Sunday

শেষের শুরু ও Story Of A Married Bacelor

SHARE
                                                                                "শেষের শুরু"
                                     -Tariqul Islam Tariq

"শেষের শুরু" -Tariqul Islam Tariq


অস্ট্রেলিয়ায় আজ আমার প্রবাস জীবনের ৯ বছর পূর্ণ হলো। বেশ অভিমান নিয়েই দেশ ছেড়েছিলাম। সময়ের সাথে সাথে অভিমান গুলো হারিয়ে আবার মায়া সে জায়গা দখল করেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আর ২৩ দিন পর আবার দেশে ফিরবো। অনেক তো হলো। ক্যানবেরার রাস্তায় সকাল সন্ধ্যা ট্যাক্সিক্যাব চালিয়ে এই ক বছরে বেশ ভালোই টাকা জমিয়েছি। দেশে ফিরে আজীবন পায়ে পা তুলে কাটাতে পারবো। মনের মধ্যে এসব এলোমেলো চিন্তা নিয়ে হুট করে এক যাত্রীর আহবানে ব্রেক কষতে হলো। গ্লাস নামিয়ে যা দেখলাম তাতে আমার জ্ঞান হারানোর উপক্রম হলো।
এ তো বর্ণা!!! 



সেই ট্রেডমার্ক তিল আর জোড় ভ্রুতে ওকে চিনতে আমি ভুল করিনি। তবে চেহারায় সেই চিরচেনা হাসিটি মিসিং। দুটো বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে ও গাড়িতে উঠে বসলো।
ও কি আমাকে চিনতে পেরেছে???
মনে হয় না।
আমি ওর গন্তব্যস্থানের দিকে গাড়ি ছোটাতে লাগলাম। কিন্তু ইতোমধ্যে স্মৃতিগুলো আমার মস্তিষ্কে ইঁদুর বেড়াল খেলা শুরু করে দিয়েছিলো। চলে গেলাম ১৬ বছর আগের সেই স্কুল জীবনে। স্কুলের সেরা সুন্দরী বর্ণা ছিলো সিনিয়র জুনিয়র প্রায় সবারই প্রিয় মুখ। অনেকের অনেক রকম ফ্যান্টাসিও ছিল ওকে নিয়ে। কিন্তু ভিন্ন ধর্মের হওয়ার কারনে আমরা মুসলিমরা কিছুটা হতাশ ছিলাম। তবে আমি হাল ছাড়লাম না। সুন্দরী বর্ণাকে আমার প্রেমে পড়তেই হলো। যদিও এর জন্য নিজের শরীরে সামান্য কাটাকুটি করতে হয়েছিলো। যেটা দেখিয়ে ওকে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করেছিলাম। হাতে সেই B লেখা আজও স্পষ্ট। বছর দুয়েক চুটিয়ে প্রেম করেছিলাম। তবে অস্বীকার করার উপায় নেই মেয়েটি আমাকে যথেষ্ট ভালবেসেছিলো। আর আমার কারনে অনেক অত্যাচারও সহ্য করেছিলো। নিজের একমাত্র কন্যা এক মুসলিম ছেলের সাথে প্রেম করছে শুনে ওর ব্রাহ্মণ বাবা বেশ আঘাত পেয়েছিলেন। এরপর প্লান করলেন ওকে বারাসাত ওর মাসীর কাছে পাঠিয়ে দেবেন। এটা টের পেয়ে বর্ণা আমাকে বলেছিলো ওকে নিয়ে পালিয়ে যেতে। এমনকি নির্দিষ্ট দিনে ও ব্যাগ গুছিয়ে আমার জন্য অপেক্ষাও করেছিলো। কিন্তু আমার ভালবাসা ভয়ের কাছে হেরে গিয়েছিলো। শুনেছিলাম ও আমার জন্য সেখানে প্রায় ২ ঘন্টা অপেক্ষা করেছিলো। এরপর ফিরে গিয়েছিলো। কয়েকদিন পরে ভারতীয় এক যুবকের সাথে ওর বিয়ে হয়ে গেছে শুনেছিলাম। এর বছরখানেক পর ও স্বামী সহ অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছে সেটাও জানতাম। কিন্তু ওর সাথে এভাবে দেখা হবে সেটা ভাবিনি কখনো।
"এখানে থামুন " বলে ও আমাকে থামতে বললো।
গাড়ি থেকে নেমে আমাকে অপেক্ষা করতে বলে ও বাচ্চাদুটো নিয়ে বাসার ভেতরে গেল, আর দু মিনিটের মধ্যে ফিরেও এলো। এসে আমাকে অবাক করে জিজ্ঞেস করলো
"কেমন আছো তনয়?"
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম "তুমি আমাকে চিনলে কীভাবে"
ও বললো "যার জন্য আমার জীবনটা আজ এমন হয়েছে তাকে ভুলি কি করে?"
এই বলে ও অনেকটা জোড় করেই আমাকে ওদের বাসায় নিয়ে গেলো।
রুমে ঢুকেই এক মধ্যবয়সী ভদ্রলোকের ছবি দেখিয়ে বললো " ও সৌমিত্র, আমার হাসবেন্ড। যদিও তিন বছর আগে ডিভোর্স হয়ে গেছে। আর যে মেয়ে দুটো দেখলে ওরা হলো সৃষ্টি আর মিষ্টি, আমার জমজ মেয়ে। ওদের আকঁড়েই বেঁচে আছি এখন"
স্পষ্ট দেখলাম ওর চোখে পানি চিকচিক করছে। নিজেকে সামলে নিয়ে ও বললো
" তুমি বসো আমি চা বানিয়ে আনছি"
একটু পরেই ও চা নিয়ে ফিরে এলো। আমি মাথা নিচু করে চা এ চুমুক দিচ্ছি এরমধ্যে ও জিজ্ঞেস করলো "চিনি ঠিক আছে? তুমিতো আবার চিনি বেশী খাও" এই বলেই সেই ট্রেডমার্ক হাসি। আমি মুগ্ধতা লুকাতে পারলাম না। এর পর ও বললো "আজ যে নাচের স্কুলের সামনে থেকে আমাদের পিক করলে ওখানেই আমি নাচ শেখাই। তুমি কি রোজ আমাদের ওখান থেকে পিক করতে পারবে? " আমি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ালাম।
পরের দিন আমি আবার সে স্কুলের সামনে অপেক্ষা করলাম আর বর্ণাকে পিক করে বাসায় দিয়ে এলাম। এভাবে ধীরে ধীরে সব জড়তা কেটে গেলো। ওর সঙ্গটা আমি আগের মতই উপভোগ করছিলাম । হয়তো বর্ণাও করছিলো। কারন ওর হাসিটা এখন নিয়মিত ছিলো। এভাবেই প্রায় ২২ দিন যে কীভাবে কেটে গেল, টেরই পেলাম না! কিন্তু আমি ওকে আমার দেশে যাওয়ার কথা চেপে গেলাম। কী হবে বলে? ফালতু ভালবাসা পিছুটান ছাড়া আর কিই বা দেয়?
আজ বর্ণা আমাকে সময় নিয়ে আসতে বলছে। আজ নাকি সারাদিন ও আমার ক্যাবে ঘুরে বেড়াবে। কিন্তু আজ যে ১৮ সেপ্টেম্বর। সন্ধ্যায় আমার ফ্লাইট। আমি ব্যাগ গুছিয়ে প্রস্তুত হয়ে ফ্লাইট ধরার জন্য এয়ারপোর্ট এর পথে।
হয়তো মেয়েটি আজও সেই ১৬ বছর আগের দিনটার মত অপেক্ষা করবে। আর ভাঙা মন নিয়ে ফিরে যাবে।
নাহ আর না। আমি জীবনকে আর আমাকে নিয়ে খেলতে দেবোনা। আমি গাড়ি ঘুরিয়ে আবার বাসায় ফিরলাম। ব্যাগগুলো ফেলে রেখে আবারো ক্যাব নিয়ে বেড়িয়ে গেলাম। ওইতো বর্ণা! আজ একটা ভায়োলেট রঙের শাড়িতে ওকে দারুন লাগছে! আমি আজ আর হাত কেটে B লিখিনি। আজ সরাসরিই বলবো "ভালবাসি"
দেখা যাক ভাগ্য আমাদের শেষ পর্যন্ত মেলায় কিনা।
#নোট_: প্রিয় কিছু মানুষের প্রতি অনুভূতিগুলো কখনোই বদলে যায়না। সময় বদলে গেলেও অনুভূতিগুলো ঠিকই হৃদয়ে কোনো না কোনো কোণে ঠিকই লুকিয়ে থাকে। আর জীবন যখন আপনাকে দ্বিতীয় সুযোগ দেয়, তখন সেগুলো আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আর তখন সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হয় যে, আপনি সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখবেন, নাকি মেরে ফেলবেন।







                                            Story Of  A Married Bacelor

                                  - Hasib Shanto

 Story Of  A Married Bacelor

মেসের বাথরুম থেকে গোসল করে বের হতেই, রাহাত বলল, "এই সাবিত তোর ফোন বাজছিলো ৪/৫ বার। আন্টির নাম্বার, ধরিনাই ভয়ে। আন্টি কি সব জেনে গেছে রে? "
জানিনা, আর জানলে জানবে। গোপন রাখার ত কিছুনা, ভালোবাসছি বিয়ে করেছি।
হ্যালো আম্মা!! গোসল এ ছিলাম ফোন ধরতে পারিনাই।
"তুই!! তুই আমাকে আম্মা বলে ডাকবিনা, এমন ছেলে আমার দরকার নাই। সেই ছোট্ট বেলায় যেই ছেলেকে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়ে স্কুলে পাঠাইছি, আজ সে ভার্সিটিতে উঠে বাপ-মায়ের অনুমতির তোয়াক্কা না করে বিয়ে করে!! "
আম্মা শুনো, কান্নাকাটি করতেছো কেন!! বিয়ে হচ্ছে একটা আনন্দের ব্যাপার, কোথায় তোমার বৌমার জন্যে দোয়া করবা, তা না তুমি কানতেছো!! আর তুমি যে তন্দ্রাকে দেখোনাই এমন না। ছবি দেখে তুমি নিজেই বলতে সুন্দর আছে।
" এই বেহায়া, চুপ কর।মেয়ে সুন্দর যতই থাক, বিয়ে কি আমরা দিতাম না সময় হলে? আর এই, তোর বৌকে খাওয়াবি কি? তোর বাপ এক কথার মানুষ, একটা টাকাও দেবেনা। 



তুই আর তোর বৌ পথে পথে হাত পেতে ভিক্ষা করতেছিস, সে এই দৃশ্য তোর বাপ বেলকনিতে দাঁড়িয়ে দেখবে বলে আশা করে আছেন। আর আমাকে বলছেন, তোমার ছেলে যেন বাড়িমুখো না হয়, ঠ্যাং ভেংগে "শো-পিচ" করে রাখবে।
সাবিত, কেন তুই এমন করলি বাপ! আমি সত্তিই বিশ্বাস করতে পারতেছিনা, আর তোর বাবা আসলেই রেগে আছেন, বাসায় উঠার চিন্তা বাদ দিস। আর ওই মেয়ে নাকি চাচার বাসায় থাকে? মা বাবা কই এর? "
আম্মা শুনো, ঠান্ডা হও একটু। তোমার বৌমা যে অতীব সুন্দরী তুমি এটা জানো, তাই তোমার ফুটফুটে নাতী-নাতনী হবে এ ব্যাপারে শিওর থাকো। ভিক্ষা যদি করতেই হয়, নাতী - নাতনী তোমাদের কাছে রেখে রোজ সকালে তোমার বৌমা আর আমি ভিক্ষা করতে বের হবো। তোমরা নাতী - নাতনী নিয়ে বাসায় খেলবা।
"সাবিত!! তুই কোন লেভেলের বেয়াদব হইছিস, আমি ভেবে পাচ্ছিনা।তোর টিউশনির টাকা দিয়ে চলবে?!
শুন, ওই মেয়ে নিয়ে আমার বাসায় উঠবিনা এটা সাফ কথা। তুই আমার যত আদরের পুত্রই হোস, দুষ্ট গরুর চেয়ে আমি গোয়ালঘর গরুশুন্য রাখবো। আর ওই মেয়ে যেনো আমাকে ফোন দিয়ে আম্মা আম্মা ডেকে মন গলানোর চেষ্টাকরনে লিপ্ত না হয়"
আম্মা, তাইলে আমার কথাও শুনো, আমি জানি এগুলা একটাও তোমার মনের কথানা, কারন তুমি অনেক চেষ্টায়ও কান্না চেপে রাখতে পারতেছো না। যা করতেছো আব্বার চাপেই। আমিও তারই ছেলে, তাই আমারো এতো অপমানিত হয়ে তার বাড়িতে ঢোকার ইচ্ছা নাই। আর শুনো, তন্দ্রাকে নিয়ে আপাতত বাসা নেবার সামর্থ্য নাই আমার, আমি মেসেই থাকবো আপাতত গ্রাজুয়েশন শেষ করে যদ্দিন চাকরি না পাই। এর মধ্যে টাকা জমলে বাসাও নিতে পারি।
তন্দ্রা চাচার বাসায় বড় হইছে, ওর বিয়ের জন্যে চাপ দিচ্ছিলো, কারন এই দেশে আমার চেয়ে শতগুনে যোগ্য ছেলে হাজারটা আছে। বিয়েটা না করলে আমি ওকে আজীবনের জন্যে হারাতাম, আর তোমরা হারাতে তোমার ছেলেকে। অন্তত বাসায় জায়গা না দাও, দিওনা। দোয়া করিও পারলে, আর তন্দ্রা ভালো মেয়ে তুমি জানো। রাখি আম্মা।
ফোন রেখে, আমার বউকে ফোন দিলাম। বিয়ে করছি ৭২ ঘন্টা হয়নি, নাম্বারটাও ফোনে "BOUUU" লিখে সেভ করে ফেলছি। আম্মা ঠিকই বলছে, আমি দিনদিন "বে-হায়া" মানে লাজ লজ্জাহীন হয়ে যাচ্ছি।
ঘুমাচ্ছিল মনে হয় আমার বউটা। ফোন ধরেই তন্দ্রা তন্দ্রাভাব নিয়ে এক আলিফ টেনে " হ্যা.. বলোওও... " বললো।
আমার এর আগে তন্দ্রার ফোন ধরে "হ্যালো " বলাটা হাজারবার শুনছি, এরকম শান্তি লাগেনাই।
"এই বউ, তোমার বেকার স্বামীর সখ হয়েছে বউকে নিয়ে মেলায় যাবে, বেড়িবাঁধ থেকে একটু দুরেই গ্রামের দিকে "পৌষালী" মেলা হচ্ছে। যাবা?
তন্দ্রা: " সাবিত সাহেব, বউকে যদি ৭-৮ রঙের কাচের চুরি কিনে দেন, তাইলে বউ যাবে"
"আচ্ছা দিবে, রেডি হও তাইলে, বিকাল ৪ টা, চৌরাস্তা। "
তন্দ্রা হাসে, আমি তার প্রেমে পরি।
তন্দ্রা শাড়ী পরে এসেছে, নীলপাড় শাড়ী। আমার বউ জানে আমি নীল রঙ পছন্দ করি।
আমরা এখন "পৌষালী "মেলায়। তন্দ্রা চুড়ির দোকানে গিয়ে "এটা না....ওইইইইটা" বলে চুড়ি পছন্দ করতেছে, আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান ও বেকার স্বামী, এই দৃশ্য দেখছি আর মুগ্ধ হচ্ছি।
তন্দ্রা দুইহাতে একঝাক নীল চুড়ি পরেছে। আমার দিকে হাত উঁচিয়ে, দুই চোখ চুড়ির মাঝে রেখে ঝুনঝুনুন শব্দ করে হাসতেছে, আর আমি তার প্রেমে পড়তেছি।
রিক্সায় উঠে তন্দ্রাকে বললাম, আমাকে নাহয় ভালবাসতে, কিন্তু বিয়ে করলে কেন?
"কারন তোমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তিন তিনটা টিউশানি করাতে মাসে, এখন বিয়ে করেছো, আগামীমাস থেকে ছয়টা করাবা। উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ত!! হাহাহাহা""
তন্দ্রা হাসে, আমিও হাসি। মাঝখান থেকে আমি তার প্রেমে পরি। "
তন্দ্রা শুনো, আম্মা তোমাকে ফোন দিতে বলেছেন, আব্বা বিকেলবেলা বাইরে হাটতে যান তখন।
"আচ্ছা দিবো, বাসায় গিয়ে"
তন্দ্রা: হ্যালো!!
আম্মা: হ্যালো কে?
"আসসালামু-আলাইকুম আন্টি, আমি তন্দ্রা।"
"হুম, কিন্তু বেকুবটা নাকি তোমাকে বিয়ে করেছে, আন্টি বললে কেন? আম্মা বলতে লজ্জা লাগে?"
"না লাগেনা, ভয় লাগে আম্মা।"
"আমি সাবিতের ফোনে তোমার ছবি দেখেছিলাম অনেক আগেই। আমি বুঝিনা তোমার মত এতো সুন্দরী একটা মেয়ে কিভাবে আমার বেকার ও বেকুব ছেলেকে বিয়ে করো!!
যাই হোক, আম্মা ডাকবা এরপর যেন ভুল নাহয়। আর শুনো, তোমার শ্বশুর বলছেন, অবাধ্য যেহেতু আমার ছেলে হইছে এই বাড়িতে তার জায়গা নাই, কিন্তু তোমার ত কোনো দোষ নাই। কালই বইপত্র নিয়ে ঘরের বউ ঘরে আসবা, আর বেকুবটাকে বলবা চাকরিবাকরি পাবার আগে এই বাড়িমুখো যেন না হয় "
"আচ্ছা আম্মা। ওকে কি আর কিছু বলব? "
হ্যা বলবা, আজ থেকে ও এই বাড়ির জামাই, আর তুমি মেয়ে। যদ্দিন শ্বশুরবাড়ি থেকে দাওয়াত না পায়, এদিকে যেন না আসে।
"জী আচ্ছা আম্মা"
রাতে তন্দ্রার নাম্বার থেকে ফোন আসলো, সব শুনলাম। শুনে আমিতো হতভম্ব।
পরদিন থেকে, আমি মেসের আলুসিদ্ধ খেয়ে ভার্সিটি যাই, আমার বউ আমার বাসা থেকে এসে ক্লাস করে, সাথে ক্লাস-ব্রেকে খাওয়ার জন্যে আম্মার বানানো ন্যুডলস, পরোটা-ডিমভাজি এনে খায়। আমাকেও দেয় অবশ্য। 😊
কাণ্ডকারখানা দেখে আমার বন্ধুরা হাসি রাখার জায়গা পায়না।
মাস-দুয়েক পর একদিন ভাবলাম তন্দ্রাকে নিয়ে বেড়াতে যাবো। বললাম, আমি নাহয় একটা রিক্সা নিয়ে বাসার নিচে এসে দাঁড়াই, তুমি রেডি হয়ে নিচে আসো।
বাসার নিয়ে এসে দাঁড়িয়ে আছি অনেক্ষন।আজ তন্দ্রা লেট করতেছে। এতক্ষনে তন্দ্রা নিচে আসতেছে হাসতে হাসতে।
কখন যে আব্বা বাড়ান্দায় এসে দাঁড়িয়েছেন, খেয়ালই করিনি। বাড়ান্দা থেকে খেঁকিয়ে বললেন, " কিরে জামাই!! শ্বশুরবাড়ির সামনে ঘুরঘুর করিস!! লজ্জা করেনা!! ঘরজামাই হবার মতলব নাকিরে?
তন্দ্রা উপরে তাকিয়ে বলল, " আব্বা নিয়ে আসি আজ আপনার জামাইকে উপরে?"
আব্বা -আম্মা দুজনই ততক্ষনে বাড়ান্দায় দাঁড়িয়ে হাসছেন।
তন্দ্রাও হাসতেছে ...আর আমি তার প্রেমে পড়তেছি....
-হাসিব শান্ত
SHARE

Author: verified_user