Sunday

গাভী বিত্তান্ত - আহ্মেদ ছফা | Bangla Book Review

SHARE

গাভী বিত্তান্ত - আহ্মেদ ছফা  | Bangla Book Review


দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের সার্বিক অবস্থা— শিক্ষকদের নোংরামী, শিক্ষার দেউলিয়াত্ব, ছাত্রদের সন্ত্রাসীমূলক আচরণ, যা আমরা নিয়মিত দেখি আবার দেখি না, সবাই জানি আবার কিছুই যেনো জানি না, তা-ই অত্যন্ত সুক্ষ্ম-সাধারণ ভাষায় জাতিকে জানিয়ে দিয়েছেন 'গাভী বিত্তান্তে'।
শখের পাঠকরা এ উপন্যাসে মাঝপথে হোচড় খাবে নিশ্চিত। কাহিনী বর্ণনার পাশাপাশি চরিত্র সৃষ্টির মাধ্যম্যে তাদের সুখ-দুঃখ, নৈমিত্তিক জীবনের সাথে পাঠককে একাকার করে দেবার জন্যই যদি উপন্যাসের সৃষ্টি হয়, তবে গাভী বিত্তান্তে সাধারণ পাঠকদের জন্য তা কিঞ্চিৎ কম আছে।
কিন্তু সেন্স অব হিউমার সম্পন্ন পাঠকদের জন্য এখানে ভাববার মতো প্রচুর উপলক্ষ, অনুষঙ্গ আছে। পড়তে পড়তে আমার মনে হয়েছে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষক এবং ছাত্রদের স্বার্থে সর্বোপরি দেশের স্বার্থে জাতির গুরুত্বসহকারে 'গাভী বিত্তান্ত' বারবার ভেবে দেখা জরুরী।
মিয়া আবু জুনায়েদ, নুরুন্নাহার বানু, শেখ তবারক আলীর পাশাপাশি আরো অসংখ্য অপ্রধান চরিত্রের মধ্য দিয়ে ঔপন্যাসিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রমান্বয়ে 'সুইডিশ গাভী এবং অস্ট্রেলিয়ান ষাড়ের মধ্যে ক্রস ঘটিয়ে জন্মানো' বিরলপ্রজ একটি গাভীকে বানিয়ে তোলেন উপন্যাসের উপজীব্য। মূলকাহিনীর পাশাপাশি আবু জুনায়েদ এবং নুরুন্নাহারের দাম্পত্য-কলহকেও লেখক জীবিত রেখেছেন শেষাবধি।
গতো কিছু দিন আগে ফেবুতে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিলো। একজন উপচার্যের পাশে সোফার হাতলে বসে একজন মহিলা শিক্ষিকা যেভাবে পোঁজ দিয়েছিলেন, জাতি তা আনন্দের সাথে দেখেছে। ১৯৯৫ সালে এই উপন্যাস লিখিত হলেও বর্তমানে উপন্যাসে বর্ণিত সংকট, সমস্যাগুলো আরো বেশি প্রকট হয়েছে বলে মনে হয়। ছবির উপচার্য আর শিক্ষিকার সাথে উপন্যাসের আবু জুনায়েদ এবং দিলরুবার মধ্যেও যদি নূন্যতম সম্পর্ক থেকে থাকে তা নিছক ছফাতালীয়।
ধীরে ধীরে উপচার্যের পাশাপাশি আরো অনেক অধ্যাপকও ক্রমশ নিমজ্জিত হয়ে পড়েন 'তরণী' গাভীতে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের অবস্থা যদি এই হয়, বাকি বিদ্যাপিঠের অবস্থা কল্পনা করলেই আক্কেল গুড়ুম হবে নিশ্চিত। লেখক দারুণ বলেছেন 'মাছের পচন যেমন মস্তক থেকে শুরু হয়, তেমনি যাবতীয় অসুখের জীবাণু শিক্ষকদের চিন্তা-চেতনায় সুন্দরভাবে স্থান করে নিয়েছে।' প্রতীকারের চিন্তা করবে কে? সরকার স্বয়ং অশুদ্ধ উপায়ে ক্ষমতা কুক্ষীগত করে জনগণকে শুদ্ধ গণতন্ত্রের বয়ান দিয়ে চলেন। আর জনগণও অত্যন্ত সুন্দরভাবে অশুদ্ধতায় মেতে থাকতে ভালোবাসেন। আমরা সত্যি আজব।
১৩, ০৫, ২০১৮
আলমগীর মুহাম্মদ সিরাজ
চট্টগ্রাম।
SHARE

Author: verified_user