Sunday

Bangla Horror Golpo Pishach Dairy | Horror Story In Bengali Language

SHARE

Bangla Horror Golpo Pishach Dairy | Horror Story In Bengali Language

Bangla Horror Golpo Pishach Dairy | Horror Story In Bengali Language



Bangla Horror Golpo Pishach Dairy 1st Part

রাত এখন প্রায় ১১টা বাজে। নিজের বাড়ির উঠানে একা একা বসে আছি। হাতে একটা ভুতের গল্পের বই। বাড়িতে একা রয়েছি তার উপর আবার পূর্নিমার রাত। আবার চারিদিকে হালকা হালকা বাতাস বয়ে যাচ্ছিলো। এরকম পরিবেশে ভূতের গল্প পড়া যে কি মজার তা শুধু যারা এই পরিবেশে বই পড়ে অভ্যস্ত তারাই বলতে পারবে। আমার বাড়িটা গ্রামের অনেক ভেতরে অবস্হিত। তাই বেশ নির্জন একটা বাড়ি। আশেপাশে অন্য আর কোন বাড়ি নেই। আমার বাড়ি থেকে একটু দুরেই শুধু পরিত্যাক্ত একটা বাংলো রয়েছে। বাংলোটার নাম হরিনাথ বাংলো। বাংলোটা দেখতে বেশ সুন্দর। যদিও এখানে এখন কেউ থাকে না।
.
বই পড়তে আমি ভীষণ ভালোবাসি। বিশেষ করে ভূতের বা কোন রহস্য গল্পের বই হলেতো আর কোন কথাই নেই। অবশ্য এই শেষ বয়সে আর কিইবা করতে পারি! আমার বয়স ৪০ পেরিয়ে ৫০ এর কাছাকাছি। এখন আর ঠিক আগের মতো কাজ করতে পারি না। অবশ্য কাজই বা করবো কাদের জন্য! এই পৃথিবীতে যে আমি বড় একা। খুবই একা। আমার কোন আপনজন আর বেঁচে নেই। সবাই ওপারের দুনিয়ায় পারি দিয়েছে।
.
আমার জন্মের ৩ মাস আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আমার বাবা মারা যান। আর আমার জন্মের সাথে সাথেই আমার মা মারা যায়। এরপর থেকে আমাকে আমার বড় ভাই রহিম শেখ লালন-পালন করে
বড় করেন। কিন্তু আমার যখন ১৭ বছর বয়স তখন এক রাতে নৌকা ডুবিতে আমার সেই বড় ভাইও মারা যায়। পুরো পৃথিবীতে আমি বড় একা হয়ে যাই। ঠিক সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত আমার দেখাশোনা করতে থাকেন রমিজ চাচা। রমিজ চাচা আমার রক্তের সম্পর্কে কেউ না। আমাদের বাড়িতে টুকটাক কাজ করতো। আমার বাবা এবং বড় ভাইয়ের খুব বিশ্বস্ত কাজের লোক ছিলো। রমিজ চাচার এই পৃথিবীতে মা ছাড়া আর আপন কেউ বেঁচে নেই। যদিও তার মা এখান থেকে অনেক দুরে একটা গ্রামে থাকেন। রমিজ চাচা আমাকে তার সন্তানের মতোই ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছে। রমিজ চাচা আমারো খুব বিশ্বস্ত। এরপর আমার যখন ২৭ বছর বয়স হয় তখন রেহেনা আক্তার নামে একটা মেয়ের সাথে আমার বিয়ে হয়। এরপর থেকে আমার জীবন খুব ভালোভাবেই চলছিলো। আমার তখন বয়স ৩৫। তখন আমার একটা ৫ বছরের ছেলেও ছিলো। নাম তার ছিলো রাফি। একরাতে আমি, রেহেনা আর রাফি গাড়ি করে এক দাওয়াত থেকে ফিরছিলাম। হঠাৎ একটা ট্রাক এসে আমাদের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। আমি কোনভাবে সেই দুর্ঘটনায় বেঁচে যাই। কিন্তু রাফি আর রেহেনাকে কোনভাবেই বাঁচাতে পারিনি। এরপর থেকে এই পৃথিবীতে আমি একা। বড় একা। এরপর থেকে নির্জন এই বাড়িতে থাকতে শুরু করি। এখন আমার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বলই এই বইগুলো।
আর আমার দেখাশোনা করার দায়িত্বটা নেন এই রমিজ চাচা। তাই এখন আমি আর রমিজ চাচাই শুধু এখানে থাকি।



একটা চিঠি - ভালবাসার অপর নাম | বাংলা গল্প




সব ছেড়ে এই বাড়িতে চলে আসারো একটা কারণ আছে। এই বাড়ির উঠানের পাশে ৫ টা কবর রয়েছে। এইগুলো আমার বাবা,মা, ভাই, স্ত্রী ও ছেলের কবর। এদের কবরের পাশে আরেকটা কবরের জায়গাও রাখা আছে। আমার ইচ্ছা কবরটা আমার হবে।
.
তাই প্রতি রাতেই উঠানে বসে আমি গল্পের বই পড়তে বসি। মাঝেমধ্যে মনে হয় তারা আমার পাশেই আছে।
.
প্রতিদিনই আমার পাশে এখানে রমিজ চাচা থাকে। কিন্তু আজ সেও বাড়িতে নেই। তাই আমি একা। আসলে হঠাৎ গতকাল রমিজ চাচা খবর পায় যে তার মা নাকি মারা গেছে। তাই রমিজ চাচা তার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন গতকাল। যাওয়ার আগে বলে গেছেন ফিরতে ৩-৪ দিন লাগবে। আমিও তাকে আটকাইনি। যদিও রমিজ চাচাকে ছাড়া থাকার অভ্যাস আমার খুব একটা নেই। বসে বসে গল্পের বই পড়ছিলাম আর রমিজ চাচার কথা মনে করছিলাম। সে এখন এখানে থাকলে হয়তো আমাকে এক কাপ চা বানিয়ে খাওয়াতো।
.
.
সব চিন্তা বাদ দিয়ে বইটার দিকে আবার মনোযোগী হলাম। খুব মনোযোগ দিয়ে বইটা পড়ছিলাম। হঠাৎ আমার মনোযোগটা নষ্ট করে দিলো একটা তাজা গোলাপের গন্ধ। আমি বেশ অবাক হলাম। এতোরাতে এখানে গোলাপের গন্ধ আসলো কিভাবে!! আমার বাড়িতেতো আমি একা
রয়েছি। আর পুরো বাড়িতে কোন গোলাপের পারফিউম নেই। আর গোলাপ গাছ! আমাদের গ্রামতো দুরে থাক আশেপাশের চৌদ্দ গ্রামের ভেতর কোন গোলাপ গাছ নেই!!
.
হঠাৎ গোলাপের গন্ধে বেশ অবাকই হলাম। হঠাৎ আমার অবাক দৃষ্টিকে আরো অবাক করে দিয়ে আমার সামনে এসে হাজির হলো রমিজ চাচা। আমি রমিজ চাচাকে দেখে খুব অবাক হলাম। চাচারতো এখন তার গ্রামে থাকার কথা! সে এখন এখানে কি করছে! আমি অবাক হয়ে রমিজ চাচাকে প্রশ্ন করলাম:-
-রমিজ চাচা! তুমি এতো রাতে?! তোমার না মা মারা গেছে?! তোমারতো এখন গ্রামে থাকার কথা ছিলো?
-জ্যাঁ বাবু। মায়ের দাফন আজ সকালেই দেওয়া হইয়া গেছে। আপনারে ছাড়া মনটা কেমন যেনো করতাছিলো। তাই দাফন শেষ কইরাই চইলা আসছি। সেখানেতো আর আমার আপন কেউ নাই।
-তা যা বলেছো। তোমাকে ছাড়াও আমার খুব একা লাগছিলো। এসে যখন পড়েছো। ঘরে চলে যাউ। গোসল করে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। সকালে আবার কথা হবে।
-জ্যাঁ বাবু। আচ্ছা একটা কথা কইতে চাইছিলাম যে!
-কি কথা? বলো!
-আসলে বাবু! আমি ট্রেনে কইরা এইখানে আসতেছিলাম। ট্রেন যখন প্রায় এই স্টেশনে আইসা পৌছাইলো তখন আমার লগে একটা মাইয়াও ট্রেন থিকা নামছিলো। মাইয়াটা আমারে একটা ডায়েরি দিয়া কইলো যে ডায়েরিটা একটু ধরতে। সে একটু পরেই আইসা নিয়া
যাইবো। এরপর মাইয়াটা পাশের একটা জঙ্গলে চইলা গেলো। আমি ভাবলাম হয়তো কোন টয়লেটে গেছে। তাই এক ঘন্টা ধইরা সেইখানে মাইয়াটার লাইগা দাড়াইয়া ছিলাম। কিন্তু জঙ্গল থিকা আর কেউ বাহির হইয়া আসে নাই। এরপর আমি জঙ্গলে গেলাম কিন্তু কাউরে খুইজা পাইলাম না। এরপর আর কিছু না বুইঝা ডায়েরিটা লগে কইরা নিয়া আইছি। আমিতো মুর্খ মানুষ কি লেখা আছে পড়তে পারি না। তাই ডায়েরিটা আপনেই রাখেন।
-কোথায় ডায়েরিটা? দেখি!
.
.
এরপর রমিজ চাচা তার পটলা(ব্যাগ) থেকে একটা ডায়েরি বের করে আমাকে দিলেন। ডায়েরিটা দেখেই বুঝতে পারলাম যে ডায়েরিটা খুব পুরাতন একটা ডায়েরি। হয়তো কারো ব্যাক্তিগত কথা লেখার ডায়েরি। কারো অনুমতি ছাড়া তার ব্যাক্তিগত ডায়েরি পড়া উচিত হবে না। তাই ডায়েরিটা রমিজ চাচার কাছ থেকে নিয়ে উঠানের পাশে থাকা একটা টেবিলে রাখলাম। রমিজ চাচাকে বললাম:
-আচ্ছা পরে পড়ে নিবো আমি।
.
.
রমিজ চাচা আমার কথা শুনে বললেন:
-ঠিক আছে বাবু। আচ্ছা আপনার জন্য কি চা বানাইয়া নিয়া আসবো?
-তোমার হাতের চা না খেলেতো আমার রাতে ঘুমই হয় না চাচা। কিন্তু তুমিতো মাত্র কত দুর থেকে আসলে। থাক! আজ বাদ দাও।
-কি যে বলেন বাবু! চা বানাইতে আর কতক্ষন সময় লাগবো। আপনি বসেন একটু। আমি চা বানাইয়া নিয়া আসতেছি।
.
এরপরেই রমিজ চাচা চা বানাতে বাড়ির ভেতরে গেলেন। রমিজ চাচা এতো দ্রুত গ্রাম থেকে চলে আসায় মনে মনে বেশ খুশিই হলাম। আসলে তাকে ছাড়া আমি খুব একটা থাকতে পারি না। এরপর আবার উঠানের চেয়ারে বসে সেই ভূতের গল্পের বই পড়তে শুরু করি। সেই ডায়েরিটা আমার থেকে বেশ কিছুটা দূরে টেবিলেই পরেছিলো। ডায়েরিটা সম্পর্কে এতোটাও আগ্রহ ছিলো না আমার। আমি টানা এক ঘন্টা মনোযোগ দিয়ে সেই বইটাই পড়তে থাকলাম। হঠাৎ আমার মনে পড়লো। আরে! রমিজ চাচা না সেই কখন গেলো চা বানাতে! তারতো এতক্ষন সময় লাগার কথা না! তাহলে কি রমিজ চাচা চা বানানোর কথা ভুলে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে! অবশ্য রমিজ চাচা ভুলে জাওয়ার মানুষো না। ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ খটকা লাগলো। তাই বইটা টেবিলে রেখে রমিজ চাচাকে খুজতে বাড়ির ভেতরে ঢুকলাম। আমি জোরে জোরে শব্দ করে তাকে ডাকছিলাম:-
.
-রমিজ চাচা? রমিজ চাচা? কোথায় তুমি? ঘুমিয়ে পড়লে নাকি? রমিজ চাচা?
.
কিন্তু বাড়ির ভেতর থেকে কোন উত্তরই এলো না। এরপর আমি পুরো বাড়ি খুজলাম কিন্তু কোথাও রমিজ চাচাকে খুজে পেলাম না। আমি খুব অবাক হলাম। রমিজ চাচা কি উধাও হয়ে গেলো নাকি!! আমি আরো কয়েকবার রমিজ চাচাকে ডাকতে ডাকতে পুরো বাড়ি তাকে খুজলাম। কিন্তু তাকে কোথাও খুজে পেলাম না।
অবেশেষে তাকে খুজে না পেয়ে খুব বিরক্ত হয়ে মোবাইলটা বের করে তাকে কল দিলাম। কিছুক্ষন কল বাজার পরেই রমিজ চাচা কলটা ধরলেন। রমিজ চাচা কলটা ধরতেই খুব গম্ভীর আর কিছুটা রাগান্বিত কন্ঠে আমি তাকে বললাম:
-রমিজ চাচা? চা বানাতে গিয়ে তুমি কোথাও উধাও হয়ে গেলে। এখন তুমি কোথায়?
.
.
এরপর রমিজ চাচা আমাকে যা বললো তা শুনে যেনো আমি আকাশ থেকে পড়লাম। রমিজ চাচা বললেন:
-কি বলেন এসব বাবু?? আমি চা বানামু কেমনে? আপনি কি ঘুমের তালে আমারে কল দিলেন নাকি!? আমিতো এখনো আমার গ্রামের বাড়িতেই আছি। আপনারেতো কইয়াই আসছিলাম যে আমার মা মারা গেছে তাই আসতে ৩-৪ দিন বেশি সময় লাগবো।
-তুমি কি সত্যিই আজ গ্রাম থেকে ট্রেনে করে আসোনি?
-কি বলেন বাবু! আজকা সকালেই মারে দাফন দিলাম। এইখানে এখন মেলা কাম তাই আরো ২ দিন থাকা লাগবো। আর আমি ট্রেনে কইরা আসুম কেন? আমিতো বাসে যাতায়াত করি। আপনের কি হইছে বাবু? আমি কি তাড়াতাড়ি চইলা আসুম?
-আরে! কিছু হয়নি। তুমি গ্রামের কাজ শেষ করে ধীরেসুস্হ্যে আসো। হয়তো বই পড়ার নেশায় ভুল কিছু দেখেছি। আচ্ছা ঘুমাও। তুমি চিন্তা করোনা।
.
.
এই বলেই কলটা আমি কেটে দিলাম। রমিজ চাচাকেতো বেশ চিন্তা করতে না করে দিলাম। কিন্তু আমি খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম।
.
রমিজ চাচা যদি না এসে থাকে তাহলে একটু আগে আমি যাকে দেখলাম যার সাথে কথা বললাম। সে কে ছিলো! আর আসলেইতো রমিজ চাচাতো ট্রেনে করে যাতায়াত করেন না। তিনি সব সময় বাসে যাতায়াত করেন। তাহলে কি একটু আগে রমিজ চাচা আমার কাছে এসেছিলো এটা শুধুমাত্র আমার কল্পনা ছিলো!! এরপর গম্ভীরভাবে বাড়ির উঠানে গেলাম। সেখানে গিয়ে টেবিলে যা দেখলাম আমি পুরো অবাক হয়ে গেলাম। টেবিলে এখনো সেই ডায়েরিটা পরে রয়েছে যেটা কিছুক্ষন আগে রমিজ চাচা আমাকে দিয়েছিলো। রমিজ চাচা যদি নাই আসে তাহলে এই ডায়েরিটা আমার কাছে এলো কিভাবে! ব্যাপারটা যদি আমার কল্পনা হতো তাহলেতো আর ডায়েরিটা এখানে পরে থাকতো না!
আর রমিজ চাচাও মজা করার মানুষ না।
.
বুঝলাম এই সকল রহস্যের সমাধান এই ডায়েরির ভেতরেই রয়েছে। এরপর ডায়েরিটা টেবিল থেকে নিয়ে পড়া শুরু করলাম 




Bangla Horror Golpo Pishach Dairy 2nd Part

.
বুঝলাম এই সকল রহস্যের সমাধান এই ডায়েরির ভেতরেই রয়েছে। এরপর ডায়েরিটা টেবিল থেকে নিয়ে পড়া শুরু করলাম।.......….................
.
ডায়েরিটা খুলেই দেখলাম যা ভেবেছিলাম তাই। এটা একটা ব্যাক্তিগত ডায়েরি ছিলো। ডায়েরিটা বেশ পুরাতন ছিলো। ডায়েরি পুরোটাই বাংলা ভাষায় লেখাছিলো। যে ডায়েরিটা লিখেছে তার লেখার প্রশংসা করতে হয়। অসাধারণ সুন্দর হাতের লেখাছিলো ডায়েরিটাতে! ডায়েরির শুরুতেই যে লিখেছে তার নাম লেখা ছিলো। ডায়েরিটার লেখিকার নাম ছিলো:-
"-সানজিদা আফজাল মিশি।"
.
এরপর পুরো ডায়েরিটা পড়া শুরু করলাম। সেখানে লিখাছিলো: .
.
" আমার নাম সানজিদা আফজাল মিশি। আমার জন্ম হয় বাংলাদেশে। আমার যখন ১৩ বছর বয়স ছিলো তখন আমার বাবা-মা এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় । এরপর থেকে আমার মামা-মামিই আমাকে বড় করে তোলে। আমি ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বাংলাদেশেই ছিলাম। এরপর আসিফুর রহমান আসিফ নামের একজন ছেলের সাথে আমার বিয়ে হয়ে যায়। এরপর আমি আসিফের সাথে অ্যামেরিকায় চলে যাই। আসিফ অ্যামেরিকার একটা সফটওয়্যার কম্পানিতে কাজ করতো। আমরা খুব ভালোভাবেই সেখানে বসবাস করতে থাকি। আসিফো অনেক ভালো একটা ছেলে ছিলো। সেও আমার মতো অনাথ। আমি ছাড়া এই পৃথিবীতে তার আপন আর কেউ ছিলো না। তাই সে আমায় অনেক ভালোবাসতো। যদিও সে দেশের বাহিরে ছিলো সে বাংলাদেশকে অনেক ভালোবাসতো। সে চাইতো এই দেশে এসেই মৃত্যুর আগে পর্যন্ত থাকবে। কিন্তু কাজের চাপে সে দেশে ফেরার সময়ো পায়না। দেখতে দেখতে আমাদের বিয়ের ৭ বছর কেটে যায়। এর মধ্যে আমাদের একটা মেয়েও হয়ে গিয়েছিলো। ভালোবেসে আসিফ নাম দিয়েছিলো রাত্রি। তখন রাত্রির বয়স ছিলো ৫ বছর। সেবার আসিফের সফটওয়্যার কম্পানি থেকে হঠাৎ আসিফকে এক মাসের ছুটি দেওয়া হয়। ছুটি পাওয়ায় আসিফ, আমি আর রাত্রি ৩ জনেই বেশ খুশি হয়েছিলাম।
একদিন রাতে আসিফ হঠাৎ এসে আমার হাতে একটা খাম গুজে দেয়। খামটা খুলে দেখলাম সেখানে ৩ টা পাসপোর্ট ছিলো। পাসপোর্টগুলো বাংলাদেশে যাওয়ার। আমি বেশ অবাক হলাম। আসিফ আমাকে বললো আমরা এই ছুটিতে বাংলাদেশে যাবো ঘুরতে। সেখানেই আমরা ছুটি কাটাবো। আমি আর আমার মেয়ে রাত্রি দুজনেই অনেক খুশি হলাম। এরপর আমরা বাংলাদেশে চলে আসি। প্রথমে আমরা চট্রোগ্রামের কক্সবাজারে যাই, এরপরে সিলেটের জাফলং, রাঙামাটি,বান্দরবান সহ বাংলাদেশের আরো অনেক সুন্দর এলাকা ঘুরে বেড়াই। দেখতে দেখতে আমাদের ছুটির এক মাস কেটে যায়। কিন্তু আমরা ৩ জনেই বাংলাদেশের প্রেমে পরে যাই। আমি আর রাত্রি দুজনেই আসিফকে অনুরোধ করলাম যে আমরা আর অ্যামেরিকায় ফিরে যাবো না। আমরা সাধারণ ভাবেই হোক বাংলাদেশে থাকতে চাই। এই দেশেই আমার মেয়ে বেলার হাজারো স্মৃতি রয়েছে। আসিফও এই দেশকে অনেক ভালোবাসে। তাই সে আর না করলো না। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম বাংলাদেশেই থাকবো। এরপর অ্যামেরিকায় আমাদের যে সম্পদ ছিলো সেগুলো বিক্রি করে ফেলি আমরা। আসিফো তার চাকরি ছেড়ে দেয়। আমরা বাংলাদেশের ভেতরেই একটা গ্রামাঞ্চলের দিকে একটা পরিত্যাক্ত বাড়ি কিনি। বাড়িটা আমাদের অনেক পছন্দ হয়েছিলো। আসলে বাড়িটার সৌন্দর্য বলে প্রকাশ করার মতো না। কিন্তু বাড়িটার সৌন্দর্যের তুলনায় দাম ছিলো
খুবই কম। এর প্রধান কারণ ছিলো বাড়িটা নাকি ভুতের বাড়ি নামে খ্যাত। এখানে নাকি ভূতেরা থাকে। এর আগেও কয়েকটা পরিবার এখানে এসে থাকার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু তারা নাকি ভুত থেকে পালিয়ে গেছে। ভূতের কথা শুনে আমরা বেশ মজা পেলাম। ভুতে বিশ্বাস আমাদের কখনোই ছিলো না। কিন্তু বাড়িটা যেহেতু শহর থেকে অনেক দুরে, গ্রামেরও অনেক ভেতরে নির্জন একটা জায়গায় রয়েছে সেহেতু এই বাড়ি সম্পর্কে একটু কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। তাই আমরা এইকোথায় কোন কান দিলাম না। এরপর আমরা সেই বাড়িতে গিয়ে উঠি। বাড়িটা আসলেই অনেক বড় ছিলো। কিন্তু বোঝা যাচ্ছিলো যে বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা হয়নি। তাই পুরো বাড়িতেই ময়লা দিয়ে ভরা ছিলো। এরপর আমি আর আসিফ মিলে পুরো বাড়ি পরিষ্কারের কাজে লেগে পড়ি। আমাদের মেয়ে রাত্রিও যতটুকু পারে আমাদের সাহায্য করছিলো। এছাড়াও আমাদের প্রয়োজনীয় সব আসবাব পত্র আসিফ বাজার থেকে কিনে এনেছিলো। আমরা পুরো এক সপ্তাহ কঠোর পরিশ্রম করে পুরো বাড়ি পরিষ্কার করে গুছাতে পেরে ছিলাম। কিন্তু এতো পরিশ্রমের পরেও আমরা অনেক খুশি ছিলাম। কারণ আমরা যে জন্য বাংলাদেশে আসি সেটা হলো এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। আর আমাদের বাড়িটা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের একটা রুপ।
চারিপাশে গাছে ঘেরা একটা বাড়ি আমাদের। বাড়ির উঠানেও নানান প্রজাতির গাছ লাগালাম আমরা। এতো সুন্দর একটা বাড়িকে মানুষ ভূতের বাড়ি কিভাবে বলে এটাই জানা নেই আমাদের! আমরা খুব আনন্দের সাথেই দিন কাটাতে লাগলাম সেখানে। কিন্তু আমাদের ভালো দিন বেশিদিন থাকলো না। এক রাতে হঠাৎ বাহিরে প্রচুর বাতাস হচ্ছিলো। মনে হয়েছিলো বড় কোনো ঝড় হবে। তাই আমি দ্রুত ঘরের জানালা আটকাতে গেলাম। জানালা আটকাতে গিয়ে যেই জানালা দিয়ে বাহিরে তাকালাম দেখলাম আমাদের বাড়ির উঠানে একটা সাদা কাপড় পড়া বৃদ্ধা বড় বড় চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বৃদ্ধার দৃষ্টিটা অনেক ভয়ংকর ছিলো। সে যেনো তার চোখের ইশারায় আমায় কিছু বলতে চাচ্ছিলো। কিন্তু আমি হঠাৎ বৃদ্ধাকে দেখে বেশ ভয় পেয়ে গেলাম। ভয় পেয়ে চিৎকার করে আসিফকে ডাকতে লাগলাম, - আসিফ!!কোথায় তুমি ?? তাড়াতাড়ি এইদিকে আসো!! আমার চিৎকার শুনে আসিফ দ্রুত আমার কাছে এসে জানতে চাইলো যে, আমি কেনো চিৎকার দিলাম!! যেই আসিফকে সেই বৃদ্ধাকে দেখাতে বাহিরে তাকালাম। দেখলাম সেখানে কেউ নেই। আমি আসিফকে বৃদ্ধাটার কথা বললাম। আসিফ আমাকে বললো যে এটা হয়তো আমার মনের ভুল ছিলো। আমিও তাই এটাকে স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছিলাম। এরপরে যখন রাতে ঘুমাতে যাবো ঠিক তখনি আমি আর আসিফ দুজনেই ঘরের বাহির থেকে একটা বৃদ্ধার কান্নার আওয়াজ পেলাম। একেই রাত ছিলো। এরপর আবার নির্জন একটা বাড়িতে শুধু আমরা ৩ জন ছিলাম। তারউপর চারিদিকে ঝড়বাতাস বইছিলো। সেই বৃদ্ধার কান্নার শব্দও যেনো আমাদের কাছে বেশ ভয়ংকর লাগছিলো। রাত্রি তখন ঘুমিয়ে ছিলো।
না হলে সে হয়তো আরো বেশি ভয় পেয়ে যেতো। এরপর আমি আসিফকে বলি যে, এতোরাতে এখানে কোন ভালো মানুষ আসবে না। আর আমাদের আশেপাশেও তো কোন বাড়িও নেই। তাহলে নিশ্চই এখানে খারাপ কেউ এসেছে। .
কিন্তু আসিফ আমার কথা শুনলো না। সে বললো, আর যেই হোক না কেনো! কোন ভুত তো আর আসবে না। হয়তো কোন বৃদ্ধা বিপদে পরেই এখানে এসেছে। আমাদের তাকে সাহায্য করা উচিত। এরপর আসিফ ধীরে ধীরে দরজাটা খুলতে যায়। আমি বেশ ভয় পেয়েই সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার চোখে শুধু ভেসে আসছিলো জানালা দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকা সেই বৃদ্ধাটার মুখ আর তার ভয়ানক দৃষ্টি। এরপর আসিফ দরজাটা খুলে যা দেখলো,,"
.
.
উপরের এতটুকু লেখা একটানা পড়লাম ডায়েরি থেকে। কিন্তু এর পরে কি হলো?!! আসিফ আর মিশি কাকে দেখেছিলো! এই প্রশ্নটাই মাথা দিয়ে ঘুরতে লাগলো। এরপরের কি ঘটেছে তা জানতে পরের পৃষ্ঠা উল্টাতে গেলাম কিন্তু কিছুতেই পরের পৃষ্ঠা উল্টাতে পারছিলাম না। আমি স্পষ্ট দেখছিলাম ডায়েরিতে আরো অনেকগুলো পৃষ্ঠা রয়েছে পড়ার জন্য এবং সেগুলো কোন ভাবেই আঠা দিয়ে লাগানো ছিলো না। কিন্তু আমি হাজার চেষ্টা করেও পরের পৃষ্ঠাটা কিছুতেই পাল্টাতে পারছিলাম না। একেই মনে থাকা প্রশ্নগুলো আমার মাথায় ঘুরে মাথাটা নষ্ট করছিলো তার উপর এতো চেষ্টা করার পরেও কিছুতে পৃষ্ঠা পাল্টাতে পারছিলাম না।
এর জন্য আমার মাথায় প্রচুর যন্ত্রনা শুরু হয়ে যায়। আমার মাথা প্রচুর ব্যাথা করতে শুরু করে। হঠাৎ আবার আমি সেই গোলাপের গন্ধ পেয়ে আৎকে উঠলাম। গোলাপের গন্ধ পেয়ে যেই পিছনে তাকালাম দেখলাম রমিজ চাচা চায়ের কাপ হাতে দাঁড়িয়ে আছে। আমি রমিজ চাচাকে দেখে আৎকে বসা থেকে দাঁড়িয়ে উঠলাম। রমিজ চাচা না একটু আগে মোবাইলে আমাকে বললো যে সে এখনো গ্রামেই আছে!! তাহলে এখন আবার কে আসলো!! অবাক হয়ে রমিজ চাচাকে প্রশ্ন করলাম:-
-রমিজ চাচা!! তুমি?
.
এরপর রমিজ চাচা উত্তর দিলো:
-জ্যা বাবু। আসলে চা বানাইতে গিয়া একটু ঘুমাইয়া গেছিলাম। হঠাৎ ঘুম থিকা উইঠা মনে পড়লো যে আপনে চা খাইতে চাইছিলেন। তাই আপনের লাইগা চা বানাইয়া নিয়া আইছি। . . . . . 




Horror Story In Bengali Language 3rd Part

.
এরপর আমি অবাক হয়ে ভাবতে লাগলাম কিছুক্ষন আগেইতো আমি পুরো বাড়ি খুজে এসেছিলাম কিন্তু রমিজ চাচাকেতো কোথাও খুজে পাই নি। আর রমিজ চাচাতো মোবাইল করার পর আমাকে বললেন যে সে এখনো গ্রামের বাড়িতেই আছেন আর তার ফিরতে আরো ২ দিনের বেশি সময় লাগবে। তাহলে আমার সামনে এখন কে দাড়িয়ে আছে!! আমি কিছুটা কাঁপা কন্ঠে রমিজ চাচাকে প্রশ্ন করলাম:
-আমিতো পুরো বাড়ি তোমায় ডাকতে ডাকতে খুজলাম কিন্তু তোমাকেতো কোথায় দেখতে পেলাম না। তুমি কোথায় ঘুমিয়ে ছিলে?!!
-জ্যা বাবু। খুব গরম লাগতাছিলো তাই ছাদে গিয়া ঘুমাইতাছিলাম। আপনেতো জানেনই যখন আমি ঘুমাই আমার আর কোন হুশ থাকে না। তাই হয়তো ডাক
শুনতে পাই নাই।
-কিন্তু আমিতো তোমায় কল দিলাম। তুমি বললে যে তুমি এখনো তোমার গ্রামের বাড়িতেই আছো! আসতে আরো ২ দিন লাগবে?
-কি কন বাবু? আমার মোবাইল তো নষ্ট। আর এইসব কথা আমি কেন কমু?!!
.
.
আমি রমিজ চাচার কথা শুনে অনেক চিন্তায় পরে গেলাম। রমিজ চাচাকে দেখে মনে হচ্ছে না যে সে মিথ্যা কথা বলছে। কিন্তু আমিতো একটু আগেই রমিজ চাচার সাথে ফোনে কথা বললাম। এরপর মোবাইলটা বের করে যেই দেখতে গেলাম যে রমিজ চাচার সাথে কয়টা বাজে মোবাইলে কথা বলেছি তখন আরো বেশি অবাক হয়ে গেলাম। আমার মোবাইল দেখাচ্ছিলো গত ২ দিনের মধ্যে রমিজ চাচার সাথে মোবাইলে আমার কোন কথাই হয়নি। আমি অবাক হয়ে রমিজ চাচার মুখের দিকে তাকালাম। তাহলে আমি একটু আগে কার সাথে মোবাইলে কথা বললাম!! আমার মাথায় তখন কিছুই আসছিলো না। আমি দ্বন্দ্বের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার সাথে এসব কি ঘটছে! কি এই ডায়েরির রহস্য! আর কোনটা আসল রমিজ চাচা!! এটা নাকি যার সাথে আমি কিছুক্ষন আগে কথা বললাম সে!! আর এই ডায়েরির পরের পৃষ্ঠাগুলোই বা কেনো খুলছে না! এইরকম আরো অনেক প্রশ্নই আমার মস্তিস্কে ঘুরতে থাকে। তখন আমার মাথা প্রচন্ড যন্ত্রনা শুরু করতে থাকে। আমি প্রচুর ভয় পেতে থাকি। আমি বুঝতে পারছিলাম যে ভয়ে আমার পুরো
শরীর কাঁপছিলো। আমার মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। আমি প্রায় অজ্ঞান হয়ে যেতে নেই। ঠিক তখনি রমিজ চাচা আমার দিকে ভয়ংকর দৃষ্টিতে তাকায়। আমার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে:
-বাবু। আপনে অনেক ক্লান্ত। আপনে অনেক অসুস্হ্য হইয়া পড়ছেন। আপনের এখন ঘুম প্রয়োজন। আপনে আমার লগে ঘরে চলেন। আপনে এখন ঘুমাইবেন।
.
.
আমি আর কিছুই বলতে পারছিলাম না। আমার যেনো মনে হচ্ছিলো কেউ আমাকে হিপনোটাইস করেছে। আমার পুরো শরীর যেনো অবশ হয়ে যেতে লাগলো। আমার চোখ গুলো লেগে আসতে লাগলো। আমি বুঝতে পারলাম যে রমিজ চাচা আমাকে ধরে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর আমার চোখ লেগে গেলো। আমি মনে হয় অজ্ঞান হয়ে গেলাম।
.
এরকিছুক্ষন পর আমার জ্ঞান ফিরলো। আমার জ্ঞান ফেরার পর চোখ খুলে তাকিয়ে দেখলাম আমি ঘরের বিছানায় শুয়ে আছি। আমার কপালে পানিতে ভেজানো একটা রুমাল। আমার নিজেকে অনেক ক্লান্ত মনে হচ্ছে। আমার শরীরে মনে হয় এক বিন্দু পরিমাণও শক্তি নেই। আমি ঘরের দিকে ভালো করে দেখতে লাগলাম ঘরে আমি ছাড়া আর কেউ নেই। একটু পর রমিজ চাচা হাতে এক গ্লাস গরম দুধ নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। আমার কাছে এসে আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে সে আস্তে আস্তে আমায় বললো:
-বাবু! আপনার প্রচুর জ্বর হইছে। কাল রাত থিকা কিছু খান নাই। এই দুধটুকু খাইয়া নেন। ভালো লাগবো।
.
আমি বেশ অবাক হলাম যে এতোরাতে রমিজ চাচা দুধ পেলো কোথায়!! কিন্তু তাকে এটা জিজ্ঞাস করার মতোও ক্ষমতা আমার নেই। আমার শরীরে কথা বলার মতোও কোন শক্তি নেই। তাই আমি রমিজ চাচাকে কিছু বলতে পারলাম না। রমিজ চাচা আমার মাথা কিছুটা উঁচু করে আমাকে দুধটা খাইয়ে দিলো। আসলেই দুধটা খাওয়ার পর একটু ভালো লাগছিলো। এরপর রমিজ চাচা একটা বাটিতে করে পানি এনে সেটাতে রুমাল ভিজিয়ে ভিজিয়ে আমার পুরো শরীর মুছে দেয়। রমিজ চাচা সব সময়ই আমার জ্বর আসলে এমন করতেন। কিন্তু আজ তার ব্যবহার একটু অদ্ভুত রকমের মনে হচ্ছিলো। তার শরীরের ভেতর কেমন যেনো একটা মেয়েলি ভাব ছিলো। তার হাঁটা চলা আর কথা বলা আমার কাছে বেশ ভিন্ন রকম লাগছিলো। আমার পুরো শরীর অবশ থাকার পরেও আমি নাক দিয়ে তখনো স্পষ্ট গোলাপের গন্ধঁ পাচ্ছিলাম। এর কিছুক্ষন পরে আবার আমার চোখ গুলো লেগে গেলো। চোখ যখন খুললাম তখন সকাল হয়ে গেছে। সূর্যের আলো এসে পুরো আমার চোখের উপর পড়ছে। এখন দেখলাম আমার জ্বর এবং ক্লান্তি অনেকটাই কমে গেছে। শরীরো আর অবশ নেই। আমি আমার হাত আর পা ভালো করেই নড়াতে পারছিলাম। এরপর ঘর থেকে বেরিয়ে উঠানে গেলাম।
উঠানে গিয়েই প্রথমে সেই ডায়েরিটা খুজতে থাকি। কিন্তু উঠানের টেবিলটাতে ডায়েরিটা ছিলো না। আমি ভাবলাম হয়তো রমিজ চাচাই ডায়েরিটা ঘরে নিয়ে রেখেছে। এরপর রমিজ চাচাকে ডাকতে থাকি। কিন্তু সেই গতকাল রাতের মতো একই ঘটনা ঘটলো। রমিজ চাচাকে পুরো বাড়িতে খুজে পেলাম না। আবার রমিজ চাচা কোথায় গেলো!! আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না যে হঠাৎ আমার সাথে এসব কি ঘটছে!! রমিজ চাচা কি তাহলে গতকালকে আর আসেনি!! কিন্তু আমার স্পষ্ট মনে আছে যে রমিজ চাচা সারারাত আমার সেবা করে আমাকে সুস্হ্য করে তুলেছেন। এরপর আমি চুপচাপ উঠানের চেয়ারে এসে বসে ছিলাম। হঠাৎ আমার মোবাইলে একটা কল আসলো। মোবাইলটা পকেট থেকে বের করে দেখলাম রমিজ চাচার নাম্বার থেকে কল এসেছে। কিন্তু রমিজ চাচার মোবাইল থেকে কল আসায় আমি মোটেও অবাক হলাম না। আসলে গতকাল রাত থেকে আমার সাথে যা যা ঘটছে তাতে আমার সকল অনুভূতিগুলো মারা গেছে। এখন ধীরে ধীরে যেনো আমার চিন্তা শক্তি কমে যেতে লাগলো। প্রথমবার কলটা ধরলাম না। ২য় বার কলটা ধরে বললাম:
-হ্যালো। রমিজ চাচা! কোথায় তুমি?
-জ্যা বাবু। আমি এখনো গ্রামেই আছি। তয় আজকা রাইতেই রওনা দিমু। আপনার কাছে পৌছাইতে পৌছাইতে কালকে সকাল হইয়া যাইবো। কালকা সকালেই তাইলে আমাদের দেখা হইতাছে।
-আচ্ছা। দেখেশুনে
ভালো করে আসো। আর কিছু বলবে?
-না বাবু।
.
এরপর আমি কলটা কেটে দিলাম। চুপচাপ বসে থাকলাম বাড়ির উঠানে। রমিজ চাচা তাহলে কাল সকালে আসবেন। রমিজ চাচা বাড়িতে না আসলে আমার মাথা কিছুতেই ঠান্ডা হবে না।
.
এরপর মোবাইলটার কল লিস্ট থেকে দেখতে লাগলাম যে গতকাল রমিজ চাচার সাথে আমার কথা হয়েছিলো কিনা! এটা দেখে কিছুটা অবাক হলাম। গতকাল রাতে যখন রমিজ চাচার সামনে মোবাইল থেকে চেক করছিলাম যে রমিজ চাচা কল দিয়েছিলো কিনা। তখন দেখেছিলাম যে গত ২ ধরে রমিজ চাচার সাথে আমার কোন কথাই হয়নি। কিন্তু এখন স্পষ্ট দেখতে পারছি গতকাল রাতে রমিজ চাচার সাথে আমার মোবাইলে কথা হয়েছে।
.
আমি এবার মাথা ঠান্ডা করে সব কিছু চিন্তা করতে লাগলাম। এরপর বুঝতে পারলাম যে গতকাল রাতে যে আমার কাছে এসেছিলো সে রমিজ চাচা ছিলো না। কারণ তার ভেতর একটা অন্য রকম আচরণ আমি দেখতে পেয়েছিলাম। হয়তো সে কোন অন্য দুনিয়ার মানুষ ছিলো। কিন্তু সে যেই হোক না কেনো আমার কাছে কেনো আসলো?! আর সে আমাকে এই ডায়েরিটাই বা কেনো দিলো?! আর এই ডায়েরির পরের অঃশেই বা কি আছে?! কে এই সানজিদা আফজাল মিশি?! আর সে এখন কোথায় আছে?!
.
এই সকল প্রশ্নের উত্তর এবং সকল রহস্যের সমাধান পেতে আমাকে প্রথমে সেই ডায়েরিটা খুজে বের করতে
হবে। কিন্তু ডায়েরিটা এখন কোথায়?! এরপর পুরো বাড়িতে ভালো করে কয়েক বার ডায়েরিটা খুজলাম। কিন্তু পুরো বাড়ি খুজেও কোথাও ডায়েরিটা খুজে পেলাম না। আমি খুব হতাশ হয়ে পড়লাম। তাহলে কি আমার আর রহস্য জানা হবে না!
.
এরপর ভাবলাম। থাক! ডায়েরিটা আর খুজে না পেলেই ভালো হবে। এই ডায়েরিটা আমার জন্য অভিশপ্ত। ডায়েরিটাই আমার বাড়িতে অভিশাপ বয়ে নিয়ে এসেছে। এই একটা অভিশপ্ত আত্মাকে রমিজ চাচার বেশে আমার বাড়িতে নিয়ে এসেছে।
.
এরপর সারাদিন স্বাভাবিক ভাবেই কাটিয়ে দিলাম। সারাদিনে আর সেই ডায়েরিটা চোখে পড়েনি। আমি শুধু ভাবছিলাম যাতে রমিজ চাচা কাল সকালেই দ্রুত চলে আসুক।
.
এরপর দেখতে দেখতে রাত প্রায় ১০ টা বেজে গেলো। আমি ভাবলাম তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ি। এরপর বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। কিন্তু ঘুমানোর পর রাতে একটা অদ্ভুত ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলাম।
.
স্বপ্নে যা দেখলাম! "আমি একটা অচেনা অদ্ভুত বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। বাড়িটা দেখতে অদ্ভুত সুন্দর। বাড়িটা বেশ নির্জন ছিলো। তাই দেখতে কিছুটা ভুতুরে ছিলো। কিন্তু বাড়িটা চারিদিক থেকে অনেক সুন্দর গাছে ঘেরা ছিলো। বাড়ির উঠানেও নানান রকমের সুন্দর গাছ ছিলো। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম চারিদিক পুরো অন্ধকার হয়ে গেলো।
আমি অন্ধকারে কিছুই আর দেখতে পারছিলাম না। হঠাৎ মোমবাতি হাতে একটা মেয়ে আমার সামনে এসে দাড়ালো। মোমবাতির আলোতে মেয়েটাকে ভালোমতে দেখা যাচ্ছিলো না। তার মুখটা একটু একটু দেখতে পারছিলাম। এরপর মেয়েটা মোমবাতিটা আমার হাতে দিয়ে গম্ভীর কন্ঠে আমাকে বলে। বাড়ির ভেতরে চলুন। আমি আর কিছু বলতে পারলাম না। মোমবাতিটা হাতে নিয়ে মেয়েটার সাথে ধীরে ধীরে বাড়িটার ভেতরে ঢুকলাম। এরপর মেয়েটা আমাকে আঙুলের ইশারা করে একটা গোলাপ গাছ দেখালো এবং আমাকে একটা কোদাল দিয়ে বললো গোলাপ গাছ টার নিঁচে খুঁড়তে। আমি তখনো তাকে কিছু বলতে পারলাম না। আমি কোদালটা নিয়ে গোলাপ গাছটার নিচের মাটি খুঁড়তে লাগলাম। মেয়েটা মোমবাতি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলো। আমি কিছুক্ষন খোঁড়ার পর বুঝতে পারলাম যে আমি শুধু কোন গোলাপ গাছের নিচে খুড়ছিলাম না। আমি একটা পুরাতন কবর খুঁড়ছিলাম। একটা পুরাতন কবরের উপর এই গোলাপ গাছটা ছিলো। এটা একটা কবর ভেবে আমি ভয়ে ভয়ে কবরটা খুঁড়তে লাগলাম। কবর খুঁড়ার পর যা দেখলাম তাতে আমি একটু বেশিই ভয় পেয়ে গেলাম। দেখলাম কবরটার নিচে একটা পাটি বিছানো রয়েছে। মনে হচ্ছিলো যে পাটির নিচে কিছু একটা আছে। এরপর আমি ভয়ে ভয়ে পাটিটা সড়ালাম। দেখলাম কাফনে মোরা ৩ টা তাজা লাশ। কবরটা অনেক পুরাতন ছিলো কিন্তু লাশগুলো দেখে মনে হচ্ছিলো কিছুক্ষন আগেই কেউ একজন এখানে কবর দিয়ে গেছে। আমি বেশ অবাক হয়ে গেলাম এই লাশগুলো দেখে। এখানে ২ টা বড় মানুষের এবং একটা বাচ্চার লাশ ছিলো। এরপর সেই মোমবাতি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা আমাকে বললো লাশ গুলোর উপর থেকে কাফনের কাপড় সড়াতে। আমি বেশ ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু কিছু বলতে পারি না। কি ভয়ানক দেখতে লাগছিলো সেই কাফনে মোরা লাশগুলো। তার উপর আমি আবার একা কবরের ভেতরে ছিলাম। আমি ভয়ে ভয়ে লাশ গুলোর শরীর থেকে কাফনের কাপড় সড়ালাম। দেখলাম সেখানে এক পাশে একটা বাচ্চা মেয়ের লাশ ছিলো, আরেকপাশে একজন পুরুষের লাশ। আর মাঝখানে একটা মেয়ের লাশ। ৩ টা লাশের চেহারাই বেশ ভয়ংকর ছিলো। কিন্তু আমার কাছে মাঝখানের সেই মেয়েটার লাশের চেহারা বেশি ভয়ংকর আর চেনা চেনা লাগছিলো। এরপর মনে পড়লো। আরে এটাতো সেই মেয়েটার লাশ যে এখন কবরের উপর থেকে মোমবাতি ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এরপর আমি ভয়ে ভয়ে কবরের উপরে তাকালাম। দেখলাম সেই মোমবাতি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা আর এই কবরে যে মেয়েটার লাশ রয়েছে দুজনে একই চেহারার। এরপর কবরের উপরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা আমার দিকে বড় বড় লাল চোখ করে তাকিয়ে ভয়ংকর ভাবে হাসছিলো। আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। এরপর মেয়েটার কাছে জানতে চাই -তুমি কেনো হাসছো!! কিন্তু মেয়েটা কোন উত্তর না দিয়ে হেসেই চলে। এরপর আমি মেয়েটার লাশের দিকে তাকালাম। দেখলাম মেয়েটার লাশ ভয়ংকর ভাবে চোখ খুলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি ভয়ে আৎকে উঠলাম। এরপর মেয়েটার লাশ আমার হাতটা শক্ত করে ধরে ভয়ংকর ভাবে হাসতে শুরু করলো। আমি উপরে তাকিয়ে দেখলাম মোমবাতি হাতে সেই মেয়েটা দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ভয়ংকর ভাবে হাসছিলো। আবার সেই মেয়েটার লাশই আমার হাত শক্ত করে ধরে কবরের ভেতর ভয়ংকর ভাবে হাসছে। একই চেহারার দুজন মেয়ের এই ভয়ংকর হাসি দেখে আমি ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করলাম -বাঁচাও! কে কোথায় আছো? আমাকে সাহায্য করো! রমিজ চাচা!?
"
.
.
এরপরেই আমার ঘুমটা ভেঙে যায়। আমি আৎকে শুয়া থেকে বসে পড়লাম। এতো রাতে এইরকম ভয়ংকর স্বপ্ন দেখার কোন মানে হয়?! এই রকম একটা স্বপ্নই বা কেনো দেখলাম তার উত্তরো আমার কাছে নেই।
.
ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে দেখলাম রাত তখন প্রায় ২ টা বাজে। হঠাৎ আমার চোখ গেলো আমার বিছানায় আমার পায়ের কাছে। আমি দেখলাম আমার পায়ের পাশেই সেই ডায়েরিটা খোলা অবস্হায় পরে রয়েছে। হঠাৎ ডায়েরিটা এখানে কিভাবে আসলো তাও বুঝলাম না।
.
এরপর ডায়েরিটা হাতে নিলাম। হাতে নিয়ে দেখলাম, গতরাতে যেখানে ডায়েরিটা শেষ করেছিলাম ঠিক তার পরের অংশের পৃষ্ঠা বেরিয়ে রয়েছে। এরপর আবার আমি ডায়েরিটা পড়া শুরু করলাম,




Horror Story In Bengali Language 4th Part

এরপর ডায়েরিটা হাতে নিলাম। হাতে নিয়ে দেখলাম, গতরাতে যেখানে ডায়েরিটা শেষ করেছিলাম ঠিক তার পরের অংশের পৃষ্ঠা বেরিয়ে রয়েছে। এরপর আবার আমি ডায়েরিটা পড়া শুরু করলাম। ডায়েরিতে যা লেখাছিলো :-
.
"এরপর আসিফ দরজা খুলে যা দেখলো! দরজার বাহিরে কেউ নেই। আসিফ আরো কৌতুহলতা নিয়ে ঘরের বাহিরে গেলো। কিন্তু সে আশেপাশে অনেক খুজেও কোন বৃদ্ধা বা কোন মানুষকেও খুজে পেলো না। এরপর আমি আর আসিফ বেশ ভয় পেয়ে যাই। এতো রাতে তাহলে কান্নার আওয়াজ আসছিলো কোথা থেকে?! আমরা কিছু বুঝতে না পেরে দরজা আটকে আবার শুইয়ে পড়ি। কিছুক্ষন পর আবার আমরা সেই বৃদ্ধার কান্নার শব্দ শুনতে পাই। এরপর আসিফ আবার দরজা খুলে দেখতে যায় যে কে কান্না করছে!! কিন্তু দরজা খোলার পর সেই একই ঘটনা ঘটে। আসিফ বাহিরে কাউকেই দেখতে পেলো না। এরপর আবার দরজা আটকে আমরা শুয়ে পড়ি। এরপর আরো কয়েকবার আমরা বাহিরে বৃদ্ধার কান্নার শব্দ শুনতে পাই। কিন্তু দরজা খুললে আর কাউকেই দেখা যায় না। এরপর বিরক্ত হয়ে কান্নার শব্দ শোনার পরেও আমরা আর দরজা খুলি না। আমরা চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়ি। এরপরের দিনটা আমাদের ভালোভাবেই কাটে। কিন্তু রাতের বেলা দরজার বাহিরে আবার সেই কান্নার শব্দ শুনতে পাই। কিন্তু আজ একটু ভিন্ন রকম কান্নার শব্দ পেলাম। একটা বাচ্চা মেয়ের কান্নার শব্দ! কিন্তু তাদের কান্নার শব্দ শুধু ঘরের ভেতর থেকেই শুনা যায়। ঘরের বাহিরে গেলে আর কাউকে দেখা যায় না। এরপর আমি একটু জানালার কাছে গেলাম। গিয়ে দেখলাম জানালার বাহিরে সেই বৃদ্ধাটি আজো জানালা দিয়ে ভয়ংকর দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু আজ তার পাশে আরেকটা বাচ্চা মেয়েও দাড়িয়ে ছিলো। আমি অনেক ভয় পেয়ে গেলাম। কিন্তু তাদের দিক থেকে চোখ সড়ালাম না। এই ভেবে যে চোখ সড়ালে যদি আবার এরা অদৃশ্য হয়ে যায়। এরপরেই আসিফকে হাতের ইশারা করে জানালার দিকে ডাকলাম। আসিফ দ্রুত এসে জানালা দিয়ে বাহিরে তাকালো। আজ আসিফো জানালার বাহিরে সেই বৃদ্ধা আর একটা বাচ্চা মেয়েকে দেখতে পেলো। আসিফ বেশ সাহসি ছেলে ছিলো। তাই সে দ্রুত দরজা খুলে। দৌড়ে বাহিরে গেলো বৃদ্ধাটাকে ধরতে। আমিও অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ঘরের বাহিরে গেলাম না। কারণ রাত্রি তাহলে একা ঘরে ঘুমিয়ে থাকবে। আর ও ঘুম থেকে উঠে যদি দেখে যে সে একা রয়েছে তাহলে ভয় পেয়ে যাবে।তাই আমি বাহিরে না গিয়ে দরজাটা ভেতর থেকে আটকে দিলাম আর জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম আসিফ কোথায়! কিন্তু দেখলাম, আসিফ, সেই বৃদ্ধা বা বাচ্চা মেয়ে কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। আমি অনেক্ষন আসিফের জন্য অপেক্ষা করলাম কিন্তু সে আসলো না। দীর্ঘ এক ঘন্টা যখন কেটে যায় তখন আমার ভয় আরো বেড়ে যায়। আসিফ এখনো আসছে না কেনো?! তার কি কোন বিপদ হলো!! এর একটু পরেই হঠাৎ দরজায় কারো আসার শব্দ পেলাম। ঠকঠক করে দরজা কেউ বাহির থেকে ধাক্কাচ্ছিলো। প্রথমে ভাবলাম হয়তো আসিফ এসেছে।
পরে ভাবলাম। যদি অন্য কেউ এসে থাকে তাহলে কি করবো! ঘরে এখন শুধু আমি আর রাত্রিই রয়েছি। এরপর ভয়ে ভয়ে দরজার কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলাম:
-বাহিরে কে? কে এসেছেন? আসিফ তুমি??
.
কিন্তু দরজার ওপাশ থেকে কোন উত্তরই আসলো না। আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম। বুঝতে পারছিলাম ওপাশ থেকে কেউ দরজা দ্রুত ধাক্কাচ্ছে খোলার জন্য। কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে না কেনো!! তাহলে কি অন্য কেউ এসেছে!! নাকি আসিফেরই কিছু হয়েছে যার জন্য সে কথা বলতে পারছে না। আমি পুরোই দ্বন্দ্ব পরে গেলাম। এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম যে, যা হওয়ার হবে। আমাকে দরজাটা খুলতেই হবে। এরপর সাহস করে দরজাটা খুলেই ফেললাম। দরজা খুলে যাকে দেখলাম তাতে বেশ রেগে গেলাম। আসিফ এসেছে! সে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতে হাসতে প্রশ্ন করলো:
-কি হলো! ভয় পেয়ে গিয়েছিলে নাকি?! ভুত এসেছে ভেবেছিলে ?!
.
আমি
আসিফের এই রসিকতা দেখে বেশ রেগে গেলাম। এরপর হঠাৎ আমার চোখ গেলো আসিফের হাতের উপর। আসিফের হাতে যা দেখলাম আমি ভয়ে পুরো আৎকে উঠলাম। আসিফের হাতে একটা সাদা কাপড়। কাপড়টা দেখে আমার চিন্তে বাকি রইলো না যে। আরে! এটাতো সেই কাপড়টা যেটা কিছুক্ষন আগে সেই বৃদ্ধার পরনে দেখেছিলাম। কিন্তু এটা আসিফ পেলো কোথায়!! আমি অবাক হয়ে আসিফের কাছে জানতে চাই যে, এটা আসিফ কোথা থেকে পেলো!! আসিফ হাসতে হাসতে উত্তর দিলো:
-আরে এটা নকল ভুতের জামা। আমি তোমার ইশারার পর সেই বৃদ্ধা ভুতটাকে ধরতে ঘরের বাহিরে গেলাম। আমাকে দেখেই বৃদ্ধাটা, বাচ্চাটাকে নিয়ে দৌড়াতে শুরু করে। কিছুদুর জাওয়ার পর হঠাৎ তার কাপড়টা শরীর থেকে খুলে যায়! আমি দেখলাম। আরে! এটাতো কোন বৃদ্ধা না। একটা পুরুষ। সাদা শাড়ী পড়ে ভুত সেজে আমাদের ভয় দেখাতে এখানে এসেছিলো। আমি লোকটাকে ধরতে যেই পিছু ছুটলাম হঠাৎ একটা গাড়ি এসে লোকটাকে নিয়ে চলে গেলো। ভুতেরা কি আবার গাড়ি ব্যবহার করে নাকি! হাহাহা। নিশ্চই কেউ আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তাই এসব করেছে। (আসিফ)
-কিন্তু আমাদের ভয় দেখিয়ে কার কি লাভ হবে?! আমাদেরতো আর কারো সাথে এখানে শত্রুতা নেই।
(আমি)
-এটার উত্তরতো আমার কাছেও নেই। তাই একটু চিন্তায় আছি। কারা ছিলো এই লোকগুলো?!!
আর আমাদের ভয় দেখাতেই বা এতোরাতে এখানে এসেছিলো কেনো!!
-আচ্ছা বৃদ্ধাটা যদি ভুতই না হয় তাহলে আমরা যে রাতে কান্নার শব্দ পাই এটা কার!! আমরাতো তখন ঘর থেকে বেরিয়ে আর কাউকে দেখতে পাইনা।
-এটার উত্তর কাল সকালেই আমরা পাবো। এখন তুমি ঘুমাও মিশি। একদম চিন্তা করো না বা ভয় পেয়ো না। সব ঠিক হয়ে যাবে।
.
.
এরপর আসিফের কথা শুনে আমার চিন্তা কিছুটা কমলো। কারণ আর যাই হোক কোন ভুততো আমাদের বাড়িতে আসেনি! এরপর কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়ে আমরা ঘুমিয়ে পড়লাম। যদিও এই অচেনা লোকগুলোর রহস্য তখনো আমাদের মাথা থেকে যায়নি। এরপরের দিন সকালবেলা আমাদের ঘুম ভাঙে। ঘুম ভাঙার পর আসিফ আমাকে নিয়ে ঘরের বাহিরে যায়। এরপর সে আমাকে ঘরের দরজার উপরে যা দেখালো আমি পুরোই অবাক হয়ে গেলাম। আমি দেখলাম আমাদের ঘরের দরজার উপরে একটা ছোট বক্সে সাউন্ড সিস্টেম বসানো। আমাদের বুঝতে বাকি রইলো না এর মাধ্যমেই কৃত্রিমভাবে কেউ ভয়ংকর কান্নার শব্দ করে আমাদের ভয় দেখাতো। এরপর আমরা সেই বক্সটা খুলে ফেলি। আমাদের এখন একটুও সন্দেহ নেই এই বিষয়ে যে নিশ্চই কেউ আমাদের ভয় দেখানোর জন্য এসব কাজ করছে! কিন্তু আমাদের ভয় দেখিয়ে কার কি লাভ হবে! হয়তো কেউ চায় যে আমরা এই বাড়িতে না থাকি। কিন্তু কেনো?! কারা তারা?!
এর কোন উত্তর আমাদের কাছে ছিলো না। হয়তো এর আগে যারা এই বাড়ি থেকে ভুতের ভয়ে চলে গেছে তারা এই লোকগুলোর পাগলামোরই স্বীকার হয়েছে। তাই আশেপাশের লোকেরাও এটাকে ভুতের বাড়ি হিসাবে জানে। এরপরের এক সপ্তাহ আমাদের সাথে আর অন্য রকম অদ্ভুদ কিছু ঘটেনি। আমরা স্বাভাবিক ভাবেই আবার আমাদের দিন কাটাচ্ছিলাম। আমাদের বাড়িটা বেশ বড় ছিলো। তাই এখানে অনেকগুলোই ঘর ছিলো। সবগুলো ঘরই আমি পরিষ্কার করেছিলাম। শুধু একটা ঘর বাদে। আসলে সেই ঘরটা বাহির থেকে দেখতে বেশ ছোট এবং নোংরা মনে হতো তাই কখনো সেই ঘরে যাওয়ার কথা ভাবিনি। এছাড়াও ঘরটার বাহিরে একটা বড় তালা দেওয়া ছিলো। যার চাবি আমাদের কাছে ছিলো না। তাই আমরা কখনো তালাটা ভাঙার কথাও ভাবিনি। কিন্তু আজ সকালে যেই রান্নাঘরে রান্না করছিলাম হঠাৎ রান্না ঘরের এক কোণে একটা চাবি দেখতে পেলাম। চাবিটা বেশ বড় ছিলো। আমার কেনো জানি মনে হলো যে চাবিটা হয়তো সেই ঘরের যে ঘরটা এখনো খোলা হয়নি। কৌতুহল বসতই চাবিটা নিয়ে সেই বদ্ধ ঘরের সামনে গেলাম। এরপর সাহস করে চাবিটা তালার ভেতর ঢুকিয়ে দিলাম তালাটা খোলার জন্য। আমাকে অবাক করে দিয়ে সাথেসাথেই তালাটা খুলে গেলো। এরপর আমি আস্তে করে দরজাটা ধাক্কা দিতেই দরজাটা খুলে গেলো।
আমি ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে ঢুকলাম। ঢুকেই বুঝতে পারলাম যে ঘরটাতে অনেক বছর ধরে কেউ আসে না। ঘরের চারিদিক ময়লা,ধুলা আর মাকড়সার জালে ভরা ছিলো। ঘরটা ছোট ছিলো কিন্তু পুরো ঘরটা অপ্রয়োজনীয় জিনিসে ভর্তি ছিলো। আমি ঘরের ভেতর একটা বুকসেলফ দেখতে পেলাম। সেখানে মাত্র কয়েকটা বই ছিলো। আমি বইগুলো দেখলাম না। এরপরে ঘরের আরেক কোনে নজর যেতেই দেখলাম যে একটা সিন্দুকের মতো কিছু পরে রয়েছে সেখানে। সিন্দুকটা বন্ধ করাছিলো কিন্তু কোন তালা দেওয়া ছিলো না। এরপর আমি সিন্দুকটা খুলে দেখলাম পুরো সিন্দুকে শুধু মাত্র একটি ছোট বাক্স রয়েছে। প্রথমে বাক্সটা কিসের সেটা বুঝতে পারলাম না। এরপর সেটা খুলে দেখলাম সেখানে বেশকিছু ছোট কাঁচের টুকরার মতো চকচকে বস্তু রয়েছে। কাঁচের টুকরাগুলো দেখতে বেশ সুন্দরছিলো। কিন্তু বাড়ির এতোটা ভেতরে এই সামান্য কাঁচের টুকরা এতোটা গোপনভাবে আর যত্ন করে রাখার মানেটা বুঝলাম না আমি। এরপর ঘরটার তালা আবার লাগিয়ে ঘরের বাহিরে চলে আসলাম। আসার সময় শুধু সেই কাঁচের টুকরা গুলো নিয়ে আসলাম। ভাবলাম আমার মেয়ে রাত্রি এই কাঁচের টুকরাগুলো দেখলে বেশ খুশি হবে! সে এইসব জিনিস নিয়ে খেলতে খুব ভালোবাসে। এরপর ভাবনামতোই কাঁচের টুকরা গুলো রাত্রিকে দিলাম খেলার জন্য।
.
রাত্রি সেইগুলো নিয়েই খেলছিলো। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যাঁ হয়ে গেলো। আসিফ বাড়িতে নেই। আমি রান্না ঘরে ছিলাম আর রাত্রি তার ঘরে সেই কাঁচের টুকরাগুলো নিয়ে খেলছিলো। একটুপর দরজায় কারো ধাক্কা দেওয়ার শব্দ শুনলাম। দরজাটা খুলে দেখলাম আসিফ এসেছে। আমাকে দেখেই একটা মুচকি হাসি দিয়ে ঘরে ঢুকলো সে। আমি আবার রান্নাঘরে চলে গেলাম। কিছুক্ষন পর হঠাৎ আসিফের জোরে চিৎকার শুনতে পাই:
-মিশি? মিশি? তাড়াতাড়ি এইদিকে আসো?
.
আমি আসিফের চিৎকার শুনে দ্রুত ঘরে যাই। আমি ঘরে ঢুকতেই আসিফ আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করে:
-রাত্রির হাতে এইগুলো কি?!! এইগুলো রাত্রি কোথায় পেলো?!!
.
এরপর আমি আসিফকে সব ঘটনা খুলে বললাম। সেই ঘরের কথা,চাবির কথা, সিন্দুকের আর বাক্সের কাঁচের টুকরাগুলোর কথা। এরপর আসিফ আমাকে যা বললো তা শুনে আমি পুরো আকাশ থেকে পড়লাম। আসিফ বললো:
-এইগুলো একটাও কাঁচের টুকরা না। এগুলো হীরার টুকরা। এইগুলো যে সে হীরা না। পৃথিবীর সবচেয়ে দামী হীরা গুলোর মধ্যে একটি এগুলো। এর মূল্য কয়েকশো কোটি টাকার উপরে।
.
আসিফের মুখে এইসব কথা শুনে আমি আরো বেশি অবাক হয়ে গেলাম। আমরা ভাবছিলাম যে এতো মুল্যবান হীরা গুলো এই বাড়িতে আসলো কিভাবে!!?
রাত্রি অনেক ছোট তাই সে আমাদের কথার মানে কিছুই বুঝতে পারছিলো না। আমি আর আসিফ চিন্তায় পরে গিয়েছিলাম যে এই হীরা গুলোকে নিয়ে এখন কি করা উচিত। এরপর আমরা কিছুটা আন্দাজ করতে পারলাম যে সেই লোকগুলোর ভুত সেজে আমাদের ভয় দেখানোর কারণ কি ছিলো। হয়তো তারা জানতো যে এই বাড়িতে হীরা রয়েছে! কিন্তু তারা এটা জানতো না যে বাড়ির কোথায় হীরা রয়েছে! তাই তারা ভুত সেজে আমাদের ভয় দেখিয়ে বাড়ি থেকে তাড়াতে চাচ্ছিলো। হয়তো এর আগের পরিবারগুলোকে এইভাবেই তারা তাড়িয়েছে। এরপর আসিফ বললো যে, এই হীরাগুলো আমাদের কাছে রেখে কোন লাভ নেই। এইগুলো আমরা সরকারের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে আসবো। হীরার প্রতি বা দ্রুত বড়লোক হওয়ার প্রতি লোভ আমারো কখনো ছিলো না তাই আমিও আসিফের সাথে একমত হই এই ব্যাপারে। আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে আগামীকাল সকালেই আমরা সরকারের কাছে এইগুলো বুঝিয়ে দিবো। কিন্তু পরের দিন সকাল আর আমাদের জীবনে আসেনি। এই এক রাতই আমাদের জীবনকে পুরো পাল্টে দিয়ে যায়। আমরা সেই হীরার টুকরাগুলোকে ঘরের এক পাশে যত্ন করে লুকিয়ে রাখি এবং এরপর ঘুমানোর প্রস্তুতি নেই। কিন্তু ঘুমটা আর আমাদের চোখে আসেনি। আমরা ঘুমাতে যাবো ঠিক তখনি হঠাৎ ঘরের বাহির থেকে আমরা গুলির আওয়াজ শুনতে পাই। আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই।
এতরাতে বাহিরে কারা গুলি করছে?!! একটু পর আমাদের ঘরের দরজাগুলো কেউ এসে জোড়ে জোড়ে ধাক্কাতে থাকে। আমি, আসিফ আর রাত্রি ৩ জনেই অনেক ভয় পেয়ে যাই। আমি আর রাত্রি দুজনেই ভয়ে আসিফকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বসে ছিলাম। আসিফের চোখের ভয়টা আমাকে আরো বেশি ভীত করে দিচ্ছিলো। আমরা ভেবেছিলাম যে, যাই হোক না কেনো দরজা আমরা কিছুতেই খুলবো না। কিন্তু ভাগ্য আমাদের সহায় হলো না। বাহিরের লোকগুলো ধাক্কাতে ধাক্কাতে দরজা ভেঙে আমাদের ঘরে ঢুকে গেলো। আমাদের ঘরে ৫ টা লোক ঢুকেছিলো। তাদের সবার হাতেই বন্দুক ছিলো। তাদের দেখেই মনে হচ্ছিলো যে তারা ডাকাত। তারা এসেই সোজা আমাদের দিকে বন্দুক ধরে জিজ্ঞাস করলো যে হীরা কোথায়? আমরা জানতাম যে তাদের যদি আমরা হীরা দিয়ে দেই তাহলে তারা এইগুলো অসৎ পথে ব্যবহার করবে। তাই আমরা বললাম যে হীরার কথা আমরা কিছুই জানি না। তাদের মধ্যে একজন আমাদের কথা কিছুতেই বিশ্বাস করতে চাইলো না। সে বললো যে সে নাকি কান পেতে শুনেছে যে আমরা হীরা নিয়ে কথা বলছি। আমরা আর কিছুই বলতে পারলাম না। তারা আমাদের শক্ত করে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেললো এবং এরপর আমাদের উপর অমানবিক অত্যাচার শুরু করে দেয় হীরা কোথায় এটা জানার জন্য। কিন্তু আমরা নির্বাক হয়ে থাকি কোন উত্তর
দেই না। এরপর সেই ডাকাত লোকগুলো যা করলো তা আমি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি। তারা রেগে আর কিছু না ভেবে বন্দুক দিয়ে আমার চোখের সামনে আমার মেয়ে রাত্রি এবং আমার স্বামী আসিফের মাথায় গুলি চালিয়ে দেয়। আমি কষ্টে চিৎকার দিয়ে উঠি:
-তোমরা এটা কি করলে!! তোমরা আমার হাত পা খুলে দাও। আসিফ আর রাত্রিকে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
.
কিন্তু তারা আমার চিৎকার শুনে না। তারা আমার কষ্ট চিৎকারে আরো আনন্দ পায়। তারা হাসতে থাকে। এইদিকে আমার সামনে মাটিতে পরে রয়েছে দুটি দেহ। একটি আসিফের আরেকটি আমার মেয়ে রাত্রির। বন্দুকের গুলিতে তাদের মাথা ছিদ্র হয়ে গেছে। তাদের রক্তে পুরো মাটি ভিজে গেছে। আমি অনেক চিৎকার করলাম অনেক অনুরোধ করলাম কিন্তু আমার চিৎকার তাদের কান পর্যন্ত পৌছালো না। আমার চোখের সামনে আমার স্বামী আর মেয়ে ছটফট করতে করতে মারা গেলো। আমি চুপচাপ তাকিয়ে শুধু দেখছিলাম। কিন্তু ডাকাটগুলো এখনো আমাকে কেনো খুন করেনি!! এটা কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না। এদের কোথায় বেশ বুঝতে পারছিলাম যে এরাই ভুত সেজে আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু এখন আমি চাচ্ছিলাম আসিফ আর রাত্রি যখন আর বেঁচে নেই। তাহলে আমি বেঁচে থেকে কি করবো!! তারা তাহলে আমাকেও মেরে ফেলুক। আমাদের ৩ জনকে একসাথে কবর দিয়ে দিক। কিন্তু তারা এটা করলো না। তারা আমার বাড়ির উঠানে আমার প্রিয় গোলাপ চারাটা উপরে ফেললো।
এরপর সেখানে অনেকটা কবরের মতো একটা গর্ত খুড়লো। এরপর আসিফ আর রাত্রিকে সেই কবরের ভেতর রক্তাক্ত অবস্হায় ফেলেই মাটিচাপা দিয়ে দিলো। আমি চিৎকার করে তাদের এটা করতে নিষেধ করছিলাম। কিন্তু তাদের নিষ্ঠুর হৃদয়ে আমার কান্না পৌছালোই না। আসিফ আর রাত্রিকে মাটি চাপা দেওয়ার পর তারা আরো কয়েকবার আমার কাছে হীরা কোথায় আছে এটা জানতে চেয়েছিলো। কিন্তু আমি নির্বাক ছিলাম তখন। আমার চোখে তখন শুধু আসিফ আর রাত্রির রক্তমাখা মুখটাই ভেসে আসছিলো। তাই আর কোন উত্তরই দিতে পারিনি তাদের। এরপর তারা আমার সাথে যা করলো তা আমাকে জীবন্ত লাশ বানিয়ে দিলো। সেই ডাকাত লোকগুলো আমাকে জোড় করে ঘরে নিয়ে গিয়ে একের পর এক জন নির্দয় ভাবে আমাকে ধর্ষন করলো। আমার আকুতি তাদের কান পর্যন্ত পৌছালো না। তারা আমার সাথে নরপশুর মতো ব্যবহার শুরু করে দেয়।তারা আমাকে হত্যা করলো না। তারা আমাকে সেই ছোট ঘরটাতে আটকে রাখতো সারাদিন এবং রাতে নরপশুর মতো একের পর এক আমার উপর ঝাপিয়ে পরতো। হয়তো এর জন্যই আমাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিলো। এইদিকে আমাদের খোঁজ নিতেও কেউ আসছিলো না এই ভুতুড়ে বাড়িতে। আমি কয়েকবার ভেবেছিলাম যে আত্মহত্যা করে মরে যাবো। কিন্তু পরে ভাবলাম আত্মহত্যা করা মানে হেরে জাওয়া। আমি কিছুতেই এই নরপশুগুলোর কাছে হারবো না। এরা আমার চোখের সামনে আমার নিরোপরাধ স্বামী এবং মেয়েকে খুন করেছে। এর প্রতিশোধ না নিয়ে আমার কিছুতেই মৃত্যু হতে পারে না। এরপর সারাদিন সেই ছোট ঘরটাতেই আটকে থাকতাম। একদিন আমার সেই বুক সেলফে চোখ গেলো।
সেখানে কিছু বই ছিলো। সেগুলো সব পৈশাচিক বিষয় নিয়ে লিখাছিলো। সেখানে লিখাছিলো পিশাচ দেবীকে পৃথিবীতে আহ্বানের নিয়ম। যদিও আমি কখনো এই অলৌকিকে বিশ্বাস করি না। তারপরেও এই বইগুলো ভালো করে পড়তে থাকলাম এবং এক পর্যায়ে আমার মনে পিশাচিক শক্তির উপর বিশ্বাস জন্মালো। এরপরে একদিন . . . . . "
.
এতটুকু লেখাই ছিলো ডায়েরিটাতে। এরপরে ডায়েরির আর কোন পৃষ্ঠা ছিলো না। কিন্তু এখানেতো ডায়েরিটা শেষ হওয়ার কথা না। এরপরে সানজিদা আফজাল মিশি কি করেছিলো?! সে কি পিশাচ দেবীকে পৃথিবীতে আনতে পেরেছিলো?! সে কি তার প্রতিশোধ নিতে পেরেছিলো?! এরপর কি হলো !! সে এখন কোথায় আছে?! আর এই ডায়েরিটাই বা কখনকার লেখা?! আর এই ডায়েরিতে যেই বাড়িটার কথা উল্লেখ আছে সেটাই বা কোথায়?! আর এই ডায়েরিটা পৃথিবীতে এতো মানুষ থাকতে আমার কাছেই কেনো আসলো?!
.
এতো প্রশ্ন আর এতো রহস্য রেখে একটা ডায়েরি কি করে শেষ হতে পারে!! ডায়েরিটার কি আরো কোন অংশ আছে! তাহলে সেটা কোথায়?! বুঝলাম যে এইসব প্রশ্ন এবং রহস্যের সমাধান আমাকে একমাত্র সেই বাড়িটাই দিতে পারবে যেখানে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে। আর এই ডায়েরিতেই বাড়িটার স্পষ্ট বিবরণ দেওয়া আছে। আমাকে প্রথমে সেই বাড়িতেই যেতে হবে যেখানে মিশিকে আটকে রাখা হয়েছিলো। সেখানেই সব রহস্যের সমাধান আছে। কিন্তু সেই বাড়িটার নাম আর ঠিকানা পাবো কোথায়!!?
.
এরপর হঠাৎ চোখ গেলো ডায়েরিটার একেবারে শেষ পৃষ্ঠার নিচে। সেখানে লেখিকা কোন বাড়ি থেকে বসে ডায়েরিটা লিখেছে সেই বাড়িটার নাম ছোটকরে লেখাছিলো।
.
আমি খুব আগ্রহ নিয়ে বাড়িটার নাম দেখতে যাই। কিন্তু যেই নামটা লেখাছিলো তা দেখে আমি পুরো আৎকে উঠলাম। এটা কি করে সম্ভব!! এই বাড়িটাতে কখন মিশিরা থাকতো। এই বাড়িতেই কিভাবে এতো রহস্য থাকতে পারে। আসলে বাড়িটার নাম ছিলো




Bhoutik Golpo 5th Part

.
আমি খুব আগ্রহ নিয়ে বাড়িটার নাম দেখতে যাই। কিন্তু যেই নামটা লেখাছিলো তা দেখে আমি পুরো আৎকে উঠলাম। এটা কি করে সম্ভব!! এই বাড়িটাতে কখন মিশিরা থাকতো! এই বাড়িতেই কিভাবে এতো রহস্য থাকতে পারে! আসলে বাড়িটার নাম ছিলো হরিনাথ বাংলো। আমার বাড়ির পাশেই যে বাংলোটা রয়েছে সেটার নামই হরিনাথ বাংলো। এই বাংলোটার কোথাই ডায়েরিটাতে লেখা আছে। যদিও আমি এই বাংলোতে কখনো যাইনি। তাই এই বাংলো সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্যও আমার জানা ছিলো না। হয়তো রমিজ চাচা এই বাংলো সম্পর্কে কিছু জানেন। কিন্তু সে তো আর এখন বাড়িতে নেই। কিন্তু এটা ভেবেই বেশ অবাক হই যে এই ডায়েরিতে যেই বাড়ির বর্ণণা দেওয়া হয়েছে সেটা আমার বাড়ির পাশের সেই হরিনাথ বাংলোটাই! এখানেই কি সেই মিশির পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে! কিন্তু তাহলে এ বিষয়ে এখানকার কেউ কিছু জানে না কেনো! মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরছিলো। কিন্তু একটা প্রশ্নেরও উত্তর মাথায় আসছিলো না! বুঝলাম যে নিজের মনে এতোটা খটকা রাখার কোন মানে হয় না। এই সকল রহস্যের সমাধান পাওয়া যাবে সেই হরিনাথ বাংলোতেই। তাই আমাকে প্রথমে সেই বাংলোতেই যেতে হবে। কিন্তু বাহিরে তাকিয়ে দেখলাম এখনো সূর্য উঠেনি। তাই ভাবলাম সকাল হলেই বরং সেখানে যাবো। এরমধ্যে হয়তো রমিজ চাচাও চলে আসবে। রমিজ চাচা অনেক পুরানো লোক তাই রমিজ চাচা আসলে সেই হরিনাথ বাংলো সম্পর্কে আরো ভালো করে জানা যাবে। এরপর আমি চুপচাপ শুয়ে পড়লাম সকালের অপেক্ষায়। কখন যে চোখগুলো লেগে গিয়েছিলো বুঝতে পারিনি। এরপর ঘুম ভাঙলো অনেক বেলায় রমিজ চাচার কন্ঠ শুনে। তখন প্রায় সকাল ১০টা বাজে। রমিজ চাচা হয়তো সকাল সকালই এখানে চলে এসেছে। আমি সাধারনতো এতো বেলা পর্যন্ত ঘুমাই না। তাই আমাকে এতো বেলা পর্যন্ত ঘুমাতে দেখেই রমিজ চাচা আমাকে ডাকলো। আর বললো:
-বাবু !! শরীর খারাপ নাকি যে এতোবেলা পর্যন্ত ঘুমাইতাছেন?!
-আরে রমিজ চাচা! তুমি কখন এলে। আর বলো না। রাতে প্রচুর মাথা ব্যাথা ছিলো তাই ঘুম হয়নি। তাই একটু বেলা পর্যন্ত ঘুমাচ্ছি।
তোমার খবর কি বলো ?(আমি)
-হুম ভালোই।কিন্তু আপনের কখন থিকা মাথা ব্যাথা!? আমি কি চা বানাইয়া নিয়া আসুম বাবু?
- না। থাক! তুমি এতদুর থেকে মাত্র এসেছো। গোসল করে একটু বিশ্রাম নিয়ে নাও। এরপর না হয় এটা করো।
-কি যে কন না বাবু। এক কাপ চা বানাইতে আর কতক্ষন লাগবো!! আপনে একটু বসেন আমি চা নিয়া আইতাছি।
.
এরপর রমিজ চাচা চা বানাতে চলে গেলো। রমিজ চাচার সাথে একটু কথা বলে আমার মনটা অনেক ভালো হয়ে গেলো। গত কয়েকদিনের সব দুঃশ্চিন্তা মাথা থেকে যেনো বেরিয়ে গেলো।
.
এর একটু পর রমিজ চাচা চা নিয়ে ঘরে আসলো। অনেকদিন পর রমিজ চাচার হাতের চা খেয়ে বেশ তৃপ্তি পেলাম। রমিজ চাচাকে বললাম:
-চাচা! তোমার হাতের চা না খেলে যেনো আমার দিনই চলে না। তোমাকে ছাড়া যে গত কয়েক দিন কতটা কষ্টে ছিলাম! আর কি বলবো?!
-কি যে বলেন বাবু। আপনারে ছাড়া আমিও কি ভালো ছিলাম! শরীরটা ঐখানে ছিলো কিন্তু মনটা সবসময় এই বাড়িতেই পইরা ছিলো।
- হুম ভালোই। আচ্ছা রমিজ চাচা! আমাদের বাড়ির পাশে যে বাংলোটা রয়েছে। মানে হরিনাথ বাংলো। এটা সম্পর্কে কি তুমি কিছু জানো?
-এইটাতো অনেক পুরান একটা বাংলো। কিন্তু হঠাৎ আপনে এইটা সম্পর্কে জানতে চাইতাছেন কেন?
-এমনি জানতে ইচ্ছা হলো চাচা। বাড়িটাতো বেশ বড়।কিন্তু এখানে কেউ থাকে না কেন?
-এইটা আমিও ঠিক কইতে পারলাম না বাবু। তয় কয়েক বছর আগে শুনছিলাম যে এই বাড়িটারে নাকি সবাই ভুতের বাড়ি কইতো। কোন পরিবারই এইখানে আইসা টিকতে পারতো না। সবাই নাকি ভুত দেইখা ভয় পাইয়া চইলা গেছে। শেষমেষ মনে হয় একটা পরিবার আইসা এইখানে উঠছিলো। কিন্তু এর কয়েক মাস পর থিকা নাকি তাদেরো আর খুইজা পাওয়া যায় নাই। এরপরে আর কেউ এই হরিনাথ বাংলোতে থাকে না। এখনো ফাকা পইরা আছে এই বাড়িটা।
-ওহ। আচ্ছা। এমনি জানতে চেয়েছিলাম। আচ্ছা চাচা তুমি বিশ্রাম নাও এখন।
পরে আবার কথা হবে।
.
এরপর রমিজ চাচা ঘর থেকে চলে গেলো। আমি ঘরে একা বসে বসে শুধু হরিনাথ বাংলোর কথা চিন্তা করছিলাম। আমার সাথে যা কিছু ঘটেছে তা আমি কিছুতেই রমিজ চাচাকে বলতে চাচ্ছিলাম না। এমনিতেই সে অনেক আগের যুগের মানুষ। সে যদি এখন এই কথাগুলো শুনে তাহলে শুধু শুধু দুশ্চিন্তায় পড়ে যাবে।
তাই রমিজ চাচাকে আর কিছু বলিনি। এরপর সারাদিন ঘরেই ছিলাম। যদিও সেই ডায়েরি আর হরিনাথ বাংলোর রহস্যটা আমার মাথা থেকে একটুও যায়নি। কিন্তু রমিজ চাচা বাড়িতে আছে এটা ভেবেই বেশ শান্তি লাগছিলো। কিন্তু একবার ভাবলাম কাউকে না বলে একবার হরিনাথ বাংলোতে গিয়েই দেখি যে সেখানে কি আছে! সেখানে কি সকল রহস্যের সমাধান আছে কিনা !! কিন্তু মন থেকে সেই সাহসটা পেলাম না। একা একা সেখানে যাওয়া অনেক বিপদজনক। তাই হরিনাথ বাংলোতে যাওয়ার চিন্তাটা মাথা থেকে বের করে দিলাম। দেখতে দেখতে দুপুর পেরিয়ে বিকাল হয়ে গেলো। আমি একটু আমার বাড়ির ছাদে গেলাম। বিকালে বেশ বাতাস হয় সেখানে। ছাদে একটা চেয়ারে বসে রইলাম। একটু পর রমিজ চাচা আমাকে ডাকতে ডাকতে ছাদে আসলো। আমি রমিজ চাচাকে দেখে প্রশ্ন করলাম:
-আরে রমিজ চাচা!! ডাকছো কেন?
-আসলে বাবু আমার এখন এক জায়গায় যাইতে হইবো।
-কোথায় যাবে?
-ঐযে পাশের গ্রামে আপনার যেই ধানক্ষেতটা আছে ঐখানে যাইতে হইবো। ঐখানের কৃষক আমারে কল দিছিলো। কইলো যে ধান কাটার সময় মনে হয় হইয়া গেছে। তাই আমার এখন একবার জাওয়া লাগবো। ফিরতে ফিরতে রাইত হইবো। একা থাকতে আপনের কোন সমস্যা হইবো নাতো?!
-আরে না। তুমি নিশ্চিন্তে যাও।
.
এরপর রমিজ চাচা ছাদ থেকে নেমে চলে গেলেন। আমি ছাদেই দাঁড়িয়ে রইলাম। আমাদের ছাদ থেকে পাশের হরিনাথ বাংলোটা স্পষ্ট দেখা যায়।
এর আগেও অনেকবার দেখেছি ছাদ থেকে এই হরিনাথ বাংলোকে। কিন্তু এর আগে কখনো এতোটা কৌতুহলতা নিয়ে আমি বাংলোটা দেখিনি। বাড়িটা দেখে আজ কেনো জানি খুব ভয় করছিলো। কোন এক অজানা মায়া আর রহস্য আমাকে বাড়িটার ভেতরে যেতে আহ্বান করছিলো। কিন্তু আমার সাহস হচ্ছিলো না সেই বাড়িতে একা যাওয়ার। তাও আমি অবাক দৃষ্টিতে সেই হরিনাথ বাংলোর দিকে ধ্যান ধরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমার ধ্যান বাংলো আমার কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে। আমি চমকে উঠলাম। চমকে অবাক হয়ে দ্রুত পেছনে তাকালাম। দেখলাম রমিজ চাচা দাঁড়িয়ে আছে। আমি অবাক হয়ে রমিজ চাচাকে প্রশ্ন করলাম:
-আরে চাচা! তুমি এখানে? তুমি না বললে যে পাশের গ্রামে যাবে।
-জ্যা বাবু। যাইতে চাইছিলাম। কিন্তু কেন জানি আপনেরে একা রাইখা যাইতে ইচ্ছা করলো না। আপনে বাবু অনেক পাল্টাইয়া গেছেন। আপনের কিছু একটা হইছে আমি বুঝতে পারতাছি। আমি আপনের বাপের মতো। আপনি চাইলে আপনের সমস্যা আমারে কইতে পারেন।
.
.
রমিজ চাচার কথাগুলো শুনে আমি একটু চুপ হয়ে গেলাম। কিছুক্ষন চুপ থাকার পর ভাবলাম। না! আসলেই ঘটনাগুলো কারো সাথে শেয়ার করা উচিত। না হলে আমার মনের রহস্য আরো গভীর হতে থাকবে। আর হয়তো আমি এক সময় এগুলো নিয়ে ভাবতে ভাবতে পাগলই হয়ে যাবো।
তাই রমিজ চাচাকে সব ঘটনা খুলে বললাম। সে রাতে রমিজ চাচার বেশে আসা লোকটার কথা, এই ডায়েরিটার কথা, মিশির পরিবারের কথা, হরিনাথ বাংলোর কথা সব কথা খুলে বললাম রমিজ চাচাকে। রমিজ চাচা আমার কথা শুনে কিছুক্ষন চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছাদ থেকে সেই হরিনাথ বাংলোর দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। এরপর আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রমিজ চাচা বললো:
-বাবু! সব রহস্যের সমাধান কি এই ছাদ থিকা পাওয়া যাইবো নাকি?! চলেন হরিনাথ বাংলোর ভেতরে যাইয়া দেখি কিছু জানা যায় নাকি!!
.
এখন প্রায় সন্ধ্যাঁ হয়ে গেছে। এই সময় হরিনাথ বাংলোতে যাবো এটা ভেবেই গা টা শিহরে উঠলো। কিন্তু এতোটাও ভয় নেই কারণ রমিজ চাচাও আমার সাথে যাবে। এরপর রমিজ চাচা আর আমি হরিনাথ বাংলোর সামনে গেলাম। হরিনাথ বাংলোর সামনে যেতেই চারিদিক হঠাৎ খুব অন্ধঁকার হয়ে গেলো। হয়তো রাত হয়ে গেছে ! আমি বেশ ভয় পেয়ে গেলাম। সময় কিভাবে এতোটা দ্রুত চলে যাচ্ছে! অন্ধকারে আমি আশেপাশে রমিজ চাচাকেও দেখতে পেলাম না। আমার ভয় আরো বেড়ে গেলো। কিছুক্ষন রমিজ চাচাকে ডাকার পরেও কোন সাড়া পেলাম না। এরপর হঠাৎ রমিজ চাচা একটা মোমবাতি হাতে আমার সামন এসে দাঁড়ালো। এরপর রমিজ চাচা মোমবাতিটা আমার হাতে দিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো:
-বাবু। মোমবাতিটা হাতে নেন। ভেতরে অনেক অন্ধকার। এইটা তাই কাজে লাগবো। এইবার চলেন বাংলোর ভেতরে।
.
এরপর আমি আর রমিজ চাচা ধীরে ধীরে হরিনাথ বাংলোর ভেতরে প্রবেশ করলাম। বাংলোটা আসলেই অনেক অন্ধকার ছিলো। অন্ধকারে বাংলোর ভেতরের কিছুই ভালোমতো দেখা যাচ্ছিলো না। আমি মোমের আলোতে হালকা হালকা পরিবেশটা দেখতে পারছিলাম। আসলেই বাড়িটা বেশ ভুতুরে আর ভয়ঙ্কর। হঠাৎ আমার চোখ গেলো বাড়ির উঠানের একটা মৃত গোলাপ গাছের দিকে। গাছটা দেখে আমার খুব পরিচিত মনে হচ্ছিলো। হঠাৎ মনে পড়লো! আরে! এটাতো সেই গোলাপ গাছটা। যেটা আমি সেদিন ভয়ংকর স্বপ্নে দেখেছিলাম। যেই গাছের নিচে একটা কবর ছিলো এবং কবরে ৩টা লাশ ছিলো। কিন্তু স্বপ্নটাতো অনেক বেশি ভয়ংকর ছিলো। আসলেই কি এই গোলাপ গাছের নিচে কোন কবর রয়েছে!! এটা ভেবেই আবার ভয় পেতে থাকি। আসলেই এই রাত্রিবেলা আমার এই হরিনাথ বাংলোতে আসা উচিত হয়নি। যদিও আমি এখানে একা না রমিজ চাচাও আছে আমার সাথে। কিন্তু রমিজ চাচা কোথায়?! আশেপাশে রমিজ চাচাকে খুজতে লাগলাম কিন্তু কোথাও তাকে খুজে পেলাম না। আমি রমিজ চাচাকে জোড়ে জোড়ে ডাকছিলাম। কিন্তু সে কোন উত্তরই দিলো না। এরপর হঠাৎ করে আমার মোবাইলটা বেজে উঠলো। পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে দেখলাম রমিজ চাচার নাম্বার। কিন্তু রমিজ চাচাতো আমার সাথেই এই বাড়িতে ঢুকলো। তাহলে আবার কোথা থেকে কল দিলো। আর আমিতো ভয়ে ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমার কাছ মোবাইল আছে
। আর রমিজ চাচার কাছেও তো মোবাইল ছিলো। তাহলে আমরা এতো কষ্ট করে মোমবাতি জ্বালিয়ে হাঁটছিলাম কেনো?! থাক এইগুলো বাদ দেই। রমিজ চাচা কোথায় উধাও হয়ে গেলো। কলটা ধরেলেই জানা যাবে। কলটা ধরেই আমি রমিজ চাচাকে প্রশ্ন করলাম:
-রমিজ চাচা! কোথায় তুমি?!
-জ্যা বাবু। আমিতো মাত্র পাশের গ্রাম থিকা বাড়িতে আসলাম। কিন্তু আপনেরে পুরা বাড়ি খুইজা পাইলাম না। এতো রাইতে আপনে কই?
-তুমি আবার পাশের গ্রামে কখন গেলে?
-কি বলেন বাবু! আমি না আপনারে বইলাই গেলাম যে আমি পাশের গ্রামের কৃষকের সাথে কথা কইতে যাইতেছি।
আসতে রাত হইবো।
-তুমি না আবার ফিরে আসলে?!
-কি কন এইসব বাবু?! আমি আবার ফিরা আসুম কেন?! আপনার কি হইছে?! আপনে এখন কই সেইটা আগে কন?!!
-আচ্ছা চিন্তা করো না চাচা। আমি বাড়িতেই আসছি!
.
এই কথা বলেই কলটা আমি কেটে দিলাম। তারমানে আমি আবার ধোকা খেয়েছি! এবারো রমিজ চাচা আমার সাথে হরিনাথ বাংলোতে আসেনি। তাহলে রমিজ চাচার বেশে কে ছাদে এসেছিলো আর আমাকে এই হরিনাথ বাংলোতে নিয়ে আসলো?!! নিশ্চই এতক্ষন আমার পাশে রমিজ চাচার বেশে যে দাড়িয়ে ছিলো সে কোন একটা অশরীরী আত্মা। তারমানে এই ভয়ংকর বাড়িতে এখন শুধু আমি একা রয়েছি!! এটা ভেবেই ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে যেতে লাগলো। আমার হাত-পা ঠান্ডা হতে
লাগলো। আমি ভাবছিলাম যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাকে এখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। না হলে আমার সাথে যেকোন কিছু ঘটে যেতে পারে। যেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ির গেটের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ পেছনে ঘরের ভেতর থেকে একটা মেয়েলি কন্ঠ শুনতে পেলাম। সে আমাকে ডেকে বলছিলো:
-একটু দাঁড়াউ প্লিজ। আমাকে একা ফেলে রেখে চলে যেও না ।
.




Bhoutik Golpo 6th Part

হঠাৎ পেছনে ঘরের ভেতর থেকে একটা মেয়েলি কণ্ঠের ডাক শুনতে পেলাম। সে আমাকে ডেকে বলছিলো:
-একটু দাঁড়াউ প্লিজ। আমাকে একা ফেলে রেখে চলে যেও না ।
.
হঠাৎ এই নির্জন বাড়িতে একটা মেয়ের কন্ঠ শুনে আমি বেশ অবাক হয়ে গেলাম।আমার জানামতে এই বাড়িতে এখন আর কেউ থাকে না। আর একটা মেয়ের পক্ষে থাকতো অসম্ভব! তাহলে ভেতর থেকে কে আমাকে ডাকছে!! আর রমিজ চাচাওতো এখানে নেই। পুরো বাংলোতে এখন আমি শুধু একা।আমার ভয় আরো বাড়তে থাকে। একেই ভুতুরে বাড়ি আর আমি একা তার উপর আবার একটা মেয়ের কন্ঠ। একবার ভাবলাম যে এখানে থাকা উচিত হবে না। আমি বরং দ্রুত বাড়িতেই চলে যাই। সেখানে রমিজ চাচা আমার অপেক্ষায় বসে আছে।কিন্তু ঘরের ভেতর থেকে কোন একটা মায়া যেনো আমাকে যেতে দিচ্ছিলো না। আমার কৌতুহল বেড়েই যাচ্ছিলো যে ঘরের ভেতর কে আছে!! আমার মনে হলো হয়তো সেই মেয়েটা অর্থাৎ মিশি এখনো বেঁচে আছে। হয়তো সে এখনো ঘরেই আটকা পড়ে রয়েছে। হয়তো আমার থেকে তার সাহায্য চাই। তাই আমি সাহস করে ধীরে ধীরে সেই ঘরটার দিকে এগোতে লাগলাম। আমি সেই ঘরের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। বাহিরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিলো দরজাটা ভেতর থেকে আটকানো। এরপর আমি কাঁপা কাঁপা কন্ঠে দরজায় টুকা দিতে দিতে প্রশ্ন করলাম:-
-ঘরের ভেতরে কে আছেন?? কে আমায় ডাকলো?? দরজাটা খুলুন।
.
কিন্তু ঘরের ভেতর থেকে কোন উত্তরই আসছিলো না। আমার ভয় আরো বাড়তে লাগলো। এরপর সাহস করে দরজাটা আস্তে করে ধাক্কা দিলাম। দরজাটা ধাক্কা দিতেই সাথে সাথে খুলে গেলো!
তারমানে হয়তো দরজাটা শুধু চাপিয়ে দেওয়া ছিলো। ভেতর থেকে আটকানো ছিলো না। কিন্তু ভেতরে যে কেউ একজন রয়েছে সেটা বেশ ভালো করেই বুঝতে পারছিলাম। এরপর ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে ঢুকলাম। ঢুকেই ঘরের লাইট জালানোর একটা বৃথা চেষ্টা করলাম। আসলে বাংলোটা অনেক বছর ধরে পরিত্যাক্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। তাই বাংলোটাতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকাটাই স্বাভাবিক। এরপর মোবাইলের লাইটটা জ্বালিয়ে চারিদিক ভালো করে খুজতে লাগলাম যে, কে আমাকে এই ঘর থেকে ডাকলো!! কিন্তু অবাক হলাম এটা দেখে যে ঘরে কেউই নেই! তাহলে আমি যে ডাকটা শুনলাম সেটা কি আমার মনের ভুল ছিলো! ভাবলাম হয়তো অতিরিক্ত ভয় পাওয়ার কারণে আমার মনে হচ্ছিলো যে বাড়ির ভেতরে অন্য কেউ আমাকে ডাকছে! এরপর ঘর থেকে যেই বেরিয়ে যেতে নিলাম হঠাৎ আবার সেই গোলাপের গন্ধ নাকে ভেসে আসতে শুরু করলো।
আমি অবাক হয়ে গেলাম। আরে এই গন্ধ এখানে আসছে কিভাবে!! এই গন্ধটাতো আমি আমার বাড়িতেই পেয়েছিলাম যখন রমিজ চাচার বেশে সেই অশরীরী আত্মাটা আমার বাড়িতে এসেছিলো। তার মানে কি!! সেই আত্মাটা এখনো আমার পাশেই রয়েছে!! কিছুক্ষন পর সেই গোলাপের গন্ধটা আর তীব্র হতে লাগলো আর আমার ভয় আরো বেশি বাড়তে লাগলো। আমি ভয় পেয়ে চুপচাপ ঘরের ভেতরেই দাড়িয়ে ছিলাম। ঘরটা তখনো বেশ অন্ধকার। আমার মোবাইলের আলোতে ভালোমতো চারিদিকটা বোঝা যাচ্ছিলো না। হঠাৎ আমার মোবাইলটা কেনো জানি বন্ধ হয়ে গেলো। এরপর আমার কাধে একটা শীতল হাতের স্পর্শ পেলাম। আমি বেশ বুঝতে পারছিলাম যে কোন একটা মেয়ের হাতের স্পর্শই এটা। আমি ভয়ে ভয়ে পেছনে ঘুরলাম। যদিও অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না। কিন্তু আমি বেশ বুঝতে পারছিলাম যে কোন একটা মেয়ে আমার সামনে এখন দাড়িয়ে রয়েছে। আমি বেশ ভয় পেয়ে গেলাম । তাই ভয়ে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে মেয়েটাকে প্রশ্ন করলাম:
-কে আপনি?! এই বাংলোতে কি করছেন!! আমিতো শুনেছি যে এই বাংলোতে এখন আর কেউ থাকে না।
-আমার নাম সানজিদা আফজাল মিশি। (মেয়েটা)
-মিশি! আপনিই কি সেই মিশি যার কথা আমি ডায়েরিতে পড়েছি! আপনার স্বামীকে আর মেয়েকেই কি এই বাড়িতে খুন করা হয়েছে!?
.
এরপর মেয়েটা কিছুটা গম্ভীরভাবে উত্তর দিলো:
-হ্যাঁ।
-আচ্ছা আপনিই কি রমিজ চাচার বেশে আমার বাড়িতে এসে আমায় ডায়েরিটা দিয়েছিলেন।
-হ্যাঁ।
-কিন্তু কেনো? আমিতো আপনাকে চিনি না। হয়তো এর আগে আপনাকে কখনো দেখিওনি। আপনি কি আমাকে কোনভাবে আগে থেকে চিনতেন?
-না।
-তাহলে আপনি আমাকে ডায়েরিটা কেনো দিলেন! আমি আপনার সম্পর্কে জেনে কি করবো ?!
-একমাত্র আপনিই আমাকে এখন সাহায্য করতে পারেন। তাই আমি চেয়েছিলাম আগে আপনি আমার সম্পর্কে সব জানুন এবং তাই আপনাকে ডায়েরিটা দিয়েছিলাম।
-সাহায্য! আমি! কি সাহায্য?! আচ্ছা! তার আগে আমাকে এটা বলুন ডায়েরিতে আমি যেটুকু পড়েছি এরপরে কি হয়েছিলো আপনার সাথে?! আপনি সেই পৈশাচিক শক্তির বই পড়ে পরে কি করেছিলেন?! সেই ডাকাতগুলোই বা এখন কোথায়?! আর আপনি তাদের হাত থেকেই বা মুক্তি পেলেন কিভাবে?!
আর এতোদিন আপনি এই বাড়িতেই বা লুকিয়ে আছেন কেনো??
-তাহলে শুনুন। সেই পৈশাচিক শক্তির বই পড়ে আমার আবার পিশাচ শক্তির উপর বিশ্বাস জন্মাতে শুরু করে এবং সেই বইয়ে লেখাছিলো যে কিভাবে পিশাচ দেবীকে পৃথিবীতে আহ্বান করা যায়। এরপর আমি বইয়ের নিয়ম মতো মন্ত্র পড়ে পিশাচ দেবীকে পৃথিবীকে আসার জন্য আহ্বান জানাই। পিশাচ দেবীকে পৃথিবীতে আনতে হলে সামান্য হলেও মানুষের তাজা রক্তের প্রয়োজন হয়। আমি বুঝতে পারছিলাম যে এখন অন্য কোন মানুষকে আমি আর পাবো না। তাই নিজের হাত কেটে সেই রক্ত দিয়েই পুজা শুরু করি এবং এক পর্যায়ে আমার ঘরের সব আলো নিভে যায়। আমি অন্ধকারে কিছুই দেখতে পারছিলাম না। শুধু কারো উপস্থিতি অনুভব করতে পারছিলাম। বুঝতে পারছিলাম হয়তো কেউ আমার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমি কিছুক্ষন চুপ থাকার পর প্রশ্ন করি যে, পিশাচ দেবি আপনি কি এসেছেন? আমার সামনে থেকে একটা ভয়ংকর মেয়েলি কন্ঠে উত্তর আসে, হ্যাঁ। আমায় কেনো ডাকলে তুমি? তোমার কি সাহায্য চাই? এরপর আমি আমার সব কথা পিশাচ দেবীকে খুলে বলি। সেই ডাকাতদের কথা, তাদের অপরাধের কথা, আমার স্বামী আর মেয়েকে খুন করার কথা, আমার উপর নরপশুর মতো ব্যবহারের কথা সব পিশাচ দেবীকে খুলে বলি। এরপর পিশাচ দেবী আমার কাছে জানতে চায় যে এখন আমি কি করতে চাই! আমি পিশাচ দেবীকে বললাম যে আমি প্রতিশোধ নিতে চাই। তারা যতোটা নির্দয়ভাবে আমার স্বামী আর মেয়েকে খুন করেছে তার চেয়ে বেশি শাস্তি আমি তাদের দিতে চাই। আমি এই রকম জীবন থেকে মুক্তি চাই। আমি সেই ডাকাতগুলোকে খুন করবো না। কিন্তু তাদের সুখ-আনন্দ সব কেরে নিতে চাই। তাদের জীবনকে আমি অভিশপ্ত করতে চাই। তাদের ধ্বংস করে দিতে চাই। এরপর পিশাচ দেবী আমাকে বললেন যে এর জন্য আমাকে পৈশাচিক শক্তির অধিকারী হতে হবে
। তাহলে আমি যেকোন মানুষকে অভিশপ্ত করতে পারবো। এরপর আমি তার কাছে জানতে চাইলাম যে পৈশাচিক শক্তির অধিকারী কিভাবে হবো আমি!! এরপর সে বললো যে, পৈশাচিক শক্তির অধিকারী হতে হলে আমাকে একজন মানুষকে খুন করে তার রক্ত দিয়ে স্নান করতে হবে! এরপর আমাকে একটা মন্ত্র শিখিয়ে দিলো যেটা স্নান করার পর পড়লে আমি সহজেই পৈশাচিক শক্তির অধিকারী হয়ে যাবো। এরপর পিশাচ দেবী চলে গেলেন। আমি যেনো একটা নতুন আশা খুজে পেলাম প্রতিশোধ নেওয়ার। আমার অন্য কিছুর জন্য পৈশাচিক শক্তি চাই না। শুধু এই নরপশুগুলোর থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই আমি এই পৈশাচিক শক্তি চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন একটা মানুষ পাবো কোথায়! মানুষের রক্ত ছাড়াতো এটা কিছুতেই সম্ভব হবে না। প্রতিরাতেই সেই ৫জন ডাকাত আমার ঘরে আসতো। তারা আমার কাছে সেই হীরাগুলোর সন্ধান চাইতো। কিন্তু আমি এটা কিছুতেই বলতাম না। এরপর এরা আমার উপর শারীরিক অত্যাচার চালাতো। কিন্তু সেদিন মাথায় একটা অন্যরকম বুদ্ধি আসলো। আমি ভাবলাম যে তাদের ৫ জনের মধ্য থেকে ১ জনকে আজ বোকা বানাতে হবে। তাকেই বলি দিয়ে আজ পৈশাচিক শক্তির অধিকারী হবো। কিন্তু কিভাবে বোকা বানাবো সেটা আমার মাথায় কিছুতেই আসছিলো না। এরপর হঠাৎ একটা বুদ্ধি মাথায় এলো।
জানতাম যে প্রতিরাতের মতো আজকেও একজন ডাকাত আসবে আমার কাছে হীরার সন্ধানে । তাকেই বোকা বানাতে হবে। এরপর অপেক্ষায় বসে রইলাম ঘরে। আসলেই একটুপর তাদের মধ্যে একজন ডাকাত ঘরের দরজা খুলে আমার কাছে আসলো। এরপর যথারিতী সে আমাকে প্রশ্ন করলো যে, সেই হীরাগুলো কোথায়!! আমি রোজ উত্তর দিতাম যে জানি না। কিন্তু আজ উত্তর দিলাম এই ঘরেই রয়েছে। আমার কথা শুনে ডাকাতটা অবাক হয়ে গেলো। সে অনেকটা কৌতুহলতা নিয়ে জানতে চাইলো যে কোথায় সেই হীরার বাক্সটা!! আমি আমার আঙুল দিয়ে ইশারা করে তাকে দেখিয়ে দিলাম। এই সিন্দুকটার ভেতরে। আমার কথাশুনে লোকটা পাগলের মতো হয়ে গেলো। দ্রুত ছুটে গেলো সেই সিন্দুকটার কাছে হীরা নিতে। এরপর সে বসে সিন্দুকটা খোলার চেষ্টা করছিলো। আমি প্লানমতো ঘরের এককোণা থেকে একটা রোড নিয়ে সোজা লোকটার পেছন থেকে তার মাথায় আঘাত করলাম। লোকটা সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। এরপর আমি ধীরে ধীরে লোকটাকে টেনে অন্য একটা ভেতরের ঘরে নিয়ে গেলাম যাতে সেখানে ডাকাতগুলো আমাকে খুজে না পায়। এরপর একটা ছুরি নিয়ে সোজা চালিয়ে দিলাম ডাকাত লোকটার গলায়। ছুরিটা বেশ ধারালো ছিলো তাই এক আঘাতেই লোকটার গলা থেকে মাথাটা আলাদা হয়ে গেলো। তার রক্ত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়লো। আমি লোকটার পুরো শরীর ছুরি
দিয়ে ছিড়ে ছিড়ে রক্ত বের করছিলাম। সব সময় আমি রক্ত দেখে বেশ ভয় পেতাম। কিন্তু সেদিন কেনো যেনো খুব আনন্দ লাগছিলো। মনে হচ্ছিলো যে আমি আমার প্রতিশোধ নেওয়া মনে হয় শুরু করে দিয়েছি। এরপর আনন্দে সেই রক্ত দিয়ে রক্ত স্নান করতে শুরু করলাম। সব কিছুই আমার প্লানমতো চলছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে ঘরের দরজা খুলে বাকি ৪জন ডাকাত এসে হাজির হলো। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। এরা এখানে কিভাবে আসলো!! এরপরে বুঝলাম যে , আমি যে একে টেনে টেনে এই ঘরে নিয়ে এসেছি। তারা হয়তো রক্তের দাগ দেখে দেখে এই ঘর পর্যন্ত চলে এসেছে। কিন্তু এখন আমাকে থেমে গেলে হবে না। আমাকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য অবশ্যই পৈশাচিক শক্তি অর্জন করতে হবে। আমার কাজ অনেকটাই শেষ। এখন শুধু মন্ত্রগুলোই পড়া বাকি আছে। এরপর আর তারা আমাকে কিছু করতে পারবে না। ডাকাতগুলোও আমার এই রক্তাক্ত শরীর আর তাদের এক ডাকাতের ভয়ংকর লাশ দেখে ভয়ে শিহরে উঠলো। তাদের চোখে ভয় দেখে আমার বেশ আনন্দ হলো। এরপর তাদের মধ্যে দুইজন ডাকাত এসে আমাকে শক্ত করে ধরে টেনে ঘরের বাহিরে নিয়ে গেলো। আমি বলছিলাম, আমাকে ছেড়ে দাও। আমাকে প্রতিশোধ নিতে হবে। আমি তোমাদেরো রক্ত দিয়ে স্নান করবো। এরপর আমি যেই মন্ত্র পড়া শুরু করবো ঠিক তখনি তাদের মধ্যে একজন
ডাকাত একটা ছুরি এনে সোজা আমার গলায় চালিয়ে দেয়। এরপর আমার গলা থেকে রক্ত পড়তে শুরু করে। আমি আর কোন শব্দ করতে পারিনা। আমি মারা যাই। এরপর তারা আমার লাশটাকে বাড়ির উঠানে নিয়ে যায় এবং সেই গোলাপ গাছটার নিচে যেখানে আমার স্বামী আসিফ আর মেয়ে রাত্রিকে কবর দিয়েছিলো তারা সেখানে আবার গর্ত করে আমার লাশটাকেও রক্তাক্ত অবস্হায় মাটি চাপা দিয়ে দেয়।
-কি বলছেন এসব!? আপনার লাশ মানে!! আপনি মারা গেছেন!? আপনি কি আমার সাথে মজা করছেন! আপনি যদি মারাই গিয়ে থাকেন তাহলে আমার সামনে এখন দাঁড়িয়ে কথা বলছেন কিভাবে?! আর সেই ডায়েরিটাই বা কিভাবে লিখলেন?!
-হ্যাঁ। আমি মারা গেছি। আপনার সামনে এখন আমি দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু এটা আমি না।
.
আমি তার কথার অর্থ কিছুই বুঝলাম না।এরপর সে ভয়ংকর ভাবে হাসতে শুরু করলো 


৮ম এবং শেষ পর্ব Horror Story In Bengali Language.

এরপর মনে হলো কঙ্কালটা ধীরে ধীরে নড়তে শুরু করলো। আমি এখনো কবরের ভেতরেই একা দাঁড়িয়ে রয়েছি আর আমার সামনে এখন এসব ঘটনা ঘটছে দেখে ভয়ে আমার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার দশা। হঠাৎ আমার ভয়কে আরো বাড়িয়ে দিলো কবরের উপরে উঠানে কারো জোড়ে জোড়ে হেঁটে আসার শব্দ। অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম যে কে আসছে!!হঠাৎ দেখলাম একটা লাইট হাতে দৌড়ে দৌড়ে রমিজ চাচা আমার দিকে এগিয়ে আসছে। তাকে দেখে যেনো আমার প্রানটা আবার ফিরে আসলো। আমার ভয় অনেকটাই কমে গেলো। এরপর রমিজ চাচা এসে আমার দিকে লাইটটা ধরে আমাকে প্রশ্ন করলো:
-বাবু! আপনে এতো রাইতে এই বাড়িতে কেন?! আর গর্তের ভেতরেই বা কি করেন?
.
আমি রমিজ চাচার এই প্রশ্নটা শুনে বেশ অবাক হলাম। রমিজ চাচার চোখে শুধুমাত্র কৌতুহলতা দেখতে পেলাম। তার চোখে কোন ভয় ছিলো না। তাহলে কি রমিজ চাচা এই কঙ্কালগুলো দেখে ভয় পায়নি! এরপর রমিজ চাচাকে যেই সেই কঙ্কালগুলো দেখাতে যাবো হঠাৎ দেখলাম আমার সামনে কোন কঙ্কাল নেই। আমি অবাক হয়ে গেলাম! একটু আগওতো আমি এখানে কঙ্কালগুলোকে দেখেছি! এক মুহুর্তে কঙ্কালগুলো কোথায় উধাও হয়ে গেলো!!আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না! সেই মেয়েটাই বা কোথায় গেলো! এগুলো ভাবতে ভাবতে হঠাৎ আমার পুরো শরীর ভয়ংকর ভাবে কাঁপতে শুরু করলো। আমি রমিজ চাচাকে কিছু বলার আগেই অজ্ঞান হয়ে কবরের ভেতর পরে রইলাম।
.
এরপর যখন আমার জ্ঞান ফিরলো আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম নিজের ঘরে। আমি আমার ঘরের বিছানায় শুয়ে ছিলাম। আমার কাছে মনে হচ্ছিলো যে আমার পুরো শরীর যেনো অবশ হয়ে গেছে। আমি আমার শরীর কিছুতেই নাড়াতে পারছিলাম না। আমার মাথার পাশে এখন রমিজ চাচা বসে আছে। আমাকে চোখ খুলতে দেখেই রমিজ চাচা আমার কাছে এসে জানতে চায় আমি
কিছু খাবো কিনা! কিন্তু তখনো আমার কথাবলার শক্তি নেই। এরপর রমিজ চাচা একটা বাটিতে করে পানি নিয়ে এসে একটা রুমাল দিয়ে আমার পুরো শরীর মুছে দিচ্ছিলো। আমি বেশ বুঝতে পারছিলাম যে কোন একটা ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে আমার সাথে।কিন্তু আমি কিছুই করতে পারছিলাম না। কারণ আমার পুরো শরীর এখনো অবশ হয়ে আছে। এর কিছুক্ষন পর আবার আমার চোখটা লেগে গেলো। এরপর যখন চোখ খুললাম তখন প্রায় অনেকবেলা হয়ে গেছে। কিন্তু আমার শরীরটা আর এখন অবশ নেই। আমি ভালোমতোই শরীর নাড়াতে পারছিলাম। এরপর আমি বিছানা থেকে উঠে বাড়ির উঠানে গেলাম। দেখলাম রমিজ চাচা মনমরা হয়ে চুপচাপ বসে রয়েছে। আমাকে ঘর থেকে বের হতে দেখেই ছুটে আমার কাছে আসলো। এরপর আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করলো:
-বাবু! আপনে সুস্থ্য হইছেন! আমি মেলা চিন্তায় পইড়া গেছিলাম আপনারে নিয়া। আপনার কি হইছিলো গতরাইতে? আপনি একা একা সেই বাংলোতে কেন গেছিলেন? আর গর্তেই বা কী করতাছিলেন?!
.
রমিজ চাচার প্রশ্ন শুনে আমি কিছুক্ষন চুপ থেকে তারপর তাকে সব কথাখুলে বলি। সেই ডায়েরি পাওয়া থেকে গতকাল রাত পর্যন্ত ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটা ঘটনা তাকে বলি। সেই হীরা , ডাকাত আর মিশির কোথাও বলি। রমিজ চাচা1 আমার কথাগুলোশুনে বেশ অবাক হয়। এরপর আমাকে বলে এতোকিছু যে আমার সাথে ঘটেছে এটা কেনো আগে তাকে বলিনি! আমি বললাম:-
-তুমি শুধু শুধু চিন্তা করবে তাই আর বলিনি। আর এমনিতেই আমার অশরীরীর উপর তেমন বিশ্বাস ছিলো না কিন্তু গতকয়েক দিনে আমার সাথে যা ঘটলো তাতে আমার অবিশ্বাসগুলো সব ভেঙে দিয়ে গেছে।
.
এরপর রমিজ চাচা কিছুক্ষন চুপচাপ থেকে কিছু একটা ভেবে আমাকে বললো:
-বাবু! এইটা নিয়া আপনে কোন চিন্তা কইরেন না।আমার পরিচিত এক কবিরাজ আছে যে এই আত্মারে বশ কইরা পৃথিবী থিকা মুক্তি দিতে পারবো। আমি তারে লইয়া আইতাছি।
.
এরপর রমিজ চাচা আমাকে বাড়িতে একা রেখেই চলে গেলো পাশের গ্রামে সেই কবিরাজকে আনতে। আজ কেনো জানি দিনের বেলাতেও একা বাড়িতে আমার ভয়টা আরো বেড়ে যাচ্ছিলো। আমি অপেক্ষায় বসে ছিলাম যে কখন রমিজ চাচা আসবে! এরপর দেখতে দেখতে সকাল পেরিয়ে দুপুর, দুপুর পেরিয়ে বিকাল, বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যাঁ হয়ে গেলো। কিন্তু রমিজ চাচা এখনো বাড়িতে ফিরেনি। চাচার নাম্বারে কল দিলাম কয়েকবার কিন্তু তার নাম্বারটা বন্ধ আসছিলো। এরকিছুক্ষন পর হঠাৎ চারিদিকে প্রচুর ঝড় শুরু হয়ে যায়। প্রচুর বৃষ্টি সাথে বজ্যপাত।পুরো এক ঘন্টা এমন চলার পরে বৃষ্টি থামে। কিন্তু এরপরেও রমিজ চাচা বাড়ি ফিরেনি।এরপর সাহস করেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে রমিজ চাচাকে খুজতে রাস্তায় যাই। পুরো রাস্তা এবং পাশের গ্রামেও তাকে
খুজলাম কিন্তু পেলাম না। রমিজ চাচা কোন কবিরাজের কাছে এসেছিলেন সেটা জানলেও হয়তো তার কাছে গিয়ে রমিজ চাচাকে খোজা যেতো। কিন্তু এটাও আমি জান্তাম না! একবার ভাবলাম হয়তো রমিজ চাচা এখন সেই হরিনাথ বাংলোতে আছে। পরে আবার মনে হলো যে রমিজ চাচাকেতো আমি এই বাংলো সম্পর্কে সব কথাই বলেছি। এতোকিছু শুনেও এরপরে সে আর সেই বাংলোর দিকে পা বাড়াবে না। এরপর রমিজ চাচাকে খুজতে ব্যার্থ হয়েই বাড়ির পথে হাঁটা দিলাম। বাড়িতে পৌছেতো আমি পুরোই অবাক! রমিজ চাচা বাড়ির উঠানে বসে রয়েছে! আমি দ্রুত তার কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলাম:
-রমিজ চাচা! তুমি কখন এলে?! তুমি জানো আমি তোমায় কতো জায়গায় খুজেছি?!! কোথায় ছিলে সারাদিন?!
-জ্যা বাবু। আমি আপনার সব ঝামেলা শেষ কইরা দিয়া আইলাম।
-মানে?!
-আপনারে এরপরে আর কেউ বিরক্ত করবো না বাবু। সেই মাইয়াটার আত্মারে চিরোমূক্তি দিয়া দিছি। এখন হরিনাথ বাংলোতে আর কেউ থাকে না।
-কি বলছো তুমি! কিন্তু সেই মেয়েটার আত্মাতো আমায় বলেছিলো যে সে যদি পৈশাচিক শক্তি না পায় আর তার প্রতিশোধ নিতে না পারে তাহলে তার আত্মা কখনো মুক্তি পাবে না! আর তারতো একটা মৃত শরীরের প্রয়োজন ছিলো।
-জ্যা বাবু। তয় আমি যেই কবিরাজরে নিয়া গেছিলাম ঐ
বাংলোতে, সে মেলা বড় কামের কবিরাজ। তারে সবাই ভুতের কবিরাজ কয়। সে তার সব শক্তি দিয়া সেই অভিশপ্ত মাইয়াটার আত্মারে ধ্বংস কইরা চিরো মুক্তি দিয়া দিছে!!?
-তুমি আমাকে বাঁচালে রমিজ চাচা! নাহলে যে মেয়েটার আত্মা আমাকে পাগল করেই ছাড়তো।
-তয় বাবু কবিরাজ একটা কথা কইছে!
-কি কথা চাচা?!!
-ইয়ে মানে বাবু! আমাদের দুইজনরে আজকা রাইতের মধ্যেই গ্রাম ছাইড়া শহরে চইলা যাইতে হইবো। এক সপ্তাহের আগে আর এই গ্রামে আসা যাইবো না! এই এক সপ্তাহ এই গ্রামে থাকলে আপনার আবার বিপদ হইতে পারে! তাই এখনি আমাগো গ্রাম থিকা চইলা যাইতে হইবো। আবার এক সপ্তাহ পর আমরা এইখানে আসুম।
-আচ্ছা ঠিক আছে। এক সপ্তাহেরইতো ব্যাপার। তুমি বরং ব্যাগটা গুছিয়ে নাও।
-জ্যা বাবু। ব্যাগ আমি আপনে আসার আগেই গুছাইয়া বিছানায় রাইখা দিছি।আপনি ব্যাগগুলা দেইখা নেন সব কিছু ঠিকঠাক নিছি কিনা!?
-ঠিক আছে চাচা।
.
.
রমিজ চাচার কথাগুলো শুনে যেনো আমার মনটা শান্তিতে ভরে উঠলো। যাক অবশেষে মুক্তি পেলো সানজিদা আফজাল মিশির অভিশপ্ত আত্মা।সমাপ্তও হতে যাচ্ছে এই ডায়েরির গল্প। হয়তো আর কখনো এই ডায়েরিটা আমার কাছে ফিরে আসবে না। আর কোন আত্মাও হয়তো রমিজ চাচার বেশে আর আমার বাড়িতে এসে আমাকে ভয় দেখাবে না।
সমাপ্ত হলো আমার পিশাচ ডায়েরি গল্পের। এখন আমি আর রমিজ চাচা শহরে চলে যাবো। হয়তো ৭দিন পরে এসে আবার নতুন করে নিজের জীবনটাকে গুছাবো।
.
.
এরপর রমিজ চাচা আর আমি শহরে চলে যাই। সেখানে রমিজ চাচাই ৭ দিনের জন্য একটা ভাড়া বাড়ি ঠিক করেন। এরপর আমরা সেখানেই থাকতে শুরু করি। রমিজ চাচা বলেছিলো কবিরাজ নাকি বলেছিলো আমার মোবাইলটাও বন্ধ রাখতে তাই আমি আমার মোবাইলটা বন্ধ করেই রেখেছিলাম। এছাড়াও আমাকে কল দেওয়ার মতো কেউ ছিলো না।
.
শহরের জীবনটা আমার খূব একটা পছন্দ হয়নি। তাই দিনের বেশির ভাগ সময়েই আমি বাড়িতে বসে বসে বই পড়তাম। কিন্তু শহরে এসে রমিজ চাচার মধ্যে বেশ পরিবর্তন লক্ষ করলাম। দিনের বেশির ভাগ সময়েই সে বাড়ির বাহিরে থাকতো। আমি তার কাছে কারণ জানতে চাইলে সে বলে সে নাকি এই শহরকে চিনছে আর জানছে ঘুরে ঘুরে। আমিও আর তাকে বাঁধা দেই না। হঠাৎ একদিন লক্ষ করলাম রমিজ চাচার গলায় একটা স্বর্ণের চেইন রয়েছে। চেইনটা দেখে আমার খুব চেনাচেনা লাগছিলো। হঠাৎ মনে পড়লো আরে এটাতো সেই চেইনটা যেটা আমি সেদিন কবর খুড়ে মাঝখানের সেই কঙ্কালটার গলা থেকে নিয়েছিলাম। এই চেইনটার কথাতো আমি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম কিন্তু এটা রমিজ চাচা পেলো কোথায়! এরপর আমি অবাক হয়ে রমিজ চাচাকে প্রশ্ন করলাম:
-রমিজ চাচা! তুমি এই চেইনটা পেলে কোথায়?
-ইয়ে মানে বাবু! যেই রাইতে আপনারে হরিনাথ বাংলো থিকা নিয়া আসলাম সেইরাইতেই আপনেরে বিছানায় শুয়াইতে নিয়া আপনার পকেটে এই চেইনটা দেখছিলাম। চেইনটা আমার খুব পছন্দ হইছিলো তাই আপনারে না বইলাই আমি নিছিলাম আর তখন থিকাই পড়তাছি। আপনি এতোদিন দেখেন নাই!
-কিন্তু রমিজ চাচা এটাতো সেই অশরীরী মেয়ের গলার চেইন। তুমি পড়লে তোমার বিপদ হতে পারে।
-কিছু হইবো না বাবু। কবিরাজ মশাইরে দেখাইছি। সে বলছে এটাতে কোন সমস্যা নাই।
.
স্বর্ণের প্রতি রমিজ চাচার কৌতুহল সেই আমার ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি তাই তাকে আর কিছু বললাম না। এরপর রমিজ চাচা চুপচাপ ঘরেই বসেছিলো।
.
পরেরদিন সন্ধ্যাঁবেলায় আমাকে কিছু না বলেই রমিজ চাচা বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথায় যেনো গেলো! রাত ১২ টা বেজে গেলো তাও রমিজ চাচা বাড়িতে ফিরলো না। আমি খুব চিন্তায় পড়ে যাই যে রমিজ চাচা কোথায় গেলো এতো রাতে?!! সারারাত রমিজ চাচার জন্য অপেক্ষা করলাম কিন্তু সে আসলো না। পরের দিন সকাল বেলা বাড়ি থেকে বের হলাম রমিজ চাচাকে খুজতে।যদিও নতুন শহর কিছুই তেমন চিনি না আমি। তাও সারাদিন তাকে খুজার চেষ্টা করলাম কিন্তু কোথাও তাকে খুজে পেলাম না। এরপর সন্ধ্যাঁবেলায় হতাশ হয়েই বাড়িতে ফিরলাম। কিছুতেই ভেবে পাচ্ছিলাম না যে রমিজ চাচা হঠাৎ কোথায় যেতে পারে।
.
রাত তখন প্রায় ৯টা একা বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ মনে পড়লো যে অনেকদিন ধরেই মোবাইলটা বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। তাই একটু চালু করলাম। এরপর মোবাইলটা হাতে নিয়েই চুপচাপ বারান্দায় বসে বসে রমিজ চাচার কথা চিন্তা করছিলাম। হঠাৎ মোবাইলে একটা অপরিচিত নাম্বার তেকে কল আসলো। কল এসেছে দেখেই দ্রুত কলটা ধরলাম। ধরে বললাম:
-হ্যালো। কে বলছেন?
-হ্যাঁ। আমি কবিরাজ বলছি। যাকে নিয়ে রমিজ, হরিনাথ বাংলোতে গিয়েছিলো। আপনাকে এতোদিনে কতবার কল দিয়েছি। আপনার মোবাইল বন্ধ রেখেছেন কেনো?! আর আপনিই বা এখন কোথায়?!
-আপনিইতো বলেছিলেন যে আমাকে মোবাইলটা বন্ধ রাখতে আর গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসতে। রমিজ চাচাইতো আমাকে এটা বললো। আর আপনি বা আমাকে এতোবার কল দিয়েছিলেন কেন?!
-হ্যাঁ বলছি! আসলে আপনি যার সাথে গ্রাম থেকে শহরে গিয়েছেন সেটা আপনার রমিজ চাচা না। এটা সেই অশরীরী মেয়েটার আত্মা। শহরে আপনি রমিজ চাচার বেশে যার সাথে আছেন সেটা ঐ মেয়েটারই আত্মা। সে তার খুনের প্রতিশোধ নিতে আপনাকে বোকা বানিয়ে শহরে নিয়ে গেছে। আর আপনার রমিজ চাচা গ্রামেই মারা গিয়েছেন।
-কি বলছেন এসব?! এর মানেটা কি? আপনি সেই মেয়েটা সম্পর্কে জানলেন কিভাবে!? আর এসব কিভাবে হলো?! রমিজ চাচা তাহলে কোথায়!!?
.
.
এরপর আর ওপাশ থেকে কোন উত্তর আসলো না। শুধু একটা ভয়ংকর চিৎকার শুনতে পেলাম। মৃত্যু চিৎকার!এরপরে কলটা কেটে গেলো। এরপর আমি কয়েকবার সেই নাম্বারে কল দিলাম কিন্তু কলগুলো ঢুকলো না । আমি কবিরাজের কথা শুনে পুরোই অবাক হয়ে গেলাম। কি বলছে এসব সে! রমিজ চাচা মারা গেছে! আর সেই অশরীরী মেয়েটার আত্মাটা রমিজ চাচার বেশে এতোদিন আমার সাথে ছিলো?! কিন্তু এসব কিভাবে ঘটলো?! এর উত্তর আমার কাছে নেই। আমি পুরো নির্বাক হয়ে গেলাম। এরপর চুপচুপ মনমরা হয়ে বারান্দা থেকে নিজের ঘরে গেলাম। ঘরে গিয়ে বিছানায় যা দেখলাম আমি পুরো অবাক হয়ে গেলাম। বিছানায় সেই ডায়েরিটা পরে রয়েছে। আমি অবাক হয়ে ডায়েরিটা বিছানা থেকে তুলে নিলাম। ডায়েরিতে যা লিখাছিলো তা পড়ে আমি পুরো নিশ্চল হয়ে গেলাম! ডায়েরিতে যা লেখাছিলো:
.
"কেমন আছেন আপনি? হ্যাঁ আমিই সানজিদা আফজাল মিশি। আমিই হরিনাথ বাংলোর সেই অভিশপ্ত আত্মা। কিন্তু আমার এই অভিশপ্ত আত্মা হয়ে উঠার পেছনের গল্পটাতো আপনি ভালো করেই জানেন। আমিই আপনার রমিজ চাচাকে খুন করে তার শরীরে প্রবেশ করি এবং আপনাকে বোকা বানিয়ে এই শহরে নিয়ে আসি। বিশ্বাস করুন আমার আর অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই। আমার একমাত্র লক্ষই হচ্ছে সেই
নরপশুগুলোকে খুন করে আমার স্বামী আর মেয়েকে খুন করার প্রতিশোধ নেওয়া। আর এর জন্য আমি যেকোন কিছু করতে পারি। যে কাউকেই ব্যবহার করতে পারি।আর আমিতো আপনার কাছে ভালোভাবেই সাহায্য চেয়েছিলাম কিন্তু আপনি আমাকে সাহায্য করেননি। উল্টো আপনার রমিজ চাচাকে দিয়ে আমাকে ধ্বংস করারা চেষ্টা করেছেন। তাহলে এবার শুনুন আপনার রমিজ চাচাকে আমি কিভাবে খুন করেছি! আপনার রমিজ চাচা অনেক বোকা আর লোভী। সে কবিরাজের সাহায্য নিয়ে আমার আত্মাকে ধ্বংস করতে হরিনাথ বাংলোতে আসেনি। সে এসেছিলো আমাকে আটকে রেখে সেই হীরাগুলো চুরি করতে। এটাই তার সবচেয়ে বড় ভুল আর বোকামি ছিলো।সারাদিন হীরা খোজার পরেও যখন আপনার রমিজ চাচা হীরা পায়নি।তখন সে রাতেও হীরা খুজতে থাকে এখানে সেখানে গর্ত করে করে। আর সে আরো বোকামি দেখিয়েছিলো আপনার কাছে থাকা আমার অভিশপ্ত চেইনটা নিজের গলায় পড়ে হরিনাথ বাংলোতে এসে। আপনার রমিজ চাচা পাগলের মতো চারিদিকে হীরা খুজে যাচ্ছিলো আর তখনি ঝড় আর বজ্যপাত শুরু হয়ে যায়। কিন্তু সে তার তোয়াক্কা করে না। সে হীরা খুজতেই থাকে। এক পর্যায়ে একটা বজ্যপাত হয় আমার হরিনাথ বাংলোতে এবং আমিই এই বজ্যটা আপনার রমিজ চাচার শরীরে নিক্ষেপ করি এবং সে মারা যায়। এবং এরপর আমার সামনে পরে থাকে শুধু আমার অভিশপ্ত চেইন পড়া
একটা মৃত শরীর। তার শরীরে প্রবেশ করার জন্য এরচেয়ে বেশি আমার আর কিছুরই প্রয়োজন ছিলো না এবং এরপর আমি আপনার রমিজ চাচার শরীরে প্রবেশ করি। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত আমি এই রমিজের বেশেই আপনার সাথে রয়েছি। সেই হরিনাথ বাংলোতেই কবিরাজকে আটকে রেখে আপনার সামনে রমিজ চাচা সাজার অভিনয় করি এবং আপনাকে বোকা বানিয়ে এই শহর পর্যন্ত নিয়ে আসি। আপনার নিশ্চই এখন খুব রাগ হচ্ছে এটা ভেবে যে কেনো আমি আপনার প্রিয় একজন মানুষ রমিজ চাচাকে খুন করলাম! কিন্তু এখন আমি আপনাকে যা বলবো তা শুনে আপনার নিজেরই ইচ্ছা হবে এখন রমিজ চাচাকে আবার বাঁচিয়ে খুন করতে। আসলে আপনার রমিজ চাচা এতোটাও ভালোমানুষ না যতোটা আপনি তাকে মনে করেন। সে একজন বেঈমান এবং লোভী। আপনার বাবা,ভাই,স্ত্রী কিংবা ছেলে কেউই কিন্তু দুর্ঘটনায় মারা যায়নি। তাদের সবাইকে খুন করা হয়েছে এবং এটা করেছে আপনার রমিজ চাচা। সেই আপনার বাবাকে খুন করে বলে দুর্ঘটনায় মারা গেছে, সেই আপনার ভাইকে পানিতে খূন করেছে। সেই আপনাকেও এক্সিডেন্ট করে খুন করতে চেয়েছিলো। কিন্তু আপনার স্ত্রী আর সন্তান মারা গেলেও আপনি কোনভাবে বেঁচে যান। সে এসব করেছে শুধু আপনাদের সম্পত্তির লোভে আর ক্ষোভে। সে এরপরেও আপনাকে অনেকবার খুন করতে চেয়েছে।
কিন্তু বরাবরই ব্যার্থ হয়েছে। থাক এসব কথা! আমি এর জন্য তাকে খুন করিনি। আমি খুন করেছি শুধু আমার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য একটা শরীর চাই তাই। এখন থেকে আপনি মুক্ত। আপনাকে এই পিশাচ ডায়েরি বা আমি আর বিরক্ত করবো না। আমি সেই নরপশুগুলোর ঠিকানা পেয়ে গেছি। তাদের খুন করার সাথে সাথে আমিও মুক্তি পেয়ে যাবো। চিরোমুক্তি পেয়ে যাবো। ভালো থাকবেন। "
.
.
ডায়েরিটা পড়ে আমার নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না ডায়েরির লেখাগুলো। কিন্তু এগুলোই সত্যছিলো। এগুলোই বাস্তব কথা আর বাস্তবতা ছিলো।
.
পরেরদিন সকাল বেলা শুনতে পেলাম শহরের ডাস্টবিনের পাশে ৪টা মাথা কাটা লাশ পাওয়া গিয়েছিলো। তাদের কারোই হৃৎপিন্ড আর মাথা খুজে পাওয়া যায়নি। এরপরে আমি আবার আমার গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসি।
.
এরপর থেকে আমার জীবনে হরিনাথ বাংলো, রমিজ চাচা,মিশি বা তার সেই পিশাচ ডায়েরি কিছুই আসেনি। আমার জীবনটা একাকীত্বের ভেতরেও কেমন যেনো স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিলো। আমি ভালোই ছিলাম মাসুদ রানার #পিশাচ_ডায়েরি গল্পে।
.
.
Tags
horror story in bengali language
vuter golpo in bengali
bhoutik golpo
bangla horror golpo
chotoder bhuter golpo
bhooter golpo bangla
bhuter kahini
sotti vuter golpo
bangla bhuter boi
sotti bhuter golpo
ghost bangla

voyanok vuter golpo
bangla vut
real vuter golpo
bangla bhoot golpo
bhuter bangla golpo

horror story in bangla font

SHARE

Author: verified_user