Sunday

টঙ লেখা : ইরিনা তাজরীন রিনি(Erina Tazrin Rini)

SHARE

টঙ



অনেক পুরানো একটা অভ্যাস হলো রহিম মামার টঙের দোকানে চা খাওয়া। ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর এখন তেমন একটা হয়ে উঠে না।বাসায় থাকলে আবশ্য রেগুলার যাই।এবার শীতের বন্ধ পুরাটাই বাসায় থাকব।
ভালই শীত পরেছে।শীত মে বি বি.সি.এস এর টার্গেট নিয়ে পড়ছে।নরমাললি সকালে বের হইনা।আজকে কেন জানি আজকে সকালেই সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছে।কুয়াশা ভেদ করেই মামার দোকানে এসেছি।দোকানে কেউ নেই। সিগারেটে মাত্র এক টান দিয়েছি সাথে সাথে ফোন আসল। অপরিচিত নাম্বার।
---হ্যালো
শোভন বলছেন?
---না জীবনানন্দ দাশ বলছি
আমি রিয়া।
---তো আমি কি করতে পারি?
আপনি এভাবে কথা বলছেন কেন?
---তুমি কি মহারাণী ভিক্টোরিয়া? তোমার সাথে আর কিভাবে কথা বলব?তোমাকে কল দিতে না করছি না,ঘুম থেকে উঠেই কল দিছ?
এরকম করেন কেন?অনেক দিন পর দিছি।আর আমার ফোন আমি যাকে ইচ্ছা কল দিব। আপনি না করার কে?
---তুমি কল দাও কেন?
বুঝেন না কেন কল দেই?
---আপাতত বুঝতে চাই না।
রিয়ার কথা না শুনেই কেটে দিলাম।মেয়েটা আমাকে ভালোবাসে।কেন বাসে কে জানে! নির্বোধ মেয়েরা ভালবাসা বুঝে অবহেলা বুঝে না।
এই মেয়েটাকে কখনোই ভালবাসতে পারব না।কারন একজন কে আঙুলের ফাঁকে আঙুল রেখে কথা দিয়েছি কুষ্ণচূড়া ফুলের ফাঁকা দিয়ে আকাশের সাদা মেঘ দেখব, বৃষ্টি বিলাস করব। সে কথা না রাখুক আমি রাখব।
পর পর ৬ টা গোল্ডলিফ ভ্যানিসের পর দেখলাম ভালই বেলা হয়েছে।কে জানে কয়টা বাজে,সময়ের হিসেব আজকাল রাখি না।রহিম মামাকে চা সিগারেটের বিল দিয়ে বাসায় আসার জন্য দোকান থাকে বের হচ্ছি তখনই কে যেন জোরে জোরে ডাকছে
শোওওওভন ভাই
তাকিয়ে দেখি রিয়া।
---এই মেয়ে তোমার সমস্যা কি?
কোন সমস্যা নাই। আসেন চা খাই।বিল আপনি দিবেন।
---বস।কি চা খাবে?
ভুল চা খাব
---ভুল চা মানে?
যে চায়ের পরতে পরতে ভুল থাকে
---রিয়া ফাজলামো বন্ধ কর
রং চা খাব
রহিম মামাকে দুই কাপ চা দিতে বলে রিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম এই পাগলামি বাদ দিবা কবে?
কিসের পাগলামি?
---আমার মধ্যে তো ভাললাগার মতো কিছুই নেই।আমাকে তোমার ভাল্লাগে কেন?
ভাল তো লাগে না।
---তাহলে?
ভালবাসি
---কারন?
সব কিছুর কারন খুঁজেন কেন?ভাল না বেসে থাকতে পারি না তাই ভালবাসি।
কি বলব বুঝতে পারছি না তাই চুপ করে আছি।চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছি। আড় চোখে রিয়ার দিকে বার বার তাকাচ্ছি।বেঞ্চের উপড় পা উঠিয়ে বসেছে।আর ফু দিয়ে যাচ্ছে।খাচ্ছে না।হয়ত ঠান্ডা হয়ে শরবত হয়ে গেলে খাবে।
মামা একটা বেনসন দেন তো।
অদ্ভুত মেয়ে এখন সিগারেট চাচ্ছে।রাগে আমার পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যাচ্ছে।মন চাচ্ছে কষে একটা থাপ্পড় মারি।কিন্তু কিছুই বলতে পারলাম না।একটা মেয়ে আমার সামনে বসে চা সিগারেট খাচ্ছে আর আমি চা খাচ্ছি।কেমন জানি লাগছে।
শোভন ভাই আমাকে নীল টিপ কিনে দিবেন? আপনার জন্য নীল আকাশ কপালে নিয়ে ঘুরব।
----চুপ করে চা খাও।
সিগারেটও খাচ্ছি।আপনি খাবেন একটা?ও আচ্ছা আপনি তো আবার ভাল ছেলে, থাক খেতে হবে না।
রাগে আমার মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে।ভাবলাম চোখ গরম করে তাকাই।
চোখ গরম করে তাকাতেই মিষ্টি একটা হাসি দিল।
রাগ টা চলে যাচ্ছে আর তাকানো যাবে না।মায়ায় পরে যাব। এই মায়া আমাকে কাটাতেই হবে।বিল দিয়ে টঙ থেকে বের হয়ে হাটছি।ভাবছি এই বুঝি রিয়া ডাকবে শোভন ভাই।কিন্তু ডাকল না।
আমার পেছনে তাকাতে ইচ্ছা করছে কিন্তু তাকাচ্ছি না জানি রিয়া তাকিয়ে আছে।এখন আমি তাকালে মায়ায় পরে যাব।এই মায়াকে আবশ্যই অগ্রাহ্য করতে হবে।
SHARE

Author: verified_user