Monday

Bangla Novel Nishongo Nokkhotro By Sadat Hossen | Bangla Book PDF

SHARE

Bangla Novel Nishongo Nokkhotro By Sadat Hossen | Bangla Book PDF


Bangla Novel Nishongo Nokkhotro By Sadat Hossen | Bangla Book PDF


"মানুষের অভাবে মানুষ নিঃসঙ্গ হয় না,মানুষ নিঃসঙ্গ হয় ভালো বন্ধুর অভাবে,কাছের মানুষের অভাবে।"---

বলছিলাম সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় লেখক-যার লেখায় অনেকে হুমায়ুন আহমেদের ছাপ খুঁজে পান,সেই সাদাত হোসাইন এর "নিঃসঙ্গ নক্ষত্র " এর কথা 

সত্যি বলতে আমি লেখকের অন্যান্য বইয়ে তেমন কোন ছাপ পাইনি,তবে এই বইয়ে পেয়েছি এবং তার পড়া অন্যান্য বইয়ের তুলনায় সর্বপ্রথম এই বইয়েই কিছুটা হলেও হতাশ হয়েছি 

কেন?পড়ে যান তাহলে --

#ভালো_লাগা_দিকগুলোঃ-

বইটি মূলত মূলচরিত্র অনুকে ঘিরেই। অনুর জীবনের সংগ্রাম,ব্যক্তিত্ব, উপস্থিত বুদ্ধি, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা আর নিজের প্রতি ঠিক ততটাই উদাসীনতা আপনাকে মূগ্ধ করবে। অন্তত আমাকে করেছে। যদিও অত দীপ্তিময় কোন চরিত্র নয় কিন্তু বাস্তবে আমাদের চারপাশে এমন অনেক অনুই আছে। যাদের দূর থেকে দেখলে অতি সাধারণ মনে হয় কিন্তু আমাদের হাজারো কল্পনা,জীবনের হতাশার থেকেও তাদের জীবন,তাদের পথচলা অনেক বেশি বাস্তব,রূঢ়।মজার ব্যাপার হল পুরো বইয়ে ভালো লাগার মত চরিত্র কেবল অনুই আছে।
আর আছে অনুর জীবনে অনাহুত গ্রহণের মত সার্বক্ষণিক লেগে থাকা একজোড়া চোখ,ক্ষেত্রবিশেষে যার গল্প আপনাকে ভয়ে শিহরিত করবে।

#মন্দ_লাগা_এবং_অসংগতিঃ-

অনুর ভাই অয়নের বেশ দুরারোগ্য এবং কঠিন রোগের বিষয়টিকে লেখক যেন জোর করে বেশ অনেকদূর টেনে নিয়ে গিয়েছেন।তাই এটি বেশ বেদনাদায়ক ব্যাপার হবার পর ও মনকে ছুঁতে পারেনি বরং বিরক্তির উদ্রেক করেছে। তবে রোগের কিছু বিষয় মনকে ছুঁয়েছে কিছু ক্ষেত্রে।
২৭০ পেজের পুরো উপন্যাসের প্রায় বেশ অর্ধেকই যেন অপ্রাসঙ্গিক, কাহিনী শুরুই হয়নি ধরণের,জোর করে অনেকদূর টেনে নিয়ে যাওয়া মানে যা না টানলেও চলত।ভূমিকা থেকে মূল কাহিনী তে প্রবেশ করতে করতেই উপন্যাস প্রায় শেষ। লেখকের অন্যান্য বই ও পড়েছি,উনি ভূমিকা করতে সময় নেন তবে আগ্রহ আর কাহিনী,নতুনত্ব ঠিকই ধরে রাখেন। কিন্তু এই উপন্যাসে এই বিষয় খানিকটা অনুপস্থিত। চরিত্রের ঘনঘটা,কাহিনীর অকস্মাৎ মোড়,রহস্য সবকিছুই আছে কিন্তু ঠিক অবাক হয়ে মন ছুঁয়ে যায়নি আগের উপন্যাস গুলোর মত।

#শেষ_কথাঃ-

লেখকের প্রতি প্রত্যাশা উঁচু দেখেই হয়ত কিছুটা হতাশ হওয়া। নইলে উপন্যাস শেষ পর্যন্ত বেশ ভালোই।
শেষের দিকে অনুর জন্য কষ্ট হয় কিন্তু বাস্তবতা তো এমনই হয়,কষ্টের।কষ্টকে মেনে নিয়ে চলা গল্পের। 

কি হয়েছে শেষে তার একটু হিন্টস দিচ্ছি নীচে,তবে স্পয়লার নয়---

অনুর কেবল কোন কাজ নেই। সে নীরব নিস্তব্ধ একা বসে রইল। সময় বয়ে যাচ্ছে অনন্তে। সেই অনন্ত সময়ের বুকের ভেতর থেমে আছে অনু। তার এই থেমে থাকা অন্তহীন কিনা কে জানে!
তাদের সেই ফিরে আসার গল্পে বারবার ফিরে আসে অনুরাও।সেই অনুদের কেউ কেউ কোনো একদিন হয়তো এই গল্পটাকে বদলে দেবে। বদলে দেয়া সেই অনুদের গল্পটা হবে ভীষণ সুন্দর। সেখানে অনুদের বুকের ভেতর জমে থাকা দহনের ক্ষতজুড়ে টুপটাপ ঝড়ে পড়তে থাকবে মায়ার শিশির। সেই শিশিরের শব্দে ডুবে যাবে আর সব কোলাহল। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে ঠিক পাশবালিশটাতে তাকালেই দেখা যাবে জোছনার ছায়া। সেই ছায়ার ভেতর মায়া হয়ে তাকিয়ে থাকবে একজোড়া চোখ। সেই চোখের ভেতর মন। মনের ভেতর মানুষ। সেই মানুষের নাম হবে ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসায় ডুবে রইবে অনুদের জীবন ও জগত।

আর শেষ করছি বইয়ে নিজের প্রিয় কিছু উক্তি দিয়েঃ-

--এই শহরে দেখার মত কতকিছুই যে রয়েছে।কিন্তু মানুষ এত বেশি নিজের জীবন দেখতে ব্যস্ত যে তার নিজেকে ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না!

--এই জগতে কাউকে আনন্দ কিনে দেয়ার চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছুতে নেই।

--সবকিছুতেই একটু কম থাকা ভালো,তাহলে আগ্রহ থাকে। পুরোপুরি চিনে ফেললে সমস্যা,তখন আগ্রহ টা শেষ হয়ে যায়।

--প্রতিটা মেয়ে যতটা সরবে,যতটা সচেতনভাবে নিজের ভেতর একজন মা পুষে রাখে,প্রতিটা ছেলে ঠিক ততটাই নীরবে,অবচেতনে তার ভেতর একজন বাবা পুষে রাখে।

--একেকটা দিনের শুরু যেন একেকটা সসদ্যোজাত শিশুর মতোই নিষ্কলুষ, নিষ্পাপ।

--
অনু বলল, "এই যে আমার জন্য এমন করে কাঁদছ, এই যে আমাকে এমন করে চাইছ,আমি চাই এই কান্নাটা সারাজীবন থাকুক,এই চাওয়াটাও। পেয়ে গেলে আর চাওয়াটা থাকেনা। কে জানে,হয়তো পাওয়াটাও নয়। আমার কি মনে হয় জানো?"

-"কি?"
-"পুরোপুরি পেয়ে যাওয়া মানে পুরোপুরি হারিয়ে ফেলা"

মাহফুজ কথা বলল না,চুপচাপ অনুর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।

অনু বলল,"এই যে তোমাকে এত পেতে ইচ্ছে করে,এর চেয়ে তীব্র আর কিছু নেই এ জগতে। কিন্তু জানো কি, পেয়ে যাওয়ার পর পেতে চাওয়ার এই তীব্র ইচ্ছাটা আর থাকে না। তোমার ও থাকবেনা। আজকের এই মূহূর্তটাকে মনে হবে জীবনের সবচেয়ে যুক্তিহীন, সবচেয়ে ভুল একটি মূহূর্ত। এই তীব্র চাওয়ার অনূভূতিগুলো তখন ধীরে ধীরে মরে যেতে থাকবে। মরে যেতে যেতে একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে। তখন সবকিছু কেবল অভ্যাস হয়ে থাকে,অনূভূতি নয়।"

অনু একটু থামল। তারপর আবার বলল," আমি চাই না তুমি আমার অভ্যাস হয়ে যাও,আমি চাই তুমি আমার অনূভূতি হয়েই থাক।" 

কিছুটা বাস্তবতা আর কিছু ভালবাসা,কিছু কষ্টের মিশেলে বইটি।
মনে দাগ কাটেনি তবে ফেলে ও দেয়া হয়নি একেবারে।
অনুরা জিতুক এই কামনায় শেষ করলাম 

SHARE

Author: verified_user