Friday

Bhai - written By: Nurul Hassan

SHARE

    Bhai - written By: Nurul Hassan







আমি নুর। পরিবারের সবার ছোট, বোন হলো সবার বড়। আমি অনেক ছোট থাকতে ওর বিয়ে হয় যায়। তার পর আমার ভাই নুরনবী। খুব ছোট একটা ফ্যামিলি আমাদের , খুব সুখেই যাচ্ছিলো আমাদের দিন গুলো।
আমাদের ২ ভাইয়ের মধে বয়সের ব্যবধান ছিল মাত্র ২ বছর। খুব ফ্রি ছিলাম আমরা যেখানেই যেতাম ২ জন একসাথে যেতাম, অনেক মজা হতো,,,


একে অপরের সাথে আত্মার আত্মার মিল ছিলো। একা একা কখনো চলতেই পারতাম না। সবসময় একসাথে থাকতাম।একসাথে ঘুরতাম,একসাথে খেলতাম আর কতো কি!!!
আমার বাবা মা চেয়েছিল নুরনবী কে বানাবে হুজুর।
আমাকে বানাবে ডাক্তার।
যেই ভাবা সেই কাজ! নুরনবী কে দিলো মাদরাসায়, আর আমাকে দিলো স্কুলে ভর্তি করিয়ে।
কিছুদিন যাওয়ার পর আমি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিলাম,

মা: কি ব্যাপার তুই স্কুলে যাস না কেন?
আমি: আমি স্কুলে পরবো না...
মা : কেন..?
আমি:  আমি ভাইয়ের সাথে পরবো। ওর মাদরাসায় পরবো,
দুই ভাই একসাথে পড়বো...


মা তো কিছুতেই রাজি হচ্ছিলো না, পরে মাকে বললাম অনেক বুঝিয়ে বললাম
দেখ মা,
আমরা যদি একসাথে পড়ি কতো সুবিদা হবে,মাদরাসায় কেউ যদি আমার সাথে ঝগরা করে বা আমাকে মার দেয় তবে ভাই আমাকে বাচাতে আসবে
ভাই এর কোন সমস্যা হলে আমি যাবো,,,
কতো সুবিদা দেখ...?
মা আর কিছু বললো না,
আমি ভাই এর মাদরাসায় ভর্তি হলাম
ভালোই যাচ্ছিলো দিনগুলো,
হঠাৎ ভাই যেন কেমন হয়ে যেতে লাগল, আমার সাথে আর আগের মতো মিশে না
আমাকে সময় দেয় না।
অনেক রাত করে বাড়ি ফিরে,
বাজে ছেলেদের সাথে চলাফেরা করে।
আস্তে আস্তে ওর রেজাল্ট ও খারাপ হতে লাগলো, বাবা মা এবং কি আমার সাথেও খারাপ ব্যবহার করতো।
প্রতিদিন বাসা থেকে টাকা চাইতো টাকা না দিলে মা বকাঝকা করতো,,,
প্রাইভেটের নাম করে টাকা নিতো, কিন্তু প্রাইভেট পরতো না।
আমি যদি কিছু বলতাম আমাকে ধমক দিতো।
আমি মুখ বুঝে সয্য করতাম,
একদিন বাবা ওকে খুব মার দেয়, সেদিন ও বাসা থেকে কোখায় যেন চলে যায়।
বাবা ওকে একটুও খুজেনি, সারাটা দিন আমি ওকে খুজেছি কোথাও পাইনি।
৩ দিন পর ও বাসায় ফিরে,
বললাম কোথায় ছিলি?
ও কোন উত্তর দিল না,
একদিন মাদরাসা থেকে বাসায় ফিরছিলাম
দেখি ভাই কিছু ছেলেদের সাথে সিগারেট খাচ্ছে, পরে জানতে পারলাম ও নাকি প্রচুর নেশা করে,
আমি কোনদিনই ভাবতে পারিনি আমার ভাই এ রকম হয়ে যাবে।
খুব খারাপ লাগলো,
বাসায় এসে মা বাবা কে সব বলে দিলাম।
রাত ১০ টায় ভাই বাসায় ফিরলো
বাবা ওকে বললো,,,
তুই নাকি নেশা করিস?
ভাই> হ্যা করি। তো কি হইছে?
বাবা অমনি ওকে মার দিতে লাগলো।
এক পর্যায়ে ভাই বাবাকে ধাক্কা মারে,,,,
আমি বললাম ওই তুই বাবার গায়ে হাত তুলতে পারলি?
এই বলে আমি ওকে একটা ধাক্কা মারলাম।
ও আমাকে এমন একটা লাথি মারলো
আমি মাটিতে পরে গেলাম, নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিলো। টিনের আগাতে আমার পিঠ কেটে যায়,,,খুব কষ্ট হচ্ছিলো আমার।
সেই দিনের পর থেকে আজ ৬ টা বছর হয়ে গেল আমি ওর সাথে কথা বলি না।
ওই ও বলে না,,,,,,
দিন দিন ও আরও খারাপ হতে থাকে,
তারপর ও লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে ঢাকা চলে আসে।
শুনেছি ছোট খাটো একটা চাকরি করে।
মার সাথে মাঝে মাঝে কথা হয়।
আমিও লেখাপড়ার জন্যে রংপুর চলে আসি, আর দেখা হয়নি ওর সাথে।
ওকে খুব মিস করি, ছোট বেলায় যাকে ছাড়া এক মুহুর্ত থাকতে পারতাম না।
আজ ৬ টি বছর পার হয়ে গেল তার সাথে দেখা হয় না কথা হয় না,,,,,,
খুব মনে পরে ওকে, খুব দেখতে ইচ্ছা করে,
চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে
ভাই!!!! তুই কেমন আছিছ?????
১৩ এপ্রিল ২০১৮
সকালে ফোনের ক্রিং ক্রিং শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো
দেখি মা ফোন করছে,,,,,
আমি> কেমন আছেন মা?
মা> ভালো। তুই কেমন আছিছ?
আমি> ভালো
মা> নুরনবী ফোন করছিলো।এই পহেলা বৈশাখে নাকি বাসায় আসবে।
তুই কি আসবি?
আমি> মার কথাটা শুনে প্রচন্ড পরিমান খুশি হয়েছিলাম,,,
এতোদিন পর ভাই আসবে ভাই এর সাথে দেখা হবে, কথা হবে। ভাবতেই কেমন একটা অন্যরকম অনুভুতি,,,,,,
মাকে বললাম আমি আসছি,,,,,,
রাতেই ব্যাগ গুছিয়ে রংপুর এক্সপ্রেস এ রওনা দিলাম।
বাসায় যেতে যেতে সকাল ৯ টা বেজে গেলো,,,,,
বাসার সবার সাথই দেখা হলো, কিন্তু ভাই কে দেখলাম না।
মাকে বললাম ভাই আসেনাই?
মা বললো "না".....
কি যেন এক কারনে আসতে পারে নাই।
মার মুখে না শব্দটা শুনে মুখটা মলিন হয়ে গেল। স্তব্ধ হয়ে গেলাম আমি,
কিছুক্ষনের জন্য থমকে গেল জীবনটা।
নিমিশেই শেষ হয়ে গেল সব আশা।
খুব কান্না পাচ্ছে,
দম আটকে আসছে।
কথা বলতে পারছি না,
কতো আশা ছিলো এতো দিন পর ভাই এর সাথে দেখা হবে, কথা হবে ভাই কে জড়িয়ে ধরবো, ভাই কে ভাই বলে ডাকবো।
পারলাম না,,,,,,
আজও বলতে পারলাম না,,,,,,
ভাই তুই কেমন আছিছ?????????
SHARE

Author: verified_user