Sunday

Bangla Hasir Golpo In Bangla Font | বাংলা গল্প অনিন্দিতা

SHARE

 Bangla Hasir Golpo In Bangla Font |  বাংলা গল্প অনিন্দিতা 

Bangla Hasir Golpo In Bangla Font |  বাংলা গল্প অনিন্দিতা

অনিন্দিতা কে নিয়ে ঢাকায় একটা সাবলেট রুম ভাড়া নিলাম। ও এখন অনেকটা সুস্থ্য। মাতৃত্বের পুরো লক্ষণ ফুটে উঠেছে ওর মাঝে।
আমি অফিস করি, সারাদিন ও বাসায় থাকে। একটা টেনশন কাজ করে সবসময়।
বাড়িওয়ালা আমাদের সাথেই থাকেন।
উনারা জানেন আমরা স্বামী স্ত্রী। আমি আর বাড়ি যাইনা। অনিন্দিতাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে প্রথম বাড়িতেই গিয়েছিলাম। মা আর ভাইদের আমি সব বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলাম।Bangla Hasir Golpo In Bangla Font


কিন্তু বাদ সাধলো ছোট বোন। একটা অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে যার নাকি স্বামীও নেই। এই নিয়ে ওর শ্বশুর বাড়িতে প্রচণ্ড কথা শুনতে হচ্ছে ওকে। অনিন্দিতা কে বিদেয় না করা পর্যন্ত ও নাকি এ বাসার মুখ দেখবেনা।
বাসায় ফিরে দেখতাম জানালার ধারে চুপচাপ বসে আছে অনিন্দিতা। শুন্যতার মাঝে কি যেনো দেখছে। কিছু বলার নেই, কিচ্ছু করার নেই, শুধু চেয়ে থাকা। ওর এই চেয়ে থাকা আমার বুকে ধাক্কার মতো লাগে। রবীন্দ্রনাথ এর হৈমন্তীর কথা মনে হয়। অপূর্ব হৈমন্তীকে বাঁচাতে পারেনি। আমি কি পারবো !
মা আজকাল মুখ কালো করে থাকেন। ভাইয়েরাও অন্যদিকে তাকিয়ে কথা বলে। ছোটভাই মাঠে খেলতে গিয়েছিলো। কে নাকি কি'সব আজেবাজে কথা বলেছে।
আমি কান খাড়া করে শুনি। আল্লাহ কাছে দোয়া করি আল্লাহ অনিন্দিতা যেন না শোনে। কিন্তু ও শুনছে ওর ফর্সা মুখ আস্তে আস্তে লাল থেকে বেগুনী হয়ে উঠছে। নিঃশ্বাস নিচ্ছে দ্রুত। এতো বাজে কথা..!!, ও আবার অসুস্থ্য না হয়ে পড়ে ।
রাতেই মা এলেন। বাংলা গল্প অনিন্দিতা
-- শাওন তুই মেয়েটাকে অন্য কোথাও রাখ।
-- কই রাখবো আম্মা। ও অসুস্থ্য। আর অসহায়।
-- আমরা তার চেয়েও অসহায়। নিজের মেয়ে এ বাড়ি আসেনা। আম্মা চোখে আঁচল চাপা দেন।
পরদিন অনিন্দিতা আমি অফিসে যাবার সময় , আমার সাথে রেডি হয়ে বাইরে আসে। ও হ্যা এর
মাঝে আমি একদিন হোষ্টেল এ গিয়ে ওর কাপড় গুলো নিয়ে এসেছি। ও হোষ্টেলে ফোন করে রুমমেট কে বলে দিয়েছিলো।
আবার একসাথে রিক্সায় বহুদিন পর। রিক্সাওয়ালা জোরে চালাতেই ধমকে উঠি। দেখছোনা, প্যাসেঞ্জার অসুস্থ্য। একটু আস্তে চালাতে পারোনা। রাতে বৃষ্টি হওয়ায় রিক্সার চাকা হঠাৎ গর্তে পড়ে যায়। আমি নেমে আগে অনিন্দিতা কে জড়িয়ে ধরে নামাই। তারপর রিক্সা। ও মনে হয় খুব ব্যাথা পেয়েছে। ঠোঁটে ঠোট চেপে ব্যাথা সইছে। সেদিন অফিস ফেলে সারাদিন বাসা খুঁজি। সাধ এর সাথে সাধ্যে কুলোয় না। তাই সাবলেট।

বাংলা গল্প


আজকাল আমি অফিসে গেলেই নাকি বাড়িওয়ালার বউ এসে নানা কথা জিজ্ঞেস করেন। অনিন্দিতা সাধ্যমত জবাব দেয়। কিন্তু বাড়িওয়ালার ছেলে আমি বাসা থেকে বেরুনো মাত্র। খালি গায়ে জানালার সামনে ঘুরঘুর করে।
জানালা বন্ধ দেখলে টোকা দেয়। আমি নালিশ করতে গেলেই বাড়িওয়ালী খুব বাজে বাজে কথা শোনায়।
অনিন্দিতা নাকি খোলা গায়ে রুমে শুয়ে থাকে। আমি বললাম -- ওর রুম ও যেভাবে খুশি শুয়ে থাকবে।
- তা থাকুক না। তবে শাওন আপনি এত্তো দেরি করলেন কেনো ? অনিন্দিতা আজ কি রান্না করা যায় বলুন তো ! এইসব কি স্বামী স্ত্রীর কথা ? ছিঃ ঘেন্নায় মরে যাই। আবার আসছেন সাফাই গাইতে।
আমি অনিন্দিতার দিকে তাকাতে পারিনা। একটা আলাদা বাসা নেবার সামর্থ্য আমার নেই। তারপর ওর ওষুধ ডাঃ লেগেই আছে। সামনে ডেলিভারির খরচ। এই প্রথম অনিন্দিতা দৌড়ে এসে জানালার গ্রিল ধরে কাঁদতে থাকে । কাঁপতে থাকে ত্রস্ত শালিকের মতো, সেই কাঁপুনিটা ঝিলিক দিয়ে উঠছে ওর পুরো শরীরে। আমার মনে হয় দমকা গরম হাওয়া বয়ে যাচ্ছে আমার শরীরে।






এবার আর ভদ্র কোথাও থাকবো না। আবার বাসা খুঁজি, গলি, ঘুপচি, বস্তি যেখানেই হোক।
একটু ভেতরের দিকে। ঘুপচি একটা দালানে একরুম, বারান্দাসহ একটা বাসা নেই। ভাড়াও কম তবে একটু নির্জন। বারান্দায় বসলে অনেকদূর দেখা যায়। অনিন্দিতা খুব কম মা বাবার কথা বলে। রিফাত এর গল্পই করে বেশি।
আমি অবাক হয়ে শুনি। কি মিষ্টি প্রেম ছিলো ওদের। রিফাতের বাসার সবাই জানতো ওদের ব্যাপারটা। রিফাত ভাল চাকরি করে। ওর সাথে একবার অফিস ট্যুর এ যায় অনিন্দিতা। রিফাত জানতো অনিন্দিতা বেবি এক্সেপ্ট করেছে।
দুদিন পরেই ওদের বিয়ে করার কথাও ছিলো। হঠাৎ মোবাইল বন্ধ পায় অনিন্দিতা। এদিকে হোষ্টেলেও জানাজানি হয়ে গেছে। পরের ইতিহাসের সাক্ষী আমি নিজে।
এ মাসে উৎসব ভাতা পেয়ে অনিন্দিতা কে একটা ভাল চেকআপ করাই। ওর শরীর বেশ ভারী হয়ে গেছে। একটা পয়সাও আমরা মেপে খরচ করি। রান্নাটা আমিই করি। ও যতোটুকু সম্ভব সাহায্য করে। চেষ্টা করি ও ঘুমিয়ে থাকতেই রেঁধে ফেলতে। বাংলা গল্প অনিন্দিতা
একদিন অনিন্দিতা চমকে আমার দিকে চায়। শাওন, ও নড়ছে! ও নড়ছে দেখুন দেখুন। আমার হাত টা ওর পেটে চেপে ধরে। কি একটা গুটলি মতো জিনিস তিরতির করে একটু কেঁপে ওঠে।
আমাদের দুজনের খুশি দেখে কে।

Bangla Hasir Golpo In Bangla Font
রাতে চুপিচুপি ডায়েরিতে লিখে রাখি, প্রিয়তা আজ প্রথম নড়েছে। চুপিচুপি ডায়েরি লেখা আমার অভ্যাস। এই নিয়ে অনিন্দিতা খুব হাসাহাসি করে। -- কি লেখেন এতো! আমার পেছনে ক'টাকা খরচ হচ্ছে, সেই হিসেব বুঝি।
আমি আর অনিন্দিতা মিলে বেবির নাম ঠিক করেছি। সেদিন এই নিয়ে আমাদের মাঝে ছোটখাটো একটা ঝগড়াও হয়ে গেছে। ও চায় আমি রাখি। আর আমি চাই অনিন্দিতাই রাখুক।
ও রাগ করে ভাত খায়না রাতে, আমিও না খেয়ে শুয়ে পড়ি।
আমিই হার মানি প্রেগন্যান্ট মানুষ না খেয়ে থাকবে। থাক আমিই অদেখা রাজকন্যার নাম
সিলেক্ট করি। মুখে না বললেও খুশিতে প্রাণ টা ভরে যায়।
-- আমাদের রাজকন্যার নাম হবে প্রিয়ন্তি।
-- আমি ওকে প্রিয়তা বলে ডাকবো। রিফাত কে বলবো প্রিয়ন্তি ডাকতে। লজ্জায় লাল হতে হতে অনিন্দিতা বলে।
একসময় চাঁদ ঢলে পড়ে। আমি পাশের ছোট্ট করিডোর এ ঘুমাতে যাই। একটা চার্জার ফ্যান কিনেছি। বিদুৎ থাকলে আমি বাতাস খাই। না থাকলে অনিন্দিতা। আজকাল প্রিয়ন্তি খুব নড়াচড়া করছে। ডাঃ সময় বলে দিয়েছেন।
আমি প্রায়ই ফলমূল কিনে আনি। যা পারি। মাছ বেশিটুকু ওর পাতে ঢেলে দেই। সে আর কতো। নিজের বিবেকের কাছে খারাপ লাগে নিজের সংসারে থাকলে মেয়েটি হয়তো আর একটু যত্ন পেতো।
রিফাতের অফিসে যোগাযোগ করি ও চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। যে বাসায় থাকতো সেখানে আমার নাম সহ নোট লিখে দিয়ে এসেছি।
আজ সাতমাস আমরা একসাথে আছি। - প্রিয়ন্তি খুব জ্বালায় আজকাল অনিন্দিতা বলে। আমি বলি -- ও আমার সাথে খেলতে চায়।
অনিন্দিতার পায়ে পানি এসেছে। সারারাত ঘুমায়না আজকাল। মাঝেমধ্যে আমিও পাশে বসি। শোনাই আশা আর ভালবাসার গল্প। রিফাত, অনিন্দিতা, আর প্রিয়তার গল্প। এইতো সুদিন এলো বলে। ও খুব মনোযোগ দিয়ে শোনে।
আজ আবার অফিস থেকে ফিরতে দেরি হয়েছে।
সন্ধ্যে সাতটা, বাস পাইনা। যা আসে লোকে ভর্তি।
অনিন্দিতার ফোনে ফোন দেই। ফোন বন্ধ। আমার বুক ধ্বক করে ওঠে। দ্রুত একটা টেম্পুতে উঠি একটু ঘুর পথ। তবুও দ্রুত আসার চেষ্টা ।


দরজা খোলা। আমি চিৎকার করে ডাকি অনিন্দিতা...!! কেউ নেই। কোথাও কেউ নেই
কি মনে করে বাথরুম এ যাই রান্নাঘর, বারান্দা।
হ্যা ওইতো বারান্দার এককোনায় পড়ে আছে ও।
বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। আমি ওকে ধরে নিচে নামাই।
থরথর করে কাঁপছে অনিন্দিতা। -- আমি পড়ে গিয়েছিলাম। আমার মাথায় যেন বাজ পড়ে। দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে ওকে। কোনমতে গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে নিয়ে রিক্সায় উঠি। ব্যাথায় কষ্ট পাচ্ছে ও। আমি ওর হাত শক্ত করে চেপে ধরে থাকি।
আবার হাসপাতাল আর প্রতীক্ষা। সিজারিয়ান হয়েছে অনিন্দিতার। আমি ওষুধের কার্টন এনে ডাঃ এর হাতে দেই। আমার হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় একজন কার্টন টি। বলে --সব ঠিক আছে তো!
আমি মাথা নেড়ে হ্যা বলি। আবার রক্ত দেই। পাশের লোকটিও জোগাড় করে দেয় রক্ত। ডাঃ একসময় বেবি কোলে বাইরে আসে। আমি হাত বাড়াই। আমার কোল জুড়ে নরম কোমল একদলা মাংসপিণ্ড। কুতকুতে চোখ মেলে চেয়ে আছে। মুঠি পাকানো হাত। আমি ওকে বুকে চেপে ধরি। কেনো জানিনা দুচোখে জল গড়িয়ে আসে।
শুধু বলি -- আমার প্রিয়তা।
এতক্ষণ এ খেয়াল করি পাশের ভদ্র লোককে। উনি হেসে হাত বাড়িয়ে দেন। - আমি রিফাত। এই রাজকন্যাটির বাবা। আমি কি আমার প্রিন্সেস কে কোলে নিতে পারি...!!
এতো অবাক আমি জীবনে হইনি। খুব সাবধানে উনার কোলে দেই প্রিয়ন্তি কে। কিন্তু বুঝতে পারি
বুকটা মুচড়ে উঠছে।
তিনদিন কেটে গেছে। আজ অনিন্দিতা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরবে। এ কদিন আমি ছুটি নিয়ে হাসপাতালেই থেকেছি।
অনিন্দিতার পাশে চেয়ারে বসে রাত কাটিয়েছি।
প্রিয়ন্তির জন্য ফিডার ভরেছি। ন্যাপি বদলেছি।
অনিন্দিতা চেয়ে চেয়ে শুধু দেখে কিছু বলেনা।

রিফাতের সামনে হয়তো লজ্জা পায়। রিফাত হরবর করে বলে। নতুন চাকরি পেয়ে কিভাবে চিটাগাং যেতে হয়েছিলো। আর কতো বিজি ছিলো। আমার বলার কিছু থাকেনা। কোনকালে ছিলোওনা।
রিফাত বাচ্চার জন্য হাসপাতালেই কিনে এনেছে দামি দোলনা। দামি দামি ব্যাবহারের জিনিস।
অনিন্দিতার জন্য দামি শাড়ি। নার্স ওগুলো রেখে আমার সস্তা অয়েল ক্লথ আর তোয়ালে দিয়েই বাচ্চা মুড়ে রাখছে। এগুলোতে নাকি ওম বেশি।
আজ ডাঃ এর কাছ থেকে ফাইনাল প্রেসক্রিপশন নিয়ে ছুটি করিয়ে নিলাম মা মেয়ের। বাচ্চাকে রিফাত খুব ভাল একটা চাইল্ড স্পেশালিষ্ট দেখাতে চায়। ডাঃ বলে - ও খুব ম্যাচিউরড বেবি।
ওকে আলাদা ডাঃ দেখানোর প্রয়োজন নেই।
অনিন্দিতা বিছানা থেকে নামলো। বাচ্চা আমার কোলে। রিফাত ওকে সাহায্য করলো নামতে।
পায়ে স্লিপার গলিয়ে ও সোজা আমার সামনে দাঁড়িয়ে বললো- চলুন বাসায় যাই।
রাজ্যের বিস্ময় আমার চোখে! - হ্যা আমি আপনার সাথেই যাবো। বলে ও রিফাতের দিকে তীব্র দৃষ্টিতে তাকায়। সে চোখে আমি অভিমানের বদলে ঘৃণা দেখতে পাই। - প্রিয়ন্তি যখন পৃথিবীতে আসবে বলে জানান দিয়েছিলো। তখন এই মানুষটা পালিয়ে গিয়েছিলো। আজ বাচ্চার জন্য একটা দামি দোলনা এনেই সে দাবি করছে সে প্রিয়তার বাবা?
আর এইযে আট টি মাস আপনি প্রতি মুহূর্তে তিলতিল করে প্রিয়ন্তীকে এই ভালবাসার জগৎ এ আনতে আমাকে অভয় দিলেন। হাত বাড়িয়ে সব বিপদ উড়িয়ে দিলেন। তখন কই ছিলো উনি।
কথাগুলো ছুড়ে দিয়ে ও আমার সাথে রিক্সায় ওঠে। পিছনে পড়ে থাকে রিফাত আর ওর দামি খেলনায় ভরা গাড়ি।
আমাদের রিক্সা এগিয়ে চলেছে। আমাদের ছোট্ট ঘরটির দিকে। সেখানে দামি দোলনা না থাকুক।
আমার সবল দুটি হাত আছে। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করি। আমার প্রিন্সেস এর জন্য আমার এই দুটো হাত সারাজীবন ভালবাসার আদরের দোলনা হয়ে থাকবে। আমার পাশে আছে অনিন্দিতার মতো সাহসী একটি মা। আমার প্রিয়ন্তির জন্য
এর চে বেশি দামি কিছু চাই কি...!!


 বাংলা গল্প অনিন্দিতা 

Adrita Mehzabin

Keywords


  • bangla goenda golpo pdf
  • bangla choto hasir golpo
  • bangla rahasya golpo pdf free download
  • bangla bhoutik golpo free download
  • bangla golpo online reading
  • bangla goenda golpo
  • bangla vuter golpo pdf download
  • vuter golpo pdf free download
SHARE

Author: verified_user