Thursday

গল্পঃ-পার্থক্য | লেখকঃ- এইচ এম মারুফ

SHARE

                                                                         গল্পঃ-পার্থক্য
                                                                   লেখকঃ- এইচ এম মারুফ!


Bangla Golpo





-মামা! বনশ্রী যাবেন?
-হ যামু!
-কত?
-চল্লিশ টাকা
-ত্রিশ টাকা দিমু যাবেন?
-না মামা! যামু না। 


  • -এখানের লিগ্যাল ভাড়া তো ত্রিশ টাকাই। ভাড়া এতো বেশী চান কেন আপনারা!
লিগ্যাল ভাড়া চল্লিশ টাকা হওয়া সত্ত্বেও আমজাদ খুব বড় গলায় বলল যে ত্রিশ টাকা ভাড়া।
 তার পকেটে আছেই ত্রিশ টাকা। তাই ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও নাটক করতে হচ্ছে যে বাসাবো 
থেকে বনশ্রী ত্রিশ টাকা ভাড়া। কিন্তু চার-পাঁচটা রিক্সাকে বলেও ত্রিশ টাকায় রাজি করাতে পারলো না।
 চল্লিশ টাকার কমে কেউ যাবে না। সে সবাইকেই ধমকের সুরে বলল যে এখান থেকে বনশ্রী ত্রিশ টাকা ভাড়া।
 সে নিজের পকেটে হাত দিল। একে একে চারটা পকেট-ই খুঁজে দেখলো। কিন্তু ত্রিশ টাকার বেশী একটাকাও খুঁজে পেল না।
 অনেক সময় পকেট জরুরী মুহূর্তে পকেটে হাত দিলে চিপা-চাপা থেকে পাঁচ-দশটাকা বের হয়ে যায়।
 সে এই বিশ্বাস নিয়েই চারটা পকেট হাতরে দেখেছিল। কিন্তু কোন ফায়দা হয়নি। ত্রিশ টাকা ত্রিশ টাকাই রয়ে গেল। 
একবার ভাবলো কোন এক রিক্সাওয়ালাকে বলবে যে তার পকেটে ত্রিশ টাকাই আছে। ত্রিশ টাকায় যাবে কি না।
 পর মুহূর্তেই আবার ভাবলো যে দশ টাকার জন্য রিক্সাওয়ালার কাছে ছোট হবে। তাই সে হাঁটার জন্য উদ্ধুত হলো। 
তখনি এক রিক্সাওয়ালা এসে বলল, মামা! উঠেন!
আমজাদ আর কিছু না বলেই রিক্সায় উঠে পরলো। সে সর্বপ্রথম এই রিক্সাকেই জিজ্ঞাসা করেছিল যে বনশ্রী যাবে কি না!
সে বনশ্রী যেতে রাজি হলেও ত্রিশ টাকার কম ভাড়ায় যেতে রাজি হয়নি।
 কিন্তু এখন সে নিজে থেকে এসেই রিক্সায় উঠতে বলল। কিছুক্ষণ আমজাদ মনে মনে কি ভাবলো তার পর রিক্সাওয়ালাকে উদ্দেশ্য করে বলল,



  • -মামা! বলেন তো আপনারা এমন কেন?

 তখন বললাম ত্রিশ টাকা ভাড়ায় যেতে। রাজি হলেন না। আমাকে দশ মিনিট হয়রান করে এখন রাজি হলেন। রাজি যেহেতু হয়েছেন আমাকে হয়রান না করেই যেতে রাজি হতেন!
-মামা! আমি তিরিশ টাকা ভাড়ায় যাইতাম না
। আমি কেন এখানের কোন রিক্সাওয়ালাই যাইতো না। আপনের পকেট হাতরানো দেইখা মনে হইল 
আপনার কাসে তিরিশ টাকাই আছে এল্লিগা আমি যাইতে রাজি হইয়া গেলাম। মানুষের কাছে টাকা না 
থাকলে তো আর কিছু করার নাই। দশটা টালার লাইজ্ঞা কি আর তারে কষ্ট দিমু।
একজন রিক্সাওয়ালার এমন ভাবনা দেখে সে লজ্জায় মাথা নুয়ে ফেলল।
কিছু দিন আগে সে ফার্মগেটে দাঁড়িয়ে ছিল। তার সামনে এসে কোর্ট-টাই পড়া এক ভদ্রলোক রিক্সা থেকে নামল।
 ভদ্রলোক নাক ছিটকে বলল, “উহু কি ধুলা! গাড়িটাও নষ্ট হওয়ার সময় আর পেল না।”
ভদ্রলোক নিজের পকেট থেকে মানিব্যাগটা বের করতে করতে জিজ্ঞাসা করলো, তোমারে কত দিতে হবে?”
তারপর বুড়ো রিক্সাওয়ালা বলল, স্যার! ভাড়া তো ১৫টেকা। পাঁচটা টেকা বারাইয়া দিয়েন।
 কয়দিন ধইরা আমার মাইয়াডার শরীর খারাপ। ডাক্তারের কাছে লইয়া যাইতে হইবো।
কোর্ট-টাই পড়া ভদ্রলোকটি চোখগুলা বড় বড় কইরা 
মানিব্যাগ থেকে ১০টাকা বের করে রিক্সাওয়ালার মুখে মেরে বলল, ফকিন্নির বাচ্চা! 
সাহস তো কম না। পাঁচ টাকা বেশী চাস! টাকা কি গাছে ধরে!

বুড়ো রিক্সাওয়ালা কিছু বলতে পারলো না। শুধু কোর্ট-টাই পড়া ভদ্রলোকটার পথের দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।
“মামা নামেন!” রিক্সাওয়ালা আমজাদকে ডেকে বলল।
আমজাদ রিক্সা থেকে নেমে রিক্সাওয়ালাকে ভাড়াটা দিল।
 রিক্সাওয়ালা ভাড়াটা নিয়ে রিক্সার প্যাডেল মারতে মারতে অদৃশ্য হয়ে গেল।
 আমজাদ রিক্সার পথের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ভাবলো যে কোর্ট-টাই পরা ভদ্রলোকটাও
 মানুষ আর আজকের এই রিক্সাচালকটাও মানুষ। পার্থক্য শুধু এতোটুকুই যে একজনে মাসে কয়েক লাখ 
টাকা ইনকাম করেও পাঁচ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে কারো চিকিৎসায় সাহায্য করতে বুক কাপে। আরেকজন মাসে
 হাজার বিশেক টাকা ইনকাম করেও একজনের হেঁটে যেতে কষ্ট হবে বলে দশ টাকা
 ছেড়ে দিতে কোন দ্ধিধাবোধ করে না।

bangla book online
bengali ebook collection
bengali detective story books pdf free download
bangla golpo book
bengali story books pdf
all bangla books pdf
buy bengali books online
bengali pdf

SHARE

Author: verified_user