Thursday

Bangla Hasir Golpo In Bangla | বাংলা গল্প | লুকোচুরি ভালবাসা | লেখা: বৃষ্টি রহমান

SHARE

 Bangla Hasir Golpo In Bangla | বাংলা গল্প | লুকোচুরি ভালবাসা | লেখা: বৃষ্টি রহমান



সিমু ১০ মিনিট যাবত রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করছে,তবুও কারো খোঁজ নেই। 
বাংলা গল্প  আজ সে এখানে কারণ সে আজ তার পরিবারের পছন্দ করা ছেলের সাথে দেখা করতে এসেছে।আজ তার মতলব যে করেই হোক বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়া।কারণ সে কেবল অনার্স ১ম বর্ষে পড়ে।তার ইচ্ছে আরো ২ বছর পর বিয়ে করবে। কারণ তার কোন বান্ধবির এখনও বিয়ে হয়নি এবং সে যদি এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করে তাহলে নাকি সে বুড়ি হয়ে যাবে। কিন্তু তার বাড়িতে না করেও কোন লাভ হয়নি।ছেলে নাকি অনেক ভাল বাংলা গল্প
ছেলেটার নাম শিহাব রহমান। কিছুদিন হলো ব্যাংকে জব পেয়েছে,,এখনও জয়েন করেনি।
শিহাব হলো সিমুর আম্মুর কলিগ নিঝুমের ছোট ভাই। নিঝুমই এগুলোর মূলে। বাংলা গল্প আর যবে থেকে সিমু শুনেছে যে নিঝুম তার ছোট ভাইয়ের সাথে তার বিয়ে দিতে চাচ্ছে,,,,তখন থেকে সে নিঝুকে নিঝুম আন্টি বলে ডাকা শুরু করেছে😜😜😜এই মুহূর্তে সে বিয়ে ভাঙ্গার সব প্লান করে বসে আছে।শুধু শিহাবের আসার অপেক্ষা।কিন্তু সে লেট।এই জন্য সিমুর খুব রাগ হচ্ছে,,বিয়ে না হয়তেই এই অবস্থা,,বিয়ে হলে তো ওয়েট করতে করতে শেষ হয়ে যাবে।যে করেই হোক একে বিয়ে করা যাবেনা।
এর মাঝে শিহাবের আগমন....
Bangla Hasir Golpo In Bangla | বাংলা গল্প | লুকোচুরি ভালবাসা | লেখা: বৃষ্টি রহমান
                                                      Image Credit : Shuvo Photography



-সরি সরি, আপনাকে এতোক্ষণ অপেক্ষা করানোর জন্য আমি দুঃখিত। আপনিতো সিমু তাইনা,,,,আমি শিহাব।
-আপনার ফাস্ট ইমপ্রেশনই জিরো।
- হা হা হা। আশা করি শেষ পর্যন্ত জিরো থাকবে না।
-নিজের উপর এতো কনফিডেন্ট?
-না থাকার কি আছে।আমি ওতোটাও খারাপ না যে ইমপ্রেশন জিরোই থাকবে।একটু তো উন্নতি হওয়াই উচিত।
-হু,,ভাল।

লুকোচুরি ভালবাসা




- তো কি খাবেন বলুন?
- আগে আইচক্রিম তারপর কফি।
- ঠান্ডা গরম একসাথে???
- না খাওয়াতে চাইলে জিঙ্গেস করলেন কেন??😡😡
- রেগে যাচ্ছেন কেন,,আমি এমনে জিঙ্গসা করছি।
- একে তো দেরি করে আসছেন, তারপর খাওয়াতেও চাচ্ছেনা আবার বলেন রেগে যাচ্ছেন কেন???
- আচ্ছা আচ্ছা। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি অর্ডার করছি।
সিমু ভাবছে এতো রেগে কথা বলছে তাও কিছু বলছে কেন? দেরি করে আসছে সেই জন্য মনে হয়,,,
- আপনি আমাকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন কেন?
- আমার পরিবারের সবার আপনাকে পছন্দ আর আমারও আপনাকে মন্দ লাগেনি।
- কিন্তু আমার আপনাকে পছন্দ হয়নি।
- তাহলে এখানে এসেছেন কেন?
-আপনি নাকি ভালো ছেলে,আপনি নাকি আমাকে সুখে রাখবেন তাই আমার কথার কেউ পাত্তা দেয়নি।
- ঠিকই তো বলেছে।আপনি আমাকে সুযোগ দিলে আমি এটা প্রমাণ করতে পারি।
- কিন্তু আমার আপনাকে পছন্দ হয়নি।আপনি আমার চেয়ে অনেক বড়।
- শুনেছি বর বউের থেকে বয়সে একটু বড় হলে নাকি তাদের মাঝে ভালবাসা বেশি থাকে।
সিমু ভাবছে এতো দেখি সব উওর মনে হয় রেডি করে রেখেছে। না এরকম করে হবে না...
- কিন্তু আপনি তো আমার থেকে ৭ বছরের বড়। তার মানে আপনি তো বুড়া।
বুড়া কথাটি শুনে শিহাব চুপ করে রইল।সিমু মনে মনে খুশি হচ্ছে আর ভাবছে,,,এই ঔষুধে কাজ হয়েছে
সিমুর কথা শুনে শিহাব চুপ করে থাকার পর হঠাৎ হো হো করে হেসে উটলো...
সিমু ভাবছে,,,,বুড়া বলছি দেখে এর কি মাথা খারাপ হলো নাকি।এতো হাসছে কেন??
-পাগল হয়ে গেলেন নাকি,এতো হাসির কি হলো?
- না আগে কেউ এতো মিষ্টি করে আমাকে বুড়া বলেনিতো তাই...
- তাই হাসবেন?

 বাংলা গল্প



Related PostHumayun Ahmed's Book 


- হু। যদি আপনার সাথে আমার বিয়ে হয় তাহলে কিন্তু আপনি এই বুড়ার বুড়ি হবেন।
- কি আমাকে বুড়ি বলছেন😡😡
এই জন্যইতো আপনাকে বিয়ে করতে চাচ্ছিনা।আমি এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চাচ্ছি না।আপনি এখন বিয়েটা ভেঙ্গে দেন প্লিজ...
-আমার তো আপনাকে নিয়ে কোন সমস্যা নেয়,তাহলে আমি তো না করবো না।আপনি বাড়িতে বলেন যে আপনি এই বুড়াকে বিয়ে করবেন না।
- এটাই তো সমস্যা আমার বাড়িতে আপনাকে কেউ বুড়া ভাবে না। আর আমি না করতে পারলে কি আপনা আর আপনাকে বলি???
- আমি তো না করছি না। আমি তো আপনাকেই এই বুড়ার বুড়ি বানাতে চাই।
- জোর করে বানাবেন নাকি?
- জোর করলাম কই? আমি তো বলছি আপনি আপনার বাড়ি গিয়ে বলেন যে আপনি আমাকে বিয়ে করবেন না।
সিমু ভাবছে এই তো খুব নাছোর বান্দা,,,,না এরকম করে হবে না,,এখন ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করতেই হবে....
- দেখুন আমি বাড়িতে না ও করতে পারবো না,,আবার আপনাকে বিয়েও করতে পারবোনা।
- কেন?
- কারণ আমি অন্য কাউকে ভালবাসি।
- তাহলে তার কথা আপনার বাড়ির লোককে কেন বলেনি?
- এই মুহূর্তে আমাদের সম্পর্কে কেউ মেনে নেবে না। আমরা একসাথে পড়ি। ওই তো এখন কিছু করেও না,,,সেই জন্য বাড়িতে বলতে পারছি না।
- এই জন্যই আমার আমার মত বুড়ার সাথে প্রেম করলে এরকম সমস্যা হতো না।
- কি!!😡😡😡
-না না কিছু না। তো আপনার প্রিয়তমর নাম কি? কোথায় থাকে? কবে থেকে সম্পর্ক আপনাদের???
সিমু ভাবছে এই রে,,,,আমি তো এতো কিছু ভেবে আসিনি। এখনতো সব বানাতে হবে।
- কি হলো? সব কিছু বানাতে কি একটু সময় লাগবে?
সিমু ভাবছে,,এইরে এ তো দেখি বুঝতে পারছে...না একে বুঝতে দেওয়া যাবে না।
- বানাবো মানে??আপনার কি মনে হয় আমি মিথ্যা কথা বলছি?
- না।প্রিয় মানুষের নাম বলতে তো এতো সময় লাগে না,,,
- সময় লাগবে কেন,,ওর নাম রিফাত।আমাদের সম্পর্ক এক বছরের বেশি হবে।
- কই থাকে? বাবা মা কি করে?
- আপনাকে এতো কিছু কেন বলবো। যতটুকু আপনার জানার ততটুকু আমি আপনাকে বলছি।আপনি এখন না করে দেন।
- আমি তো বলেছি সিমু আমি না করবো না।
- এতো কিছু জানানোর পরও না করবেন না!! কেন??
- দেখ আমি না করলেও অন্য কারো সাথে তোমার বিয়ে ঠিকই হবে।কারণ তোমার প্রিয়তম কেবল ১ম বর্ষে পড়ে সে কোন মতেই তোমাকে বিয়ে করবে না। আর তোমার পরিবার তোমাকে এতোদিন বসিয়ে রাখবে না। তার চেয়ে ভাল তুমি আমাকেই বিয়ে কর।
- আপনার কি মাথায় সমস্যা আছে??আর ওই আমাকে অবশ্যই বিয়ে করবে...
শিহাব কিছু বলতে যাবে,,,এরই মাঝে তুনুর আগমণ।সে সিমুর বান্ধবি।ওই একই রেস্টুরেন্টে প্রেম করতে এসেছে।সে সিমুর বিয়ে ব্যাপারে কোন আবগত নয়। সে অবাক ও রাগী লুক নিয়ে সিমুকে...
-সিমু তুই? তুই এখানে কেন? আর ওনি কে? তুই কি প্রেম করছিস? তুই প্রেম করছিস আর আমাকে বলিসনি?
- আরে তুনু তুই ভুল ভাবছিস,,,এরকম কিছু না।
এর মাঝে শিহাবের মাথায় শয়তানি বুদ্ধি আসলো।
- সিমু ইনি কে? তুমি তোমার অনেক বান্ধবির কথায় বলেছো।এনাকে তো ঠিক চিনলাম না।
সিমু শিহাবের কথা শুনে পুরাই অবাক,,,সে ভাবছে,,কি বলছে এই লোকটা??
- কি? সিমু তুই আমার সাথে এরকম করতে পারলি? আমি তোর সেই কত ছোট কালের ফেন্ড আর তুই আমাকো বলিসনি? তোমার কলিজার টুকরা তিথিকে তো ঠিকই বলছো নিশ্চয়।
- তিথির সাথে সেইদিনই আড্ডা দিলাম।আর সে তো আমাদের রিলেশনে অনেক হেল্পও করছে। তাই না সিমু।
সিমু মনে হচ্ছে রাগে ফেটে যাবে
- আপনি চুপ করবেন।😡😡
আর তুনু শোন তুই যা ভাবছিস সেরকম কিছুনা
- কি রকম সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি। তুই নাকি প্রেম করবি না। প্রেম তোর দ্বারা হবে না। আর এখন ঠিকই তো করছিস। আর তোর সাথে সাথে আমার ৪ দিন আগে দেখা হয়ছে।তখনও তো প্রেম কবরো না লেকচার দিলা,,,আর এদিকে তলে তলে এই....
সিমু আর তার রাগ ধরে রাখতে পারলো না,,,সে ভাবছে বিয়ে ভাঙ্গার সব প্লান এই তুনু মেয়েটা এসে শেষ করে দিল।সে শিহাবের দিকে তাকিয়ে দেখে শিহাব মুচকি মুচকি হাসছে।এটা দেখে সিমুর রাগ আরো বেড়ে গেল।সে ঠাস করে তুনু একটা চর মারলো...
- শয়তান ছুরি। তুই আমার সাথে আর কোনদিন কথা বলবি না,,,
এই বলে সিমু ওইখান থেকে চলে আসে,,,পিছনে তাকায়ে দেখে শিহাব হো হো করে হাসছে আর সিমু সিমু করে ডাকছে।সিমু কোন কথা না শুনে ওইখান থেকে চলে আসে....


শিহাব বাসায় ফিরলে নিঝুম আপু জিঙ্গেস করলো কি হলো সিমুর সাথে,,,
- আমার নাতি নাতনিদের আমাদের প্রথম দেখার কাহিনী শুনিয়ে মজা পাব।
- নাতি নাতনিতে চলে গিয়েছিস?? সিমু কি তোকে এতো দূর যেতে দিয়েছে??
- হা হা হা। তাহলে কাহিনীটা শুনো,,,
পুরো ব্যাপার নিঝুম আপু শুনে তো তার হাসি থামাতেই পারছে না।
- কি দুষ্টু মেয়ে রে। যেইদিন তোর সাথে ওর বিয়ের কথা হইছে,,,ওইদিন থেকে আমাকে আন্টি ডাকা শুরু করছে। অবশ্য তোর জন্য ওর মতোই দরকার
- ওই ভাবে কেন বলছিস? ওই অতোটাও দুষ্টু না।
- উলে বাবলে,,,এখনই তো দেখি ভালবাসা উতলে পরতেছে....
শোন ওকেই কিন্তু তোর বুড়ি বানাতে হবে। আমি ওর মুখ থেকে নিঝুম আপু ডাক শুনতে চায়,,,
- ইনশাল্লাহ নিঝুম আপু,,
- আর তুই ওকে কেন বলিসনি যে তুই আরো কিছুদিন পর বিয়ে করতে চাস। এখনও তো জবে জয়েনি করিসনি,,,সব গোছায়ে নিতেই তো অনেকদিন চলে যাবে,,,,
- বললে তো আর আমাদের প্রেমটা জমবে না। বুঝোনা কেন নিঝুম আন্টি😜😜
- ওই শয়তান থাপ্পর খাবি কিন্তু বোনকে আন্টি বলিস,,,,
- তাহলে তুমি আন্টির মত কথা বল কেন,,
- হু,,হয়েছে হয়েছে,,,এখন যা,,,
সিমু বাসায় এসে দেখে আব্বু আম্মু ওর জন্য আপেক্ষা করছে,,,ছেলেকে কেমন লাগলো জানার জন্য,,,,
- কিরে মা,,,এতো তাড়াতাড়ি চলে এলি যে? ছেলেকে পছন্দ হয়নি? ( আব্বু)
- ওইটা ছেলে?? আস্ত একটা বান্দর...কতো বুড়া দেখছো?
- আমি জানতাম ওই এই কথা গুলোই বলবে,,,,ছেলেটা কে নিশ্চয় খুব খারাপ কথা বলছে। ছেলেটা কিযে ভাবে আল্লাহ ই জানে...(আম্মু)
- ও আমার কথাই কোন যায় আসেনা তাই না। এখনই ওই ছেলের প্রতি দরদ???
- ছেলেটা তো ভালই আম্মু,,,(আব্বু)
- আব্বু তুমিও থাকো তোমরা ওই ছেলেকে নিয়ে,,,আমি গেলাম,,,
সিমু ওইখান থেকে চলে আসে আর ভাবে,,,ওই বদ ছেলেটা যে কি যাদু করছে,,আব্বু আম্মু ওর ভক্ত হয়ে গেলো। আর আজ তুনু শয়তানটার জন্য ওই তো জেনে গেলো আমি প্রেম করিনা। এখন আর বিয়ে ভাঙ্গাও হলো না। কিন্তু আমি এখন বিয়ে করবোই না। আর ওই বদ ছেলেকে তো না ই। ইচ্ছে করে তুনুর সাথে ওই রকম করলো। ইচ্ছে করছিল মেরে পা ভেঙ্গে দেয়।
এর মাঝে তিথি ফোন দিচ্ছে। এতোক্ষণে তুনু সব বলেছে তিথিকে সেই জন্যই ফোন দিচ্ছে। সিমু ফোন কেটে দিয়ে অফ করে ঘুমিয়ে পরে কারণ এখন আবার ওই বদ বুড়ার পেচাল পারতে তার একটুও ইচ্ছে করছিলো না...

লেখা: বৃষ্টি রহমান
সিমুর আম্মুর অফিসের কলিগের বিয়ে,,,সিমুদের বাড়ির সবাইকে দাওয়াত করেছে,,,সিমু নীল রং এর সুন্দর একটা ড্রেস পরেছে,,,সাজছে আর ভাবছে,,
ওই বদ বুড়াটাও নিশ্চয় আসবে,,,একটু ভালো করে সাজি,,,
কিন্তু আমি ওর জন্য কেন সাজবো!! না সিমু মাথা থেকে এগুলা চিন্তা বাদ দাও,,,তুমি তোমার জন্য সাজছো,,,ওকে,,,
শিহাব অনেকক্ষণ যাবত সিমুর জন্য অপেক্ষা করছে,,,তার বিয়ের অনুষ্টান খুব একটা ভালো লাগেনা,,,তবুও আজ সে নিঝুম আপুর সাথে এখানে এসেছে সিমুকে দেখার জন্য,,,ওর সাথে কিছু সময় কাটানোর জন্য।
একটু পর দেখে সিমু ওর আম্মুর সাথে এসেছে,,,শিহাব আড়াল থেকে সিমুকে দেখছে,,,কি মিষ্টি লাগছে ওকে আর নীল রং টা অনেক মানিয়েছে,,,
সিমু ভাবছে এতোক্ষণ হলো আসছি আর ওই বদ বুড়ার কোন খোঁজই নাই। সবসময় লেট করে,,,,সিমু এগুলো ভাবছে,,,আর এদিক ওদিক দেখছে....
- কি গো বুড়ি বউ,,,আমাকে খুঁজছো?
- মোটেও না।
- আচ্ছা,,,স্বীকার করলে কি তোমার বয়স কমে যাবে?
- না। আর আমাকে ওই বউ টউ বলে ডাকবেন না।
- টউ তো বললোই না। আমার এতো সাধের বউকে কোন দুঃখে টউ বলতে যাবো।
- আপনি আসলেই খারাপ,,সবসময় আমার সাথে ঝগড়া করেন। কখনো ভালভাবে কথা বলেন না, এমন কথা বলেন যা শুনলে আমি রেগে যায়।
- তাহলে কি এটা বলবো,,,যে তোমারকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে, কারণ তুমি আজ আমার জন্য সেজেছো।
সিমু ভাবছে,,,,এই বদ বুড়াটা যে কি করে সব বুঝে যায় কে জানে,,,
- আমার আর কোন কাজ নেই যে আমি আপনার জন্য সাজবো।
এর মাঝে,,,সিমুকে কে যেন ডাকলো,,,
- সরেন,,,আমাকে ডাকছে,,,
- আমি তো তোমাকে কখনো আটকে রাখিনি,,,
আর শুনো,,,সবসময় মনের কথাগুলো লুকাতে নেই....
সিমু মনে মনে হাসছে আর ভাবছে,,,এই বদ বুড়াটা কেমন যেন,,,,আমি কিছু বলার আগেই মনের সব কথা বুঝতে পারে।
সিমু দেখে বিথি আপু ওকে ডাকছে। বিথি সিমুর আম্মুর আর এক কলিগের মেয়ে,,,গত বছর বিয়ে হয়েছে,,,সিমুর সাথে অনেক ভাল মিল আর অসম্ভব সুন্দর একটা মেয়ে,,,
সিমু বিথিকে দেখে অবাক শরীরের অবস্থা খুব খারাপ। চোখের নিচে কালো হয়ে গেছে...
- বিথি আপু তুমি কেমন আছো? আর তোমার কেন এই অবস্থা?
- কি আর অবস্থা দেখবি। বিয়ে হলে তুইও এরকম হয়ে যাবি।
- কি যে বল। তোমার বাবু কই? আর সবে বিয়ে হয়েছে,,,এতো তাড়াতাড়ি বেবি নিলে?
- স্বামি শশুড় বাড়ির ইচ্ছা,,নাতি নাতনির মুখ দেখবে। কি করার বল।
- তোমার ইচ্ছার কোন মূল্য নেই?
- বিয়ের পর আর আমাদের কোন ইচ্ছা থাকে না। তোর ভাইয়া তো আমার চেয়ে বসয়ে অনেক বড় তাই বিয়ে করতে চাইছিলাম না,কিন্তু ওর সাথে মেলামেশা করার পর মনে হয়েছে লোকটা ভাল। আসলেও ভাল কিন্তু আমায় একটু কম বুঝে,,,
- ওহ ( সিমু তখন ওর আর শিহাবের কথা ভাবতেছিল,,যে শিহাবও তো এরকম,,ওই ও তো বিয়ের পর আমার সাথে বিথি আপুর মতো করবে)
- কিরে,,,
শুনলাম তোরও নাকি বিয়ে সাদি মোটামুটি ঠিক। তো তোর বর কই।
- কই কিছুই ঠিক হয়নি।
এরই মাঝে সিমুর মা এসে হাজির,,,
- বিথি,,তোমার বাবুটা কিন্তু অনেক সুন্দর হয়েছে। ( মা)
- ধন্যবাদ আন্টি। তো সিমুর বিয়ের কি খবর?
- ওহ তোমাকে তো শিহাবের সাথে পরিচয় করায়ে দেয়নি।
শিহাব শিহাব,,, এদিকে একটু এসো বাবা,,
- জি আন্টি
- বিথি এই শিহাব,,,,এর সাথে সিমুর বিয়ে ঠিক করছি।
- বাহ্ দেখতে তো বেশ। কি রে সিমু তুই যে বললি,,,ঠিক হয়নি?
সিমু এর মাঝে রাগে বলে উটলো...
- ঠিকই তো বলেছি। আমাকে না বলেই বিয়ে ঠিক করছে। আমি কে যে আমার মতামত নিবে। মনে হচ্ছে মেয়ে এখন বোঝা।
সিমুর কথা শুনে,,,সিমুর মা রাগে সিমুকে মারতে গিয়ে,,সবার সামনে আর মারলো না....
- দিন দিন তুই ব্যাদব হয়ে যাচ্ছিস। সবার সামনে,,যা না তাই বলছিস। আর তুইও তো শিহাবের সাথে এখনো যোগাযোগ রাখছিস। আমরা জানি তোরা দুইজন দুইজনকে পছন্দ করিস....
সিমু কাদঁতে কাদঁতে,,,তোমরা ভূল জানো বলে চলো যায়.....
শিহাব সিমুর আচরণ দেখে কিছুটা অবাক,,,এখনি তো ভাল ছিল এখন আবার কি হলো....
শিহাব সিমুকে খুজঁতে যায়,,,দেখে সিমু এক কোণায় একা একা কাদঁছে। সিমুর কান্না দেখে শিহাবের খুব খারাপ লাগে।
- সিমু কি হয়েছে তোমার? তুমি কাদঁছো কেন?
- আমার আমি কাদঁবো। তাতে আপনার কি? আপনার খুশি হওয়ার কথা, আপনার চাওয়া পূরণ হচ্ছে,,,অবশেষে আমাকে বিয়ে করছেন।
- কিন্তু তুৃমি কাদঁলে যে আমার ভাল লাগে না। তুমি কেন কাদঁছো?
- আপনার জন্য আমি কাদঁছি। আপনি যবে থেকে আমার লাইফে এসেছেন,,সবে থেকে আমার সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে।
- আমার জন্য তোমার চোখে জল!!!
এটা হতে পারে না। বলো কি করলে তোমার লাইফে আবার শান্তি ফিরে আসবে???
- শুধু আপনি চলে গেলে। আপনাকে আমার আর সহ্য হয় না। আপনার মুখ দেখতে আমার ভালো লাগছে না।
সিমুর কান্নাজড়িত কন্ঠে এই কথাগুলো শুনে শিহাবের বুকটা কষ্টে ফেটে যাবে মনে হচ্ছিল। কারণ এই কয়দিনে ওর বুড়িটাকে যে সে বড্ড বেশি ভালবেসে ফেলেছিল। আর তার মনে হয়েছিল সিমুও তাকে ভালবাসে, না বাসলেও পছন্দ করে। কিন্তু আজ সিমুর কথা শুনে তার চোখের কোণে জল.....


সিমু সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়। তারপর ফোনটা অন করে। সারারাত অফ ছিল অনেকে হয়তো ফোন দিয়েছে,,তাছাড়া ক্লাসও আছে আজ। তিথি মনে হয় রেগে আছে ওকে ফোন দিতে হবে,,,,এগুলো ভাবতে ভাবতে,,,একটা অননোন নাম্বার থেকে কল আসলো,,,,
- হলো? কে বলছেন?
- আমার ওপর রাগ করে ফোন অফ করছিলে??
- মানে? কে আপনি? আর এসব কি বলছেন?
- এতো তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়ার মানুষ তো আমি না। আমি তোমার সারাজীবন মনে রাখার মানুষ। আমি তোমার বুড়া আর তুমি আমার বুড়ি,,😜😜😜
সিমু ভাবছে,,,এই বদ বুড়াটা তাহলে এটা। শয়তান বলে কি,,,সাহস তো কম না এর😡😡😡
- আপনার সাহস তো কম না আপনি আমাকে ফোন দিয়েছেন??? আর আপনি আমাকে তুৃমি তুমি করে বলছেন কেন? আমি কি আপনাকে আমাকে তুমি করো ডাকার পারমিশন দিছি?? আর আমার নাম্বারই বা আপনি কই পায়ছেন??
- আমার বুড়িটার দেখি অনেক রাগ।
- ওই আপনার বুড়ি মানে কি হ্যাঁ😡😡
বেশি বাড়াবাড়ি করলে কিন্তু.....
- কি? আমাকে ভালবাসবা😊😊
- আপনি দেখি খুবই খারাপ মানুষ। যাই হোক আপনি আমাকে আর ফোন দিবেন না,,বুজলেন।
- তোমার সাথে কথা না বললে যে এখন আর আমার ভাল লাগেনা। তাই আমি তো তোমাকে কল করবোই।
সিমু আর রাগ সামলাতে পারলো না,,,
- ওই তোর সমস্যা কি হ্যাঁ??? বলছি ফোন দিবি না তো দিবি না। বেশি তেরেবেরি করলে কিন্তু খুন করে ফেলে দিব,,,
কথাগুলো বলে সিমু ফোন রেখে দিল,,
এদিকে শিহাব হাসছে আর ভাবছে,,,বুড়িটা অনেক খেপেছে সেই জন্য তুই করে বলেছে,,,ওর মুখে তুই শুনতে ভালই লাগলো,,
,মেয়েটা একটুতেই রেগে যায় আর শিহাব সেজন্য ইচ্ছে করেই মেয়েটাকে রাগায়,,,
এদিকে,,,সিমুর খুবই রাগ হচ্ছে,,,সকালটাই খারাপ করে দিল বদ বুড়াটা,,,
সে সকালের নাস্তা করে সোজা কলেজে চলে যায়,,,
কলেজে গিয়ে তুনু আর তিথিকে খুঁজতে থাকা,,ওরা সিমুকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যেতে লাগলে,,,সিমু ওদের ডাকে,,
- আমরা তোর সাথে কোন কথা বলতে চাইনা। তুই যা এখান থেকে (তিথি)
- প্লিজ দোস্ত,,,আমার কথাটা একবার শোন।
- কি কথা বলবি তুই হ্যাঁ। আমি ভাবছিলাম তুই তিথিকে অন্তত বলবি,কিন্তু তুইতো ওকেও বলিসনি আর নিজের বিএফকে দিয়ে মিথ্যা বলাইলি যে তিথি সব জানে।(তুনু)
- ওই আমার কেউ না। এখন আমার কথা শোন,,
তারপর সিমু ওদের সব কথা খুলে বলে,,,ওরা শুনে তো সেই হাসি হাসলো,,আর সিমু রাগে,,
- আমার এখানে অবস্থা খারাপ আর তোরা হাসতেছিস,,
- আসলে আজ পর্যন্ত তুই সবাইকে প্যারা দিয়ে এসেছিস,,,এখন তোকে কেউ প্যারা দিচ্ছে তাও আবার হইলে ও হইতে পারে হুবু জামাই,,,উফ...পুরাই জমে ক্ষীর...(তিথি)
- তুই আজ পর্যন্ত আমাদের জ্বালিয়েছিস এখন কেউ তোকে জ্বালাচ্ছে লেগ পুলিং করছে,,,সেই দোস্ত সেই...তুই ওই বুড়ার ই বুড়ি হো...দুইজন খুব ভাল জমবে...
(তুনু)
- আমি তোদের আমার সমস্যার কথা বলছি আর তোরা মজা নিচ্চিস। তোদের মত ফেন্ড থাকার চেয়ে না থাকা ভাল,,,আমি গেলাম
- আরে শোন শোন,,,সব সময় ওতো রাগিস কেন? আচ্ছা আমরা বলছি কি করতে হবে। (তুনু?
- সকালের পর কি ওই বুড়া আর ফোন দিছে?
( তিথি)
- না। আমি যে ভাবে কথা বলছি মনে হয়না আর দিবে।
- ব্যাস তাহলে তো মিটেয় গেলো। (তুনু)
- আর যদিও বা দেয় তুই এক কাজ কর তুই ওর সাথে দেখা করতে চা। (তিথি)
- কি!!! তোরা আমাকে ওই বুড়ার সাথে আবার দেখা করতে বলছিস??😡😡😡
- আরে আগে পুরা কথা শোন। তুই ওকে কোন পার্কে ডাকবি সেখানে আমরাও যাবো। তুই ওকে আগে বলবি না যে আমরা যাব তোর সাথে। তারপর তিনজন একসাথে মিলে প্যাঁদানি দিবোনি। আমরা তিনজন তো আর কম ছেলেকে শায়েস্তা করিনি। (তিথি)
- সেই প্লান দোস্ত,,,আয় আয় বুকে আয়😆😆😆
- এখনি চলে যেতে লাগছিলি আর এখন বুকে আয়, তাই না। ( তিথি)
- তুই যেভাবে কথা বলছিস তাতে মনে হয় না ওই বুড়া আর ফোন দিবে। ( তুনু)
- ঠিক বলেছিস। বুড়াটা ভয় পায়চ্ছে।
হা হা হা হা
- আমার সাথে বিটলামু করে। ওই তো জানে না আমি কি।
- কিন্তু দোস্ত ছেলেটা কিন্তু তোর টক্করের। (তুনু)
- দেখতে কেমন রে? ( তিথি)
- সেইরকম রে। আমি তো কাল দেখছি। দেখেই তো ক্রাস খাওয়ার মতো অবস্হা। (তুনু)
- আসলেই তুই কেমন জানি তুনু। প্রেম তো ঠিকই করতেছিস। আবার অন্য ছেলের দিকে কেন তাকাস।😞😞😞
- কিরে...ওই না হয় তাকাইচ্ছে তাতে তোর কেন লাগে?😜😜 (তিথি)
- তিথি,,,তুই কি পোড়া পোড়া গন্ধ পাচ্ছিস?
( তুনু)
- আসলেই তোরা খুব খারাপ। তোরা মরে যা। আমি গেলাম ক্লাসে...
ওই দ্বারা দ্বারা আমরাও আসছি.....
এরপর সিমু ক্লাস করে ওর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে যায়....

Bangla Golpo Ebook
বাংলা গল্প | লুকোচুরি ভালবাসা | লেখা: বৃষ্টি রহমান

সিমু রাতে খাবার খেয়ে ঘুমানো প্রস্তুতি নিচ্ছিল,,তখন তার ফোন বেজে উঠলো। সে ফোন হাতে নিয়ে দেখে শিহাব ফোন দিয়েছে।
সে ভাবছে,,,এতো কথা বলার পরও সে আমাকে আবার ফোন দিয়েছে। বদ বুড়াটার সাহসতো কম না। না এখন এর সাথে ভাল করে কথা বলে তিথি তুনুর কথা মত কাজ করতে হবে,,,
- কেমন আছো আমার বুড়ি?
- ভালো,,আপনি?
- আজ বুড়ি বললাম কিন্তু রাগ করলা না তো?
- রাগ করে লাভ কি,, আমি যদি আপনাকে নাও করি ডাকতে তবুও আপনি ডাকবেন।
- তুমি কি আমাকে বারন করেছিলে ডাকতে? একবার বলেই দেখো।
- আমাকে আর বুড়ি বলে ডাকবেন না।
- ওকে বউ। তোমাকে আর বুড়ি বলে ডাকবো না?
- বউ😡😡😡
আপনি আমাকে বউ বলে কেন ডাকছেন,আপনার সাথে কি আমার বিয়ে হইছে???
- আরে রাগ করছো কেন। হয়নি হবে আর তোমাকেই বউ বানাবো😊😊
সিমুর খুবই রাগ হচ্ছে। বউ বানাবো না,,,শখ কতো বাংলা সিনেমার ডায়লগ দিচ্ছে।কিন্তএ এখন রাগ করলে হবে না,,,
- বুড়ি নামটাই বেটার।
- হাহাহাহা
- যখন আপনার সাথেই আমার বিয়ে হবে তখন আমাদের দুইজন দুইজনকে আরো ভাল করে জানা উচিত।
- হুম তা তো অবশ্যই। তো কি করে জানবে?
- কাল আপনি ফ্রি থাকলে আমরা মিট করতে পারি।
শিহাব ভাবছে,,,হঠাৎ করে এর কি হলো এতো ভাল ব্যবহার করছে আবার নিজে থেকে দেখা করতে চাচ্ছে,,,ব্যাপারটা কি?? কোনতো গন্ডগল নিশ্চয় আছে।
- কি হলো?
- না কিছু না। তুমি যখন বলছো অবশ্যই দেখা করবো। বলো কোথায়?
- সেটা আমি আপনাকে কাল ম্যাসেজ করে জানাবো।
- ওকে।
- তাহলে কাল বিকেলে দেখা হচ্ছে।
সিমু ফোনটা রেখে তিথি আর তুনুকে ফোন দিয়ে পুরো ঘটনাটা বলে,,ওরা ও রেডি কাল শিহাবকে শায়েস্তা করার জন্য।
সিমু অনেক খুশি হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
সকালে তিথি আর তুনু সিমুর বাসায় আসে,,,ওরা দুপুর পর্যন্ত প্লান করে কিভাবে কি করবে। তারপর সিমু শিহানকে ম্যাসেজ দিয়ে পার্কে আসতে বলে।
ওরা রেডি হয়ে বেরিয়ে পরে।
ওরা গিয়ে দেখে শিহাব পার্কে বসে আছে।
শিহাব ভাবছে,,,উরে বাবা সিমুতো তার বাহিনী নিয়ে এসেছে,,,তো এই জন্য কাল এতো ভাল করে কথা বললো,,যাতে আজ এরা সবাই মিলে আমাকে প্যাঁদানি দিতে পারে। দাড়াও তোমার বিছানো জালে তোমাকেই ফেলবো।
- কেমন আছেন হুবু দুলাভাই। ( তুনু)
- জি ভাল আছি হুবু শালিগন। আপনার দেখে তো আরো ভাল হয়ে গেলাম।
সিমু ভাবছে,,,হুম দাড়াও একটু পর তোমার কি হয়।
- কিন্তু দুলাভাই আপনি কিন্তু সেদিন ঠিক করেননি। ( তুনু)
- শালিদের সাথে একটু মজা কবরো না তো,, কার সাথে করবো।
তুনু আপনাকে একটা কথা বলি,,,আপনি কি জানেন আপনার চোখ অনেক সুন্দর। আমি নিশ্চিত যে আপনার প্রিয়তম আপনার চোখ দেখেই আপনার প্রেমে পড়েছে।
- হ্যাঁ!! আপনি কিভাবে বুঝলেন। ওই আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থেকেই আমাকে প্রপোজ করেছিল।
শিহাব ভাবছে,,,একটা পটছে,,এখন আর একটার পালা।
- আর আপনি নিশ্চয় তিথি?
- আপনি কিভাবে বুজলেন যে আপনি তিথি?
- আপনার হাসি থেকে আপনার হাসি অনেক সুন্দর।
- হুম। কিন্তু আমি তুনু না যে হাসি সুন্দর বলে আমি পটে যাব।
এতো দেখি স্মাট আছে। এর সাথে অন্যভাবে কথা বলতে হবে।
- আমি আপনাকে কেন পটাতে চাইবো বলুন। যাকে চাই সে তো কথাই বলছে না। আর আপনাকে চিনলাম,,, তুনুকে আগে দেখেছি,, আর তুনুর মুখে শুনেছি আপনি সিমুর সাথে অনেক ক্লোজ,,,তাই যখন আপনারা তিনজন আসছিলেন আমি নিশ্চত ছিলাম যে ওইটা আমি।
- আপনি বুদ্ধিমান।
- তাই।যেহেতু আপনি আমাকে বুদ্ধিমান বললেন,,,তাই আপনাকে বলছি,,,বুদ্ধিমানরা কিন্তু দেখে শুনে কাজ করে আর যাকে ভালবাসে তার ভাল থাকার জন্য সব কিছু করতে পারে,,,
- দুলাভাই আপনি অনেক ভাল।
সিমু তিথির মুখের কথা শুনে অবাক,,,এদের নিয়ে এসেছে শিহাবকে প্যাঁদানি দেওয়ার জন্য আর এরা শিহাবের কথাই পটে গেছে,,,
সিমু তুনু আর তিথিকে আস্তে করে বলছে,,
- তোরা এখানে কেন এসেছিস ভুলিস না।
- এর চেয়ে ভাল ছেলে পাবি না বিয়ে করে ভেল।
শিহাব দেখছে,,,সিমুর মুখটা কেমন যেন হয়ে গেছে,,বেচারির প্লানটা নষ্ট হয়ে গেলো,,
- এই যে শলিরা এখানে আর কতোক্ষণ চলেন আপনাদের কিছু খাওয়াই
- দুলাভাই আপনি আমাদের তুমি করে বলবেন। আমরা আপনার শালি না। ( তুনু)
- আজ আর না। অন্য একদিন। ( তিথি)
- সে আবার কেমন কথা। চলো কিছু খাও। সিমু বলো কি খাবে?
সিমু রাগে চুপ করে ছিল এতোক্ষণ,,,
সে তখন জোরে,,, না খাবো না বলে ওইখান থেকে চলে আসে। আর পিছনে ফিরে দেখে শিহাব হো হো করে হাসছে আর সিমু সিমু বলে ডাকছে।
শিহাবের এই হাসি দেখে সিমুর আরো মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো,,সে তুনু তিথি না নিয়েই ওখান থেকে চলে যায়।
পরে শিহাবও তুনু তিথিকে বিদায় দিয়ে চলে আসে

বাংলা গল্প লুকোচুরি ভালবাসা 

সিমু বাসায় আসার একটু পর শিহাব ফোন দেয়,,
- কি গো আমার বুড়ি সব প্লান কি নষ্ট করে দিলাম?😊😊
- আপনি আসলেই একটা বদ বুড়া।
- হাহাহাহা যেরকমই হই,,অবশেষে কিন্তু তোমার😜😜
- কিসের আমার হ্যাঁ বেশি কথা বললে কিন্তু খুন করে ফেলবো,,
- তুমিই তো খুন করবা,, আর তো কেউ করবে না।
- আপনি আপনি আপনি 😡😡😡
- তোমার বদ বুড়া 😁😁😁
- আপনি জানতেন ওরা ওখানে কেন এসেছিল। সেই জন্য ইচ্ছে করে ওদের পটায়ে আমার বিপক্ষে করছেন, তাই না?
- আচ্ছা তোমার সবসময় কেন মনে হয় তোমার সব প্লান আমি আগে থেকে জানবো? আর আমিতো কিছুই করিনি,,😊😊😊
- করেননি না। বদ বুড়া কোথাকার। খবরদার আর ফোন দিবেন না,,না হলে😡😡
- খুন করে ফেলবে,,,😂😂😂
সিমু রাগে আর কিছু না বলে ফোন রেখে দেয়,,,
এভাবেই চলতে থাকে সিমু আর শিহাবের লুকোচুরি ভালবাসা। দেখতে দেখতো একমাস হয়ে যায়।
শিহাব প্রতিদিন ফোন দিয়ে সিমুকে জ্বালাতোন করে। নানা ভাবে ওকে জ্বালাই। কারণ সিমুকে রাগাতে তার ভাল লাগে😊😊😊
সিমু শিহাবের অত্যাচার থেকে বাচার জন্য কম কিছু করেনি,,,শিহাবের নম্বর ব্লোক লিস্টে দিয়েছিল,,,শিহাব তখন হয় নিঝুম আপু না হয় তার মার ফোন দিয়ে কল করতো। যখন ফোন ধরতো না,,তখন সরাসরি সিমুর মার কাছে কল দিয়ে সিমুকে চাইতো।
অবশেষে সিমু হাল ছেড়েছে,,এখন সে বুঝতে পেরেছে ওই বদ বুড়া ওকে কলই করে ওকে রাগানোর জন্য। সিমু ভাবে যে সে আর রাগ করবে না,,কিন্তু শিহাব এমন কিছু করে যাতে ওর রাগ হবেই।
সিমু এই কয়দিনে লক্ষ্য করেছে,,,শিহাব খুব কেয়ারিং। ঠিক মতো খেয়েছে কিনা,পড়াশুনার খবর আরো নানা ছোট ছোট জিনিসের খেয়াল রাখতো শিহাব। যা সিমুর মনে মনে খুব ভাল লাগতো,,😊😊😊
আর শিহাবের প্রতি সিমুর ধারণা কিছুটা পজিটিভ হয়েছে। এখন তাকে আর আগের মত খারাপ লাগে না। কিন্তু সিমু তা শিহাবকে বুঝতে দেয় না,,সবসময় এমন ভাব করে যেন বিরক্ত হচ্ছে।
মেয়েদের নিজেদের অনুভূতিগুলো লুকানোর একটা অলৌকিক ক্ষমতা আছে। তারা যদি কোন কিছু প্রকাশ করতে না চায় তাহলে তা প্রকাশ করার ক্ষমতা কম মানুষেরই আছে। যা হয়েছে সিমুর সাথে।
মজার ব্যাপার হলো তাদের দুইজনের মোবাইলে দুইজনের নাম। শিহাবের ফোনে সিমুর নাম সেভ করা " আমার বুড়ি" দিয়ে আর সিমুর ফোনে " বদ বুড়া"। আমার সবার কিন্তু নিক নাম দেয় না বা মোবাইলেও সবার নিক নাম দিয়ে সেভ করি না। যারা আমাদের খুব কাছের,আমাদের প্রিয়জন শুধু তাদেরই এরকম নাম দেয়।
শিহাব তো বুঝে গেছে যে,, সিমু তার প্রিয়জন কিন্তু সিমু?সিমু কি বুঝেছে?
সিমুর বুঝতে মনে হয় আর একটু সময় লাগবে।
এইবার গল্পটাতে একটু ট্যাজেডী আনতে হবে😜😜
কষ্ট,আবেগ,বেদনা এগুলো ছাড়া মনে হয় ভালবাসা জমে না বা ভালবাসার গভীরতা বুঝা যায় না। বলেনা কবি হতে হলে কষ্ট পেতে হয়,,তাছাড়া লেখা সম্পূর্ন হয়না। তেমনি এই গল্পেও একটু কষ্ট থাকা দরকার। তাছাড়া ভালবাসার মানুষ থাকার গুরুত্ব বুঝা যায় না,
লেখা: বৃষ্টি রহমান
সিমুর আম্মুর অফিসের কলিগের বিয়ে,,,সিমুদের বাড়ির সবাইকে দাওয়াত করেছে,,,সিমু নীল রং এর সুন্দর একটা ড্রেস পরেছে,,,সাজছে আর ভাবছে,,
ওই বদ বুড়াটাও নিশ্চয় আসবে,,,একটু ভালো করে সাজি,,,
কিন্তু আমি ওর জন্য কেন সাজবো!! না সিমু মাথা থেকে এগুলা চিন্তা বাদ দাও,,,তুমি তোমার জন্য সাজছো,,,ওকে,,,
শিহাব অনেকক্ষণ যাবত সিমুর জন্য অপেক্ষা করছে,,,তার বিয়ের অনুষ্টান খুব একটা ভালো লাগেনা,,,তবুও আজ সে নিঝুম আপুর সাথে এখানে এসেছে সিমুকে দেখার জন্য,,,ওর সাথে কিছু সময় কাটানোর জন্য।
একটু পর দেখে সিমু ওর আম্মুর সাথে এসেছে,,,শিহাব আড়াল থেকে সিমুকে দেখছে,,,কি মিষ্টি লাগছে ওকে আর নীল রং টা অনেক মানিয়েছে,,,
সিমু ভাবছে এতোক্ষণ হলো আসছি আর ওই বদ বুড়ার কোন খোঁজই নাই। সবসময় লেট করে,,,,সিমু এগুলো ভাবছে,,,আর এদিক ওদিক দেখছে....
- কি গো বুড়ি বউ,,,আমাকে খুঁজছো?
- মোটেও না।
- আচ্ছা,,,স্বীকার করলে কি তোমার বয়স কমে যাবে?
- না। আর আমাকে ওই বউ টউ বলে ডাকবেন না।
- টউ তো বললোই না। আমার এতো সাধের বউকে কোন দুঃখে টউ বলতে যাবো।
- আপনি আসলেই খারাপ,,সবসময় আমার সাথে ঝগড়া করেন। কখনো ভালভাবে কথা বলেন না, এমন কথা বলেন যা শুনলে আমি রেগে যায়।
- তাহলে কি এটা বলবো,,,যে তোমারকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে, কারণ তুমি আজ আমার জন্য সেজেছো।
সিমু ভাবছে,,,,এই বদ বুড়াটা যে কি করে সব বুঝে যায় কে জানে,,,
- আমার আর কোন কাজ নেই যে আমি আপনার জন্য সাজবো।
এর মাঝে,,,সিমুকে কে যেন ডাকলো,,,
- সরেন,,,আমাকে ডাকছে,,,
- আমি তো তোমাকে কখনো আটকে রাখিনি,,,
আর শুনো,,,সবসময় মনের কথাগুলো লুকাতে নেই....
সিমু মনে মনে হাসছে আর ভাবছে,,,এই বদ বুড়াটা কেমন যেন,,,,আমি কিছু বলার আগেই মনের সব কথা বুঝতে পারে।
সিমু দেখে বিথি আপু ওকে ডাকছে। বিথি সিমুর আম্মুর আর এক কলিগের মেয়ে,,,গত বছর বিয়ে হয়েছে,,,সিমুর সাথে অনেক ভাল মিল আর অসম্ভব সুন্দর একটা মেয়ে,,,
সিমু বিথিকে দেখে অবাক শরীরের অবস্থা খুব খারাপ। চোখের নিচে কালো হয়ে গেছে...
- বিথি আপু তুমি কেমন আছো? আর তোমার কেন এই অবস্থা?
- কি আর অবস্থা দেখবি। বিয়ে হলে তুইও এরকম হয়ে যাবি।
- কি যে বল। তোমার বাবু কই? আর সবে বিয়ে হয়েছে,,,এতো তাড়াতাড়ি বেবি নিলে?
- স্বামি শশুড় বাড়ির ইচ্ছা,,নাতি নাতনির মুখ দেখবে। কি করার বল।
- তোমার ইচ্ছার কোন মূল্য নেই?
- বিয়ের পর আর আমাদের কোন ইচ্ছা থাকে না। তোর ভাইয়া তো আমার চেয়ে বসয়ে অনেক বড় তাই বিয়ে করতে চাইছিলাম না,কিন্তু ওর সাথে মেলামেশা করার পর মনে হয়েছে লোকটা ভাল। আসলেও ভাল কিন্তু আমায় একটু কম বুঝে,,,
- ওহ ( সিমু তখন ওর আর শিহাবের কথা ভাবতেছিল,,যে শিহাবও তো এরকম,,ওই ও তো বিয়ের পর আমার সাথে বিথি আপুর মতো করবে)
- কিরে,,,
শুনলাম তোরও নাকি বিয়ে সাদি মোটামুটি ঠিক। তো তোর বর কই।
- কই কিছুই ঠিক হয়নি।
এরই মাঝে সিমুর মা এসে হাজির,,,
- বিথি,,তোমার বাবুটা কিন্তু অনেক সুন্দর হয়েছে। ( মা)
- ধন্যবাদ আন্টি। তো সিমুর বিয়ের কি খবর?
- ওহ তোমাকে তো শিহাবের সাথে পরিচয় করায়ে দেয়নি।
শিহাব শিহাব,,, এদিকে একটু এসো বাবা,,
- জি আন্টি
- বিথি এই শিহাব,,,,এর সাথে সিমুর বিয়ে ঠিক করছি।
- বাহ্ দেখতে তো বেশ। কি রে সিমু তুই যে বললি,,,ঠিক হয়নি?
সিমু এর মাঝে রাগে বলে উটলো...
- ঠিকই তো বলেছি। আমাকে না বলেই বিয়ে ঠিক করছে। আমি কে যে আমার মতামত নিবে। মনে হচ্ছে মেয়ে এখন বোঝা।
সিমুর কথা শুনে,,,সিমুর মা রাগে সিমুকে মারতে গিয়ে,,সবার সামনে আর মারলো না....
- দিন দিন তুই ব্যাদব হয়ে যাচ্ছিস। সবার সামনে,,যা না তাই বলছিস। আর তুইও তো শিহাবের সাথে এখনো যোগাযোগ রাখছিস। আমরা জানি তোরা দুইজন দুইজনকে পছন্দ করিস....
সিমু কাদঁতে কাদঁতে,,,তোমরা ভূল জানো বলে চলো যায়.....
শিহাব সিমুর আচরণ দেখে কিছুটা অবাক,,,এখনি তো ভাল ছিল এখন আবার কি হলো....
শিহাব সিমুকে খুজঁতে যায়,,,দেখে সিমু এক কোণায় একা একা কাদঁছে। সিমুর কান্না দেখে শিহাবের খুব খারাপ লাগে।
- সিমু কি হয়েছে তোমার? তুমি কাদঁছো কেন?
- আমার আমি কাদঁবো। তাতে আপনার কি? আপনার খুশি হওয়ার কথা, আপনার চাওয়া পূরণ হচ্ছে,,,অবশেষে আমাকে বিয়ে করছেন।
- কিন্তু তুৃমি কাদঁলে যে আমার ভাল লাগে না। তুমি কেন কাদঁছো?
- আপনার জন্য আমি কাদঁছি। আপনি যবে থেকে আমার লাইফে এসেছেন,,সবে থেকে আমার সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে।
- আমার জন্য তোমার চোখে জল!!! বাংলা গল্প
এটা হতে পারে না। বলো কি করলে তোমার লাইফে আবার শান্তি ফিরে আসবে???
- শুধু আপনি চলে গেলে। আপনাকে আমার আর সহ্য হয় না। আপনার মুখ দেখতে আমার ভালো লাগছে না।
সিমুর কান্নাজড়িত কন্ঠে এই কথাগুলো শুনে শিহাবের বুকটা কষ্টে ফেটে যাবে মনে হচ্ছিল। কারণ এই কয়দিনে ওর বুড়িটাকে যে সে বড্ড বেশি ভালবেসে ফেলেছিল। আর তার মনে হয়েছিল সিমুও তাকে ভালবাসে, না বাসলেও পছন্দ করে। কিন্তু আজ সিমুর কথা শুনে তার চোখের কোণে জল.....


  • bangla soto golpo pdf
  • bangla mojar golpo bangla font





SHARE

Author: verified_user