Thursday

Bangla Bhooter Golpo "Oedipus" By : Anjum Nishat Ritu

SHARE

 Bangla Bhooter Golpo  "Oedipus"  By : Anjum Nishat Ritu


 Bangla Bhooter Golpo  "Oedipus"  By : Anjum Nishat Ritu

"শহরের নতুন ত্রাসে 'Oedipus'। সুন্দর চোখের তালাশে নব বীভৎসতা"


কি হাস্যকর কথা বার্তা না রে?। পেপারটা পাশে রাখতে রাখতে সারিন জিজ্ঞাসা করলো ইধিকাকে। ইধিকা শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের সব থেকে নিরীহ মেয়ে। কথা বার্তা বলে না বললেই চলে। সারিন উত্তরের আশা না করে চলে যাচ্ছিলো, ঠিক তখনি চশমাটা ঠিক করে খুব নরম সুরে ইধিকা বললো,


_হাস্যকর কেন হবে? ব্যাপারটা ভয়ানক মনে হয় নি তোর?
_তোর মুণ্ডু।
-ঠিক আছে।
-সুন্দর চোখের তালাশে নব বীভৎসতা" এটা কোনো শিরোনাম হলো?
- তাহলে তুই দিয়ে দে সুন্দর একটা শিরোনাম।
-Ophthalmology এর স্যারের চোখ দেখেছিস?
-না দেখি নি। শুনেছি পাথরের চোখ। সুন্দর বুঝি?
- হার্ট বিট ড্রপ হয়ে যাবার মত সুন্দর।।
- Heart?
- জ্বী।!
-Heart is a muscular organ which pumps blood through the blood vessels of the circulatory system.
-চুপ চুপ চুপ কর মা। উফফ তোকে নিয়ে আর পারলাম না। পড়তে থাক। আমি উঠি।
{২দিন পর}
-ইধিকা? এই ইধিকা?
-কি হলো? হাঁপাচ্ছিস কেনো?
-আমাদের।...আমাদের...
-আমাদের কি? (একটু বিরক্তি সুরে)
- বিল্লাল মামার চোখ উপড়ে নিয়ে গিয়েছে, সবাই বলছে এটা Oedipus এর কাজ।
-কি যা তা বলছিস? কিছু খেয়েছিস নাকি? (রেগে বলে উঠলো)
-চল, চার তলায় গিয়ে নিজের চোখে দেখে আসবি।
সাদা ধবধবে বিছানায় সুয়ে কাতরাচ্ছে কলেজের দারোয়ান বিল্লাল শেখ। এত নিরীহ মানুষটাকেও ছাড়লো না পিশাচটা।!?
-স্যার!?
-এসো ইধিকা।
-কি অবস্থা ওনার?
-ভালো না। চোখের ভেতর ভিনেগার ঢেলে দিয়েছে।
-উফফফফ ঈশ্বর।
-“কাজটা নিশ্চিত ভাবে Oedipus এর, এতে কোনো সন্দেহ নেই। হট পোকার দিয়ে চোখ উপড়ে নিয়ে বয়েলিং ভিনেগার ঢেলে দিয়েছে নরপিশাচটা। গ্রীক মাইথোলজীর বর্বরতা। অবশ্য নাম ও ব্যবহার করছে ইডিপাসের” উত্তর দিলেন Ophthalmology এর হেড শামীম স্যার
ইধিকা চুপ করে বেরিয়ে এলো। সহ্য ক্ষমতার বাইরে এসব। কি গেম এটা। আচ্ছা বিল্লাল শেখের চোখ কি সুন্দর ছিলো? তেমন বিশেষত্ব কখনো দেখা যায়নি। তবে হ্যাঁ নজর তীক্ষ্ণ ছিলো। বিড়ালের মত রাতে দেখতে পেতেন।
এটাই কি তবে কাল হয়ে দাঁড়ালো?

আমার এহরিমকে নিয়ে ভয় করছে ইধিকা। সারিনের কথায় হুঁশ ফিরলো ইধিকার।
-কেনো? এহরিমকে নিয়ে ভয়ের কি হলো? কি করলো সে আবার?
-ওর চোখও তো সুন্দর। ব্রাউন আইস। ভুলে গেলি?
-(লজ্জ্বা পেয়ে) না ভুলি নি। এভাবে ভাবিস না সারিন। তোর ভালোবাসা ওর রক্ষা কবচ হবে দেখিস।
-আচ্ছা ইধিকা, তুই এখনো লজ্জ্বা পাস কেনো এহরিমকে নিয়ে? তুই কি ওকে এখনো ভালোবাসিস?
-সারিন! আমি তোর ভালোবাসায় নজর দিবো? আর তুই তো জানিসই আমি প্রেম ভেবেছিলাম। এহরিম না।
- কিন্তু ইধিকা,আমি তো দিয়েছিলাম।
-সেসব অনেক আগের কথা। তুই নজর কবে দিলি? প্লিজ এসব বলে আমাকে এত ছোট করিস না। ওত ছোট বেলার ব্যাপার এখনো ধরে রেখেছিস কেনো।
-তুই আসলেই পার্বতী । এত ভালো কেন তুই?
-পঙ্গু মেয়েদের ভালো হতে হয় রে।
(নীরবতার এক রেশ)
ইধিকা বড্ড নরম মেয়ে। বাসায় একা থাকে। মা বাবা কেউ নেই। বছর চারেক হলো মারা গেছেন। ছোট বেলায় এক্সিডেন্টে বাম পা অকেজো হয়ে যাওয়ায়, সাধারণ মানুষের মত হাঁটতে পারে না মেয়েটা। স্বর্ণকেশী,শ্যামলা মায়াবতী মেয়ের ওপর বড্ড করুণা করে সবাই। তাই সবার অন্তরালে চলে এসেছে। অপরদিকে সারিন সুন্দরী ধনীর দুলালী। চটপটে, ঠিক ইধিকার উল্টো। ক্লাস সিক্সে থেকে ওরা বেস্ট ফ্রেন্ডস। এহরিমের এর সাথে একটা মিষ্টি সম্পর্কে ক্লাস সেভেনে জড়িয়ে গিয়েছিলো ইধিকা,বাচ্চা বয়সের সেটাকে নামও দিয়ে দেয় ইধিকা 'প্রেম'। সময়ের সাথে এহরিমান বদলে যায়। ইধিকাও বুঝে যায় আর যাই হোক এটা প্রেম না। ইতি হয়ে যায় সেখানেই। সারিনের সাথে জড়িয়ে যায় এহরিমান। ইধিকা এটা খুব সহজে মেনে নেয়। বোনের সুখে তার সুখ। ইধিকা সারিনকে কখনোই অপরাধবোধে ভুগতে দেয়নি এব্যাপারে। ২বছরের বিরতিতে আবার ওরা এক হয় মেডিকেলে। দেখতে দেখতে পাঁচটা বছর কেটেও যায়, দিন শেষে ওরা বেশ ভালো আছে।
এসব ভাবতে ভাবতে হুট করে দেখে ওয়ার্ড বয় সুমন খুঁড়িয়ে, খুঁড়িয়ে পুকুরের দিকে যাচ্ছে। ইধিকা লুকিয়ে থেকে দেখলো রক্তাক্ত হাত রগরে রগরে ধুচ্ছে সে। ইধিকা সামনে গেলো। ওকে দেখে চমকে তুতলে বলা শুরু করলো
-আজকে খানা পিনার আয়োজন চলতেছে আপামনি,শামীম স্যারের খরচে, মুরগী জবেহ করলাম।
-আমি তো কিছু জিজ্ঞেস করিনি, সুমন ভাই।
-(চমকে) না এমনি বললাম আপামনি। আচ্ছা যাই আমি।
-পায়ে কি হলো আপনার?
-কেটে গেছে আপা।(বলে দ্রুত গতিতে চলে গেলো)
কয়েকদিন পর... বিল্লাল শেখের জবানবন্দিতে পুলিশ এমন কোনো তথ্য পায় নি যাতে করে অপরাধীর কিছু হিন্টস মেলে। শরীরে মাত্রাতিরিক্ত ক্যাটামিনর দরুন বিল্লালের কিছুই মনে নেই। তার নার্ভ সিস্টেম সম্পূর্ণ কন্ট্রোল করে কাজটা করেছে নরপিশাচটা।আর কোনো তথ্য না পেয়ে হতাশ হয়ে চলে যাচ্ছিলো অফিসার জামান, ঠিক তখনি- বিল্লাল খুব মিইয়ে যাওয়া সুরে বল্লো,
-একটা ছায়া স্যার,টাইনা আগাইতেছিলো।
-মেয়ে না ছেলে?
-শরীল তো বুঝি নাই স্যার,তবে হাটন দেইখা ব্যাডা ছাওয়াল মনে অইলো। আর আমগো এলাকায় অতো রাইতে মাইয়া মানুষ আইবার সাহস করবো না স্যার।
-তারপর?
-মিলায় গেলো। আমি আগাইয়া দেখতে যাই।তার পর আর কিছু মনে নাই স্যার। যখন টের পাইলাম, যন্ত্রণায় আমার মাথা শরীল ছিইর‍্যা যাইতেছিলো।
-হুম।
অফিসার খুব চিন্তিত হয়ে বেরিয়ে যাবে তখন ইধিকা বলে উঠলো।
-অফিসার?ক্যাটামিন কিন্তু খুব সহজলোভ্য কিছুনা। তার মানে যে কাজটা করছে তার চিকিৎসাবিদ্যা সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে।
-আপনি?
-''উনি ইধিকা, আমাদের কলেজের অন্যতম সেরা ছাত্রী।'' পাশ থেকে উত্তর দিলেন Ophthalmology এর শামীম স্যার।
চোখ কুঁচকে ইধিকাকে দেখে বেরিয়ে গেলো...। (রুমে চাপা গোঙ্গানী ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছে না). দূরে একটা ছায়া মিলিয়ে গেলো।
পরেরদিনের হেডলাইনে বড় করে ছাপা হলো ''শহরের নামকরা ফটোগ্রাফার শাওন কাবীরের চোখ গেলে দিয়েছে দুর্বিত্তরা। কাজটা কি আদৌও দুর্বিত্তের? নাকি ইডিপাসের!!?


শাওন কাবীরের ঘটনার পরে পুলিশ,ডিটেক্টিভ বেপোরা হয়ে ওঠে কেস সল্ভ করতে। এমন কোনো হিন্টস আপরাধী রেখে যাচ্ছে না,যাতে কিছু অন্তত পাওয়া যায়।
এস কাবীরের সাথে দেখা করার অনমুতি মিলছে না কারো। ডাক্তার পুলিশ ছাড়া কাউকে এ্যলাউ করে নি। ইন্সপেক্টর জামান, ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করলো
-এস.কাবীরের কাজটাও কি ইডিপাসের?
-বলা যাচ্ছে না। এস.কাবীরের চোখে আমরা কোনো অম্ল পদার্থ পাইনি। শুধু রেটিনা মারাত্মকভাবে জখমিত হয়েছে।
-তাহলে কি ওনার দৄষ্টি, ফিরে আসবে?
-Let's hope for the best. কিন্তু একদিনের মাঝে কিছু বলা কি সম্ভব?
-ওনার শরীরে ক্যাটামিন পাওয়া যায় নি?
-না। উনি ড্রাইভিং এর সময়ে ড্রাঙ্ক ছিলেন। শরীরে প্যাথিড্রিন পাওয়া গিয়েছে।
-হুমমমম...
(জামান আরোও চিন্তিত হয়ে গেলেন। কাজটা যে ইডিপাসের এটার ভিত্তি নড়ে যাচ্ছে। ইডিপাসের চোখ উপড়ে নেয়ার ধরণ আর শাওন কাবীরের ঘটনা কোনভাবে এক হচ্ছে না কেনো? তাহলে কি কাজটা অন্য কারো?
অথচ ইন্সপেক্টর আন্দাজ করতে পারলেন না, ডক্টর শামীম বেমালুম চেপে গেলেন স্কোপোলামিনের কথা)
শাওনের এই খবর শুনে কক্সবাজার থেকে ছুটে এলো এহরিম। বন্ধুর থেকে বেশি ভাই এর এ অবস্থা দেখে এহরিম একদম ভেঙে পড়েছে। হাজার প্রশ্নের কোন সুরাহা মিলছে না। শহরের ত্রাস তার বন্ধুর জীবনে নেমে এলো? কিন্তু কেনো? শাওনের চোখ তো সাধারণ ছিলো। চশমার পিছনে ঢেকে থাকা চোখ খুবি সাধারন। চোখ নিয়ে কার কি লাভ!!! শহরে এই নিয়ে তান্ডব এর সংখ্যা ৬টি। ১২ জোড়া চোখ। সব গুলো চোখেরই কি বিশেষত্ব ছিলো? এসব ভাবতে ভাবতে এহরিমের চোখ পড়লো শাওনের ক্যামেরার ব্যাগে। একগোছা সোনালী চুল। গ্লাভস পড়ে চুলটা হাতে নিয়ে ডক্টর শামীমের কাছে ছুটে গেলো DNA টেস্টের জন্য। যদি এর মাধ্যমে অপরাধীর কাছে যাওয়া যায়। এভাবে ঘন্টা দুয়েক কেটে যায়। শাওন এহরিমকে ডাকে।
- বস এহরিম, কেমন আছিস?
-{মাথা নীচু করে আছে, হাতে দু ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো}
-কথা বলিস নে কেনো? উত্তর দে?
-কি হয়েছিলো তোর সাথে ভাই?
-যা হবার হয়ে গেছে, ভাগ্য বলে মেনে নে।
-আমি শুনতে চাচ্ছি।
-আমি গাজীপুরের একটা ইভেন্ট শেষে ফিরছিলাম। ড্রাইভ আমিই করছিলাম। ফাঁকা রাস্তা। হটাৎ করে সামনে এক লোক এসে পড়ে। আমি হার্ড ব্রেক করি কিন্তু ততক্ষনে দেরী হয়ে যায়। আমি নেমে দেখি উনি ব্যাথা পাননি ঠিকি কিন্তু একটা পা টেনে টেনে উঠতে চেষ্টা করছে। আমি ওনাকে সাহায্য করতে চাইলাম, উনি ফিরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। তার একটু পরেই দেখি সে বসে আছে। আমি লিফট দিতে চাইলাম। অনেক ভেবে রাজী হলেন।
-তারপর?
-ড্রাইভ করছিলাম,দেখি উনি হাঁপাচ্ছেন।আমাকে ব্যাগ থেকে ইনহেলার বের করে দিতে বল্লেন। আমি নীচু হয়ে যেই বের করতে গেলাম ঠিক তারপর থেকে আর কিছু মনে নেই আমার।
-চেহারা কি মনে আছে ভাই?
-বেশ বৃদ্ধ মনে হলো। একটু লম্বা চুল। কাঁধ বরাবর। তোতলা মনে হয়েছিলো আমার কথা খুব আস্তে আস্তে বলছিলেন। কথা জড়িয়ে যাচ্ছিলো কথা বলার সময়।
(এহরিম শাওন দুজনেই চুপ করে রইলো। কিন্তু কেউ বুঝলো না একটা ছায়া পাশ থেকে সরে গেলো।)
ঠিক ঐদিন রাতে সারিন খুব মন দিয়ে অবস্টেট্রিকস পড়ছিলো। সামনে ফাইনাল প্রফ। বাইরে অন্ধকারে দেখলো একটা ছায়া টেনে টেনে শামীম স্যারের বাসা থেকে খুব নীরবে বেরিয়ে যাচ্ছে। সারিন দৌড়ে বারান্দায় গিয়ে দেখতে যেতে যেতে ছায়া মূর্তিটা মিলিয়ে গেলো।
চিন্তার ছাপ সারিনের মুখে। ইধিকাকে ফোন দিবে কিনা ভাবতে ভাবতেই, ইধিকা নিজেই ফোন দিলো। ওর বিড়ালের বাচ্চা হয়ছে। এত খুশি নিয়ে মেয়েটা কথা বলছিলো সারিন ইধিকাকে ঐ ব্যাপারে বললো না কিছুই।
কিন্তু সকাল বেলা ইধিকা পাগলের মত কাঁদতে কাঁদতে ছুটে আসে। সারিন হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞাসা করে
- কি হয়েছে?
-সারিন, রা.রাতুল।
-কি হয়েছে রাতুলের?
-চল প্লিজ আমার সাথে
-না বল আগে কি হয়েছে?
- কাল রাতে ক্যামস্ট্রি ল্যাবে কাজ করছিলো তখন নাকি রাতুলের চোখে এসিড পড়েছে। প্লিজ চল ওকে একা রাখা ঠিক হবে না।
(ওরা ২জন ৩তলার কেবিনে পৌঁছালো,তখন সুমন বেরিয়ে যাচ্ছিলো। ইধিকা থামাতে গেলে সারিন মানা করে। ওরা রাতুলের কাছে যায়। ছেলেটার চিৎকার সহ্য করবার মত না। সবাই আছে। কিন্তু সুমন যে রুমের বাইরে নিঃশব্দে দাঁড়ানো এটা কেউ লক্ষ্য করলোনা।)


 Bangla Bhooter Golpo 

 সারিন ইধিকাকে পুরো ক্যম্পাসে খুঁজে বেড়াচ্ছে। অনেক খুঁজে পুকুরের পাশে তাকে পাওয়া গেলো, খুব মন দিয়ে পড়ছে।
-তুই এখানে? আর আমি খুঁজে খুঁজে মরি।
-কেনো রে? আবার কি হলো?
-রাতুলের কেসটা শামীম স্যার হ্যান্ডওভার করেছেন, জানিস?
-কি বলছিস কি?
- হ্যাঁ। লুতফেন্নেসা ম্যাম হ্যান্ডেল করবে। তুই কি স্যারের সাথে একটু কথা বলবি,এ বিষয়ে?
- চল, যাই স্যারের কাছে।
(কিছুদূর যেতে না যেতেই, স্যারকে ক্লাস করিডোর থেকে বেরুতে দেখা গেলো। ওদের দেখে একটু চমকে গেলেন মনে হলো। তবে হাসি মুখে জিজ্ঞাসা করলেন)
-কি খবর ইধিকা,সারিন? কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
-''আপনার কাছেই যাচ্ছিলাম স্যার''-বললো সারিন
-কেন বলুন তো?
-ইধিকা আস্তে করে বললো ''স্যার,রাতুলের কেসটা আপনি কেনো হ্যান্ডওভার করে দিলেন? ''
-ইধিকা, আমি কিছুদিনের জন্য দেশের বাইরে যাবো। তখন কেসটা অন্য কারো না কারো কাছে যেত। তার থেকে ভালো না প্রথম থেকেই ম্যামের আন্ডারে থাকুক? রাতুলের কোনো অযত্ন হবে না। সেটা নিয়ে ভাবতে হবে না। বুঝলেন?
(চুপ করে রইলো দুজন)
-আসি তাহলে, হেসে বিদায় নিলেন শামীম স্যার।
ইধিকার কেন যেন মনে হলো, স্যার হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন এখান থেকে সরে গিয়ে।
ঘাসের মধ্য দিয়ে হেঁটে চললেন স্যার। লম্বা, ঋজু শরীরের কাঠামো, কোঁকড়ানো চুল, ঈগলের ঠোঁটের মত বাঁকানো খাড়া নাক। পৌঢ় বয়সের লোকটা অনেক বছর ধরে এই কলেজে। জীবনের প্রায় অনেকটা শেষ। বিয়ে শাদী করেন নি। শোনা যায়,ঝগড়ার রেশ ধরে শত্রু পক্ষ চোখটা গালিয়ে দেয়। তাই সবসময় চোখ ঢেকে রাখেন গ্লাসে। বিনয়ী,নম্র,মায়াভরা এমন ব্যক্তির সাথে কারো কি করে ঝগড়া হতে পারে তা মাথায় আসে না ইধিকার। হঠাৎ ইধিকার চোখে কিছু ধরা পড়লো,
-সারিন? দেখতো, স্যারের ডান পা এর জুতোর এ্যাঙ্কেল বাম পায়ের জুতোর এ্যাঙ্কেল থেকে ইঞ্চি দেড়েক উঁচু না?
-সে তুই আজ দেখলি? স্যারের ডান পায়ের টিবিয়া দেড় ইঞ্চি ছোট জন্মগত ভাবে। তাই জুতো উঁচু করে সমান করে নেয়। তাই বোঝা যায়না।
-আমি চোখে এতদিন পড়লো না?
-বই থেকে চোখ তোল,সব দেখতে পাবি। চল রাতুলের কাছে যাই এখন।
-হুম,চল।
(আড়াল থেকে সুমনও সরে গেলো।সারিন ব্যাপারটা খেয়াল করতে করতেও করলো না। ওরা তিনতলায় গিয়ে বসলো রাতুলের কাছে)
ইন্সপেক্টর জামানের উপর খুব প্রেসার যাচ্ছে। এমন সময় তার নামে একটা পার্সেল আসে। কিছু ছবি আর একটা চিঠি। ছবি গুলো দেখে রীতিমত আঁতকে উঠলো জামান।
এস কাবীর এবং রাতুলের অনেকগুলো ছবি। রক্তাক্ত ভাবে এস কাবীর পড়ে আছে, চোখ মুখ ঝলসে রাতুল কাতরাচ্ছে। ছবি গুলো এতটাই জীবন্ত লাগছে,মনে হচ্ছে ভিডিও ক্লিপ দেখছে সে। ছবি গুলো পাশে সরিয়ে চিঠি পড়তে লাগলেন।


  1. chotoder golpo in bengali pdf
  2. bangla detective golpo pdf
  3. bangla rahasya upanyas

  4. bangla rohosso golpo pdf free download

  5. bangla detective story

  6. bangla soto golpo pdf
  7. bangla mojar golpo bangla font




"ইন্সপেক্টর জামান,
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া ছুটছেন। ইডিপাস কে খুঁজতে নিশ্চয়? ইডিপাস তো আশেপাশেই আছে। ক্লু দিয়ে এসেছি। ক্লু নিয়ে আগাতে থাকুন, ইডিপাসকে পেয়ে যাবেন। অবশ্য ইডিপাস আপনাদের পুলিশদের মত মাথা মোটা না। একগাদা ঘুষ আর লবিং এর মাধ্যমে তো চাকরী পান,তাই কোনো ক্লু আপনাদের কাজে দেয় না।তবে, একটা সাহায্য করি, আপনার আশেপাশে অনেক মেধাবী মানুষ আছে। তাদেরকে কাজে লাগান। অন্তত, ওদের আপনাদের থেকে মস্তিষ্ক বেশি শার্প। তাদের IQ ব্যবহার করুন। ছবি গুলো দেখবেন। যদি আরো নতুন কোনো হিন্টস পেয়ে যান। হিন্টস পেলে সে অনুযায়ী আগান। টুইস্ট আসুক খেলায়। একা একা খালি মাঠে কত আর গোল দিবো?
ও হ্যাঁ ছবি গুলো এস কাবীরের ক্যামেরায় তোলা। বড্ড ভালো ক্যামেরা,অনেক দামী বুঝি। ইশশ, এই ক্যামেরাটা আগে পেলে বাকীগুলোর ছবি তুলে রাখতে পারতাম। বিশেষ করে বিল্লাল শেখের।
যাকগে সময় নষ্ট না করে,মাথাটা কাজে লাগান। Don't be a stupid......"
জামান সাহেব বিচলিত না হয়ে ছবি গুলো ঘাটতে লাগলেন। একবার,দুবার,বার বার। নাহ, কিছুই পাওয়া যাচ্ছেনা। বিরক্ত হয়ে উঠে গেলেন। রাতুলের স্টেটমেন্ট এ কোনো কিছুই পাওয়া যায় নি। সব ইউসলেস।
২দিন যাবৎ চিঠি,আর ছবি নিয়ে কাটিয়ে দিলেন জামান সাহেব। আচ্ছা ইডিপাসের চাল না তো এটা? তাকে এখানে ব্যস্ত রেখে,সে তার কাজ করে যাচ্ছে না তো? হ্যান্ড রাইটিংএক্সপার্ট এর মাধ্যমে এটা ক্লিয়ার, চিঠি যে লিখেছে সে বাম হাতে লিখেছে। এমনও হতে পারে, প্রেরক ২/৩ভাবে নিজের হাতের লেখা পরিবর্তন করতে পারে।
ইডিপাস যে প্রথম ক্লু এর কথা বলেছে সেটা ফেইক ছিলো। এহরিম যে সোনালী চুলের DNA টেস্ট করতে দিয়েছিলো সেটা আসল চুল না। ইডিপাস ইচ্ছে করে উইগ এর চুল রেখে গিয়েছিলো, যাতে সবার সময় নষ্ট হয় DNA টেস্টের পিছনে। এই চিঠি আর ছবি গুলো অমন কোনো ফাঁদ না তো?
হটাৎ, চোখে পড়লো রাতুলের ছবির পিছনে ঝাপসা কিছু। মনে হচ্ছে এর উপরে কাগজ রেখে কিছু লেখা হয়েছিলো। জামান সাহেব সাথে সাথে পেন্সিল ঘসে কার্বনের সাহায্যে অবজেক্ট ক্রিয়েট করতে শুরু করলো। ঘসে ঘসে যা বেরুলো তা হলো 'So737-DL 8399' . এটা কেমন ক্লু? কি বুঝাচ্ছে এটা দিয়ে? জামান সাহেব মিলাতে পারছে না। কার সাহায্য চাইবেন ভাবতে ভাবতে মনে পড়লো,মেধাবী কথাটা।
''ইডিপাস কি তবে ইধিকার কথা বললো?'' তিনি কি তাহলে এখন কলেজের দিকে যাবেন?



ইন্সপেক্টর জামান কলেজে গেলেন। গিয়ে দেখলেন ,ইধিকা সহ আর ২টা ছেলে মেয়ে আড্ডা দিচ্ছে। যৌবনের এই দিন গুলো কি সুন্দর। অথচ এক নরপিশাচের ত্রাসে যুবসমাজ কেমন যেনো চাপা ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছে।
দূর থেকে দাঁড়িয়ে এসব ভাবছিলেন জামান। তখনি সারিন খেয়াল করলো তাকে। ইধিকাকে আলতো ধাক্কা দিয়ে বললো,
-ইধি,দেখ ইন্সপেক্টর দাঁড়িয়ে আছে।
-তাই তো, থাক বাপু ওনার সাথে কথা বলতে হবে না, প্রথম দিন যে লুক দিলো আমাকে। ওনার থেকে দূরে থাকবি বুঝলি?
-হিহিহি ভীতুর ডিম একটা।
এমন সময় এহরিম বলে উঠলো:
-"কি নিয়ে ফিসফিস করছো তোমরা? আমি শাওনের ব্যাপার নিয়ে কথা বলছি অথচ তোমাদের কোনো উৎসাহ নেই।"
-ব্যাপারটা এমন না এহরিম। শাওন ভাইয়ার ব্যাপারে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। রাতুলের ব্যাপারটা ভাবো একটু। এত্ত ভালো ছাত্র হয়েও,পড়াশুনা বন্ধের মুখে। ইডিপাসের শিকার যারা তারা কেউ আর দ্বিতীয়বার এই পৃথিবীর আলো দেখতে পাবেনা।
সারিন কিছু বলতে যাবে ঠিক ওই মুহূর্তে ইন্সপেক্টর কথা বলে উঠলেন,
-এক্সকিউজ মি ইধিকা।
ইধিকা অবাক হয়ে উত্তর দিলো, ইয়েস অফিসার,বলুন।
-আমার আপনাদের সাহায্য লাগবে।
-আমাদের?
-আপনার আর আপনার বন্ধুদের।
-কি সাহায্য বলুন? সারিন উত্তর দিলো পাশ থেকে।
অফিসার ডিটেইলসে সব বললো, চিঠি,ছবি আর ক্লুর ব্যাপারে।
সব শুনে এহরিম পাশ থেকে আর্তনাদ করে উঠলো,
-কি বলছেন অফিসার? চুলটা ফেইক ছিলো?
ভ্রু কুঁচকে অফিসার জানতে চাইলেন
-আপনি?
-আমি এহরিম। এহরিম থিউটোনিয়াস। এস. কাবীরের বন্ধু। আমি চুলটা DNA টেস্ট করতে দিয়েছিলাম
-আই সি। সরি ইয়াং ম্যান। এটা ইডিপাসের একটা মিথ্যা চাল ছিলো। কিন্তু এখন যে ক্লু পেয়েছি আশা করছি সেটা থেকে ইডিপাসের পরিচয় পাওয়া যেতে পারে। সময় নষ্ট না করে চলুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি।
-আমার বাসা কাছেই,সেখানে বসি চলুন? বললো ইধিকা।
-না,তার দরকার হবে না। আপনারা আমার বাসায় চলুন। সেটা বেশি সেফ হবে।
-(সবাই) চলুন তাহলে।
কয়েক ঘন্টা যাবৎ তারা ক্লু নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে। কিছুই বের হচ্ছে না। ক্লু এর কোনো অর্থ আছে কিনা সেটাও কেউ বুঝতে পারছে না। এমন সময় এহরিম বলে উঠলো
-অফিসার,আমার স্কুল জীবনের বেস্ট ফ্রেন্ড ফারাবী এসব কাজে বেশ দক্ষ। আপনি চাইলে আমি ওর সাহায্য নিতে পারি।
-সবাইকে ইনভলভ করাটা কি ঠিক হবে এহরিম সাহেব?
-ইধিকা বললো, ফারাবী ভাইয়াকে গ্রুপে আমরা মাস্টারমাইন্ড বলতাম। আমার মনে হচ্ছে যে কাজ আমরা পারছিনা সে তা পারবে।
-(কিছুক্ষণ ভেবে) ঠিক আছে,আসতে বলুন।
৪০মিনিটের মাথায় ফারাবী চলে আসলে,সবাই মিলে তাকে, ব্যাপারটা বলে। যদিও ফারাবী এ ব্যাপারে অনেক ভালো জানে। তবে ক্লুটা দেখে সে একটু শকড। ইডিপাস ঘন ঘন স্ট্র‍্যাটেজি চেঞ্জ করছে। সবাই মিলে কাজে নেমে পড়লো।
ক্লু পাওয়ার ৩দিন হয়ে গেলো কিন্তু কোনো অগ্রগতি হচ্ছেনা দেখে জামান সাহেব হাল ছেড়ে দিচ্ছিলেন। তবে ইধিকা,সারিন চেষ্টা করে যাচ্ছিলো। যদি আরো কিছু পাওয়া যায় এই ভেবে, চিঠিটা ৮৭বারের মত পড়ে ফারাবী বললো,
-Don't be a stupid. এটা দিয়ে ইডিপাস খোঁচা দেয় নি। এটা একটা ক্লু।
-সারিন বিরক্ত সুরে বললো, এটা কি ক্লু? এটা দিয়ে কি হয়? এমন কথা তো..
পিলে চমকে,সারিন কাগজ নিয়ে কি যেনো লেখতে শুরু করে। লেখালেখি করে, একটু বাদে সারিন যা বলে ওঠে তার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলো না।
-শামীম স্যার.
-কি বলছিস তুই? মাথা ঠিক আছে তোর? ইধিকা ধমকে ওঠে।
-Stupid এর শেষ অক্ষর 'D' and it stands for donkey. Y stands for 'You'। ইধি?
-হ্যাঁ, স্যার কাউকে নকল কিংবা মিথ্যে বলতে দেখলে খুবে রেগে যেতেন। তখন বলতেন You donkey. ইধিকা উত্তর দিলো।
-এই ক্লু এর রেশ ধরে সারিন আর তার গ্রুপ বাকীটা মিলিয়ে ফেললো। সারিন বললো So737 এটা স্যারের ব্যাজ নম্বর। যেটা কিনা তার ট্রফি সেল্ফে খুব প্রথম দিকে সাজিয়ে রাখা আছে তার মানে শামীম স্যারই ইডিপাস!!!!?
ফারাবী বললো, স্যার কই আছে এখন?
-সারিন আর্তণাদ করে বললো,স্যার তো বাইরে চলে গিয়েছেন।
-অলরেডি চলে গিয়েছে সারিন? সিওর তুমি?
-ফ্লাইট কখন,কোথায় যাবে সেগুলো কিছু জানিনা ফারাবী ভাইয়া।
-এহরিম অনেক্ষণ চুপ করে, ল্যাপটপ ঘেটে ওদের শেষ এবং ফাইনাল ক্লু মিলেয়ে দিয়েছে। ওরা দেখলো স্ক্রীনে ভাসছে-
"DL 8399" Japan airlines, Dhaka to Japan flight. Reporting time 13 a.m.
ইন্সপেক্টর জামান ঘড়িতে সময় দেখলেন রাত ১০টা।তার মানে এতক্ষণে শামীম ওলিদ এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্য বেরিয়ে গিয়েছেন। বিজয়ের হাসি হেসে, এয়ারপোর্ট এর উদ্দেশ্য ফোর্স নিয়ে বেরিয়ে যান ইন্সপেক্টর।
সবার মুখে হাসির ঝিলিক। ক্লু মিলানোর আনন্দে ওরা আনন্দিত।
রাত ১২টা। শামীম ওলিদ বসে আছেন। একটু পরেই তিনি বেরিয়ে যাবেন দেশ ছেড়ে। ৩ঘন্টা বাদে ফ্লাইট। এসব ভাবতে ভাবতে তিনি একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে যান। চোখ খুলে দেখেন সামনে ইন্সপেক্টর জামান। পিলে চমকে উঠে তিনি সামলে নেন নিজেকে। হাসি মুখে জিজ্ঞাসা করেন,
-কি ব্যাপার অফিসার? আপনার কি ডিউটি নাকি এখানে আজকে?
-আপনার কি মনে হয় ডক্টর? কেনো এসেছি?
-এনিথিং রং?
-আপনাকে আমার সাথে যেতে হবে ডক্টর। গোয়েন্দা ব্যবস্থা ও দেশের সিকিউরিটি যাতে ব্যহত না হয় তাই আমরা বর্হিগত ট্রাভেলিং ডিসকারেজ করছি। আপনি সেই আওতার বাইরে নন।
-আমাকে কোন গ্রাউন্ডে বাধাঁ দিচ্ছেন অফিসার?
- Just and equitable ground-এ ডক্টর। ওয়ারেন্ট দেখে নিন, আর বাকীটা পরে জেনে নিবেন না হয়।
-(নীল হয়ে উঠেছে মুখ শামীম ওলিদের) অগ্যতা বাধ্য হয়ে সে জামানের সাথে এয়ারপোর্ট ছেড়ে যেতে রাজী হলেন।
রাত দুটো। শামীম ওলিদ বসে আছেন পুলিশ ষ্টেশনে। একটা মশা তাকে কামড়াচ্ছে । সে মশা না তাড়িয়ে ভাবছে পৃথিবীতে ৩৫১২ প্রজাতির মশা দেখতে পাওয়া যায় এর মধ্যে বাংলাদেশে রয়েছে ১১৪ প্রজাতির মশা।গড়ে একটি মশা একবারে ০.০০১ থেকে ০.০১ মিলিলিটার রক্ত খেতে পারে অর্থাৎ একজন মানুষের শরীরের সম্পূর্ণ রক্ত চুষতে ১২ লাখের উপর মশা প্রয়োজন। তার মানে তাকে ২/১টা মশা কামড়ালে কিছু হবে না। তার ভাবনায় বিঘ্ন ঘটিয়ে ইন্সপেক্টর জামান কাশি দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন;
-কি ভাবছেন?
-বিশেষ কিছুনা । আমাকে আর কতক্ষণ থাকতে হবে এভাবে?
-যতক্ষন না আমার প্রশ্নের উত্তর মিলছে।
-বলুন কি জানতে চান?
-আপনি দেশের বাইরে,এভাবে পালিয়ে যাচ্ছিলেন কেনো?
-পালিয়ে না। আমার কিছু পার্সোনাল কাজে যাচ্ছিলাম। কলেজে সবাই জানে এটা। ছুটি নিয়েই যাচ্ছি,.
-কলেজে সবাই জানে আপনি বাইরে যাচ্ছেন। কোথায় যাচ্ছেন তা না।
-সেটা জানা জরুরি না তাই জানে না।
-এস কাবীরের রক্তে যে স্কোপোলামিন পাওয়া গেছে সেটা আপনি বেমালুম চেপে কেন গেলেন?
-দেখুন, মেডিকেলের নিজস্ব কিছু প্রাইভেসি থাকে। সেটার জন্য আমরা ক্লিয়ার ডিকরাশেন ছাড়া সবকিছু সবাইকে প্রকাশ করি না।
-পুলিশ কি সবার মাঝে পড়ে? আমি নিশ্চয় মজা নিতে আপনার কাছে জানতে চাই নি? ফরমাল ওয়ে তে গিয়েছিলাম না কি?
-দেখুন,এসব বলে কি বুঝাতে চাচ্ছেন?
-ইডিপাসের ক্লু আপনার কাছে যেয়ে শেষ হয়েছে।
-তোহ? (মুখের চোয়াল শক্ত করে) এটা কি বুঝায় আমি ইডিপাস? প্রমাণ আছে আপনার কাছে?
-না শক্ত প্রমাণ নেই বলেই আপনি এখনো হাজতের বাইরে।
-দেখুন অফিসার এমনও তো হতে পারে, ইডিপাসের নেক্সট টার্গেট আমি? সে সেটাই বুঝালো ক্লু দিয়ে?
-হুম,মানলাম। তবে এত মানুষ থাকতে ক্লু আপনাতে গিয়েই কেনো শেষ হলো?
-(স্মিত হেসে) এসব কি কোনোভাবে প্রমাণ করে আমিই ইডিপাস?
-আমি আপনাকে ইডিপাস প্রমাণ করছিনা। তবে আপনি সন্দেহের বাইরে নন। এখন থেকে অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে যাবার কথা মাথায় আনবেন না।
-কতদিন এভাবে বন্দি থাকতে হবে?
-যতদিন না ইডিপাসের সুরাহা হচ্ছে। আসতে পারুন আপনি।
শামীম ওলিদ উঠে আস্তে আস্তে বেরিয়ে গেলেন। ইন্সপেক্টর জামান সরু চোখে ব্যাপারটা খেয়াল করে ফোনটা হাতে নিলেন...


ইন্সপেক্টর জামান এহরিমের নম্বর ডায়াল করলেন। তিনি ইধিকাকেই ফোনটা দিতেন, কিন্তু রাত ২.১৫মিনিটে একটা মেয়েকে ফোন দেয়াটা কটু দেখায় বলেই এহরিমকে ফোন দিতে হলো। ৫ম বারের মত রিং বাজালো। ঘুম জড়ানো কন্ঠে এহরিম বললো,
-হ্যালো?
-সরি ইয়াং ম্যান। এত রাতে ডিস্টার্ব করার জন্য।
-(ঘুমের রেশ কেটে গেলো, লাফ দিয়ে বিছানায় বসলো এহরিম) না না স্যার বলুন। শামীম স্যারকে পেলেন?
-হুম পেয়েছি। আবার ছেড়েও দিয়েছি।
-কি বললেন? ইডিপাসকে হাতের নাগালে পেয়েও ছেড়ে দিলেন? আমি যদি পাই ওকে। জিন্দা পুতেঁ ফেলবো।
-শান্ত হোন। আমাদের হাতে কোনো স্ট্রং প্রুফ নেই যে তিনিই ইডিপাস, তাই আমাকে ছেড়ে দিতে হলো। তবে ভাববেন না, তিনি নজরবন্দী থাকবেন। আপনারা আপাতত সাবধানে থাকবেন। ফোনে সব বলতে চাচ্ছি না। সামনাসামনি বসে সব নিয়ে না হয় আলোচনা হবে। এখন রাখছি।
-জ্বি আচ্ছা।
(ফোন রেখে আর ঘুমুতে পারলো না এহরিম। ইডিপাস এর নেক্সট টার্গেট কে হতে পারে? জামান স্যার কেনো সাবধানে থাকতে বললো? এসব ভেবে ভেবে অপেক্ষা করতে লাগলো এহরিম। কখন সকাল হবে। কখন ওদের সব জানবে সে??
চিন্তিত এহরিম জানতেও পারলো না, রাতুলের মাথার পাশ থেকে সেই ছায়া মূর্তিটা সরে গেলো সবার অজান্তে।)
রাত ৩.০২মিনিট।
নিজের রুমে বসে শামীম ওলিদ রিসার্চ করছেন। চারপাশে বই এর স্তুপ। কেমন যেন একটা চঞ্চলতা তার ভেতর। রাত গভীর হচ্ছে, কিন্তু শান্তি পাচ্ছেন না তিনি। রাতের এই সময়ে বেশ ভালো ঠান্ডা পড়ে। তবুও তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে তিনি এক নাগাড়ে তাকিয়ে আছেন তার প্রিয় Alienware 17 R3 এর সামনে। একটার পর একটা ব্লগ ঘেটে যাচ্ছেন। তার মুখে বিরক্তির রেশ। দুটাকার এক অফিসার তাকে হাজতের সামনে বসিয়ে রেখেছে এটা ভেবেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠছে। আরে ক্লু দিলেই কি প্রমাণ হলো আমি ইডিপাস? আইন কি এত সস্তা? প্রমাণ ছাড়া কাউকে ইডিপাস বললেই তো হলো না। এটা ভাবতেই তার ঠোঁটের কোণে স্মিত হাসির রেখা ফুঁটে উঠলো। ভোর হতে চললো। সব বন্ধ করে তিনি উঠলেন। একবার রাউন্ডে যাবেন সকালের দিকে। তাই ঘুমিয়ে নিবেন একটু।
সকাল হতে না হতে, ইধিকা সারিন এবং ফারাবী জেনে গেলো রাতের কথা। এমন সময় দেখলেন শামীম স্যার একটু ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছেন। ফারাবী বললো সবাইকে,
-Act like a very normal person. Don't let him feel that we all are involved.
-ঠিক আছে ভাইয়া। সারিন বললো।
-ইধিকা,তুমি কথা বলবে আগ বাড়িয়ে। দেশের বাইরে যাবার প্রসঙ্গ আনবে না ভুলেও।
-আচ্ছা।
(সারিন কিছু বলতে যাবে,এমন সময় শামীম স্যার এগিয়ে আসে। ফারাবী বলে ওঠে)
-Good Morning Sir.
-সু-প্রভাত ফারাবী। কি মনে করে এদিকে?
-স্যার রাতুলের কাছে এসেছি। ওর সাথে কথা হয় নি এখনো।
-ওহ,চলো তাহলে আমি রাউন্ডে যাবো। তোমরা ওর পাশেই থেকো না হয়।
- জ্বি, স্যার চলুন।
(ফারাবী খেয়াল করলো,গাছের আবডাল থেকে কে যেনো ওদের খেয়াল করলো. কে এটা? পা একটু টেনে টেনে চলে গেলো। শামীম স্যারের কেউ নাকি? ভ্রূ কুঁচকে ভেবে, চেপে গেলো। এখন কিছুই বলা ঠিক হবে না। শামীম ওলিদ গভীর জলের মাছ। এগিয়ে চললো সে বাকীদের সাথে। ৩তলায় গিয়ে পৌছালো ওরা। তখনো রাতুল ঘুমুচ্ছে। সন্তর্পণে ওরা ৩জন মাথার পাশে বসে রইলো। ফারাবী দেখলো, চশমার আবডালে ইধিকার চোখ জোড়া ছল ছল করছে। আর সারিন দেখলো ইধিকার মনে রাতুলের জন্য ভালোবাসা। এমন সময় শামীম ওলিদ রুমে ঢুকলো। রাতুলের কপালে হাত দিতে রাতুল সাড়া দিলো)
-কি খবর রাতুল কেমন আছেন আজকে?
-Better sir.
-রাতে ব্যাথা ছিলো?
-না,স্যার। তবে একটু দুর্বল লাগছে।
-ডোন্ট প্যানিক মাই বয়। আমি নিউ মেডিসিন প্রেস্কাইব করে দিচ্ছি।
(কথা শেষ করে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি, সারিন বাইরে বেরিয়ে স্যারকে জিজ্ঞাসা করলো)
-স্যার কি অবস্থা এখন রাতুলের?
-দেখুন সারিন, রাতুলের ডান চোখের ৪৫% মারাত্মকভাবে জখমিত, বাম চোখ ২০%। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। রাতুলের বাবা ওকে বাইরে নিয়ে যাবে। এখনি কিছু না করলে ওর হয়তো দৄষ্টি আর ফিরবেই না। জলদি ট্রিটমেন্ট শুরু করলে সব আগের মত হবার চান্স ৮৫%। বুঝতে পারছেন?
- জ্বী স্যার।
-যান বন্ধুর কাছে যান। সবাই অপেক্ষা করছে ভেতরে।
সন্ধ্যায় অফিসে বসে জামান সাহেব কাজ করছিলেন। এমন সময় ফারাবীর ফোন। ফোন পেয়ে তিনি হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন। কেবিনে রাতুলে চিৎকার ছাড়া কিছুই শুনতে পারছেন না। কি হয়েছে সেটা বুঝতে জামান সাহেব সময় নিলেন। ফারাবী তাকে বুঝাতে পারছে না দেখে সারিন এগিয়ে এসে বললো,
-স্যার রাতুলের হ্যামারেজ হয়েছে। মেডিকেল টার্মে যেটাকে ব্লাডশট আই ।
-কেনো? হঠাৎ এমন হবে কেনো? রাতুল তো সুস্থ হচ্ছিলো ধীরে ধীরে।
-স্যার রাতুলকে এ্যাভাস্টিন দেয়া হয়েছিলো।৪ কিংবা ৬ সপ্তাহে একবারের বদলে একবেলায় দেয়া হয়েছিল।আশংকা করা যাচ্ছে পরিমানের মাত্রাও তুলনামূলক ভাবে বেশি ছিলো।
-কে দিয়েছে এটা?
-শামীম স্যারের প্রেস্ক্রাইবে এটা আনা হয়, কিন্তু কাজটা কে করেছে সেটা কেউ জানে না। মেডিকেল বোর্ড বসেছে,রাতুলকে নিয়ে
(ফারাবী আর অফিসার জামানের মাথায় একটা কথাই ঘুরছে, শামীম ওলিদকে ছেড়ে দিয়ে বড় কোনো খাঁদে পড়লো না তো তারা? অফিসার কেবিনের বাইরে অনেকক্ষণ কাটিয়ে আবার অফিসে ফিরে কেসটা ওপেন করলেন। চেয়ারে বসতে না বসতে তার টেবিলে একটা নোটের দিকে চোখ পড়লো। ইডিপাসের নোটঃ)
- When devil is too busy, call on me by 'Oedipus'. You see for my special touch!!!
জামান সাহেব গোলকধাঁধায় পড়ে গেলেন। এটা দিয়ে ইডিপাস কি বুঝালো? এটা কি মিমিক্রি? নাকি কোনো ইঙ্গিত? এখন কি তবে ফারাবী কে ফোন দিবেন? সবাই তো কলেজে, রাতুলকে নিয়ে ব্যস্ত। কার সাহয্য নিবেন ভেবে ভেবে তিনি পাগলপ্রায়। অনেক ভেবে তিনি ফারাবীকে ফোন দিলেন,অপর পাশ থেকে ভেসে এলো
'আপনি যে নাম্বারে ফোন করেছেন তা এই মুহূর্তে বন্ধ আছে। অনুগ্রহ করে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন,ধন্যবাদ'।


Vuter Golpo PDF

রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ফারাবীকে ফোনে ট্রাই করে গেলেন ইন্সপেক্টর জামান। কিন্তু না, পাচ্ছেন না ফারাবীকে। সময় যত গড়াচ্ছে চিন্তার কালো মেঘ ছেয়ে ফেলতে লাগলেন তাকে। মন কু ডাকছে তার। প্রফেসনাল হওয়া স্বত্তেও তিনি মনের কথা একদম অগ্রাহ্য করতে না পেরে,ফোন দিলেন সারিন কে।
সারিন,ইধিকাও চিন্তায় পড়ে গেছে। তারাও ফারাবীকে পাচ্ছে না। গতকাল রাতে একটা ফোন পেয়ে সেই যে বেরুলো ফারাবী,আর কোনো হদিস নেই। জামান সাহেব দমে গেলেন,তবে বললেন
-ফারাবীর বাসায় গিয়ে একটা খোঁজ নেয়া যাক,চলুন
-বাট স্যার আমরা চিনি না ভাইয়ার বাসা, এহরিম চেনে।
-এহরিমকে আসতে বলো। আমি কলেজের দিকে আসছি।
-সারিন হাল ছাড়া সুরে বললো, ঠিক আছে আসুন।
কলেজে গিয়ে জামান স্যার যা বুঝলেন, সারারাত ভালোই ধকল গিয়েছে সারিন ইধিকার ওপর। রাতুলের ঘটনায় ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ। যতদিন না নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারছেন না শামীম ওলিদ,ততদিন তিনি সাসপেন্ডেড থাকবেন। কর্তৃপক্ষ প্রাইভেসি বাড়িয়ে দিয়েছেন। বহিরাগত কেউ চাইলেই কলেজে প্রবেশ করতে পারবে না। এবং ছাত্ররা চাইলেই যখন তখন বাইরে যেতে পারবে না। অফিসার দেখলেন সারিন ইধিকা দাঁড়িয়ে আছে। একটু বাদেই এহরিম আসলো। তাকে দেখে একদম চিন্তিত লাগছে না। জামান সাহেব কিছু বলতে যাবেন এমন সময় নীরবতা ভেঙে ইধিকা বলে উঠলো,
-এহরিম তোমার মাঝে কোন টেনশন নেই ফারাবী ভাইকে নিয়ে। এমন কেনো তুমি?
-(হাই তুলতে,তুলতে এহরিম বললো) দেখো ইধিকা, ফারাবী এমন প্রায়ই করে। কথা নেই বার্তা নেই হুট করে সে গায়েব। দিন দুয়েক বাদে সে এসে বলবে পরিবেশ বদলাতে গিয়েছিলাম।
-তবুও, বন্ধুকে নিয়ে একটু চিন্তা থাকা উচিৎ না?
জামান সাহবে ওদের থামিয়ে দিলো। তিনি দেখলেন সারিন আজকে বেশি চুপচাপ। এহরিমের সাথে তার সম্পর্কটা অন্যদিনের মত লাগছে না। তিনি বললেন,
-এহরিম তুমি চেনো তো ফারাবীর বাসা?
-হু স্যার। উত্তরা ৪নং সেক্টরে।
-তাহলে চলো, সময় নষ্ট না করে আগাই আমরা।
সকাল বেলা জ্যাম ফ্রি রাস্তা পেয়ে তারা ১ঘন্টার মধ্যে ফারাবীর বাসায় পৌছে গেলো। সেখানে গিয়ে জানা গেলো, ফারাবী রাতে বাসায় ফেরে নি। এমনটা সে মাঝে মধ্যেই করে বলে কেউ চিন্তিত না ব্যাপারটা নিয়ে। জামান সাহেব দেখলেন বাসাটা বেশ বড় এবং ছিমছাম। বাসায় ফারাবী ছাড়া ২টা কাজের লোক থাকে। বাবা বিদেশে থাকেন বছরের বেশিরভাগ সময়, মা নেই। তারা অপেক্ষা করতে লাগলেন। এহরিম সব চেনে জানে বলেই তাদের ঘুরিয়ে দেখালো বাসাটা। শেষে নিয়ে গেলো ফারাবীর রুমে। রুমে ঢুকে জামান সাহেব বুঝলেন ফারাবী গোয়ান্দা,রহস্যের ভক্ত। রুম ছিটিয়ে অজস্র বই,পাজেল,রুবিকস। বোঝাই যাচ্ছে ছেলেটার শার্প ব্রেন। তারা নীচে নেমে এলেন। আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন তারা। ইধিকা একটু ঝিমুচ্ছে সোফায়, জামান সাহেব চা খেতে খেতে পেপার পড়ছেন। এহরিম এবং সারিন বারান্দায় কথা বলছে। হঠাৎ জামান সাহেব শুনলেন এহরিম বেশ উত্তেজিত ভাবে কথা বলছে।
-এভাবে সিন ক্রিয়েট কেনো করছো সারিন?
-আমি কিছুই করছিনা এহরিম। যা করার তুমি করেছো।
-এতদিনের সম্পর্কে এতটুকু ভরসা নেই আমার ওপর?
-তুমি ভরসার পাত্র?
(দমে গেলো এহরিম) শান্ত স্বরে বললো, আমার থেকে কোথাকার এক অজানা উড়ো মেসেজ এর মূল্য বেশি তোমার কাছে?
-মেসেজ না এহরিম। ছবি। মেয়ের সাথে অর্ধ নগ্ন ছবি।
-এখন সব করা যায়। এটা আমাকে ফাঁসানোর ফাঁদ সারিন। আমি এমন কিছুই করিনি।
-দেখো এহরিম, লাস্ট বারের মত বলছি। আমাকে তুমি সাধারন মেয়ের মত ভেবো না। ভুলে যেয়ো না আমার ক্ষমতার কথা। একবার স্ক্যান্ডাল থেকে বাঁচিয়েছি। বার বার বাঁচাবো না।
-তুমি কি থ্রেট করছো?
-যদি তাই ভাবো হ্যাঁ করছি, এই যে এত ফুটানি,তা আমার জন্য করতে পারছো, নাহলে আজকে কই থাকতে তুমি? কি আছে তোমার?
- How dare you? নিজেকে একবার দেখেছো? তোমার মত মেয়ের পাশে আমাকে মানায়? আমি তোমার সাথে আছি এটা তোমার চৌদ্দ পুরুষের ভাগ্য।
(জামান সাহেব অবাক হয়ে দেখলেন, ঠাস করে চড় মারলেন সারিন। তিনি হতভম্ভ হয়ে গেলেন ঘটনার আকস্মিকতায়। সারিন চিৎকার করে বলে উঠলো)
-I will make sure that, you must pay for your sins you moron. আমাকে ঘাটিয়ো না। বাঁচার পথ পাবে না।
এটা বলে সারিন ফিরে এসে ইধিকার পাশে বসলো। জামান সাহেব কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বললেন,
-চলুন সবাই উঠি। ফারাবীর ব্যাপারে পরে কথা হবে। এখন কলেজে ব্যাক করি।
(বিকেন নাগাদ সবাই ফিরে আসলো। রাতুলের সাথে দেখা করতে দিচ্ছে না তার বাবা। তিনি কলেজের নামে মামলা করবেন বলে শাসিয়ে গিয়েছেন। ইনস্পেক্টর জামান ক্লান্ত হয়ে অফিসের দিকে গেলেন)
আরো দু দিন কেটে গেলো। এবার সবাই খুবি উদ্বিগ্ন। ফারাবীর কিছু হলো না তো?রাতের ঘুম হারাম সবার। এহরিম তার সাধ্যমত সবখানে খোঁজ নিয়েছে। সারিন ইধিকাও বসে নেই, ইন্সপেক্টর জামান লোক লাগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু না। টিকিটাও পাওয়া গেলো না। এত কিছুর ভিড়ে জামান সাহেব খেয়াল করলেন সারিন এহরিম স্বাভাবিক হয় নি। তিনি আমলে নিলেন না, ব্যাপারটা একান্তই নিজস্ব তাদের। তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ফারাবীর কেস নিয়ে। আচ্ছা ইডিপাস এর নজরে পড়লো না তো ফারাবী? নাহ এসব নেগেটিভ কথা মাথা থেকে সরিয়ে ফেলে তিনি কাজে মন দিলেন। এভাবে দিনটা কেটে গেলো।
তৄতীয় দিন সন্ধ্যায়, জামান সাহেব ডেস্কে কাজ করছিলেন। দেশের সব জেলার থানায় তিনি ইমেল করে দেন ফারাবী ছবি এবং ডিটেইলস। এমন সময় তিনি দ্বিতীয় বারের মত ইডিপাসের কাছ থেকে আরো একটা পার্সেল পেলেন। তার বুক ধরাস করে উঠলো। কাঁপা হাতে খুললেন পার্সেলটা। একটা চিরকুট আরে একটা সিডি। চিরকুটে লেখাঃ
''To the gentleman I'm misfortune. To the ladies I'm surprise"
মানে কি এটার? সময় নষ্ট না করে তিনি সিডিটা ওপেন করলেন। স্ক্রীনে তিনি যা দেখলেন, নিজের চোখকে তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না।
''ফারাবীকে নগ্ন করে উল্টো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। মুখে ডায়নিমা দড়ি ঢুকিয়ে এত শক্ত করে বেঁধে রেখেছে যে তার ঠোঁট দুপাশ থেকে চিড়তে শুরু করেছে। ফারাবী ছটফট করছে। এমন সময় একটা ছায়া খুব আস্তে আস্তে পা টেনে ফারাবীর কাছে গেলো। চুলের মুঠি টেনে মাথা উঁচু করে কানে কানে কিছু বললো। আপদমস্তক সে একটা সাদা কফিনের মত কাপড়ে ঢাকা। পেছনের দিকটা ছাড়া আর কিছুই অনুমান করার মত নয়
জামান সাহবে অসহায় হয়ে দেখছেন সে ফারাবীকে একটা চেয়ারে বসিয়ে শক্ত করে বাঁধলো। তারপর ওর চুল দড়িতে বাঁধতে লাগলো। বাঁধা শেষ করে সে দড়িটা একটা বড় মেটাল ব্যারেল ক্রাশারের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। দড়িটি বেশ বড়। ফারাবী বাঁচার জন্য আকুতি করছে। কিন্তু শব্দ হচ্ছে না। ইডিপাস হেঁটে হেঁটে মেশিনের কাছে গিয়ে শেষ বারের মত তাকালো ফারাবীর দিকে। তারপর দড়িটি ক্রাশারের মাঝে ছেড়ে দিয়ে পাওয়ার লিমিট লো করে দিলো। আস্তে আস্তে দড়ি টানছে। ফারাবী নড়ে উঠলো। এবার হাই করলো। টান বাড়ছে। চেয়ারে বসা ফারাবী পা দাপাচ্ছে। সে নড়ছে না কিন্তু তার মাথা আগাচ্ছে। ইডিপাস মনে হলো মজা পেয়েছে। একবার বাড়াচ্ছে একবার কমাচ্ছে। কি নিদারুণ পৈশাচিকতা। এভাবে কিছুক্ষণ কাটালো ইঁদুর বিড়াল খেলা খেলে। তারপর শেষ চাল চাললো ইডিপাস। পাওয়ার লেভেল সর্বোচ্চ করে দিলো। চোখের নিমিষে মাথার খুলি ছিড়ে চলে এলো ক্রাশারের মাঝে, চারপাশ ভেসে গেলো রক্তে। চেয়ারে পড়ে রইলো শরীরের বাকীটুকু।"
সিডির শেষের অংশে ভেসে উঠলো,
''মাস্টারমাইন্ড এর মাইন্ড নিয়ে গেলাম। এর চোখ আমার কাজের না ..... "
নির্মমতার এহেন রুপ দেখে ইন্সপেক্টর জামান পাথর হয়ে রইলেন।
তার চোখে ভাসতে লাগলো ফারাবীর উজ্জ্বল বুদ্ধিদীপ্ত মুখখানা।
কি বলবেন তিনি এহরিম,সারিন,ইধিকাকে? কি উত্তর তিনি দিবেন? ডেডবডিই বা তিনি কোথায় খুঁজবেন??

ইনস্পেক্টর জামান সারারাত ঘুমুতে পারলেন না। পরদিন খুব সকাল বেলা তিনি কলেজে গেলেন। সারিন ওনাকে দেখে এগিয়ে এসে বললো,
-কি ব্যাপার স্যার? এত সকালে আপনি এদিকে?
-বলছি, ইধিকা কোথায়?
-ও বাসায়। কিছু হয়েছে কি?
-এহরিম ইধিকাকে যতদ্রুত পারো আসতে বলো।
সারিন ওদের দুজনকে ফোন দিয়ে আসতে বললো। কিছুক্ষণের মধ্যে দুজন হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো। এহরিম ইন্সপেক্টর জামানকে দেখে জিজ্ঞাসা করলো,
-স্যার,ফারাবীর খবর জানতে পারলেন কিছু? আর কোনো নতুন স্টেপ কি নেয়া যায়?
জামান সাহেব চুপ করে রইলেন। একটু বাদে তিনি এহরিমের হাতে ইডিপাসের চিরকুটটা দিয়ে, তার ল্যাপটপে সিডিটা অন করলো। সবাই বিস্ফোরিত চোখে দেখছে ফারাবীর নির্মম পরিহাস। শেষের অংশটা দেখে ইধিকা চিৎকার করে সরে যায়ি।আর দেখার সাহস নেই তার। ইন্সপেক্টর জামান জানতেন, ইধিকা এটা সহ্য করতে পারবে না, তবুও তিনি বাঁধা দেননি। সত্যিটা সবাই দেখুক এটা সে চেয়েছিলেন। এহরিম পাথর বনে গেলো। একটু বাদে সে উত্তেজিত হয়ে বললো
-শামীম ওলিদই মেইন কালপ্রিট। ও মেরেছে সবাইকে। আপনি ওকে হাতের নাগালে পেয়েও ছেড়ে দিয়েছেন।
-শান্ত হোন এহরিম।
-কিসের শান্ত? আমার এক বন্ধু মারা গেছে অন্য বন্ধু অন্ধ হয়ে পড়ে আছে। আমার হারিয়েছে তাই জ্বালাও আমার। আপনি কি বুঝবেন?
- সব বুঝতে পারছি আমি। কিন্তু আইনের চোখে এগুলো শামীম ওলিদকে দোষী বানাতে যথেষ্ট না।
-আমি কিচ্ছু জানিনা। আপনি লিগ্যাল স্টেপ নিন। যা ইচ্ছে করুন। নাহলে ওই জানোয়ারের বাচ্চা কে আমার হাতে দিন। আমি ওকে দু'মিনিটে খালাস করে দি।
(এই কথার সাথে সাথে সারিন ওকে থামিয়ে, নিজে কথা শুরু করলো।)
-অফিসার, এভাবে আর কতদিন আমরা অপেক্ষা করবো? ইডিপাসে তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়ছে। যা করার এখনি করুন।
-আমি জানি আমার কি করা উচিৎ। অফিসিয়াল ভাবে এই ভিডিও এখনো দেখাই নি। জানাজানি বেশি হলে, দেশের মানুষ ভরসা করবে না আমাদের ওপর। পরিস্থিতি সামলানো দায় হবে তখন।
-যা করার দ্রুত করুন। ইডিপাসের নেক্সট টার্গেট আমরা না,সেটার কোনো গ্যারান্টি কে দিবে বলুন?
-হুম আমিও সেই দুশ্চিন্তায় আছি। আমি যাচ্ছি। আপনারা সাবধানে থাকবেন। আর কোনো অসঙ্গতি দেখলে সাথে সাথে খবর দিবেন।
-অবশ্যই।
জামান সাহেব অফিসের দিকে রওনা করলে, সারিন এহরিমের কাছে বসতে গেলে তাকে সরিয়ে এহরিম উঠে যায়। সারিন অবাক হলেও কিছু বলে না। বুঝতে পারছে সে তার মনের অবস্থা।সারিন ইধিকার কাছে গিয়ে বললো,
-ইধি?
-হু!
-তোর মনে আছে ওয়ার্ড বয় সুমনে কথা? যাকে তোর খুব সন্দেহ?
-হুম আমার ওকে দেখলেই চোর চোর লাগে।
-ওর কথা জামান স্যারকে কখনোই বলা হয় নি। আমার মনে হয় স্যারকে জানানো উচিৎ।
-কিন্তু শুধু সন্দেহের বশে?
-বলে রাখতে দোষ কি?
-আচ্ছা যা ভালো বুঝিস তুই!
জামান সাহেব অফিসের কোনো কাজে মন দিতে পারছেন না। তার চোখে শুধু ফারাবীর বুদ্ধিদীপ্ত চোখ ভাসছে। সারাটাদিন কেটে গেলো। বিকেলের দিকে একটা কাজ নিয়ে তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। কাজ করতে করতে রাত দশটা বাজতে চললো। হটাৎ এহরিম ফোন দিলো। রিসিভ করতেই এহরিম জানালো ইন্টারনেটে ফারাবী খুনের ভিডিও লিক হয়ে গিয়েছে। আপ্লোডের দশ মিনিটের মাথায় ভিউয়্যারের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ত্রিশ হাজারেরও বেশি। তিনি হতভম্ভ হয়ে ভাবছেন, যে ভয় তিনি পাচ্ছিলেন তাই হলো। দেশের অবস্থা আরো ভায়ানক হয়ে উঠবে। পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ভাবতে ভাবতে তার ফোন বেজে উঠলো। তিনি রিসিভ করতেই বুঝলেন উপর থেকে ফোন এসেছে। তাকে এখনি খোঁজ লাগাতে হবে কোথা থেকে,কে,কিভাবে এই ভিডিও আপ্লোড করেছে। এখনি এটা বন্ধের অর্ডার এসেছে।
জামান সাহেব ব্ল্যাঙ্ক হয়ে গেলেন। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন এটা ইডিপাসের নতুন স্টেপ।তিনি কিছু সেরা টেকন্যিকাল হেডদের আসতে বললেন। তাদের সাহায্য ছাড়া তিনি একাজ করতে পারবেন না। তার কোনো দক্ষতা নেই এই বিষয়ে।
টেকন্যিকাল হেডরা এসে ভিডিও টি দেখলো। তারা তাদের মত করে কাজ করতে লাগলেন। কিন্তু জামান সাহেব ভাবতে লাগলেন ইডিপাসের নোটটার কথা। কি হতে পারে এটার অর্থ!
ইডিপাসের নেক্সট টার্গেট কে?
এমন সময় লিসা একজন টেকন্যিকাল হেড সে জামান সাহেবের সাথে কথা বলতে আসলেন,
-স্যার?
-হুম বলুন? কিছু পেলেন?
-এত দ্রুত পাওয়া তো সম্ভব নয়, তবে যে ভিডিও আপ্লোড করেছে সে আইপি এ্যাড্রেস ইউস করে কাজটা করেছে।
-এখন করণীয় কি?
-আমরা আপাতত ভিডিওটি ইন্টারনেট থেকে রিমুভ করে দিয়েছি। কিন্তু যে কাজটা করেছে তাকে এখনি বের করা অসম্ভব।
-তাহলে?
-আমরা সিওর, তিনি আবার এই ভিডিও আপ্লোড করবেন। তখনি আমরা তার আইপিএ্যাড্রস হ্যাক করে ট্রেস করে ফেলবো। সে কোথায় অবস্থান করছে, সেটা বের করতে মাত্র এক মিনিট বিশ সেকেন্ড লাগবে।
আমরা সব ব্যবস্থা করে রেখেছি।
-যে কাজটা করেছে তার পেছনে কোনো শক্তিশালী হাত আছে বলে মনে হয়?
-স্যার,এসব কাজ করতে জাস্ট একটা হাই কোয়ালিটির ল্যাপটপ বা পিসি এবং হাই স্পিডের ইন্টারনেট থাকলেই হয়। তবে একটা গ্রেট মাইন্ড দরকার সর্বোপরি।
-ঠিক আছে, ধন্যবাদ।
সবাই চলে গেলে তিনি এহরিমকে ফোন দিয়ে সব জানান। এহরিম কোনোও কথা বললো না। জামান সাহেব একটু দমে গেলেন। তার মায়া পড়ে গেছে এই ছেলে মেয়েদের ওপর। আপন লাগে। বিশেষ করে এই ছেলেটাকে। গ্রীক দেবী আফ্রোদিতি ঢেলে দিয়েছেন রুপ এই ছেলের মাঝে।
কি সুন্দর সুঠাম শরীর। গ্রীকদের মত খাড়া নাক, উজ্জ্বল বাদামী এক জোড়া চোখ। বাঙ্গালীদের মত শুধু কালো চুল পওয়াতে রক্ষা। নাহলে এহওরিমকে বাঙ্গালী কেউ বলতো না।
ভাবতে ভাবতে তিনি সিউরে উঠলেন। এহরিমের নজর কাড়া রুপ ইডিপাসের নেক্সট টার্গেট না তোৎ কারো চোখ, কারো ব্রেইন, তাহলে এখন কি এহরিমের রুপশ্রী? নাহ আর ভাবতে না পেরে তিনি
সারিন কে ফোন করতে গিয়ে দেখেন অনেক রাত। এত রাতে ফোন না করে কাল দেখা করবেন ভেবে তিনি বাসার দিকে রওনা হলেন।
পরদিন বেলা করে তিনি সারিনকে সব বললেন। সারিন সব শুনে বললেন,
-স্যার, আমার আর ইধিকার সন্দেহের তালিকার আরো একজন আছে।
-কে?
-ওয়ার্ড বয় সুমন?
-কে বলুন তো?
-স্যার এনাকে আপনি দেখেছেন। মাঝারি লম্বা, মাথায় একটা কাটা দাগ আছে বড়। পায়ে চোট পেয়েছে বলে পা কিছুদিন যাবৎ একটু টেনে টেনে হাঁটে।
_বুঝলাম। কিন্তু ওকে কেনো সন্দেহ করছো?
-সবার আড়াল থেকে ও আড়ি পাতে। চলফেরায় কেমন যেনো চোর চোর ভাব। তুতলে যায় কিছু বলতে গেলে। (বাকীসব কথা বললো সারিন)
-সন্দেহজনক। কই পাবো ওকে? একটু বাজিয়ে দেখি এই সুমনকে।
-আশেপাশেই থাকবে। আমি খুঁজে আনছি।
সারিন খুঁজতে গেলো, পাক্কা চল্লিশ মিনিট সবাই মিলে খুঁজে পেলো না সুমন কে। কি আজব! কই যাবে সে? অফিসার জামান ব্যাপারটা জেনেই, সুমনের ঠিকানা খুঁজতে গেলেন। ওর বাসায় তল্লাশি চালাতে হবে। ঠিকানা পেয়ে জামান সাহেব বাসায় গিয়ে দেখেন তালা ঝুলছে। তিনি তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। সারিন, ইধিকা এহরিমও চলে আসে কিছুক্ষণ বাদে সেখানে, ভিতরে ঢুকে দেখে ছোট্ট দু রুমে তেমন কিছুই নেই। টেবিলে গ্রীক মাইথোলজির বই ঠাসা, মেডিকেলের বই, অনেক ধরনের মেডিসিন টেবিলে সাজানো।দেখেই বোঝা যাচ্ছে রিসার্চ করেছে সুমন। সব দেখতে দেখতে, সারিনের চোখে পড়লো একটা ডায়েরি। সেটা হাতে নিতেই দেখলো ভেতরে বিল্লাল শেখ, রাতুল, শাওন কাবীর, ফারাবী সহ আরো ছয়টা নাম। সব নাম কেটে দেয়া।
অফিসার জামান পাজেল মিলিয়ে ফেলেন। সবাই বুঝে যায় ইডিপাস কে!! তিনি দ্রুত অফিসের দিকে যান। কলেজ থেকে সব তথ্য নিয়ে নেন সুমনের। এবার যাতে পালাতে না পারে ইডিপাস। সবখানে জানিয়ে দিলেন।
সারিন ইধিকা, এহরিম একটু রিলেক্স হতে চাইলো। কিন্তু ভয় তো রয়ে যাচ্ছে। ইডিপাস যতদিন না ধরা পড়ছে। এমন সময় সারিন বললো,
-সুমন ধরা পড়লেই, কলেজ অথোরিটি বুঝতে পারবে শামীম স্যার ষড়যন্ত্রের শিকার। এত দিন কলকব্জা এই সুমন নাড়িয়েছে।
-হুম রে, কি বদের হাড্ডি এটা, বোঝাই যায়না, বললো ইধিকা।
(এহরিম শুধু শুনে গেলো)
এই ঘটনার সাত দিন হতে চললো, সুমনের খোঁজ কেউ দিতে পারলো না। এই নিয়ে চাপে আছে ইন্সপেক্টর। উপর থেকে খুব প্রেসার দিচ্ছে। আট দিনে মাথায় ইডিপাসের নতুন ক্লুএলো। একটা জায়গার ছবি। কোথায় হবে জায়গাটা এটা বুঝতে বেশ বেগ পেতে হবে জামান সাহেবকে। এই ঢাকার শহরে এমন জায়গা কমছে কম একশের বেশি আছে। এটা দিয়ে কি বুঝাচ্ছে ইডিপাস? কি আছে এখানে????


দেখতে দেখতে নয় দিন কেটে যাচ্ছে, কেউ কোনো সুরাহা করতে পারছে না। ইনস্পেক্টর জামান পাগলপ্রায় হয়ে উঠলেন। কি হবে তা ভেবে সে কিছু বুঝতে পারছেন না। ইডিপাসের কোনো খোঁজ তো দূর আগের ক্লু দিয়ে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। জায়গাটা কারো পরিচিত না। কি এমন আছে জায়গাটাতে? তিনি ফারাবীর শূণ্যতা অনুভব করলেন খুব। ইসস ছেলেটা অল্প বয়সেই প্রাণ হারালো। এটা ভাবতেই নিজেকে দোষী ভাবতে লাগলেন জামান সাহেব। হটাৎ তিনি ভাবলেন সারিন কে ফোন দিয়ে যদি কোনো সাহায্য পাওয়া যায়, যেই ভাবা সেই কাজ। তিনি ফোন দিলেন। রিং বেজে বেজে কেটে যাচ্ছে। অপরপ্রান্তে কেউ রিসিভ করছে না। পরপর চার বার চেষ্টা করে তিনি এহরিমকে ফোন দিলেন। দু বার রিং বাজতেই এহরিমের কণ্ঠ শোনা গেলো,
-হ্যালো, বলুন।
-কেমন আছেন?
-সেটা আপনি বুঝে নিন, কেমন থাকা উচিৎ।
-এভাবে রাগ ঝাড়ছেন কেনো ইয়াংম্যান?
-আপনি আজকে নয় দিনে সুমনকে খুঁজে বের করতে পারলেন না, অথচ কি নির্বিকার আপনি!
-আমরা বসে নেই এহরিম। যাই হোক সারিন কোথায় বলতে পারবেন কি? ওনাকে ফোনে পাচ্ছি না।
-ওকে কেনো দরকার?
-একটা হেল্প এর জন্য।
-দেখুন অফিসার, একটা কথা ক্লিয়ার করে বলে দি, আমাকে কিংবা সারিনকে প্লিজ এসবের মাঝে টানবেন না। আমরা আর এসবের মাঝে নেই।
- ঠিক আছে। তাহলে ইধিকাকে নেই আমার সাহায্যে, কি বলেন?
-সেটা ওর ব্যাপার। আমার মাথা ব্যাথা নেই ওকে নিয়ে। নরমালি সি ইজ গুড ফর নাথিং।
-মেডিকেল কলেজে ফার্স্ট গার্লকে নিয়ে এভাবে বললেন? আর আপনারা ফ্রেন্ডস মেবি।
-আমার না সারিনের ফ্রেন্ড। যাই হোক আমাদের দুজনকে টানবেন না। আপনার সাহায্যে ফারাবী প্রাণ হারালো। আপনার এসব কাজে আর নেই আমরা। (এটা বলে মুখের ওপর ফোন কেটে দিলো এহরিম)
অফিসার অবাক হয়ে গেলেন এহরিমের এমন আচরণে। কয়েকদিন আগেও সারিনের সাথে যার ঝগড়া ছিলো, আজকে তার জন্য এত্ত অবসেসন? হতেই পারে, ভালোবাসার কাছে সব তুচ্ছ। তাই বলে ইধিকাকে নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা থাকবে না? মেয়েটা তো ওদের আপন করে আগলে রেখেছে। কি আজব দুনিয়া। ভাবতে ভাবতে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন জামান সাহেব।
অন্যদিকে, সারিনের বাবা চলে এসেছেন সারিনকে নিতে। তিনি কোনোভাবেই সারিনকে এখানে থাকতে দিবেন না। ইধিকাকে তিনি সুপারিশের জন্য এনেছেন। ইধিকা না পারছে সারিনকে আটকাতে না পারছে যেতে দিতে। ফাইনাল প্রফের আর মাত্র কিছুদিন বাকী,এমতাবস্থায় কেউ কি করে যাবে? আবার প্রিয় বান্ধবীর জীবনের ঝুঁকি আছে এখানে, সে কি করে থাকতে বলবে? কি দোটানায় পড়লো সে। এমন সময় ইধিকা বললো,
-আঙ্কেল? একটা কথা বলি?
-বলো মা।
- আসলে যতদিন না সুমন ধরা পড়ছে ততদিন সারিন না হয় বাসা তেকে এসে ক্লাস করুক? ফাইনাল ইয়ারে এসে গ্যাপটা খুব কষ্টের আঙ্কেল।
-গুলশান থেকে গাজীপুর? তাও প্রতিদিন? কিভাবে সম্ভব মা?
-কয়েকটা দিনই তো। আর ও তো গাড়ীতে আসবে, খুব বেশি সমস্যা হবে না। আপনি না হয় পরশু এসে ওকে নিয়ে যাবেন? আমি কাল সব গুছিয়ে দিবো ওর।
(সারিনের বাবা একটু ভেবে রাজী হলেন। তারপর ইধিকার মাথা হাত বুলিয়ে চলে গেলেন। সারিন চুপ করে বসে রইলো। ইধিকা তাকিয়ে আঙ্কেলের যাওয়াটা দেখলো। ঘড়ির কাটা টিক টিক টিক করে চলতে লাগলো।)
বিকেলে এহরিম এসে সব শুনে চুপ করে রইলো। পরে সে জামান সাহেবের সাথে কি কি কথা হয়েছে বললো। সারিন কিছু বলতে যাবে এমন স্ময় ইধিকা বললো,
-এটা ঠিক হয় নি তোমার। এভাবে ওনাকে বলাটা খুব খারাপ শুনাচ্ছে।
-(ইধিকাকে ধমকে উঠলো এহরিম), তোমার সব কিছুতেই নাক গলাতে হবে? সারিনের সব দায়িত্ব আমার। তোমার কাজ তুমি করো। আমাকে আমার কাজ করতে দাও। যত্তসব সস্তা ইমোশন।
ইধিকার চোখ ছলছল করে উঠলো। সে আস্তে করে উঠে গেলো। সারিন এবারো কিছু বললো না। এহরিম সারিনের হাত ধরতে গেলে সারিন হাত সরিয়ে নিয়ে বললো,
-এহরিম?
-হুম বলো?
-লিয়া কন্সিভ করেছে।
-(পিলে চমকে উঠে) লি-লিয়াআ কে?
-তোমাদের বাসায় ভাড়া থাকে যেই লিয়া সেই লিয়া। যার সাথে তুমি গেম খেলেছো, বিয়ের কথা বলে দিনের পর দিন শয়তানের ধোঁকায় ফেলেছো যাকে, সেই লিয়া। দোহাই এহরিম! অভিনয় থামাও।
-আমি কিছু বুঝতে পারছি না সারিন। আমাকে কেনো ব্লেম দিচ্ছো? আমি কাউকে বিয়ে করবো বলি নি।
- (সারিন মোবাইল বের করে এহরিম আর লিয়ার কিছু আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে বললো) এবার বুঝতে পারছো? এই ছবিগুলো দেখে কিছু মনে পড়ছে? আরো অনেক প্রুফ আছে আমার কাছে। তা দিতে রুচিতে বাঁধছে আমার। ছিহ!!
- আই এম সো সরি সারিন। আমি তখন নেশায় ছিলাম। আমার তোমাকে ঠকানোর কোনো ইচ্ছে ছিলো না। যা হয়েছে সব এক্সিডেন্ট।
-কতবার এক্সিডেন্ট হয়? দিনের পর দিন এক্সিডেন্ট? তোমার এটা নেশা এহরিম। মেয়েদের শরীর তোমার নেশা। আমিও ব্যতিক্রম কিছু?
-লাস্ট পাঁচ বছরে আমি তোমাকে হতাশ করেছি সারিন? আমি বদলে গেছি।
-এই তোমার বদলানোর নমু্না? আর আমাকে রেখেছো কারণ আমি তোমার ডেবিট কার্ড। তোমার সিক্রেট কিপার। আমাকে ঘাটালে এত আরামের জীবন কই থাকতো? তুমি আমাকে জাস্ট ব্যবহার করছো।
-সারিন প্লিজ? আমাকে কনফেস করতে দাও।
সারিন ওকে সরিয়ে দিয়ে চলে গেলো। জামান সাহেব যে দূরে দাঁড়িয়ে সব শুনেছেন তা কেউ বুঝলো না। কি এমন সিক্রেট? কিসের এত ভয় এহরিমের? তিনি ভাবতে লাগলেন। তিন অফিসে ব্যাক করলেন। দশম দিনের দিন, তার কাছে একটা ফোন এলো, তিনি ফোন পেয়ে ফোর্স নিয়ে ছুটে গেলেন টঙ্গীর এক পরিত্যাক্ত পোড়াবাড়ীতে। গিয়ে যা দেখলেন তা দেখার জন্য কোনো প্রস্তুতি ছিলো না তার। মাটির উপর পড়ে আছে সুমন। তিনি চেক করে দেখলেন হার্ট বিট আছে, পালস ও পাওয়া যাচ্ছে, তবে খুব আস্তে। বেঁচে আছে এটাই অনেক। সুমনকে তাড়াতাড়ি হসপিটালে পাঠিয়ে তিনি খুঁজতে লাগলেন। যদি কোনো হিন্টস পাওয়া যায়। কিন্তু নাহ, একবারে নিখুঁত প্ল্যান, একটাও ভুল নেই প্ল্যানে।
কয়েক ঘন্টা কেটে গেলেও সুমনের জ্ঞান ফিরছে না। জামান সাহেব ডক্টরের সাথে কথা বলতে গেলেন,
- কি অবস্থা পেশেন্টের?
-এখনো শরীর স্ট্যাবেল হয় নি।
-শরীরের কিছু পাওয়া গেলো?
-হুম, দু ধরণের ড্রাগস। লাস্ট মিনিমাম সাত দিন যাবৎ ওনাকে ড্রাগস দিয়ে রাখা হয়েছে। আই ওয়ান্ডার, রুগী কি করে এখনো বেঁচে আছেন।
- কি কি পাওয়া গেছে?
-ব্লেবিসটেটিন এর মাত্রা অনেক ছিলো। এছাড়া ক্যাটামিন পাওয়া গেছে।
-ব্লেবিসটেটিন কি? এটার কাজ কি?
-এটা এক ধরণের ড্রাগস, যেটা আমরা মেন্টাল ট্রমা কিওর করতে খুবই অল্প পরিমাণে ব্যবহার করি। এই ড্রাগস, ক্যলসিয়াম, প্রিএ্যাম্বেল এমপিএ (AMPA )রিসেপ্টর ব্লক করে দিয়ে ব্রেন থেকে নেতিবাচক অনুভূতি দূর করে।
- সো ডিপ। তার মানে?
- তার মানে রুগী কিছুই বলতে পারবে না তার সাথে কি হয়েছিলো। নেগেটিভ কোনো কথা সে মনে করতে পারবে না।
-শিট। আই লস্ট এ্যানাদার ইভিডেন্স। থ্যাংক ইউ ডক্টর।
- ইটস মাই ডিউটি।
হতাশ হয়ে তিনি অফিসে ফিরলেন। টেবিলে এসে পেলেন একট পার্সেল। তিনি বুঝে গেলেন ইডিপাসের নতুন ক্লু আসলো। তিনি দেখলেন একটা চিঠি, খুলে পড়তে শুরু করলেন।
ইন্সপেক্টর জামান,
কোথায় আছে পুলিশের মাথা যখন খাটতে খাটতে ক্লান্ত হ্যে যায়, তখন থেকে চোরের মাথা দৌড়াতে শুরু করে। অবশ্য আপনার মাথা খাটিয়ে লাভ কি? মাস্টারমাইন্ডের মাইন্ড তো আমার কাছে, হাহাহা। খুব খুঁজলেন সুমনকে না? পেয়ে গেছি ইডিপাস? হাহাহাহা, এত্ত সোজা?
যাই হোক, সুমন আমার শত্রু না। তাই ওকে একটা টোকা দিই নি। আমি অযথা মানুষ খুনী না। আমার নিজস্ব ইথিক্স আছে। আমি দশদিন্ন যাবত অপেক্ষা করেছি, কিন্তু নাহ আপনাদের মাথায় কিছুই আসলো না,। তাই নিজেই সুমনকে ফেলে গিয়েছি। আমার খেলা জমছে না। শেষের দিকে এসে এত বোরিং হলে চলছে না আমার।
মাথা ঠান্ড করে আমাকে খুঁজুন। মন দিয়ে খুজলে ঈশ্বর কে পাওয়া যায়। আর ইডিপাস কোন ছাড়? হাহাহাহাহা।
চিঠি রেখে, পার্সেল থেকে সিডি বের করলেন জামান সাহেব। ওপেন করে বুঝলেন অডিও সিডি, গানের সুর ভেসে আসছে-
''চাঁদনী পসরে কে আমারে স্মরণ করে কে আইসা দাড়াইসে গো আমার দুয়ারে তাহারে চিনিনা আমি সে আমারে চিনে............।
এই চাঁদের রাইতে তোমার হইছে গো সময়''
হতভম্ব হয়ে জামান সাহেব গানটা শুনতে লাগলেন। একবার দুবার বার বার। এটা কি ক্লু? নাকি সাধারণ গান???
এমন সময় ট্যাকনিক্যাল হেড লিসা এসে জানালো, ফারাবী হত্যার ভিডিও যে চ্যানেল থেকে আপ্লোড হয়েছিলো সেখান থেকে মাত্র একটা অডিও ফাইল আপ্লোড হয়েছে। ফ্রিকোয়েন্সি হ্যাক করার চেষ্টা করছে বাকীরা।
জামান সাহেবের প্রাণে পানি এলো মনে হয়, আল্লাহ হয়তো মুখ তুলে চেয়েছেন। এটা ভেবে কন্ট্রোল রুমের দিকে পা বাড়ালেন জামান সাহেব।
SHARE

Author: verified_user