Thursday

Bangla Choto Golpo - Dim Kahini

SHARE

ডিমকাহিনী লিখেছেন: Mosharaf Hossen Antor

Bangla Choto Golpo


ডিম টা একদম মাথার উপর এসে পড়লো। একটু আগে "কিউট তেল" দিয়ে আচড়ানো চুলগুলোতে এখন কাঁচা ডিমের বিশ্রি গন্ধ করছে। ডিমের কুসুমের হলুদ অংশ আমার সাদা শার্টে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ডিমের দুর্গন্ধে বমি করার মতো অবস্থা। রাগে- ক্ষোভে কাঁপতে কাঁপতে উপরে তাকালাম। দেখলাম দুতলার বেলকনিতে দাড়িয়ে সুমু দাঁত কেলিয়ে হাসছে। যদিও হাসিটা অতি সুন্দর কিন্তু এই মূহুর্তে তার হাসির দৃশ্যটা বিষের কাটার মতো আমার গায়ে এসে লাগছে। ইচ্ছে করছে এখনি শ-খানেক খানেক ডিম তার গায়ে ছুড়তে ছুড়তে ডিমের গোসল করিয়ে দি। বুঝিয়ে দি কাঁচা ডিম শরিরে মাখলে কেমন সুগন্ধ লাগে!
আজ জীবনের প্রথম চাকুরির ইন্টারভিউ ছিল। ভোরে উঠে গোসল করে সারা শরিরে ইচ্ছেমতো জনসন বডি লোশন মেখেছিলাম, দশ টাকা দিয়ে কেনা "ফেয়ার এ্যান্ড লাভলি"র পাতার প্রায় অর্ধেকটা আমার শ্যামলা মুখে মেখে, "কিউট তেল" দিয়ে চুলগুলোকে অতি যত্নে আচড়ে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছিলাম। হারামমজাদী সুমু সব মাটি করে দিলো। আমি বুঝি না, বাড়িওলার এই মেয়েটার সাথে আমার কোন জন্মের শত্রুতা ছিল! সে সারাটা দিন খালি আমার পেছনে লেেগ থাকে কেন? ঐ দিন ছাদে প্যান্ট শুকাতে দিয়েছিলাম, তারপর বিকেলে প্যান্ট পরেছি বাইরে বেরুবো। অনুভব করলাম, পেছনে কেমন জানি বাতাস বাতাস লাগছে। পিছনে তাকিয়ে দেখি প্যান্টের দু পাশে বেশবড়সড় আকারের ফুটা করা। ভাগ্যিস খেয়াল করেছিলাম, এ প্যান্ট পড়ে বাইরে বেরুলে আমার ইজ্জতের তেরোটা বেজে যেতো।
নাহ্..আজ আর ইন্টারভিউ দিতে যাবো না। বাড়িওয়ালার মেয়ে বলে এত্তোদিন ছাড় দিয়েছি, আর কোনো ছাড়াছাড়ি নেই। প্রতিশোধ নেবো, কঠিন প্রতিশোধ। কিছুক্ষণ পর, ডাস্টবিন থেকে এক পিচ্চিকে দিয়ে একগাধা আবর্জনা আনালাম। যেখানে ছিল একটা মরা ইদুর, মাছের পঁচা আইশ, তরি-তরকারীর খোসা, আর পথচারীর ব্যবহার করা কয়েকটা টয়লেট টিস্যু। এগুলোকে একটা বক্সে ভরে এমনভাবে সুমুদের দরজার সামনে বেধে দিলাম, যাতে দরজা খুললেই সব ভিতরে গিয়ে পড়ে। আবর্জনা বাধা শেষ করে কয়েকবার কলিং চেপে একদৌড়ে উপরে তলায় উঠে দাড়িয়ে রইলাম। একটু পরেই সুমু এবং সুমুর মায়ের সমস্বরে আ......ও বলে চিৎকার শুনা গেলো। আহ্ কি শ্রুতিমধুর চিৎকার। চিৎকারটা শুনে আনন্দে আমার কলিজাটা ঠান্ডা হয়ে গেলো। তাদের এই দুরঅবস্থা নিজ চোখে দেখে আনন্দটা আরেকটু বাড়ানোর জন্য নিচে নামলাম। সুমুদের ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখি মরা ইদুর,মাছের আইশ, টিস্যু ইত্যাদি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সুমু এবং সুমুর মা দুজনেই নাকে রুমাল ধরে দাড়িয়ে আছে। আহ্ কি দৃশ্য! পৃথিবীতে এর চাইতে সুন্দর দৃশ্যও কি আছে? অতি আনন্দে আমি মুচকি হাসলাম। আমি হাসি দেখে সুমু খানিকটা টের পেয়ে গেলো বোধহয়। সে মায়ের কানে ফিসফিস করে কি যেন বলল। ঠিক তখনি তার মা আমায় বলল:- বাবা, মিথুন! একটা উপকার করবে?
কথাটা শুনেই আমার বুকের ভেতরটা নাড়া দিয়ে উঠলো। এই মহিলা না আবার আমায় এসব ময়লা পরিষ্কার করতে বলে? দুর্ভাগ্যক্রমে যা ভেবেছিলাম তাই হলো। আন্টি বললেন:- দেখোতো বাবা, কোন হারামজাদা জানি এসব আবর্জনা আমার দরজায় ফেলে গেছে। দুর্গন্ধে রুমে দাড়ানো পর্যন্ত যাচ্ছে না। ঐ হারামজাদারে পেলে ওর হাড্ডিগুলো ভেঙ্গে উল্টো করে রাস্তায় টাঙ্গিয়ে দিতাম। বলছিলাম কি বাবা... তোমার আঙ্কেল ও বাসায় নেই, সুমু তো মেয়ে মানুষ সে কি এসব ময়লা ডাস্টবিন পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে? তুমি যদি একটু কষ্ট করে ময়লাগুলো ফেলে দিতে?
.
বাড়ীওয়ালীর আদেশ। তার উপরে মার বয়সী মহিলা, কি করে না করবো বুঝতে পারছি না। শেষমেষ আমার রাজি হতেই হলো। ময়লা পরিষ্কার করছি। নিজের হাতেই সেই মরা ইদুর, মাছের আঁইশ, ব্যবহৃত টয়লেট টিস্যু ইত্যাদি তুলছি। দুর্গন্ধে আমার বমি চলে আসে প্রায়। কোনোরকম বমি চেপে রাখছি। এসব পরিষ্কার করার সময় ভেতরের রুম থেকে সুমুর...মু হা হা হা হা টাইপের হাসির শব্দ শুনা যাচ্ছে। নাহ্ একে তো আমি ছাড়বোই না। মাথার মধ্যে প্রতিশোধ নেয়ার নতুন একটা বুদ্ধি এসেছে। সেটা পরের পোষ্টে বলি? এখন বললে সুমু জেনে ফেলবে!

SHARE

Author: verified_user