Sunday

Bangla Bhuter Boi | Onno Nirbachon By Onish Bose | Vuter Golpo In Bengali

SHARE

Bangla Bhuter Boi | Onno Nirbachon By Onish Bose | Vuter Golpo In Bengali

Bangla Bhuter Boi | Onno Nirbachon By Onish Bose | Vuter Golpo In Bengali

বাংলা ভূতের গল্প অন্য নির্বাচনঅনীশ বসু



কাগজপত্র মিলিয়ে বস্তাবন্দি করে ব্যালট বাক্স ঘাড়ে নিয়ে ডি সি থেকে রওনা হতে বিকেল চারটে বেজে গেল | পোলিং স্টেশন প্রায় চল্লিশ কিমি দূরে | পোলিং পার্টির সবাই কেমন যেন মনমরা হয়ে আছে | সবার শেষে যাত্রা শুরু করলাম , যেতেও হবে অনেক দূরে | সেখানকার ব্যবস্থা কেমন হবে, আগামী দেড় দিন কিভাবে কাটবে এই অনিশ্চয়তা আর পাহাড় প্রমান কাজের চাপ -- কাউকে দোষও দেওয়া যায়না |
ঘন্টা দেড়েক গ্রামের ভাঙাচোরা রাস্তায় ঝাঁকুনি খেতে খেতে চলেছি | এদিকে বেশ বৃষ্টি হয়েছে মনে হয়, বেশ একটা ভেজা বাতাস বইছে | Bangla Bhuter Boi  গাড়ির জানলা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি আকাশের অবস্থাও ভালো না, আবার নামবে | যাইহোক অন্তত: একটা ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হওয়া গেল -- গরমে পুড়তে হবে না | হঠাৎ গাড়িটা একটা ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে গেল | যারা ঝিমোচ্ছিলো চমকে উঠলো | নেমে দেখি সামনে জল আর কাদায় মাখামাখি যা দেখা যাচ্ছে তা আর যাই হোক না কেন রাস্তা নয় | ড্রাইভার কোনও মতেই আর যেতে রাজি নয় | পুলিশের চোখ রাঙানিতেও তাকে টলানো গেলোনা | বুঝলাম ফিরতে হবে আবার এই পথেই, গাড়ি ফেঁসে গেলে তখন আরএক ঝামেলা | অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তায় গনতন্ত্রের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে কাদা ভেঙে এগিয়ে গেলাম | কপাল ভালো একটাই রাস্তা, হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই | মোবাইলের আলো জ্বেলে ছপছপ করে এগিয়ে চলেছি | পেছনে রাগে গজগজ করতে করতে যাচ্ছে আমাদের ফোর্থ পোলিং অফিসার ঘোষবাবু | ব্যাংকে চাকরি করেন, মেয়াদও প্রায় শেষের দিকে, কপাল দোষে পেয়েছেন আঙুলে কালি লাগানোর কাজ | অনেক চেষ্টা করেও ডিউটি কাটাতে পারেননি |
দূরে একটা আলো দেখা গেল না ? সবাই একটু যেন এনার্জি পেলো | সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে এগিয়ে চলেছি হঠাৎ পাশ থেকে একটা মোলায়েম গলা শোনা গেল, "সার ইদিকে আসুন" | দেখি ঘন অন্ধকার ভেদ করে ততোধিক কালো রোগা একজন বিগলিত হয়ে হাতজোড় করে এগিয়ে আসছে | মূহুর্তে সতর্ক হলাম, ভোট নিতে গিয়ে নির্দিষ্ট সরকারী কাগজ ব্যতীত কাউকে বিশ্বাস করা যাবেনা |
-- সার বোধহয় বুথ খুঁজে পাননি, আমার সাথে আসুন, আমি নিয়ে যাচ্ছি |
-- আপনি কি পোলিং এজেন্ট ? গম্ভীরভাবে জানতে চাইলাম|
-- আজ্ঞে আমি বারীন দোলই, আগে ভোটবাবুরা আসলেই আমার খোঁজ পড়তো | আমি সাইকেল মেসেঞ্জার ছিলাম, বাবুদের খাবার, জল, হারিকেন কেরোসিন এইসব এনে দিতাম | আপনাদের দেখভাল করার দায়িত্ব পেতাম ভোটের সময় |
-- তা এখন তো আর ওসব লাগেনা | বিরক্ত হয়ে কাটিয়ে দিতে চাইলাম লোকটাকে|
-- হ্যাঁ সার এখন সরকারী ব্যবস্থা অনেক ভালো, আপনাদের ও মুবাইল এসেছে, সরকার আর আমাদের ডাকেনা | গলায় দুঃখ ঝরে পড়লো বারীনের |
Bangla Bhuter Boi 
আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, যেকোনও সময় বৃষ্টি নামবে। আমাদের দল যথেষ্ট ভারী, বিরোধীপক্ষের কেউ আছে বলেও তো মনে হচ্ছেনা | বারীন দাসের সাথে যাওয়াই স্থির করলাম |
কাদাজল ভেঙে একটু এগোতেই পৌঁছোলাম গন্ত্যব্যে | চারিদিকে উঁচু উঁচু মোটা শালগাছের সারী প্রাইমারী স্কুলটাকে যেন বহিঃবিশ্ব থেকে আলাদা করেছে | থমথমে পরিবেশ, ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে অথচ একটা ব্যাঙের ডাক পর্যন্ত নেই | যেন এক প্রাগৈতিহাসিক জগতে পা দিলাম | গা টা একটু যেন ছমছম করে উঠলো | একটা ঝুলপড়া বাল্ব থেকে বিবর্ণ হলুদ আলো পরিবেশটাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে | ঘোর কাটলো পুলিশের স্বভাবসিদ্ধ অকারণ ধমকে, " রাতের খাবার কিছু পাওয়া যাবে?"
-- আজ্ঞে সে সব ব্যবস্থা হচ্ছে গ্রামের ভিতরে |
-- সুযোগ পেয়ে আবার বেশী দাম বাড়িয়ে দিওনা যেন |
-- ছি ছি কি যে বলেন সার, হাজার হোক আপনারা গ্রামের অতিথি, প্রাণ থাকতে টাকা নিতে পারবোনা |

Onno Nirbachon By Onish Bose
-- আচ্ছা বাথরুমের কি ব্যবস্থা বারীন? প্রসঙ্গ ঘোরালাম | অবেলায় হোটেলে খেয়েছি, থেকে থেকে পেটটা বেশ মোচড় দিচ্ছে |
-- সার এখন ইস্কুলে ইস্কুলে ছাত্র না থাকলেও আপনি সাফ পায়খানা কিন্তু পাবেন |দাঁড়ান আমি আসছি | অন্ধকারে স্রেফ মিশে গেল লোকটা | যাইহোক কাজ উদ্ধার হলে ওকে কিছু দিয়ে দিলেই হবে | কন্টিনজেন্সির টাকা তো আছেই, ভাবতে ভাবতে দ্রুত কাগজপত্র আর একবার দেখে নিতে লাগলাম | ঘাড়ের উপর ঠান্ডা হওয়ার ঝলক লাগতে চমকে উঠে দেখি বারীন তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হাতজোড় করে তাকিয়ে আছে | আশ্চর্য লোকটা কি হওয়ায় ভেসে এলো নাকি !
-- বাবু চলেন |
-- সে কি কোথায়?
-- ওই যে পায়খানা যাবেন বলছিলেন না | 
-- বাথরুমের খবর নিচ্ছিলাম যাবো বলিনি তো | সেই বিগলিত হাসি এবার বেশ বিরক্তিকর লাগলো |
মোবাইলের চার্জ প্রায় শেষ | ভাগ্যিস মা জোরকরে ব্যাগে একটা টর্চ ভরে দিয়েছিল, ঘরের কোণে রাখা বালতি নিয়ে দুর্ভেদ্য অন্ধকারে এগিয়ে গেলাম | আরে বারীন কই ? মনে পড়তেই দেখি ব্যাটা আর নেই | এদিকে টিপ টিপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে, ঠান্ডা হওয়ায় গায়ে কাঁটা দিচ্ছে | বেশিক্ষন বাইরে থাকা যাবে না | যতদূর চোখ যায় কোথাও এক বিন্দু আলোর দেখা নেই। পাশাপাশি গাছের ডালে ঘষা লেগে অদ্ভুত এক শব্দ উঠছে | ঝিঁঝিঁ পোকাও যেন ডাকতে ভুলে গেছে | ফিরে যাব কি না ভাবছি, পেছন ঘুরতেই চমকে দেখি দু হাতে জলের বালতি হাতে বারীন দাঁড়িয়ে আছে | 
-- আসুন সার ডানদিকে |Vuter Golpo In Bengali
বারীনের পেছন পেছন যেতে যেতে মনে হল লোকটা কি ভেসে ভেসে হাঁটছে না কি ! জলকাদায় তো একটুও আওয়াজ হচ্ছেনা | মরুকগে, আমার পেটের অবস্থা তখন বেশ করুন, বারীন কে নিয়ে ভাবার তখন সময় নেই | 
-- সার আপনি নিশ্চিন্তে হালকা হয়ে যান, একদম ভয় পাবেন না | আমি বাইরে পাহারা দিচ্ছি |
মনে মনে সরকারী দপ্তরকে গেল পেড়ে ভারমুক্ত হতে লাগলাম | 
-- সার সব কিছু ঠিক আছে তো?
আঃ এই গাঁইয়া ভূত টা তো আচ্ছা জ্বালালে দেখছি, নিজের যত রাগ গিয়ে পড়লো বারীনের উপর -- তুমি চুপ করে বসে থাকো দেখি |
-- ঠিক আছে সার, আপনি একদম ভয় পাবেন না |
-- আচ্ছা আচ্ছা |
মিনিট পাঁচেক পর বাইরে এসে দেখি যথারীতি সে নেই | খুব রাগ হলো |
-- বারীন ও বারীন কোথায় গেলে ....?
কোনও উত্তর নেই, টর্চের আলোও যেন এই অন্ধকার গিলে ফেলছে | দূরে যেন কারও চিৎকার শোনা গেল | বেশ ভয় করতে লাগলো |
-- সার আপনি এবার যান, আমার কাজ মনে হয় শেষ |
-- সে কি দাঁড়াও, আমায় একটু বুথে পৌঁছে দাও |
-- না না আমার থাকা হবে না সার, আপনি এই বাঁ দিকে গেলেই পৌঁছে যাবেন | যেমন এসেছিল তেমনি যেন অন্ধকারে গলে গেল সে |
আস্তে আস্তে জল ভেঙে এগোতে লাগলাম | দূরের চিৎকারটা এবার স্পষ্ট হতে লাগল -- ঘোষবাবু আমার নাম ধরে ডাকছেন | কিন্তু একি তাঁর গলার স্বরে একটা অদ্ভূত ভয়মিশ্রিত ভাব | কাছে যেতে সবাই যেন ভুত দেখছে এভাবে তাকাতে লাগলো | পাশে দাঁড়িয়ে আছে দুজন অপরিচিত লোক | Vuter Golpo In Bengali
-- আপনি কোথায় গেছিলেন? একজন বলে উঠলো |
-- বাথরুমে । সংক্ষেপে উত্তর দিলাম |
-- এই জঙ্গলে একা একা যাওয়াটা ঠিক হয়নি স্যার |
-- কেন আপনাদের লোকই তো সেই সন্ধ্যে থেকে আমাদের সঙ্গে থেকে সব কিছু করে দিচ্ছে, আমাকে বাথরুমে নিয়ে গেল, জল তুলে দিল |
বাকিরা দেখছি কেমন যেন ফ্যাকাশে দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে |
সবাইকে চুপ থাকতে দেখে ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেল -- কি হয়েছে বলবেন তো? ঘোষবাবু আমায় ডাকছিলেন কেন?
-- আমি বলছি স্যার | একজন এগিয়ে এলো |
-- স্যার ভয় পাবেন না, বারীন দোলই বলে আমাদের গ্রামে একজন ছিল বটে, কিন্তু এখন আর নেই | প্রত্যেকবার ভোটের সময় ওর বাঁধাধরা কাজ থাকতো আপনাদের দেখভাল করার, পঞ্চায়েত থেকেই ওকে পাঠানো হতো | কিন্তু আজ বছর পাঁচেক হলো বারীন মরে গেছে |
-- কি যা তা বলছো | আমার যুক্তিবাদী মন মানতে চাইলনা ওদের কথা|
এবার ঘোষবাবু এগিয়ে এলেন |
-- ওরা ঠিকই বলছে|
-- এখন তো স্যার প্রায় প্রতি বছরই ভোট, ভোটবাবুরা এলে কেউ না কেউ তার দেখা ঠিক পেয়ে যান | কিন্তু কখনও কারও ক্ষতি করেনি স্যার, ভোটের সময় খুব খাটত | একটা পয়সা পর্যন্ত চাইতোনা কারও কাছে | আর গেলও স্যার ভোটের দিনই |
SHARE

Author: verified_user