Monday

Bangla Adventure Golpo | Ovishaap By Sada Kalo

SHARE

Bangla Adventure Golpo | Ovishaap By Sada Kalo

Bangla Adventure Golpo

"অভিশাপ" - লেখক Sada Kalo 


পর্ব-১
ব্যবসায়ী জলিল সাহেব একজন সহজ সরল টাইপ এর লোক,কোনদিন কোন অন্যায় কাজ করেন নিই সব সময় গরীব দুঃখিদের সাহায্য করতেন, কিন্তু তার মনে কোন সুখ ছিলো না,সব সময় মন খারাপ করে বসে থাকতেন, কারন তার স্ত্রী ঘরে কোন সন্তান জীবিত থাকতো না,বড় রহস্যময় ছিলো তার জন্ম নেয়া বাচ্চাদের মৃত্যু, বাচ্চা গুলো জন্ম নিতো সব সময় ঝড় বৃষ্টিরর রাতে কিছুতেই বুজতেন না এই ঝড় বৃষ্টি কোথা থেকে আসতো, জলিল সাহেব এর প্রথম সন্তান জন্ম নেয়ার সময় হঠাৎ বাইরে ঝড় শুরু হয় এ যেনো কালবৈশাখী ঝড় সব কিছু ভংগেগুড়িয়ে দিবে,আর তার সাথে বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি, উনি মনে করলেন এটা হয়তো প্রাকৃতিক ব্যাপার,তাই উনি এসব এ কোন কিছু মনে করলেন না,কিন্তু তার স্ত্রী তো অনেক প্রসববেদনা শুরু হয়েছে এখন উনি যাবেন কি করে উনাকে নিয়ে হাসপাতাল এ,তার মনে পড়লো তাদের বাসার পাশে একজন ধাত্রী থাকে,এদের কাজ হলো বাচ্চা প্রসব করানো,তিনি কোন উপায় না পেয়ে ধাত্রীকে ডেকে নিয়ে আসলেন, বাচ্চা জন্ম নিলো কিন্তু বাচ্চাটা জন্ম নেয়া পর থেকে শুধু কান্না করতেছে এ যেনো মৃত্যু যন্ত্রণা কষ্টের কান্না, কতো কিছু করা হলো কান্না থামানো জন্য কিন্তু বাচ্চার কান্না থামছেই না,জলিল সাহেব ধাত্রী কে জিগাসা করলেন কেনও তার বাচ্চা এমনভাবে কান্না করতেছে,ধত্রী বলো,বাবা আমি তো সামান্য ধাত্রী মূর্খ মানুষ কি বলি বলো,আমার জীবনে আমি এমন বাচ্চা দেখি নাই,জন্মের পর সব বাচ্চারাই কান্না করে, কিন্তু এমনভাবে কাঁদতে আমি দেখি নাই,মনে হয় বাচ্চার কোন সমস্যা হচ্ছে,তুমি সকালবেলা বাচ্চাটাকে হাসপাতাল এ নিয়ে যেও,দেখো ডাঃ কিছু বলতে পারে কিনা,আচ্ছা কাল সকালে নিয়ে যাবো আপনার কথামতো আজ না হয় আপনি এখানে থাকুন, বুজতেই তো পারছেন, আমার অনেক চিন্তা হচ্ছে,আচ্ছা আমি আজ এখানেই থাকছি,তোমার ভয় নেই,রাত তখন ঠিক দুইটা বাজে হঠাৎ দরজায় টোকার আওয়াজ, ঠক ঠক কে যেনো দুইটা ঠোকা দিলো দরজায়,জলিল সাহেব মনে করলেন এই ঝড় বৃষ্টির রাতে তার বাসায় আবার কে আসবে, মনে হয় তার শোনার ভুল,কিন্তু কিছু সময় পর আবার দরজায় টোকার আওয়াজ, না এবার তো দেখতে হচ্ছে কে আসছে, উনি উঠে গেলেন দরজা খুলতে,দরজা খুলে দেখেন কেউ নেই বাইরে, বাইরে শুধু বিদ্যুৎ এর ঝলকানি আর বাজ পড়ার আওয়াজ ছাড়া আর কিছু নেই,জলিল সাহেব দরজা বন্ধ করে এসে চেয়ার এ বসে বসে ভাবতেছেন বাচ্চাটা এমন করে কান্না কেনও করতেছে,আর এদিকে তার স্ত্রী ও জ্ঞান ফিরে নাই,তিনি এখন কি করবেন,তিনি এসব চিন্তা করতে করতে ভুলেই গেলেন দরজার টোকার ঘটনা টা,রাত তখন তিনটা,হঠাৎ আবার দরজায় টোকার শব্দ ঠক ঠক কে যেনো দরজায় দুইটা টোকা দিলো,জলিল সাহেব এবার কিছুটা বিরক্তি নিয়ে দরজা খুলতে গেলেন, এবার ধাত্রী বলো বাবা দরজাটা খুলো না,তুমি আগে একবার খুলেছিলে,তখন আমার তোমাকে নিষেধ করা উচিত ছিলো,কিন্তু আমি ভুলে করতে পারি নাই,আমাদের ছোটবেলায় গুরুজনরা বলতো খারাপ কিছু নাকি দরজায় এমন করে টোকা দেয়,এরা দুই টোকার বেশি দেয় না,উনারা বলতেন কোনদিন যদি রাতে দরজায় টোকার শব্দ পাও তাহলে দেখবা দরজায় কয়টা টোকার শব্দ হয়,যদি দেখো দুইটা টোকার শব্দ হইছে তাহলে দরজা খুলো না, এতে খারাপ কিছু তোমার সাথে হতে পারে অথবা খারাপ কিছু তোমার ঘরে আসবে পারে,আর যখন দেখবা পরপর তিন টোকার শব্দ তখন বুজবা কোন মানুষ এসেছে,খারাপ কিছুরা দুই টোকার বেশি দেয় না,রাত তখন চার টা বাজে আবার দরজায় টোকার শব্দ, ঠিক একি রকম ভাবে এবার আর দরজা খুলেন না জলিল সাহবে,কিন্তু দশ পনেরো মিনিট পর পর দরজায় টোকা শব্দ হচ্ছে,জলিল সাহেব অনেক বিরক্ত হচ্ছেন, কিন্তু ধাত্রী বলছে দরজা খুলতে না, তাই তিনি খুলতে ও পারছেন না,এইসব ভাবতে ভাবতে তিনি একটু ঘুমিয়ে পরেছেন,হঠাৎ আবার দররজায় টোকার শব্দ, ঘুমের তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাবে কারনে ধাত্রী কথা ভুলে গেলেন আর দরজা খুলে দিলেন,আর মনে হলো একটা দমকা গরম হাওয়া বাচ্চা যে রুম এ আছে ওখানে প্রবেশ করলো,তার ঘুমভাবটা মুহূর্তেই ছুটে গেলো দেখলো তার বাচ্চাটা শূন্যে হাওয়াতে ভাসছে, আর বাচ্চাটার কান্নারর আওয়াজ যেনো আর্তনাদ এ পরিনত হচ্ছে, জলিল সাহেব এ শব্দ সহ্য করতে পারছেন না,তিনি দৌড়িয়ে গেলেন বাচ্চাটা কে ধরতে কিন্তু বাচ্চাকে ধরতে পারলেন না,ঠিক এ সময় ফজর এর আযান দিলো মসজিদ এ আর তখনই বাচ্চাটা মাটিতে পরে গেলো আর জলিল সাহেব এর মনে হলো তার পাশ দিয়ে কে যেনো ঘর থেকে বের হয়ে গেলো,জলিল সাহেব বাচ্চাটার কাছে গিয়ে দেখলেন বাচ্চাটা মৃত, সব থেকে আবাক করা বিষয় হলো কিছু যেনো আচর দিয়ে বাচ্চাটার চোখ দুটো তুলে নিয়েছে,আর হঠাৎ করে ঝড় বৃষ্টি সব কিছু থেমে গেছে, বাইরে পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে কিছুই হয় নিই।(চলবে)
জানি না কেমন হচ্ছে আমার লেখাটা,পড়ে জানাবেন কেমন লাগলো,ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।আপনাদের এ পর্বটি ভালো লাগলে পরে পর্ব টি লিখবো।
SHARE

Author: verified_user