Thursday

Bangla Golpo Shesh Kanna By Nawmita Shupti

SHARE

Bangla Golpo Shesh Kanna By Nawmita Shupti


আমাদের বাসায় অনেক লোকের মেলা।আমার আত্নীয় স্বজন সবাই আসছে।আমার খুব কাছের লোকটি ও একেবারে আমার কাছে বসে আছে।যে কিনা আমাকে এক মুহুর্তের জন্যও সহ্য করতে পারতো না। সেই মানুষটিও এসেছে।আমার বরের বন্ধু যে কিনা গতকাল আমাকে খুবলে খুবলে খেয়েছে। কি আজব দুনিয়া! আজ খারাপ মানুষ গুলাও ভালো মানুষের মুখোস পরে এসেছে।আমার শশুড়-শাশুড়ি সবাই এসেছে।সবাই কাঁদছে। মা,,ও কাঁদছে।তার কান্না কেন যেন আজ আমার কাছে ঢং মনে হচ্ছে।


                             শেষ কান্না 


bangla golpo



বাবা,ভাই,বোন সবাই কাঁন্না করছে।আমার লাশ টাকে পুলিশ নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিনতু বাবা নিতে দেন নি। এখন আমার লাশটিকে মাটি দেওয়ার জন্য নিয়ে যাবে।তাই শেষ বারের মত সবাই কে দেখতে বলা হয়েছে।সবাই একেকজন করে দেখছে।কেউ বা আমার লাশের ছবি তুলে ফেসবুকে দিচ্ছে।আমিও চায় মনে মনে ফেসবুকে দেওয়া হোক।কারন আমার খুব কাছের একটি ছোট বোন আছে নাম তার লোনা।খুব ভালো মেয়ে।খুব শাসন করে।আরও একজন বন্ধু আছে নাম তার জিসান। সেও শাসন করত।ভালোবাসতো।ওরাও খবরটা আজ জানুক যে ওদের সবচায়তে কাছের মানুষটি নেই। হঠাৎ ফোনের মধ্যে আমার এক ভাই যে কিনা বিদেশ থাকে। আমাকে অনেক আদর করেন।সে ফোনের মধ্যে ভিডিও কল দিয়ে আমার লাশ শেষবারের মত দেখতে চাচ্ছে।বারবার একটা কথায় বলছে ঐন্দ্রিলা তুই কেন এমন করলি? কি কষ্ট ছিল আমাকে বলতি।আমি বারবার হাত উঠিয়ে ভাইটিকে বলতে ভাই তোর বোনটি এইতো এখানে,,, দেখ বসে আছে।তোর বোন আজ মুক্তি। তোর বোন আজ মন খুলে হাসছে।এতদিন দমবন্ধ একটা জীবন কাটিয়েছে।তুই খুশি হোস নি? কিনতু আমার কথা শুনতে পেল না। আমাকে নিয়ে যাচ্ছে কবরের কাছে।সবাই চিৎকার করে কাঁদছে। আমারও কেন যেন খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে।প্রিয়জনদের কাছে খুব যেতে ইচ্ছে করছে। ওই দিকে আমার দুধের বাচ্চা টার ও লাশ বের করে এনেছে।আমাকে আর আমার বাচ্চা কে একসাথে মাটি দিবে। আপনাদের তো বলাই হয় নি।আমি আমার দুধের শিশুটিকেও মেরে ফেলেছি। কারন কারও ঘাড়ে যেন বোঝা না থাকে। আমি তো সবার ঘাড়ে বোঝা ছিলাম।তাই।ও কে যেন ওর সৎ মায়ের অবহেলা পেতে না হয়।শুনতে যেন না হয় মা তো মরেছেই বাচ্চা টাকে আমাদের ঘাড়ে দিয়ে গেছে। বা ওকে যেন এতিম খানায় পড়ে থাকতে হয়।তাই আমি আমার বাচ্চা কে সুজির সাথে বিষ দিয়ে মেরে ফেলেছি।সাথে আমিও। হঠাৎ পিছন থেকে শুনতে পেলাম।মা মা,,,আমার আঁচল ধরে আমার ছোট সোনাটা ডাকছে।আমি পিছন ফিরে ওকে কোলে তোলে নিলাম।ও আমার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেল।
এদিকে সবাই আমাদের মাটি দিয়ে চলে গেল। আমি কবরের কাছে চুপচাপ বসে আছি। কে যেন মেয়েলি কন্ঠে বলছে তুমি কে গো মা? তোমার কোলে তো ছোট একটা শিশু? এটা কে? আমি বললাম এ আমার ছেলে এরফান। মেয়েটি বলল তোমরা কি এক্সিডেন্ট করেছো? আমি বললাম না সে অনেক কাহিনী। কি কাহিনী আমাকে বলো আমি শুনব। অনেকদিন যাবৎ আমি একা একা এখানে পরে আছি।আমি বললাম ওহ্।তো আপনি কিভাবে মরেছেন? তিনি বললেন তাকে নাকি ধর্ষন করে মেরে ফেলছে।খুব কাঁদল।তিনি আবার বললেন আমার টা পরে শুইনো আগে তোমার টা বলো।তোমার নাম কি? তুমি দেখতে শুনতে বেশ।আমার নাম ঐন্দ্রিলা। বাহ্ বেশ মিষ্টি নাম।তো তোমার বর কোথায়? সে আছে। আচ্ছা বলো শুনি।


                                                  Bangla Golpo Shesh Kanna

আমি আমার পরিবারের তিন নাম্বার।আমরা দুই ভাই,দুই বোন।আমার মা,আমাকে পছন্দ করেন না। কারন টা এখনো জানি না। কেন জানি না সে আমাকে বা আমার ভালো লাগা জিনিসগুলা কখনোই পছন্দ বা সাপোর্ট করতো না।আমার ছোট বোন তার চোখের মনি ছিল।তার সবকিছুই বেষ্ট। আমার কিছুই বেষ্ট না।আমার বড় দুই ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই বিয়ে করেছেন।আর এক ভাইয়ের কাবিন করে রেখেছে।এক ভাই দেশে বাবার সাথে ব্যবসা করে।আরেক ভাই বিদেশে থাকে।আমাদের পরিবার টা মধ্যবিত্ত হলেও কোনো কিছুর কমতি নয়।আমরা অনেক শখ আহ্লাদ পুরন করেছি। বড়লোক দের মত সোনার চামচ মুখে নিয়ে বড় হয়েছি।জীবনে কখনো কাজ করি নি। কিনতু একটা কথা বাবা আমাকে অনেক ভালবাসতেন।আমি যখন যা বলতাম তাই করতেন।হয়তো এই কারনেই মা আমাকে পছন্দ করতেন না।আমি দশম শ্রেনীতে পরি। সামনে আমার এস.এস. সি পরিক্ষা। আর আমার ছোট টা নবম শ্রেনীতে।আমার ছোট বোনটি আমাকে ভীষন ভালবাসে।ওর চোখের মনি হয়তো আমি ছিলাম।এক মুহুর্তের জন্য ও আমাকে ছাড়া ওর ভালো লাগতো না। আমার ভাবি ছিলেন বেশ হিংসুটে।তবে মা কখনো উনাকে বউয়ের চোখে দেখেন নি। সবসময়ই আমাদের মত জামাকাপড় কিনে দিতেন।তারপরও উনি যেন খুশি হতেন না।উনিই সব সময় আমার পিছনে লেগে থাকতেন।একটু ভূল হলেই মাকে গিয়ে বলে দিতেন।আর মা এসে যে মাইর দিতো।এখনো কলিজাটা ব্যাথায় কেঁপে উঠে মনে হলে।যাইহোক,,আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য তারা উঠে পরে লেগেছেন।যেভাবেই হোক বিয়ে দিয়ে দিবেন। দারোয়ান থেকে শুরু করে বিদেশি ছেলেদেরকে দেখাতো।তখন খুব খারাপ লাগতো।কেন তারা আমাকে নিয়ে এমন করছে? মনে হতো আমাকে বাজারে নিয়ে দামাদামি করছে।কিনতু কিছুই বলতাম না।আমার বাবা কে বলতাম বাবা আমার সামনে পরিক্ষা আমি বিয়ে করব না।মা এসে বলতো তাহলে কি করবে শুনি? তোমার জন্য তো আর আমার ছোট মেয়ে ঐশী কে ফেলে রাখবো না।খুব ভালো ভালো জায়গা থেকে প্রস্তাব আসে ওর জন্য।আর তোর জন্য তো বলতে গেলে আসেই না।আমি বললাম তাই বলে যা তা আসবে তাকেই দেখাবা? মা বলতো ওটা তোর ভাগ্য।শোন তোকে তো আমরা বিদেশি দেখেই বিয়ে দিব।যাতে তোকে তোর জামাই পড়াই।আমি কিছুই বললাম না।আমার পরিক্ষা ও শুরু হয়ে গেল।প্রতিদিনই ছেলে পক্ষ দেখতে আসতো।শুধু তাই নয় পরিক্ষার হলেও মেয়ে দেখতে কখনো ছেলে বা ছেলের পরিবার যেতো।তখন নিজের কাছে নিজেকে চিড়িয়াখানার প্রানী মনে হত।শেষ পরিক্ষার দিন বাসায় আসি নি।বান্ধবিদের সাথে ঘুড়তে গিয়েছিলাম।বাসায় আসতে না আসতে মার ঝাড়ুপিটা আর মুখের খারাপ বকা শুনলাম।তারপর ফ্রেস হয়ে নিজের রুমে চুপচাপ বসে রইলাম।আমার যখন মন খারাপ হয় তখন আকাশের তারা বারান্দা গিয়ে বসে বসে গুনি।পিছন থেকে ঐশী এসে বলল কিরে আপি কি ভাবছিস? মন ভালো নেই তোর? আমার এই বোনটি আমাকে বুঝতে পারে।আমার মন পড়তে পারে।তারপর বলল ফুপু ফোন দিছিল মাকে তোকে সিলেটে যেতে বলছে।কিনতু মা মানা করে দিছে।তুই বাবা কে বলে সিলেটে গিয়ে ঘুড়ে আয়।মন ভালো লাগবে।আর সেখানে তো তোর ইয়ে,,,,বলেই খোঁচা মেরে দিল।আমি বললাম আস্তে কেউ শুনে ফেলবে।ও বলল যা বাবাকে গিয়ে বল।আমিও বাবাকে বলে রাজি করে ফেললাম কিনতু মা বলল না যেতে হবে না।তোমাকে পাত্র দেখতে আসবে।আমি বাবাকে বললাম অনেক তো দেখাইছো। এবার আমাকে ছুটি দেও।বাবাও মার কথা না শুনে ফুপিকে ফোন দিয়ে বলল আমাকে আর ঐশী কে যেন নিয়ে যায়।পরেরদিন ভাইয়া হাজির।আমার ফুপাতো ভাই নাম ইমন।আমরা দুজন দুজনকে খুব ভালবাসি।কিনতু কেউ কাউকে জানায় নি। মা ভাইয়া কে খেতে না দিয়ে অপমান করল।বলল তুমি আর তোমার মা আমার মেয়েটার মাথা খেয়েছো।ভাইয়া কিছুই বলল না।বরং আমাদের নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।মা ঐশীকে বারবার বলে দিল ভালো ভাবে থাকিস।ফোন দিস।কিনতু আমাকে একটি বারও বলল না।আমরা ট্রেনে বসে আছি।ভাইয়া মোবাইল নিয়ে বিজি।আর ঐশী বারবার আমাকে ইশারা করছে।আমি না দেখার ভান করে বই পড়ছি

Related Story : Bownama 



bangla actress photo


ভাইয়া মোবাইল নিয়ে বিজি।আর ঐশী বারবার আমাকে ইশারা করছে।আমি না দেখার ভান করে বই পড়ছি।ঐশী বারবার খোঁচা দিচ্ছে।এখন ভাইয়া খেয়াল করে বলল কিরে ঐশী কিছু বলবি? ঐশী বলল নাহ এমনি।ভাইয়া আবার বলল তাহলে তুই বারবার ঐন্দ্রিলা কে খোঁচা দিচ্ছিস কেন? ইয়ে মানে আসলে ভাইয়া তোমরা দুজনেই বিজি।আর আমি একা একা বোরিং হচ্ছি।আসো না আমরা কিছু খেলি।আমি বললাম এই চুপ।কথা বলবি না এখন রোমান্টিক সময় পড়ব।ভাইয়া বলল বাহ্ ঐন্দ্রিলা রোমান্টিক মুহুর্তও বোঝে? আমি চুপ করে বসে রইলাম।খুব লজ্জা পেলাম।ঐশী বলল এই আপি তোর বইটা রাখ।আয় আমরা দশ বিশ খেলি।অবশেষে বইটা ভাইয়া কেড়ে নিলু।বলল বাসায় গেলে পাবা।এখন আমরা খেলব।আমার খুব রাগ হল। তাই মুখভার করে বসে রইলাম।ভাইয়া আমাকে চুপ থাকতে দেখে বলল আল্লাহ এরে কি দিয়া বানাইছো? কিছুই বুঝতে চায় না বা বুঝাতে চায় না।বলেই গুন গুন করে গান গাইতাছে আমি এমন একটা তুমি চাই,,,যে তুমিতে আমি ছাড়া কেহ নাই। ঐশী বলল ভাইয়া আসো আমরা খেলি।তারপর ওরা খেলতাছে।বারবার একই কথা বলতাছে ইশ মেডাম যদি খেলতেন,,,আমি উঠে এসে বললাম আমি খেলব।ঐশী বলল বস।তারপর আমার এক হাতের উপর ঐশীর হাত,আর ভাইয়ার হাতের উপর আমার হাতটা রাখতেই অন্যরকম ফিলিংকস অনুভুতি হল।দুজন দুজনের দিকে তাকিয়েই আছি।হালকা বাতাস বইছে।আমার খোলাচুল গুলো দুলছে।হঠাৎ ভাইয়া চিৎকার দিয়ে বলল বাবারে বাবা এত জোরে থাপ্পড় দেয়।ঐশী বলল কি করব বল? এই যা তোমরা ধ্যানে চলে গেছো,,আমি ডাকছি তোমাদের তোমরা শুনোই না।ঐশী মুচকি হাসি দিল।আমি একটু কাশি দিয়ে নড়েচড়ে বসলাম।ভাইয়া ও খুব লজ্জা পেল।তাই বলল হয়ছে আসো খেলি।আমরা খেললাম। ঐশী বাদ পরে গেল।ভাইয়া আর আমি এখন খেলতাছি।শেষ অবদি আমিই বাদ পরলাম। 

তবে খুব জোরে থাপ্পড় টা মেরেছে।আমি ব্যাথায় কেঁদে ফেললাম।ভাইয়া সাথে সাথে আমার হাতটা ধরে বলছে সরি সরি দেখি ইশ অনেক লেগেছে? আমি ইচ্ছা করে দেয় নি।আমি ওর দিকে চেয়ে আছি।মনে হল আমার চায়তে ও বেশি ব্যাথা পাইছে। আমার তাকিয়ে থাকা দেখে ভাইয়া বলল কি হল চুপ কেন? আমি আস্তে করে বললাম ব্যাথা টা কি আপনার বুকে লেগেছে? ভাইয়া আমার কথাটা শুনে পুরাই অবাক! তারপর আমার কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলল হিম খুব জোরে লেগেছে।একটু আদর করে দেও না।আমি চুপ শয়তান বলে ঐশীর কাছে গিয়ে বসলাম।ঐশী বলল বলছিস ভাইয়া কে? আমি বললাম না।ঐশী প্রচন্ড রেগে বলল তুই কিছুই পারবি না।দ্বারা আমি ই বলব।বাসায় গিয়ে নেই।তারপর আমরা বাসায় পৌছে গেলাম। ফুপু আমাদের দেখে অনেক খুশি।আমার বাবার একটাই বোন।আবার তারও একটাই ছেলে ইমন।আর ফুপিও ভাইয়ার বিষয়টা জানেন। আমরা ফ্রেস হয়ে খেয়ে ঘুমাতে গেলাম।পরদিন খুব সকালে ঘুম ভাঙল।এটা প্রতিদিনের অভ্যাস।আমি ফ্রেশ হয়ে বাগানে হাঁটছি। ফুপি এসে বলল কিরে আরেকটু কি ঘুমাতে পারতি না? আমি বললাম তুমি তো জানোই সকালের আবহাওয়া টা আমার অনেক ভালো লাগে।হিম নে চা টা খেয়ে নে। আমি চা খাচ্ছি হঠাৎ দেখতে পেলাম ইমন টা আমাকে দেখতাছে তাও ছাদে দাড়িয়ে। ও তো এসময় ঘুম থেকে উঠে না।তাহলে আজ এত তারাতারি। আমি আবার উপরে তাকাতেই ও আমাকে ইশারা করল উপরে যাওয়ার জন্য।আমি যেতেই আমার হাতটি টেনে নিয়ে ছাদের গেট লাগিয়ে দিয়ে বলল,,, ঐশী আমাকে একটা কথা বলছে।আমি বললাম কি? কেন তুমি জানো না ও কি বলছে? আমি চুপ।ভাবছি কখন বলল,,,কি হল চুপ কেন? আমি ভাবতাছি মামি কে ফোন দিয়ে বিচার দিব ঐশীর নামে। ও খুব পেকে গেছে।আমি ভয় পেয়ে বললাম প্লিজ মাকে কিছু বইল না।ওর কোনো দোষ নেই।আমারই দোষ। তোমার কিসের দোষ? আমি বললাম আমিই বলতে বলছি যে আমি তোমাকে ভালবাসি।এক দমে বলে চুপ হয়ে গেলাম।ইমনটাও জোরে জোরে খিলখিল করে হেসে বলল পাগলি একটা।তারপর পকেট থেকে একটা বেলী ফুলের মালা বের করে আমার খোঁপাই পেচিয়ে বলল পাগলি তোমার পছন্দের ফুল।এটা হলো আমার ভালবাসার প্রথম উদ্ভাবন। আমি লজ্জায় তাকাতে পারছিলাম না।ও আমার মুখটি ধরে বলল,,,, তোমাকে আমি অনেক ভালবাসি। আমি তোমাকে বিয়ে করতে চায়।করবে কি বিয়ে আমায়? আমি চুপ হয়ে বললাম সেটা কি সম্ভব? মা তো কখনই রাজি হবেন না। আহ্ তুমি ভয় পেও না। আমি কি করি দেখে যাও।তারপর ঐশী আমাকে বাগানে না পেয়ে ছাদে এসে গেট ধাক্কা দিচ্ছে আর বলছে কিরে ভিতরে দরজা বন্ধ করে কি করিস? খোল।ইমন গিয়ে দরজা খুলে বলল কি শ্যালিকা দুলাভাই কে কি একটু আপির সাথে রোমান্স ও করতে দিবেন না নাকি? ঐশী আমার দিকে তাকিয়ে বললা এটা কি হল? আমি বলার আগেই তুই বলে দিলি? যাহ্ তোদের সাথে খেলব না।আমি হতবাক হয়ে ইমন কে বললাম মিথ্যাটা কেন বললে? জানো না মিথ্যা মোটেও লাইক করি না আমি।তারপর গাল ফুলে নিচে চলে গেলাম।ইমন ডাকল শুনলাম না।কারন রাগ আমার অনেক বেশি।ইমন ভাবছে যাক বাবা,,,শালী আর বউ দুজনকেই মানাতে হবে,,,








ইমন ভাবছে যাক বাবা,,,শালী আর বউ দুজনকেই মানাতে হবে,,।ইমন ঐশীর কাছে গিয়ে বলল কি মন খারাপ ম্যাডাম? নাহ্ মন খারাপ না।তাহলে? এমনি।আচ্ছা ঐশী এসব প্রমান করে কি লাভ? কেনো মিথ্যা সম্পর্ক টা জোড়া লাগাতে চায়ছো? তুমি ভালো করে জানো যে,,,ঐশী বলল চুপ।একটা কথাও বলবা না।আপি শুনতে পাবে।আপি তোমাকে ভালবাসে।সুতরাং আমি আমার বোনের কষ্ট টা মেনে নিতে পারব না।আমি ঐশীকে ডাকতে গিয়ে ইমন আর ঐশীকে একসাথে দেখতে পেলাম।আড়ালে দাড়িয়ে ওদের কথা শোনার চেষ্টা করলাম কিনতু বেশি কিছু শুনতে পারলাম না।নিজের ঘরে চুপচাপ বসে রইলাম। ইমন নিচে এসে ওর মাকে গিয়ে বলল মা আজ আমি ওদের নিয়ে একটু ঘুরতে যাবো।মা বলল যা এতে আমাকে জিগেস করতে হবে নাকি।না তুমি ওদের বলে দেও।আচ্ছা বলে দিব।মা ঐশী ঐন্দ্রিলা কে ডাকল।আর বলল তোদের কে আজ ঘুরতে নিয়ে যাব।ঐশী বলল ওয়াও আমি রেডি হয়ে আসছি।আর ঐন্দ্রিলা বলল আমি যাব না।আমার ভালো লাগছে না ফুপু।কেন তোর আবার কি হয়ছে? নাহ্ কিছু না। তবে আমি যাব না।ঐশীটা রেডি হয়ে এসে বলল আমি রেডি। কিরে আপি তুই রেডি হলি না? না আমি যাব না।আমার ভালো লাগছে না।ফুপু বলল থাক ওর যেতে হবে না।ও আমার সাথে থাকুক।ইমন ঐশী কে নিয়ে যা।ঐশী আমার দিকে রেগে তাকিয়ে বলল আমি ভাইয়ার সাথে যাব না।ফুপু বলল কেন? এমনি।ঐন্দ্রিলা না গেলে আমি গিয়েই বা কি করব? ঐন্দ্রলা বলল যা ঘুরে আয় মন ভালো থাকবে তোর।ঐশী বলল তুই চল আপি।একা একা আমার ভালো লাগবে না।কিনতু আমি বললাম আমি যাব না।তারপর রুমে চলে গেলাম।ঐশীরা ঘুরে এসে বলল,,,তুই গেলি না কেন? এমনিতেই। কেমন ঘুরলি আর তারাতারি বা কেন আসলি?ভালোই আমরা ঘুরেছি।তবে তুই গেলে খুব মজা হতো।আজ রাতে ভাইয়ার বন্ধুরা খেতে আসবে।ঐন্দ্রিলা বলল বাদ দে।ঐশী বলল আজব মেয়ে তো তুই।হ্যাঁ আমি আজবই।ঐশী নিচে চলে গেল।আমি শুয়ে শুয়ে গান শুনছি।নিচে কথার আওয়াজ শুনতে পেয়ে আমি নিচে যেতেই শুনতে পেলাম ঐশী কে একজন বলছে উফ কত সুন্দর রে তোর বউটা! যাক তোদের একসাথে বেশ মানিয়েছে। তো ভাবি বসুন না। ঐশী বলল ভুল করছেন আপনারা।কি ভুল করলাম ভাবি? আপনিই ভাবি আমাদের আর ইমনের সাথে আপনাকেই বেশ মানিয়েছে।আর ইমন সবসময় সপ্ন দেখতো আপনার মত হুরপরী ওর বউ হবে।আমি ওদের কথা শুনে কেন যেন নিচে নামতে পারলাম না।কেন যেন মনে হচ্ছে যেটা হচ্ছে সেটাই ঠিক।আমি তো সত্যিই ভাইয়ার উপযুক্ত না।ফুপু কে দেখে সবাই চুপ হয়ে গেল।ফুপু বলল কিরে ঐশী বসে পড়।ওদের সাথে।ওরা তো তোকেই দেখতে এসেছে।ঐশী বলল মানে? মানে কি আবার আমি মনে হয় বুঝি না। শোন আমি সব জানি।ইমন আর তোর ব্যাপারটা। ঐন্দ্রিলা কোথায়?এখনও আসছে না কেন? ঐশী বলল ভাইয়া এসব কি হচ্ছে? ইমন বলল যা হচ্ছে একদম ঠিক হচ্ছে। চুপচাপ বসো।আমি যেন আকাশ থেকে পরলাম।ইমন কে ভেবেছিলাম ও আমাকে ভালবাসে।আর ফুপিও বিষয়টা জানে।আবার রুমে চলে গেলাম।দরজা টা ভিতর থেকে লাগিয়ে শুয়ে রইলাম।ভিতরটা কষ্টে ফেঁটে যাচ্ছে।তাহলে ছাদে বলা কথাগুলা সব মিথ্যা?? আমার দরজায় ঐশী এসে নক করছে।কিনতু কোনো সাড়া দিলাম না।ঐশীটা নিচে চলে গেল।ফুপু বলল কি করে ও? জানি না ফুপু।আচ্ছা তুই যা ইমনের কাছে। ঐশী বলল ফুপি তুমি ভুল বুঝছো। ইমন ভাইয়া তো ঐন্দ,,, ইমন ভাইয়া এসে ঐশীর হাতটা ধরে নিয়ে বলল এখানে কি চলো।




সারাদিন রুমে শুয়ে রইলাম।তারপর ফোনটা হাতে নিয়ে বাবাকে ফোন দিলাম।বাবা বলল কিরে মা কি হয়ছে তোর? বাবা আমি বাসায় আসব।আমার এখানে ভালো লাগে না।কি বলিস মাত্র একদিন হলো।আর তুই চলে আসবি? হিম।আচ্ছা ঠিক আছে তুই সব গুছিয়ে ফেল। আমি আসছি তোকে নিতে।আমি সব গুছিয়ে নিলাম।আর নিজেও রেডি হয়ে গেলাম।ঐশী আসল।বলল কিরে সারাদিন দরজা বন্ধ করে কেন ছিলি? আর তুই কোথায় যাচ্ছিস? আমি বললাম বাসায়। কেন? কার সাথে? বাবা আসতাছে।তো তুই একা যাবি? আমাকে বললি না কেন? আমিও যাব।না ঐশী তুই থাক।আর ফুপিও তো কিছুদিন পর আমাদের বাসায় যাবে।তুই ফুপির সাথে চলে যাস।ঐশী বলল তোর কি হয়ছেরে? সত্যি করে বলতো? ভাইয়া তোকে কিছু বলেছে? নাহ্ কেন বলবে? বাদ দে। ঐশী টা নিচে গিয়ে ফুপুকে বলল ঐন্দ্রিলা নাকি চলে যাবে।কি বলিস? কেন কি হয়ছে ওর? জানি না। জিগেস করলাম কিছু বলল না। আচ্ছা চলতো।ফুপু রুমে এসে বলল কিরে ঐন্দ্রিলা তোর কি হয়ছেরে? শরীরটা ভালো নেই? নাহ্ ভালোই। বাসার কথা মনে পরছে।শোন যেতে হবে না। আমি দাদা কে না করে দিচ্ছি। তোরা আমার সাথে যাবি।আমি বললাম না ফুপু।কেন না? বাসায় গিয়ে কি মার খাইতে মন চাইতাছে? আমি বললাম পরবর্তি তে আর মারবে না।কারন আমি গিয়ে মাকে বলব যে আমি বিয়ে করব।ঐশী বলল কি হয়ছে তোর বলতো? কিছু না।হঠাৎ বাবা ফোন দিয়ে বলল কাল আসবে আমাকে নিতে।সবাই যে যার মত শুইতে চলে গেল।আজ আমি ছাদে রাতের আকাশের তারা গুনছি।ঐশিও আমার সাথে প্রতারনা করল।পিছন থেকে ভাইয়া ডাক দিল আর বলল,,তুমি এখানে এত রাতে কি করছো? ভয় করে না? নাহ্ করে না।কি হয়ছে তোমার? কিছু না।আমি প্যাকেট টা নিয়ে ইমনের হাতে দিলাম।ইমন বলল এটা কি? খোলে দেখো। ভাইয়া খুলতেই দেখে বেলী ফুলের মালাটা।ইমন বলল এটা আমাকে কেন? এটা তো তোমার জন্য আনছি। আমি বললাম,,,শুনো আমি বেলী ফুল মোটেও পছন্দ করি না।বেলী ফুল ঐশী খুব পছন্দ করে।তারপরও আমি ভেবেছিলাম হয়তো তুমি ভালবেসে আমাকে দিয়েছো।কিনতু পরে সবটা ক্লিয়ার হয়ছে।কি? ইমন বলল।
আমি বললাম তুমি ঐশীকে ভালবাসো।কিনতু আমাকে নয়।আর ঐশীও তোমাকে ভালবাসে।সুতরাং আমিও এটাই চায়।ইমন চুপ। তারপর বলল আমাকে মাফ কর।আমি তোমাকে মিথ্যা সপ্ন দেখাতে চায় নি।তবে ঐশী আমাকে অনেক রিকুয়েস্ট করে।তাই এসব করেছি।
প্লিজ আমাকে ভূল বুঝনা।নাহ্ বুঝি নাই।আর তোমার কোনো রাগ নেই।রাগটা হল ঐশীর উপর। তারপর নিচে চলে আসলাম।আমি সত্যিই আর সহ্য করতে পারছি না।সব সপ্ন মুহুর্তেই শেষ হয়ে গেল।মা ঠিকই বলেন আমার মাঝে কোনো গুন নেয়।আমি কারও যোগ্য না। আমি সবার বোঝা।সুতরাং আমাকে যার সাথে বিয়ে দিবে। তাকেই বিয়ে করব।



           "অপ্রকাশিত ভালোবাসা" --- A SAD LOVE STORY"


Bangla Golpo Sesh Kanna



আমাকে যার সাথে দিবে তাকেই বিয়ে করব।পরদিন বাবা এসে আমাকে নিয়ে গেল।ঐশী ও আসতে চেয়েছিল। কিন্তু ফুপু ইমন আসতে দিল না।আর আমিও বারন করেছি। বাসায় আসতেই মা বলল কাল আমাকে দেখতে আসবে।ছেলে দেশের বাহিরে থাকে।ছেলের মা,বাবা আসবেন।আমি কিছুই বললাম না।শুধু মাথা নাড়ালাম।পরদিন আমাকে দেখতে এসেছে।ছেলের ছবি দেখে মা খুব রাজি।মার কথা টাকা থাকলেই চলবে।আমাকে উনারা দেখে পছন্দ করেছে।আর সেদিনই আংটি পরিয়ে দিয়েছে।আমার মত আছে কি না? তা তারা জানতে চাইল না।ছেলে দেখতে মোটা, খাটো বয়স ৪২।তাদের কথামত মেনে নিলাম।ভাগ্যে ছিল তাই হয়েছে।সেই ছেলেটির নাম ছিল জাবেদ।আমাকে প্রতিনিয়ত ফোন দিতেন।কিনতু আমি তার সাথে কথা বলতাম না।কেমন যেন লাগতো।তিনিও মায়ের ফোনে কল দিয়ে আমাকে চাইতেন।মা ও জোর করে কথা বলাইতো।সালাম দিয়েই আমি চুপ থাকতাম।আর সে বকবক করে যেত।একদিন সে আমাকে বাজে কথা বলা শুরু করল।যেসব কথা নিয়ে আমি কখনই ভাবি নি।সে বলতো কয়জনের সাথে ডেটিং এ গেছো? রাত কাটায় ছো? বাচ্চা কইটা ফেলছো? এসব।আমার খুব খারাপ লাগতো।মাকে যদি বলতাম মা সে আমাকে বাজে কথা বলে।মা বলত,,ওসব কিছুনা।বিয়ের সময় স্বামীরা ওসব বলেই।প্রায় তিনমাস কেটে গেল।কিনতু মন থেকে লোকটাকে আমি মেনে নিতে পারি নি।ঐশীর সাথে আমি আগের মত বলি না।ঐশী বলতে চায়।মা বলল ছেলে নাকি দেশে এসে আমাকে বিয়ে করবে।কথাটা শুনে আমারর খুব খারাপ লাগছে।তারপরও হাসি খুশি থাকার চেষ্টা করেই চলেছি।মা বলছে যে বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে।জানি না 


ঠিক হবে কিনা? সত্যি বলতে উনাকে মোটেও পছন্দ হয় নি।তবে পরিবারের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য আমি সবই করতে পারি।

আরও কিছুদিন কেটে যাওয়ার পর।উনি আসলেন।আমাকে দেখতে চাইলেন।তাই আমার সাথে ঐশীকে পাঠালেন তার সাথে দেখা করার জন্য।আমার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও একটা রেস্তোরা তে তার সাথে খেতে গেলাম।জাবেদ এসেই আমাকে জরিয়ে ধরতে চাইল।কিনতু আমি বাধা দিলাম।ঐশী এরকম অবস্থা দেখে বলল আপি তুই কি একে বিয়ে সত্যিই করবি? আমি বললাম হ্যাঁ। ঐশীর একটুও পছন্দ হয় নি।জাবেদ মাঝে মাঝেই খারাপ চোখে তাকাচ্ছিল। খারাপ কথাও বলছিল।হঠাৎ ঐশীকে বলেই ফেলল,,তোমরা দু'বোন যে সুন্দর। আল্লাহ জানেন কইটা বাচ্চা ফালাইছো?ঐশী প্রচুর রেগে গেল।তারপর বলেই ফেলল ভাইয়া আপনার তো খোঁজ খবর নেওয়ার দরকার ছিল আগেই তাই না?।জাবেদ বললেন ঠিকই বলছো।কিনতু ভাবলাম তোমার বোনকে কেউ নেয় না।আর তোমার মায়ের ও আমার মত বয়স্ক ছেলেকেই পছন্দ হয়ছে।তাই রাজি হয়ে গেলাম।ঐশী আমার দিকে তাকিয়ে তারপর বলল আপি চল বাসায়। আমি বললাম কেন? ঐশী বলল সেটা পরে বলব।তারপর আমার হাত থেকে আংটি টা খুলে জাবেদের মুখে ছুড়ে মেরে বলল তোর মত অসভ্যের সাথে আমার বোন কে বিয়ে দিবো না।যে কিনা বিয়ের আগেই কোনো মেয়েকে সম্মান দিয়ে কথা বলতে পারে না।আমি অনেকবার বারন করলাম কিনতু ঐশী শুনল না।আমাকে নিয়ে রিক্সায় উঠে বলল তুই এমন কেন বলতো? কেন বাসায় বলিসনি ছেলেটা বাজে? কেন নিজের জীবনটাকে নিয়ে খেলছিস? আমি শুধু বললাম ঔটা আমার ভাগ্য তাই।বাসায় আসতে না আসতে শুনতে পেলাম মা খুব চিল্লাইতাছে।আমাকেই বকছে।আমি চুপ করে দাড়িয়ে রইলাম।ঐশী মাকে বলতে গেল।মা চুপ করিয়ে বলল আস্তে করে বেশি কথা বলবি না।আমি চায় ওর বিয়ে এখানেই হোক।যত তারাতারি দূর হবে তত তারাতারি আমাদের জন্য ভালো।কিনতু মা তুমি ওর সাথে মোটেও ঠিক করছো না।জাবেদ লোকটা মোটেও ভালো না।মা কোনো কথা না শুনে আমাকে বললেন কাল নাকি আমার বিয়ে।আমি কিছুই বললাম না সেদিনও।বুঝতে পারছি বিয়েটা আমার জন্য সুখকর নয়।পরদিন আমাকে বউ সাজিয়েছে।কিনতু বাবা মোটেও রাজি না। মাই লাফাচ্ছেন। জাবেদরা চলে আসল।খাওয়া দাওয়া হল।হঠাৎ কি নিয়ে যেন কথা কাটাকাটি হল।আর আমার বিয়েটাও ভেংগে গেল।পরে জানতে পারলাম মাকে ছেলের মা বলছেন যে দুই মেয়েকে দিয়ে কি ব্যবসা করেন? যে দুই মেয়েরই এত পাকাল।তাই মা বিয়ে ভেংগে দিছে।সেদিনও কিছু বললাম না।মা আবার পরদিন থেকে বলতে লাগল আমি আইবুড়ি।কখনো আমার বিয়ে হবে না।আমার জন্য নাকি বিয়েটা ভেংগে গেছে।আমার সত্যি বলতে আর বাঁচতে ইচ্ছা করতাছে না।তাই বাবাকে বললাম আমি পড়তে চাই।বাবা বললেন হিম। তোমাকে তোমার ছোট ফুপুর বাসায় পাঠিয়ে দিব।সেখানে থেকে পড়াশুনা করবে।

আমি খুব খুশি হয়ে গেলাম।ছোট ফুপির ছেলে মেয়ে নেই।আমাদেরই আদর করেন। আমাকে গুলশানে ছোট ফুপির কাছে পাঠিয়ে দিলেন।আমি কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশুনা করছি।আমি আর আগের সহজ সরল ঐন্দ্রিলা নেই।আমি অনেক চতুর।অনেক স্টাইলিশ হয়ছি।এখন আমার জন্য ভালো ভালো প্রপোজাল আসে।কিনতু ফুপির এক কথা এখন না। মাসখানেক পর শুনতে পেলাম ঐশীর বিয়ে হবে ইমনের সাথে।সবাইকে যেতে বলছে।





কয়েকদিন পর জানতে পারলাম ঐশীর বিয়ে ইমনের সাথে।সবাই কে যেতে হবে। আমার ক্লাস তাই ফুপিকে বললাম আমরা হলুদের দিন যাব।ফুপুও কিছু বলল না।কারন ফুপু আমাকে প্রচন্ড ভালবাসেন।এদিকে ঐশী বারবার ফোন দিয়ে আমার যাওয়ার কথা বলছে।বাবা,মা সবাই আমাকে আগে যাওয়ার কথা বলছে।কিনতু আমিই যেতে রাজি না।কারন আমার মায়ের আদরের মেয়ের বিয়ে।আর আমি ও বাড়িতে এখন মেয়ে না এখন মেহমান। সুতরাং আমি হলুদের দিনই যাব।ইমনরা ঢাকায় চলে আসছে।কারন সিলেটে অনুষ্টান করা সম্ভব না।অনেকদুর।তাই ওরা ওদের ঢাকার বাড়িতে চলে আসছে।এসেই ছোট ফুপিকে ফোন দিয়ে বলছে তারা বিয়ের কেনাকাটা করবে।ফুপু যেন তাদের সাথে যায়।আমি ক্লাস শেষে বাসায় আসতেই দেখতে পেলাম ভাইয়া কে।ফুপু কে নিতে আসছে।আমি রুমে যেতেই পিছন থেকে ভাইয়া বলল কিরে কেমন আছিস? আমি ঘুরে বললাম এইতো খুব ভালো আছি।ইমন বলল তুমি এখনো ও যাও নি? ঐশী তো খুব একা একা অনুভব করবে।আমি বললাম কি যে বলো ভাইয়া যার বিয়ে সে কেন একা অনুভব করবে? ও আরও আনন্দে আছে।যাইহোক যাব হলুদের দিন। ইমন কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল ঐন্দ্রিলা আমি মনে হয় খুব বেশি ভুল করে ফেললাম।আমি বললাম কিসের ভুল? এই যে তোমার মত সুন্দরি কে বিয়ে না করে।আমি হাহাহা করে হেসে তারপর বললাম ছেলে মানুষগুলা বুঝি এমনই হয়? সুন্দর দেখলেই নিজের প্রেমিকা বদলাতে চায়?



ইমন চুপ।আমি চুপ দেখে আবারও বললাম ঐশী কে ঠকানোর কথা ভুলেও চিন্তা করবা না।হেতে বিপরীত হবে।একদিন তো অসুন্দর ঐন্দ্রিলা কে অবহেলা করেছিলা।আজ এত মায়া কেন? আসলে সত্যি বলতে কি জানো তুমি হচ্ছ ঐশীর সৌন্দর্য কে ভালবাসো।ওর সুন্দর মন কে নয়।যে মনে শুধু আছে তোমার জন্য ভালবাসা।আমি পারতাম ঐশী কে জানাতে।কিনতু আজ আমি কিছুই বলব না।ফুপি এসে বলল তুই আমাদের সাথে চল।ঐশীর পছন্দ টা তুই জানিস।আমি বললাম নাহ্ তোমরা যাও।ঐশীর পছন্দ ভাইয়াও ভালো জানেন।আর আজকে আমার ফ্রেন্ড অজান্তার বার্থডে। সেখানে যেতে হবে।ফুপি বলল ঠিক আছে যা।ফুপু আমাকে দশহাজার দিয়ে বলল গিফট কিনে দিস।আমি বললাম এতো তো লাগবে না।ফুপু বলল মা মেয়েকে দিয়েছে।সুতরাং রেখে দে।তারাতারি বাড়ি ফিরিস।তা নিয়ে তুমি ভেবো না।তারপর ওরা চলে গেল।আমিও রেডি হয়ে অজান্তা দের বাসায় চলে গেলাম।ওর জন্য একটা মোবাইল নিয়ে গেলাম।ওরা বড়লোক হলেও ওদের পরিবারে মেয়েদের প্রতি চাহিদা কম।


মেয়েদের কি লাগবে সেটা নিয়ে ভাবে কম।তাই আমি ওর জন্য মোবাইল নিয়ে গেলাম।আমাকে দেখে ওদের বাড়ির সবাই অনেক খুশি।কারন অনেকদিন যাবৎ আমাকে যাওয়ার কথা বলছিল।কিনতু সময় হয়ে ওঠে নাই কখনো।তাই আমাকে নিয়ে সবাই ব্যস্ত।অজান্তার ভাই শুনেছি বড্ড রাগী।গুমরা টাইপ।তবে সে বাসায় বা এফবিতে এমন একটা ভাব নেই যে সেই হিরো।এফবির অর্ধেক মেয়ে তার ব্লক লিস্টে।তবে সে আমার খুব ভালো ফ্রেনড। একথা অবশ্য কেউই জানে না।অজান্তা ও না।আমি সোফায় বসে আছি।হঠাৎ ফোন বেজে উঠল।দেখলাম জিসান ফোন করেছে।আমি আশেপাশে তাকিয়ে তাকে পেলাম না।ফোনটা রিসিভ করতেই শুরু করে দিল,,কিরে বান্দি আমাদের বাসায় এসে এমন ভাব কেন করছিস? আয় আমার রুমে আয়।আমি বললাম হুম দেখি।সুযোগ পেলে যাব।ও বলল আসবি নাকি আসবি না? ইয়ের ওর নো? আমি বললাম ব্লক করবি? ও বলল হুম।আমি বললাম কর।আমি আসব না।তারপর ফোন কেটে সুইচঅফ করে রাখলাম।আমি জানি প্রচন্ড রেগে গেছে।রগচটা কিনা তাই।

অজান্তা বলল আয় কেক কাটবো।একসাথে সবাই কেক কাটলাম।খাওয়া দাওয়া সেরে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেল।বাসায় আসতেই জিসানের ফোন। মশাই খুব রেগে গেছেন।আমাকে বলছে আসলি না কেন আমার রুমে? আবার না বলেই কেন চলে এলি? আমি বললাম কৈয়ফত পরে দেয়।আমি প্রচুর ক্লান্ত।আগে ফ্রেস হয় তারপর বলব।কিন্তু কে শুনে কার কথা।আমাকে শেষমেষ ব্লক করেই ছাড়ল।


সবকিছু তোর বন্ধু জিসান করেছে।আমি জিসানের দিকে তাকাতেই ও চোখ মেরে বলল সারপ্রাইজটা কেমন লাগল? আমি শুধু মুচকি হাসিটাই দিলাম।তারপর পার্টি শেষ করে বাসায় চলে গেল।আমি রাতে ওরে ফোন দিলাম।জিসান ফোন রিসিভ করেই বলল আমি জানি তুই আমাকে ধন্যবাদ দিবি।কিনতু আমি যা করছি আমার ফ্রেনড এর জন্য করছি।কিনতু আমি জিসান কে থামিয়ে বললাম,,, তুই আমাকে কথা দে আমাকে ছেড়ে কখনই যাবি না?? জিসান হেসে বলল সেটা কি বলতে হবে? আমি কখনই যাবো না।জিসান আবার জিগেস করল হঠাৎ একথা কেন? আমি বললাম এমনিই।আচ্ছা বাদ দে,,ঐশীর তো বিয়ে।তুই যাবি না? আমি বললাম হিম যাব তবে হলুদের দিন রাতে।জিসান বলল নাহ্ তুই আমার সাথে আগের দিন যাবি।আমি বললাম আমার ক্লাস আছে।ও বলল আমি কোনো ক্লাস মানি না।সুতরাং তুই আমার সাথে যাবি এটাই ফাইনাল।সত্যি বলতে জিসানের কোনো কথাই আমি ফেলতে পারি না।কারনটাও আমি জানি না।দেখতে দেখতে ঐশীর বিয়ে চলে আসল।আমরা হলুদের আগের দিন বাসায় গেলাম।আমার আত্নীয়স্বজন সবাই আমাকে দেখে বলছে ঐন্দ্রিলা তো অনেক পাল্টে গেছে।দেখতে বেশ সুন্দরি ও হয়েছে।ঐশীটা দৌড়ে এসে আমাকে জরিয়ে বলল তুই এসেছিস।তারপর জিসান কে বলল ধন্যবাদ ভাইয়া।আমি আমার সেই আগের রুমটাতে গেলাম।খুব স্মৃতি মাখা ছিল এ রুমটা।ব্যাগ রেখে ফ্রেস হয়ে জিসানের কাছে গেলাম।জিসান বলল এই শোন তুই আমার আশেপাশে বেশি ঘুরিস না।মানুষ খারাপ ভাববে।আমি ভাবলে ভাববে তাতে কি? আমরা তো এমন কিছু না।তারপর সবার সাথে কথা বলতে চলে গেলাম।পরদিন হলুদ ছোয়া।সবাই খুব ব্যস্ত। ও বাসা থেকে হলুদ দিতে চলে এসেছে।আমাকে বড় ফুপি ডেকে একটা মহিলার কাছে নিয়ে বলল এ হচ্ছে আমার ভাইয়ের বড় মেয়ে ঐন্দ্রিলা। ও কলেজে পড়ছে।বেশ মিষ্টি মেয়ে। আমি মহিলাটা কে সালাম দিলাম।মহিলাটি বলল এই মেয়ে রান্না পারো? আমি বেশ অবাক হলাম।চিনিনা জানি না হুট করেই আমাকে এমন একটা প্রশ্ন করল।আমাকে চুপ থাকতে দেখে বলল এই মেয়ে চুপ কেন? কিছু জিগেস করছি তো কথা কানে যায় না? আজিব তো! আমি বললাম জ্বি খালাম্মা কথা কানে গিয়েছে।আসলে আমি একটু অবাক হচ্ছিলাম চিনি না জানি না হুটহাট আমাকে এরকম প্রশ্ন করাতে।আমি রান্না মোটেও পারি না।মহিলাটি রেগে বলল তাহলে কি জানো? মুখে মুখে তর্ক করতে?? আজব আমি তর্ক কখন করলাম।কোনো কথা না বলেই চলে গেলাম।কিছুক্ষন পর বুঝতে পারলাম ইনি আমাকে দেখতে আসছেন।আর আমার ফুপির কাছে আমার নামে বিচার ও দিয়ে ফেলছেন।ফুপি আসল তারপর বলল কিরে ঢাকা গিয়ে তুই এতোটাই বেয়াদব হয়ে গেছিস?আমি বললাম ফুপি আমি কোনোরকম বেয়াদবি করি নি।তবে ওই মহিলাটাই আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে।ফুপি বলল যাক যা হবার হয়ছে।তোকে ওনার খুব পছন্দ হয়েছে।আমি মাথা চুলকাচ্ছি কি বলে এসব? ধ্যাত কেন যে আসছি এখানে।মা আমাকে আদর শুরু করে দিছে।ছেলে ব্যবসা করেন। ঢাকা বাড়ি আছে।পাঁচ ভাই।এক বোন।ছেলে সবার ছোট।সবাই বিবাহিত।ছেলে বাকি।তবে আমার মোটেও পছন্দ হয় নিই।তাই কোনো কিছু না বলেই জিসান কে বললাম চল বাসায় যাব।জিসান বলল কেনো যাবি? কেনর উত্তর পরে দিব।তারপর ব্যাগ গুছিয়ে ছোট ফুপির কাছে গিয়ে বললাম বাসার চাবিটা দেও।ছোট ফুপিও চেঞ্জ।সে বলল আজ থেকে তুমি এখানেই থাকবে।আর সামনে তোমার বিয়ে।আমি বললাম কি বলছো এসব? আমার পড়াশুনা? শোন মা বিয়ের পর তোর বর তোকে পড়াবে।ফুপি শোনো আমি বিয়ে করব না।ফুপিও বলল তোর বিয়ে করতে হবে না।তবে আমরা তোকে বিয়ে দিব।আমার সবটা কেমন যেন লাগছে।আমার স্বপ্ন গুলো ভেংগে যাচ্ছে।হঠাৎ জিসানের ফোন। আমি রিসিভ করতেই জিসান বলল দোস্ত আমি বাসায় যাচ্ছি। আমার বাহিরের যাওয়া কনফার্ম হয়ে গেছে।কাল আমার ফ্লাইট। তোকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম।তুই ভালো থাকিস।তারপর ফোন রেখে দিল।আজ নিজেকে খুব বেশিই একা মনে হচ্ছে।কিনতু কেন? জিসানতো আমার বেস্ট ফ্রেনড।




SHARE

Author: verified_user