Monday

Bangla Book Review | বই:কবির আত্মবিশ্বাস লেখক:কবি আল মাহমুদ

SHARE

Bangla Book Review | বই:কবির আত্মবিশ্বাস লেখক:কবি আল মাহমুদ 

Bangla Book Review | বই:কবির আত্মবিশ্বাস লেখক:কবি আল মাহমুদ


পাঠ্যানুভূতি-১৫
(বই-রিভিউ)

বই:কবির আত্মবিশ্বাসলেখক:কবি আল মাহমুদপ্রকাশনী:অনন্যা প্রকাশনীপৃষ্ঠা:১৪৭মুদ্রিতমূল্য:১৫০ টাকা


কবি আল মাহমুদ একটি নতুন জীবনের আলোতে অবগাহন করেছেন।স্বচ্ছ জীবনের স্বাদ আস্বাদন করেছেন।পশ্চাৎ জীবনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে এমনভাবে আহত করে,যার জন্য তার শান্তিশীতলবৃক্ষে আশ্রয় নেয়াটা ছিল অনিবার্য।বিষাদ আর বিতৃষ্ণা চলে এসেছিল নিজের জীবনের প্রতি।নিজের সত্বা হারিয়ে ফেলেছিল প্রায়।বাঁধনহীন জীবন তাকে এমনভাবে কৃষ্ণগহ্বরে ঠেলে দিচ্ছিল,যার ধরুন সত্যের আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছিল না। এসবের পরিলক্ষণেই নিজের ধর্ম ইসলামে আত্মনিবেদন করেন।আত্মাহুতি করে দেন।জীবনকে বিনির্মাণের পথে চালাতে থাকেন।আর তার পূর্ব জীবনের অবিজ্ঞতা উপলব্ধির ফলেই
কাগজে কলমে উঠে আসে 'কবির আত্মবিশ্বাস' বইটি।

বইটির কিছু অন্তঃকথা: Bangla Book Review

*পবিত্র কোরআনের কাছে আমি যা পেয়েছি তা মানুষের পার্থিব জীবনের পরবর্তী অন্য এক উত্থানের নিশ্চিত ধারণা।এ ধারণাই আমাকে দিয়েছে মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে বিচরণ করার এক নতুন ও চিরন্তর অর্থ।কোরআন পাঠের আগে আমার জানাই ছিল না যে মানুষ ধর্মগ্রন্থগুলোর ভেতর প্রচ্ছন্নভাবে পুঁজি গঠনের অন্য এক বিস্ময়কর ইতিহাস।


* যারা পাকিস্থানি আমলে বাংলাদেশকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে গিয়ে এক প্রকাণ্ড আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন তারা সকলেই ছিলেন ইসলামপন্থি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পথিকৃত।তমদ্দুন মজলিসের একদল মুসলিম আদর্শবাদী তরুণই ভাষা আন্দোলনের উদগাতা।তারা বাংলাভাষা-সাহিত্যের অতীত ইতিহাস উত্তমরুপে জানতেন।তারা জানতেন সুদূর অতীতে বাংলাভাষার উদ্ভবকালে ব্রাহ্মণ্যবাদী সংস্কৃতির প্রবর্তক এইভাষাকে অন্তর থেকে ঘৃণা করত।
*আসলে এদেশের তথাকথিত প্রগতিপন্থিরা মূলত ভারতপন্থি।আধুনিক বাংলাভাষার গৌরব ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হোক,এটা তাদের কাম্য নয়।ওদিকে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাভাষার একাধিপত্যের দিন হিন্দীর চাপে মুহ্যমান।

*বাঙালী জাতির সবচেয়ে গৌরবজনক শক্তি হল- তাদের ধর্মের শক্তি।বাঙালী মুসলমানরাই মূলত বাঙালী।তাদের একটি স্বাধীন দেশ ও স্বাধীন ভাষা আছে যা আল্লাহ ছাড়া কারো মুখাপেক্ষী নয়।ভারতের বাঙালীদেরকে ঠিক বাঙালী বলা যায় না।কারণ জাতিগতভাবে তারা যেমন হিন্দুত্বকে বর্জন করেছে, ঠিক তেমনি ভাবে বাঙালীত্বকেও।

*বামপন্থি ভিয়েম মেশাবার চাতুরী হিসেবে 'ভাত দে হারামজাদা' বলে যে পদ্যটি আছে সেটাও তৎকালীন জাসদ এর একটি দেয়ালের পোস্টার থেকে হুবহু মেরে দিয়েছে।আহা,রফিক আজাদ যদি জানতেন পোস্টারের এ বাক্যটি প্রকৃত পক্ষে কার রচিত তবে নিশ্চয়ই তিনি প্রতিক্রিয়াশীলদের রচনার হাত থেকে
সতর্ক থাকতে চেষ্টার ত্রুটি করতেন না।
*মসজিদের একজন ইমাম তার ইষৎ ভুলত্রুটি থাকা সত্বেও তার সমাজের মানুষের কাছে পরলৌকিক সততার জন্য অনেকটা দায়বদ্ধ।অপবাদ ও ঠকবাজির মধ্যে অন্তত এ ধরনের মানুষের জীবন চলে না।কিন্তু একজন নাস্তিকের এ দায় নেই।এজন্যই দেখা যায়,বাংলাদেশের যে কোন কমম্যুনিষ্ট পার্টির সেক্রেটারীর চেয়ে অজ পাড়াগাঁয়ের একজন মসজিদের ইমামের জীবন জনগনের কাছে অনেক বেশী উদঘাটিত। অথচ আমাদের সাম্প্রদায়িক নাট্য আন্দোলন এধরনের সাদাসিদে মানুষকে অত্যাচারী ও কুপ্রবৃত্তির আধররূপে চিত্রিত করে শহরের মঞ্চেও সাময়িক হাততালির জন্য লালায়িত।
*বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্রতম দেশে শিক্ষা ও সংস্কৃতিক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র ও বৈচিত্র্যসৃষ্টির প্রধান অন্তরায় হল তথাকথিত মার্কদবাদী প্রগতিশীলরা।শুধু অন্তরায় বললে সমস্যার গভীরতাটা সঠিকভাবে উপলব্ধি করা যায় না,বলা উচিত প্রতিবন্ধক।

পাঠপ্রতিক্রিয়া,
বইটি আমি প্রথমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একবার পড়েছিলাম।আজকে আবারও কিছু মার্ক করা উদ্ধৃতিগুলো পড়লাম।তাতে কবির প্রতি ভালোবাসা,শ্রদ্ধা নিতান্তই বেড়ে উঠছে।কবির জীবন সুন্দরতম হোক।ইসলামের প্রতি তার আনুগত্য পুনঃপুন বৃদ্ধি পাক।এই প্রত্যয়ে.....

মাহফুজ আকন্দ
আকন্দবাড়ী
প্রদোষ:০৭.১২ মিনিট
SHARE

Author: verified_user