Thursday

Bengali Books Online | রিয়াদ আলমের রচনাসমগ্র

SHARE

Bengali Books Online | রিয়াদ আলমের রচনাসমগ্র





                                       "আমি এবং বসের বদমেয়ে "

                                                       লেখক: রিয়াদ আলম
"আমি এবং বসের বদমেয়ে " লেখক: রিয়াদ আলম

এক
রাতে অফিস থেকে ফেরার পর মনে হল জ্বর আসবে।সকালে ঘুম থেকে উঠার পর ঠিক তাই হল জ্বরের জন্য বিছানা থেকে উঠতে পারছিলাম না।
অফিসে কল করে অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম।ঘুম ভাঙলো কলিং বেল বাজার শব্দে।বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছে না তবুও কষ্ট করে দরজাটা গিয়ে খুললাম।
অনেকটা অবাক হয়েই নাহিদার দিকে তাকিয়ে আছি আমি।আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমার অসুস্থতার কথা শুনে সে বাসায় চলে আসবে।আমাকে দেখে একটু চিন্তিত হয়েই বলল,
-তোমার নাকি খুব জ্বর উঠেছে।বলেই সে আমার কপালে হাত রাখল।
-তোমারতো জ্বরে গা পুরে যাচ্ছে বলতে বলতে সে আমার হাত ধরে বিছানায় শুয়ে দিল।দেখলাম প্যাকেটে করে খাবারও নিয়ে এসেছে।খাবার প্যাকেট থেকে খুলে বলল,
-তারাতারি খেয়ে নাও।
কিন্তু আমি এতটাই অসুস্থ যে খাবারটা নিয়ে খেতে পারব না।সেটা মনে হয় নাহিদা বুঝতে পেরেছে।সে নিজে হাত দিয়ে আমার মুখের সামনে নিয়ে বলল,
-হা কর,আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
আমি আসলে এতটাই বিস্মিত হয়ে পড়েছিলাম যে কোন কিছু না ভেবেই খেতে শুরু করলাম।
যে মেয়েটা আমাকে কখনো সহ্য করতে পারত না।বিয়ের প্রায় নয় মাস হলেও কখনো আমাকে টাচ করেনি।এমন কি দুজনের ভিতর খুব কমই কথা হত তাও আবার শুধু অফিসিয়াল কাজ নিয়ে।আজ সে আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে।তার ব্যবহারে মনে হচ্ছে এটা আমাদের মাঝে নিত্যদিনেরই ব্যাপার।
খাওয়া শেষ হওয়ার পর দেখলাম।নাহিদা ব্যাগ থেকে ঔষধ বের করছে।আমাকে ঔষধ খাইয়ে বলল,ঘুমানোর চেস্টা করতে।আমি আর কিছু না ভেবেই ঘুমিয়ে পড়ার চেস্টা করলাম।আমার মনে হচ্ছে আমি স্বপ্নের মধ্যে আছি আর ভাবছি যদি স্বপ্ন হয় তাহলে এই স্বপ্ন যেন কখনো শেষ না হয়।
দুই
পড়ালেখার পাঠ সমাপ্ত করেই একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকরী পেয়ে গেলাম।বেতনও ভালো মানে বেশ ভালো।আমি একা বলে খরচও তেমন নেই,তাই চাকরীটা করে আনন্দেই ছিলাম।কোম্পানীর ম্যানেজার অর্থাৎ বস আফসার চৌধুরী খুব ভালো এবং দায়িত্ববান একজন মানুষ।যেকোন কাজই মনোযোগ দিয়ে করি বলে তিনি আমাকে বেশ পছন্দ করেন। খুব অল্প সময়ে অর্থাৎ দুবছরের মধ্যেই কয়েকবার প্রমোশন দিয়েছেন আমাকে।
ঝামেলাটা শুরু হল যেদিন থেকে উনার মেয়ে নাহিদা চৌধুরী অফিসে জয়েন করে।

শাশুরির কমেন্ট - সিগনাল যখন এসেছে তখন স্যাটেলাইট জায়গামতই পৌঁছায় গেছে


প্রথম দিনই আমার একটি কাজের জন্য উনি আমাকে তার রুমে ডেকে নিয়ে পুরো আধঘন্টা ঝেড়ে আমাকে বের করে দিলেন।অথচ আমার কম্পিউটারে প্রবলেম দিচ্ছিল বিধায় এটা ঠিক করে কাজটা শেষ করতে লেট হয়ে গেছে।এটা উনাকে বুঝাবতো দূরের কথা আমাকে বলার সুযোগই দেয় নি।
দুদিন পর আমার অফিসে যেতে একটু লেট হয়।অফিসে যাওয়ার পরই নাহিদা ম্যাডাম আমাকে তার রুমে ডাকলেন।
আমি উনার রুমে ডুকার অনুমতি চেয়ে ভিতরে গিয়ে দাড়ালাম।উনি আমার দিকে না তাকিয়েই বলল,
-আপনার নাম রিয়াদ।
-জ্বী ম্যাম।
-আজ আসতে লেট হল কেন?
-জ্বী মানে পথে একটা এক্সিডেন্ট হওয়ায় আসতে লেট হয়েছে।
এই কথা বলতেই উনি রেগে গেলেন।
-মিষ্টার রিয়াদ,আপনি আমাকে অযুহাত দিবেন না।এই ধরনের ফাল্তু অযুহাত আপনি আমাকে দেখাচ্ছেন।বাবা আপনার কত প্রশংসা করে আপনি নাকি দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করেন।অথচ আমি আসার পর থেকেই দেখছি আপনি একজন দায়িত্বহীন লোক।নিজের কাজের প্রতি কোন আগ্রহই নেই আপনার।প্রথম দিনই আপনার দায়িত্বহীন কাজের পরিচয় দিয়েছিলেন।
আমারও রাগ উঠে গেল।একে তো অফিসে আসার পথে বাস এক্সিডেন্টে একটুর জন্য বেচে গেছি নয়ত এখন হাসপাতালের বেড এ পড়ে থাকতে হত। তার উপর উনার এই ব্যবহার মোটেও ভাল লাগলনা।তাই আমি একটু রেগেই বললাম,
-আপনি নিজেকে কি মনে করেন যে আপনাকে আমি কাজ ফাকি দেওয়ার অযুহাত দেখাব।আর প্রথম দিন কম্পিউটারে প্রবলেম হওয়ায় সেটা ঠিক করে কাজটা শেষ করতে দেরী হয়।আর আপনার বাবা এতো ভালো মানুষ আপনি উনার বিপরীত হলেন কিভাবে।
আমি বের হয়ে নিজের ডেস্কে এসে বসলাম।আসলে একটু রেগেই গিয়েছিলাম। কিন্তু যখন রাগটা একটু কমে গেল তখনই মনে হল চাকরীটা বুঝি এবার গেল।কারন নাহিদা ম্যাম জয়েন করার পরই আফসার সাহেব সব দায়িত্ব উনার উপর দিয়ে নিজে অবসর নিয়ে ফেললেন।অবশ্য মাঝেমাঝে আসেন কিন্তু তাতে কি!ক্ষমতা এখন নাহিদা ম্যাম এর কাছেই চাকরী থেকে আমাকে বহিষ্কার করতেই পারে।
কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়েই আর কিছু হলনা।এরপর থেকেই নাহিদা ম্যাম আমার সাথে কথা কম বলত ।বলতে গেলে আমাকে দেখলেই বিরক্ত হত।শুধু যখন কোন কাজের জন্য আমার প্রয়োজন পড়ত।আমাকে ডেকে নিয়ে আমার দিকে না তাকিয়েই কাজ সম্পর্কে বুঝিয়ে দিত।
আমার অবশ্য ভালোই হল। সবসময় সবাইকে অহেতুক ঝাড়ির উপর রাখার কারনে আমারও তেমন তাকে ভালো লাগত না।শুধু চাকরীর খাতিরে তাকে মেনে চলতাম।
আমি ভাবতাম আমাকে চাকরী থেকে বরখাস্ত করে না কেন? হয়ত আফসার চৌধুরীর জন্যই।
তিন
নয় মাস আগে হঠাৎ আফসার চৌধুরী অফিসে এসে সবাইকে নাহিদা ম্যামের বিয়ের দাওয়াত দিলেন।পনের দিন পর নাহিদা ম্যামের বিয়ে।সবাই যেন উপস্থিত থাকি।সেদিন আমার সাথেও উনার ভালো-মন্দ খবর আদান-প্রদান হয়
প্রথমে ভেবেছিলাম বিয়েতে যাব না।কিন্তু আফসার সাহেবের কথা রক্ষা করতেই বিয়েতে গিয়ে হাজির হলাম।
বিয়েতে হাজির হওয়ার পর মনে হল এখানে কিছু একটা ঠিক নেই।তখনই শুনতে পারলাম।বর নাকি অন্য এক মেয়েকে ভালবাসে।তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল তাই বিয়ের রাতে মানে ঐ দিনই সে তার প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে গেছে।আফসার সাহেব কে দেখলাম প্রচন্ড রেগে গেছে।তিনি মোবাইলে পাত্রপক্ষকে খুব কড়াভাবে বকাবকি করছিলেন।আর এটাও বললেন যে আজই নাকি উনার মেয়েকে বিয়ে দিবেন।
কল শেষ হওয়ার পর দেখলাম উনি ঘেমে যাচ্ছেন এবং মনে হচ্ছে খুব টেনশনে আছে।অবশ্য টেনশনে থাকবে না কেন?উনার একমাত্র মেয়ের বিয়ের দিনই বিয়েটা ভেঙ্গে গেল।
আমি একবার ভাবলাম উনার কাছে যাই আবার মনে হল এই পরিস্থিতিতে উনার সামনে না যাওয়াই ভালো হবে।ঠিক তখনই দেখলাম উনি আমার দিকে তাকালেন।কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবলেন।হঠাৎ আমার দিকেই দেখলাম আসছেন।আমার কাছে আসতেই আমি সালাম দিলাম।তিনি সালামের উত্তর দিয়ে বললেন,
-রিয়াদ বাবা,সবইতো শুনলে।আমাকে এই বিপদ থেকে এখন তুমি পারবে উদ্ধার করতে।
-মানে! স্যার আমি আসলে কিছু বঝলাম না।
-আমার মেয়েকে তুমি বিয়ে কর।এই কাজটা বাবা তুমি কর।আমি জানি তুমি অনেক ভালো একটা ছেলে।আমার মেয়েকে তুমি বিয়ে কর।এখন তোমার উপরই আমার সব মান-সম্মান।
আমি আসলে এতটাই বিস্মিত হয়ে পড়েছিলাম যে কিছুক্ষন চুপচাপ উনার দিকেই তাকিয়েছিলাম।
আমার বাবা-মা নেই,একাই।এটা উনি ভালো করেই জানতেন।তাই বিয়েতে কাউকে জানানোর প্রয়োজন হয়নি।
বাসর ঘরে ঢুকার পর দেখলাম নাহিদা বিছনায় বসে আছে।কাছে যেতেই বলে উঠল, সে আমাকে স্বামী হিসেবে মানে না।আমি যেন কখনো স্বামীর অধিকার না ফলাই।যদি কখনো চেস্টা করি আমাকে ডিভোর্স দিবে।
এরকম কিছুই আশা করেছিলাম তাই কিছু না বলে বিছানায় শুতে গেলাম।তখনই আবার বলল সোফাতে গিয়ে শুতে আমার সাথে বিছানায় ঘুমাতে পারবে না।
বউকে নিয়ে কত স্বপ্ন ছিল।এমনিতেই বিয়েটা আচমকা হয়েছে তার উপর এই মেয়েকে তো আমি কখনো ভালো চোখে দেখি নি।বাসর রাতেই বদ মেয়েটা ডিভোর্সের কথা বলে ফেলায় কিছুটা রাগই উঠেছিল।কিন্তু কি করার বউ তো।তাই কিছু না বলে সোফাতে গিয়েই শুলাম।
আমি যেহেতু একা তাই বাবা মানে আমার শ্বশুর তার বাড়িতেই আমাকে রেখে দিলেন। এভাবেই দিনগুলো যাচ্ছিল।নাহিদা আমার সাথে কথা বলার প্রয়োজনই মনে করত না।আমি মাঝেমধ্যে চেস্টা করতাম কিন্তু বদ মেয়েটা আমাকে এড়িয়ে চলে যেত।কোন উত্তর দেয়ার চেস্টা করত না।কি বলব বিয়ের পরের দিনই সে অফিসে গিয়ে হাজির।
আমি অবশ্য বিয়ের পর থেকে অফিসে একটু লেট করে যাওয়া শুরু করি। অফিসে যখন নাহিদা আসত সবাই দাড়িয়ে গেলেও আমি বসে বসে আমার কাজ করতাম।আমি আসলে চাইতাম নাহিদা আমাকে ডেকে নিয়ে কিছু বলুক কিন্তু সে আমাকে কিছুই বলত না।
বিয়ের একমাস পর একরাতে আমি তাকে জোর করে চুমু দেই।সে তাতে রেগে গিয়ে আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা বলে এবং বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে।আমি ভাবতে পারি নি ও এতটা রিয়েক্ট করবে।ভেবেছিলাম হয়ত রাগ করে কিছু একটা বলবে তাই বলে এতটা।তার ঐ রনমূর্তি দেখে আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে সে আমাকে কখনো মেনে নিবে না।
তাই পরের দিন সকালে আমি আমার সবকিছু নিয়েই আমার ফ্লাটে চলে আসি।বাবা অবশ্য কিছু বলতে চেয়েছিল কিন্তু আমি না করি।
চার
ঐদিনের পর থেকে আমি আবার সময়মত অফিসে যাওয়া শুরু করি এবং নাহিদা আসলে তাকে দাড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করা শুরু করি।আমি চাইলেই চাকরীটা ছেড়ে দিতে পারতাম কিন্তু চাকরীটা আমি ছাড়তে পারি নি।অবশ্য সেটার কারন হয়ত নাহিদা।এই অল্পকদিনে বদ মেয়েটাকে ভালবেসে ফেলেছিলাম যদিও জানতাম না সে আমাকে কখনো ভালবাসবে কি না।


Bangla Short Story BHUL | Bangla Golpo Online Reading



ছয় মাস পূর্বে শপিং করার জন্য মার্কেটে গিয়েছিলাম।শপিং শেষে যখন রাস্তায় আসলাম তখনই দেখি নাহিদা গাড়ি থেকে বের হচ্ছে হয়ত মার্কেট করার জন্যই।ঠিক সে সময়ই পিছন থেকে একটা গাড়ি এসে তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়।
আমি তার কাছে ছুটে গেলাম।ড্রাইভারকেও দেখলাম গাড়ি থেকে নেমে এল।নাহিদাকে তারাতারি গাড়িতে উঠিয়ে তাকে বললাম শিঘ্রই মেডিকেলে যেতে।ড্রাইভার আমাকে আগে থেকেই চিনত।সে কিছু না বলেই মেডিকেল এর দিকে গাড়ি ঘুরাল।
মেডিকেল পৌছানোর পর তাকে ইমার্জেন্সিতে ডুকানো হল।ডাক্তার বলল দুই ব্যাগ রক্ত লাগবে।এক ব্যাগ অবশ্য তাদের কাছেই ছিল। আর এক ব্যাগ জোগার করতে হবে।তার রক্তের সাথে আমার রক্তের গ্রুপ মিল হয়ে যাওয়ায় আমি রক্ত দিলাম।বাবাকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিলাম আগেই।তিনিও চলে আসলেন।
আমরা বসে বসে অপেক্ষা করা শুরু করলাম।নাহিদার উপর কিছুটা রাগই লাগছিল।বোকা মেয়ে গাড়ি থেকে নামবি ভালো কথা মার্কেটের দিক দিয়ে না নেমে রাস্তার দিকে নেমেছে।
সন্ধ্যায় যখন নাহিদার জ্ঞান ফিরল।তখন কেবিনে আমি একাই ছিলাম।তাকে চোখ খুলতে দেখে তাকে জিজ্ঞাস করলাম,
-এখন কেমন লাগছে।
সে আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তাকিয়ে রইল।আমি বুঝতে পারলাম না সে আমার প্রতি এই অবস্থাতেও বিরক্ত নাকি কথা বলতে পারছে না।
তখনই বাবা এবং ডাক্তার একসাথে ডুকল।আমি ঔষধ কিনার জন্য বের হয়ে গেলাম।
নাহিদার সুস্থ হতে প্রায় একমাসের উপর লেগেছে।মেডিকেল থেকে অবশ্য দুই সপ্তাহ পরই তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়।সেই দুই সপ্তাহের প্রতিদিনই আমি অফিস শেষে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম।কিন্তু সে আমার সাথে কথা বলত না।তাই বাসায় নেওয়ার পর থেকে তাকে আমি আর দেখতে যাইনি।আমার খুব যেতে ইচ্ছে করেছিল। কিন্তু সে বিরক্ত হবে ভেবে আর যাওয়া হয় নি।বাবার কাছ থেকেই তার খোজখবর নিতাম।যে কয়দিন সে অফিসে আসে নি ততদিন আমিই অফিস পরিচালনা করেছিলাম।
নাহিদা সুস্থ হওয়ার পর থেকে আবার সে অফিসে আসতে শুরু করল।তখন থেকে একটা জিনিস খেয়াল করতাম আমাকে দেখলে তার চেহারায় বিরক্তের ভাবটা থাকত না।এমনকি কোন কাজের জন্য ডাকলে কথা বলার সময় তার চেহারায় বিরক্ত ব্যাপারটা দেখতাম না। অবশ্য নরম হয়েও কথা বলত না তবে আগের মত রাগী কন্ঠে নয়।
কিছুদিন পূর্বে রাতে হঠাৎ নাহিদার কল আসল।আমি প্রথমে বুঝতে পারি নি আমাকে কেন কল করল।যখন কলটা ধরলাম।নাহিদার কাঁদার আওয়াজ পেলাম। সে কাঁদতে কাঁদতেই বলল,
বাবা নাকি হঠাৎ স্টক করেছে।তাকে এখন মেডিকেল নিয়ে যাচ্ছে।আমাকে সেখানে যেতে বলল।
সেখানে গিয়ে দেখি নাহিদা কেঁদে কেঁদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে।বাবা কে আইসিইউতে রাখা হল।ডাক্তার বলল ভয়ের কিছু নেই।হঠাৎ হার্টের কাজে একটু ব্যাঘাত হওয়ায় এটা হয়েছে।অবশ্য প্রায় মৃত্যুর কাছ থেকেই ফিরে এসেছেন।
নাহিদা যে এতটা নরম মেয়ে এবং সে কাঁদতেও পারে সেদিনই বুঝেছিলাম।পরের তিনদিন বাবাকে মেডিকেলেই রাখা হল।আমি নিয়মিত উনাকে দেখতে যেতাম।নাহিদাও সেখানে থাকত।
শেষদিন অফিস শেষে যখন বাবাকে দেখতে মেডিকেল গেলাম।কেবিনের দরজার সামনে আসতেই শুনতে পেলাম বাবা নাহিদাকে বলছে,
-রিয়াদ ছেলেটা অনেক ভালো।দেখ মা তুই আর ওকে কষ্ট দিস না।এতিম ছেলেটা কখনো হয়ত তেমন কারো ভালবাসা পায় নি।তোর যখন এক্সিডেন্ট হয়েছিল তখন তো দেখেছিস। কি না করল তোর জন্য। তোর রক্ত দেওয়া থেকে ধরে যাবতীয় কাজ সে একাই করেছে।এখন আবার আমার জন্যও তাকে কষ্ট করতে হচ্ছে।তুই তাকে মেনে নে মা।দেখবি ও তোকে সুখে রাখবে।
নাহিদা চুপ ছিল।
আমি ভিতরে না ঢুকে বাহির থেকে ঘুরে এসে একটুপর গিয়েছিলাম।সেদিন যখন বাসায় আসতে যাব তখনই নাহিদা আমাকে বলল,
-শুনুন।
-হ্যা,বলেন।
-কালকে তো বাবাকে বাসায় নিতে হবে।আপনার মনে আছে।
-হ্যা আছে।আর কিছু?
-হ্যা মানে।না কিছু না।আপনি সাবধানে যাবেন।
তখনই বুঝতে পেরেছিলাম বদ মেয়েটার মনে সম্ভবত জায়গা পেয়েছি।পরের দিন থেকেই নাহিদা আমার সাথে কথা বলার চেস্টা করত।কিন্তু আমি ইচ্ছে করে এড়িয়ে চলতাম।আসলে চাচ্ছিলাম বদ মেয়েটাকে কিছুদিন ঘুরাব।
পরিশিষ্ট:
সন্ধ্যায় ঘুম ভাঙার পর বুঝতে পারলাম।অনেক সময় ধরেই ঘুমিয়েছি।দরজার দিকে চোখ পড়তেই দেখলাম নাহিদা শাড়ি পড়ে কাজ করছে। বিয়ের দিন তাকে প্রথম শাড়ি পড়া অবস্থায় দেখেছিলাম আর আজ।তাকে মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম।হঠাৎ শাড়িতে যখন ভালো করে চোখ পড়ল আমি আবার অবাক হলাম।শাড়িটা নাহিদার জন্য কিনেছিলাম কিন্তু তাকে দেওয়া হয় নি, আলমারিতে ছিল।বদ মেয়েটা আলমারি থেকে খুলে এটা পড়েছে, তার মানে সে অধিকার খাটানো শুরু করে দিয়েছে।
ঘোর কাটল নাহিদার ডাকে।সে এসে আমাকে ছুয়ে বলল,
-জ্বর টা কমেছে তাহলে।দাড়াতে পারবে।
আমি হুম বললাম।
-তাহলে এক কাজ কর ফ্রেশ হয়ে আস আমি ততক্ষনে খাবার রেডি করছি।
আমি ফ্রেশ হয়ে এসে দেখলাম নাহিদা খাবার রেডি করে রেখেছে।খাবারের আয়োজন দেখে তো আমি হতভম্ব এত খাবার কোথা থেকে এল।তাকে জিজ্ঞাস করলাম,
-এত খাবার কোথায় থেকে আনলে?
-ড্রাইবারকে দিয়ে বাজার করিয়ে এনেছি, আমিই রেঁধেছি।
আমি আবার অবাক হয়ে বললাম,
-তুমি না রাঁধতে জান না।
নাহিদা একটা লজ্জামাখা হাসি নিয়ে মাথা নিচু করে বলল,
-মানে এইত কয়দিন হল শিখছি। এখনো খুব একটা ভালো রাধতে পারি না।
তার এই লজ্জামাখা হাসি দেখে আমি আবার অবাক হলাম।আজ শুধু অবাকের উপর অবাক হচ্ছি।আজ নাহিদাকে সম্পূর্ন নতুন ভাবে আবিষ্কার করলাম।তার চোখে আমার জন্য ভালোবাসা স্পষ্টই দেখতে পেলাম।
ভেবেছিলাম তাকে কিছুদিন এড়িয়ে চলব।আমাকে এতদিন কষ্ট দেয়ার শোধ তুলব।কিন্তু বদ মেয়েটা এটা আর হতে দিল না।

-

                          Bengali Books Online   উল্টা জগত

                       লেখক: রিয়াদ আলম


,
  উল্টা_জগত    লেখক: রিয়াদ আলম

রিয়াদ, অপু,নাহিদ,ইমন চারজন মিলে বান্দরবন জেলার একটি ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।তারা জঙ্গলের অনেকটা গভীরে চলে এসেছে,চারদিকে শুধু ঘন-উঁচু গাছপালা।
হঠাৎ নাহিদ বলে উঠল,
-এই এই,ঐ দিকে দেখ একটি দরজা দেখা যাচ্ছে।
রিয়াদ,অপু,ইমন তিনজনই তাকিয়ে দেখল আসলেই একটি দরজা।তারা ঐ দরজার কাছে এগিয়ে গেল।কিন্তু অবাকের বিষয় হল দরজাটি দুটো গাছের মধ্যে সংযুক্ত অবস্থায়। আর দরজাটি একাই অর্থাৎ এর পিছনে,সামনে,পাশে কিছুই নেই।
-আশ্চর্যজনক দরজা। (ইমন)
-হ্যা,গাছদুটোর সাথে এমনভাবে জড়িয়ে যেন জন্ম থেকেই এটি গাছের সাথে সংযুক্ত।(রিয়াদ)
-আশেপাশে তো কোন মানুষও দেখতে পাচ্ছি না।(অপু)
দরজাটি ঠেলে দিল রিয়াদ।তাদের অারো অবাক করে দরজার ভিতর থেকে আলো আসতে লাগল।এমনিতেই তাদের এইরকম রহস্যময় কিছুর প্রতি আগ্রহ বেশী।আর তাদের সাথে বাস্তবেই এইরকম কিছু ঘটছে সেটা তাদেরকে আরো আকর্ষন করে তুলল।
তারা একে একে দরজাটির ভিতরে প্রবেশ করল।
তারা লাল পাথরের প্রায় মরুভূমি মত জায়গায় দাড়িয়ে আছে।আশেপাশে কোন কিছুই নেই সম্পূর্ণ খালি।অনেক দূরে একটি উঁচু টিলার মত কিছু দেখা যাচ্ছে।তারা প্রায় হতভম্ব হয়ে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে।দরজাটি নেই!এখন তারা আবার চাইলেও ফিরে যেতে পারবে না।
চারজনে লাল পাথরের মরুভূমি এলাকায় হাটতে থাকে।সামনে গিয়ে দেখতে পেল উঁচু টিলার মত ঐটা একটা পাথরের স্তুপ।সেটা পার হয়ে অন্যপাশে এসে তারা বিচিত্র কিছু গাছপালা আবিষ্কার করল।রিয়াদ গাছগুলো পরীক্ষা করে নিচু গলায় বলল,
-এই রকম গাছপালা আমি কখনো দেখিনি।
-হ্যা,চল ফিরে যাই।আমার না ভয় করছে।(ইমন)
-কিভাবে ফিরব?যাওয়ার তো কোন পথ দেখছি না আর দরজাটাও নেই।(অপু)
-চলতো সামনে এগিয়ে দেখি,হয়তো কোন রাস্তা খুজে পাব।(নাহিদ)
চারজনে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হাটতে শুরু করল।কিছুদূর এগিয়ে অপু দাড়িয়ে পড়ল।
-কি হল?(নাহিদ)
-মনে হচ্ছে আমাদের কেও অনুসরন করছে।
ইমন শুকনো গলায় বলল,
-আমারও তাই মনে হচ্ছে। দৌড় দিব নাকি!
-দৌড় দিব কেন?যদি...
রিয়াদের কথা শেষ হওয়ার আগেই বিপদ যেন তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ল।হঠাৎ করে চারদিক থেকে হইহই করে অসংখ্য মানুষ তাদের দিকে ছুটে আসে।
তারা হতবাক হয়ে দাড়িয়ে রইল।কারন যারা হইহই করে তাদের দিকে ছুটে আসছে সবাই মেয়ে স্বল্পবসনা এবং অনিন্দ্যসুন্দরী।কয়েক সেকেন্ডের মাঝেই মেয়েগুলো তাদের ঘিরে ফেলল।নীল চোখ এবং সোনালী চুলের একটি মেয়ে যে দেখতে এতই সুন্দরী যে একবার চোখ পড়লে চোখ ফেরানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে সবার আগে কথা বলল।ভাষাটি খানিকটা ভিন্ন কিন্তু বুঝতে তবু অসুবিধা হল না।
মেয়েটি বলল, হায় ঈশ্বর!এতো দেখছি পুরুষ মানুষ!
কালো চুলের একটি মেয়ে বিস্মিত হয়ে বলল, কি রকম পরিবারের মানুষ যে পুরুষদের একা একা বের হতে দিয়েছে?
সোনালী চুলের মেয়েটি বলল, থাক থাক।কিছু বলে কাজ নেই,ভয় পেতে পারে।
রিয়াদরা এতক্ষনে নিজেদের সামলে নিয়েছে।কিন্তু এতগুলো সুন্দরী মেয়েদের একসাথে দেখে ইমন এখনো ঘোরের মধ্যে রয়েছে।সে কোন কিছু না বুঝেই বলে উঠল,
হ্যা সুন্দরীরা তোমাদের অভিন্দন!
সাথে সাথে সবগুলো মেয়ে বিস্মিত হতবাক হবার মত শব্দ করল।কমবয়সী একটি মেয়ে নিজের চোখ ঢাকতে ঢাকতে বলল,
কি রকম বেশরম দেখেছ?আমাদের সাথে কথা বলছে!
পোশকটা দেখেছ?সারা শরীর দেখা যাচ্ছে, লজ্জায় মরে যাই!
রিয়াদরা এবার খানিকটা হতচকিত হয়ে গেল,তাদের পুরুষ হওয়া নিয়ে এখানে কোন একটা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
ইমন আবার বলে উঠল,
তোমাদের সবার জন্য অভিবাদন।শুভ সকাল অথবা বিকাল যেটাই এখন হয়ে আছে।
মেয়েগুলো আবার একটা বিস্মিয়ধ্বনি দিয়ে একটু পিছিয়ে গেল।কমবয়সী আরেকটা মেয়ে একটু বিচলিত হয়ে নীল চোখের মেয়েটিকে বলল,
-ঐশি কিছু একটা করো।লজ্জায় মরে যাচ্ছি।
-চারটা চাদর দাও।
পিছনের মেয়েটা চারটি উজ্জল রঙের চাদর এগিয়ে দিল।ঐশি চাদরগুলো সাবধানে রিয়াদের দিকে ছুড়ে দিয়ে বলল,
-ভালো করে ঢেকে নাও।পুরুষ মানুষের শরীর দেখানো খুব লজ্জার ব্যাপার।
রিয়াদরা কিছুই বুঝতে পারছিল না,কিন্তু এখন সেটা নিয়ে তর্ক করে খুব বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে হল না।তারা উজ্জল রঙের চাদরগুলো দিয়ে নিজেদের ভালো করে ঢেকে নিল।নিজেদেরকে হঠাৎ তাদের বোকার মত মনে হতে থাকে।রিয়াদ খানিক্ষন ইতস্তত করে বলল,
-একটা কথা জিজ্ঞাস করতে পারি?
-পুরুষেরা কখনো অপরিচিত মেয়েদের সাথে কথা বলে না।সেটা ভারী লজ্জার ব্যাপার।
নাহিদ ঢোক গিলে বলল,
-তাহলে পুরুষেরা কার সাথে কথা বলে?
-অন্য পুরুষের সাথে,তাদের ঘরের বাইরে যাওয়ার কথা নয়।পুরুষদের সবসময় মেয়েদের সামনে পর্দা করতে হয়।
রিয়াদরা একজন আরেকজনের দিকে তাকালো।হঠাৎ করে তাদের কাছে অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে যায়।এটা একটা উল্টো জগৎ। এখানের নিয়মনীতি গুলোও উল্টো।যেখানে মেয়েরা ঘরের বাইরে থাকে আর পুরুষেরা অন্তঃপুরে বন্দি।
মেয়েদের দলটি তাদের হাটিয়ে সামনে নিতে থাকে।বয়স্ক লোকরা যেভাবে শিশুদের সাথে ব্যবহার করে,মেয়েরা তাদের সাথে ঠিক সেরকম ব্যবহার করছিল।এই জগত বা সমাজের পুরুষ মানুষেরা নিশ্চয়ই খুব কোমল প্রকৃতির।
হেটে হেটে তারা একটা লোকালয়ের কাছ পৌছাতেই অনেকে তাদের দিকে ছুটে এল,সবাই মেয়ে।কেও বালিকা,কেও কিশোরী,কেও তরুনী,কেও যুবতী,কেও কেও মধ্যবয়স্কা।সবাই কৌতহলী চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।কিশোরী এবং বখাটে কিছু তরুনী শিষ বাজিয়ে তাদের চাদর ধরে টান দেয়ার চেষ্টা করছিল।কিন্তু ঐশির প্রচন্ড ধমকে তারা পালিয়ে গেল।রিয়াদরা হাটতে হাটতে আবিষ্কার করে রাস্তার দুপাশে পাথরের ঘরের ভিতরে জানালার ফাক দিয়ে ঘোমটায় ঢাকা পুরুষ মানুষেরা উকি দেয়ার চেষ্টা করছে।
মেয়েদের দলটি রিয়াদদের নিয়ে একটা বড় বাসার সামনে হাজির হল।বাসাটি সম্ভবত ঐশির কারন অন্যসব মেয়েরা বাইরের বারান্দায় অপেক্ষা করতে লাগল।শুধু ঐশি তাদেরকে নিয়ে ভিতরে ঢুকে যায়।সাথে সাথে ভিতর থেকে সুদর্শন কোমল চেহারার একজন পুরুষ মানুষ ঐশির দিকে ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-ওগো সোনাইপাখি!তুমি ফিরে এসেছ!
ঐশি মাথা নাড়ল।পুরুষ মানুষটি নিশ্চয়ই ঐশির স্বামী। সে আদুরে বেড়ালের মতো ভঙ্গি করে বলল,
-ঐশি!সোনাইপাখি আমার,পথে কোন কষ্ট হয় নি তো?
-নাহ
-তোমায় একগ্লাস ঠান্ডা শরবত এনে দেই।
-না,লাগবে না।তুমি বরং এই পুরুষ মানুষদের দেখ।
ঐমির স্বামী কোমল চেহারার পুরুষটি এবার ঐশিকে ছেড়ে দিয়ে তাদের দিকে তাকালো।অবাক হয়ে বলল,
-এরা কারা?
-লাল পাহাড়ের কাছে পেয়েছি।একেবারে বেপর্দা হয়ে হাটাহাটি করছিল।
-ছি!ছি!ছি! (জিভে কামর দিয়ে)
-হ্যা,অত্যন্ত বেশরম পুরুষ।নিজ থেকে আমাদের সাথে কথা বলছিল।
-কি লজ্জা!কি লজ্জা!
-তুমি তাদের সাথে একটু কথা বলে দেখ,ব্যাপারটা কি?কোথায় থেকে এসেছে?কি কারনে?না জানি বেচারাদের স্ত্রীরা কোথায় কি দুঃশ্চিন্তা করছে!
ঐশির স্বামী মুখে একটা কপট রাগের ভান করে বলল,
-আমি বুঝতে পারি না কি রকম মেয়ে মানুষ।তাদের স্বামীদের এরকম একলা ছেড়ে দেয়।যদি কিছু হত?যদি তোমাদের সামনে না পড়ে কোন খারাপ মেয়েদের সামনে পড়ত?
রিয়াদেরা দেখল ঐশির কোমল চেহারার সুদর্শন স্বামী ব্যাপারটা চিন্তা করে আতঙ্কে কেমন জানি শিউরে ওঠে।
ঐশি চলে যাওয়ার পর তারা তাদের সারা শরীরে ঢাকা চাদরগুলো খুলে রাখল।
ঐশির স্বামী বিস্মিত দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে বলল,
-তোমরা কারা ভাই?একা একা কি করছ?তোমাদের স্ত্রীরা কই?তোমাদের একা ছেড়ে দিল কি করে?
-আমাদের স্ত্রী নেই।(অপু)
ঐশির স্বামীর মুখে হঠাৎ সমবেদনা ফুটে উঠল,
-আহা!বিয়ে হয়নি এখনো?কেনো কোন মেয়ে বুঝি পছন্দ করে নি?
-না মানে...(রিয়াদ)
-মেয়েদের মন জয় করতে হলে একটু চেষ্টা করতে হয়।সেজেগুজে থাকতে হয়, দাড়ি কামিয়ে চুল পরিপাটি করে আঁচড়ে শরীরে পারফিউম দিয়ে সুন্দর কাপড় পড়তে হয়।তোমাদের যেরকম রুক্ষ চেহারা,সাথে যেভাবে বেশরম কাপড় পড়েছ।কোনো ভদ্র পরিবারের মেয়ে তোমাদের পছন্দ করবে ভেবেছ?
-আসলে ব্যাপারটা তা নয়।আমরা যেখান থেকে এসেছি সেখানকার নিয়মকানুন অন্যরকম।(রিয়াদ)
-কোথায় থেকো এসেছ তোমরা?
-আমরা আসলে পৃথিবী থেকে।মানে বান্দরবন ঘুরতে এসেছিলাম।জঙ্গলে ঘুরার সময় একটা দরজা....
-থাক থাক আর বলতে হবে না।আমি ওসব বুঝি না।আমরা পুরুষ মানুষ ঘর-সংসার করি।কোথায় কি আছে, কোথায় ঘুরতে যেতে হয় এইগুলো জেনে আমরা কি করব?
তারা বিস্মিত হয়ে বলল,
-তোমরা শুধু ঘর সংসার কর?
ঐশির স্বামী অবাক হয়ে বলল,
-আর কি করব?একজন পুরুষ মানুষ যদি তার স্ত্রীকে খুশি রাখতে পারে তাহলে তার জীবনে আর কি চাইবার আছে?সারাদিন পরিশ্রম করে স্ত্রী ঘরে এলে তার জন্য রান্না করে খাবার দেয়া, পোশাক ধুয়ে রাখা,বাচ্চা মানুষ করা...


Bengali Books Online

রিয়াদরা কেমন জানি ভয়ে ভয়ে ঐশির স্বামীর দিকে তাকিয়ে রইল।ঠিক এসময় দরজা খুলে একজন তরুন এসে ঢুকল,তার চোখে পানি টলমল করছে।ঐশির স্বামী জিজ্ঞাস করল,
-কি হয়েছে তোমার?
-আমি আর বাইরে যাব না বাবা।কখনো যাব না।
-আবার বুঝি পাড়ার বখাটে মেয়েরা
-হ্যা,আমাকে দেখে শিষ দিয়ে এতখারাপ কথা বলেছে...
তরুনটা হঠাৎ হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করল।ঐশির স্বামী তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
-কাদিস নে বাবা।তোর মাকে বলব দেখি কিছু করতে পারে কিনা।
তরুনটি চোখ মুছতে মুছতে চলে গেলে ঐশির স্বামী একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
-আগের যুগের সেই নিয়ম নীতি আর নেই।সবার মাঝে কেমন জানি ভোগ লালসায় ভরে গেছে।মাঝে মাঝে যখন বাইরে যাই বুঝতে পারি মেয়েরা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে আমার শরীরের দিকে।মনে হয় চোখ দিয়ে সারা শরীরটাকে চেটে খাচ্ছে।
ঐশির স্বামীর সারা শরীর বিতৃষ্ণায় কেমন জানি শিউরে উঠল।
রিয়াদরা কিছুই বুঝতে পারছে না তারা কি করবে।আপাতত তাদের মনে হল এখানে থেকে পালাতে হবে।
তাই তারা ঐশির স্বামীর কাছে গিয়ে বলল,
-তোমাদের এখানে এসে আমাদের খুব ভালো লেগেছে,এখন আমরা যাব ভাই।
ঐশির স্বামী চোখ কপালে তুলে বলল,
-যাবে?কোথায় যাবে?
তারা বুঝতে পারছে না কি বলবে আর কিভাবেই ফিরবে তারা।তবু রিয়াদ বলল,
-যেখান থেকে এসেছি।
-কিন্তু তোমাদের খাওয়া হয় নি,বিশ্রামও হয় নি।
যদিও তাদের ক্লান্ত লাগছে আর প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছ।কিন্তু এখন তাদের সেদিকে খেয়াল নেই।
- না হোক।আমরা ফিরে গিয়ে খাব,বিশ্রাম নিব।(ইমন)
কোমল চেহারার সুদর্শন পুরুষটির চোখেমুখে দুঃশ্চিন্তার ছাপ ফুটে উঠল।বলল,
-ঠিক আছে,যেতে চাও যাবে।কিন্তু না খেয়ে যেতে পারবে না।
ঐশির স্বামীর গলার স্বরে একধরনের আন্তরিকতা ছিল তাই তারা আর না করতে পারলো না।খাবারের আয়োজন ছিল খুব সহজ,কিন্তু খুব সুন্দর করে টেবিলে সাজিয়ে দেয়া হয়েছিল।
তারা খুব তৃপ্তি সহকারে খেল।খাবার সেরে উঠতে গিয়ে হঠাৎ করে তাদের মাথা দুলে ওঠে,কোনমতে টেবিল ধরে নিজেদের সামলে নিল।
-তোমরা হাটাহাটি কর না,তোমাদের খাবারের সাথে ঘুমের ঔষুধ মিশিয়ে দিয়েছি।
-কি দিয়েছ!(নাহিদ)
-ঘুমের ঔষুধ।
রিয়াদ হঠাৎ করে একধরনের আতঙ্ক অুনভব করে।সত্যি সত্যি ঘুমে তাদের চোখ বন্ধ হয়ে আসছে।কোনমতে কষ্ট করে রিয়াদ বলল,
-কেন দিয়েছ?
-একা বাইরে গিয়ে কি বিপদে পড়বে।বাইরে শুধু দুষ্ট মেয়ে মানুষ আর নষ্ট মেয়ে মানুষ।তোমাদের মত সাদাসিধে পুরুষদের একা পেলে কি অবস্থা হবে জান?
তারা আরো কিছু বলতে চেয়েছিল কিন্তু তার আগেই গভীর ঘুমে তলিয়ে পড়ে।
ঘুম থেকে উঠে অপু দেখল তার পাশে একজন অপরিচিত মানুষ শুয়ে আছে।অপু ভালো করে দেখে বুঝতে পারলো মানুষটি নাহিদ,কেউ একজন নাহিদের গোঁফ নিখুত ভাবে কেটে দিয়েছে বলতে চিনতে পারছে না।অপু ধরমর করে উঠে বসল,তার সবকিছু মনে পড়ে গেছে।পাশে রিয়াদ এবং ইমনের দিকে তাকিয়ে দেখল।ইমনের রাখা বড় দাড়ি এবং রিয়াদের খোচা দাড়ি নেই সেখানে শুধু চামরা চকচক করে দেখা যাচ্ছে।হঠাৎ তার নিজের কথা মনে হল।সে নিজের গালে হাত দিয়ে দেখে পুরো ক্লীন।সে মাথায় হাত দিয়ে বসতে গিয়ে আরো একটা ব্যাপার খেয়াল করে তার মাথায় চুল নেই অর্থাৎ পুরো ন্যাড়া।হায় হায়! একি!সে বাকিদের দিকে তাকিয়ে দেখে বাকিদের মাথারও চুল নেই।সবাইকে ন্যাড়া করে দিয়েছে।সে আগে এতবড় কারবারটা খেয়ালই করে নি।
তারা ছোট একটা পাথরের ঘরে শুয়ে আছে,বুক পর্যন্ত কম্বল দিয়ে ঢাকা।অপু কম্বল ছুড়ে ফেলে উঠে বসে রিয়াদদের ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে উঠানোর চেস্টা করল।রিয়াদ বিড়বিড় করে কিছু একটা বলে পাশ ফিরে ঘুমানোর চেস্টা করছিল কিন্তু অপু আবার তাকে ধরে একটা ঝাকুনি দিল।এবার রিয়াদ চোখ খুলে তাকিয়ে বলল,
-কে?কি হয়েছে?
-আমি!
রিয়াদ চোখ বড় বড় করে বলল,
-অপু!তোর একি অবস্থা।চুল কোথায় তোর।
-.....!
-তোকে পুরো গবেটের মতো দেখাচ্ছে।চুল-দাড়ি কামিয়েছিস কেন?(হেসে)
-আমি কামায় নি।তোমাদের চুল-দাড়ি-গোফ যে কামিয়েছে, আমারটাও সে কামিয়েছে।
-গোফ!আমার গোফ?
নাহিদ লাফিয়ে উঠে বসে নাকের নিচে হাত দিয়ে হঠাৎ করে একেবারে ঠান্ডা হয়ে গেল।ঐ জগতে তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ছিল তার গোঁফ।
রিয়াদ নিজেকে পরগ করে নিশ্বাস ফেলে বলল,এখান থেকে যেভাবেই হোক আমাদের পালাতে হবে।
নাহিদ নির্জীব গলায় বলল,কিন্তু আমার গোফ!
-গোঁফ নিয়ে পড়ে চিন্তা করো আমাদের যে কিছুই নেই চুল-দাড়ি সবই তো ক্লীন।(অপু)
ইমন নিস্তব্ধ হয়ে বসে আছে।তার জঙ্গলের মতো চুল-দাড়ির কিছুই নেই, এখন শুধু মরুভূমি।
রিয়াদ মনমরা হয়ে উঠে দাড়িয়ে নিজেদের জিনিসপত্র খুজতে লাগল।তাদের ঘুমের মাঝে কেউ একজন তাদের পোশাক পাল্টিয়ে ঢলঢলে আলখেল্লার মতো কিছু একটা পড়িয়ে গেছে,কাপড় জামাগুলোও এঘরে নেই।
ঘরের মাঝে শব্দ শুনে খুট করে দরজা খোলে গেল।ঐশির স্বামী উকি দিয়ে বলল,
-তোমরা উঠে গেছ?
তারা কোন কথা না বলে চোখ পাকিয়ে ঐশির স্বামীর দিকে তাকিয়ে আছে।তাদের দৃষ্টিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে ঐশির স্বামী বলল,
-তোমাদের জন্য একটা ভাল খবর আছে।
নাহিদ ক্রুদ্ধকন্ঠে বলল,
-ভালো খবরের কোন দরকার নেই। আমার গোঁফ কেন কেটেছ?
বেচারা গোঁফের মায়ায় হিতাহিত জ্ঞান ভুলে যাচ্ছে।
-সেটাইতো বলতে চাচ্ছিলাম।তোমাদের ভাল খবর কি শুনবে না?
-ভালো খবরের দরকার নেই।আমাদের জামা-কাপড় কি করেছ?(অপু)
-তোমাদের জামা-কাপড় ধুয়ে দিয়েছি,যা নোংরা হয়েছিল। তোমাদের ভালো খবরটা বলছি,তোমাদের বিয়ে ঠিক করেছি।
তারা হতবাক হয়ে যায়।
-বিয়ে ঠিক করেছ?(রিয়াদ)
-হ্যা,তোমরা যখন ঘুমাচ্ছিলে তখন তোমাদের দেখে পছন্দ করে গেছে।তবে তোমাদের মুখে নাকি বেশি চুল তাই কামিয়ে দিয়েছি।
রিয়াদ দাঁত কিড়মিড় করে বলল
-তাই কেটে কামিয়ে দিয়েছ!
-তোমাদের কারা পছন্দ করেছে শুনবে না?
রিয়াদ রেগে চিৎকার করে বলল,
-না আমার শোনার দরকার নেই।তুমি আমাদেরকে এখান থেকে যেতে দাও এখনি।
-একটু শুনে দেখলে হয় না! (ইমন)
রিয়াদ চোখ লাল করে ইমনের দিকে তাকাল এবং সেই দৃষ্টি দেখে ইমন কেমন যেন মিইয়ে গেল।
ঐশির স্বামী মুখে হাসি ধরে রেখে বলল,
-তোমাদের কোন আপনজন নেই,অভিভাবক নেই,ভারী ভাবনা হয় আমার।সে জন্যই তো খুজে খুজে চারজন মেয়ে বের করেছি।ঠিক মেয়ে নয়,মহিলাই বলা উচিত।মধ্যবয়স্কা মহিলা,খুব শক্ত ধরনের।
-মানে!আমরা কখন বললাম আমাদের আপনজন নেই,অভিভাবক নেই।
রিয়াদ আবার গর্জন করে কিছু বলতে যাচ্ছিল ঠিক তখন বাইরে থেকে নারী কন্ঠ শোনা গেল।ঐশির স্বামীর চোখমুখ হঠাৎ আনন্দে ঝলমল করে উঠে।সে মধুর ভঙ্গিতে হেসে বলল,
-আমার স্ত্রী তোমাদের সাথে যাদের বিয়ে হবে, তাদের নিয়ে এসেছে।বিয়ের আগে একটু পরিচয় হওয়া ভালো।তোমরা চাদর দিয়ে শরীর ঢেকে নাও।
রিয়াদরা চাদর দিয়ে শরীর ঢেকে নেবার কোনা আগ্রহ না দেখিয়ে ঐশির স্বামীকে একরকম ঠেলে ঘর থেকে বের হয়ে এল।বাইরে চারজন মধ্যবয়স্ক মহিলা ঐশির পিছনে দাড়িয়ে ছিল।তাদের চুল ছোট করে ছাটা,ক্রুদ্ধ দৃষ্টি এবয় মুখে সৈনিক সুলভ কাঠিন্য।তারা দেখে কেমন যেন আঁতকে উঠে।
রিয়াদ কঠোর কন্ঠে বলল,
-এসব কি হচ্ছে!কে তোমাদের, আমাদের চুল-দাড়ি-গোঁফে হাত দিতে বলেছে?কতবড় সাহস আমাদের খাবারে ঘুমের ঔষুধ দেয়।
ঐশি অবাক হয়ে বলে,
-ছি!ছি!পুরুষ মানুষ এভাবে কথা বলে কখনো?
-এখন তো শুধু কথা বলছি।যখন রদ্দা লাগানো শুরু করব তখন বুঝবে মজা।
ঐশি বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে ছিল।মধ্যবয়স্ক একজন মহিলা তার কঠিন মুখে কুটিল একটা হাসি ফুটিয়ে বলল,
-এক সপ্তাহের মধ্যে আমি ওকে সিধে করে নিব।আগে বিয়েটা হয়ে নিক।
অপু রিয়াদের হাত ধরে বলল,
-এখানে চেঁচামেচি করে লাভ নেই।চল আমরা পালাই।
-কোথায় পালাবি?
-যেখান থেকে এসেছি সেখানে যাব।
কেউ কিছু বলার আগে তারা ঘর থেকে বের হয়ে এল।তাদের পিছুপিছৃ মধ্যবয়স্ক মহিলারা বের হয়ে বলল,
-সে কী!কোথায় যাচ্ছ তোমরা?তোমাদের জন্য কত যৌতুক দিয়েছি জান?
রিয়াদরা যত দ্রুত সম্ভব দৌড়াতে শুরু করে দিল।
দেখা গেল মধ্যবয়স্ক মহিলা চারজন এত সহজে তাদের যৌতুক দেয়া স্বামীদেরর ছেড়ে দিতে রাজি না।তারাও পিছু পিছু ছুটতে লাগল।
রিয়াদরা পাহাড়ের দিকে ছুটতে লাগল,পিছুপিছু ধাওয়া করছে চারজন কঠিন চেহারার মহিলা।তাদের পিছুপিছু মজা দেখার জন্য আরো অসংখ্য শিশু,কিশোরী,তরুনী,মধ্যবয়স্কা মহিলা এবং বৃদ্ধা।পিছন থেকে এক-দুটো ঢিল এসে পড়ল তাদের গায়ে।তারা তখন উর্দ্ধশ্বাসে ছুটতে শুরু করে দিল।
হঠাৎ রিয়াদ কিছু একটার সাথে খোঁচট খেয়ে পড়ে গেল।আর মধ্যবয়স্কা একটা মহিলা এসে তাকে ধরে ঝাকাতে লাগল।
পরিশিষ্ট:
চোখ খুলে রিয়াদ দেখল তার মা তাকে ডাকছে।
-কি নবাবজাদা ঘুম থেকে উঠবি কখন?তারাতারি উঠে ফ্রেশ হয়ে বাজারে যা।
রিয়াদের বুঝতে কিছুটা সময় লাগল যে এতক্ষন সে স্বপ্নের মাঝে ছিল।ঘোর কাটল বিজয় দিবস নিয়ে বাইরের মাইকের আওয়াজে।
সে মনেমনে বলে উঠল,
হায় রে,বাঙালীর বিজয় দিবসের দিন সে কিনা দেখল পুরুষের পরাধীন নিয়ে স্বপ্ন ।স্বপ্নে তার ভাবী স্ত্রীকে মনে করে সে কেপে উঠল।
যদি এটা স্বপ্ন না হয়ে সত্যি হত...!

-

                              Bangla story book "বডি গার্ড"                                    লেখক: রিয়াদ আলম

,
এক
জঙ্গলের মধ্য দিয়ে অন্ধকারের মধ্যেই দৌড়ে পালাচ্ছে তিথি,সাথে অপরিচিত একটি লোক।এই পরিস্থিতিতে এই অপরিচিত লোকের উপরই সে ভরসা করে তার সাথেই পালিয়ে যাচ্ছে।হালকা চাঁদের আলো যখন ছেলেটির মুখের উপর পড়ল,তখনই তিথি থেমে যায়।রিয়াদ!রিয়াদ এখানে কেন?আর সে জানলই বা কিভাবে যে তিথি কিডন্যাপ হয়েছে।
-কি হল থেমে গেলেন কেন?
-আপনি!আপনি এখানে কিভাবে?আর জানলেনই বা কিভাবে আমি কিডন্যাপ হয়েছি?
-সেটা এখন না জানলেও চলবে।আমাদের যত শিঘ্রই সম্ভব এখান থেকে যেতে হবে।
-কিন্তু!আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে কেন?
-দেখুন আপনি সব জানতে পারবেন।কিন্তু আমাদের এখনই আপনাদের বাসায় অথবা নিরাপদ কোনো স্থানে যেতে হবে।
এই বলে রিয়াদ তিথির হাত ধরে আবার দৌড়তে শুরু করে।তারা জঙ্গল পাড় হয়ে হাইওয়ে রাস্তায় এসে পড়ে।সেখানে গিয়ে তিথি দেখতে পায় সেখানে গাড়ি রাখা আছে।
রিয়াদ তাকে গাড়িতে উঠে বসতে বলে এবং সে ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি চালানো শুরু করে।
কিন্তু তিথি কিছুই বুঝতে পারছে না।দুপুর থেকে এখন পর্যন্ত সবকিছুই তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।যে রিয়াদকে তার সবসময় শান্ত-গম্ভীর,একাকী মনে হত এমনকি কোন জামেলা হলে সেখান থেকে রিয়াদকে সবসময় দূরে দূরে থাকতে দেখত সেই কিনা তাকে কিডন্যাপারদের হাত থেকে উদ্ধার করছে।
,
দুই
তিথি অনার্স ৩য়বর্ষে একাউন্টিং এর উপর পড়ছে।তার বাবা আফসার আহমেদ এলাকার কমিশনার।বর্তমানে অবশ্য নির্বাচন চলছে।
৭-৮ মাস পূর্বে তাদের পাশের বাড়িতে ব্যাচেলর হিসেবে রিয়াদ বাসা ভাড়া নেয়।সাধারনত এই এলাকায় ব্যাচেলরদের ভাড়া দেয় না।রিয়াদকে কেন ভাড়া দিল তাও আবার পারিবারিক ফ্ল্যাট বাড়িতে সেটা তিথি বুঝে উঠতে পারে নি।রিয়াদকে সে প্রায় সময়ই আসা-যাওয়ার পথে দেখতে পেত।এমনকি তার বাবা আফসার আহমেদ এর সাথে মাঝেমধ্যে কথা হতে দেখেছে সে।
প্রথম প্রথম মনে হত লোকটা তার পিছু পিছু তাকে ফ্লো করে।কিন্তু সে যখন তাকে দেখত মনে হত লোকটা তাকে দেখেওনি আর সে কোন কাজ নিয়ে খুব চিন্তিত।তাই পরবর্তীতে সে সন্দেহ করে নি, কারন তাকে রিয়াদ কখনো ডিস্টার্ব বা তার প্রতি আগ্রহী হওয়ার মত কিছু করতে দেখেনি।
একদিন ভার্সিটি থেকে আসার পথে রাস্তায় কি নিয়ে যেন মারামারি শুরু হয় এবং সে ঠিক ঐ পয়েন্টেই আটকে পড়ে। হঠাৎ কোথা থেকে যেন রিয়াদ এসে তাকে বলে, আপনি আমার সাথে আসেন নয়তো বিপদে পড়তে পারেন এবং তাকে খুব সিরিয়াস মনে হচ্ছিল যেন সে খুব ভয় পাচ্ছে।তিথির নিজেরই তখন হাসি পাচ্ছিল যে জায়গায় সে মেয়ে হয়েও এতটা ভয় পাচ্ছে না সেখানে এইরকম সুঠাম দেহের পুরুষ ভয়ে আতংকিত।
সেদিনই সে রিয়াদের নাম জানতে পারে। এর পর থেকে প্রায় সময়ই রিয়াদের সাথে তার দেখা হত এবং একদিন তার বাসায় পর্যন্ত রিয়াদকে তার বাবার সাথে কি নিয়ে যেন কথা বলতে দেখেছে তবে সে খুব একটা পাত্তা দেয় নি।ভেবেছে তার বাবা যেহেতু কমিশনার কোন দরকারে আসতেই পারে।
,
তিন
আজ সকালে ভার্সিটি শেষে দেখে তার গাড়ি আসে নি,ড্রাইভারকে ফোন দিয়ে দেখে নাম্বার বন্ধ।কিছুক্ষন অপেক্ষা করে সে যখন রিক্সা খুজতে যায় তখনই একটা মাইক্রো এসে তাকে ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়।তারপর সে আর কিছু বলতে পারে না।
,
যখন জ্ঞান ফিরে দেখে সে একটা অন্ধকার ঘরে পড়ে আছে।অবশ্য তার হাত-পা বাধা নেই।সে চিৎকার করে উঠে,
-কেও আছেন?
ভিতর থেকে কোনো সাড়া আসে না।
সে আবার চিৎকার করে উঠে।তখন দরজা খুলে একজন মুখোশ পড়া ব্যাক্তি ঢুকে।
-এত চিৎকার করছ কেন?এখানে কেও তোমার কথা শুনবেনা।
-আমাকে এখানে আনলেন কেন?
-তুমি বুঝতে পারছো না,তোমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। (হেসে)
-কিন্তু কেন?
-তোমার বাবাকে কমিশনার পদ থেকে সরে দাড়াতে হবে নয়তো তোমার উপর কি হবে বুঝতেই পারছো।
-তিথি কিছু বলল না,সে ভয়ে এইমুহুর্তে আতংকিত হয়ে পড়ে।
লোকটা যেই মাত্র ঘর থেকে বের হতে যাবে তখনই মনে হল তাকে কেও ঘুষি মেরে ফেলে দিয়েছে।ঘরের মধ্যে একজন আগুন্তক এসে লোকটাকে মেরে দুর্বল করে বেধে ফেলে।
আর তিথিকে নিয়ে জঙ্গলের রাস্তা ধরে দৌড়ানো শুরু করে।অন্ধকার ছিল তাই তিথি তাকে চিনতে পারে নি।শুধু বুঝতে পেরেছে সে তার থেকে দু-তিন বছরের পার্থক্য হবে।
,
চার
আফসার সাহেব চিন্তিত অবস্থায় বাসার মধ্যে হেটে বেড়াচ্ছেন।দুপুরে হঠাৎ একজন ফোন করে বলল,
তার মেয়েকে নাকি তারা কিডন্যাপ করেছে এবং সে যদি এবার নির্বাচন পদ থেকে সড়ে না দাড়ায় তাহলে তিথিকে মেরে ফেলবে। ।উনার একমাত্র মেয়ে তিথি।স্ত্রী মারা যাবার পর থেকে তিনি একাই মেয়েকে বড় করেছেন। মেয়েকে কোন কিছুর অভাব দেখতে দেন নি।তেমন শাষন করেন নি বলে মেয়ে হয়েছে স্বাধীন,যখন যা মন চায় করে বসে।তিনি রাজনীতি করেন এবং চারপাশে উনার শত্রুর অভাব নেই। উনাকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রকম হুমকির সম্মুখে পড়তে হয়।কিছুদিন আগে তিথিকে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে।
কিন্তু তিথিকে তিনি এই ব্যাপারে কিছু বলেন নি আবার তিথিকে বাহিরে বের হওয়া থেকেও আটকাতে পারেন নি।তাই মেয়েকে রক্ষা করার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই করে রেখেছেন এই মুহুর্তে তিনি খুবই ভয় পাচ্ছেন।তিনি তার বন্ধু মুহাম্মদ নূরকে (পুলিশ কমিশনার)কে ফোন দেয়।
-কিরে, কি ব্যবস্থা করলি?
-আমি আমার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।কিন্তু কিডন্যাপাররা মনে হয় খুব কেয়ারফুল তাই কিছু বের করতে পারছি না।
-আমি কিছু শুনতে চাই না।আমি আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় পেতে চাই।
-দেখ, তিথিকে আমি আমার মেয়ের মতই দেখি।আমি চেষ্টা করছি তার যেন কোন ক্ষতি না হয়।
-তোর রাখা বডিগার্ডেরতো কোন খবরই নেই।ফোনটা পর্যন্ত ধরছে না।
-বুঝতে পারছি না।সে আমাদের ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ববান একজন অফিসার।আর এজন্যই তো তোর মেয়েকে রক্ষা করার দায়িত্ব তাকে দিয়েছিলাম।তুই কিছুটা শান্ত হ আমি দেখছি।
-কি করে শান্ত হব।কাল যদি আমি কমিশনার পদে নমিনেশন পত্র জমা দেই তাহলে তারা নাকি আমার মেয়েকে মেরে ফেলবে।
এই সময় বাসার কলিংবেল বেজে ওঠে।বাসার কাজের বুয়া দরজা খুলে দেয়।তিথি এবং রিয়াদ একসাথে ভিতরে ঢুকে।বাবাকে দেখতে পেয়ে তিথি দৌড়ে এসে আফসার সাহেবকে জড়িয়ে ধরে।
-মা,তোর কিছু হয়নি তো।
-না বাবা।
তিনি রিয়াদকে দেখে বসতে বললেন।তিথি কিছুটা অবাক হয়ে যায়।বাবা এমন ভাবে বলল যেন রিয়াদ যে তার মেয়েক উদ্ধার করে আনবে এটা তিনি জানতেন।ঘোর কাটিয়ে সে বলল,
-বাবা উনি আমাকে কিডন্যাপার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।
-হুম,বুঝতে পেরেছি।আচ্ছা তুই ফ্রেশ হয়ে একটু রেষ্ট নে, অনেক ক্লান্ত লাগছে।
রিয়াদকে সামনে রেখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে তার রুমে ঢুকে ফ্রেশ হতে যায়।
-তুমি ফোন ধরছিলে না কেন?
-সরি স্যার,ঐখানে গিয়ে তাদের সাথে হাতাহাতির সময় ফোনটা পড়ে যায়।আর সময় পায়নি ফোন তোলার জন্য।
-তাহলে তুমি নূরকে ফোন দিয়ে কিভাবে জানালে যে তিথি কিডন্যাপ হয়েছে।
-অাগে স্যারকে আমার ফোন করতে হবে।কারন অপরাধিরা নিশ্চয়ই ওখান থেকে খুব শিঘ্রই চলে যাবে।এই মুহুর্তে পুলিশ গেলে তাদের ধরা সম্ভব হবে।
-ঠিক আছে করো।
রিয়াদ পুলিশ কমিশনারকে ফোন করে তিথিকে যেখানে আটকে রেখেছিল তার ঠিকানা বলে দেয় যেন তারা এখনই সেখানে এট্যাক করতে পারে।তারপর আফসার সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলে,
-আমি যখন উনার ভার্সিটির সামনে পাহারা দিচ্ছিলাম।উনার ক্লাস শেষ হয়ে যাওয়ার পরও আপনার ড্রাইভার যায় নি।তখন দেখলাম তিনি সামনের রাস্তা দিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন।হঠাৎ একটা মাইক্রো উনাকে তুলে নিল।আমি কিছুটা দূরে ছিলাম তাই কিছু করতে না পেরে তাদের পিছু নেই। তখনই আমি চাচ্চুকে জানিয়ে দেই।
-চাচ্চু মানে!
-জ্বী,মানে!আসলে নূর সাহেব আমার চাচা হন।
-আপন!
-জ্বী।
-মাই গড!আমাকে নূর জানায়ওনি যে তুমি তার ভাতিজা।
-জ্বী মানে!
-আচ্ছা তুমি যাও এখন গিয়ে বিশ্রাম নাও।আমি নূরের সাথে কথা বলে নিব।
রিয়াদ তিথির বাসা থেকে চলে আসে। bangla story book
,
তিথি রাতের খাবার শেষে, বিছানায় শুয়ে আজ সারাদিনের ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবছে।তার সাথে আজ কতকিছু ঘটে গেল যা সে কখনো ভাবতেও পারেনি।সেই সাথে এত তারাতারি রিয়াদ তাকে উদ্ধার করেছে সেটাও তার কাছে অকল্পনীয় মনে হচ্ছে।রিয়াদের কথা মনে হতে তার মুখে কিছুটা মুচকি হাসি হেসে উঠে।আজকে ঐখান থেকে বের হওয়ার সময় সে দেখেছিল জায়গায় জায়গায় ছড়িয়ে কিডন্যাপাররা পড়ে কাতরাচ্ছে,রিয়াদ যে তাদের এই অবস্থা করেছে সে তখনই বুঝতে পেরেছে।অথচ সে রিয়াদকে দেখে এতদিন মনে করেছে রিয়াদ খুব একটা সাহসী নয়,ভীতু প্রকৃতির।আবার আজ তার বাবা আর রিয়াদের আচরন তাকে কিছুটা ভাবাচ্ছেও।
তিথির খুব মনে চাইছে রিয়াদকে ফোন করে তার সাথে কথা বলার জন্য।কিন্তু তার কাছে রিয়াদের ফোন নাম্বার নেই।
সে রিয়াদের কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে।
,
পাঁচ
নূর মেহাম্মদ যখন তিথিকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেয়ার জন্য কিছু পুলিশ অফিসারকে তার ছবি দেখাচ্ছিলেন।সেখানে রিয়াদও উপস্থিত ছিল।ছবিটা দেখে সে তখনি এই দায়িত্ব তার উপর দেয়ার জন্য অনুরোধ করে। নূর সাহেব কিছুটা অবাক হলেও এই সম্পর্কে কিছু বলেন নি।তিনি বলে উঠেন,
-তিথিকে গার্ড দিতে হলে সবসময় তার সেই কর্তব্যের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।সে কমিশনার অাফসার আহমেদ এর একমাত্র মেয়ে।আর এই সম্পর্কে তিথি যেন কোনোভাবেই জানতে না পারে যে তার অজান্তে তার জন্য বডিগার্ড রাখা হয়েছে, তাও আবার একজন পুলিশ অফিসার।
-আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
তিথির দায়িত্ব তখন রিয়াদের উপর দেয়া হয়।
রিয়াদ কলেজে পড়ার সময় থেকেই ফেসবুকে গল্প লিখত।খুব ভালো না লিখতে না পড়লেও মোটামোটি তার গল্পের চাহিদা ভালোই ছিল।
হঠাৎ একদিন তাকে 'আফসারা তিথি' নামে এক আইডি থেকে নক করে,
-আপনি কি সবসময় হ্যাপি এন্ডিং এর গল্প লিখেন নাকি?
-জ্বী,হ্যাপি এন্ডিং দিতে আমার ভালো লাগে।
-হু!ছোট ছোট কিছু ঘটনার মাধ্যমে গল্প লিখতেও আপনার পছন্দ।
-হ্যা,আপনি বুঝলেন কিভাবে?
-আমি আপনার গল্প সবসময়ই পড়ি।আপনার গল্পগুলো পড়তে আমার ভালো লাগে।আর সেখান থেকেই কিছু ধারনা করেছি।
-ওহ্, আপনি বুদ্ধিমতী।
-জ্বী, আমি জানি। বলতে হবে না।
-হুম।
-আবার পরবর্তী গল্প কখন দিবেন।
-গল্প লিখতে যত সময় লাগবে,তার পর।
-আচ্ছা,গল্প পোস্ট করলে আমাকে মেনশন করবেন প্লিজ।
-ঠিক আছে।
তাদের মাঝে এভাবেই কথোপকথন শুরু হয়।তিথির আইডিতে তার ছবি দেয়া ছিল,কিন্তু রিয়াদের দেয়া ছিল না।তাই রিয়াদ ছবিটি দেখে তিথিকে চিনতে পারে।আর এই জন্যই সে তিথির গার্ডের দায়িত্ব নিজে নিয়েছে।
আফসার আহমেদ রিয়াদকে উনাদের বাড়ির পাশের বাসায় থাকার জন্য সব ব্যবস্থা করে দেন।
যেহেতু রিয়াদের ছবি তিথি দেখেনি তাই রিয়াদকে তিথি চিনতে পারেনি।
,
ছয়
তিথি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাবার কাছে যায়।আফসার আহমেদ তখন সংবাদপত্র পড়ছিলেন।তিথিকে দেখে বললেন,
-ঘুম কেমন হল,মামুনী।
-এইতো বাবা ভালো।
-তুই কি ভার্সিটিতে যাবি।
-কেন?
-দু-তিন দিন বাসায় রেষ্ট নে।তারপর থেকে না হয় যাস।
-ঠিক আছে বাবা।
তিথি রিয়াদের সম্পর্কে তার বাবার কাছ থেকে জানতে চাচ্ছে।গতকাল রাত্রে সে ফ্রেশ হয়ে ড্রইং রুমে এসে দেখে রিয়াদ চলে গেছে।তাই রিয়াদের সাথে আর কথা বলা হয় নি।তার মোবাইল নাম্বারও তিথির কাছে নেই।কিন্তু সে বাবাকে কথাটা কিভাবে বলবে সেটা বুঝে উঠতে পারছে না।আফসার সাহেব বুঝতে পারলেন তিথি তাকে কিছু বলতে চায়।
-কিছু বলবি মামুনী।
-না মানে বাবা!কাল রাতে উনার সাথে কি কথা হল।
-রিয়াদ!
-হ্যা।
-এইতো তোকে কিভাবে উদ্ধার করল সে বিষয় নিয়ে।
-তুমি উনাকে চিনতে।
-হ্যা।
আফসার সাহেব আর কিছু বললেন না।তিথি নিজেই বলে উঠল।
-উনার মোবাইল নাম্বার কি তোমার কাছে আছে।
-কেন?
-মানে,উনি এত রিক্স নিয়ে আমাকে উদ্ধার করলেন।কিন্তু আমি উনাকে কিছু বলতেও পারলাম না।
-তার মোবাইলতো কালকে তোকে উদ্ধার করতে গিয়ে নাকি হারিয়ে ফেলেছে।
-ওহ্,তাই নাকি।আমাকে উদ্ধার করতে গিয়ে উনার অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।
আফসার সাহেব বুঝতে পারলেন রিয়াদের প্রতি তিথির মনে কিছু দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে।
-কিন্তু বাবা,আমি যে কিডন্যাপ হয়েছি তিনি জানলেন কিভাবে?বুঝতে পারছি না।
-রিয়াদ নাকি তোকে কিডন্যাপ হতে দেখেছে,তাই তোর পিছু নিয়েছিল।
আফসার সাহেব যদিও সব সত্যি কথাই বলছেন।কিন্তু রিয়াদ যে পুলিশ অফিসার এবং তার গার্ড হিসেবে কাজ করছে সেটা তিনি চেপে গেলেন।
আর সেই সাথে এটাও বুঝলেন তার মেয়ের দায়িত্ব দেয়ার জন্য একজনকে তিনি পেয়ে গেছেন।
,
পরিশিষ্ট:
আফসার সাহেব রিয়াদকে তিথির পার্মানেন্ট বডিগার্ড করার ব্যবস্থা করে ফেলেছেন।রিয়াদ যে তিথির বডিগার্ড হিসেবে ছিল সে বিষয়ে জানার পর তিথি অবাক এবং খুশি দুটোই হয়েছিল।তবে তিথি আর রিয়াদের পরিচয় যে আগে থেকেই তা তিথিকে রিয়াদ এখনো বলে নি।বিয়ের পরে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য আপাতত সে গোপন রেখে দিয়েছে।

-

Tags


  • bangla book
  • bangla ebook
  • bengali story books
  • bengali books pdf
  • bangla book pdf
  • bangla story book
  • bangla books
  • bengali ebook
  • bangla e book
  • bengali books online
  • bangla novel
  • bangla boi pdf
  • bangla islamic book
  • bangla golpo pdf
  • bangla book download
  • bangla ebook pdf
  • bangla book online
  • bengali ebook collection





SHARE

Author: verified_user