Friday

মেয়েদের ক্রাশ || আরাফাত রুবেল | Soto Golpo

SHARE

Meyeder Crush Soto Golpo
মেয়েদের ক্রাশ



আদনান কলেজের প্রায় সব মেয়েদের ক্রাশ।আদনানের মত একটা হ্যান্ডসাম ছেলেকে বয়ফ্রেন্ড হিসেবে পেতে সব মেয়েই চায়। বলতে গেলে আদনানের জন্য কলেজের প্রায় সব মেয়েরাই পাগল। কিন্তু আদনান কোনো মেয়েকেই পাত্তা দেয়না। এই পর্যন্ত প্রায় দশটা মেয়ের প্রোপজ ও ফিরিয়ে দিছে।


Soto Golpo

এইতো কিছুদিন আগে কলেজের সব চেয়ে সুন্দরী মেয়ে রিমি ও ওর বান্ধুবীদের সাথে বাজি ধরে বলে যে আদনান ওর প্রোপজ কোনো ভাবেই ফিরিয়ে দিবেনা।কারন রিমিও এই পর্যন্ত প্রায় ২০/২৫টা প্রোপজ ফিরিয়ে দিছে। তাই রিমি full conference নিয়ে আদনানকে প্রোপজ করলো কিন্তু আদনান সাথে সাথেই রিমির প্রোপজ ফিরিয়ে দেয় । হয়তো আদনানের এই আচরনের কারনেই মেয়েরা ওর প্রতি আরো বেশি অার্কষিত


.
অন্যসব মেয়েদের মত ইরাও আদনানকে খুব পছন্দ। কিন্তু ইরা জানে সে আদনানের পাশে যোগ্য না। ইরা খুব মেধাবী একটা মেয়ে কিন্তু আদনানের পাশে দাড়ানোর জন্য যে রুপের প্রয়োজন সেটা ইরার নেই।
একদিন ইরা বান্ধুবীদের সাথে মজা করে বলেই ফেললো যে আদনান কে তার খুব পছন্দ। বন্ধুবীরা ওর মুখ থেকে এই কথা শুনে এমন ভাবে হাসতে শুরু করলো যে মনে হয় তারা পৃথিবীর সব চেয়ে হাস্যকর জোকস্ টা ইরার মুখ থেকে শুনছে।
বান্ধুবীরা বলতে লাগলো "তুই কি দেখে আদনান কে পছন্দ করতে গেলি!? দেখিস না সেদিন রিমির প্রোপজও আদনান ফিরিয়ে দিল আর তুই!!!" বলেই সবাই অট্টহাসি শুরু করে দিল।
ওরা সবাই ইরার সাথে এমন ভাবে মজা করতে লাগলো দেখে মনে হয় ইরা দেখতে খারাপ তাই কাউকে পছন্দ করার অধিকার তার নেই।
ইরাও মনে মনে ভাবে আসলেইতো তার কি যোগ্যতা আছে আদনান কে পছন্দ করার! 
পরেরদিন ইরা ফর্সা হওয়ার জন্য ক্রিম আর সাজুগুজু করার জন্য বিভিন্ন প্রসাধনী কিনে আনলো।
.
আজ ইরা খুব সেজেগুজে কলেজে গেলো। আজ ওকে খুব সুন্দর লাগছে ও মনে ভাবছে আজ হয়তো অাদনান ওকে পছন্দ করবে।
কলেজে যাওয়ার পর সাজুগুজু আবস্থায় দেখে সবাই মজা করতে লাগলো।
সবাই এমন ভাবে মজা করতে লাগলো মনে হয় তারা কোনো সার্কাসের বানর দেখছে।
এতে ইরা খুব কষ্ট পেলো। একটা সময় আদনানের কানেও কথাটা পৌছালো যে ইরা তাকে পছন্দ করে।
আদনান কথাটা শুনে মনে মনে বললো ছিঃ! এমন একটা মেয়ে তাকে পছন্দ করে!! কি যোগ্যতা আছে এই মেয়ের আমাকে পছন্দ করার! 
.

Bangla Romantic Story

পরেববার যখনই ইরার সাথে দেখা হতো আদনান এমন একটা ভাব নিয়ে হেটে যেতো মনে সে কোনো পঁচা নর্দমার পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছে। আদনানের এই রকম আচরনে ইরা আরো বেশি কষ্ট পেলো।
বলতে গেলে ইরার বাঁচার ইচ্ছাটাও নষ্ট হয়ে গেলো।
ইরা কলেজে যাওয়া এবং খাওয়া দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেয়।
.
ইরার এই রকম পরিবর্তন দেখে দেখে ইরার মা খুব চিন্তিত হয়ে পড়ে।
ইরাকে অনেকবার জিঙ্গেসা করার পর ইরা ওর মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে সব খুলে বলে। ইরার মুখে এই কথা শুনে ওর মা মুচকি হেসে মেয়ের কানে কানে কি যেনো বললো। মায়ের মুখে এই কথা শুনে ইরার মুখেও হাসি ফুটে উঠে।
.
ইরা লেখা পড়ায় খুব মনযোগী হয়ে যায়। বারাবরের মত সে খুব ভালো রেজাল্ট করতে থাকে। যে বান্ধুবীরা তার রুপ নিয়ে মজা করতো আজ তারাই ওর রেজাল্ট দেখে হিংসা করতে লাগলো। HSC তে সে খুব ভালো ভাবেই পাশ করলো। ইরার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। তাই সে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পস্তুতি নিলো।
একটা সময় সে মেডিকেলেও চান্স পেয়ে গেলো। আর পাবেইবা না কেন! ও যে খুব মেধাবী।
.
.
আট বছর পরের কথা! ইরা আজ ঢাকা মেডিকেলের বড় একজন ডাক্তার।তার নিজের সাজুগুজু করাতো দূরের কথা নিজের চেহারার দিকেই তাকানোর সময় নেই। সে এখন রুগী দেখতে ব্যস্ত।
.
ইরার মা ইরাকে বললো! "দেখ মা অনেক গুলো বিয়ের প্রস্তাবই তো ফিরিয়ে দিলি! এই ছেলেটাকে দেখ একেবারে রাজ পুত্রের মত দেখতে তা ছাড়া ছেলেটা খুব ভালো একটা চাকরি করে। এই ছেলেটাকে অন্ততো বিয়ে কর।"
ইরা বারবরের মত এই প্রস্তাবটাও ফিরিয়ে দেয়। 
ইরা তার মাকে বলে " দেখো মা এখন আমার বিয়ে কারার সময় নেই এখন আমার রুগী দেখার সময়।"
.
ইরার মা ইরার দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবে এই মেয়েকে নিয়েই সে এক সময় কত চিন্তা করতো, মেয়ে দেখতে খারাপ দেখে কোনো ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দিতে পারবে কিনা। কিন্তু আজ এই মেয়েই কত ভালো ভালো প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে।
ইরার মা ইরাকে বলে " আচ্ছা মা তোকে সেদিন কি বলছিলাম সেটা তোর মনে আছে!?"
ইরা মুচকি হেসে বলে "মনে থাকবে না কেন মা!? সেদিন তুমি বলেছিলে, দেখ মা রুপের মোহটা ক্ষণস্থায়ী! রুপ চিরজীবন থাকেনা যতদিন রুপ থাকবে ততদিনই মোহ থাকবে, রুপ নষ্ট হয়ে গেলে মোহটাও কেটে যাবে, কিন্তু গুন চিরস্থায়ী, মিত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের গুনটা স্থায়ী থাকে। তাই নিজেকে রুপবতী হিসেবে গড়ে না তুলে গুনবতী হিসেবে গড়ে তোলো দেখবে ওই রকম শত শত ছেলে তোমার পিছে ঘুরছে।"
ইরার জীবন আজ সফল। ইরা রুপ দিয়ে নয় গুন দিয়ে সব কিছু জয় করছে।
.
আর কলেজের সবার ক্রাশ সেই আদনান কোনো ভার্সিটিতে চান্স না পেয়ে কোনো রকম একটা প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে লেখাপড়া শেষ করে ছোটোখাটো একটা চাকরি করছে। কাজের চাপে আর রোদে পুড়ে তার সেই চেহারার উজ্বলতা আর নেই। যে আদনান এক সময় সব মেয়েদের ক্রাশ ছিল তার দিকে এখন কোনো মেয়েই ফিরে তাকায় না। যে আদনান এক সময় মনে করতো ইরার কোনো যোগ্যতা নেই আদনানকে ভালবাসার আজ সেই আদনানেরই কোনো যোগ্যতা নেই ইরাকে বিয়ে করার।
.
--------
SHARE

Author: verified_user