার লাগানো থাকে আমার পিস্তলে। তাই আশেপাশের কেউ শব্দ শুনেনি। কাজ শেষ হতেই আমি ঐ নাম্বারে কল দিলাম জানাতে যে উনার কাজ হয়ে গেছে।
জীবনের প্রথম আমি এত আশ্চর্য হলাম!
কল দিতেই লাশের পকেটে মোবাইল টা বেজে উঠলো। মোবাইল বের করে নিশ্চিত হলাম ঐ নাম্বার টাই। যেটা থেকে আমায় খুন করার কথা বলে টাকা দিয়েছিল।আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এর কারণ কি, না জেনে শান্তিও পাচ্ছিলাম না। তাই ওর মোবাইল টা ঘাটছিলাম কিছু পাই কিনা দেখার জন্য। পরে মোবাইল থেকে আমার নাম্বার ডিলিট দিয়ে চলে যেতাম। বুঝতে পারিনি পুলিশ এইভাবে হুট করে চলে যাবে।
-ওহ মাই গড। আমার জীবনেও এমন অদ্ভুত কেস আর দেখিনি। আমাকে এখনি সিটি হসপিটালে যেতে হবে।

Bengali Detective Books PDF Free Download

#২
ডাক্তার রাকিবুল হাসান তার রুমে গম্ভীর ভাবে বসে আছেন। তখন ইনস্পেক্টর গিয়ে হাজির হন। ডাক্তারের হাতে একটা কাগজ দেখে ইনস্পেক্টর বললেন
-কোনো ইম্পরট্যান্ট কাজ করছেন নাকি?
-ইনস্পেক্টর সাহেব, এটা একটি চিঠি। নেন পড়ে দেখেন।
ইনস্পেক্টর রাতুল চিঠিটা হাতে নিয়ে পড়তে লাগলেন.
"""ডাক্তার সাহেব,
আপনার কাছে আপনাদের নিয়ম ই সব। মানুষের ভালবাসার অনুভূতি টা বুঝতে পারেন না। তাই আপনাদের নিয়মেই সবকিছু হবে।
১০বছরের প্রেম ছিল আমাদের, তারপর বিয়ে। মাত্র ১বছরের সংসার জীবনটা আমাদের কাছে ছিল স্বপ্নের মতো। স্বপ্ন গুলো খুব অল্প সময়ের জন্যই হয়ে থাকে।
তাই আমাদের সাথে এমন হল। ওর দুটি কিডনিই ডেমেজ হয়ে গেলো আর কোথাও কিডনি না পাওয়া। সবি আমাদের দুর্ভাগ্যের কারণ।
কিন্তু আমি ওর সামান্য কষ্ট সহ্য করতে পারি না। আজ কিভাবে তাকে চোখের সামনে চলে যেতে দেখবো?
আপনাকে বললাম আমি কিডনি দিতে রাজি আছি। আর আপনি বললেন, জীবিত মানুষের থেকে কিডনি নেয়া আপনাদের নিয়মে নেই।
কিন্তু মৃত্যু মানুষ তো তার দুটি কিডনিই দান করতে পারে।
তাই এখন আমার লাশটাই আপনার কাছে আসবে।
আমার স্ত্রীকে কথা দিয়েছিলাম, আমি বেঁচে থাকতে ওর কিছু হতে দিবো না। আমি আমার প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গিনি।
আমার স্ত্রীর অপারেশন যেনো ঠিক মতো হয়। আর আমার মৃত্যুর আসল কারণ টা যেনো সারা দুনিয়ার কাছে অজানা থাকে।""""
চিঠি পড়ে ইনস্পেক্টর অবাক হয়ে তাকালেন ডাক্তারের দিকে।
ডাক্তার বললেন।
-চিঠিটা পাওয়ার ৫মিনিট পরেই লাশটা এসে পৌঁছায়।
- উনার স্ত্রীর কি হয়েছে?
- উনার স্ত্রীর দুটি কিডনিই ডেমেজ হয়ে গেছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপারেশন না করলে বাঁচানো সম্ভব না। আর কোথাও কিডনি পাওয়া যাচ্ছিলো না। এটা শুনার পর উনি বললেন উনার কিডনি নিতে। কিন্তু এটা আমি একজন ডাক্তার হয়ে কিভাবে করতে পারি বলো?
তাই লোক টি মরে গিয়ে হলেও নিজের স্ত্রীকে বাঁচালো।
- অদ্ভুত লোক বটে! তবে একটা কাজ হল। এই লোকটির জন্য ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলার জগলো কে ধরতে পেরেছি।
-এই ব্যাপারটাই আমায় ভাবাচ্ছে। লোকটি মরতে চায় তাইলে আত্মহত্যা করলেই পারতো। খুনি ভাড়া করে নিজেকে খুন করালো কেন?
-এটা সিম্পল একটা ব্যাপার। না বুঝার মতো কি আছে!
লোকটি তার স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য আত্মহত্যা করেছে। এই কথাটি তার স্ত্রী সুস্থ হওয়ার পর শুনলে নিজেকে অপরাধী ভেবে যাবে সারাজীবন। তাই খুন বলে ব্যাপার টা চালিয়ে নিতে চাইছে।
- ইউ আর রাইট ইনস্পেক্টর।
SHARE

Author: verified_user