Thursday

Bangla Book Review | বই "মা" লেখকঃআনিসুল হক

SHARE

        Bangla Book Review | বই "মা" লেখকঃআনিসুল হক


                                          Ma Uponnash By Anisul Haque

বইঃ"মা"
লেখকঃআনিসুল হকধরণঃমুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসপ্রকাশনীঃসময় প্রকাশনপ্রচ্ছদঃ ধ্রুব এষ


লেখক পরিচিতিঃ

আনিসুল হক একাধারে বাংলাদেশী কবি, লেখক, নাট্যকার ও সাংবাদিক।মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের সত্য ঘটনা নিয়ে তাঁর লেখা মা বইটি জনপ্রিয় উপন্যাস গুলোর মধ্যে অন্যতম।"মা" উপন্যাসটি বাংলার পাশাপাশি Freedom's Mother নামে নয়া দিল্লি থেকে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।

রিভিউঃ

গল্পটা মাথা উচু করে বেঁচে থাকা হার না মানা এই আদর্শবান,ব্যক্তিত্বসম্পন এক মায়ের! ঠিক গল্প না! এটি যুদ্ধের বাস্তব কাহিনী নিয়ে লেখা আজাদের মায়ের গল্প।
আজাদ? মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীর যুদ্ধা।
আজাদের মা "সাফিয়া বেগম" এই উপন্যাসের মূল চরিত্র। আজাদের মা, এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে ছিলেন।বিয়ে ও হয় এক বিখ্যাত ধনীর সাথে। আজাদের বাবা ইউনুস চৌধুরী। তিনি টাটা কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। কানপুর থাকা কালীন আজাদের জন্ম হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় আজাদরা এ দেশে চলে আসে। দেশে এসে স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে বিশাল ব্যবসা শুরু করেন। তারা ইস্কাটনে থাকতো। তাদের সেই বাড়িটিও ছিলো অত্যন্ত বিলাসবহুল দেখার মতো সুন্দর।
সে সময় আজাদের বাবা ইউনুস চৌধুরী ছিলেন দেশের প্রথম সারির ধনীদের একজন।আজাদরা ছিল ঢাকার সবচেয়ে ধনী পরিবার।তিনি ছিলেন দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তি।
আজাদ ছিলেন তাদের একমাত্র সন্তান। অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন ছিল তার।
ইস্পাত কঠিন,আত্মমর্যাদাবান সাফিয়া বেগম। তাই তার স্বামী যখন দ্বিতীয় বিবাহ করলেন, তখন তিনি তা মেনে নেননি। ছোট্ট আজাদকে নিয়ে শত বিলাসিতা আর প্রাচুর্যের প্রাচীর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।অভাব অনটনকে পেছনে ফেলে নিজ হাতে তিনি মানুষের মত মানুষ করে তুলেছিলেন আজাদকে। ছেলেকে কখনো বাধা দেননি দেশের জন্য লড়তে। তবুও বেঁচে থাকার অবলম্বন একমমাত্র ছেলে হারানোর ভয় পিছু ছাড়ে নি।
অবশেষে আজাদ ও অংশ নেন যুদ্ধে। আজাদের মা তার ঘরটাকে মুক্তিযুদ্ধাদের ঘাঁটি বানিয়ে দেন। তিনি নিজেও মুক্তিযুদ্ধাদের সহায়তা করেন যথাসাধ্য।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আজাদ তাঁর বন্ধুদের সাথে যোগ দেয় । ঢাকায় ক্র্যাক প্লাটুন এর দলে তিনি ছিলেন ।সেই সময় ঢাকায় ক্র্যাক প্লাটুন ছিল পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ত্রাসের কারন । এই ক্র্যাক প্লাটুন তৎকালীন সময়ে “হিট এন্ড রান" পদ্ধতিতে অসংখ্য আক্রমণ পরিচালনা করে পাকিস্তানী সেনাবহিনীর উপর। অতপর ১৯৭১ সালের ৩০ আগষ্ট এই দেশেরই কিছু গুপ্তচরের সহায়তায় যুদ্ধে অংশ গ্রহন আর বন্ধুদের আশ্রয় দেয়ার অপরাধে মিলিটারি দের হাতে ধরা পড়ে। সে রাতে আজাদসহ রুমী,কাজল,বদি,বাকের সহ সবাই ধরা পড়ে মিলিটারি দের হাতে।মিলিটারির নির্মম অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে ছেলে যখন কি করবে জানতে চাইল, মা উত্তর দেন বাবা একটু শক্ত হয়ে থেকো সহ্য করো। তবু যেন কারো নাম বলোনা। 
জাহানারা ইমাম অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন।
কি পরিমাণ শক্তি ধারণ করেছিলেন এই মানুষটা তার বুকের ভেতর!
জেলে ছেলের সাথে মা দেখা করতে গেলে, ছেলে মাকে বলে মা ভাত খেতে ইচ্ছা করে খুব। কাল ভাত নিয়ে এসো। এরা অল্প ভাত দেয়। ভাগে পাই না।
মা বলেন আচ্ছা কাল নিয়ে আসবো। 
মা যখন ফিরে যাচ্ছেন তার কানে কেবলই বাজছে ছেলের কথা মা! খুব ভাত খেতে ইচ্ছা করে। বাড়িতে ফিরে মাও সে রাতে আর ভাত খাননি। ছেলেকে না খাইয়ে রেখে কি করে মা খেতে পারেন? শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনছেন কখন সকাল হবে? আর মা ছেলের জন্য ভাত নিয়ে যাবেন।দুই ক্যারিয়া ভর্তি করে সোজা চলে গেন রমনা থানায় সন্ধ্যায়। কিছুক্ষণ পর এলো মিলিটারির গাড়ি। মা এগিয়ে গেলেন। একজন একজন করে বন্দীদের দেখছেন। নাহ, কই আজাদ তো নেই। পুলিশ কে জিজ্ঞেস করলেন আর কোন গাড়ি আসবে কিনা। পুলিশ জবাব দেয় না একটাই তো শেষ গাড়ি। আর তো আসবে না। আজাদ তো আসে নি। এরকম আরো যারা ছাড়া পেয়েছে তাদের নিয়ে তো আরও গাড়ি আসতেও পারো। এমন ভাবনা চিন্তার মধ্যেই শুনতে পায় ফজরের আজান। সাথে সাথেই ছুটে যান তেজগাঁও থানায়। সেখানে ছেলেকে না পেয়ে যান এমপি হোস্টেল। নাহ সেখানেও নেই।
মা বিশ্বাস করতেন আজাদ ফিরে আসবে।মা তাকে বিয়ে দেবেন। পাত্রীও দেখে রেখেছেন। ছেলের বউ এর জন্য আলাদা করে রেখেছেন গয়না যেটাতে কোনদিনও হাত দেননি শত অভাব সত্তেও। মৃত্যুর আগে শ্বাসকষ্টে ভুগেছেন তবুও চিকিৎসা করাননি। মৃত্যুর আগে সহায় সম্পদ গয়নাগাটি যা ছিল বোনের ছেলেমেয়েদের দিয়ে যান। ভাগ্নে জায়েদের হাতে একটা ট্রাংকের চাবি তুলে দেন। ট্রাংক খুলে জায়েদ দেখে প্রায় একশ ভরি গয়না। আর জায়েদকে বলেন মৃত্যুর পরে কবরে তার পরিচয় হিসেবে শুধু লেখা থাকবে 'শহীদ আজাদের মা'।
আজও কেউ যদি যায় জুরাইন কবরস্থানে। দেখতে পাবেন এপিটাফে লেখা আছে মোছাম্মৎ সাফিয়া বেগম "শহীদ আজাদের মা"!

প্রশংসাঃ
আজাদের মৃত্যুর ১৪ বছর পর, ঠিক ৩০ আগষ্ট আজদের মা পৃথিবী ছেড়ে যান।
এই ১৪ টা বছর তিনি এক দানা ভাতও মুখে দেননি!
এই ১৪ টা বছর তিনি বিছানায় শোন নি।
শক্ত মেঝেতে, শক্ত পিড়িতে মাথা রেখে ঘুমিয়েছেন।কারন তার আজদও যে ভাত খেতে পায় নি। একটা বালিশ পায় নাই মাথা রাখার জন্য। 
তাদের মা-ছেলের এমন ভালবাসায় আমি "মা"-তে মুগ্ধ!!

আমি একই সময়ে ম্যাক্সিম গোর্কি আর আনিসুল হকের "মা"!
এই দুই "মা" পড়েছি।প্রায় সবাই বলে কোন "মা" সেরা? 
আমি আজাদের "মা" আর পাভেলের "মা" দুই মাকে একই রুপে খোঁজে পেয়েছি! রুশ মা আর বাংলার মা! এই দুই মায়ের মাঝে আমি একটাই রুপ দেখতে পেয়েছি- তা হলো মমতাময়ী রুপ!
আর গভীর ভাবে উপলব্ধি করেছি! সব মায়েদের একটাই রুপ।।

আমি বলবো না! এই বইটা পড়তেই হবে! না পড়লে মানব জনম বৃথা।বই পড়ে তো আর মা'কে দেশকে ভালবাসা যায় না।মন থেকে ভালবাসতে হয়।
মা কে জানতে,দেশকে জানতে পড়তে পারেন এই বইটি।এই টুকু বলতে পারি বৃথা যাবে না আপনার সময় টুকু।

হ্যাপি রিডিং!

SHARE

Author: verified_user