Monday

Bangla Book Free Download | Aj Chitrar Biye By Humayun Ahmed

SHARE

Bangla Book Free Download | Aj Chitrar Biye By Humayun Ahmed


Bangla Book Free Download | Aj Chitrar Biye By Humayun Ahmed

বইঃ আজ চিত্রার বিয়েলেখকঃ হুমায়ূন আহমেদপেজ নাম্বারঃ ১০০প্রকাশনী – সময় প্রকাশন




উপন্যাসের নায়িকার নাম চিত্রা। চিত্রার মায়ের নাম শায়লা বানু, বাবা চৌধুরী খলিলুর রহমান সাহেব আর চিত্রার ছোট বোনের নাম মীরা। লেখক তার এই বইয়ে সরল, সাধারণ আর দারিদ্র্যের সাথে পাল্লা দিয়ে উপরে উঠতে যেয়ে বিষণ্ণতার মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠা এক মধ্যবিত্ত পরিবারের কাহিনী চিত্রিত করেছেন।
প্রিভিউঃ
-চিত্রা খুবই সুন্দরী মেয়ে, কিন্তু গায়ের রঙ. ময়লা। বাংলাদেশে মেয়ের সৌন্দর্যবিচারে গায়ের রঙের ভূমিকাই প্ৰধান। গায়ের. রঙ ধবধৰে শাদা হলে ট্যারা চোখের মেয়ে, ভালাে করে তাকালে যার নাকের. নিচে সূক্ষণ গোফ দেখা যায় তাকেও রূপবতী হিসেবে গণ্য করা হয়। শাশুড়ি. পাড়া-প্রতিবেশীকে খুব আগ্রহ করে বউ দেখাতে দেখাতে গােপন অহঙ্কার নিয়ে. বলেন আমার বউয়ের গায়ের রঙটা ময়লা, খুব শখ ছিল-- রঙ দেখে বউ. আনৰ । কি আর করা, সব শখ তাে পূরণ হয় না। শায়লা বানুর সব শখই মনে হয় পূরণ হতে যাচ্ছে। খুবই 'আশ্চর্যজনকভাবে. আমেরিকা-লন্ডন এপেৰ একজেন পাত্রের সঙ্গে যােগাযােগ হয়েছে। চিত্র কার্জন. হল থেকে যাচ্ছিল ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরিতে।
-এই যোগাযোগরর মধ্যেও ভাগ্যের একটা ব্যাপার আছে বলে শায়লা মনে করেন। বিয়ের ব্যাপারটা নাকি পূর্বনির্ধারিত । শায়লা বানুর ধারণা আল্লাহ ঠিক. করে রেখেছেন–এখানেই বিয়ে হবে।সে কারনে চিত্রা কাদা-পানিতে মাখামাখি হয়েছে।
-মীরা বলল, বাবা তুমি এমন সেজেগুজে বসে আছ কেন? দেখে মনে হচ্ছে. বিয়ে বাড়িতে যাচ্ছ। রহমান সাহেব জবাব দিলেন না। মেয়ের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। রাতে বাইরে খেতে যাওয়ার কথা মীরাকে বলতে পারতেন। বললেন না, কারণ মীরা। খেতে যাচ্ছে না। শুধু তিনি আর চিত্রা। এতে মীরা মনে কষ্ট পেতে পারে । অল্পবয়েসী মেয়েরা খুব সহজেই কষ্ট পায় । মীরা বলল, যত দিন যাচ্ছে তুমি যে ততই বদলে যাচ্ছে এটা কি জান! মাঝে. মাঝে তােমাকে দেখে মনে হয় তুমি আমাদের চিনতে পারছ না। মনে হয় তুমি এ. বাড়ির কেউ না । তুমি একটা ফার্নিচার। আপার বিয়ে হচ্ছে এত হৈচৈ, তুমি কিন্তু. নির্বিকার । উত্তেজনায় মা রাতে ঘুমুতে পারছে না। তাকে ঘুমের ওষুধ খেয়ে. ঘুমুতে হচ্ছে। আর তুমি দিব্যি নিজের মতাে আছ।
- শায়লা মীরার দিকে তাকিয়ে আছেন। মীরা টেলিফোনে কেমন যেন মাথা. নিচু করে কথা বলছে। তার মুখ লালচে দেখাচ্ছে। ভালাে লক্ষণ না। প্রেম-প্রেম. খেলা না তাে
-শায়লা বললেন,ভাত খেয়ে তুই আমার ঘরে আসবি।কি ঘটনা আমাকে বলবি। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বলবি।ছেলের নাম, কোথায় প্রথম দেখা সব।
মীরা ক্ষীণ স্বরে বলল, শুধু টেলিফোনে কথা হয় মা। আর কিছু না।
দেখা হয় নি এখনো?
না।
না দেখেই প্রেমের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিস? এত সস্তা? টেলিফোনে গলার স্বর শুনে প্রেম?
- মজনু ভাই সঙ্গে সঙ্গে রিকশার খোঁজে গেল।বাজারটা রেখে যেতে পারত । তা করল না, বাজার. হাতে করেই গেল। রিকশা নিয়ে ফিরে এসে বলল, মীরা রিকশা ভাড়া দিও না। মীরা বলল, ভাড়া দেন না কেন? রিকশা ভাড়া আমি দিয়ে দিয়েছি। আপনি কেন দেবেন? ভাংতি ছিল দিয়ে দিয়েছি। মজনু ভাই বাজারের ব্যাগ নামিয়ে কপালের ঘাম মুছে আনন্দে হাসতে. লাগলেন। যেন বিরাট একটা কাজ করেছেন। রাজকন্যা স্কুলে যাবে তার জন্যে. এরােপ্লেন কিনে নিয়ে এসেছেন। মীরার প্রচণ্ড রাগ লাগছে। রাগটা কিছুতেই কমছে না। রাগ নিয়ে ঘুমুতে. যাওয়া ঠিক না। ঘুম ভালাে হয় না। ঘুমের মধ্যে বােবায় ধরে । স্বপ্নের মধ্যে মনে. হয় বিকট কোনো জন্ত বুকের ওপর চেপে নিঃশ্বাস বন্ধ করে দিচ্ছে। জন্তুটার. গায়ে বােটকা গন্ধ। জন্তুটাকে যে স্থির হয়ে বসে থাকে তাও না। নড়াচড়া করে।
- জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি তাের বাবা মাছের. চৌবাচ্চার পাশে বসে আছে । বিড়বিড় করে কি যেন বলছে । চুপি চুপি তোর. বাবার পেছনে গিয়ে দাড়া, তারপর শুনতো সে কি বলে।। মীরা বলল, থাক না মা শােনার দরকার কি? সব মানুষই যখন এক থাকে. তখন নিজের মনে কথা বলে। বাৰাও তাই করছে।
-মীরার হঠাৎ তার বাবার জন্যে খুব মমতা লাগল । এই বাড়িতে মানুষটা খুবই একা। কারো সঙ্গেই তার যোগ নেই। কেউ তার সঙ্গে বসে সুখ-দুঃখের কোন কথাও বলে না। কিছু কিছু মানুষ হঠাৎ ছায়া হয়ে যায়। মানুষটার অস্তিত্ব থাকে না। শুধু ছায়া ঘুরে বেড়ায়। মানুষের সঙ্গে মানুষের ভাব হয়। ছায়া মানুষের সঙ্গে ভাব হয় ছায়া মানুষের।এ বাড়িতে আরেকজন ছায়া মানুষ থাকলে ভালো হত। দু'জন ছায়া মানুষ গল্প করত।
-জহির তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারে।এর আগেও কয়েকবার বের করেছে।বের করে দিলে খুবই খারাপ হবে।ফরিদার ভয়ঙ্কর কষ্ট হবে।বাসা থেকে বের করে দিলেই ফরিদার মনে হয় এই পৃথিবীতে তার কেউ নেই।তার তখন ইচ্ছে করে কোনো চলন্ত ট্রাকের নিচে ঝাপ দিয়ে পড়তে। সাহসে কুলায় ন। তার সাহস খুব কম।
-রাহমান সাহেব বোনের পিঠে হাত রেখে নরম গলায় বললেন,আত্মীয়স্বজনের মধ্যে আবার মান আপমান কি?রাগের সময় জহির কিছু উল্টা পাল্টা কাজ করেছে। এখন নিশ্চয় রাগ পড়ে গেছে। এখন সে লজ্জিত।দেখবি আমি সব ঠিক ঠাক করে দিয়ে আসব।রাতে তোদের সঙ্গে ভাত খাবো।দরকার হলে রাত টা তোদের সঙ্গে থাকব।
-জহির কিছুক্ষণ তার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থেকে রহমান সাহেবের দিকে তাকাল।থমথম গলায় বলল, ভাইজান আপনি এই হারামজাদীকে এখানে নিয়ে এসেছেন কেন ?
-শায়লা হঠাৎ বললেন,চিত্রা তোর কি কোনো পছন্দের ছেলে আছে?
চিত্রা পায়েস নাড়া বন্ধ করে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,হ্যাঁ আছে।
শায়লা হতভম্ব হয়ে গেলেন।চিত্রা বলল,এরকম হতাশ চোখে তাকাবার মতো কোনো কিছু না মা।আমার পছন্দের ছেলে আছে শুনে তোমাকে নার্ভাস হতে হবে না।বিয়ে করার মতো ছেলে না।
তার মানে কি?
চিত্রা সহজ গলায় বলল,কিছু ছেলে আছে যাদের পছন্দ করা যায় কিন্তু বিয়ে করা যায় না।
-ফরিদা অনেক রাত পর্যন্ত তার ফ্ল্যাটের বারান্দায় দাঁড়িয়ে রইল।ভাইজান তাকে ফেলে চলে গিয়েছে এ জন্যে তার শুরুতে খুব মন খারাপ হয়েছিল।মন খারাপ ভাবটা অতি দ্রুত চলে গেল।তার কাছে মনে হল-আহারে বেচারা।বোনকে ফেলে চলে যেতে হচ্ছে এরচে কষ্টের আর কি আছে।
-এখন সে দাঁড়িয়ে আছে- পাঁচ তলা বাড়ির ছাদে
এত উঁচু থেকে নিচে তাকানোর ফলে আরো একটা ঘটনা ঘটল_ভয়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ভালো লাগাটা বাড়ল।সে এখন যে কোনো সময় ছাদ থেকে লাফ দিতে পারে।এই জীবনের সমস্ত সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে সমাধান।কারোর যদি বড় ধরনের কোনো আসুখ হয় এবং সেই অসুখের ওষুধ হাতে থাকে তাহলে তৃপ্তির যে ভাবটা হয় ফরিদার টাই হচ্ছে।
-যদি ছাদ থেকে লাফ দেয়ার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সে নিয়ে ফেলে তাহলে অবশ্যই কয়েকটা চিঠি লিখে যেতে হবে।
-দ্বিতীয় চিঠিটা সে লিখবে চিত্রাকে।
- বিয়ের আগে মেয়েরা লক্ষ্য রাখে তার মা'র দিকে।বাবার দিকে চোখ পড়ে না।বিয়ের পর সে যখন একজন পুরুষের সঙ্গে বাস করতে যায় তখন তার বাবার কথা মনে পড়ে।চিত্রা মা যতই দিন যাচ্ছে তোর বাবা কেমন যেন আউলা ঝাউলা হয়ে যাচ্ছে।এমন ভাবে টাকায় যেন তার কিছুই নেই।তুই অবশ্যই মাঝে মাঝে আদর করে তাকে দুএকটা কথা বলবি।এটা সেটা রান্না করে খাওয়াবি।এতেই দেখবি মানুষটা কত খুশি হবে। কিছু কিছু মানুষ আছে অল্পতে খুশি হয়-কোনো কিছু না পেয়েই খুশি হয়।তোর বাবা সে রকম একজন মানুষ।মানুষটা ডুবে যাচ্ছে।তুই অবশ্যই তাকে টেনে তুলবি।
-শেষ চিঠিটা লিখতে হবে জহিরকে।এইখানে ফরিদা কায়দা করবে।আমার মৃত্যুর জন্যে তুমি দায়ী এসব কিছুই লিখবে না। উল্টো ভালো ভালো কথা, মিষ্টি মিষ্টি কথা লিখবে। জাতে চিঠি পড়ে সে একটা ধাক্কার মতো খায়।অন্তত একবার হলেও নিজের মন থেকে বলে- আহারে।
-রহমান সাহেব চেষ্টা করছেন কান্না থামাতে।পারছে না।তাঁর চোখের পানি ফরিদার ডান হাতের তালুতে টপ টপ করে পড়ছে।
যে কেউ দেখলেই বলবে প্রথম বৃষ্টির পানি মেয়েরা যে ভঙ্গিতে হাত বাড়িয়ে ধরে,ফরিদাও ঠিক সেই ভঙ্গিতে ভাইয়ের চোখের অশ্রু হাত বাড়িয়ে ধরছে। এখনই বুঝি এই অশ্রু সে তাঁর গালে মাখবে।
SHARE

Author: verified_user