Monday

Bangla Story Book | Tetul Bone Josna By Humayun Ahmed | Bangla Book Review

SHARE

Bangla Story Book | Tetul Bone Josna By Humayun Ahmed | Bangla Book Review

Bangla Story Book | Tetul Bone Josna By Humayun Ahmed | Bangla Book Review

নাম : তেতুল বনে জোছনালেখক: হুমায়ূন আহমেদ


প্রকাশনী: : অন্যপ্রকাশ
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৩৬
প্রচ্ছদঃ ধ্রুব এষ
প্রকাশকালঃ অমর একুশে গ্রন্থমেলা 


'তেতুল বনে জোছনা' ভালোবাসা, রহস্য,গ্রামের পলিটিকস সব মিলিয়ে ছোট ও সুখপাঠ্য একটি উপন্যাস এটি।
গল্পের পটভূমি বিরাট নগর গ্রামকে ঘিরেই।যার প্রধান চরিত্র ডাক্তার আনিস, নবনী, মতি মিঞা, জহির উদ্দিন চেয়ারম্যান আর জুম্মাঘরের ইমাম।
গ্রামের নাম বিরাটনগর। এখানে কোনো ছোটখাটো ঘটনা ঘটে না। যা ঘটে তাই বিরাট আকার ধারন করে।নাহলে সামান্য ঝড়ের ঘটনা এত বিরাট হবে কেন? জি হ্যা, বিরাটনগরের উপর দিয়ে আজব ঝড় বয়ে গেলো। শতবর্ষী বটগাছ মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেলো অথচ তার পাশে থাকা ছোট্ট কুটিরের কিছু হলো না।

Tetul Bone Josna By Humayun Ahmed প্রিভিউঃ 


-গ্রামের একটা মানুষও মারা পড়ল না–কিন্তু শত শত পাখি মারা পড়ল। বিরাটনগরের সব ক’টা পুকুরের মাছ এক সঙ্গে ভেসে উঠল। মরে ভেসে ওঠা না, জীবিত অবস্থায় ভেসে ওঠা। যেন দেখতে এসেছে–ঘটনা কী? ঝড় থেমে যাবার পরও সেইসব মাছ ড়ুবল না, ভেসেই রইল। প্রকৃতির এই খেলা দেখে মাছেরাও যেন অভিভূত। বিরাটনগরের মানুষজনের প্রাথমিক ধাক্কা কাটতেই তারা ব্যস্ত হয়ে পড়ল মাছ মারার সরঞ্জামের খোঁজে। অদ্ভুত ঘটনার ব্যাখ্যা পরে খোজা যাবে–আপাতত মাছ মারা যাক। বিরাটনগরে শুরু হলো মাছ মারা উৎসব।
-তবে চিঠির ব্যাপারটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। মস্তিষ্কের একটা অংশ গুটিগুটি করে চিঠি লেখা শুরু করে দিয়েছে। আনিস এখন যদি সাইকেলে উঠে রওনা দেয়। তবু চিঠি লেখা বন্ধ হবে না।
নবনী,
আমাদের এখানে আজ হঠাৎ করে টর্নেডোর মতো হলো। টর্নেডোর স্থায়িত্ব ছিল কম। দুই থেকে আড়াই মিনিট হবে। তবে এই কিছুক্ষণেই যা ঘটেছে তার নাম লণ্ডভণ্ড। ছবি তুলে রাখলে তুমি দেখতে পেতে। ফিল্ম ছিল না বলে ছবি তোলা হয় নি।
-মর্জিনা বারান্দা থেকে গজগজ করছে–তুই আমারে মরা পাখির গোশত খাওয়াইছস, তোরে আমি যদি গু না খাওয়াই তাইলে আমি সতী মায়ের কন্যা ম। আমি বেজন্মা। তরকারির চামুচ দিয়া তরে আমি এক চামুচ কাঁচা গু খাওয়ামু। তুই আমারে অখনো চিনস নাই।
মতি ঘর থেকে বের হয়ে পড়ল। আর থাকা ঠিক না। তার মনটা খুবই খারাপ হয়েছে। মর্জিনা তুই তোকারি করছে। ভালোবাসার মানুষকে আদর করে তুই তোকারি করা যায় তাতে দোষ হয় না, কিন্তু গালাগালি করে তুই তোকারি করা যায় না। মরা পাখির গোশত খেয়েছে তো কী হয়েছে। জ্যান্তপাখির গোশত কেউ কোনো দিন খেয়েছে? হারামজাদি মরা পাখি শুধু দেখল। মারা পাখির পিছনের ভালোবাসাটা দেখল। না?
-জুম্মাঘরের ইমাম সাহেবকে আসতে দেখা গেল। চেয়ারম্যান সাহেব তার মনযোগ সেই দিকে দিলেন। একসঙ্গে অনেক কিছু নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে নাই। চিন্তা ভাবনা হলো পুতির মালার মতো। একেকটা চিন্তা একেকটা পুতি। আর সুতাটা হলো চিন্তার লাইন। সব পুতি এক লাইনে বঁধতে হয়। এই কাজ সবাই পারে না। ইমাম সাহেবের কাছে গত রাতে তিনি লোক পাঠিয়েছিলেন। লোক মারফত তিনি একটা প্ৰস্তাব দিয়েছেন। ইমাম যদি অপরাধ স্বীকার করে তাহলে তিনি তাঁকে নেংটা করে ঘুরাবেন না। দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে ইমামের চাকরি বহাল থাকার সম্ভাবনা আছে। দোষ স্বীকার না করলে শাস্তি হবে।
-
ইমাম সাহেব কাপা কাপা গলায় বললেন, আমি কোনো অপরাধ করি নাই। আল্লা সাক্ষি আমার দুই কান্দের দুই ফেরেশতা সাক্ষি আমি নিরপরাধ।
জহির খাঁ বিরক্ত মুখে বললেন, আপনের দুই কান্দের দুই ফিরিশতা তো সাক্ষি দিবে না। এদের কথা খামাখা বইল্যা তো লাভ নাই। আপনে বিরাট অন্যায় করেছেন। এই অঞ্চলের নাম বিরাটনগর। এইখানে যা হয় সবই বিরাট। মানুষ যখন অন্যায় করে ছোট অন্যায় করতে পারে না। বিরাট অন্যায় করে। আপনি দোষ স্বীকার না করলে যে শাস্তির কথা বলেছিলাম। সেই শাস্তি দিব। আপনে বড় অপমান হবেন।
-মন যন্ত্র নষ্ট হলেও বিপরীতমুখী ব্যাপারগুলো দেখা যায়। পাশাপাশি দুটি নদী। একটি অন্যটির গায়ের ওপর দিয়ে বইছে। একটির পানি যাচ্ছে সাগরের দিকে। অন্যটির পানি সাগর থেকে উঠে রওনা হয়েছে পর্বতমালার দিকে।
নবনীর মনে কি এরকম দু’টি ধারা বইছে? সে দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে কেন? আনিস কি তার জীবনে বড় ধরনের কোনো আশা ভঙ্গের’ ব্যাপার ঘটিয়েছে?
নবনীর ব্যাপারে আনিসের মনে আশা ভঙ্গের কিছু ঘটে নি। সে জানে নবনী চমৎকার একটি মেয়ে। তার একটাই সমস্যা – সে ভয়াবহ নিঃসঙ্গ। আনিস সেই নিঃসঙ্গতা দূর করতে পারে নি। বিরাটনগর ছেড়ে সে যদি ঢাকায় গিয়ে নবনীর সঙ্গে বাস করতেও থাকে তাতেও নবনীর নিঃসঙ্গতা দূর হবে না। কিছু কিছু মানুষ বিচিত্র ধরনের নিঃসঙ্গতা নিয়ে পৃথিবীতে আসে। কারোর সাধ্য নেই সেই নিঃসঙ্গতা দূর করে। সেই সব মানুষরা তাদের নিঃসঙ্গতা দূর করার চেষ্টা নিজেরাই করে। তা করতে গিয়ে কেউ বড় লেখক হয়, কেউ হয় চিত্রকর, বিজ্ঞানী। আবার কেউ কেউ হয়তো তার মতো ডাক্তার হয়। চারপাশের মানুষদের নিয়ে অসম্ভব ব্যস্ত থেকে নিজের নিঃসঙ্গতা ভুলে থাকতে চায়।
আনিস নবনীর নিঃসঙ্গতা জানে। নবনী কি আনিসের নিঃসঙ্গতা জানে?
-মতি এখন সরাসরি বাতাসীর কাছ থেকে এসেছে। শাড়ি দিতে গিয়েছিল। ইচ্ছা ছিল রাতটা থেকে যাবে। বাতাসী অন্য মানুষ ঘরে নিয়ে নিয়েছে বলে সেটা সম্ভব হয় নি। তবে খুব আফসোস করেছে। দুঃখ দুঃখ গলায় বলেছে–আপনে আইজ আসবেন আগে কইবেন না? মতি বলেছে–আগে থেকে কিছু বলা যায় না। মন উদাস হইলেই শুধু তোমার কাছে আসি। মানুষের মন কখন উদাস হইব কখন হইব। না এইটা বলা বেজায় কঠিন। মানুষের মন তো কঁঠাল না যে জ্যৈষ্ঠ মাসে পাকব। মানুষের মন যে-কোনো সময় পাকতে পারে।
-ইমাম সাহেব হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, যে অপরাধের জন্যে আমার শাস্তি হয়েছে সেই অপরাধ আমি করি নাই। তবে নিশ্চয়ই কোনো অপরাধ করেছি। যে কারণে আল্লাহপাকের নির্দেশে আমার শাস্তি হয়েছে। উনার অনুমতি ছাড়া কিছুই হয় না।
-নিস্তরঙ্গ দিঘিতে ছোট্ট ঢিল পড়লেও অনেকক্ষণ ঢেউ ওঠে। সেই অর্থে ইমাম সাহেবের মৃত্যুতে বিরাটনগরে যে ঢেউ ওঠার কথা সেই ঢেউ উঠল না। ঐ দিনই কাকতালীয়ভাবে যোগাযোগ মন্ত্রী চলে এলেন। বিরাটনগর-রোয়াইলবাজার সড়কে মগরা নদীতে পুল হবে, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। আগে কয়েকবার তারিখ দিয়েও মন্ত্রী আসতে পারেন নি। এবারে তাই হুট করে চলে এসেছেন।
-ট্রেন দুঘণ্টা লেট।
পৌঁছার কথা চারটায়, পৌঁছল ছটায়। নবনীর খুব বিরক্তি লাগছিল। তার ফার্স্ট ক্লাসের টিকিট। কামরায় আর যারা আছে তাদের মনে হচ্ছে কারোরই টিকিট নেই। একজন আবার উঠেছে ছাগল নিয়ে। ট্রেনের বাথরুমের দরজা বন্ধ হয় না। মাঝে মাঝে এমন শব্দ হয় মনে হয়। দরজা ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। যতই সময় যাচ্ছে ততই তার মেজাজ খারাপ হচ্ছে। মেজাজ খারাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে ট্রেন থামল। নবনী ট্রেনের জানোলা দিয়ে মাথা বের করে হঠাৎ করেই মুগ্ধ হয়ে গেল–কী সুন্দর দিন! পিচকারি ভর্তি হলুদ রঙ কেউ যেন বাতাসে ছিটিয়ে দিচ্ছে। আকাশের মেঘ। সূর্যের আলোকে কিছু একটা করেছে। দিনের শেষে আলো যেখানেই পড়ছে সোনা রঙ হয়ে যাচ্ছে। রঙের গান্ধ পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। নবনীর মন খারাপ হলো এই ভেবে যে তার সঙ্গে কেউ নেই। কেউ থাকলে কিশোরীদের মতো চেঁচিয়ে বলতে পারত–দেখ দেখা কী সুন্দর! সুন্দর কিছু দেখলেই অন্যকে দেখাতে ইচ্ছা করে।
-আনিস ফিরলেও খুব যে গল্প করা যাবে তা না। আনিস চুপচাপ ধরনের মানুষ। কথা বললে মন দিয়ে কথা শুনবে। নিজ থেকে আগ বাড়িয়ে কখনোই কিছু বলবে না। সে যে কৌতূহলশূন্য মানুষ তাও না। তার কৌতূহল আছে, কিন্তু কৌতূহলের কোনো প্রকাশ নেই। এর কোনো মানে হয়? মানুষের ভেতর যা থাকবে তার প্রকাশও থাকা উচিত। আবেগ থাকবে অথচ আবেগের প্রকাশ থাকবে না, এটা কেমন ব্যাপার?
-একঘেয়েমির জীবনকে ইন্টারেস্টিং করার জন্যে মাঝে মাঝে লবণ এবং গোলমরিচের গুড়ে ছিটিয়ে দিতে হয়। বেঁচে থাকা ব্যাপারটার মধ্যেই একঘেয়েমি আছে। যে মানুষটা সত্তর বছর বাঁচে তাকে এই দীর্ঘ সত্তর বছর ধরেই যথানিয়মে রাতে ঘুমুতে যেতে হয়। সত্ত্বর বছর প্রতিদিন তিনবেলা খেতে হয়। ক্লান্তিকর একটা ব্যাপার। নিম্নশ্রেণীর কীট পতঙ্গের বেঁচে থাকার মধ্যে কিছু বৈচিত্ৰ্য আছে। সামান্য পিঁপড়া এক সময় পাখা পেয়ে আকাশে ওড়ে। কুৎসিত দর্শন শুয়োপোকা একদিন সুন্দর প্রজাপতি হয়। মানুষের মধ্যে এরকম কিছু নেই – মানুষ বদলায় না।
-বোরকাওয়ালি উঠে দাঁড়াল। জহির খাঁ তাকিয়ে রইলেন। মেয়েটা লম্বা। তার বাবা ছোটখাট মানুষ ছিলেন। মেয়ে বাবার মতো হয় নি। আবার ব্যবহারেও অমিল আছে। বাপ ছিল মেদামারা। মেয়ে শক্ত ধরনের। মেয়ের জিদ আছে। তবে মেয়েছেলের জিদ থাকা খারাপ। পুরুষের জিদ ভালো। কথায় আছে–
জিদের পুরুষ হয় বাদশাহ
জিদের মেয়ে হয় বেশ্যা।
-আনিস বলল, আচ্ছা বাদ থাক। সঙ্গে সঙ্গে নবনী খাটের ওপর উঠে বসে বলল, আচ্ছা ঠিক আছে। আমি বলছি। তুমি শুনে খুবই মনে কষ্ট পাবে, তারপরেও বলছি–তোমার সঙ্গে আমার বিয়েটা ওয়ার্ক আউট করছে না। মানুষ হিসেবে তুমি খুব ভালো, মেয়ে হিসেবে আমিও ভালো। তারপরেও না। আমাদের বিয়েটা ফেল করেছে।
আনিস সহজ গলায় বলল, এখনো তো সময় আছে।
নবনী বলল, সময় তো আছেই। জোড়াতালি দিয়ে আমরা হয়তো এগিয়ে যাব। আমি জোড়াতালি ব্যাপারটা পছন্দ করি না।
-আনিসের ধারণা নবনী খুব ভুল চিন্তা করে নি। তাদের দু’জনের সম্পর্ক জমাট বাঁধে নি। সম্পর্কের রসায়নে খুব সূক্ষ্ম কোনো সমস্যা হয়েছে–সম্পর্ক জমাট বাঁধতে পারছে না। সম্পর্ক যে জমাট বাধে নি তার সবচে বড় প্রমাণ শ্মশানঘাটে নবনীকে তার নিয়ে যেতে ইচ্ছা করে নি। এই জায়গাটা যেন শুধুই তার একার। সেখানে অন্য কেউ যাবে না।
-বিরাটনগরে থাকার কাল শেষ হয়েছে। ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পিএইচডি করার স্কলারশিপ পাওয়া গেছে। গবেষণার কাজটা তার কেমন লাগবে সে বুঝতে পারছে না। ডাক্তারি করে যে আনন্দ সে পেয়েছে সেই আনন্দ কি পাবে? মনে হয়। পাবে না। মানুষের ভালোবাসায় যে অভ্যস্ত হয়ে যায়। সেই ভালোবাসা না পেলে সে অথৈ জলে পড়ে যায়।
আনিসকে দেখিয়ে কেউ যখন গর্ব এবং অহংকার নিয়ে বলে–আমরার সাইকেল ডাক্তার যায়। বাক্কা বেড়ার চাক্কাডা–তখন মনে হয় কড়া কোনো নেশার বস্তু রক্তে ঢুকে গেছে। শরীর ঝনঝনি করতে থাকে।
-আমি ঢাকায় আসার সময় ট্রেনে উঠেছি–দেখলাম তুমি অন্যদিকে তাকিয়ে আছ। একবারও আমার দিকে তাকাচ্ছ না। আমি প্ৰথম ভাবলাম রাগ করে তাকাচ্ছ না। তারপর হঠাৎ দেখি তোমার চোখ ভর্তি পানি। আমার কী যে আনন্দ হলো। তখন ভাবলাম, কিছুদিন তোমাকে কষ্ট দিয়ে দেখি। আনন্দকে তীব্র করার জন্যে কষ্টের প্রয়োজন আছে, তাই না?
আমার আর্কিড গাছগুলোতে ফুল ফুটলেই আমাকে খবর দেবে। আমি চলে আসব।
ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্যে দু’ফোঁটা চোখের জল ফেলেছ–তার প্রতিদানে আমি ‘জনম জনম কাঁদিব।’
-অন্ধকার ঝোপের আড়াল থেকে মতি অবাক হয়ে দৃশ্যটা দেখছে। শ্মশানঘাট সেই ধুয়ে পরিষ্কার করে। শ্মশানঘাটায় এসে এই পাগল ডাক্তার যা করে তাই তার দেখতে ভালো লাগে। তার কাছে মনে হয় রহস্যে ভরা এই মানব জীবনটাকে লোকে যত খারাপ বলে–আসলে তত খারাপ না।

Loading...
মতির কাছে মনে হলো ডাক্তার শুধু যে লম্বা হয়ে শুয়ে আছে তা না, মাঝে মাঝে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। মতি মনে মনে বলল, আহারে আহারে!
SHARE

Author: verified_user