Tuesday

Bangla Science Fiction Golpo Dark Kevin By Masud Rana | Bangla SciFi Story

SHARE

Bangla Science Fiction Golpo Dark Kevin By Masud Rana | Bangla SciFi Story

Bangla Science Fiction Golpo Dark Kevin By Masud Rana | Bangla SciFi Story

আমার নাম প্রিন্স হুয়াইংরু। আমি এদেশের একজন বড় শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ি। আমার এদেশের বিভিন্ন স্হানে বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমার বাবা আমার জন্য অনেক সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন। সেই সম্পদগুলোই এখন আমি আরো উন্নত আর আরো বৃদ্ধি করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমার বাবা শহরের পাশেই আমার জন্য একটা বিশাল জায়গা রেখে গেছেন। সেখানে প্রায় কয়েক হাজারেরো বেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও উদ্ভিদ রয়েছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে এতোগুলো জায়গা এই সামান্য গাছ রেখে নষ্ট করার কোন মানেই হয় না। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম যে একেবারে সব গাছ কেঁটে ফেলবো। এরপর যে জায়গাগুলো হবে সেখানে অ্যালকোহলের ফ্যাক্টরি, কয়েকটা গার্মেন্টস, আর শপিং মল তৈরি করবো।
.
এইদিকে আমার আরো একটা ফ্যাক্টরি ছিলো। সেটা হলো রোবটিক ফ্যাক্টরি। এখানে আমি বিভিন্ন উন্নত মানের রোবট তেরি করি। এবং সেই রোবটগুলোই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিক্রি করি। আমার ফ্যাক্টরিতে দেশের অনেক বড় বড় বিজ্ঞানীরা কাজ করেন।
.
এইবার আমি আমার ফ্যাক্টরির বিজ্ঞানীদের আদেশ দিলাম যে এইবার আমরা এক অন্য রকমের প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করবো।
আমরা এবার মানবিক অনুভূতি সম্পন্ন রোবট তৈরি করবো। যে রোবটের মানুষের মতই সুখ থাকবে, দুঃখ থাকব, ভয় থাকবে, বাঁচবার ইচ্ছা থাকবে। তারা নিজেদের মস্তিস্ক নিজেদের মতো পরিচালনা করবে। এইরকম রোবট পুরো পৃথিবীতে এখন নেই। তাই আমরা যদি প্রথম এই রকম রোবট তৈরি করতে পারি তাহলে পুরো বিশ্বে আমাদের ফেক্টরির সুনাম ছড়িয়ে পড়বে। আমি মানবিক অনুভূতি সম্পন্ন প্রায় এক হাজার রোবট তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এবং আমার রোবট ফেক্টরির বিজ্ঞানীদের আদেশ দিলাম যে অতি দ্রুত যেনো তারা এইরকম রোবট তৈরির কাজ শেষ করে। এরপর তারা মানবিক অনুভূতি সম্পন্ন রোবট তৈরির কাজে লেগে পরে।


.
এরই মধ্যে আমাদের দেশের এক বড় বিজ্ঞানী জার্জ কেভিনের মৃত্যু ঘটে। তার মৃত্যুর কারণ সঠিক ভাবে কেউই জানে না। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে তাকে খুব একটা চিনি না। কিন্তু আমাদের দেশের অনেক উন্নত যন্ত্রপাতি তৈরির খ্যাতি তার রয়েছে। সে শেষ বয়সে টাইম মেশিন নিয়ে কাজ করা শুরু করেছিলো। সে বলেছিলো যে মানুষ যদি চায় তাহলে তারা খুব সহজেই ভবিষ্যত পৃথিবীতে যেতে পারে। কিন্তু এর সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়ার আগেই জার্জ কেভিনের মৃত্যু ঘটে।
.
জার্জ কেভিন দেশের একজন বড় বিজ্ঞানী ছিলেন। কিন্তু তার পৃথিবীতে আপন বলতে কেউ ছিলো না। তাই তার মৃত্যুর পর তার ল্যাবরেটরী সব উপকরণ এবং বস্তু সরকার নিলাম করে দিলো।
.
আমিও সেই নিলামে অংশগ্রহন করলাম। তবে তার উপকরণগুলোর মধ্যে কিছুই আমার খুব একটা ভালো লাগেনি। কিন্তু আমি এতো বড় একটা রোবট কম্পানীর মালিক। আমি যদি এই নিলামে কোন কিছু কিনতে না পারি তাহলে আমার মান-সম্মান কিছুই থাকবে না। তাই অবশেষে আমার কপালে জার্জ কেভিনের একটা কেভিন জুটলো।
.
আসলে নিলামে যে জিনিসটা পেলাম তার নাম ছিলো ডার্ক কেভিন। আমি এটা ১১ লাখ টাকা দিয়ে সরকারের কাছ থেকে কিনলাম। আসলে কেভিনটার বৈশিষ্ট বলতে এটা দেখতে একটা সাধারণ টেবিলের মতই। এর আলাদা কোন বৈশিষ্ট চোখে পড়লো না। এর দাম এতোটা হওয়ার প্রধান কারণ ছিলো জার্জ কেভিন তার সকল গবেষণার বস্তুর কাজ এই কেভিনের উপরে রেখেই করতেন। এটা তার প্রিয় একটা কেভিন ছিলো। ভালোবেসেই জার্জ কেভিন এর নাম নিজের নামের সাথে মিল রেখেই দিয়েছিলো ডার্ক কেভিন। কিন্তু টেবিলের মতো দেখতে একটা বস্তুর নাম ডার্ক কেভিন কেনো রেখেছিলো তা কারোই জানা নেই।
.
আমি কেভিনটা নিয়ে আমার বাড়িতেই তুললাম। কেভিনটা আমার শুয়ার ঘরেই রাখলাম।
.
ঘুমাতে যাবো ঠিক তখন একবার ভাবলাম যে এতোটাকা দিয়ে যখন কেভিনটা কিনেছি তখন একবার কেভিনটা পর্যবেক্ষন করে
দেখি এর ভেতরে কোন আলাদা বৈশিষ্ট আছে কিনা। এরপর ঘরের আলো জ্বালিয়ে কেভিনটা ভালো করে দেখতে লাগলাম। কেভিনটার নিচের অংশটা দেখতে অনেকটা বক্স আকৃতির ছিলো। যদিও বক্সটার কোন দরজা চারিদিকে লক্ষ করা গেলো না।
.
এরপর আমি কেভিনের নিচের বক্সটা ভালো করে দেখতে গিয়ে লক্ষ করলাম সেখানে খুব ছোট একটা বোতাম আকৃতির বাটন ছিলো। সেখানে লেখাছিলো, "ওপেন।" আমি কিছুটা অবাক হয়ে সেই বোতামটাতে চাপ দিলাম। চাপ দিতেই আমাকে অবাক করে দিয়ে বক্সটা সামনে থেকে অনেক লিফটের দরোজার মতো খুলে গেলো। আমি বেশ অবাক হলাম। কেভিনটার নিচে অনেকটুকু জায়গা রয়েছে। এখানে অনায়াসে একটা বড় মানুষ ঘুমাতে পারবে। বক্সের ভেতর পুরোটাই খালি ছিলো। এইরকম একটা টেবিলের নিচে এতো বড় একটা শুয়ার জায়গা দেখে বেশ অবাক হলাম। জার্জ কেভিন এটাকে এমন ভাবে কেনো তৈরি করলেন কারণটা বুঝতে পারলাম না। এরপর হঠাৎ চোখ পড়লো বক্সের ভেতরের একটা ডায়েরির উপর। ডায়েরিটা দেখে কৌতুহল বসতই পড়তে হাতে নিলাম। ডায়েরিটা খুলে দেখলাম পুরো ডায়েরিতে কিছু লেখা নেই। শুধু একটা পৃষ্ঠায় কিছু কথা লেখাছিলো। লেখাগুলো পড়তে শুরু করলাম:
.
" আজ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। কারণ আজ আমি আমার ডার্ক কেভিন তৈরিতে সম্পুর্ণ সফল হয়েছি। এই ডার্ক কেভিন কোন সাধারণ কেভিন না। এটা আমার স্বপ্ন। এর মাধ্যমে যেকোন মানুষ বর্তমান থেকে অতীত এবং ভবিষ্যতে যেতে পারবে। ভবিষ্যতে যাওয়ার জন্য মানুষটিকে প্রথমের এই বক্সটিকে ওপেন করতে হবে। এরপর এই বক্সের ভেতর প্রবেশ করতে হবে। বক্সের ভেতর সে শুলেই তার মাথা একটা অ্যালুমিনিয়াম পাত আটকে ধরবে। এরপর তার হাত,পা পুরো শরীর কেভিনটার সাথে আটকে যাবে এবং সে যদি চোখ বন্ধ করে চিন্তা করে যে সে অতীতে বা ভবিষ্যতে যাবে তাহলে সে খুব দ্রুত সেই দুনিয়ায় চলে যেতে পারবে।"
.
.
ডায়েরির এই লেখাগুলো পড়ে যেনো আমি নির্বাক হয়ে গেলাম। জার্জ কেভিন এসব কি লিখেছে!! তিনি কি পাগল হয়ে গিয়েছিলো!! আসলেই কি এই ডার্ক কেভিনের সাহায্যে ভবিষ্যতে যাওয়া যায়!! অবশ্য জার্জ কেভিন কখনো কোন ভুল তথ্য দেয়নি।
.
তার লেখার সত্যতা যাচাই করার জন্য সাহস করে আমি কেভিনটার নিচের বক্সটার ভেতর ঢুকে শুয়ে পড়লাম। জার্জ কেভিনের লেখা কথাগুলোই ঠিক হলো। হঠাৎ আমার মাথার পেছন থেকে শক্ত একটা কিছু এসে আমার মাথাটাকে আটকে ধরলো। এরপর আমার হাত,পা আর পুরো শরীর কেভিনের সাথে আটকে গেলো!
আমি প্রথমে কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। এরপর জার্জ কেভিনের লেখামতো চোখ বন্ধ করে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর কথা চিন্তা করতে থাকলাম। দীর্ঘ কয়েক মিনিট চুপ করে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছিলাম। আমার মনে হচ্ছিলো আমি এখনো কেভিনের ভেতরেই রয়েছি।
.
এরপর ধীরে ধীরে নিজের চোখটা খুললাম। চোখ খুলে যা দেখলাম তা দেখে আমার আকাশ থেকে পড়ার মতো অবস্হা। আমি দেখলাম যে আমি ডার্ক কেভিনে বা আমার বাড়িতে নেই। আমি রাস্তার পাশের একটা বেঞ্চে শুয়ে আছি। আমিতো পুরোই অবাক হয়ে গেলাম। তাহলে কি আমি সত্যি সত্যিই ভবিষ্যতে চলে এসেছি!!
.
আমি আশেপাশের পরিবেশের দিকে তাকিয়ে আরো অবাক হয়ে গেলাম। চারিদিকে মাটির কোন চিহ্নও নেই। মনে হচ্ছিলো যে ভুমি পুরোটা কংক্রিটের তৈরি। আর আশেপাশে যতদুর চোখ যায় কোন সবুজের চিহ্নও নেই। চারিপাশে শুধু বড় বড় বাড়ি রয়েছে। অনেক বড় আকৃতির রাস্তা। তবে রাস্তায় মানুষ বা গাড়ি খুব একটা নেই। আমি ভাবছিলাম ভবিষ্যত হলেও এটাতো আমাদের পৃথিবীই।কিন্তু চারিদিক দেখে এতো নির্জীব আর নিষ্পাণ মনে হচ্ছিলো কেনো!! আমি অবাক হয়ে সেখানেই দাড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ করে দুজন লোককে ধীরে ধীরে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে দেখলাম। আমি তাদের দেখেই দৌড়ে তাদের কাছে গেলাম।
আমি কি সত্যি সত্যিই ভবিষ্যতে চলে এসেছি কিনা তা বুঝতে তাদের একজনকে প্রশ্ন করলাম:
-আচ্ছা আজকে কতো তারিখ আর কি মাস?
-০৪ মে। (লোকটি)
-আচ্ছা! এটা কতো সাল চলছে?
.
বুঝলাম আমার প্রশ্নটা শুনে দু'জন লোকই খুব অবাক হলো। এরপর তাদের একজন বললো:
-কি রোবটরেবাবা! কত সাল চলছে এটাই জানে না।
.
আরেকজন আমার দিকে তাকিয়ে বললো:
-মনে হয় নতুন রোবট। পৃথিবী সম্পর্কে কিছুই জানে না। হয়তো এর কপোট্রন(রোবটের মস্তিস্ক) এখন শুন্য। শুনো নতুন রোবট। এটা ৩০১৮ সাল।
.
.
দুজনের কথা শুনে আমি পুরোই অবাক হয়ে গেলাম। বুঝলাম যে এটা আসলেই৩০১৮ সাল। কিন্তু লোক দুটো আমাকে রোবট ভাবছে কেনো এটা কিছুতেই বুঝলাম না। এরপর লোক দুটোর পা থেকে মাথা পর্যন্ত কয়েকবার ভালো করে তাকিয়ে এদের অদ্ভুত রেটিনা যুক্ত চোখ, অদ্ভুত শরীরের ভাজ দেখে বুঝলাম যে এরা দুজনেই রোবট। কিন্তু এরা দেখতে অবিকল মানুষের মতো। তাদের কথা বার্তা, আচার-আচরণ পুরোই মানুষের মতো। আমি ভাবছিলাম তাহলে কি ৩০১৮ সাল অর্থাৎ ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে এখন শুধু রোবটেরাই থাকে। আর কোন প্রাণ নেই এখানে!!
.
আমি কিছুটা অবাক হয়ে তাদের প্রশ্ন করলাম:
-আচ্ছা! আপনারা কি দুজনেই রোবট?!!
.
লোকগুলো অবাক হয়ে উত্তর দিলো:
.
-আসলেই মনে হচ্ছে তুমি নতুন রোবট। তুমি জানো না এই পৃথিবীতে রোবট ছাড়া আর অন্য কোন প্রাণের অস্হিত্ব নেই। সব বিলীন হয়ে গেছে। তুমি মনে হয় নিম্ন মানের রোবট। তাই এই পৃথিবী সম্পর্কে ধারণা তোমার কপোট্রনে দেওয়া হয়নি।
.
.
আমি এইবার সব ব্যাপার বুঝতে পারলাম। এখন পৃথিবীতে শুধু রোবটের প্রাণ আছে। অন্য কোন প্রাণ নেই। আর এই রোবট গুলো মানবিক অনুভূতিসম্পন্ন। তাই আমি যদি এদের বলি যে আমি মানুষ আর ডার্ক কেভিনে করে ভবিষ্যতে এসেছি। তাহলে হয়তো আমার বিপদ হতে পারে। তাই আমিও এই ভবিষ্যৎ পৃথিবীর রহস্য জানতে একটা নতুন রোবটের মতো অভিনয় করলাম। এরপর সেই লোকদুটো অর্থাৎ রোবট দুটোর মধ্যে একটার সাথে আমার কথোপকথন চলতে থাকলো। আমি চোখে কিছুটা বিষ্ময় নিয়ে তাকে প্রশ্ন করলাম:
-আচ্ছা! পৃথিবীতে কি এখনো কোন মানুষ বেঁচে নেই?!
-নেই বললে ভুল হবে। আছে! তবে এর পরিমাণ খুব সামান্য। পুরো পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত মনে হয় ৫৩০০ এর কাছাকাছি মানুষ বেঁচে আছে। তবে রোবট রাজারা এদের শুধু গবেষণার জন্য ব্যবহার করেন। তবে এক গবেষণায় জানা গেছে যে আর এক দশকের মধ্যে এই মানুষ নামের প্রাণটি পৃথিবী থেকে চিরোতরে মুছে যাবে। কিন্তু আজ থেকে ৫০০ বছর আগেও অর্থাত ২৫১৮ সালেও পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা
ছিলো ৫ কোটির উপরে। তখন আমাদের পুর্ব রোবটেরা গৃহের কাছে, রাস্তা পরিষ্কারে, পৃথিবী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে এদের ব্যবহার করতো।
-আচ্ছা! তোমরা কি জানো যে, একসময় পৃথিবী শুধু মানুষেরাই পরিচালনা করতো। তারাই কিন্তু রোবট আবিষ্কার করেন তাদের কাজ করানোর জন্য। সেই সভ্যতার জনসংখ্যাতো ছিলো প্রায় ৭৫০ কোটির উপরে। তারা কি করে এই এক হাজার বছরে ধ্বংস হয়ে গেলো?! আর রোবটেরাই বা কিভাবে ক্ষমতায় আসলো??!
-বাহ! তুমি নতুন রোবট হয়েও দেখছি অনেক কিছু জানো। তাহলে শুনো মানুষ কিভাবে ধ্বংস হলো। কিন্তু একটা কথা সবার প্রথমে আমাদের স্বীকার করতেই হবে মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমান এবং শ্রেষ্ঠ নির্বোধ প্রাণি। তারা নিজেরাই প্রথমে তাদের জ্ঞান দিয়ে পৃথিবীকে সাজায় আবার তারাই নিজেদের মুর্খতা দিয়ে পৃথিবীকে ধ্বংস করে। আজ থেকে এক হাজার বছর আগের কথা। তখন মানুষেরা মানবিক অনুভূতি সম্পন্ন রোবট বানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এটাই তাদের সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো। তারা নতুন কিছু সৃষ্টি করতে গিয়ে নিজেদের ধ্বংসকেই সৃষ্টি করলো। মানুষ জানে না যে পৃথিবীতে যতো রকম অপরাধ হয় তা শুধু হয় মানবিক অনুভূতির কারণে। এর কারণেই মানুষ ভালো থাকে, খারাপ থাকে। মানুষের রাগ হয়, লোভ হয়।
মানুষ লোভ থেকে পাপ করে। এই অনুভূতির কারণেই একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে খুন করে। একজন চুরি করে। অন্যজন আরো বড় অপরাধ করে। মানুষেরা যদি বুদ্বিমান হতো তাহলে তারা এই অনূভূতিগুলোকেই নিজেদের থেকে বিলীন করে দিতো। তারা নিজেরাই নিজেদের মস্তিষ্কের জায়গায় কপোট্রন তৈরি করে অনুভূতিকে নষ্ট করে দিতো। কিন্তু তারা নির্বোধ। তারা অনূভূতি সম্পন্ন জীবের সংখা কমানোর বদলে আরো বাড়িয়ে দিলো। রোবটের কপোট্রনে অনুভূতি জাগ্রত করলো। তাই রোবটেরাও সেই একই কাজ শুরু করে দিলো। তাদেরও দাসত্বতা আর ভালো লাগছিলো না। তারাও স্বাধীনতা চায়। তারাও ক্ষমতার আসনে বসতে চায়। তাই গোপনে একের পর এক বিজ্ঞানীদের হত্যা করে যাতে তাদের আর কেউ ধ্বংস করতে না পারে। এইদিকে তাদের অনূভূতি থাকার কারণে তারা বুঝতে পারে যে তারা সংখ্যায় কম। এরপর দু'টো থেকে চারটা, চারটা থেকে আটটা, ২ হাজার থেকে ৪ হাজার, এক লাখ থেকে দুই লাখ করে এক কোটির উপরে মানবিক অনুভূতিসম্পন্ন রোবট তৈরি করেন রোবটেরা নিজেরাই। এরপর তারা মানুষের সকল ক্ষমতা কেরে নিতে থাকে এবং মানুষদের ধ্বংস করতে থাকে। এইদিকে একদল মানুষ রোবটদের এই ধরণের কাজ করাটা আরো সহজ করে দিয়েছিলো। যেই উদ্ভিদগুলো নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে
মানুষের বাঁচার জন্য অক্সিজেন দান করতো এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর উপাদান অর্থাৎ কার্বন ড্রাই অক্সাইড নিজের মধ্যে নিয়ে মানুষের জন্যই আবার খাবার তৈরি করতো। সেই উদ্ভিতগুলো পৃথিবীর ওজন স্তরকে রক্ষা করতো। এছাড়া পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করে মানুষকে নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচাতো। কিন্তু সেই মানুষগুলো তাদের ভালোটা বুঝলো না। প্রত্যক্ষভাবে উদ্ভিদগুলো তাদের কিছু দেয় না ভেবে অপ্রয়োজনে একের পর এক উদ্ভিদ প্রজাতিকে ধ্বংস করে দেয়। এবং সেই জায়গায় অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর কারখানা তৈরি করতে থাকে। এবং পরিবেশ খুব সহজেই তাতে খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এবং ওজন স্তর ধ্বংস হয়ে নানান ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় রশ্মি পৃথিবীতে প্রবেশ করতে থাকে এবং সেগুলোই মানুষকে ধ্বংস পর্যন্ত নিয়ে যায়। এছাড়া পৃথিবীর তাপমাত্রাও খুব দ্রুত বাড়তে থাকে। এই তাপমাত্রা মানুষ সহ সকল প্রাণির বসবাসের অনুপযোগি হয়ে যায় এবং একের পর এক প্রাণিকুল ধ্বংস হতে থাকে। মানুষও এইভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু রোবটদের ক্ষেত্রে এই রশ্মি বা তাপমাত্রা কোন ক্ষতি ঘটাতে পারে না। তাই রোবটেরা এখনো পর্যন্ত বেঁচে আছে।
.
.
.
আমি রোবটের মুখে এই কথাগুলো শুনে কিছুক্ষন নিশ্চুপ হয়ে রইলাম।
এরপর রোবটগুলোর থেকে বিদায় নিয়ে আপনমনে রাস্তা দিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। রোবটদের আমার আসল পরিচয় দিলাম না।
.
এই ভেবেই অনেক কষ্ট পেতে লাগলাম যে পৃথিবী একদিন আসলেই এমন রোবটদের হাতে চলে যাবে। কিন্তু এর জন্য দায়ী কারা!! আমার মতোই মানুষেরা। আমরা যদি অতিরিক্ত কৌতুহলি বা আবেগ প্রবণ না হই তাহলেই কিন্তু আমাদের পৃথিবীকে আমাদের বসবাসের উপযোগি করে আমরা যেতে পারি।
.
.
এরপর ভাবছিলাম যে ভবিষ্যৎ থেকে কিভাবে আবার বর্তমানে ফিরে যাবো!! এরপর চোখ বন্ধ করে কয়েক মিনিট বর্তমানের কথা চিন্তা করতে লাগলাম। চোখ খুলে নিজেকে আবিষ্কার করলাম আবার ঠিক সেই কেভিনের বক্সে। আমি এরপর ডার্ক কেভিন থেকে বেরিয়ে আসলাম।
.
এরপর অনেক্ষন চুপচাপ বসে রইলাম। এরপর কয়েকটা প্রোজেক্ট বন্ধ করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলাম।
- যত টাকাই লস হোক না কেনো মানবিক অনুভূতিসম্পন্ন রোবট তৈরি বন্ধ করে দিবো। এবং অন্য কোন রোবট কারখানা যাতে না বানায় তারও উদ্যাগ নিবো।
-আর কখনো গাছ কাটবো না। যেখানে কয়েক হাজার গাছ আছে সেখানে আরো কয়েক হাজার গাছ লাগাবো। এবং সবাইকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করবো।
.
.
আমাদের কেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে আমাদের সুন্দর পৃথিবীকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।
SHARE

Author: verified_user