Thursday

Bengali Story Books | Bangla Romantic Story ABARO by Ariyan

SHARE

Bengali Story Books  |  Bangla Romantic Story ABARO by Ariyan


                    
Bengali Story Books  |  Bangla Romantic Story ABARO by Ariyan



বিয়েটা ভালোবেসে করা হলেও সারাজীবনের জন্য যে ওয়াদা করা হয়েছিল সেটা সাত মাসের মাথায় ভেঙে যায়। সাত জনম সাথে থাকার প্রতিজ্ঞা সাত মাসে শেষ হয়ে যাওয়া এটা বিরল কোন কিছু নয়। আমরা ভালোবেসে একজন আরেকজনকে বিয়ে করেও স্বপ্নের সংসার আর গড়াতে পারিনি। সাংঘাতিক বিষয়।


..
একজন আদর্শ বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডে মোটামুটিভাবে কিছুটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং মিলিয়ে সম্পর্ক শুরু করে। আর আমাদের সবকিছু মিল-মিল ছিল। আমার যে জিনিসটা ভালো লাগে সেটা মাইমুনারও ভালো লাগে, আবার যে জিনিসটা খারাপ লাগে সেটা ওরও খারাপ লাগে। এককথায় আমরা সবকিছুতে ছিলাম দু-দেহের এক আত্মা।






                              Bangla Golper Boi



কোন এক পড়ন্ত বিকেল থেকে আমাদের চলার শুরুটার শুরু হয়। প্রথমে দুজনকে দুজনকে চেনা থেকে শুরু করে একসাথে অনেক সময় কাটাতে লাগলাম। কোনদিন পার্কের কর্ণারে, কোনদিন সোডিয়ামের আলোর নিচে, কোনদিন ফুসকার দোকানে আবার কোনদিন যেকোন জায়গায়। অর্থাৎ সপ্তাহের সব দিন ওকে নিয়ে আমার চলাটা রুটিন হয়ে যায়।
..
আবারো কোন এক পড়ন্ত বিকেলে জনমানবশূন্য এক স্ট্যাডিয়ামে ওকে প্রপোজাল দিয়ে বসি। তার চোখ-মুখে ফুটে উঠা হাসিই বলে দিয়েছিল সব অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তর।Bangla Golper Boi  ব্যস, সেইদিন থেকে শুরু হয়েছিল উড়তে শিখানোর সব মুহুর্তগুলো।
..
একটা স্বাভাবিক সম্পর্কে এক-আধতু ঝগড়া চলবেই। এটা তেমন বড়-শড় ফ্যাক্ট নাহ। আমাদেরও চলত তবে সেরকম ভয়ঙ্কর ঝগড়া নাহ। আমাদের ঝগড়ার মূল কারন ছিল আমরা আর আগের মত ততটা সময় স্পেন্ড করতে পারিনা যতটুকু স্পেন্ড করার কথা ছিল। আমরা দুজনই ভেবেছিলাম সম্পর্ক হবার পর আমাদের সময়গুলো আরো মিষ্টি আর মধুর হবে। কিন্তু ঘটলো তার বিপরীত। দুজন দুজনে যে বিভিন্ন জায়গায় বের হয়ে অনেক্ষন খুনসুটি প্রেম করবো তার কোন আগ্রহই আমাদের মধ্যে ছিল না। যা আগ্রহ ছিল সব রাতের নির্ঘুম চোখে কয়েকশো কথার মধ্যে ছিল। এ নিয়ে আমাদের মাঝে মনঃমালিন্য হলেও তারাতারি ঠিক হয়ে যেত কারন ওইগুলো ব্রেকাপ ছিল। যেটা ছোট-খাটো সমস্যা নিপ্টানোর একটা বহুল আলোচিত শব্দ।
..
আমরা এটাও ভেবেছিলাম যে বিয়ে হয়ে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। সেজন্য সব সমস্যা সমাধানের জন্য বিয়েটাও করে ফেললাম। কিন্তু সব ভাবনা ভাবনাহীন ছিল। কোনকিছুই ঠিক হয়নি যেগুলো ঠিক করার ছিল।
..
আমি দিনে থাকতাম অফিসে আর সে বাসায়। রোজ রাত্রে আমার দেরী করে বাসায় ফেরা ওর পছন্দ ছিল না। কিন্তু আমারো যে কাজের চাপ ছিল সেটাও সে বুঝতো না। সে মনে করত আমার কোথাও না কোথাও পরকিয়া একটা আছে।Bengali Story Books আমি বাসায় ফিরলে সে এসব নিয়ে জিজ্ঞেসা করত কিন্তু আমি ক্লান্ত থাকায় উত্তর দিতাম নাহ। আমি মনে করতাম সে ওসব এমনেই জিজ্ঞেস করছে আর ওমনিতেই কিছু মনে করবে না। কিন্তু এটাই ছিল বড় ভুল আর যার জন্য খুব বড় মাশুল পোহাতে হচ্ছে।
..
দিনের পর দিন আমাদের ঝগড়া আরো বাড়তে লাগলো। এমনও সময় চলে আসলো যে কেউ কাউকে সহ্য-ই করতে পারতাম না। সে উত্তর মেরুতে থাকলে আমি দক্ষিণ মেরুতে থাকার চেষ্টা করি। এভাবে এক বিছানায় আর আমাদের থাকা সম্ভব হয়নি। আস্তে আস্তে আমাদের রুমটাও আলাদা হয়ে গেল। তবুও যেন আমাদের মধ্যে একটা খুঁত রয়েই গিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি আমাদের রুম চেঞ্জের সাথে ঘরটাও চেঞ্জ হয়ে গেল। সে চলে গিয়েছে তার বাপের বাড়ি, আর আমি এখানেই রয়ে গেলাম, একা।
..
দুদিন ধরে সে বাসায় নেই। আমিও ওর খোজ নিচ্ছিনা আর সেও আমার। ওর কথা ভাববার মত আমার সময়ও নেই। এতদিন আমি একদিকে কাজে ব্যস্ত আর একদিকে ওর ননসেন্স ডাউট এদুটো মিলে আমাকে গ্রাস করে দিচ্ছিল। এখন আপাতত ওর চলে যাওয়ায় কিছুটা ফ্রেশ আছি। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে রাতে জোনাকিপোকার আলোয় প্রস্ফুটিত হাজার তারার ন্যায় যেদিকেই চোখ যায় একটুর জন্য ওর কথা মনে পরে। সত্যি কথা বলতে ওকে আমি খুব মিস করছি কিন্তু পরক্ষণেই টনক নড়ে যে তার চলে যাওয়ার দৃশ্যটা। ব্যস, মিস করার শুরু এখানেই আর এখানেই শেষ হয়ে যায়।
..
চলে যাবার তিনদিনের দিন, মাইমুনার ছোট বোন কল দিয়ে মাত্র তিনটা শব্দ বললো আর তারপর লাইন কেটে দিল। "আমি তোমাকে ভালোবাসি" এই তিনটা গোল্ডেন ম্যাজিকাল ওয়ার্ড হলেও ওই তিনটা ওয়ার্ডও ম্যাজিকাল ছিল। "উনি ডিভোর্স চাচ্ছেন"।
..
বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, ওখানেই চট করে বসে পরলাম। হাত-পা থরথর করে কাঁপছে। সত্যি-ই কি ডিভোর্স চাচ্ছে সে! এটাই কি তাহলে সমস্যার সমাধান! প্রশ্নটা তীরের মত মাথায় গেঁথেছে। কোনকিছুই বুঝতে পারছিলাম না। মাথায় কিছু কাজও করছে না। ওকে কল দিতে যাবো কিন্তু তাও পারছিনা। ইগো বাধা দিচ্ছে। কোনরকম অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরলাম।
..
কিছু কিছু সম্পর্কের ভাঙনে তৃতীয় কারোর হাত থাকে বলে আমরা জেনে আসছি। কিন্তু এরকমটা আসলে হয়না। সম্পর্কগুলো ভাঙা হয় মূলত নিজেদের ইগোর জন্যই। যেখানে ইগো নামের ইট-সিমেন্ট আছে সেখানে ইমারত টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।
..
আমি সব ইগো-ফিগো ভুলে ওকে কল দিয়েই ফেললাম। কয়েকটা রিং বাজার পর রিসিভ হল।
..
--হ্যালোও,,,
--হুম,
--কেমন আছো!
--তোমার জানার অধিকার নেই।
--ওহ আচ্ছা। তাহলে কি বাকি রয়েছে!
--ডিভোর্স... 
--এটাই বাকি ছিল!
--হুম। আশা করি শেষ অধিকারটাও ঠিক-ঠাক ভাবে রাখবে।
--ঠিক আছে। যেরকমটা তুমি চাচ্ছো ঠিক সেরকমই হবে। তবে একটা কথা মনে রেখো, আমাদের ডিভোর্স হচ্ছে কিন্তু, ব্রেকাপ নাহ।
..
বলেই লাইন কেটে দিলাম। মুখের আওয়াজে রাগ মিশ্রিত থাকলেও চোখ থেকে জল গড়ছে। কেঁপে কেঁপে নি:শ্বাস ফেলতে লাগলাম।
..
যাকে ভালোবাসা যায় তাকে কি সেই একি কায়দায় ভুলে যাওয়া যায়! চাইলেও কি সেটা করা যায়! আমি তো এসব পারবো না, মোটেও নাহ। আমার নিজের থেকেও ওকে বেশি ভালোবেসেছি। "সে যে আমার" এই নিশ্চিন্ত বাক্যটাই আমাদের আলাদা করে দিয়েছে। যদি মনে করতাম "সে আমার হবে না" তাহলে শেষ পর্যন্ত ওকে পাওয়ার আশা করে যেতাম। ওইটাই হত খাঁটি ভালোবাসা। কিন্তু নিয়ম-অনিয়মের বেড়াজালে দুজনই দু-জালে আটকে গেলাম।
..
সে চলে যাবার বারো দিনের মাথায় কোর্ট থেকে কল আসলো। ওইখানে গিয়ে দেখি মাইমুনা, ওর বাবা আর ওর ছোট বোন উকিলের সাথে কথা বলছেন। আমি সিচুয়েশনটা বুঝে একটা ঢোঁক গিলে তাদের সম্মুখে গেলাম।
..
আমি তাকিয়ে আছি মাইমুনার দিকে। অবচেতন মন তার দৃষ্টি ফিরাতেই পারছেনা। আমার নিশ্বাসগুলো অনেক জোরে বের হতে লাগলো। সে চুপচাপ নিচের দিকে তাকিয়ে থাকলো। এদিকে উকিল আমাকে ডাকছেন আমি সেটা বুঝতেই পারছিনা। আমি অনুভব করছি কেউ আমাকে ডাকছে কিন্তু মন সেদিকে নেই। হঠাৎ শরীর নাড়া দিয়ে ভাবনাগ্রস্ত থেকে বের হলাম।
..
উকিলের সাথে কিছু কথাবার্তা বলে বেরিয়ে আসলাম। আরো ঠিক পনেরো দিন পর আবার কোর্টে হাজির হতে হবে। উকিল জানালেন, দু-তিন মাসের মধ্যেই অফিশিয়ালি ডিভোর্স হয়ে যাবে।
..




Bangla Romantic Story

তারপর থেকে একা একাই আমার সময়গুলো কাটতে লাগলো। যখন মানুষের কোন সাহারা থাকেনা তখন সে পুরনো দিনের সব ভুল খুজতে শুরু করে। হ্যা, সব পুরনো দিনের ভুল। কারন ওই ভুলগুলোর জন্যই আজ কেউ কারোর নেই। ঠিক একিভাবে আমিও সারাদিন সব ভুলগুলো হাতরিয়ে খুজে বেড়াতে থাকলাম।
..
প্রতিটা রাতে ওর কথা ভিষন মনে পরে। প্রিয় মানুষটাকে কোনভাবেই ভুলা যায়না। কিন্তু সেই মানুষটা নেই এটা মানিয়ে নেওয়া যায়। হুট করেই যখন ঘুমের মধ্যে ওর কথা মনে পরে তখন মাড়ির দাঁত শক্ত করে চেপে রেখে কষ্টগুলো সহ্য করতে হয়। ওর দেয়া কষ্টগুলো ভুলাই যায়না, কোনকিছু দিয়ে ঠেকানো যায়না। আর যদি যায় তাহলে সেটা সে নিজেই।
..
হ্যা, আমি ওর সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছি। লাইফে এমন একটা দিন চলে আসে যে নিজের ভুলোগুলোও বুঝতে না পারার ভুল করে ফেলি। সামান্য রসিকতাও আজ চরম বিরক্তিকর মনে করি। মন কিভাবে অশান্ত হয়ে যাচ্ছে। কাউকেই ভালো লাগছেনা। কেন! কেন হচ্ছে এরকম! এটাই কি তাহলে.................।
..
নির্ঘুম চোখে রাত কাটিয়ে দিনে ঘুম-ঘুম চোখে কাজ কর‍তে করতে হুট করেই কয়েকটা দিন চলে গেল। আজ হচ্ছে কোর্টে উঠার তারিখ। আমি অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি মাইমুনার আসাটা। আমার চোখগুলো ওকে দেখার জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে গিয়েছে। গরমকালের কুকুররা যেমন টান্ডা পানির জন্য হাস-ফাস করে ঠিক একিরকম আমিও ওর চাহনীর দেখার জন্য উতলা হয়ে আছি।
..
সে আসলো। আমি হা করে ওর দিকে তাকিয়েছি। মনে হচ্ছে তৃষ্ণার্ত গলা পানিতে ভিজেছে। প্রায় দু-ঘন্টা কোর্টে ছিলাম। আমি দুই সেকেন্ডের জন্যও ওর থেকে নজর সরাইনি। সে বারান্দায় গিয়ে দাড়াতো আর আমি দূর থেকে চুপটি মেরে ওকে দেখতাম। সে হেঁটে যেত আর আমি ওর হাত স্পর্শ করার চেষ্টা করতাম কিন্তু পারতাম নাহ।
..
এভাবেই কেটে গেল সারাটা দিন। কোর্টে হাজিরা দেওয়ার আরেকটা ডেইট দেওয়া হল। দীর্ঘ কুড়ি দিন পর। আমি আবার মুষড়ে পরলাম। সেই আগের মতই জনাকীর্ণ জীবন কাটাতে লাগলাম।

                                       


Read More 

  1. bangla golper boi
  2. bangla boi
  3. bangla book
  4. bangla ebook
  5. bengali story books
  6. bengali books pdf
  7. bangla book pdf
  8. bangla golpo pdf
  9. bangla story book
  10. bangla books
  11. bengali ebook


..
কিন্তু এবার আর অকপট স্মৃতিগুলো মাথার মধ্যে সাজিয়ে রাখছিনা। এখন ওকে নিয়ে যত কথা, যত ভাবনা সব কাগজে লিখবো। হ্যা, চিঠি একটা লেখবো। যান্ত্রিকতার মাঝে আমরা এতই গভীর আঁধারে ঢুকেছি যে মানুষের মনের অবস্থাটাও ঠিকমত বুঝতে পারিনা। সে যে ভালো নেই সেটা কেবল ওর মুখ থেকে শুনা "আমি ভালো আছি" এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কোনদিন জানতেও চাইনি আসলেই কি সে ভালো আছে! শুধু ওপারের গুটি কয়েক শব্দের ওপর আস্তা রেখে ভালোবেসে গিয়েছি যার বদৌলতে কিছুই পায়নি।
..
দেখা যাক হারিয়ে ফেলা ভালোবাসাটা আবার উজ্জীবিত করা যায় কিনা। হ্নদয় হতে নিঃসৃত কয়েক বাক্য পৃথিবীর শ্রেষ্ট উপহার বলা হয়। আর উপহারটা যদি ভালোবাসার মানুষ তথা স্ত্রীর জন্য হয়, তাহলে বাড়তি কোন কথা হবেনা। আমিও আমার স্ত্রী মাইমুনার জন্য চিঠি লিখতে লাগলাম। হ্নৎপিন্ডের চেয়ে গভীরে, রক্ত শিরা-উপশিরার চেয়েও গভীর থেকে ভালোবাসা নিয়ে গুটি কয়েক কথা লিখতে লাগলাম।
..
এভাবে প্রতিদিন ওর জন্য আমি চিঠি লিখতে লাগলাম আর অপেক্ষা করতে লাগলাম ওকে দেবার জন্য। শেষ-মেষ সেই দিনটা চলেই এল। কোর্টে উঠার আগে পাঁচ পৃষ্টার একটা চিঠি খামে ভরে ওর হাতে দিলাম। সে তখনই খুলে পড়তে যাচ্ছিল আমি বাধা দিয়ে বললাম, এখন না, বাসায় গিয়ে পড়বে। সে হ্যা/না কিছুই না বলে খামটা ব্যাগে ঢুকিয়ে চলে গেল।
..
আরো বিশদিন পর আবার আরেকটা ডেইট ঠিক হল। আর সেইদিনটাই হয়ত আমাদের শেষ দিন। হাইকোর্ট থেকে যে কাগজ আসবে সেটায় দুজনের দুই সিগনেচারেই সব সম্পর্ক শেষ করে দিবে।
..
বাসায় ফিরে খাতা কলম নিয়ে বসে পরলাম। নিভু নিভু আলোর মধ্যে ওকে আমার পাশে আবিষ্কার করলাম। তাকে জিজ্ঞেস করলাম;
..
--তুমি কি সত্যি-ই আমাকে ছেড়ে চলে যেতে যাও?
--না রে বুদ্দুরাম। তোমাকে ছেড়ে আমি কোন তরীতে গিয়ে ঠাই পাবো বলো!
--তাহলে আমার থেকে দূরে চলে যেতে চাচ্ছো কেন!
--কোথায় দূরে যাচ্ছি! আমি তো তোমার কাছেই আছি। বিশ্বাস না হলে একবার ছুঁয়ে দেখো।
..
যেই আমি ওকে ছুঁতে যাবো ঠিক তখনই সে গায়েব হয়ে গেল। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের নিয়মে সে আবারো আমার কাছে হেরে গেল।
..
আবার আমি চিঠি লিখতে লাগলাম। দিনে দিনে আমার সব কাজের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হল আর ওর প্রতি আমার ভালোবাসা আরো দৃঢ় হল। প্রতিদিন কয়েকটা লাইন লিখে রাখি আর ওইগুলো নিয়ে চিন্তা করতে থাকি। সত্যি কথা বলতে ওকে নিয়ে চিন্তা করেই আজকাল আমার সময় কাটে। এখন আমি ঠের পাচ্ছি ভালোবাসা আসলে কি। এতদিন যেসমস্ত ভালোবাসা দেখানো হয়েছিল সবকিছুই ছিল যান্ত্রিক ভালোবাসা। যান্ত্রিকের মধ্যে কোন প্রান নেই, কোন জান নেই, কোন অনুভূতি নেই আর কোন ভালোবাসাও নেই।
..
আর মাত্র একটা রাত বাকি। পরেরদিন সকালে ফয়সালা হয়ে যাবে কার গন্তব্য কোথায় আর কার সাথে। তাই শেষ রাতে শেষবারের মত চিঠি লিখতে লাগলাম।
..


                              Bangla Romantic Golpo



"প্রিয় স্ত্রী আমার,
কেমন আছো জিজ্ঞেস করবো না। কারন এই অধিকারটুকু আমি হারিয়ে ফেলেছি। আমি ভালো আছি বললে তুমি হয়ত সেটা বিশ্বাস করবেনা। তোমাকে হারানোর পর থেকে আমি একটা কথা খুব ভালো করে উপলব্ধি করেছি। তুমি ছাড়া আমি, এই শান কিছুই না। তোমার ভালোবাসার সিক্ততা আমার বেঁচে থাকার নিশ্বাসের মত। তুমি ওইদিন কি লক্ষ করেছিলে আমি তোমার সামনে জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলছিলাম! কারন তোমাকে দেখার পর ওইদিন-ই আমি ঠিকমত নিশ্বাস নিতে পারছিলাম।
তুমি জানো, আমার নিজের কষ্ট আমাকে যতটুকু না কষ্ট দেয় তারচেয়েও অধিক কষ্ট পাই তোমার চলে যাওয়ার কষ্টে। আমি সবকিছু সয়ে যেতে পারি কিন্তু তোমার দেয়া এক চুল পরিমান কষ্টগুলো আমায় জর্জরিত করে ফেলে। সত্যি কথা বলতে, আমি সারাদিনে নিজের প্রতি এত যত্নশীল হইনা যত যত্নশীলতা আমি তোমার জন্য হই। তুমি ঠিকমত খেয়েছো কিনা, ঠিকমত ঘুমিয়েছো কিনা সবকিছুতে আমি তোমায় নিয়ে লেগে থাকি। তুমি সুস্থ আর সুন্দরভাবে যেন থাকো এটা চিন্তা করাই যেন আমার প্রধান কাজ হয়ে দাড়িয়েছে।
তুমি বাসা থেকে বেরিয়ে যাবার পর আমি প্রতিদিন শতবার মারা যাচ্ছি। তুমি বাসায় নেই এটা ভাবতেই যেন আমার বুক ফেটে যায়। বারান্দায় দাঁড়িয়ে শুধু তোমার ফিরে আসাটার জন্য অপলক চোখে তাকিয়ে থাকি। সারাদিন তোমার কথা ভেবে যাওয়া, তোমার হাতের সুস্বাদু রান্না খাওয়া, পাশা-পাশি চলা, ঘরের লোকজনদের সামনে আড়চোখে তোমাকে দেখা, বর্ষার পানিতে একে ওপরকে নতুন করে রাঙিয়ে দেওয়া সবকিছু এখনো মনে করে চোখের জল নষ্ট করি।
এখন আমি অপেক্ষা করছি শুধু তোমার জন্য, বিশাল আকাশ পরিমাণ ভালোবাসা তোমাকে দেবার জন্য। আমি আবারো তোমাকে ভালোবাসবো চোখে চোখ রেখে, আবারো ভালোবাসবো তোমার আঙুলের স্পর্শে। আমার দেয়া তোমার সকল দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেবো আমার বুকে নিয়ে। তোমার সব অস্থিরতা আমি শান্ত করবো। তোমার সব খারাপ লাগা আমি ভালোলাগায় পরিণত করে দেবো। তোমার সব ক্লান্তি আমি মুছে দেবো তোমার ললাটে চুমু এঁকে। তোমার প্রতিটা মুহুর্ত হবে আমার দেয়া ভালোবাসার আনন্দ আর উল্লাসে। বিশ্বাস করো ওগো আমার প্রিয়তমা, আমার ভালোবাসার প্রাচীর ভেঁদ করে কোন কষ্ট তোমাকে স্পর্শ করতে পারবেনা। শুধু একবারের জন্য আবার আমার বুকে চলে আসো। আমার প্রিয়তমার জন্য বুকভরা ভালোবাসা আর উত্তপ্ত বুক শীতল করার প্রত্যাশায় আমি অপেক্ষা করছি।
ইতি,
তোমার শান..................."
..
ভোরের আলো তখন আমার জানালা বেয়ে রুমে চলে আসলো। খামে চিঠি ভরে হাত-পা নাড়া দিয়ে চেয়ার-টেবিলেই একটু জিইয়ে নিলাম।
..
সকাল দশটার দিকে কোর্টে হাজির হলাম। সে হালকা আকাশী রঙের শাড়ি পরে এসেছে। অনেকদিন পর নিজের স্ত্রীকে দেখলাম। মনে একটা প্রশান্তি আসলো। ওর সাথে আজকে ওর বাবা-মা আর ছোট বোন এসেছে। আমি ওদেরকে সালাম দিয়ে একটু কথা-বার্তা বলে এড়িয়ে গেলাম।
..
অনেক্ষন ধরে পায়তারি করছিলাম ওর কাছে চিঠিটা পৌছে দেবার জন্য। কিন্তু কেউ না কেউ ওর সাথে থাকছেই। ইচ্ছে করছে ডিরেক্ট ওর সামনে চলে যাই কিন্তু পা এগোচ্ছে নাহ। বারবার মনে মনে বলি যে এখনও তো সিগনেচার করিনি, এখনো তো সে আমার বউ, তাহলে এত ভয় পাচ্ছি কেন! কিন্তু অজানা একটা ভয়ে ওর সামনেই যেতে পারছিনা।
..
ফন্দি আঁটছিলাম কিভাবে ওর সামনে যাওয়া যাবে। যদি কেউ জিজ্ঞেস করে কিজন্য এসেছি তারও একটা কারন দেখাতে হবে। আর কিভাবে ওর হাতে চিঠিটা পৌছে দিবো সেটাও। ভাবতে ভাবতে সিঁড়ি থেকে নামছি হঠাৎ সে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। আমি আতঁকে উঠলাম। এমন ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি যে আমি একটুও অবাক হইনি। সে আমার থেকে কয়েক কদম সামনে গিয়ে আমাকে বললো;
..
--লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকে দেখার কি হয়েছে! এখনো তো অফিশিয়াল এনাউন্সমেন্ট হয়নি।
..
আমি ঘাবড়ে গেলাম। আমি যে চুপিচাপি ওকে দেখতাম সে সব খেয়াল করেছে। এখন আর মিথ্যে বলে লাভ নেই। আর সত্যিটা বলতেও লজ্জা করছে।
..
--না মানে, ইয়ে, আরকি………… একটা জিনিস দেয়ার ছিল।
--কি!
..
আমি ব্যাগ থেকে আবারো একটা মোটা খাম বের করে ওকে দিলাম। সে খাম নিয়েই ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেললো। সে আমাকে জিজ্ঞেস করলো;
..
--আর কিছু?
--হুম, নাহ, আর কিছুনা।
..
আমার কাজ শেষ তাই আর কথা না বাড়িয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগলাম। তখন হঠাৎ পিছন থেকে সে ডাক দিল। আমি দাঁড়ালাম। পিছু দেখলাম। সে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। একেবারে কাছে আসতেই সে ব্যাগ থেকে একটা খাম দিল। আমি হাতে নিলাম। এটা নতুন খাম, গতবারের দেয়া আমার সেই খাম না। আমি খাম খুলতেই যাচ্ছিলাম তখন সে বললো; 
"উহু, এখন না, বাসায় গিয়ে পড়বে"।
আমি হাসলাম। সে আমার নিয়মটাই আমাকে দিয়ে করাচ্ছে। বেশ ইন্টারেস্টিং। তবে আমি এত নিয়ম-কানুন মানিনা। তাই কোর্ট এরিয়া থেকে বের হয়ে পার্কে চলে গেলাম। আস্তে আস্তে খামটা খুলতে লাগলাম। ওর শরীরের সুগন্ধও চিঠি থেকে বেরোচ্ছে। খাম থেকে চিঠিটা পুরো উন্মুক্ত করলাম।
..
"প্রিয় পাজি ছেলেটা,
তুমি কিভাবে আমার মনের সব কথা বুঝে ফেললে! আমি এতদিন যা যা ভেবে আসছি তুমি ঠিক তা তা-ই লিখে দিয়েছো। কিভাবে তুমি আমার মনের কথাগুলো বুঝেছো!
আমিও যে তোমাকে খুব বেশি মিস করি পাগলটা। তুমি আমাকে বুঝোনাই একটুও। তোমাকে একা ফেলে এসে আমারও দিনগুলো মরুভূমির মত শুন্য ছিল। যেদিকেই যাই সেদিকেই হাহাকার। শুধু তোমাকে খুজে বেড়াই সব জায়গায়। 
তুমি আমার এমন একটা মানুষ যার কথা শুনার জন্য আমি সবসময় ফোনটা হাতের কাছে রাখি। তোমার মুখটা দেখার জন্য রোজ রাত্রে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করি। তোমায় ছাড়া প্রতিটা মুহুর্ত শত বছরের চেয়েও দীর্ঘ সময় মনে হয়। তোমার চোখের আড়ালে এক মিনিট যেন একবছরেরও বেশি সময় মনে হয়। তবুও আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কষ্ট হলেও অপেক্ষা করাটা আজ সফল আর সুখময় হয়েছে। কারন একটাই তোমার ভালোবাসায় সিক্ত আমি আর তুমিও ভালোবাসো আমায়। তোমার সকল সফলতা তোমার, আর তোমার সকল বিফলতা আমি নিয়ে ওগুলো সফলকাম করে তোমাকে সফলতার উর্ধ্বে রাখাই আমার সব সুখ। আমি আবার তোমার কাছে ফিরে যেতে চাই। আমি জানি তুমি পারবে বিশ্বাসে ভর দিয়ে আবার ডানা মেলে তুলে উড়তে। আমি জানি তুমি আবার ফিরে আসবে সব জড়তার সংশয় মাড়িয়ে নতুন করে ভালোবাসার মিলন-মেলা সাজাতে। আমি অপেক্ষা করছি আমার সাতজনমের একটাই স্বামীর জন্য।


..
আমি জানি তুমি বরাবরের মত ধৈর্য ধরে রাখতে পারো না। তাই তুমি বাসায় না গিয়ে যেকোন জায়গায় চিঠি খুলে ফেলতে পারো। তাই আমি তোমার পিছন পিছন চলে আসছি। একবার পিছনে তাকাও।"
..
চিঠিটা পড়া শেষ করতেই পিছনে তাকালাম। দেখি সে দু-হাত বেধে দাঁড়িয়ে আছে। আমি আর এক মুহুর্ত না দাঁড়িয়ে দৌড়ে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলাম। সেও পিছন থেকে দুহাত দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
..
--আমি জানি তুমি চিঠি খুলে ফেলবে।
--তুমি জানো বলেই তো লিখেছো।
--খুব পাজি তুমি।
--আর তুমি খুব লক্ষ্মীমণি। 
--শান, তুমি আমাকে এতটাই ভালোবাসো!
--হ্যা।
--তাহলে এতদিন কষ্ট দিয়েছিলে কেন!
--আমি বুঝিনি তোমার ভালোবাসাটা,
--আমিও বুঝিনি তোমার চাওয়া-পাওয়ার হিসেবটা। আমি জানিনা আমি তোমাকে কতটুকু ভালোবাসতে পেরেছি তবে এতটুকু জানি যে আমি তোমার মত করে ভালোবাসতে পারিনি। আর আমি তোমার মত ভালোবাসার চেষ্টাও করিনি। কারন আমি চাইনা তোমাকে প্রথম স্থান থেকে সরিয়ে আমি প্রথম স্থানে থাকি। আমি চাই তুমি সর্বদা সব জায়গায় সকল স্থানে প্রথম যেন থাকো। এটাই আমার প্রিয় সুখ।
--আর তোমাকে আবার ভালোবেসে উড়তে শিখাটা আমার প্রিয় অসুখ।
--তাই!! 
--হ্যা।
--আচ্ছা, তার আগে দেখি তুমি এত বড় চিঠিতে কি লিখেছো।
--উহু, এখন নাহ, বাসায় গিয়ে পড়বে।
--হিহি। আর তুমি জানো যে আমি ধৈর্য্য ধরতে পারি।
--হাহা। হ্যা, চলো তারাতারি বাসায় যাই আর গিয়ে দেখি এত বড় চিঠিটে কি লিখা আছে।

গল্প:- আবারও 
লিখা:- Aariyaan Shawon
SHARE

Author: verified_user