Sunday

Romantic Golpo সন্ত্রাসীর মেয়ের সাথে প্রেম | Soto Golpo

SHARE

Romantic Golpo সন্ত্রাসীর মেয়ের সাথে প্রেম  | Soto Golpo 


Romantic Golpo সন্ত্রাসীর মেয়ের সাথে প্রেম  | Soto Golpo




সন্ত্রাসীর মেয়ের সাথে প্রেম সেটা ছিলো আমার জীবনের প্রথম প্রাইভেট।আজব হলেও সত্য যে,জীবনের প্রথম প্রাইভেট ছিলো,এক এলাকার নামকরা মাস্তানের বাড়িতে।শুরুতে অনেক জায়গা থেকে প্রাইভেট পড়ানোর অফার আসলেও সবাইকে রিজেক্ট করেছিলাম।কিন্তু এই সন্ত্রাস মহাশয় কে রিজেক্ট করি কিভাবে?অল্প বয়সে মরার ইচ্ছা কারো থাকে কি?


.

Romantic Golpo | Soto Golpo 

আমি হলাম আফতাহী।সবেমাত্র
অনার্সে এডমিট হয়েছিলাম।সর্বোচচ রেজাল্ট নিয়ে কলেজের ইতি ঘটেছিলো।গ্রামের একমাত্র গোল্ডেন,আমার নামে হওয়ায়,এলাকায় তুমুল হৈ চৈ তখন।।।যার সুবাদেই আসতে থাকে,নামি-দামি প্রাইভেট গুলোই।একটু স্পেশালের পাওয়ার আশায়,যে বিপদ টেনে এনেছিলাম,তা ছিলো কল্পনার বাইরে।


সন্ত্রাসীর মেয়ের সাথে প্রেম বাংলা গল্প

আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে,সেদিন ছিল, শনিবার।সত্যি বলতে!শনির কথা কার না মনে থাকে?সেদিনও,দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম।বন্ধুদের সাথে সেদিনের আড্ডার টপিক ছিলো-এলাকার সমস্যা নিরশনের উপায়।তাদের কে বলছিলাম-সেই সম্পর্কেই।
কিন্তু সমাজের একনাম্বার সমস্যা টা যে আমার সামনে আসবে,তা আমার একদমি জানা ছিলোনা।
হঠ্যাৎ,আমাদের সামনে তড়িৎ গতিতে
সন্ত্রাস ভাই এসে,গম্ভীর কন্ঠে প্রশ্ন করলো ......
>>>তোমাদের মধ্যে আফতাহী কে?
সবাই ভয়ে,সালাম দিয়ে আমার দিকে আংগুল দেখিয়ে দিলো।
সন্ত্রাস ভাই কে দেখে আমি কাঁপতে কাঁপতে বলতে থাকি......
না মানে, ইয়ে....
ইয়ে কি!
ইয়ে মানে....আ আ আ আমি আফতাহী।
ও।কালকে বিকালে আমাদের বাড়িতে এসো তো!
স্যার।আমি তো কিছু ক ক করিনি।।।।
আমি কখন বললাম তুমি কিছু করেছো?
সরি স্যার।
এই ছেলে,শুনো,আজকে থেকে নো স্যার। আজকে থেকে শুধু তুমি আমায় ভাইয়া বলে ডাকবে।তোমাকেই প্রথমএই গ্রামের,যাকে আমি ভাইয়া বলার পারমিশন দিলাম।
ওকে স্যার...সরি ভাইয়া।
কেন আসবে কারণ জানতে চাইবেনা?
না ভা,ভা ভাইয়া।আপনার কথা ফেলার
সাধ্যে কার আছে ?
শুনে,খুশি হলাম।তুমি তো জানো
"না" আমার একদমি পছন্দ না।
হুমমম ভাইয়া।
জানলেই ভালো।মূলত,আমার একমাত্র মেয়ে তন্নি।এবার,এসএসসি দিবে।সামনেই পরীক্ষা।আমার মেয়ে টাকে প্রাইভেট পড়াতে হবে।শুনলাম,তুমি নাকি ভালোই রেজাল্ট করেছো।
ও ও ওকে।ভাইয়া।



কালকে থেকে সন্ধ্যার পর প্রাইভেট পড়াতে চলে আসবে।উহ!টাকার কথা বলতে ভূলেই গেলাম।কত নিবে?
 কিসের টাকা?আপনার কাছ থেকে টাকা চাইতে পারি।আর প্রথম প্রাইভেটে,
পড়িয়ে টাকা নিলে,প্রাইভেটের ক্ষ-ক্ষ-ক্ষমতা চলে যাই।
হুমম।বুঝছি।লজ্জা পাচ্ছো তো?লজ্জা কিসের?আমার মেয়ে কে জানিয়ে দিও।
এখন আসি। আমার আবার,আদালত অফিসে যেতে হবে।পুলিশ মারার ক্যাস টার হাজিরা দিতে হবে আজ।
শরীরের কাঁপন টা আরো বাড়িয়ে বললাম--
ও ও ওকে ভাইয়া। বাংলা গল্প


>>>একদম দেরী যেন না হয়।দেরী আমার একদম পছন্দ না।
এই বলে সন্ত্রাস ভাই মানে সম্রাট ভাই চলে গেলেন।
তবে,একটা কথা মানতেই হবে,আজ আমাদের গ্রামের যত চেনা-জানা সবি সম্রাট ভাইয়েরি দান।ওনার কারণেই আমাদের গ্রামের খুব নাম-ডাক। পাশের সকল গ্রামের, সকল মানুষেরা
একমাত্র উনার কারণেই, আমাদের গ্রামের নাম শুনলেই ভয় পাই।
১০ বছর আগে প্রথম তিনি,সামান্য ৬০০টাকার জন্য গ্রামের এক ছেলে কে খুন করেছিলেন।তারপর,খুন করেছিলেন এলাকার এক নেতাকেও।।তার পর থেকে,তাকে আর পিছনে তাকাতেই হয় নি।
তার খুনের কথা সকলেরি জানা থাকলেও,নেই কোনো প্রমাণ,নেই কোনো সাক্ষী।
কিছুদিন আগেও এক পুলিশ কনস্টেবল কে তার কাছ থেকে টাকা ভাগ চাইতেই,স্বীয় পুলিশ কনস্টেবলের বন্দুক নিয়েই,সকলের সামনে খুন করেন ।অথচ,সন্দেহভাজন খুনির তালিকায় তার নাম।
এতক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো,আমার বন্ধুরা।সবাই এক এক করে আমার সামনে থেকে চলে যেতে থাকল।সবাই কে প্রশ্ন করলাম>>>এই তোরা কোথায় যাস,আমাকে একা করে?

>>>বন্ধু,তোকে বাঁচানোর সাধ্যে আমাদের নেই,মেয়েটা থেকে সাবধান...
কথাটা বলতে বলতেই এক এক করে সবাই চলে গেল।আমি শুধু ফ্যালফ্যাল করে,তাদের দিকে তাকিয়েছিলাম।সেদিন বুঝিনি কথাটার
মানে,কিন্তু আজ বুঝেছি।
রাতেই টেনশনে আমার ঘুমটায় হারাম হয়ে গেলো।না জানি,কখন কোন ভেজালেই পড়ে যাই?
.
পরদিন,চলে গেলাম সেই সন্ত্রাসীর বাড়িতে।
ভয়ে হাত পা আমার জমে যাওয়ার উপক্রম।
জীবনে কখনো সন্ত্রাসীর বাড়ি দেখি নি যে!
ঘরটা বেশ সুন্দর।সন্ত্রাস হলেও বেটার মন সুন্দর আছে বলতেই হয়।কথাগুলো ভাবছি,আর ছাত্রীর অপেক্ষা করছি।
কাঁপনটা আমার আবার শুরু হয়ে গেল।
হঠ্যাৎ করেই আমার ছাত্রী ঢুকলো।তাকে দেখেই আমি দাঁড়িয়ে গেলাম।যেনো,আমি ছাত্র।"ও" আমার দিকে নিষ্পাপ ভাবেই তাকিয়ে আছে। ছাত্রী বসার পরো আমার দাঁড়িয়ে থাকা দেখে আমাকে বলল >>>এই যে স্যার।আপনি এখন বসতে পারেন।
আমি বসার পর শুধু ভয়ে ঘামতেই থাকলাম।অনেকক্ষণ ভয়ে মুখ দিয়ে আমার আওয়াজ বের হলোনা।কারণ,আসার সময় আমার এক বন্ধু বলল...আগের স্যার ছাত্রী কে থাপ্পড়ের কথা বলেছিল, আর যার কারণে-এক হাত নিয়ে স্যার কে বাড়ি যেতে হয়েছিল নাকি।
অনেকক্ষণ পর আমাকে চুপ দেখে ছাত্রী বলল >>>>আজ প্রথম?
হুমমম!
>দেখেই বুঝেছি!নাম কি?
আফতাহী।



হা হা হা।পিচ্চি পোলার নাম।আপনি নাম জিজ্ঞাসা করছেন না যে?জানেন না,প্রথমে পরিচিত হতে হয়?
না মানে...আ আ আপনার নাম কি?
তোৎলা নাকি!আর আপনি আমাকে আপনি করে কেন বলছেন?
না।আমি তোৎলা না।এমনি বলছিলাম।শত হলেও,আপনি আমার ছাত্রী।।
হা হা হা।তাহলেই,এখন থেকে আপনি আমাকে আপনি বলেই ডাকবেন।শুনতে ভালোই লাগছে।কি ডাকবেন তো?
>জ্বী।
>তাহলে,আপনি বলে আবার প্রশ্ন করুন!বলতে পারেন প্র্যাকটিস।কই বলেন,বলেন?
>হুমম বলছি।আপনার নামটা দয়া করে বলবেন কি!
>>>>হুমম।আমার নাম তন্নি।আপনি আমায় আদর করে তানু,তনু,তনি, যা ইচ্ছে ডাকতে পারেন।আপনি ঘামছেন নাকি?........
>কই?নাতো?আমি ঘামছি না।আমার জন্মের পর থেকেই আমি এমনি।আমার মুখে ঘাম ঘাম ভাব থাকে।সবাই ভাবে ঘাম,অথচ এগুলা ঘামি না।
>>>ও ও। তাইলে তো ভালোই।আমি তো ভাবলাম।আপনি আমার আব্বুর ভয়ে আছেন।
>>>আরে দূর!আপনার আব্বু?আপনার?
উনি একটা ভয় পাওয়ার জিনিস হলো।সবাই ভয় পেলেও আমি আফতাহী ভয় পাইনা।ওনাকে ভয় পাওয়ার কি আছে,ওনি বাঘ না ভালুক।।
হঠ্যাৎ করেই তন্নির, আমার পিছনে চোখ বড় বড় করে, মৃদু চিৎকারে বলল,এই আব্বু!
আমি শুনেই দরজার দিকে দাঁড়িয়ে দৌড় দেওয়ার উপক্রম হলাম,কিন্তু হাসি শুনে থেমে,
স্ট্যাচু হয়ে রইলাম।
হাসিটা ছিলো তন্নির দুষ্ট-মিষ্টি হাসি...হা হা হা।
হাসি শুনেই বুঝে গেলাম,এটা ছিলো তন্নির নিছক দুষ্টুমি মাত্রই।
বাহ,বাহ!কি ভয়টা না সেদিন পেয়েছিলাম আমি!লজ্জায় আমার করুণ অবস্থা।বুদ্ধি করেই,হাত পা নাড়িয়ে ব্যায়াম করছি, এমন বুঝালাম।কারণ স্যারের লজ্জা তো সমাজেরই লজ্জা, যা মেনে নেওয়া যাইনা।হালকা প্রাইভেট ব্যায়াম করেই বললাম...
>>>উফফ!শরীর টা ব্যাথা ব্যাথা লাগছে তো।তাই একটু.....
>>>ও তাই!তাই বুঝি!প্রাইভেটে ব্যায়াম করছেন স্যার।হা হা হা।
>>>না মানে ইয়ে।ভয় পাইনা তা না।একটু একটু ভয় পাই।একদম একটু।
>>>হা হা হা।হুমম।বসেন।বুঝেছি আপনি কত বড় বীরপুরুষ।
আমি বসে গেলাম।বসেই তন্নি কে বললাম
আপনি এখন কোন বিষয় পড়তে চান?
>>>>হা হা হা।এই প্রথম কোনো স্যার বলল,তার ছাত্রী কে, আপনি এখন কোন বিষয় পড়তে চান?হা হা হা..
>>>না মানে ইয়ে।এখানে,হাসির কি আছে!
একজন স্যারের প্রথম কাজই হলো,তার ছাত্রীর মন মত পড়ানো।আর ছাত্র/ছাত্রীর মন
মত পড়ালেই তো একদিন বাংলাদেশ উন্নত শিঁখড়ে পৌঁছে যাবে।
তন্নি আমার দিকে ভালো লাগা চোখে তাকিয়ে আছে দেখে,আরো কয়েকটা কথা বলে দিলাম।
>>> দেখো,ছাত্রীর ভালো লাগাই তো শিক্ষকের পরম সুখ।একটু সুখই যদি,না দিতে পারি তাহলে আমি কিসের শিক্ষক হলাম।একজন ছাত্র/ছাত্রীকে তাদের মন মতো পড়ার সুযোগ দেওয়া, তার স্যারের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তার মানে আবার এই না যে,আমি আপনার আব্বুর ভয়ে এসব বলছি,আমি আসলে মেয়েদের কে সম্মানের দৃষ্টিতেই দেখি।কারণ,একটি মেয়েই পারে,সমাজ কে বদলে দিতে।।।
এবার তন্নি আমার দিকে একচোখে তাকিয়েই রইলো।আমার দিকে তন্নির এভাবে,তাকানো দেখে,আমি লজ্জায় টেবিলের দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকলাম।কি লজ্জা লাগলো!বলার বাইরে।আমার আবার লজ্জা লাগলে হাসিই আসে।
তবে প্রথম, তার মায়াবী চোখে চাওনি টা,আমার ভীষণ ভালো লেগে যাই।কিন্তু সে সামান্য ভালো লাগাই যে,ভবিষ্যৎ-এ আমার জীবনের করুণ একটা অবস্থায় নিয়ে যাবে,সেদিন বুঝিনি।
.
কয়েকদিনের মধ্যেই এলাকার নামি-দামি মানুষ হয়ে গেলাম আমি।সবাই আমাকে সালাম দিতে লাগলো।চায়ের দোকানে,বাজারে,রিক্সাওয়ালা কেউ আমার কাছ থেকে ভয়ে, টাকায় নেই না।
এমনকি,আমার বন্ধুরাও কারো সাথে ভেজাল হলেই,আমার ভয় দেখাতো।বলতো>>>এই ছেলে জানিস!আমার বন্ধু আফতাহী!সন্ত্রাস ভাইদের বাসায় প্রাইভেট পড়ায়।একবার বলে দিলেই,সোজা নিচ থেকে উপরে চলে যাবি।।।
আবার,কোনো কোনো বন্ধু,আমার ধমক দিয়ে, চাঁদাও তুলতো।কলেজে আমার পরিচয় দিয়ে,অন্যান্য স্টুডেন্টদের উপর প্রভাব খাটাতে তাদের দেরী হতোনা।অবশ্য বন্ধুরা আমার এর বিনিময়ে আমার হাত পা টিপে দিতো,চুল টেনে দিতো।যখন যেটা বলি সেটাও করে দিতো।যা আমারও মন্দ লাগে না।
সুখেই যাচ্ছিলো আমার সে সময়ের দিনগুলি।
.
একদিন,বড় একটা প্রবলেমে পড়ে গেলাম।আমাদের ধারের টাকার জন্য, মনছুর কাকা এসে বললেন-
>>>দুই দিনের মধ্যে টাকা না দিলে,আমাদের ঘরের দলিল জোর করে নিয়ে যাবে।
আমার মা হাত জোড় করে কিছুদিন সময় চাইলেও, তিনি সময় দিলেন না।
আরো উল্টো শাসিয়ে গেলেন,দুইদিন পর তার সাথে লোকজন নিয়ে আমাদের বাসায় আসবে আমাদের উচ্ছেদ করতে।
.
সেদিন দুচোখে অন্ধকার দেখেছিলাম।ফেমিলির মুখের দিকে তাকানোই যাচ্ছিলোনা।মন খারাপের কারণে,সেদিন আর প্রাইভেট পড়াতেই গেলাম না।তারপরের দিন প্রাইভেটে যাওয়ার পর,আমি মন খারাপ করে তন্নির সামনে বসেই রইলাম।তন্নি আমায় বলল>>>স্যার,মন খারাপ আপনার?কালকে আসেন নি যে?
>>>হুমম!কই নাতো?না,কালকে এমনি আসেনি।
>>>স্যার!আপনি কি অসুস্থ?
>>>আরে না!
>>>তাহলে,এভাবে বউ মরার মতো, বসে আছেন কেন?
>>>না।আমি এমনি।
>>>স্যার।আপনি আজকে আমার সাথে ঠিক ভাবে কথাও বলছেন না যে?
>>>এইতো বলছি।
আবার আমাকে চুপ দেখে বললো,
>>>স্যার।ও স্যার প্লিজ কথা বলেন না।
আমার আপনার এভাবে নিশ্চুপ ভাবে বসে থাকা, একদমি ভালো লাগছেনা।প্লিজ বলেন না! কি হয়েছে আপনার?
আমি হঠ্যাৎ করেই গরম হয়ে তন্নি কে বলি ফেলি,,
>>>চুপ!একদম চুপ!ফাজিল!ছাত্রী ছাত্রীর মতোই থাকো।স্যার হয়ে কপিয়ত দিবো?
তন্নির দুচোখ ভয়ে অঝোর দাঁড়ায় কান্না বইতে লাগলো।তার কান্না দেখে,নিজেকে সেদিন খুব অপরাধী মনে হলো।খুব মায়া হলো তার উপর।কখন তাকে তুমি বলে ফেলেছিলাম,আমি বুঝিইনি।আমি বললাম---
>>>প্লিজ তনু,প্লিজ কেঁদোনা।প্লিজ।
>>>ই ই ই।এভাবে তো আমার আব্বুও কোনো দিন বকা দেয়নি।
>>>প্লিজ।আমার ভূল হয়ে গেছে।আমাকে ক্ষমা করে দাও।এবার কান্না থামাও!
সে কাঁদতেই থাকলো...তার কান্না দেখে আমি বললাম..
>>>দেখো,আমি খুব সমস্যার মধ্যে আছি।আমার বড় বোনের বিয়ের জন্য আব্বু, মনছুর কাকা থেকে ১লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন।তিনি এই পর্যন্ত সুদ, লাখের উপরেই নিয়েছেন।কিন্তু মূল টাকা দিতে না পারাই, কালকে আমাদের বাড়ি খালি করার হুমকি দিয়েছেন।কালকের মধ্যে এতোগুলো টাকা কোথায় পাবো"?বাড়ি থেকে আমাদের বের করে দিলে,আমার ফেমিলি কে নিয়ে কোথায় যাবো?আমার কিছু বুঝে আসছেনা।আবার,পুলিশের কাছে জানালেও,কোনো লাভ হবে না,সবাই এক।আমার কিছু ভালো লাগছেনা,কিছুই না।
"তন্নি আমার দিকে তাকিয়েই আছে"
আমি আবার একটু থেমে বললাম>>>আসলে,ভদ্র হয়ে জন্মাটাই বড়ই অপরাধ।পৃথিবীটা অভদ্রদের জন্যই।
তন্নিও আমার কথা শুনে কান্না থামিয়ে চুপ হয়ে বসে রইলো।আমি তন্নি কে কিছু না বলেই,উঠে চলে এলাম।
পরেরদিন,মনছুর কাকা তার লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসলে,আমার বাবা খুব হাত জোড় করলেন,যে এতো নির্দয় না হতে।মাত্র ১লক্ষ টাকার জন্য,তার শেষ সম্বল কেড়ে না নিয়ে পথে না নামাতেই।
আমি কি করবো!কিছু বুঝছিলাম না!আমিও বললাম>>>প্লিজ কাকা!আমাদের উপর দয়া করুন।আমি নিজের রক্ত বিক্রি করে হলেও আপনার টাকা পরিশোধ করবো।প্লিজ একটু সময় দিন।প্লিজ।
কিন্তু উনি হাসি দিয়ে তার লোকজন সবাই কে নির্দেশ দিলেন,ঘর থেকে জিনিস পত্র বের করতে।কিন্তু তার কথায় কেউ শুনলোনা,সবাই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলো..আমিও অবাক হয়ে রইলাম।
তখন কাকা আবার বললেন>>>কিরে তোদের কথা কানে যাই না,ঘর থেকে তাড়াতাড়ি জিনিস বের কর।
তারপর মনছুর কাকাকে একজনে, পেছনে দেখতে বললে,
মনছুর কাকা দেখেন, সন্ত্রাস সম্রাট ভাই আসতেছেন।
তাকে দেখে আমার প্রথম হাত তালি দিতে ইচ্ছে হচ্ছিলো।
আমি মনছুর কাকার নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলাম,ভয়ে তার হাটু কাঁপতেছে।
তারপর,সম্রাট ভাই তার সামনে এলে,
ভয়ে কথায় বের হচ্ছিলো না কাকার।
সম্রাট ভাই বললেন>>>আমার গ্রামে এসে।আমাকে জিজ্ঞাসা না করে, আমার মেয়ের স্যারদের ঘর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, এতোবড় সাহস তোর।একটা একটা করে আমি গুলি করে মারবো এখন।
অন্য সবাই সেই কথা শুনেই দিলো দৌড় ।মনছুর কাকা কাঁপতে কাঁপতে শেষ।
সম্রাট ভাই আবার বললেন>>>এই প্রথম আমার মেয়ের চোখে কান্না দেখলাম।মা মরা মেয়ে আমার।এই প্রথম সে আমাকে তার মায়ের অভাবের কথা বলেছে।সবি,তুই মনছুরের কারণেই হয়েছে।আজ আমার হাত থেকে তোর নিস্তার নাই।
ধপাস!হয়ে মনছুর কাকা অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই মাটিতে।আমি "হা" করে তাকিয়ে থাকলাম।
সেদিন আমার নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে হয়েছে যে,আমি একজন সন্ত্রাসীর মেয়েকে প্রাইভেট পড়ায়।আমি তো বলি,সবার তো প্রাইভেট পড়ালেই, সন্ত্রাসীদের বাড়িতে যেন প্রাইভেট পড়ায়।
কিন্তু........
কখনোই সন্ত্রাসীর মেয়ের সাথে প্রেম করার চিন্তাও করতে নেই।একবার করলেই,তাকেও একদিন আমার মতই বিপদে পড়তেই হবে।



বাংলা গল্প আমার জীবনের প্রথম প্রাইভেট

তিনঘন্টা পর যখন মনছুর কাকা হাসপাতালে অজ্ঞান থেকে স্বাভাবিকে, ফেরত আসলে,আস্তে আস্তে চোখ খুলেন তিনি।
তার শরীরের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকেন>>>হুমম।আমি কি মরে গেছি। না বেঁচে আছি?মনে তো হচ্ছে আমি মরে গেছি।
সন্ত্রাস ভাই তার বেডের পাশে বসা ছিলো।ওনি একবার যাকে মারার জন্য চিন্তা করেন।তাকে না মেরে,ওনার নাকি ক্লান্তি আসেনা।
কাকার প্রশ্নের সাথে সাথেই ওনি বলে উঠেন >>> তুই মনছুর এখনো মরিস নাই,বেঁচে আছিস।আর তোকে মারার জন্য এখনো আমি
তোর সামনেই বসে আছি।আর আমার স্যার কে, তোর মৃত্যু দেখার জন্য দাঁড় করিয়ে রেখেছি।
মনছুর কাকা আবার কাঁপতে শুরু করেন।
তার কাঁপাকাঁপি দেখে,আমার মনে হচ্ছিল তিনি ওয়াস্টার্ন স্টাইলে নাচতেছেন।
সম্রাট ভাই বললেন>>>মনছুর তুই শেষবারের মতো কলেমা পড়ে নে।তোকে এখন উপরে পাঁঠাবো।
ওনি কান্নার স্টাইলে বলতে থাকেন>>>এ্যাঁ,এ্যাঁ!
সম্রাট ভাই পকেট থেকে পিস্তল বের করে,মনছুর কাকার কপালে ঠেকিয়ে বলতে থাকেন>>>মনছুর তুই আমার সাথে বল।লা ইলাহা ইল্লা লাল্লাহু....
মনছুর কাকা শুধু এ্যাঁ,এ্যাঁ করতে থাকেন।
এ্যাঁ,এ্যাঁ করতে করতে একসময় তার মুখ দিয়ে ফেনা চলে আসে। তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য কোমায় চলে যান।
.
সেদিনের সেই সম্রাট ভাইয়ের সে কৃতজ্ঞতা আমি কোনোদিনোই ভূলবোনা।
সন্ধ্যার পর তন্নি কে পড়াতে প্রাইভেটে গেলাম।বসে আছি তন্নির অপেক্ষায়।আজ তার জন্যই আমার প্রায় শেষ হওয়া ফ্যামিলি টাকে বাঁচাতে পেরেছি ।তাই তার টেবিলে রাখা একটা খাতার পৃষ্ঠায় বড় করে লিখে দিলাম, "ধন্যবাদ"
তন্নি এলে, খাতাটা কিভাবে দেবো?
তার প্রস্তুতিই নিচ্ছিলাম।হঠ্যাৎ প্রাইভেটে,
শাড়ী পড়েই, তার প্রবেশ। তার পর্দা ব্যাধ করে আসাটা ,আমার জন্য পৃথিবীর ছিলো,শ্রেষ্ঠ মূহুর্ত।এককথায় তাকে স্বর্গের শেষ অফসরা মনে হচ্ছিলো।তাকে দেখেই আমি তার সৌন্দর্যের মুগ্ধতায় কখন যে বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেলাম বলতেই পারিনি।
সে আমাকে সালাম দিয়ে বসে গেলো,আমি শুধু তার দিকে চেয়ে দাঁড়িয়েই রইলাম।
সে হালকা মুচকি হেসে বললো--স্যার।এখনো কি আমাকে ভয় পাচ্ছেন!আমি একজন সন্ত্রাসীর মেয়ে বলে।
>>>কই না তো?
>>>তাহলে, আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কেন???
আমি নিজেকে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আবিষ্কার করলাম।আমি লজ্জা পেয়ে বললাম >>>না মানে ইয়ে। মাঝে মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা স্বাস্হ্যের জন্য ভালো।
>>>ও তাই নাকি।আজকে তাহলে দাঁড়িয়েই পড়াবেন?
>>>দাঁড়ালে ভালো।তবে বেশীক্ষণ দাঁড়ালে ক্ষতি হয়।আমি এই বলে বসে,খাতাটা দিয়ে বললাম>>>ধরো।এটা তোমার জন্য।
তন্নি "ধন্যবাদ"লেখাটা দেখে,সেও নিচে দিয়ে লেখে দিলো" ওয়েলকাম".
সে আমাকে বললো স্যার আমি আপনাকে যদি সত্যিই উপকার করে থাকি,তাহলে আমাকেও একটা উপকার করতে হবে।
আমি বললাম>>>বলো বলো।তোমার উপকার করতে পারলে তো,আমি নিজেকে নিয়ে গর্ব বোধ করবো।
>>>স্যার আমার স্কুলে যাওয়া-আসার সময় একটা ছেলে শুধু আমাকে ডিস্টার্ব করে।এখন ছেলেটা কে,আপনি ভয় দেখাতে হবে।।।।
আমি হিরোর মতোই উত্তর দিলাম-
>>>হা হা হা।
>>>স্যার।আপনি হাসছেন যে?
>>>দূর!এটা কোনো উপকার হলো?এই সামান্য কাজ হা হা হা.....
>>>দেখেন স্যার! আমার খুব প্রবলেম হচ্ছে।আপনি তো জানেন,আমার বাবা কতই ভালোবাসে আমাকে!একবার যদি তিনি জানতে পারেন।তাহলে,সে ছেলেটিকে মেরেই ফেলবেন।একটা ছেলেকে সামান্য অপরাধের জন্য,মৃত্যু দেওয়াটা তো ঠিক না।তাই আপনাকে বলা আর কি।
আমাকে চুপ দেখে,তন্নি বলে উঠে---
আপনি বেশী কিছু বলতে হবেনা।শুধু হালকা ভয় দেখাইলে হবে।বলবেন-এই ছেলে আমার ছাত্রীকে ডিস্টার্ব করা হচ্ছে,একদম মেরে চেহারার নকশা পালটাই দিবো।বেয়াদব ছেলে,ফাজিল ছেলে,আর আর বলবেন, মাস্তান ছেলে।এরকম বলতে পারবেন না স্যার?
আমি বললাম>>>আরে দূর! বলা বলির দিন শেষ। এখন হলো থাপ্পড় মারার দিন।দিয়ে দিবো কয়েকটা থাপ্পড়।
তন্নি খুশি হয়ে বললো>>>ওকে স্যার।দিয়ে দিয়েন কয়েকটা।এমন ভাবে দিবেন যে, যাতে গাল লাল হয়ে যাই।
পরের দিন তন্নির জন্য স্কুলের গেটের সামনে অপেক্ষা করছি।তন্নি ছেলেটাকে দেখিয়ে দিবে বলেছে।অধির আগ্রহে তন্নির উপকার করার আশায় ছিলাম।
শ্রদ্ধেহ বড় ভাই একজন, আমায় দেখে বললেন--আরে আফতাহী!কি অবস্থা তোমার? অনেকদিন পরে তোমাকে দেখলাম।এদিকে কি মনে করে?
>>>না ভাইয়া এমনি আসলাম।
>>>না না।কারণ তো আছেই।
আরে বলবেন না আরিফ ভাই।আসলাম,আমার ছাত্রী কে নাকি আপনাদের এলাকার ছেলে একটা ডিস্টার্ব করে।এখন আমার ছাত্রী আমার কাছে বাধি হয়েছে।
এখন আসলাম তাকে শাসানোর জন্য। যদি ছেলেটারে পাই, চামড়া তুলে ফেলবো।
>>>এতো বড় সাহস কার?আমাদের এলাকায় এসে আমাদের মেয়ের সাথে ইভটিজিং করে।একবার চিনাই দাও ছেলেটারে। হাড্ডিগুড্ডি গুরাই ফেলবো।আমিও আছি তোমার সাথে।

Romantik Golpo
>>>দাঁড়ান।আমার ছাত্রী আসুক।
তন্নি আমাকে দেখে সামনে এসে বলে>>>স্যার।আপনি তো খুব ট্যালেন্টেড।আমি বলার আগেই ছেলেটারে ধরে ফেলছেন?
আমি হা করে তাকিয়ে আছি।আর আমার পাশের বড় ভাই চোখ বড় বড় করে ডুকর গিলতেছেন।
তন্নি এবার বড় ভাইয়ের সামনে আংগুল দেখিয়ে বলতে থাকে->>>এই শালা!আমারে প্রতিদিন ডিস্টার্ব করে।এই হারামি!কই আমারে এখনো ডিস্টার্ব কর?করনা?হারামজাদা।মেয়ে দেখলেই শুধু ডিস্টার্ব করিস?ফালতু পোলা।স্যার বুঝছেন।এসব পোলাপাইনের জ্বালায়, মেয়েরা একটু শান্তিতে স্কুলে যেতে পারেনা,মার্কেটে যেতে পারেনা।
দেখ,এখন আমার স্যার তোরে কি করে?থাপ্পড় দিয়ে স্যার তোর গাল লাল করে ফেলবে।দেন তো স্যার?
বড় ভাই গালে হাত দিয়ে আমার দিকে তাকিয়েই থাকলো।আমি পেছনে, জিহ্বা কামড় দিয়ে,তওবা,তওবা এক্সপ্রশন দিলাম।
তন্নি একটু থেমে আবার বললো----কই স্যার দেন না?
আমি কি করবো কিছুই বুঝতেছিনা।হাদিসে তো এলাকার বড় ভাইদের থাপ্পড় দেওয়া টাটকা নিষেধ আছে।এদিকে,তন্নিআমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপকার করেছে।তার জন্য তো একটা থাপ্পড় দিতেই পারি।আমি পিছন থেকে হাতের ইশারায় বড় ভাই কে
একটু খানি দেবো, সেটা দেখালাম।তিনি নিচের ডুকর গিলে,"না"এক্সপ্রেশন দিলো এমন বুঝালো। Soto Golpo
যা হওয়ার হবে,তা ভেবেই "বিসমিল্লাহ" করে দিয়ে দিলাম একটা থাপ্পড়। আর বললাম>>এই ছেলে আমার ছাত্রীকে ডিস্টার্ব করা হচ্ছে,একদম মেরে চেহারার নকশা পাল্টায় দিবো।বেয়াদব ছেলে,ফাজিল ছেলে,আর আর মাস্তান ছেলে একটা।
তন্নি আমার দিকে আনন্দের তৃপ্তি নিয়ে তাকিয়েই থাকলো।তার এই তৃপ্তি মাখা দৃষ্টি দেখে কোষে জোরে আরেকটা থাপ্পড় আরেক গালে বড় ভাই কে দিয়ে দিলাম।আর বললাম>>>যা হারামজাদা কোথাকার।যা,এখান থেকে ভাগ।আর যেন কোনোদিন না দেখি।
বড় ভাই দুই গাল ধরে চলে গেলেন।
আর তন্নি আমার দিকে তাকাতে তাকাতে স্কুলের গেটের ভিতর প্রবেশ করলো।আর আমি দাঁড়িয়েই রইলাম তন্নির অপেক্ষায়...........
জীবনে কখনো, আমি কারো জন্য অপেক্ষা করেনি।অপেক্ষা জিনিসটা আমার কাছে, তিক্ততার চোখেই লাগে।এই প্রথম মনে হলো,অপেক্ষা করাও যে ভীষণ মধুর।
আমি তন্নির জন্য কোনো অপেক্ষায় ছিলাম না,মনে হলো ছিলাম, শ্রেষ্ঠ কোনো ভালোলাগায়।
কখন যে স্কুল শুরু থেকে শেষ অবধি,একি জায়গায় একি ভাবে দাঁড়িয়েছিলাম,
বুঝতেই পারেনি।
স্কুল ছুটি শেষে,তন্নি স্কুলের গেট দিয়ে বাহির হয়ে,আমায় দেখে কিছুটা অবাকই হলো। মুচকি হেসে আমার সামনে এসে বললো
>>>এমা স্যার!এখনো দাঁড়িয়ে আছেন যে।
এই রোদে আপনি তো কালো হয়ে গেছেন!
ও আচ্ছা,দাঁড়িয়ে থাকা তো স্বাস্হ্যের জন্য ভালো,তাই দাঁড়িয়ে আছেন,তাই না স্যার।
>>>না মানে ইয়ে।ইয়ে আর কি!
>>>ইয়ে টা কি!
>>>আরে ইয়ে ইয়ে মানে ইয়ে...
কি বলবো কোনো উত্তরই মাথাই আসছিলো না।তাই নিশ্চুপভাবে,তন্নির পাশাপাশি মৃদু বাতাসে চলতেই থাকলাম। একটু পর নিরবতা ভেঙে আবার বললাম>>>তবে,একটা কারণেই দাঁড়িয়ে ছিলাম।
>>>কি কারণে স্যার?ও বুঝেছি,আপনি আমাদের স্কুলের কোনো মেয়েকে পছন্দ করেছেন বুঝি?প্লিজ বলেন না স্যার মেয়েটা কে?
>>>আসলে,তোমার জন্য দাঁড়িয়ে আছি।
লজ্জায় মুখ লাল হয়ে, তন্নি কে দেখে আবার বললাম---
>>>আরে না।তুমি ভূল ভাবছো।আসলে,ভাবলাম তোমার ছুটির পরে যদি আবার মাইর খাওয়া ছেলেটা দাঁড়িয়ে থাকে।তাই রয়ে গেলাম।।।
>>>ও তাই বুঝি।মাইর দিতে আপনার এতোই ভালো লেগেছে নাকি?
>>>কি যে বলোনা? এগুলা তো আমাদের বংশের ঐতিহ্য।আমাদের বংশে তো, কাউকে না মারতে পারলে, সেদিন রাত্রিতে ঘুমই আসে না।বুড়ো থেকে বাচ্চারা পর্যন্ত সবাই জাগ্রত থাকে।
>>>ও আল্লাহ।তাহলে তো বলতে হয় আপনারা খুব উচ্চ মাইর বংশীয়।।
>>>হুমম।বলতেই পারো।আমি কি মাইর দি?মাইর তো দিতেন আমার দাদা। জানো,একবার একটা লোক কে, আমার দাদী কে ইভটিজিং এর অপরাধে গাছের আগাই উঠাই মাইর দিয়েছিলেন।
>>>হা হা হা।কি বলেন স্যার?এই কেমন মাইর?
>>>তাহলে,আর বলছি কি?ওনাকে তো মানুষে অন্যকে মাইর দেওয়ার জন্য, ভাড়া করে নিয়ে যেতেন।
>>>বাহ বাহ!এই প্রথম শুনলাম!কারো দাদা ভালো মারপিঠের জন্য ভাড়া হয়েছেন।আপনাকে নিয়ে আমার ভীষণ প্রাউড ফিল হচ্ছে যে,আপনি আমাকে প্রাইভেট পড়ান।
এই একটু লজ্জায় মুচকি হাসছি দেখে,তন্নি বলে
>>>না স্যার এটা লজ্জার বিষয় নয়, এটা খুব গর্বের বিষয়।তবে,বলতেই হয় আপনি আপনার দাদার মতই হয়েছেন,সাহসী।তবে স্যার আজকে থাপ্পড় গুলো জোশ ছিলো।
>>>কি বলো?থাপ্পড়ও জোশ হয় নাকি?
>>>হয়।
>>>তাহলে বলো,ছেলেটারে নিয়ে এসে আরো কয়েকটা থাপ্পড় লাগাই দেই।
>>>না না স্যার।এমনিও ছেলেটার জন্য কেন
জানি খারাপ লাগছে?
খারাপ লাগছে বলতেই চলে এলাম তন্নির বাসার সামনে।
মনে চেয়েছিলো তার সাথে এভাবেই চলি,কিন্তু হয়তো আমাদের চলা,লেখা ছিলো
এইটুকুই।
.

তাকে ছাড়াহ আমার কিছুই ভালো লাগতোনা।শুধু তার কথায় ভাবতাম।কবে তার সামনে বসবো,তাকে পড়াবো সেটাই ছিলো আমার প্রতিক্ষা।সেদিনের পর থেকে আমি প্রতিদিন তার জন্য স্কুলে দাঁড়িয়ে থাকতাম।
বন্ধু-বান্ধবরা সবাই জানতো,তন্নি আমার প্রেমিকা।কিন্তু কেবল তন্নিই জানতো না,তাকে পড়াতে পড়াতে কখন যে, তার প্রেমেই পড়ে গেছি।
তন্নি অংকে একদমই কাঁচাই ছিলো।সে অংক কিছুই বুঝতোনা।অংক দেখে তার ফ্যাকাসে মুখটা দেখতে খুব খারাপ লাগতো।তাই তন্নি কে জিজ্ঞাসা করলাম যে,তার প্রিয় জিনিস কি?
সে কোনটা করতে,তাঁর খুব ভালো লাগে?
তার থেকে জানতে পারলাম,তার নাকি গান প্রিয়।সে বলতো,গানের জন্য একটা বিষয় থাকলে,সে সর্বোচচ নম্বর পেতো।সে একটা গান কয়েকবার শুনলেই হুবহু বলে দিতে পারে।তার থেকে আরো জানতে পারলাম যে,এরকম একটা বিষয়ের উপর ১০০ নম্বর থাকা খুব দরকার ছিলো।
তাই তৎকনাত আমার "গান অংকে"থিওরি খানা আবিষ্কার হলো।
তাই তাকে অংক শিখানোর জন্য আমি গান আর অংক,দুটোই কে এক করে দিলাম। অংকের সূত্র আর অংক কে বিভিন্ন গানের সুর লাগিয়ে তাকে পড়াতাম। যেমনঃত্রিকোণমিতি শিখালাম,আমার মাঝে নেই এখন আমি সেই সুরে।পরিমিতি শিখালাম-বলনা তুই বলনা কেন এই ছলনা দিয়ে।আর উপপাদ্য শিখালাম মনপুরা ছবির সোনার পালংকের ঘরে গানটির সুর দিয়ে।সেও কেমন জানি বুঝে ফেলতো,গানে গানে সব করে ফেলতো।একবার তো বীজগণিত করাচ্ছিলাম-অরজিৎ সিংয়ের মেরী আশিকী তুম হি হো দিয়ে।কিন্তু সেদিন সম্রাট ভাই গান শুনে,হঠ্যাৎ করে চলে এলেন প্রাইভেট রুমে।গানটা করছিলাম চা পান করতে করতে।।কিন্তু তাকে দেখে আমার গান গাওয়া তো দুরের কথা চায়ের কাপ বেয়ে নিচে পড়তে থাকে।সন্ত্রাস ভাই বলতে থাকে,আরে ভয় পাচ্ছো কেন?কই গাও?
কিন্তু আমার কন্ঠে ঠান্ডা লাগার গলার ফ্যাকাসে আওয়াজ আসতে লাগলো।
উনি আমার এরকম শুনে কোনোদিন গানই শুনবেন না হয়তো।
তবে,উনি আমার মতো এরকম গানওয়ালা স্যার নাকি জীবনে দেখে নাই তার প্রশংসা করে গেলো।সেটাই ছিলো সম্রাট ভাইয়ের কাউকে নিয়ে নাকি প্রথম প্রশংসা।
তন্নিও বিষয়টাকে খুব এনজয় করতো।
তন্নি যখন অংক পারতো কি যে খুশি
হতো?তা বলার বাইরেই....
তবে,আমি হলফ করে বলতে পারি,তার সেই হাসি মাখা চেহারাটার জন্য আমার জীবনটাই দিয়ে দিতে পারি।
তবে সেই দুষ্টুমি করে ভাবা জীবন দেওয়ার কথাটা,এত সহজে আল্লাহ কবুল করে নিবেন, তা কে জানতো?
প্রাইভেটে গিয়েই একদৃষ্টিতে তাকিয়েই আছি তন্নির দিকে।আহ!কি মায়া!কি মায়া!
কে সে?পরী না অন্য কিছু?
ভাবতেই ভালো লাগে।কাকে প্রাইভেট পড়াচ্ছি? সাক্ষাত যেন কোনো হুর বা পরীকে!
মনে চাই যেন, জনম জনম ধরে শুধু তাঁর দিকেই তাকিয়েই থাকি।
এই তাকানো কোনো প্রাইভেট স্যারের তাকানো নয়,এই তাকানো এক প্রেমিকের এক প্রেমিকার দিকে তাকানো।এই তাকানো কোনো পড়ানোর তাকানো নয়,এই তাকানো বারে বারে প্রেমে পরার তাকানো।
>>>স্যার স্যার,ও স্যার।(তন্নির ডাক)
দূর এই তিক্ত ডাক,এই তিক্ত শব্দ,
হুমম!কোথায় থেকে আসলো?
এই ডাকটা আমার স্বপ্ন টাকে,
ভেঙেচুরে চুরমার করে দিলো,
সেই সাথে আমার মন টাকেও।
>>>দেখো তন্নি।এই স্যার, স্যার ডাকবে না তো?একদম বিরক্ত লাগে।
>>>এমা!স্যার কে স্যার ডাকবো না তো কি নাম ধরে ডাকবো?
>>>না না না... নাম ধরে ডেকো না।ওতো সেন্টিমেন্টাল হওয়ার দরকার নেই।
ডেকো ভাইয়া বলে।তুমি তো সবি বুঝো?
স্যার বললে নিজেকে খুব বুড়ো বুড়ো লাগে।মনে হয় বড় একটা চশমা পরা,বৃদ্ধ কেউ।
>>>ভাইয়া?কি বলেন স্যার?আপনি তো আমার ভাইয়া হবেন না,হবেন কাকা।কাকা বলে ডাকি?
>>>এ্যাঁ।কাকা?নাউজুবিল্লা।ছি ছি ছি। থু....এই ডাক শুনার আগে, আমার যাতে মৃত্যু হয়।
>>>কাকা কে কাকা ডাকবো না তো কি ডাকবো?
>>>দেখো তন্নি।এসব শব্দ আমার সামনে বলবে না তো?এই সব শব্দের কারণেই স্যারদের হার্ট এ্যাটাক হয়।এই পর্যন্ত কত প্রাইভেট স্যারের হার্ট এ্যাটাক হয়েছে তুমি জানো?দেখো,স্যার তো ভাইয়া হোন। কাকা,মামা,ফুফা,আংকেল তো হোন অপিরিচিত কেউ।আর তোমার কাছে কি দেখতে, আমাকে কাকা বলে মনে হয়?কি সব বলোনা?কমন চেন্স বলতে তো কিছু নেই
দেখছি তোমার!বলে কিনা কাকা?ওয়াক থু।। ছি ছি ছি।মুড টাই নষ্ট হয়ে গেল।
>>>আপনাকে তো আব্বুই ভাই বানিয়েছেন,সে হিসেবে আপনি আমার কাকাই তো হবেন?নাকি?আর আপনাকে ভাইয়া ডাকলে তো আমার বাবা কে অপমান করা হবে?সেটার কি হবে?
>>>নাউজুবিল্লা!ভাই?কখন?না,না।এটা তো আমি খেয়ালই করেনি।এটার ব্যবস্থা নিতে হবে।তোমার বাবা ভাইয়া বানিয়েছেন?
না,না এটা আমি নই,এটা অন্য কেউ হবেন।
এটা আমি হতেই পারিনা।
>>>না,এটা আপনিই।আপনাকেই তো ছোট ভাই বানিয়েছেন তিনি।
>>>ছোট ভাই?না,না এটা কোনো ভাবেই মানা যাই না।এরকম হলে তো কোনো স্যারি প্রাইভেটি পড়াতে পারবেনা।
আমার জন্য না হোক,পৃথিবীর সকল প্রাইভেট স্যারের জন্য হলেও এর বিহিত করতেই হবে।
ধ্যাত!মনটাই খারাপ হয়ে গেল!
>>> মন খারাপ করবেন না।ও কে।আমি একশর্তে ভাইয়া বলতে রাজি।
আমার খুশি মনে তাকানো দেখে,তন্নি বললো--
>>>যদি আপনি আমার বাবা কে মামা,কাকা সম্পর্ক বানাতে পারলে তখন পারবো!তার আগে নয়!
>>>স স সমস্যা কি!তো তো তোমার বাবাকেই তো বানাতে হবে।এই আর বড় বি বি বিষয় কি?
>>>তাহলে একটু পর বাবা আসবেন,আপনি গিয়েই,বাবা কে কাকা বা মামা বলে আসবেন। কি আসবেন তো?
>>>ও আর তেমন কিসের বড় বিষয় হলো,গেলাম।প্রবলেম কোথায়?গিয়েই ফটাফট বলে দিলাম।আচ্ছা,কালকে গেলে হয় না?
>>>কালকে?কি বলেন?কাকা-মামা বানাতেও কি কালকে যেতে হবে নাকি? কি ভয় পাচ্ছেন নাকি?আপনার জন্য না হোক পৃথিবীর সকল হার্ট প্যাসেন্ট প্রাইভেট স্যার দের জন্য হলেও যেতে হবে আপনাকে?
>>>এই তন্নি!বুঝার চেষ্টা করো,আজ যাওয়াই তো কাল যাওয়া।সমস্যা কি!হার্ট প্যাসেন্ট স্যার রা দরকার হলে কাল অবদি,
বুক চাইপা ধইরা,গাপটি মাইরা বইসা থাকবে।
>>>না আপনাকে আজকেই যেতে হবে।না হলে,আপনাকে কোনোদিনো ভাইয়া ডাকবোনা।আজকেই যাবেন।
>>>এই তন্নি প্লিজ এভাবে বলিওনা,খুব কষ্ট লাগে।
>>>না। এটাই আমার শেষ কথা।
>>>তো সমস্যা কি! যামু।আর বলমু,ঐ ভাইয়া আজকে থেকে আপনি আমার,আমার কা কা কাকা।ধরেন আপনার ভাইয়া, দেন আমারে কাকা।এটা তো সিম্পল ব্যাপার।
তারপর,আড়চোখে তন্নির দিকে টেনশন মুক্ত ভাবে কিছুক্ষণ পর পর হাসি দিতে লাগলাম।ও তাকালেই হাসি দিতাম,আর না তাকালে,গম্ভীর হয়ে যেতাম।কারণ,এই সন্ত্রাসীরে, ভাইয়া থেকে কাকা বানাই এখন কিভাবে?এই দিকে জাতির প্রাইভেট স্যারের সকল ভবিষ্যৎ, আমার উপর ন্যস্ত।
কিছুক্ষণ পর,সন্ত্রাস ভাই সরি সন্ত্রাস কাকা বাসায় আসলে,তন্নি আমাকে বলতে লাগলো
>>>স্যার।যান স্যার।বাবা এসেছেন।
আমি "যাচ্ছি বলেই" মুচকি হেসে বসে রইলাম!
>>>কই স্যার যান না? বসে আছেন যে?
>>>ও ও বসে আছি।ও তাইতো বসেই তো আছি।এই তো যাচ্ছি।
নিজেকে জোর করেই নিয়ে চলে এলাম,ড্রয়িংরুমে।সন্ত্রাস কাকা কারো সাথে ফোনে কথা বলছিলেন।কথাগুলো এমন ছিলো>>>বেয়াদব,হারামজাদা।এতক্ষণ লাগে পা গুলো আর হাত গুলো ভাঙতে।গোড়ায় ধরে জোরে মুচড় দে।দেখ,এবার ভেঙে গেছে।
তারপর,ফোনের ও পাশ থেকে কিছু একটা শুনেই আবার বললেন >>>গুড।এই না হলি আমার লোক।প্রথমবারের মতো কারো হাত পা ভেঙেছিস,এবার সবাই রে মিষ্টি খাওয়া।
ফোন রেখেই আমার দিকে নজর দিলেন।আমার পা গুলো শীতকালে ভোরে গোসল করার মতো কাঁপছে।আমার এই কাঁপাকাঁপি দেখে,সম্রাট কাকা বললেন--কিরে ছোট ভাই?এভাবে কাঁপছো কেন?অসুস্থ নাকি?
>>>হ্যা হ্যা,অসুস্থ তো।অসুস্থ।খুব জ্বর ।
>>>এই কেমন জ্বর? পা কাঁপছে?
>>>এখনকার জ্বর গুলোই এমনি,শুধু পা কাঁপে,কিন্তু শরীর কাঁপে না।
>>>হুমমম।বুঝলাম।আচ্ছা,যেটায় হোক। তোমার জন্য একটা সু-খবর আছে!
>>>কি কি কি?সু সু সুখবর?
>>>তোমার ঐ লোকটা। নাম কি যেন?ও ও মনে পড়েছে।মনছুর।হ্যা মনছুরি তো।তার কোমায় থাকার দৃশ্য ভেবে,আমার ঘুম আসছিলো না,নিজেকে খুব অপরাধী অপরাধী মনে হচ্ছিলো।ঘুমই আসছিলো না।শুধু,কল্পনায় তার চেহারাটা ভাসছিলো।হায়!এটা আমি কি করলাম।তাই মনছুরের কোমায় থাকা অবস্থায় হাত-পা চারটাকে আমার নতুন একজন শীর্ষ দ্বারা ভাঙিয়ে,তাকে নেট প্র্যাকটিস এর মতো করালাম।কি ভালো করছিনা?
আমি ঠোট কিঞ্চিত বাঁকিয়ে হালকা হেসে বললাম>>>হুমম।ধ ধ ধন্যবাদ।
সন্ত্রাস কাকার প্রশ্ন-
>>>ভাই!কিছু বলবে নাকি?
>>>না মানে ইয়ে।ইয়ে বলতাম...
>>>ইয়ে বলতে কি?
>>> কা,কা...
>>>ইয়ে কা কা?এটা আবার কি?
ও কাকের কথা বলছো তো?আজকাল কাকের উপদ্রব খুব বেড়ে গেছে, তাইনা?
>>>না,তা না।
>>>তাহলে?
>>>না মানে ইয়ে আমার বলতে লজ্জা করতেছে।
>>>লজ্জা?আরে কোনো লজ্জা নাই।
বড় ভাইয়ের কাছে কেউ লজ্জা পাই নাকি!আমরা তো সব ধরণের কথা-বার্তা বড় ভাইদের কাছেই শেয়ার করতাম।এমনকি গার্লফ্রেন্ডের কথাও।সব গোপন কথা বড় ভাইকেই উজাড় করে বলে দিতাম।বড় ভাই কে বলবা নাতো কাকে বলবা?হা হা হা.. বড় ভাই কে লজ্জা পাওয়ার কি আছে?
>>>না মানে ইয়ে....আমার একজন কা কা ছিলো।
>>>ও...তারপর।
>>>আমি যখন ছোট ছিলাম তখন নৌকা এক্সিডেন্টে মারা যাই।
>>>নৌকা এক্সিডেন্ট?এটা তো জীবনেও শুনি নাই।
>>>না মানে বাসে করে যাচ্ছিলো।
>>>তাহলে তো বাস এক্সিডেন্ট হলো।
>>>না মানে,নৌকা-বাস এক্সিডেন্ট।
>>>হ্যা?
আসলে,সন্ত্রাস কাকার ভয়ে কি বলতে কি বলেছি নিজেই জানিনা।তাই মিলানোর জন্য আবার বলতে থাকলাম>>>আসলে, আমার কাকা নৌকা করে ঢাকা যাচ্ছিলো।কিন্তু বাস ব্রেক ফেল হয়েই নদীতে পড়ে।
>>>তাহলে তো বাস এক্সিডেন্ট হলো।
>>>দূর!কথার মাঝখানে কথা বলবেন না তো! একদম সহ্য হয় না।এরকম হলে,আমি চললাম।
>>>ভাই।আরে রাগ করো না।বলো।
>>>বাস নদীতে পড়ে কিন্তু পড়ে আমার কাকার নৌকার উপর।আর পড়তেই নৌকা বাসে সংঘর্ষ হয়।আর নৌকা এক্সিডেন্ট হয়।সেই নৌকা এক্সিডেন্টে আমার কাকা আমাদের কে চিরদিনের জন্য রেখে চলে যান,পরপারে।
আড়চোখে তাকিয়ে দেখলাম সন্ত্রাস কাকার অবস্থা। সন্ত্রাস কাকার কান্নার ভাবে তাকানো দেখে আবার বললাম >>>বাবা বলেছে,আপনার চেহারাটা ডান পাশ থেকে আমার কাকার মতো লাগে।একদম চেইম।
আজ যদি আমার কাকা বেঁচে থাকতো,তাহলে ঠিক আপনার মত ই বড় হতো।আপনার মত ই আমাদের দুঃখের সময় আমাদের পাশে দাঁড়াতো। আপনাকে দেখে আমার কাকার কথা খুব মনে আসতেছে,খুব।ইস।আপনি যদি আমার ভাই না হয়ে আমার কাকা হতেন?
কথাটি শুনার পরে সন্ত্রাস কাকা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন আমার দিকে।আমি কথাটি বলেই কান্নার ভঙ্গিমায় বের হয়ে গেলাম সন্ত্রাস কাকার সামনে থেকে।।
পরেরদিন প্রাইভেট পড়াতে গেলাম না।
সন্ত্রাস কাকার অনেক ফোন পেলাম।কিন্তু ফোন রিসিভ করলাম না।
এদিকে কাকা সমস্যার পাশাপাশি সমস্যা এলো আরেকটা।সমস্যা টা ছিলোঃআমার অনার্স ফাস্ট ইয়ারের হঠ্যাৎ করেই ফরম ফিল আপ এর ডেট পড়লো।হাতে একদম টাকা পয়সা নেই বললেই চলে।বন্ধু-বান্ধবের কারো কাছ থেকেই,কোনো টাকায় ধার পেলাম না।টাকা প্রায় ৫ হাজার টাকার মত লাগবে।কি করি কিছুই বুঝছিলাম না।
এক বন্ধু বললো সন্ত্রাস কাকা থেকে দুইমাসের অগ্রিম টাকা নিতে।আমার যতটুকু জানা আছে সন্ত্রাসীরা টাকা দেই না,টাকা নেই।আর অগ্রিম টাকা!
এদিকে টাকা টা না পেলে,প্রথম বর্ষের রেজিস্ট্রেশনও করাতে পারবোনা।তাই পরেরদিন বুকে সাহস রেখেই সন্ত্রাস কাকার সামনে গেলাম।তাঁর প্রথম প্রশ্ন ছিলো,গতকাল কেন আসিনি?
জবাব দিলাম>>>ফেনী গিয়েছিলাম।
কেন জানতে চাইতেই উত্তর দিলাম>>>রং লাগতেছে তাই।
ওনি আমার প্রশ্ন এর উত্তরে বিব্রত হয়ে বললেন>>>এই কেমন উত্তর?
ওনি আরো বললেন>>>মনে রং লাগলে কেউ ফেনী যাই নাকি?
আমি বললামম>>>রং লাগলে ফেনীই তো যাবে।আমরা তো ফেনীই যাই।
>>>আমরা মানে?
>>>আমার বাবা মা সবাই।এমন কি আমার দুলাভাইও।
>>>কি বলো?তোমার বাবা,মা,দুলাভাইও যাই?
>>>জ্বী।
>>>সবাই যাবে,তার মানে কি তুমিও যাবে নাকি?
>>>জ্বী। বলতে পারেন বংশপরম্পরায়।
আমার এই উত্তর শুনে ওনি তো পুরাই গরম। গরম হয়ে বললেন>>>আমি জানি তুমি আমাকে দেখে তোমার কাকার কথা মনে পড়ে গেছে,তাই আসোনি।
>>>না রং এর জন্য আসেনি।
এবার,সন্ত্রাস কাকা আরো গরম হয়ে বললেন>>> দরকার হলে আমাকে কাকা ডাকবে! বারবার রং এর কথা বলার কি আছে?বেয়াদবি মূলক সব কথা-বার্তা।
>>>রং লাগলে তো রং লাগার কথায় বলবো নাকি?
সম্রাট কাকার না বুঝার ভঙ্গিমায় তাকানো দেখে বললাম>>>আরে কাকা!ঘরের জন্য রং লাগতেছে তাই ফেনী গিয়েছিলাম।
এবার ওনি অট্টহাসি দিয়েই উত্তর দিলেন>>>ও।হা হা হা।আমি তো ভাবলাম মনে রং লাগতেছে,তাই ফেনী তে গেছো।
>>>আরে না কাকা।এই রং মনের রং না,এই রং আসল রং।
এদিকে কিভাবে যে কাকা কে অগ্রিম দুইমাসের টাকার কথা টা যে বলি,তার চিন্তায় ঘামতে থাকলাম।মনে মনে আইয়াতুল কুরছি পড়ে,বুকে ফুঁ দিয়ে যখনি বলবো তখন কাকার মোবাইলে রিংটোন বেজে উঠলো।
তিনি রিসিভ করেই বলতে থাকলেন>>>কিরে হারামির বাচ্চারা।টাকাটা নিয়েছিস তো?
ফোনে কিছু একটা শুনেই আবার বললেন>>>কোনো কম-তম রাখা যাবেনা।একটাকা কম দিলে একটা ঘুষি মারবি।যত কম দিবে,তত টা ঘুষি দিয়ে আসবি।আমার "কর" একটাকাও কম রাখা যাবে না।কম রাখলেই,আমার পাওয়ার কম ভাববে।
আবার,ফোন রেখেই আমার দিকে তাকিয়েই বললেন>>>কি হে ভাতিজা!এখনো দেখছি তোমার অসুখ ভালো হয়নি?তোমার পা কাঁপছে দেখছি!
আমি নিছের দিকে তাকিয়েই বললাম >>>হ্যা।তাইতো।একবার আসে,আবার একবার চলে যাই।আজব রোগ।
আমি কথাটা বলেই সন্ত্রাস কাকার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়েই থাকলাম।
ওনি আমার তাকানো দেখে বললেন>>>কিছু বলবে নাকি?
>>>না মানে ইয়ে না।কিছুই না।
সেদিনের মতো আমার টাকার কথাটা বলতে পারলাম না।সন্ত্রাস কাকা কে সালাম দিয়েই প্রাইভেটের রুমে চলে গেলাম।
এদিকে তন্নি পড়তে বসেই আমার দিকে বারেবারে দেখতে লাগলো।আমার চেহারায় ঘাম দেখে বললো>>>স্যার। কোনো সমস্যা?
আমি বললাম>>>আগে বলো।তুমি আমাকে স্যার কেন ডাকছো?একটু আগেইও তোমার বাবার মুখের উপরে কাকা বলে এলাম।
সেদিন গিয়েই বললাম যে,দেখেন কাকা!আমি আপনাকে ভাইয়া ডাকতে পারবোনা।এটা প্রেস্টিজ এ লাগে।ভাইয়া ডাক টা আমি যাকে তাকে ডাকিনা।
উনি তো আমার ভয়েই শেষ।উনি নিজের ভূল স্বীকার করেই আমাকে কাকা ডাকতে বললেন।
>>>ও তাই বুঝি।
>>>হ্যা।
>>>আচ্ছা ভাইয়া।এখন খুশি তো?
>>>হ্যা।খুব খুশি।
>>>আপনি ঘামছেন কেন?মনে হচ্ছে কিছু নিয়ে চিন্তায় আছেন।
>>> কই না তো?এটা তো আমার রোগ জানোনা।
>>>অ.....
তন্নি আবার পড়তে থাকলো।এদিকে টাকার কথাটা কিভাবে যে বলি,তার চিন্তাই আমার ঘাম বের হচ্ছেই।সব হলেও টাকা চাওয়ার কথা সহজে তো বলা যাই না।আর যদি সন্ত্রাসীর কাছ থেকে হয়,তাহলে তো আর কথায় নেই!
হঠ্যাৎ করেই তন্নির অংক খাতায়।সূত্র লেখার নাম করেই,আমার সমস্যার কথা সূত্র আকারেই লিখে দিলাম।আর বললাম-সূত্র গুলো মুখস্ত করে নিয়ে আসতে।এগুলা পরীক্ষার জন্য অবশ্যই জরুরি তাকে বলে দিলাম।
খুশি মনেই সেদিনকার মত চলে এলাম।
এদিকে আমার ফরম ফিল আপের আছে আর মাত্র একদিন। আজকে না পেলে আমার ইয়ার ড্রপ দিতেই হবে।তাই চিন্তায় আমার রেশ নেই।
চিন্তার মাত্রা ১০০ ডিগ্রি নিয়েই প্রাইভেট পড়াতে গেলাম।প্রাইভেট পড়াতে গিয়েই তন্নি কে বললাম সূত্র গুলো দাও।সে বলল>>> মুখে নিবেন নাকি লেখায়?আমি বললাম
একভাবেই দিলেই হলো।
সে আমাকে খাতাটা দিয়েই বলতে থাকলো।
রেজিস্ট্রেশন ইউক্যাল ৫০০০।
ডেট ইউকাল ২১।
অগ্রিম ইউকাল আগামিকাল।
লাস্ট ডেট ইউকাল ফাস্ট ইয়ার।
না ইউকাল ইয়ার ড্রপ।
আমি তার বেকুবমূলক পড়া বলা দেখেই হা করে তাকিয়েই থাকলাম।


সন্ত্রাসীর মেয়ের সাথে প্রেম  | আমার জীবনের প্রথম প্রাইভেট
 লেখাঃপ্রেমান_আহমেদ
SHARE

Author: verified_user