Friday

বাংলা চিঠিপত্র || প্রথম ভালবাসার চিঠি

SHARE








"মাকে লেখা চিঠি"


"মাকে লেখা চিঠি"


আম্মাজান,
আসসালামু আলাইকুম। জ্বর টা বোধহয়
সারেনাই আপনার। সারাদিন ফোন
দিয়াও পেলাম নাহ।
আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো
নাই। জানেন তো চিরকাল ই ওষুধ
খেতে অপছন্দ করি কিন্তু এখন এত্তো
গুলা ওষুধ দিছেন ডাঃ। খেতেই
হচ্ছে জোড় করে হলেও। সবসময়ই রোগ
হলে আপনার ছোয়া পেলে সুস্থ হয়ে
যায় তারাতারি কিন্তু এখন তো
আসতেও পারছিনা আম্মাজান।
বলেছিলাম পড়াশোনা করবোনা।
কাল থেকে এক্সাম শুরু। দেখুন শুধু এর
জন্য আপনার কাছে আসতে
পারছিনাহ।আম্মা জানেন,, অনেক
কষ্ট হয় ওষুধের সাইড ইফেক্ট এ। আব্বু কে
সবসময় কেনো জানি কষ্ট দিয়ে
ফেলি বাট আমার অসুস্থতার কথা
শুনে আব্বুর ফোন পেয়ে কথা শুনে খুব
কস্ট লাগছে মা। আমি অনেক অনেক
সরি মা আব্বু কে বলে দিবেন।আমি
হয়তো সরাসরি কখনোই বলতে
পারবোনা। জানেন তো
ভালোবাসা প্রকাশ করতে
পারিনা।
মা আপনার ভালো সন্তান হতে
পারলাম নাহ কোনদিক থেকেই।
ক্ষমা আর দোয়াপ্রার্থী আম্মা।
আপনার ছোট্ট বাবুটা।




--------------------------------------


ইরা



"ইরা
জেলখানার এই চার দেওয়ালে
ঘরটা আজ বড় আপন লাগে নিজের
কাছে। আমি ছাড়া যেনো এই ঘরটা
বড্ড বেমানান। গত দুবছরে আমার
অনেক অবেগ, কষ্ট,অক্ষেপ,
অভিযোগ,অভিমানের নিরব
স্বাক্ষী এই নিস্তব্ধ ইট সিমেন্টের এই
ঘরটা। সময়ের প্রয়োজনে এই দেওয়াল
গুলো আমার পাতা বিহীন ডায়রি
হয়েছে। সেখানে শুধু জীবনের
অগণিত না মেলা হিসাবের অংক
পরিসমাপ্ত হবার অপেক্ষায়।
স্বাভাবিক মানুষ গুলোর নাকি না
চাইতে হারিয়ে যায় তাদের সময়
গুলো। কিন্তু আমার সময়, সে যেনো
মহাশূণ্যের মত অসীম একটা ধারা।
দিনরাত এখানে থমকে থাকে
নিস্তব্ধ নিরব চার দেওয়ালে ঘরটায়।
এ যেনো আমার সাথে আমার সময়
গুলোকে বন্দি করছে সেলখানার এই
চার দেওয়ালটা। গত পরশু আমার
মামলার রায় হয়েছে। আমাকে
মৃত্যুদন্ড দিয়েছে রায়ে। তাই
তোমাকে লিখতে বসলাম। কে
জানে এইটাই আমার লেখা শেষ
চিঠি হয়তো। আমার কাছের মানুষ
বলতেতো আর কেউ নেই। জানো
প্রথম প্রথম খুব কষ্ট লাগতো আমার
পরিবার আর তোমার কথা ভেবে।
এখন আর লাগে না। গত দুবছরে আমার
পরিবারে কেউ দেখতে আসেনি
একটি বার। তারা একটা খুনির সাথে
কোন প্রকার সম্পর্ক রাখতে চায়না।
বিশ্বাস করো এ নিয়ে আমার
এতোটুকু কষ্ট নেই। জানি আমার প্রতি
তোমার ঘৃণাটা আজ পাহাড় সমান
জমে আছে। ঘৃণা করাটাই
স্বাভাবিক।আমি বুঝি তোমার
ঘৃণাটা আমার প্রতি যতটা না আমি
খুন করেছি তার থেকে ঢের বেশি
তোমার তিলে তিলে সাজানো
স্বপ্নগুলোকে খুন করেছি বলে। কি
করবো বলো বিবেকের কাছে
অজীবন মৃত থাকার থেকে না হয়
তোমার ঘৃণা নিয়ে বেচে
থাকাটা যে অনেক সহজ। মাঝে
মাঝে খেয়ালি মনটা অবুঝ হতো
মিছে কিছুর আশায়। তুমি আমাকে
দেখতে আসবে এই ভেবে। দুবছরে শুধু
কেয়া আমাকে দেখতে আসে প্রতি
একবার। অথচ তার প্রেমিকের খুনি
আমি। কেয়াকে চিতে পেরেছো?
সবুজের প্রেমিকা। হ্যা, আমার বন্ধু
সবুজ যাকে আমি নিজ হাতে খুন
করেছি। ইরা, আজ শুধু একটি কথা
জানাবার জন্য এ চিঠি লেখা
তোমার কাছে। তুমি একটা নারী
হয়ে জানো নারী সব থেকে বড় সম্পদ
কি। সেই সম্পদ ভালোবাসা নামের
প্রলোভন দেখিয়ে কেড়ে নেবার
নামতো ভালোবাস নয়। জানি
আমার একটা খুনে পুরো পুরুষ জাতির
কলঙ্ক মুছে যাবেনা। না হয় একটা
নারী কাছে পুরুষের প্রতি
শ্রদ্ধাবোধটুকু বেচে থাক আর একটা
নারীর ঘৃণার পরিবর্তে। আচ্ছা ইরা,
একটা খুন করলে ফাঁসি হবে আর
একাশত খুন করলেও তাই। আমার যদি
ক্ষমতা থাকতো তবে আমি একশতটা
খুন করতাম। আর কিছু না হোক পৃথিবী
হতে অনন্ত একশতটা পশু কমে যেতো।
জানি তাতে এ পশুদের থাবা
থেমে থাকবেনা। বন্ধ হয়ে
যাবেনা রাতের আধারে অজানা
কত মেয়ের সব হারিয়ে ডুকরে
কেদে ওঠা। জানিনা আমার ফাঁসি
কবে হবে। আমি জানি আমি হাসতে
হাসতে সে মৃত্যুকে বরণ করতে
পারবো। এইভেবে যে বিবেকের
কাছে আমি পরাজিত নয়। ইদানিং
মায়া লাগে মনের মাঝে। না
তোমাদের এই রঙিন পৃথিবীটার জন্য
না। মায়া লাগে আমার এই চার
দেওয়ালের ঘরটার জন্য।এই ঘরটার
প্রতিটি দেওয়াল জুড়ে যে ইরা
নামটি লেখা কতোটা
ভালোবাসা নিয়ে সে শুধু এই
নিরেট ইট পাথরের দেওয়ালটায়
জানবে। জানি আমার লাশটা কেউ
নিতে আসবেনা। হয়তো ঐ লাশ
রাখা ঘরটায় হিমশীতল ঠান্ডায়
পরে থাক...."
- Amin Rassel



---------------------------------------------------------------------------------------------------
রাত্রী


"রাত্রী,
জানো তো
আগে একদমই রাত জাগতে পারতাম
না আমি।
এমনকি পরীক্ষার সময়ও রাত জেগে
পড়িনি
কখনোই। যদি তার সাথে ফোনে
কথা হত রাতে,
তাহলেই জেগে থাকা হত শুধু। আর
ফোনটা রাখা
মাত্রই ঘুম। কিন্তু ২বছর আগে থেকে
কিছু কারণে
রাতে ঘুম হত না। জীবনে insomnia - এর
আগমন
ঘটলো তখনি !! প্রথম প্রথম খুব অস্থির
লাগতো।
ঘুম আসতো না, আবার রাত জাগার
অভ্যাস ছিল
না তাই কষ্টও হত জেগে থাকতে।
অনেক কাঁদতাম
আগে। সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছিল,
তাই রাত
জাগাটা তখন রীতিমত
বিভীষিকাময় ছিল! কি
করব বুঝে পেতাম না। শুধু কষ্টের সব
কথা মনে
পড়তো। কি যে বাজে সময় কাটতো,
লিখে
বোঝানো যাবে না !!
আর এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত।
এখন আমি
রাতে আর ঘুমোতে পারি না সহজে,
এটা ঠিক।
কিন্তু এখন আমি রাত জাগতে
ভালবাসি। মজাই
লাগে এখন যখন মনে পড়ে, আগে আমি
ভাবতাম,
"মানুষ কিভাবে এত রাত জাগতে
পারে??"
২৪ঘণ্টার মধ্যে সবথেকে আপন সময়টাই
এখন আমার
রাতের জেগে থাকা সময়টুকু। সবাই
যখন ঘুমিয়ে
পড়ে, অদ্ভুত একটা শূন্যতা নেমে
আসে ঘরটায়,
আগে অনেক ভয় পেতাম এই
শূন্যতাটাকে, আর এখন
প্রতিদিন অপেক্ষা করি এই সময়টার
জন্য! অনেক
রাতে, যখন রুমের ঘড়িটার টিক টিক
শব্দ ছাড়া
আর কিছুই শোনা যায় না, তখন আমি
আমার কথা
শুনতে পাই। ভেতরের সত্ত্বাটা
নিজের জমানো
সব সুখ-দুঃখ এক এক করে আমাকে বলে
যায় তখন।
সারাদিনের বিরতিহীন অভিনয়ে
সে তখন অনেক
ক্লান্ত! মায়াই হয় তার জন্য! অন্যের
খুশির জন্য
নিজের কষ্টকে আড়াল করে, "আমি
ভাল আছি" এই
মুখোশটা পরে বাইরের পৃথিবীর
সামনে
দাঁড়ানো, আর অবিরাম অভিনয় করে
যাওয়া - এই
কাজটা আসলেই বড় ক্লান্তিকর।
আগে একদম
পারতাম না আমি কাজটা করতে। মন
খারাপ
থাকলে যে কেউ আমাকে দেখে
ধরে ফেলতে
পারতো তা। কিন্তু এখন বেশ ভালমতই
রপ্ত করে
ফেলেছি গুণটা (আসলেই কি এটা
গুণ?? আমি
জানি না!)। অনেক সুবিধা এখন।
বারবার আর সেই
একি প্রশ্নের জবাব দিতে হয়না,
"তোমার মন
খারাপ কেন?" আর এই "গুণ" এর খারাপ
দিক হল,
ক্লান্তিটা। যেটা নিজের একাকী
সময়টায় বেশ
কষ্ট দেয়।
রাতের একাকী সময়টুকু তাই ভেতরের
সত্ত্বাতার
সাথেই কাটাই আমি। আমার
ভেতরের আমিটা
অনেক পাগল! কত কি যে স্বপ্ন দেখে
সে! যার
বেশিরভাগই পূরণ হবার কোন
সম্ভাবনা বাস্তবিক
অর্থে নেই। কিন্তু তাকে এটা কে
বোঝাবে?
নিজের স্বপ্নের জগৎ নিয়ে নিজের
খেয়ালেই
মাতোয়ারা সে! আর রাতের এই
অদ্ভুত সময়টায়
আমাকে তার এসব কথাই বলে যায়
সে। কখনো
কখনো অভিমান করে, জীবনের
অনেক আঘাতের
বিরুদ্ধে। কখনো হাসে, জীবনের
সুন্দর মুহূর্তগুলোর
কথা মনে করে। কখনো কাঁদে, না
পাওয়ার বেদনা
সইতে না পেরে। আবার কখনো একদম
থম মেরে
বসে থাকে বাস্তবতাকে মেনে
নিতে না পেরে।
অনেক কিছুই বোঝানোর চেষ্টা
করি তাকে
আমি। কিন্তু কখনোই কিছু বোঝে না
সে। অনেক
একরোখা মেয়েটা! নিজে যা
বোঝে তাই যেন শুধু
ঠিক, আর কিচ্ছু না! আমি বোঝাতে
বোঝাতে
ক্লান্ত এখন। আর বোঝানোর চেষ্টাও
করি না।
থাক সে তার মত। সারাটা দিনতো
অন্যের জন্যই
বাঁচে বেচারি। এই সময়টা নিজের
মতই থাক!
এভাবে নিজের সাথে গল্প করতে
করতে আমার
রাতগুলো কাটে এখন। বেশ ভাল সময়
বলা যায়!
সারাদিনের ব্যস্ততায় নিজেকে
সময় দেয়া হয়না
একদমই, তাই এই সময়টায় তাই করি যা
করতে
আমার মন চায়! একটা কথা বলা দরকার।
রাতজাগা মানুষরা সাধারণত চাঁদ
দেখতে খুব
ভালবাসেন। কিন্তু আমার অবস্থা
ভিন্ন। আমার
জানালা দিয়ে চাঁদ দেখা যায়
না। কিন্তু আমার
আর চাঁদ দেখতে ইচ্ছাও করেনা কেন
যেন। রুমের
সব দরজা-জানালা বন্ধ করে আধো
আলো-আধো
অন্ধকারে বসে থাকতেই ভাল
লাগে। সম্ভবত খুব
একটা রোমান্টিক না আমি, তাই এমন
হয় !! আমার
কিন্তু খুব ভাল লাগে এভাবে
থাকতে। একদম
নিজের একটা জগৎ মনে হয়
চারপাশটাকে তখন।
যেখানে আমি ছাড়া কেউ নেই,
কিচ্ছু নেই,
এমনকি চাঁদ মামাও না! কিন্তু আবার
আমি
চাইলেই যে কাউকে আমার কাছে
আমার খুশিমত
নিয়ে আসতে পারি তখন। কল্পনার
শক্তি যে
অসীম! তাই একদম নিজের মত করে
সাজিয়ে
নেয়া যায় এই সময়টা। যেটা দিনের
বেলায়,
মানুষের ভীড়ে কখনোই সম্ভব না। আর
এজন্যই now
i just love to be insomniac! now
i just love to be insomniac!!
i'm in love with this magical "night" immensely.
may be
it's gonna sound kinda weird!! but i must say, i
felt it
several times that "insomnia" could be blessing
sometimes!!
ইতি"



----------------------------------------------------------------

হৃদমোহিনী মায়াবতী,


"হৃদমোহিনী মায়াবতী,
পত্রের শুরুতে তোর জন্য আমার হৃদয়ে
লালন করা এক রাজ্যের
ভালোবাসা আর সম্প্রতি তোর
সাথে কাটিয়ে আসা চিরস্মরণীয়
কিছু সুন্দর মুহুর্তের শুভেচ্ছা নিস।
দীর্ঘ সাতাইশ দিন পর আজ তোকে
লিখতে বসলাম, আমি যখন তোকে
লিখতে বসি, তখন আমার আমিতে
থাকিনা। আমার সমস্ত সত্তা শুধু
তোতেই নিমজ্জিত থাকে।
অনুভূতিগুলো সফর করতে থাকে তোর
হৃদয় পাড়ায়, যেন তুই মিশে আছিস
আমার অস্তিত্বে।
মায়াবতী, শত ব্যস্ততার ভিতরেও
আজকে তোকে কাগজ কলম দিয়ে
লিখতে বসার পিছনে একটা কারন
রয়েছে।
কোন এক বিজ্ঞজন বলেছিলেন,
অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ এবং
অনুভূতিকে খাঁচায় বন্দি করে
রাখার একক এবং অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে
লিখে রাখা।
সপ্তমবারের মতো তোর সাথে
দেখা করে আসার পর তেইশ ঘন্টা গত
হলো। তোর সাথে কাটিয়ে আসা
সুন্দর সুখকর মুহুর্তগুলোর রেশ এখনো
কাটেনি, আমি এখনো সেই ঘোরেই
আচ্ছাদিত। আমি এখনো একটা কোমল
নরম হাতের স্পর্শ আমার হাতে অনুভব
করি।
মায়াবতী,
একসাথে কাটানো আমাদের
দু'জনের এই সুন্দর সুখকর অভূলনীয় কিছু
মূহুর্তকে,স্মৃতির পাতায়
আবদ্ধ করে রাখতেই আজ লিখতে
বসা।
“ 7 ফেব্রুয়ারী 2018 বুধবার“
আমার জীবনের এই দিনটিকে আমি
কোন দিনও ভুলতে পারবো না।
একদিক থেকে ছিল রাজ্যের ভয় ও
আতংক, অপরদিকে ছিলো এক অনন্যা
মায়াবতীর উষ্ণস্পর্ষ আর এক শহর
ভালবাসা।
সাথে ছিল আমার হাত ছেপে ধরে
তার দেয়া অভয় “প্লীজ যোহান
ভরসা রাখ কিচ্ছু হবে না“
মায়াবতীর বলা এই বাক্যটিই ওইদিন
সাহসের সঞ্চার করেছিলো আমার
অন্তরে।
মায়াবতী,
তোর নিশ্চয় ভুলে যাওয়ার কথা না,
জানুয়ারীতেই আমরা নির্ধারণ
করেছিলাম যে, 7ফেব্রুয়ারী দেখা
করব। কত কল্পনা ঝল্পনা আর শত
প্ল্যানিং ছিলো এই দিনটি কে
নিয়ে।
সেই প্ল্যান মোতাবেকই ঠোঁটের
কোণে এক রাশ হাসি আর বুকে তোর
দিদারের আশা পোষণ করে রওয়ানা
হই ঢাকার উদ্দেশ্যে। আমি তখনো
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি
সম্পর্কে অজ্ঞাতই ছিলাম।
বিকেলের দিকে গিয়ে
পৌঁছালাম গুলিস্থান, আসরের
নামাযটা পড়ে চড়ে বসলাম
মোহাম্মদপুরের বাসে। যানজট
বিহীন রাস্থা দেখে খুশী হয়ে
পাশের সীটের আংকেল কে এর
কারণ জিজ্ঞেস করাতে,তিনি
জবাবে যা বললেন আমি শুনে থ বনে
গেলাম।
সাথে তিনি এও বললেন যে আজ
সন্ধার পর হইওয়ের সকল যান চলাচল বন্দ
করে দেয়া হবে।
তারপর অনলেইনে ঢুকে ও দেখলাম
যে রাজনৈতিক নাশকতার ভয়ে
রাজধানীতে আসলেই কঠোর
নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা
হয়েছে।
তারপর তোকে সব জানালাম,তুই
বললি ভরসা রাখ ইনশাল্লাহ কিচ্ছু
হবে না তুই আয়। তোর ভরসাই আমার
অন্তরে সাহস যোগিয়েছিল। আমার
ভয় একটাই ছিলো যে রাতে রাতে
কুমিল্লা ফিরতে না পারলে অনেক
প্রবলেম হয়ে যাবে..অবশেষে মনকে
এই বলে আশ্বস্ত করলাম যে, বাস না
পেলে ট্রেনে চলে যাবো।
সব ভয় আর বাঁধা ডিঙিয়ে অবশেষে
তোর সাথে আমার দেখা
হলো,তোকে পাশে পাওয়ার পর সব
ভয় যেন উধাও হয়ে গেল। আমার
কাছে মনে হয়েছে এই তুই পাশে
থাকলে আমি অসাধ্যকেও সাধ্য
করতে পারবো।
মায়াবতী,
আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিলো
তোর হাতে হাত রেখে দীর্ঘ পথ
হাঁটার,গতকাল সে স্বপ্নটাও পূরন
হলো।
পাক্কা পঞ্চাশ মিনিট আমরা
একসাথে পায়ে হেটেছি, তবে এই
পঞ্চাশটা মিনিট আমার কাছে মনে
হয়েছে চোখের পলকেই চলে
গেছে।
ইশ যদি ষাট সেকেন্ডে এক মিনিট
না হয়ে একশ সেকেন্ডে হতো..!
তাহলে পঞ্চাশ মিনিট আরো দীর্ঘ
হতো আরো দীর্ঘক্ষন তোর সাথে
হাঁটা যেত।
জানিস মায়াবতী,
এই অল্প সময় তোর সাথে হেঁটে আমার
মন ভরবে না,আমি আমার জীবন পথের
শুরু থেকে শেষ অবদি তোর সাথে
হাঁটতে চাই, হঠাৎ থমকে দিয়ে
বলতে চাই আমি ধন্য তোকে
ভালবেসে।
গতকালের দিনটা আরেকটা কারনে
অন্যান্য দিন থেকে আলাদা,কারন
গতকালই প্রথম আমরা দুজন একসাথে
কিছু খেয়েছি। তুই কখনোই কিছু
খেতে চাস না বাহিরে, তারপরেও
কি করে যেন কাল বললি যে ফুচকা
খাবি, তারপর ফুচকা অর্ডার করলাম,এই
প্রথম তুই তখন তোর হাতে আমাকে
খাইয়ে দিলি,আমার যে কত্তটা
ভালো লাগছিলো তখন তা আমি
ভাষায় প্রকাশে অক্ষম।
অবশেষে দীর্ঘ এক ঘন্টা বিশ মিনিট
দুজনে এক সাথে সুন্দর কিছু সময় পার
করে,অনিচ্ছা সত্বেও আমাদের
বিদায় জানাতে হলো একে
অপরকে।
আমি আলহামদুলিল্লাহ কাল রাতে
রাতেই বাসে করে নিরাপদে
বাসায় ফিরি।
কিন্তু সমস্যা বিধেছে অন্যখানে
গতকাল তোর হাতে ফুচকা
খেয়ে,এবং বাসায় এসে আমাকে
দিয়ে দেয়া তোর কলিজা ভুনা
খাওয়ার পর থেকে, (যা তুই নিজে
তোর জাদুকরি হাতে আমার জন্য
কাল রান্না করে নিয়ে এসেছিলি)
আমার মাথায় তোকে চিরতরে
আমার করে নেয়ার ভূত সওয়ার
হয়েছে। তোকে একান্তই আমার করে
না নেয়া অবদি সে ভূত নামবে বলে
মনে হচ্ছে না। জানিনা আমি
তোকে আমার করে পেয়ে কৃতকার্য
হতে পারব কিনা,কিন্তু চেষ্টা
করতে তো আর বাধা নেই, আমি
চেষ্টাই করে যাবো।
ইতি:-
তোর মায়াবী রাজপুত্র
08/02/2018
লেখা:- Johirul Islam Zohan (রাজপুত্র)
উত্সর্গ:- Ayesha Afnan (মায়াবতী)"



-----------------------------------------------



"সিলেটের জৈন্তাপুরের ভাষায় চিঠি"
ফরানর ফাকি,
ছিটির ফয়লা বছন্তর ছুবেচ্ছা জানিও।আছা খরি হখলতায় মিলাইয়া তুমি বালা আছ,মুইও আছু এখরখমা।
.
তুমি মরে লইয়া বেছ ছিন্তাউন্তা খরিও না।আমরার ফিরিত যদি হাছা অইয়া তাখে তে, খেউ আমরারে আখটাইতে ফাইরতো নায়।তুমি ফুকরির গাটো ফড়িয়া লঙ্গি ছিড়িলছ ফুনিয়া মুই খাইন্তে খাইন্তে ছৌকুর ফানি ছেছ ঐয়া এলা ছৌকেদি লৌ বারোয়ের।আইচ্ছা যেতা অইবার অইগেছে এলা তুমি লঙ্গিখান মটাইন ফাটাই দিয়ো মুই ছিলাই খরি দিম।আর ইতা কিতা ফুনাইলায়?তুমি বুলে মোর ছিন্তায় গুমাও না তুমার বুলে ছুল হারা ফড়িযায়ের?দুয়াই আল্লার দেকিও তুমি না গুমাইয়া উজাগরি খরিও না।
.
তুমি দেখু মরে লইয়া যে ছুন্দর এক কবিতা লেইখস!মুই এখটা লেইকচু দেখোসাইন ঐছেনি "মর ফরানর ফাকি
আর দিয়োনা ফাঁকি
তুমার লগে গর খরিয়া
ঐমু আমি "লাকি"
বাক্কা খয়দিন ঐগেছে মুই তুমারে দেইকছু না।আর খয়দিন তুমার লাগি বার ছাইতু।এখোবার জানে খয় তমার গেছে বাগিয়া যাইতুগি।আবার ছিন্তা খরু মর বড়বুদি(বড়বোন)এবো গর রইছইন তান খতা ছিন্তা খরিয়া যাউম না।বুদির বিয়ার মাত ছলের।বুদির বিয়ার বাদে বাদেউ মরে বিয়া দিলাইবা ,খাইল ফুনচু মাইয়ে আর বাবাইয়ে অতা মাতিতরা।তুমারে জানাইয়া রাইকলু তুমি হমার তাকি ও।খাইল এখবার ফুবর বাড়ির ফুকরির ফার আইয়।আর দেকিও রাইত উজাগরি করিও না।
ইতি
তোমার ফাকি
কুলচুম।"



------------------------------------------------------------




SHARE

Author: verified_user