Thursday

Bangla Short Story ERA | Era Khondokaar

SHARE

Bangla Short Story ERA | Era Khondokaar


Bangla Short Story ERA | Era Khondokaar


আমি যখন ইরাকে বলেছিলাম, ইরা আমার ডিভোর্স চাই। ইরা হাসতে হাসতে বলেছিল , মজা করছো,তাই না? আমি কর্কশ ভাষায় বলেছিলাম , এতোদিন যা হয়েছে সেগুলো মজা ছিল এতোদিনে সিরিয়াস হয়েছি। ইরার নিষ্পাপ হাসিটা নিমিষেই মিলিয়ে গেল।কথাগুলো শেষ করেই বেড রুমে চলে যাই। বিছানায় শরীরটাকে এলিয়ে দিয়েছি। আমার হাত ধরে যেদিন ইরা ঘর ছেড়েছিল সেদিন থেকে আমি ই ওর পৃথিবী। আমি ছেড়ে গেলে ওর যে আর কোন আশ্রয় থাকবে না সেটা আমি জানি।কিন্তু তাতে আমার কি!! এতোদিন তো অনেক ভেবেছি। এখন থেকে নিজের জন্য ভাববো। মেঘা মডার্ন মেয়ে। আমাকে ইরার থেকে অনেক ভাল রাখবে।মেঘা আমার কলিগ। মেয়েটার মধ্যে কি যেন একটা আছে। সবাইকে ওর দিকে টানে। আমিও সেই টান উপেক্ষা করতে পারি নি।এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি জানি না।Bangla Short Story
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি ইরা সেই জায়গায় ই বসে আছে। চোখ দুটো লাল। আমি ভেবেছিলাম ইরা অনেক আকুতি মিনতি করবে। ডিভোর্স এক রকম জোর করেই নিতে হবে। কিন্তু না। ইরা আমাকে বললো , ফারাবি ডিভোর্স পেপারটা নিয়ে এসো। আমি সাইন করে দেব।অবাক হলাম কিন্তু পরক্ষণেই মনে হলো আমি তো এটাই চাই। অফিস থেকে ফেরার সময় ডিভোর্স পেপারটা নিয়ে আসলাম। খাবার টেবিলে সামনা সামনি বসে খাচ্ছি আমরা।যদিও খাবারটা শুধু আমার পাকস্থলী পর্যন্ত ই যাচ্ছে। খাওয়া শেষে ইরার পাশে ডিভোর্স পেপারটা রেখে বেড রুমে চলে আসলাম। গত কাল থেকে ইরা এই রুমে হয়তো আসেই নি। আজও আসলো না।
ঘুমা থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে বেরিয়ে গেলাম।রাতে যখন ফিরলাম তখন পাশের ফ্ল্যাটের ভাবী আমাকে চাবি দিয়ে বললো , ভাবী বাসায় নেই। কোথায় গেছে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন বোধ করলাম না। দরজা খুলে লাইট দিয়ে দেখি পুরো রুম বেলুন আর ফুল দিয়ে সাজানো।বড় বড় অক্ষরে লেখা "HAPPY MARRIAGE ANNIVERSARY" ও আজ আমাদের বিয়ের পাচ বছর পূর্ণ হল হয়েছে।খাবার টেবিলে সুন্দর একটা কেক পাশে লাল ফিতে দিয়ে বাধা একটা কাগজ আর raping পেপারে মোড়ানো একটা গিফট। আমি জানি ইরা চলে গেছে। আর আসবে না।রুমে গিয়ে দেখলাম আমার খাটটা সুন্দর করে সাজানো। আসলে পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম তো বাসর টা ঠিক ঠিক হয়েছিল না। তাই আমরা ঠিক করেছিলাম আমি চাকরি পাওয়ার পর প্রতি বছর আমাদের এনিভারসারি তে আমাদের বাসর হবে। গত চার বারের মতো এবারও সাজানো হয়েছে। বেড সাইডে তাকিয়েই বুকের মধ্যে কেমন একটা শূন্যতা অনুভব করলাম।Bangla Short Story ঐখানে পাশাপাশি ফ্রেমে আমার আর ইরার ছবি ছিল। আমার ছবিটা জায়গা মতোই আছে।কিন্তু ইরারটা নেই। ফাকা ফ্রেম দেখেই কেমন একটা লাগলো।ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে বসলাম। লাল ফিতে দিয়ে বাধা কাগজটা খুলে দেখলাম ডিভোর্স পেপার। ইরা সাইন করে দিয়েছে। পাশের গিফ্ট টা খুললাম। আরে! সেই ঘড়িটা। ওর মনে ছিল। দুই মাস আগে এক শপিং মলে ঘরিটা দেখে পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু টাকা ছিল না কাছে তাই কিনেছিলাম না।পরে আর মনেও ছিল না। টেবিলে আমার পছন্দের অনেক খাবার কিন্তু কিছুই গলা দিয়ে নামছে না। হঠাৎ করে ফোনটা বেজজে উঠলো। মেঘা ফোন করেছে।ফোন ধরতেই ও পাশ থেকে
মেঘাঃ তোমার বউ সাইন করেছে?
আমিঃ হ্যা। সাইন করে দিছে।
মেঘাঃ তাহলে কালই চলে আসি।
আমিঃ হ্যা। আসো।
বলে ফোনটা কেটে দিলাম। যেখানে আমার খুব খুশি থাকার কথা সেখানে আমার কেমন জানি খারাপ লাগছে। বুকের বাম পাশে ব্যাথা অনুভব করছি। খাওয়া হবে না। সব কিছু ফ্রিজে রাখলাম। ফ্রিজটা ইরার পছন্দের। লাল রং এর। ফ্রিজ কেন এই সংসারের সব কিছু ইরার পছন্দের। এইসব ভাবতে ভাবতে সুয়ে পরলাম। ফুলের গন্ধে ঘর ভরে গেছে। ঘার থেকে এতো বড় বোঝা নেমে গেছে আমার শান্তির ঘুম হওয়া উচিত কিন্তু আমার তো ঘুম ই আসছে না। পাচটা বছর আমার পাশে যে মানুষটা ঘুমিয়েছে সেই মানুষটা আজ এই বাড়িতেই নেই। নাহ ঘুমাতে পারছি না। উঠে লাইট অন করে বেড সাইডের ড্রয়ারে ঘুমের ওষুধ খোজা শুরু করলাম। পেলাম না কিন্তু ইরার ডায়রিটা পেলাম।ইরা বিয়ের আগে থেকেই ডায়রি লিখতো আমি জানতাম।কিন্তু কি লিখতো জানি না, ইরাও কখনো বলে নি। Bangla Short Story ERA | Era Khondokaar
ডায়রিটা খুললাম ।প্রথম দুই পেজে যা লেখা তার মূল কথা হল, আমি একটা বদমেজাজি,রাগি, রুড, কর্কশ টাইপের মানুষ। আসলে ইউনিভারসিটিতে ওর সাথে আমার পরিচয়টাই এইভাবে। মেয়েটাকে যখন দেখলাম তখন ই কিছু না কিছু উল্টা পাল্টা কাজ করতে দেখতাম। আর সিনিয়র হওয়ায় ওকে শাসন করা আমার মৌলিক কর্তব্য ছিল। কিন্তু এই সবের মধ্যে কখন যে ভালবেেসে ফেললাম কেউ টের পেলাম না। আমি যখন ফাইনাল ইয়ারে আর ইরা থার্ড ইয়ারে তখন ইরার বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। আমরা আমাদের বাড়িতে জানাই কিন্তু কেউ রাজি হয় না। পড়া শেষ করেই আমি আর ইরা ঘর ছাড়ি। ঢাকা শহরে চলে আসি। প্রথমে যে কষ্টের দিনগুলো গেছে তার কথাও লেখা আছে। আমার চারকি প্রোমোশন সব লেখা। অতীতটা যেন সামনে এসে গেল। গত এক বছর হল আমি পাল্টে গেছি সেটাও লেখা। আমি আর ওর সাথে হরর মুভি দেখি না তাও লেখা।আমি মাঝরাতে বেলকনিতে কারো সাথে ফোনে কথা বলি সেটাও লিখেছে। ওর কতটা কষ্ট হয় সেটাও। দুই মাস আগে লিখেছে," আমার সংসারটা হয়তো শেষ হয়ে গেল।খুব শীঘ্রই ফারাবিকে মুক্ত করে দিতে হবে"। শেষ লেখাটা গত রাতের। Bangla Golpo Free Download

 লেখা" এর চেয়ে যদি ফারাবি আমার জীবনটা চাইতো তাহলে হয়তো দেওয়া সহজ হতো"। নাহ আর পড়তে পারছি না। সব কিছু ঝাপসা দেখছি। নিজের ওপর ঘৃণা হচ্ছে। যাকে এতো ওয়াদা এতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার সাথে এটা আমি করতে পারলাম!! নাহ, এটা সম্ভব না। মেঘা কে ফোন করলাম। বললাম," আমার পক্ষে আমার বউকে ছাড়া সম্ভব না।আমাকে ক্ষমা করো"। ফোন কেটে দিলাম। তারপর বেরিয়ে পরলাম ইরাকে খুজতে। এই শহরে আমাদের আপন কেউ নেই তাই ওকে কোথায় খুজবো জানি না। কিন্তু ওকে যে খুজে পেতেই হবে।
আজ দুই সপ্তাহ যাবত ইরাকে খুজছি।মেয়েটা এতো অভিমানী! কোথায় যে লুকিয়েছে পাচ্ছি ই না। থানায় একটা জিডি করেছি। একটা মেয়েকে পাওয়া গেছে দেখতে নাকি ইরার মতো। থানা থেকে ফোন করে দেখে আসতে বলেছে হাসপাতালে। গত এক সপ্তাহ কত লাশ ই যে দেখলাম। এটা তো জীবিত। দেখতে যাচ্ছি। জানি আমার ইরা না তাও যাচ্ছি। খুজে না পাওয়া পর্যন্ত হয়তো এভাবেই অচেনা মানুষদের ই দেখতে হবে।কিন্তু ওকে যে খুজে পেতেই হবে। তাই খুজছি। আজো খুজছি......
SHARE

Author: verified_user