Wednesday

Bangla Golper Boi | Bengali Story Books

SHARE


Bangla Golper Boi | Bengali Story Books

Bangla Golper boi

bangla golper boi ek jora chokh khuje arek  jora chokhke
                            একজোড়া চোখ খোঁজে আরেক জোড়া চোখকে




বইঃ একজোড়া চোখ খোঁজে আরেক জোড়া চোখকে।
লেখকঃ জাহিদ হোসেন।প্রকাশনীঃ বাতিঘর।জনরাঃ লাভক্র‍্যাফটিয়ান হরর।পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৯৬মুদ্রিত মূল্যঃ ১২০টাকা মাত্র।


Bangla Golper Boi
দেশবরেণ্য লেখক মোহাম্মদ আসগর।
নিজেরি করা কুকীর্তি, যার দরুন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, এখন আছেন কোন এক বস্তিতে, শহর থেকে দূরে, একটা খুপড়ি ঘরে।
তার পাশের ঘরেই কালো মানিক আর তার সুন্দরী স্ত্রী রাহেলা।
প্রতি রাতেই তাদের মাঝে ঝগড়া হয়, মারামারি হয়, আবার কিছু সময় পর দুজনেই মেতে উঠেন আদিম সুখের শীৎকারে। 
আসগর কান পেতে শোনেন সেসব, কখনওবা নিজের চোখে অবলোকন করতে চোখ রাখেন আড়ালে।
এলাচি খালের পাড় ঘেষে মাঠ পেরিয়ে রয়েছে এক রহস্যময় গুহা, যে গুহায় যেতে হয় নৌকায় চড়ে।
চায়ের দোকানের সাচ্চু একদিন আসগরকে শুনালেন এক অদ্ভুত গল্প, যে গল্পের টানে আসগর ছুটে গেলেন সেই গুহায়, আর দেখা পেলো ব্যখ্যাতীত এক দৃশ্যের।
অস্ট্রেলিয়ার ব্রিগুদা গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো, ছিন্নবিচ্ছিন্ন মানব দেহ আর অদ্ভুত রকমের মাছের আঁশ এবং আঠালো পদার্থ। 
সাইবেরিয়ার নাতাশা কিংবা বনশ্রীর মক্ষীরাণী অ্যালিস, অথবা বস্তিবাসী রাহেলা আর ব্রিগুদার জুডিথ ডারহাম, কিংবা ভারতীয় পূরানের দ্রোন সবাই একই সুতোয় গাঁথা। কারাই বা অদ্ভুত সব ভাষায় কথা বলছে? অর্থই বা কি সেসবের? কি চায় তারা মানব জাতির কাছে? 
ক্রিমিনোলজিস্ট রেহমান সিদ্দিকি পারবেন সেই রহস্যের সমাধান করতে? 
-----

বইটা কিনেছিলাম এবার মেলা থেকে। ধরা হয়নি এতদিন। তবে অনেকের কাছেই প্রশংসা শুনে পড়ার আগ্রহটা আর দমিয়ে রাখতে পারিনি।
প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে আমার হরোর জনরাটা খুব একটা পছন্দ না, হাতেগোনা কিছু লেখক ছাড়া।
আর লাভক্র্যাফটিয়ান হররের সাথে খুব একটা চেনাজানা নেই। তা ভাব্লাম দেখি কেমন বইটা।
বইটা পরিসরে ছোট, তাই এখানে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট করার সুযোগ কম।।যেহেতু নভেলাই বলা চলে। তবুও লেখক চেষ্টা করেছেন যতদূর পারা যায় চরিত্রগুলোর কন্টেন্ট বাড়াতে। 
আর কাহিনীও ছোট্ট পরিসরে বেশ ভালোভাবেই এগিয়েছে। গল্পের ইন্টারেস্টিং দিক ছিলো প্রাচীন ভাষা, বিদেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সময়ের ঘটনাগুলোর সাথে বর্তমানকে সংযুক্ত করা, রাহেলা আর আসগর ক্যারেক্টারটার রহস্যময়তা, চারপাশের সুন্দর বর্ণনাভঙ্গি। লেখকের এর আগে দুটো বই পড়েছিলাম, ফিনিক্স আর কদ্যুসেয়াস। প্রথমটা বেশ ভালো লেগেছিলো, তবে পরেরটা হতাশ করেছিলো।
তবে লেখকের লেখনী আমার মোটামুটি ভালোই লেগেছে ফিনিক্স আর এই বইতে। কদ্যুসেয়াস থেকে উত্তম। কাহিনীতে একটা উত্তেজনা ছিলো সবসময়ি, আর অ্যালিসের ঘটিনাটা ছিলো সবচেয়ে দারুন, একদম বাস্তব মনে হয়েছে। যেহেতু বইটি নভেলা, তাই খুব বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই।
তবে নভেলা না হয়ে আরও বড় পরিসরে হলেই বোধকরি ভালো লাগতো আরও বেশি। তাছাড়া এই ছোট পরিসরেও কিছু কিছু জায়গায় কিছু বর্ণনা অহেতুক মনে হয়েছে। কিছু কিছু ঘটনার সুত্রপাত পরবর্তিতে অকার্যকর লেগেছে। 
আর আজকাল বেশিরভাগ থ্রিলার বইতেই আমার ফিনিশিং পছন্দ হয়না কেন যেন, এই বইতেও তেমনি। আরেকটু জম্পেশ হতে পারতো। আর হ্যা, তেলাপিয়া না দিয়ে অন্য কিছু দিলে ভালো লাগতো। হয়তো মাছটা অপছন্দ কিনা জানিনা, কিন্তু কেন যেন বিরক্ত লেগেছে, মনে হচ্ছিলো যাচ্ছেনা এটা। 
কিছু ছোটখাটো প্রিন্টিং মিস্টেক আছে, প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে। বাধাই আর কাগজ পছন্দ হয়নাই। 
Download Now All Bangla Ebook

-

Bengali Story Books - Tell No One

bengali story book
Add caption



বই : টেল নো ওয়ান
লেখক : হারল্যান কোবেন
রূপান্তর : সায়েম সোলায়মান

প্রকাশক : রোদেলা প্রকাশনী
প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
ঘরানা : সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার/মার্ডার মিস্ট্রি
পৃষ্ঠা : ৩৩৬
প্রচ্ছদ : সাজিদ শুভ
মুদ্রিত মূল্য : ৪২০ টাকা


আট বছর আগে মারা গেছে এলিযাবেথ। এ ব্যাপারে তার স্বামী ডেভিড বেক একদম নিশ্চিত। আট বছর আগের সেই রাতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনা তার জীবন থেকে যেমন কেড়ে নিয়েছে প্রাণাধিকা প্রিয় স্ত্রী এলিযাবেথকে তেমনি আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে তার জীবনে। পেশায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বেক আজ ঠিক আট বছর পরের আগের সেই ঘটনার জের ধরেই আবারো বিচলিত বোধ করতে লাগলো। যেন সেই কালো রাত আবারো নতুন করে ফিরে আসতে চলেছে তার বর্তমান নিস্তরঙ্গ জীবনে।

অদ্ভুত রহস্যময় কিছু মেইল আসতে লাগলো ডাক্তার ডেভিড বেকের মেইল অ্যাড্রেসে। আড়ালে অপেক্ষমাণ কেউ যেন তাকে কিছু বলতে চায়। খুব রহস্যময় কিছু তার সামনে মেলে ধরতে চায়। মেইল গুলো একটা ব্যাপার কিন্তু ঠিকই পরিষ্কার করলো ডাক্তার বেকের কাছে। তা হলো, এসবের সাথে এলিযাবেথের মৃত্যুর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে।

বেক দম্পতির স্মৃতিবিজড়িত লেক চারমেইনের অদূরেই আবিষ্কৃত হলো অজ্ঞাত দুটো লাশ। দীর্ঘদিন মাটিচাপা পড়ে থাকার পর জনসম্মুখে হঠাৎ বেরিয়ে আসা লাশদুটো যেন আরো বিভ্রান্তির সৃষ্টি করলো। এদিকে খোদ এফবিআই একেবারে আদাজল খেয়ে লেগেছে ডাক্তার বেকের পেছনে। আট বছর আগে ধামাচাপা পড়ে যাওয়া এলিযাবেথের হত্যার কেস রিওপেন করতে চায় তারা। পেছনে লেগে গেলো পুলিশও।

দুই হাতকে প্রায় অস্ত্রের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এই ভয়ঙ্কর স্বভাবের এশিয়ানকে সাথে নিয়ে ল্যারি গ্যান্ডেল নিউইয়র্কের বুকে চালিয়ে যাচ্ছে একের পর এক হত্যাযজ্ঞ। কার ইশারায় সে এসব করে বেড়াচ্ছে, তা সত্যিই ভাববার ব্যাপার হয়ে ডাঁড়ালো। আর এসবের সাথে এলিযাবেথের হত্যারহস্যের মিলই বা কি?Bengali Story Books
 দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী বিলিয়নিয়ার গ্রিফিন স্কোপও পুত্রহত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এই সমস্তকিছুর গ্যাঁড়াকলের মাঝে পড়ে ত্রিশঙ্কু অবস্থা হলো ডেভিড বেকের। মেইলে লেখা একটা মাত্র বাক্যই তার মাথার ভেতরে চক্কর কাটতে লাগলো। "টেল নো ওয়ান - কাউকে বোলোনা!"

পাঠ প্রতিক্রিয়া : আমেরিকান রহস্য সাহিত্যে হারল্যান কোবেন অতি পরিচিত একটা নাম। যদিও 'টেল নো ওয়ান' পড়ার আগে তাঁর মাত্র একটা বই-ই আমার পড়ার সুযোগ হয়েছে। আর সেটা হলো 'কট। 'টেল নো ওয়ান' শেষ করার পর আত্মতৃপ্তির সাথে একটা কথাই মনে হলো, অনেক দিন পর একটা জমজমাট মার্ডার মিস্ট্রি পড়লাম।

এই উপন্যাসটা সাদামাটা ভাবে শুরু হলেও যতোই এগিয়েছে ততোই বেড়েছে রহস্যে ঘেরা গলিঘুপচির সংখ্যা। প্রত্যেকটা অধ্যায়ের শেষের অংশ আমাকে বাধ্য করেছে পরের অধ্যায়ে যাওয়ার জন্য। সুপরিসর প্লট আর তার বিস্তৃতি জুড়ে ছিলো অনেক চরিত্র। এতোগুলো চরিত্রের সমাবেশ ঘটায় মাঝেমাঝেই একটু বিভ্রান্ত হচ্ছিলাম বটে, তবে সময়ের সাথে সাথে সেটাও ঠিক হয়ে গেছে। টাইরিয, ব্রুটাস, শনা, এজেন্ট কার্লসন, এজেন্ট স্টোন, রেবেকা শেয়েয, এরিক উ সহ প্রত্যেকটা চরিত্রই লেখকের চমৎকার বর্ণনাভঙ্গির কারণে বাস্তবের কাছাকাছি বলে মনে হয়েছে। আর একটার পর একটা টুইস্ট এমন অবাক করেছে, তা বলার মতো না।

পাঠকপ্রিয় অনুবাদক সায়েম সোলায়মানের সুখপাঠ্য অনুবাদ 'টেল নো ওয়ান'-এ যোগ করেছে এক ভিন্নমাত্রা। ৩৩৬ পৃষ্ঠার উপন্যাসটা তাঁর সাবলীল অনুবাদের কারণে খুব দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গেছে আমাকে। একটাবারও কোথাও হোঁচট খেতে হয়নি। অবশ্য আমি এমনিতেই তাঁর অনুবাদের একজন ভক্ত। সেবা'র বাইরে এই প্রথম তাঁর অনুবাদ পড়লাম।

বইয়ের একটামাত্র জায়গা ছাড়া কোথাও প্রিন্টিং মিস্টেক চোখে পড়েনি আমার। শুধুমাত্র ৩২৩ পৃষ্ঠার শুরুতে একটা বাক্যে মি. হয়টের স্থানে ভুলক্রমে গ্রিফিন হয়ে গেছে। সাজিদ শুভ'র করা চমৎকার প্রচ্ছদ সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। ব্যক্তিগতভাবে প্রচ্ছদটা আমার খুব আকর্ষণীয় লেগেছে। এই বইমেলাতেই রোদেলা থেকে সায়েম সোলায়মানের রূপান্তরে হারল্যান কোবেনের 'ডোন্ট লেট গো' বইটাও প্রকাশিত হয়েছে। সেটাও সংগ্রহে আছে। পড়ে ফেলবো কখনো।

ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৫/৫

© শুভাগত দীপ

-

Bangla Golper Boi Kobi


bangla story book kobi

বই : কবি
লেখক : তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ধরণ : উপন্যান্স
প্রকাশনী : বই বাজার
পৃষ্ঠা : ১৬৭
মূল্য : ২২০ টাকা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক ও গল্পকার। তার সব লেখায় মানুষের মহত্ত্ব ফুটিয়ে উঠেছে সাবলীলভাবে।
সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন চিত্র তার একাধিক গল্প ও উপন্যাসের বিষয়বস্তু। প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। তার লেখায় বিশেষভাবে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তার উপন্যাসের বিষয়বস্তু। সেখানে আরও আছে গ্রাম্যজীবনের ভাঙনের কথা, নগরজীবনের বিকাশের কথা।
মহান লেখকের জন্ম ১৮৯৮ সালের ২৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার পরিবারে। তার বাবা হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা প্রভাবতী দেবী।

কাহিনী সংক্ষেপ:
কবি উপন্যাসের নায়ক একজন কবি। তবে কবি বলতে আমরা সাধারনত যা বুঝি সেই কবি তিনি নন, উপন্যাসের নায়ক নিতাইচরন একজন কবিয়াল।
কবিয়ালরা মুখে মুখে কবিতা তৈরি করত এবং তা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করত গ্রামীণ বিভিন্ন উৎসবে, প্রচন্ড রকমের 'ট্যালেন্ট' না থাকলে যে কারও পক্ষে কবিয়াল হওয়া সম্ভব নয়, এটা বুঝা যায়।
নিতায়চরনের কবিয়াল হওয়াটা একটা ইতিহাস। লেখকের ভাষায়-
"শুধু দস্তুরময় বিস্ময়কর ঘটনায় নয়, রিতীমত এক সংঘটন।
চোর ডাকাত বংশের ছেলে হঠাৎ কবি হইয়া গেল।"
bangla story book

নিতাইয়ের জন্ম হিন্দু ডোম বংশে,সে ডাকাত বংশের লোক। তারা প্রাচীনকালের লাঠিয়াল। তাদের উপাধি হল বীরবংশী। নিতাইয়ের মামা গৌর বীরংশী এই অঞ্চলের বিখ্যাত ডাকাত। নিতাই খুনীর দৌহিত্র,ডাকাতের ভাগনে,ঠ্যাঙ্গাড়ের পৌত্র,সিধেল চোরের পুত্র,নিতাইয়ের চেহারাতে বংশের ছাপ স্পস্ট এবং প্রতক্ষ। দেহ কঠিন পেশী দীর্ঘ সবল, রঙ কাল, শুধু চোখের দৃষ্টি বড় বিনীত।
একবার এক মেলাতে এক বিখ্যাত কবিয়াল না থাকাতে নিতাইকে মঞ্চে তুলে দেয়া হয়,তারপরে নিতাই তার প্রতিদ্বন্দ্বী কবিয়ালকে প্রায় ঘায়েল করে ফেলে শেষে তার প্রতিপক্ষ কবিয়াল নিতাইয়ের পরিবার নিয়ে অশ্লীল আক্রমণ করে কবিয়াল লড়াইয়ে জিতে যায়, কিন্তু অই মঞ্চেই নিতাই জয় করে নেয় হাজারো মানুষের মন।
নিতাইয়ের লেখা পড়ার ইতিহাসও বেশ চমকপ্রদ, খাবার এবং কাপড়ের বিনিময়ে সমাজের নিচু শ্রেণীর মানুষদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা হলে নিতাই তাতে যোগ দেয় এবং লেখাপড়ার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।
নিতাই এর মা তাকে চুরি করতে বললে বাড়ি ছেড়ে রেল ইস্টিশনে কুলিগিরি আরম্ভ করে, সেখানে তার সাথে পরিচয় হয় উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র রাজা।
রাজা অসম্ভব খোলা মেলা ফুরতিবাজ মানুষ, গ্রামের ইস্টিশনেই সে কাজ করে, নিতাইয়ের সাথে রাজার বন্ধুত্ত থাকাতে নিতাই অনেক অনেক বেশি আয় করে অন্য কুলিদের থেকে, একটা কথা না বললেই নয় যা উপন্যাসের অঙ্ক যায়গাতেই এসেছে রাজা বউ পেটাতে অসম্ভব ভালোবাসে।
রাজার শালিকা হল ঠাকুরঝি । এই উপন্যাসের অন্যতম নায়িকা। পাশের গ্রামের বধূ সে, গরুর দুধ বিক্রি করে সে, এই জন্যেই প্রতিদিন তাকে এই গ্রামে আসতে হয়। এই ভাবেই নিতাই এর সাথে তার পরিচয়,নিতাই এর মনের মানুষ সে।
লেখকের ভাষায়-
"ঠাকুরঝির কথাও যেমন দ্রুত,চলে সে তেমনি ক্ষিপ্র গতিতে,ঢ্যাঙা নয়,অথচ সরস কাঁচা বাশের অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলোতে বেশ একটি চোখজুড়ানো লম্বা তান আছে,এই দীঘল ভঙ্গীটি নিতাইয়ের সবচেয়ে ভাললাগে। "
একদিন রাজা ঠাকুরঝির গায়ের রঙ কাল হওয়ার কারনে তাকে উপহাস করে,কবি নিতাইয়ের মনের মাঝে তা ধাক্কা লাগে,ঠাকুরঝির মন খারাপ হওয়াতে নিতাই কবিতা লেখে।
"কাল যদি মন্দ তবে চুল পাকিলে কেনে কাঁদ ??
কালো কেশে রাঙ্গা কুশুম হেরেছ কি নয়নে। "
কবিতাতেই থেমে ছিল না সব; গানের পর গান রচনা করছিল নিতাই
কিন্তু থাকুরঝি যেহেতু আরেকজনের বউ, এই কথাটি মাথাতে এলে মনের কষ্টে গান বাধে নিতাই।
"চাঁদ দেখে কলঙ্ক হবে বলে কে দেখে না চাঁদ
তার চেয়ে চোখ যাওয়াই ভাল ঘুচুক আমার দেখার স্বাদ
ওগো চাঁদ তোমার নাগি-
ওগো চাঁদ তোমার নাগি-না হয় আমি হব বৈরাগী
পথ চলিব রাত্রি জাগি সাধবে না কেউ আর তো বাদ।"
এই অবস্থায় উপন্যাসের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে আগমন ঘটে উপন্যাসের আরেক নায়িকার। ঝুমুর দলের সদস্য সে। ঝুমুর দলের লোকেরা সাধারনত যাত্রা গান করে এবং মেয়েরা টাকার বিনিময়ে দেহ ব্যবসা করে। এই দলের সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে বসন্ত এর সাথে নিতাইকে দেখে ফেললে, অভিমান করে ঠাকুরঝি এবং এক পর্যায়ে তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে এবং বারবার নিতাইয়ের নাম বলতে থাকলে নিতাইকে সবাই দোষারপ করা শুরু করে।
মনের দুঃখে ঝুমুর দলে যোগ দেয়ার জন্যে পা বাড়ায় নিতাই।
নিতাইয়ের সাথে বসনের ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়, ঝুমুর দলের কবিয়াল হিসেবে নিতাইয়ের নাম যশ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বসন্তকে সত্যিই সে ভালবাসে কিন্তু ঠাকুরঝিকে ভুলতে পারেনাই। এভাবেই নানা রহস্যে ভিতর দিয়ে এগিয়ে চলে কাহিনী।
নিতাই কার হবে? ঠাকুরঝির! নাকি বসন্তের! নাকি অন্য কোন রহস্য! জানতে হলে পড়তে হবে।
পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
মানুষের মনে হয় অনেক রকম দুঃখ হয়। একরকম দুঃখ আছে, যেটা মানুষকে দুঃখবিলাসের আনন্দ দেয়। মানুষ এক মুভি বার বার দেখে,এক বই বার বার পড়ে দুঃখ পায়। দুঃখ পেয়ে কাঁদে । কেঁদে আনন্দ পায়। এ তাদের দুঃখ আনন্দ মেশানো কান্না। দুঃখের জন্য কান্না। দুঃখকে অনুভব করতে পারার আনন্দ।
আমার ব্রেনে অন্য পৃথিবীর এক দুঃখের জন্ম হয়েছিল তারাশংকরের 'কবি' পড়ার পর। বইটা পড়ার পর কয়েকদিন যে ভয়াবহ বিষাদের অনুভূতি আমার পৃথিবী নীল করে রেখেছিল, আজকেও সেই কথা মনে পড়লে মন খারাপ হয়ে যায়। এই বিষাদ চোখে কান্না আনে না,কান্নাকাটিকে সিরিয়াস ধরনের ফাইজলামি মনে হয়। এই বিষাদ নিয়ে নিয়ে দুঃখবিলাস করা যায় না,সে এতো সস্তা না ।
লেখক তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় ছেলেবেলা থেকেই কবিতা লিখতেন। তাই একজন কবির জীবনে কবিতার আবির্ভাবের বিষয়টি তিনি নিপুণভাবেই এখানে তুলে ধরেছেন।
"জীবনে যা মিটল নাকো মিটবে কি তা মরণে?
হায়-- জীবন এত ছোট কেনে?
এ ভূবনে?"
একজন শক্তিশালী কবিয়ালের এই অভূতপূর্ব উচ্চারণ আশা করি চিরকাল মানুষের স্মরণে থাকবে।
। রিভিউ ।
জাহিদুল ইসলাম


Bangla Book Free Download


বাসর
হুমায়ূন আহমেদ

basor by humayun ahmed



মাঝে মাঝে কড়া ফুলের‌ গন্ধ পাওয়া‌ যায়। এতটাই কড়া‌ যে গা ঝিম‌ঝিম‌‌ করে । জায়গাটা হচ্ছে‌ রিং রোডের‌ মাঝামাঝি। বেশ রহস্যময়। অথচ সেখানে আশেপাশে কোনো ফুলের গাছ নেই।
এমনই রহস্যময় ভাবে শুরু এই বই। হুমায়ূন স্যারের সব বই ই এমন, রহস্য থাকবেই । শেষে, শুরুতে অথবা‌ মাঝে।

এই বইটার নাম দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম লুতুপুতু টাইপ হবে।‌ পুরাটা পড়ে ধারণা ভেঙ্গেছে। বড় কথা একটা উক্তি খুব ভালো লেগেছে। বইটা ক্লাস টেনে থাকতে পড়েছিলাম, অবশ্যই চুরি‌ করে🙊। পড়া‌ শেষে আবার জায়গা মতো রেখে দিয়েছিলাম। কারণ তখন পাঠ্য বইয়ের বাহিরে পড়া মানেই ছিলো গোল্লায়‌ যাওয়া। এখন দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে, বই পড়ায় উৎসাহীও করে সবাই সবাইকে😌




bangla book online 

কাহিনী সংক্ষেপ:

গল্পের‌ নায়ক আহসান। প্রথম স্ত্রী তারিন‌ মারা গেছে। তারপর থেকেই হুট করে কারো কণ্ঠ শুনলেই মনে হত এটা তারিন, কিংবা এলো চুলে কেউ‌ রিক্সা করে যাচ্ছে তখন মনে হতো মেয়েটি আসলে তারিন। 

যে বাড়িতে ভাড়া থাকে সেই বাড়িওয়ালার পাঁচ মেয়ে। তাদের নাম গুলোও অদ্ভূত- বেগম, মহল। মহল তিন নম্বর মেয়ে। বাড়িওয়ালা আহসানকে খাতির যত্ন করে সম্ভবত এই কারণেই। হয়তো মহলের সাথে বিয়ে দিতে‌ চান। এটা অস্বাভাবিক কিছুও না।
অন্যদিকে আহসানের শশুরমশাই চিন্তিত , উদ্বিগ্ন। তার ছোট মেয়ে জেরিনকে যদি আহসান বিয়ে করতে চায়! ব্যাপারটা মন্দ হবে। আসলে এমন করে সন্দেহ করার কারণও আছে আহসান এর একটা ছেলেও আছে,তারিন মারা যাবার পর জেরিন এবং তাঁর মায়ের কাছেই‌ থাকে। আহসান মাঝে মাঝেই ছেকে মারুফ কে দেখতে শশুর বাড়ি যায়। এ থেকেই উদ্বিগ্নতার সূত্রপাত।
তাহলে এই‌ পরিস্থিতে কি হবে? কার‌ সাথে বিয়ে হতে পারে, মহল নাকি জেরিন। এক পিতা উৎসাহী আরেক পিতা উদ্বিগ্ন। সমস্যার‌ সমাধান‌ কি হবে?
আর ফুলের‌ গন্ধের ‌রহস্য তা কি উন্মোচিত হবে? প্রশ্নের উত্তর গুলোর জন্য বইটি পড়তে অবশ্যই। হুমায়ূন স্যারের কোনো বই ই মন্দ লাগার মতো‌না। এটাও মন্দ লাগবে না।


- Laboni Khatun
Loading...
SHARE

Author: verified_user