Monday

Bangla Short Story | Bengali Short Story Books pdf Free Download

SHARE

Bangla Short Story | Bengali Short Story Books pdf Free Download 


Bangla Short Story | Bengali Short Story Books pdf Free Download

হাসিব ঘরে ঢুকতেই পাঁচ বছরের মাহি দৌড়ে আসল, "ছোট মামা আমার জন্য লাল গাড়ি এনেছ!"
"এই নাও তোমার লাল গাড়ি" হেসে হাসিব একটা প্যাকেট থেকে ছোট লাল খেলনা গাড়িটা বের করে ভাগ্নের হাতে দিল।
"ইয়াহু! কি সুন্দর আমার লাল গাড়ি! "এই বলে মাহি চিৎকার করে, তখনই গাড়ি নিয়ে বুও বুও বলে খেলতে লাগল। এই সময় মাহির বড় ভাই ফাহিম যে কিনা ক্লাস ফাইভে পড়ে সে আসল।
-ভাইয়া দেখ আমার লাল গাড়ি। মামা এনে দিয়েছে।
ফাহিম বলল, "বাহ! সুন্দর গাড়ি তো!"
দুই ভাই গাড়ি নিয়ে খেলতে লাগল। দেখেই বুঝা যাচ্ছে খেলনা গাড়িটা বেশ দাম দিয়ে কেনা হয়েছে। রেবেকা ছেলেদের দিকে তাকিয়ে দেখল দুই ভাই কত খুশি হয়ে খেলছে।
রেবেকা ছোট ভাই হাসিবের দিকে তাকিয়ে বলল, "কেন শুধু শুধু টাকা নষ্ট করিস! তোর কত কষ্টের টাকা!"
-থাক না আপা। ওরা কত খুশি হয়েছে। ওদের খুশি দেখলেও খুব ভালো লাগে। ওদের তো তেমন কিছুই কিনে দিতে পারি না।
তারপর চেহারাটা করুণ করে বোনের দিকে তাকিয়ে বলল, "আপা বেশ খিদে পেয়েছে। আমাকে একটা ডিম ভেজে দিও। গরম গরম ভাত দিয়ে খাব।"
রেবেকা ব্যস্ত হয়ে বলল, "দিচ্ছি। তুই তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে আয়।"
রেবেকার থেকে বয়সে অনেক ছোট তার এই ভাইটা। তারা দুই ভাই বোন। বাবা মা যখন বাস দুর্ঘটনায় মারা যান, তখন তার ভাইটি বেশ ছোট ছিল। বয়স বার বা তের ছিল। এমন কোন বড় অভিভাবক ছিল না যাদের সাথে হাসিবকে রাখা যাবে। তখন রেবেকার স্বামী সালাম নিজে যেয়ে হাসিবকে নিয়ে এসেছে।হাসিবকে নিয়ে আসার পর রেবেকা প্রথমে খুব অবাক হয়। কিছুক্ষণ সালামের দিকে তাকিয়ে ছিল। তারপর ভাইকে ধরে সেকি কান্না! ভাইও বোনকে ধরে কান্না। তা দেখে সালামের চোখেও পানি এসে গিয়েছিল। এই ভাইটিকে ধরতে গেলে রেবেকাই মানুষ করেছে। তাদের মা বেশিরভাগ সময় অসুস্থ থাকতেন। ছোট হাসিবের দেখাশোনা করতে পারতেন না।
সালাম মানুষটি বেশ ভালো। সালাম রেবেকার সাথে পরামর্শ করে রেবেকাদের গ্রামের বাড়িতে যতটুকু সম্পত্তি ছিল তা বিক্রি করে ব্যাংকে সেই বিক্রির টাকাগুলো রেখে দিয়েছে। গ্রামে তো তাদের আর কেউ নেই যে, তাদের সম্পত্তিগুলো দেখাশোনা করে রাখতে পারবে। তাই এই ব্যবস্থা।
হাসিব মাস্টার্স শেষ করার অনেক আগে থেকেই চাকরির জন্য চেষ্টা করছিল। টিউশনি সে অনেক আগে থেকে করে আসছে। আর পায়েলের কথা তো আপা জানে। আপা হাসিবকে জিজ্ঞেস করেছিল যে পায়েলের বাসায় কথা বলবে কিনা। কিন্তু হাসিব বলেছে আগে সে নিজেকে গুছিয়ে নিবে। তারপর বিয়ে। আপা পায়েলকে বেশ পছন্দ করে। পছন্দ করার মতই একটা মেয়ে। বেশ শান্ত আর অমায়িক। পায়েল হাসিবের কথায় রাজি হয়েছে। মাস্টার্স এ উঠে পায়েলের সাথে তার পরিচয়। তারপর আস্তে আস্তে দুজনের মধ্যে ভালোবাসা গড়ে উঠেছে।
টিউশনির কিছু টাকা জমিয়ে রেখেছিল। ছোট ভাগ্নেটা তার কাছে অনেকদিন আগে চুপে চুপে একটা খেলনা লাল গাড়ির আবদার করেছিল। সেই টাকা দিয়ে আজ এই খেলনাটা কিনে নিয়ে এসেছে। ভাগ্নেরা তার মামাকে ভীষণ পছন্দ করে। তারা মামা বলতে অজ্ঞান। মামা যা করে তাই দু ভাগ্নের ভালো লাগে। এক কথায় মামা তাদের আদর্শ।
সালামও হাসিবকে নিজের ভাই এর মত আদর করে। হাসিব ডাইনিং টেবিলে এসে দেখল দুলাভাই তার জন্য খাবার সামনে নিয়ে বসে আছে। একসাথে খাবে বলে। তাকে দেখে একটা হাসি দিল। হাসিব সালামকে দুলাভাই না ডেকে সালাম ভাই ডাকে। এতে বলে বেশি আপন আপন লাগে।
হাসিব বসতে বসতে বলল, " সালাম ভাই, আপনি এত দেরি করে খাবেন না। আপনার ডায়াবেটিস। সময় মত খাবেন।"
-আরে একদিন দুদিন দেরি করে খেলে কিছু হবে না। তোমার সাথে বসে খাওয়া হয় না অনেকদিন।
-আপা, ফাহিম আর মাহি কি খেয়েছে?
-হু, ওরা খেয়েছে। এখন ঐ ঘরে তোর আনা খেলনা নিয়ে খেলছে।
রেবেকাও চেয়ার টেনে বসল।
সালাম ভাত মাখতে মাখতে বলল, " হাসিব আমি বলি কি, তুমি তো অনেক দিন ধরে চাকরির চেষ্টা করছ। হচ্ছে না। তুমি যদি ব্যবসা করতে?"
-ব্যবসা! সেটা তো চিন্তা করেনি।
-ব্যবসা করলে আমাকে বলতে পার। আমি ব্যবসা সংক্রান্ত খোঁজ খবর নিয়ে তোমাকে বলতে পারব। আর তোমাদের টাকা তো ব্যাংকে জমা আছে। তোমার আপা বলছে, অর্ধেক তুলে তোমাকে ব্যবসা করতে। বাকি অর্ধেক তোমার ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিতে।
হাসিব অবাক হয়ে বলল, "আমার ভবিষ্যতের জন্য! অর্ধেক টাকা তো আপার!"
রেবেকা বলল, "আমার লাগবে না। তোর দুলাভাই আর আমি মিলে ডিসিশন নিয়েছি। সব টাকা তোর।"
-তাই বলে সব! আপার টাকায় তো ফাহিম আর মাহিরও হক আছে।
সালাম বলল, " ওগুলো নিয়ে তোমার চিন্তা করতে হবে না। তুমি ব্যবসা করবে কিনা! চিন্তা করে আমাকে বলবে। তোমাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে দেখলে আমাদের বেশ শান্তি লাগবে।"
- ঠিক আছে। কিছুদিন চাকরির চেষ্টা করি। না পেলে ব্যবসায় নেমে যাব।
এই সময় ফাহিম ডেকে বলল, " মামা, তুমি এখনই ঘুমাতে যাবে না। আমাদের সাথে কিছুক্ষণ খেলবে।"
মাহি হাসিবকে বলল, "আর তুমি কিন্তু একবার আমার ঘোড়া হবে।"
হাসিব হেসে বলল, " ঠিক আছে হব।"
- এখন খেয়েছে। এখন ঘোড়া হবে কি!
-থাক আপা। আমার কোন সমস্যা হবে না।
এই বলে হাসিব ভাগ্নেদের সাথে চলে গেল।
তার একদিন পর। রাতে হাসিব বাসায় ফিরছে। এক জায়গায় কেমন চাপা একটা গলির মত। গলির মধ্যে ঢুকে হাসিব দেখল কারেন্ট নেই। সে দ্রুত হাটতে লাগল। অন্যান্য দিন একটা দুটা মানুষ গলিতে হেঁটে যায়। আজ কেউ নেই। হঠাৎ দেখে দুজন লোক সামনে থেকে তার দিকে এগিয়ে আসছে।হাসিব ঝামেলার গন্ধ পায়। গলি থেকে বের হবার জন্য ঘুরে যায়। দেখে সেদিক থেকেও আর একজন আসতে থাকে। কাছে এসেই বলতে থাকে টাকা পয়সা আর দামি জিনিস যা আছে বের করে দিতে।হাসিবের পকেটে আজ দুই জায়গায় থেকে পাওয়া টিউশনির টাকাগুলো ছিল। সে কথা না বলে একটু সময় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল।
এই সময় তিন ছিনতাইকারির একজন বলল, "ঐ হালা কথা কইয়া সময় নষ্ট করতাছস কেন। জলদি কর।"
এই সময় কারেন্ট চলে আসল। হাসিব সামনে দাড়ান লোকটার চেহারা দেখল। প্রায়ই সময়ে একে তাদের পাড়ায় দেখেছে।
"ওস্তাদ, এরে আমি চিনি। আমাগো পাড়ার। আমারে চিন্না ফালাইছে!"
-ওস্তাদের নির্বিকার কন্ঠ শোনা গেল, " তেইলে আর ঝামেলা রাখিস না। ফালাইয়ে দে।"
এই কথা শুনে হাসিবের সারা শরীরে একটা ভয়ের শিহরন বয়ে গেল। সামনে দাঁড়ান লোকটা একটা ধারাল ছুরি হাসিবের পেটে ঢুকিয়ে দিল। সেই সাথে হাসিবের মুখটা আরেকজন এসে চেপে ধরল। শুধু একবার নয়। কয়েকবার ছুরিটা পেটে ঢুকাল আর বের করল। তারপর হাসিবকে সেখানে ফেলে রেখে তিনজন চলে গেল।
হাসিব গলির মধ্যে পড়ে আছে। তার শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে কিছুটা জায়গায় ছড়িয়ে আছে। দূর থেকে কয়েকটা লোকের কথা শুনা গেল। তারা হাসিবকে পড়ে থাকতে দেখেছে। চিৎকার করে লোকজনকে ডাকাডাকি করছে।
উপরে এক চিলতে কালো আকাশটায় তখন কয়েকটা তারা উঁকিঝুঁকি মারছে।
# তাসলিমা সুলতানা বন্যা


SHARE

Author: verified_user