Saturday

বাংলা গল্প সূচনা - লেখা: নুর আলম সিদ্দিক

SHARE

                           বাংলা গল্প সূচনা -  লেখা: নুর আলম সিদ্দিক



bangla golpo pdf


গায়ে হলুদের পর যখন শিল্পী বললো, ওর বিয়েতে ও নিজেই সাজবে, তখন আর কেউ না করলো না। ওকে ওর ঘরে রেখে যে যার কাজে গেল। বিয়ে বাড়িতে অনেক কাজ! তাছাড়া হঠাৎ বিয়ে, গতকাল ছেলের বাপ মা শিল্পীকে দেখে গেছে, আর আজই বিয়ে! ছেলে বিদেশ যাবে আর পাঁচদিন পরই তার ফ্লাইট, সেজন্যই এত তাড়াহুড়ো! বিয়ে করে সে মায়ের কাছে স্ত্রীকে রেখে তবে বিদেশ যাবে ।
হবু বোন জামাইকে কিভাবে বোকা বানাবে, কিভাবে জব্দ করবে সেটা নিয়েই আলোচনা করছিল সেজুতি ওর মামাত বোনদের সাথে। সেই সময় রাহেলা বেগম এসে ডাক দিলেন।
- সেজুতি মা, তোর আপুর ঘরে গিয়ে দেখতো তোর আপুর সাজা হলো কি না?
- যাচ্ছি মা।

সেজুতি ছুটে গেল ওর বোনের ঘরে। কিন্তু ঘরে শিল্পীকে পেল না সে ! তার পর সব খানেই খুজলো। ওদের সব ঘড়, এ বাড়ি, ও বাড়ি না কোথাও শিল্পী নেই। প্রায় ত্রিশ মিনিট খোজার পর সেজুতি যখন ওকে পেল না, তখন ও ছুটলো ও ওর মায়ের কাছে। তার পর রাহেলা বেগম কে আড়ালে ডেকে নিয়ে গেল সে।

- মা আপু ঘড়ে নেই!
- ঘরে নেই? হয়তো বাহিরে কোথাও আছে, খুজে দেখ।
- না মা দেখেছি, আপু কোথাও নেই.....
এতক্ষনে যেন রাহেলা বেগমের হুশ ফিরলো! ব্যাস্ত ছিলেন, মাছ কাটা, পেঁয়াজ মরিচ কাটা, মসল্লা বাটা এসব তত্বাবধায়ন করছিলেন , সেজুতি হঠাৎ ডাকে আড়ালে নিয়ে আসাতে বিরক্ত হয়েছিলেন ছোট মেয়ের উপর, কিন্তু এবার চমকে উঠলেন।
- কোথাও নেই মানে? তোর তমা ভাবির ঘরে দেখেছিস?
- হ্যা মা, সেখানেও নেই!
- তোর বাপ আর সিদ্দিককে ডেকে নিয়ে আয় । আর শোন তোর বোন যে নেই কাউকে বলার দরকার নেই।
সেজুটি ওদের ডাকতে যেতেই চিন্তায় পরলেন রাহেলা বেগম , সেই সাথে প্রচন্ড রেগে উঠলেন বড় মেয়ের উপর! শিল্পী যে পালিয়েছে সেটা না বোঝার মতো অবুঝ তিনি নন, বারো ঘাটে পানি খাওয়া মহিলা উনি! ছেলের বাপ মা দেখে যাওয়ার পরপরই শিল্পী ঘোষনা দিয়েছিল সে বিয়ে করবে না, কোন মতেই না! পরে রাগা রাগি করে রাজি করানো হয়েছে, তাছাড়া মেয়েটা ওর বাপকে খুব ভয় পায়। তখনই বোঝা উচিৎ ছিল এমনটা হবে! মেয়ের উপর নজর রাখা উচিৎ ছিল তার। শিল্পীর সাথে কোন ছেলের সম্পর্ক আছে কি না তা জানা নেই তার, কখনো মেয়েকে কারো সাথে ফোনে কথা বলতে দেখন নি! কিন্তু সম্পর্ক না থাকলে পালাবেই বা কেন? সন্ধায় বর পক্ষ আসবে, তার পর? না তার পূর্বেই শিল্পীকে খুজে ধরে নিয়ে আসতে হবে, তা না হলে মান সম্মান কিছুই থাকবে না। লোকে ছিঃ ছিঃ করবে।
কিছুক্ষনের মধ্যে সেজুতি ওর জ্যাঠাতো ভাই সিদ্দিক আর বাবা সবির উদ্দিনকে নিয়ে এলো মায়ের কাছে।
- কি হয়েছে রেহেলা?
জানতে চাইলেন সবির উদ্দিন ।
- শিল্পীকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না, পালিয়েছে।
- কি!
একসাথে দুজন পুরুষ চিৎকার করে উঠলো। বিশ্বাসই হচ্ছেনা তাদের, তারা যেন কোন পাগলা কুকুরের তাড়া খেয়েছে এমন স্বরেই চিৎকার করেছে। আশে পাশে একটু দুরে যারা কাজে ব্যাস্ত ছিল তারা চোখ তুলে তাকালো , বুঝতে চেষ্টা করতে লাগলো হঠাৎ কি হলো? কিন্তু সেই কি শব্দটাই শুধু তার পর আর কেউ কোন কথা শুনতে পেল না।
- কখন হতে নেই?
- সে কি জানি? ও সেজেছে কি না সেটা দেখতে সেজুতিকে পাঠালাম, সেজুটি সাড়া বাড়ি, এ বাড়ি ও বাড়ি কোথাও খুজে পেল না ওকে।
- চাচী আমি দেখতেছি কি করা যায়, আপনারা চিল্লাচিল্লি করবেন না, আর কেউ যেন না জানতে পারে, আমি খুজে দেখি....
সিদ্দিক আশ্বাস দিল। বুঝতে পেরেছে পরিস্থিতি কি। আর ঘন্টা দুয়েক, তার পরই বরযাত্রী আসবে, এলেই ঝামেলা হবে। সত্যিই যদি শিল্পী কোন ছেলের সাথে পালিয়ে থাকে তাহলে প্রথমেই খুজতে হবে বাসস্ট্যান্ড গুলোতে, তার পর ওর বান্ধবীদের বাড়িতে।
গায়ে হলুদের পরই মেয়ে পালিয়ে গেছে, বাতাসের আগেই খবর ছড়িয়ে পরেছে। এলাকায় বেশ হৈ চৈ পরে গেছে এটা নিয়ে। সকলের মুখে মুখে সে কথা, হঠাৎ করেই এলাকার টপ নিউজে পরিনত হয়েছে ব্যাপারটা। বিরোধী দলের ডাকা হরতালে কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হলে কিংবা সরকারের নির্দেশে পুলিশের গুলিতে দু চারটা লাশ রাজপথে পরে থাকলেও এতটা আলোচনা বোধহয় এই এলাকার কেউ করে না! চায়ের আড্ডায় রসিয়ে রসিয়ে মেয়ে পালানোর গল্প করছে কেউ কেউ! এ বাড়ির বউ ও বাড়িতে গিয়ে বলছে,
- বুবু, শুনছেন? শিল্পী পালিয়ে গেছে....
- ও মা! বলিস কি! আজ না ওর বিয়ে!
- হ্যা, গায়ে হলুদের পরই তো পালিয়েছে ! ওদিকে বর পক্ষ বের হয়েছে সেই সময় খবর পেয়েছে মেয়ে পালিয়েছে! ব্যাচারা বর! ভাগ্যিস শিল্পী বিয়ের আগেই পালিয়েছে তা না হলে বেচারার মুখে চুনকালি পড়তো বুবু! ভেবেছিলাম মেয়েটা ভালো, তলে তলে এত কিছু তা কে জানতো?
জানে শুধু একজন, সে তমা। শিল্পীকে রাগারাগি করে যখন রাজি করানো হলো তখন তমা শিল্পীর সাথেই ছিল। ও দেখতে পেয়েছিল শিল্পীর চোখের কোনে পানি। কারন কি? শিল্পীর কি ছেলে পছন্দ হয় নি না কি কোন ছেলের সাথে সম্পর্ক আছে প্রশ্ন জেগেছিল তার মনে। শেষে শিল্পীকে একা পেয়েই চেপে ধরলো তমা। শিল্পী ভাবীর কাছে সব বললো। একটা ছেলেকে সে ভালোবাসে। সে ওকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করতে চায় না। বিদেশ ফেরত ছেলেটার সাথে শিল্পীর বিয়ে হবে, তমার সেটা পছন্দ হয় নি। ব্যাস শিল্পীকে তার প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যেতে বললো তমা।
তমা ঘরে শুয়ে শিল্পীর কথা ভাবছে। শিল্পী ভালো মেয়ে নয় এ কথা কেউ কখনো বলতে পারবে না! কিন্তু গায়ে হলুদের পর পালানোটাই ওর বড় দোষ! কিন্তু এ ছাড়া আর পথ কি? একটা বিদেশ ফেরত ছেলে, গতকাল মেয়ে দেখে আজকেই বিয়ে! ঠিক আছে তা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু সে নাকি বিয়ের পাঁচ দিন পরই বিদেশ চলে যাবে স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে! যদি বিদেশেই যাবি বিয়ে করার দরকার কি? মায়ের সেবার জন্য তো দুটো কাজের মেয়ে রাখলেই পারিস! সেজন্য বিয়ের দরকার কি? তুই বিদেশে থাকবি, স্ত্রী দেশে কি করবে? একটা মেয়েরো তো জীবন! তার চাওয়ার অনেক কিছুই আছে, সেসব কি শ্বশুড় শ্বাশুড়ির কাছে চাইবে না কি পাড়ার কোন ছেলের কাছে?
মেয়েটা সেই যে বের হয়ে গেল এখন কোথায়? তমা অস্থির হয়ে উঠেছে। বাড়িতে পরিস্হিতি ভয়াবহ, চাচা শ্বশুড় রাগি মানুষ, কখন কি শুরু করে উপরওয়ালাই ভালো জানেন! কিন্তু লোকটা এখন পর্যন্ত শান্ত আছেন, এটাই স্বস্থি! সিদ্দিক সেই যে গেল শিল্পীর খোজে সে ফিরেছে কি না তা তমার জানা নেই! তমার কিছুটা অপরাধ বোধ হচ্ছে, এ পরিবারের মানসম্মানের প্রশ্ন! কিন্তু এ সম্মানের জন্য শিল্পীকে বলি হতে হবে কেন?
সিদ্দিক তাকিয়ে আছে ওর চাচার দিকে, একদৃষ্টিকে। সে সবখানেই খুজেছে বাসস্ট্যান্ড, শিল্পীর সব বন্ধুর বাড়ি -কোথাও শিল্পীকে পাওয়া যায় নি। সে কথাটা বলার পর তার চাচার মুখের কি পরিবর্তন হয় সেটাই দেখতে এ তাকিয়ে থাকা। কিন্তু না কোন পরিবর্তন এলো না মুখে! কঠিন স্পাতের তৈরি যেন সে মুখ!
- খুজে না পাওয়াই ভালো হয়েছে! পেলে কি হতো? ছেলেপক্ষ ইতোমধ্যে খবর পেয়েছে। তারা আসছে না।
- কিভাবে খবর পেলো?
সিদ্দিকের কন্ঠে বিষ্ময় ।
- এসব খবর চেপে রাখা যায় না, বাতাসের আগেই এসব খবর ছড়ায়, এলাকার বাড়ি বাড়ি এখন এটাই আলোচনা হচ্ছে বোধহয়! মেয়েটা আমার মুখে চুনকালি মাখিয়ে দিলো, কত কষ্ট করে বড় করে তুললাম, সেই মেয়ে.....
কথা গুলো বলার সময় ভিজে এলো সবির উদ্দিনের দু চোখ! সিদ্দিক অবাক হয়ে চেয়ে দেখলো তার চাচার চোখের পানি। এ চাচাকে এর আগে কখনো কাঁদতে দেখে নি সে। নিরবতা নেমে এলো, ও চাচাকে শান্তনা দিবে, কিন্তু কিছু বলার ভাষা খুজে পেল না। বিয়ে বাড়িতে ঘন্টা দুয়েক আগেও সে খুশির ঢেউ দেখেছিল এখন মৃর্তুপুরী মনে হচ্ছে। সেই নিরবতা ভেঙ্গে আবার কথা বলে উঠলেন সবির উদ্দিন।
- একটা মেয়ে মারা গেছে আমার, হ্যা আজ হতে সে মৃত! আত্মীয় স্বজন যারা আছে তাদের সবাইকে বলো আমার মৃত মেয়ের কূলখানি খেয়ে যেতে। পাড়াপড়শি কেউ যেন বাদ না যায়! বিয়ে তো হলো না, তারা কূলখানির দাওয়াতই খেয়ে যাক! মৃত্যু হয়েছে ওর, আমার সম্মানের চিন্তা না করেই যে চলে গেছে, সে মৃত।
বিয়ে বাড়িতে যারা আত্মীয় স্বজন এসেছিল তারা তো আর উপোস থাকতে পারে না! তাছাড়া এত খাবার না খেলে নষ্ট হয়ে যাবে! শেষ পর্যন্ত বিয়েই হোক আর কূলখানিই হোক - খাবার তো, সকলে খেতে বসলো! কিন্তু কেউই তৃপ্তি নিয়ে খেতে পারলো না! সিদ্দিক কিছুই খেলো না। সে ওর ঘরে চললো। শরীরটা ভালো নয়, সমস্তদিন বেশ খেটেছে সে, তার পরে এত দুঃচিন্তা, সন্ধা নেমেছে, ঘুম দিবে সে।
তমা ভাবলো, এবার শিল্পীর খোজ নেয়া দরকার। ও এখন কোথায়? প্রয়োজন হতে পারে, সেজন্য শিল্পীর হতে ওর প্রেমিকের নম্বরটা নিয়ে রেখেছিল তমা। মোবাইল হাতে নিয়ে সেই নম্বরে ফোন করলো তমা। প্রথম বারই রিসিভ হলো।
- হ্যালো, কে?
অপর প্রান্ত হতে ভেসে এলো একটা ছেলে কন্ঠ।
- আমি শিল্পীর ভাবী, শিল্পী আছে....
- হ্যা আছে, কথা বলুন।
- ভাবী...
তমা শিল্পীর কথা শুনতে পেলো এবার অপর প্রান্ত হতে।
- কোথায় আছিস তুই?
- রাসেলের এক বন্ধুর বাড়িতে।
রাসেল নামের ছেলেটিকেই ভালোবাসে শিল্পী। যে ছেলেটা ফোন রিসিভ করেছিল ওর নামই রাসেল।
- তোর ভাই তোর খোজে গেছে! এখনো ফিরে এলো কি না জানি না, সাবধানে থাকিস।
- ঠিক আছে ভাবী।
- তুই তোর সব কগজ সার্টিফিকেট নিয়ে গেছিস তো!
- হ্যা,
- যেভাবেই হোক রাসেলকে বল বিয়ের কাজটা সেরে ফেলতে। কোন রকম ভুল যেন না হয়! কয়েকদিন পর আমিই বাড়িতে বলবো তোদের মেনে নিতে। ভালো থাকিস।।
- আচ্ছা ভাবী।
তমা কথা বলছিল, সিদ্দিক কখন যে ঘরে ঢুকেছে সে বুঝতেই পারে নি। সিদ্দিক ঘরে ঢুকে তমার সব কথাই শুনতে পেলো। বুঝতে পেলো শিল্পীর পালানোর ব্যাপারে তমা সবকিছুই জানে। শুধু জানেই না সাহায্য ও করছে। কিন্তু কাউকেই কিছু জানায় নি। সারা দিনের ক্লান্ত শরীর, তার পর চাচা চাচীর অবস্থা চিন্তা করেই সিদ্দিকের মেজাজ খারাপ হয়ে গেল, তমার উপর রেগে গেল ভিষন।
তমা ফোনে কথা বলা শেষ হতেই সিদ্দিক কে দেখতো পেল। চমকে উঠলো সে। সন্ধার ঘরে আলো জ্বালায় নি এখনো, বিছানা হতে উঠে আলো জ্বালালো। সেই আলোয় সিদ্দিকের মুখে রাগের ছায়া দেখলো তমা। বুঝলো খারাপ কিছু একটা হতে চলছে। সে জানে সিদ্দিকের রাগ নেই, বিয়ের এতদিন হলো দু একবার ছাড়া কখনো রাগতে দেখে নি সে তাকে! নিশ্চই শিল্পীর সাথে ফোনে বলা কথাগুলো সব শুনতে পেয়েছে।
- তুই কালই তোর বাপের বাড়ি চলে যাবি!
এবার সিদ্দিকের রাগদ্বেষ পূর্ন কন্ঠস্বর শুনতে পেলো।
- কেন যাবো?
- কেন যাবি জানিস না? এ বাড়ির মান সম্মান ডুবিয়ে কেমন করে ভাবলি এ বাড়িতে স্থান হবে তোর?
- আমি আবার কি করলাম?
- কিছুই করিস নি, না! শিল্পী কোথায় গেছে, কার সাথে গেছে সব জানিস তুই! তুই ওকে পালাতে সাহায্য করেছিস, আর বলিস কিছুই করিস নি।
- সাহায্য করেছি, তো ! জোর করে একটা ছেলের সাথে ওর বিয়ে দিয়ে দিবে, যে ছেলেটা বিয়ের কদিন পরই বিদেশ চলে যাবে! অমন সংসারে সুখি হতে পারতো কি সে? তাছাড়া ও একটা ছেলেটাকে ভালোবাসে, এখন সে তার সাথেই আছে! এবং তার সাথেই সুখে থাকবে। একটা মেয়ে হিসাবে ওর সুখের কথা চিন্তা করেই কাজটা করেছি। আমি ভুল কিছুই তো করি নাই। ঠিকই করেছি...

- ঠিক করেছিস, তাই! আমাদের বাড়ির মান সম্মান ডু্বিয়ে বলছিস ঠিক করেছিস? বাংলা গল্প

বাংলা গল্পের সমাহার


কথা শেষ করার আগেই দুটো থাপ্পরের শব্দ শোনা গেল। সিদ্দিক সজোরে দুটো থাপ্পর দিয়েছে তমার দু গালে। তমা দুই গাল হাত দিয়ে চেপে ধরে আর্তনাদ করে বিছানার কোনে বসে পরলো। সে ভাবতেই পারে নি সিদ্দিক ওর শরীরে হাত তুলবে!
সিদ্দিক তমাকে থাপ্পরের পর আর কথা বাড়ালো না, রাগ কিছুটা কমেছে ইতোমধ্যে, ও বিছানায় উঠে একপাশে শুয়ে পড়লো। এত কিছুর পরেও ওর ক্লান্ত দু চোখে ঘুম এসে ভর করলো কিছুক্ষণের মধ্যেই।
তমা গালে হাত দিয়ে বসে থাকলো স্থির হয়ে। খুব খারাপ লাগছে ওর। ইচ্ছে হচ্ছে এখনি বাপের বাড়ি চলে যায়। কিন্তু তা করলো না, সিদ্ধান্ত নিল কাল সকালেই চলে যাবে। আজ সারা রাত বসেই কাটিয়ে দিবে।
কতক্ষণ বসে ছিল তমার মনে নেই, এশার আজান অনেক আগেই শুনেছে ও। এখন কয়টা বাজে? দশটা কিংবা এগারোটা! সন্ধা হতে বসে আছে সে। সিদ্দিক যখন ওকে থাপ্পর দিলো তার পর ও রেগে গিয়েছিল সিদ্দিকের উপর, কিন্তু এতক্ষন সে বিয়ের দিন হতে সিদ্দিকের সাথে সংসার জীবনের স্মৃতি গুলো নিয়ে ভাবছিল। রাগ কমে গেছে ওসব ভাবতেই। পাশ ফিরে দেখলো সিদ্দিক ঘুমিয়েছে। ওকে মেরে কি সুন্দর নিষ্পাপ ভাব নিয়ে ঘুমিয়ে আছে, ইচ্ছে হলো গলা টিপে ধরে! কিন্তু তা করলো না সে। একটা কাঁথা সিদ্দিকের ঘুমন্ত শরীরের উপর চাপিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে এসে শুয়ে পড়লো সিদ্দিকের পাশেই। পূর্বের সিদ্ধান্ত বাতিল করলো, সামান্য কারনে বাপের বাড়ি যাবে কেন? এর বিচার সে নিজেই করতে পারবে! ও তো জানে সিদ্দিক কত ভালোবাসে ওকে।
তমা'র ঘুম ভেঙ্গেছে একটা সপ্ন দেখে। খুব রোমাঞ্চকর ছিল সপ্নটা, কিন্তু হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় সপ্নটা পুরোটা দেখতে পারে নি! ঈশ! ঘুম আর একটু দেরিতে ভাঙলে কি হতো! সপ্নের রোমান্টিক শিহরন এখনো ওর মধ্যে অনুভব করতেছে সে। পাশে ঘুমন্ত সিদ্দিকের দিকে তাকালো ও, ইচ্ছে করছে ওকে জরিয়ে ধরে....! উফ, কি সব ভাবছে সে? আজ চারদিন হতে সিদ্দিকের সাথে কোন কথা বলে নি ও। সিদ্দিক অনেক চেষ্টা করেছে ওর অভিমান ভাঙাতে, মাফ চেয়েছে, কান ধরেছে তবু কথা বলেনি ও। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে অভিমান করে থাকাটাই ভুল হয়েছে!
না সিদ্দিকের সাথে কথা না বললে আর ঘুমাতে পারবে না সে। সপ্নে যা দেখেছে তা ওকে বলতে হবে। তাছাড়া আজ আর ঘুমানোর ইচ্ছেটাও নেই ওর মাঝে। শেষ পর্যন্ত চারদিনের মৌনব্রত অভিমান ছেড়ে ও ঘুমন্ত সিদ্দিককে ঘুম হতে জাগালো।
-গল্প শুনবো ।
-গল্প!
সিদ্দিক চোখ বড় করে বিষ্ময় নিয়ে তাকালো তমার দিকে! তমার এ মাঝ রাতে গল্প শুনতে চাওয়াটা বোধগম্য হলো না ওর । তাছাড়া সেদিন সন্ধায় ও তমাকে থাপ্পরের পর হতে তমা ওর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে । আজ নিয়ে চার দিন হলো, বলা চলে মৌনব্রত নিয়েছে তমা । এখন সেই মৌনব্রত ছেড়ে হঠাৎ মাঝ রাতে ঘুম হতে ডেকে তুলে গল্প শুনতে চাওয়া বিষ্ময়কর তো বটেই, অতিমাত্রায় পাগলামি। তমা তো কোন ছোট বাচ্চা নয় যে তাকে গল্প শোনাতে হবে!
- হু, গল্প । সেজন্যই তো তোমাকে জাগালাম। তার আগে আমি বলি শোনো, সুন্দর একটা সপ্ন দেখলাম একটু আগে , তুমি আর আমি বসে লুডু খেলছি আর একটা পরীর মতো সুন্দর মেয়ে এসে খেলাটা নষ্ট করে দিল!
-এটা সুন্দর সপ্ন হয় কিভাবে?
সিদ্দিক জানতে চাইলো। দুজন খেলছে, তৃতীয় কেউ এসে তা নষ্ট করে দিল, এমন সপ্ন সুন্দর হয় কিভাবে ও ভেবে পেলো না। তাছাড়া ও কিছুটা বিরক্ত, ওকে মাঝ রাতে ঘুম হতে ডেকে তোলায়। তবে তা প্রকাশ করলো না।
- সম্পূর্ণটা শোনো তো! তবু আমরা রাগলাম না। তুমি মেয়েটাকে কাছে টেনে কঁপালে চুমু দিলে, মেয়েটাও তোমার কঁপালে চুমু দিল। আমি তা দেখে হেসে উঠলাম, যদিও বিষয়টা কোন হাস্যকর নয় তবু হাসলাম। জানো তো মেয়েটি কে?
- তা কিভাবে জানবো? সপ্নটা তো আর আমি দেখি নি!
সিদ্দিক ভেবে পেলো না কোন মেয়ে হতে পারে! তবে মেয়েটা যে পিচ্চি, তা বুঝতে পারলো। পিচ্চি নয়, বড় কোন মেয়ের কপালে ও চুমু দিলে তা দেখে তমা কখনই হাঁসতো না, সে সপ্নই হোক আর কল্পনায় হোক। এই তো বিয়ের পর পরের ঘটনাটা । শালীর সাথে একটু ঠাট্টাতামাসা করতেই তমা রেগে গিয়ে লম্পট বলে গালি দিয়েছিল ওকে । তখন দুজনের মধ্যে সীমান্তের কাটাতার ছিল, তাতেই যে রিয়েক্ট দিয়েছিল সে ! অবশ্য সেটা অতীত। এর পর আর কখনো তমা ওকে লম্পট বলে নি।
- আমাদের মেয়ে সূচনা। তমা- সিদ্দিকের মেয়ে সূচনা ! কি সুন্দর নাম তাই না?
-সুন্দর তো! কিন্তু আমাদের মেয়ে মানে! আমি আবার বাবা হলাম কবে?
- আমি সপ্নের যা দেখেছি তাই বলছি। তুমি এখনো বাবা হও নি , হবে তো না কি? মেয়ের নাম রাখবো সূচনা। সে দেখতে ঠিক ঐ সপ্নের পরীর মতোই হবে।
- কিন্তু মেয়েটা যে আমাদের বুঝলে কি করে?
- শোনো তো, বলা শেষ করতে দাও। সেই সময় কেন জানি আমারো খুব ইচ্ছে হলো তোমার ঠোটে কিস করি, কিন্তু মেয়ের সামনে কিভাবে তা করি! সেই সময় আমাদের মেয়েটা তোমাকে কি বলেছে জানো?
- কি?
বেশ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলো সিদ্দিক । বিরক্তিবোধ টা এখন আর নেই। ভালোই লাগছে মধ্য রাতে জেগে তমার মুখে সপ্নের কাহিনী শুনতে। অবশ্য ওর কাছে মনে হচ্ছে তমা আসলে কোন সপ্নই দেখে নি, বানিয়ে বলছে! দুদিন হতে কোন কথা বলে নি ওর সাথে, কথা না বলে আর কতক্ষণ থাকা যায়? সেজন্য ওর সাথে কথা বলার জন্যই এ সপ্নের ঘটনা সাজিয়েছে। তার পর সেটা বিশ্বাসযোগ্য করতে মাঝ রাতে ওকে ঘুম হতে ডেকে তুলে তা বলতেছে এখন।
- আব্বু আমাকে পাপ্পি দিলে, আম্মুকেও দাওনা....
- আর আমি কি দিয়েছি?
- আরে না, তার আগেই তো ঘুম ভেঙ্গে গেল!
- এখন দেই...
বলেই সিদ্দিক তমাকে টেনে ওর সামনে নিয়ে এলো, তমার ঠোটের দিকে ওর ঠোট নিয়ে যেতেই তমা ওর কাছ হতে সরে গেল এক প্রকার জোর করেই।
- না! তুমি আমাকে ছুবে না বলে দিলাম। মাঝ রাতে ডেকে তুলে কথা বলেছি বলে ভেবো না আমি তোমাকে মাফ করে দিয়েছি। ঝগড়া করার সময় মনে থাকে না?বিয়ের আগে খুব কল্পনা করতাম আমার স্বামী আমাকে প্রায় রাতে গল্প শোনাবে, প্রেমের গল্প। কিন্তু তুমি! একটা রাতেও কোন গল্প শোনালে না আমায়। এখন আমাকে সুন্দর একটা গল্প শোনাও, তাহলে হয়তো মাফ করতে পারি!
একটা আসক্তি, আবেগ, ভালোবাসা, আকাঙ্খ্যা ছিল সিদ্দিকের ঠোটে..., সেটা তমা নষ্ট করে দিয়েছে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে। অন্য সময় হলে ও হয়তো রাগ করতো সে কারনে। কিন্তু তমা ওকে ঘুম হতে ডেকে তুলেছে গল্প শুনতে। আর ও গল্প বলতে পারে না। সেজন্য বললো।
-ঘুমাবো! মধ্য রাতে গল্প বলে কেউ!
- ঘুমাবে? পানি ঢেলে দিবো বিছানায়, তখন দেখবো কেমনে ঘুমাও।
সিদ্দিক বুঝলো তমাকে গল্প শোনাতেই হবে। শোনাতেই হবে, তো মিছে মিছি কেন?
- গল্প বলতেই হবে?
- হ্যা।
- তাহলে শর্ত আছে।
- কি শর্ত?
জানতে চাইলো তমা।
- গল্প বলা শেষ হলে তুমি আমাকে কিস করবা।
- না, তা হবে না। আমি পারবো না।
- না পারলে কি করার! আমার চোখে ঘুম, ঘুমাবো!
- আচ্ছা, বলো । তবে শুধু কিস। অন্য কিছু না।
সিদ্দিক বলতে শুরু করলো।
- একটা মেয়ে। অনেক সুন্দর। বলে বোঝাতে পারবো না কতটা। তোমার মতো নাক, তোমার মতোই কান, তোমার মতোই মুখ, সব তোমার মতো।
- সব আমার মতো! তুমি গল্প বলছো না আমাকে বর্ননা করছো! মন ভোলাচ্ছো?
- আরে না, সম্পূর্ন টা বলি শোনো আগে। মেয়েটাকে আমি খুব ভালোবাসি। খুব খুউব। মেয়েটাকে যখন প্রথম দেখি, প্রথম দেখাতেই মেয়েটাকে কিস করি। জানো মেয়েটা আমাকে হিল খুলে পিটিয়েছিল!
সিদ্দিক যে কোন গল্প বলছে তা বুঝতে কষ্ট হলো না তমার। ওর নিজের জীবনের গল্প ওটা। শুধু ওর নয়, সিদ্দিক আর ওর দুজনের জীবনের গল্প। ও চুপ করেই রইলো। ওর চোখে ভেসে উঠছে দৃশ্য গুলো। সিদ্দিক বলছে...
- তার পর কি হলো, মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে গিয়ে দেখি সেই মেয়েই কনে! ততক্ষণে কাবিননামায় সই দিয়ে দিয়েছি। জানো তো নিজের উপর রেগে গেসলাম খুব, কেন যে মেয়ে না দেখেই বিয়ে করতে গেছি!
- এখনো কি সেই রাগ আছে নিজের উপর?
তমা জানতে চাইলো উঠলো।
- না, তা হবে কেন? এখন সেই মেয়েটাই আমার প্রান। ওকে অনেক অনেক ভালোবাসি।।
বলতে বলতে সে তমাকে কাছে টেনে নিল। তমা কোন বাধা দিল না।
- আমিও। প্রথমে খুব ঘৃনা করতাম তোমাকে! ওভাবে ট্রেনে কিস করার পর হতে । কিন্তু এখন, তোমাকে ছাড়া নিজেকে কল্পনাও করতে পরি না, তোমাকে....
তমা আরো কিছু বলতো, বলতে পারলো না। ততক্ষনে সিদ্দিকের দুই ঠোট ওর ঠোট জোড়ার দখল নিয়ে নিয়েছে।।তমা'র ঘুম ভেঙ্গেছে একটা সপ্ন দেখে। খুব রোমাঞ্চকর ছিল সপ্নটা, কিন্তু হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় সপ্নটা পুরোটা দেখতে পারে নি! ঈশ! ঘুম আর একটু দেরিতে ভাঙলে কি হতো! সপ্নের রোমান্টিক শিহরন এখনো ওর মধ্যে অনুভব করতেছে সে। পাশে ঘুমন্ত সিদ্দিকের দিকে তাকালো ও, ইচ্ছে করছে ওকে জরিয়ে ধরে....! উফ, কি সব ভাবছে সে? আজ চারদিন হতে সিদ্দিকের সাথে কোন কথা বলে নি ও। সিদ্দিক অনেক চেষ্টা করেছে ওর অভিমান ভাঙাতে, মাফ চেয়েছে, কান ধরেছে তবু কথা বলেনি ও। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে অভিমান করে থাকাটাই ভুল হয়েছে!
না সিদ্দিকের সাথে কথা না বললে আর ঘুমাতে পারবে না সে। সপ্নে যা দেখেছে তা ওকে বলতে হবে। তাছাড়া আজ আর ঘুমানোর ইচ্ছেটাও নেই ওর মাঝে। শেষ পর্যন্ত চারদিনের মৌনব্রত অভিমান ছেড়ে ও ঘুমন্ত সিদ্দিককে ঘুম হতে জাগালো।
-গল্প শুনবো ।
-গল্প!
সিদ্দিক চোখ বড় করে বিষ্ময় নিয়ে তাকালো তমার দিকে! তমার এ মাঝ রাতে গল্প শুনতে চাওয়াটা বোধগম্য হলো না ওর । তাছাড়া সেদিন সন্ধায় ও তমাকে থাপ্পরের পর হতে তমা ওর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে । আজ নিয়ে চার দিন হলো, বলা চলে মৌনব্রত নিয়েছে তমা । এখন সেই মৌনব্রত ছেড়ে হঠাৎ মাঝ রাতে ঘুম হতে ডেকে তুলে গল্প শুনতে চাওয়া বিষ্ময়কর তো বটেই, অতিমাত্রায় পাগলামি। তমা তো কোন ছোট বাচ্চা নয় যে তাকে গল্প শোনাতে হবে!
- হু, গল্প । সেজন্যই তো তোমাকে জাগালাম। তার আগে আমি বলি শোনো, সুন্দর একটা সপ্ন দেখলাম একটু আগে , তুমি আর আমি বসে লুডু খেলছি আর একটা পরীর মতো সুন্দর মেয়ে এসে খেলাটা নষ্ট করে দিল!
-এটা সুন্দর সপ্ন হয় কিভাবে?
সিদ্দিক জানতে চাইলো। দুজন খেলছে, তৃতীয় কেউ এসে তা নষ্ট করে দিল, এমন সপ্ন সুন্দর হয় কিভাবে ও ভেবে পেলো না। তাছাড়া ও কিছুটা বিরক্ত, ওকে মাঝ রাতে ঘুম হতে ডেকে তোলায়। তবে তা প্রকাশ করলো না।
- সম্পূর্ণটা শোনো তো! তবু আমরা রাগলাম না। তুমি মেয়েটাকে কাছে টেনে কঁপালে চুমু দিলে, মেয়েটাও তোমার কঁপালে চুমু দিল। আমি তা দেখে হেসে উঠলাম, যদিও বিষয়টা কোন হাস্যকর নয় তবু হাসলাম। জানো তো মেয়েটি কে?
- তা কিভাবে জানবো? সপ্নটা তো আর আমি দেখি নি!
সিদ্দিক ভেবে পেলো না কোন মেয়ে হতে পারে! তবে মেয়েটা যে পিচ্চি, তা বুঝতে পারলো। পিচ্চি নয়, বড় কোন মেয়ের কপালে ও চুমু দিলে তা দেখে তমা কখনই হাঁসতো না, সে সপ্নই হোক আর কল্পনায় হোক। এই তো বিয়ের পর পরের ঘটনাটা । শালীর সাথে একটু ঠাট্টাতামাসা করতেই তমা রেগে গিয়ে লম্পট বলে গালি দিয়েছিল ওকে । তখন দুজনের মধ্যে সীমান্তের কাটাতার ছিল, তাতেই যে রিয়েক্ট দিয়েছিল সে ! অবশ্য সেটা অতীত। এর পর আর কখনো তমা ওকে লম্পট বলে নি।
- আমাদের মেয়ে সূচনা। তমা- সিদ্দিকের মেয়ে সূচনা ! কি সুন্দর নাম তাই না?
-সুন্দর তো! কিন্তু আমাদের মেয়ে মানে! আমি আবার বাবা হলাম কবে?
- আমি সপ্নের যা দেখেছি তাই বলছি। তুমি এখনো বাবা হও নি , হবে তো না কি? মেয়ের নাম রাখবো সূচনা। সে দেখতে ঠিক ঐ সপ্নের পরীর মতোই হবে।
- কিন্তু মেয়েটা যে আমাদের বুঝলে কি করে?
- শোনো তো, বলা শেষ করতে দাও। সেই সময় কেন জানি আমারো খুব ইচ্ছে হলো তোমার ঠোটে কিস করি, কিন্তু মেয়ের সামনে কিভাবে তা করি! সেই সময় আমাদের মেয়েটা তোমাকে কি বলেছে জানো?
- কি?
বেশ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলো সিদ্দিক । বিরক্তিবোধ টা এখন আর নেই। ভালোই লাগছে মধ্য রাতে জেগে তমার মুখে সপ্নের কাহিনী শুনতে। অবশ্য ওর কাছে মনে হচ্ছে তমা আসলে কোন সপ্নই দেখে নি, বানিয়ে বলছে! দুদিন হতে কোন কথা বলে নি ওর সাথে, কথা না বলে আর কতক্ষণ থাকা যায়? সেজন্য ওর সাথে কথা বলার জন্যই এ সপ্নের ঘটনা সাজিয়েছে। তার পর সেটা বিশ্বাসযোগ্য করতে মাঝ রাতে ওকে ঘুম হতে ডেকে তুলে তা বলতেছে এখন।
- আব্বু আমাকে পাপ্পি দিলে, আম্মুকেও দাওনা....
- আর আমি কি দিয়েছি?
- আরে না, তার আগেই তো ঘুম ভেঙ্গে গেল!
- এখন দেই...
বলেই সিদ্দিক তমাকে টেনে ওর সামনে নিয়ে এলো, তমার ঠোটের দিকে ওর ঠোট নিয়ে যেতেই তমা ওর কাছ হতে সরে গেল এক প্রকার জোর করেই।
- না! তুমি আমাকে ছুবে না বলে দিলাম। মাঝ রাতে ডেকে তুলে কথা বলেছি বলে ভেবো না আমি তোমাকে মাফ করে দিয়েছি। ঝগড়া করার সময় মনে থাকে না?বিয়ের আগে খুব কল্পনা করতাম আমার স্বামী আমাকে প্রায় রাতে গল্প শোনাবে, প্রেমের গল্প। কিন্তু তুমি! একটা রাতেও কোন গল্প শোনালে না আমায়। এখন আমাকে সুন্দর একটা গল্প শোনাও, তাহলে হয়তো মাফ করতে পারি!
একটা আসক্তি, আবেগ, ভালোবাসা, আকাঙ্খ্যা ছিল সিদ্দিকের ঠোটে..., সেটা তমা নষ্ট করে দিয়েছে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে। অন্য সময় হলে ও হয়তো রাগ করতো সে কারনে। কিন্তু তমা ওকে ঘুম হতে ডেকে তুলেছে গল্প শুনতে। আর ও গল্প বলতে পারে না। সেজন্য বললো।
-ঘুমাবো! মধ্য রাতে গল্প বলে কেউ!
- ঘুমাবে? পানি ঢেলে দিবো বিছানায়, তখন দেখবো কেমনে ঘুমাও।
সিদ্দিক বুঝলো তমাকে গল্প শোনাতেই হবে। শোনাতেই হবে, তো মিছে মিছি কেন?
- গল্প বলতেই হবে?
- হ্যা।
- তাহলে শর্ত আছে।
- কি শর্ত?
জানতে চাইলো তমা।
- গল্প বলা শেষ হলে তুমি আমাকে কিস করবা।
- না, তা হবে না। আমি পারবো না।
- না পারলে কি করার! আমার চোখে ঘুম, ঘুমাবো!
- আচ্ছা, বলো । তবে শুধু কিস। অন্য কিছু না।
সিদ্দিক বলতে শুরু করলো।
- একটা মেয়ে। অনেক সুন্দর। বলে বোঝাতে পারবো না কতটা। তোমার মতো নাক, তোমার মতোই কান, তোমার মতোই মুখ, সব তোমার মতো।
- সব আমার মতো! তুমি গল্প বলছো না আমাকে বর্ননা করছো! মন ভোলাচ্ছো?
- আরে না, সম্পূর্ন টা বলি শোনো আগে। মেয়েটাকে আমি খুব ভালোবাসি। খুব খুউব। মেয়েটাকে যখন প্রথম দেখি, প্রথম দেখাতেই মেয়েটাকে কিস করি। জানো মেয়েটা আমাকে হিল খুলে পিটিয়েছিল!
সিদ্দিক যে কোন গল্প বলছে তা বুঝতে কষ্ট হলো না তমার। ওর নিজের জীবনের গল্প ওটা। শুধু ওর নয়, সিদ্দিক আর ওর দুজনের জীবনের গল্প। ও চুপ করেই রইলো। ওর চোখে ভেসে উঠছে দৃশ্য গুলো। সিদ্দিক বলছে...
- তার পর কি হলো, মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে গিয়ে দেখি সেই মেয়েই কনে! ততক্ষণে কাবিননামায় সই দিয়ে দিয়েছি। জানো তো নিজের উপর রেগে গেসলাম খুব, কেন যে মেয়ে না দেখেই বিয়ে করতে গেছি!
- এখনো কি সেই রাগ আছে নিজের উপর?
তমা জানতে চাইলো উঠলো।
- না, তা হবে কেন? এখন সেই মেয়েটাই আমার প্রান। ওকে অনেক অনেক ভালোবাসি।।
বলতে বলতে সে তমাকে কাছে টেনে নিল। তমা কোন বাধা দিল না।
- আমিও। প্রথমে খুব ঘৃনা করতাম তোমাকে! ওভাবে ট্রেনে কিস করার পর হতে । কিন্তু এখন, তোমাকে ছাড়া নিজেকে কল্পনাও করতে পরি না, তোমাকে....
তমা আরো কিছু বলতো, বলতে পারলো না। ততক্ষনে সিদ্দিকের দুই ঠোট ওর ঠোট জোড়ার দখল নিয়ে নিয়েছে।।তমা'র ঘুম ভেঙ্গেছে একটা সপ্ন দেখে। খুব রোমাঞ্চকর ছিল সপ্নটা, কিন্তু হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় সপ্নটা পুরোটা দেখতে পারে নি! ঈশ! ঘুম আর একটু দেরিতে ভাঙলে কি হতো! সপ্নের রোমান্টিক শিহরন এখনো ওর মধ্যে অনুভব করতেছে সে। পাশে ঘুমন্ত সিদ্দিকের দিকে তাকালো ও, ইচ্ছে করছে ওকে জরিয়ে ধরে....! উফ, কি সব ভাবছে সে? আজ চারদিন হতে সিদ্দিকের সাথে কোন কথা বলে নি ও। সিদ্দিক অনেক চেষ্টা করেছে ওর অভিমান ভাঙাতে, মাফ চেয়েছে, কান ধরেছে তবু কথা বলেনি ও। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে অভিমান করে থাকাটাই ভুল হয়েছে!
না সিদ্দিকের সাথে কথা না বললে আর ঘুমাতে পারবে না সে। সপ্নে যা দেখেছে তা ওকে বলতে হবে। তাছাড়া আজ আর ঘুমানোর ইচ্ছেটাও নেই ওর মাঝে। শেষ পর্যন্ত চারদিনের মৌনব্রত অভিমান ছেড়ে ও ঘুমন্ত সিদ্দিককে ঘুম হতে জাগালো।
-গল্প শুনবো ।
-গল্প!
সিদ্দিক চোখ বড় করে বিষ্ময় নিয়ে তাকালো তমার দিকে! তমার এ মাঝ রাতে গল্প শুনতে চাওয়াটা বোধগম্য হলো না ওর । তাছাড়া সেদিন সন্ধায় ও তমাকে থাপ্পরের পর হতে তমা ওর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে । আজ নিয়ে চার দিন হলো, বলা চলে মৌনব্রত নিয়েছে তমা । এখন সেই মৌনব্রত ছেড়ে হঠাৎ মাঝ রাতে ঘুম হতে ডেকে তুলে গল্প শুনতে চাওয়া বিষ্ময়কর তো বটেই, অতিমাত্রায় পাগলামি। তমা তো কোন ছোট বাচ্চা নয় যে তাকে গল্প শোনাতে হবে!
- হু, গল্প । সেজন্যই তো তোমাকে জাগালাম। তার আগে আমি বলি শোনো, সুন্দর একটা সপ্ন দেখলাম একটু আগে , তুমি আর আমি বসে লুডু খেলছি আর একটা পরীর মতো সুন্দর মেয়ে এসে খেলাটা নষ্ট করে দিল!
-এটা সুন্দর সপ্ন হয় কিভাবে?
সিদ্দিক জানতে চাইলো। দুজন খেলছে, তৃতীয় কেউ এসে তা নষ্ট করে দিল, এমন সপ্ন সুন্দর হয় কিভাবে ও ভেবে পেলো না। তাছাড়া ও কিছুটা বিরক্ত, ওকে মাঝ রাতে ঘুম হতে ডেকে তোলায়। তবে তা প্রকাশ করলো না।
- সম্পূর্ণটা শোনো তো! তবু আমরা রাগলাম না। তুমি মেয়েটাকে কাছে টেনে কঁপালে চুমু দিলে, মেয়েটাও তোমার কঁপালে চুমু দিল। আমি তা দেখে হেসে উঠলাম, যদিও বিষয়টা কোন হাস্যকর নয় তবু হাসলাম। জানো তো মেয়েটি কে?
- তা কিভাবে জানবো? সপ্নটা তো আর আমি দেখি নি!
সিদ্দিক ভেবে পেলো না কোন মেয়ে হতে পারে! তবে মেয়েটা যে পিচ্চি, তা বুঝতে পারলো। পিচ্চি নয়, বড় কোন মেয়ের কপালে ও চুমু দিলে তা দেখে তমা কখনই হাঁসতো না, সে সপ্নই হোক আর কল্পনায় হোক। এই তো বিয়ের পর পরের ঘটনাটা । শালীর সাথে একটু ঠাট্টাতামাসা করতেই তমা রেগে গিয়ে লম্পট বলে গালি দিয়েছিল ওকে । তখন দুজনের মধ্যে সীমান্তের কাটাতার ছিল, তাতেই যে রিয়েক্ট দিয়েছিল সে ! অবশ্য সেটা অতীত। এর পর আর কখনো তমা ওকে লম্পট বলে নি।
- আমাদের মেয়ে সূচনা। তমা- সিদ্দিকের মেয়ে সূচনা ! কি সুন্দর নাম তাই না?
-সুন্দর তো! কিন্তু আমাদের মেয়ে মানে! আমি আবার বাবা হলাম কবে?
- আমি সপ্নের যা দেখেছি তাই বলছি। তুমি এখনো বাবা হও নি , হবে তো না কি? মেয়ের নাম রাখবো সূচনা। সে দেখতে ঠিক ঐ সপ্নের পরীর মতোই হবে।
- কিন্তু মেয়েটা যে আমাদের বুঝলে কি করে?
- শোনো তো, বলা শেষ করতে দাও। সেই সময় কেন জানি আমারো খুব ইচ্ছে হলো তোমার ঠোটে কিস করি, কিন্তু মেয়ের সামনে কিভাবে তা করি! সেই সময় আমাদের মেয়েটা তোমাকে কি বলেছে জানো?
- কি?
বেশ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলো সিদ্দিক । বিরক্তিবোধ টা এখন আর নেই। ভালোই লাগছে মধ্য রাতে জেগে তমার মুখে সপ্নের কাহিনী শুনতে। অবশ্য ওর কাছে মনে হচ্ছে তমা আসলে কোন সপ্নই দেখে নি, বানিয়ে বলছে! দুদিন হতে কোন কথা বলে নি ওর সাথে, কথা না বলে আর কতক্ষণ থাকা যায়? সেজন্য ওর সাথে কথা বলার জন্যই এ সপ্নের ঘটনা সাজিয়েছে। তার পর সেটা বিশ্বাসযোগ্য করতে মাঝ রাতে ওকে ঘুম হতে ডেকে তুলে তা বলতেছে এখন।
- আব্বু আমাকে পাপ্পি দিলে, আম্মুকেও দাওনা....
- আর আমি কি দিয়েছি?
- আরে না, তার আগেই তো ঘুম ভেঙ্গে গেল!
- এখন দেই...
বলেই সিদ্দিক তমাকে টেনে ওর সামনে নিয়ে এলো, তমার ঠোটের দিকে ওর ঠোট নিয়ে যেতেই তমা ওর কাছ হতে সরে গেল এক প্রকার জোর করেই।
- না! তুমি আমাকে ছুবে না বলে দিলাম। মাঝ রাতে ডেকে তুলে কথা বলেছি বলে ভেবো না আমি তোমাকে মাফ করে দিয়েছি। ঝগড়া করার সময় মনে থাকে না?বিয়ের আগে খুব কল্পনা করতাম আমার স্বামী আমাকে প্রায় রাতে গল্প শোনাবে, প্রেমের গল্প। কিন্তু তুমি! একটা রাতেও কোন গল্প শোনালে না আমায়। এখন আমাকে সুন্দর একটা গল্প শোনাও, তাহলে হয়তো মাফ করতে পারি!
একটা আসক্তি, আবেগ, ভালোবাসা, আকাঙ্খ্যা ছিল সিদ্দিকের ঠোটে..., সেটা তমা নষ্ট করে দিয়েছে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে। অন্য সময় হলে ও হয়তো রাগ করতো সে কারনে। কিন্তু তমা ওকে ঘুম হতে ডেকে তুলেছে গল্প শুনতে। আর ও গল্প বলতে পারে না। সেজন্য বললো।
-ঘুমাবো! মধ্য রাতে গল্প বলে কেউ!
- ঘুমাবে? পানি ঢেলে দিবো বিছানায়, তখন দেখবো কেমনে ঘুমাও।
সিদ্দিক বুঝলো তমাকে গল্প শোনাতেই হবে। শোনাতেই হবে, তো মিছে মিছি কেন?
- গল্প বলতেই হবে?
- হ্যা।
- তাহলে শর্ত আছে।
- কি শর্ত?
জানতে চাইলো তমা।
- গল্প বলা শেষ হলে তুমি আমাকে কিস করবা।
- না, তা হবে না। আমি পারবো না।
- না পারলে কি করার! আমার চোখে ঘুম, ঘুমাবো!
- আচ্ছা, বলো । তবে শুধু কিস। অন্য কিছু না।
সিদ্দিক বলতে শুরু করলো।
- একটা মেয়ে। অনেক সুন্দর। বলে বোঝাতে পারবো না কতটা। তোমার মতো নাক, তোমার মতোই কান, তোমার মতোই মুখ, সব তোমার মতো।
- সব আমার মতো! তুমি গল্প বলছো না আমাকে বর্ননা করছো! মন ভোলাচ্ছো?
- আরে না, সম্পূর্ন টা বলি শোনো আগে। মেয়েটাকে আমি খুব ভালোবাসি। খুব খুউব। মেয়েটাকে যখন প্রথম দেখি, প্রথম দেখাতেই মেয়েটাকে কিস করি। জানো মেয়েটা আমাকে হিল খুলে পিটিয়েছিল!
সিদ্দিক যে কোন গল্প বলছে তা বুঝতে কষ্ট হলো না তমার। ওর নিজের জীবনের গল্প ওটা। শুধু ওর নয়, সিদ্দিক আর ওর দুজনের জীবনের গল্প। ও চুপ করেই রইলো। ওর চোখে ভেসে উঠছে দৃশ্য গুলো। সিদ্দিক বলছে...
- তার পর কি হলো, মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে গিয়ে দেখি সেই মেয়েই কনে! ততক্ষণে কাবিননামায় সই দিয়ে দিয়েছি। জানো তো নিজের উপর রেগে গেসলাম খুব, কেন যে মেয়ে না দেখেই বিয়ে করতে গেছি! বাংলা গল্প বই
- এখনো কি সেই রাগ আছে নিজের উপর?
তমা জানতে চাইলো উঠলো।
- না, তা হবে কেন? এখন সেই মেয়েটাই আমার প্রান। ওকে অনেক অনেক ভালোবাসি।।
বলতে বলতে সে তমাকে কাছে টেনে নিল। তমা কোন বাধা দিল না।
- আমিও। প্রথমে খুব ঘৃনা করতাম তোমাকে! ওভাবে ট্রেনে কিস করার পর হতে । কিন্তু এখন, তোমাকে ছাড়া নিজেকে কল্পনাও করতে পরি না, তোমাকে....
তমা আরো কিছু বলতো, বলতে পারলো না। ততক্ষনে সিদ্দিকের দুই ঠোট ওর ঠোট জোড়ার দখল নিয়ে নিয়েছে।।তমা'র ঘুম ভেঙ্গেছে একটা সপ্ন দেখে। খুব রোমাঞ্চকর ছিল সপ্নটা, কিন্তু হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় সপ্নটা পুরোটা দেখতে পারে নি! ঈশ! ঘুম আর একটু দেরিতে ভাঙলে কি হতো! সপ্নের রোমান্টিক শিহরন এখনো ওর মধ্যে অনুভব করতেছে সে। পাশে ঘুমন্ত সিদ্দিকের দিকে তাকালো ও, ইচ্ছে করছে ওকে জরিয়ে ধরে....! উফ, কি সব ভাবছে সে? আজ চারদিন হতে সিদ্দিকের সাথে কোন কথা বলে নি ও। সিদ্দিক অনেক চেষ্টা করেছে ওর অভিমান ভাঙাতে, মাফ চেয়েছে, কান ধরেছে তবু কথা বলেনি ও। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে অভিমান করে থাকাটাই ভুল হয়েছে!
না সিদ্দিকের সাথে কথা না বললে আর ঘুমাতে পারবে না সে। সপ্নে যা দেখেছে তা ওকে বলতে হবে। তাছাড়া আজ আর ঘুমানোর ইচ্ছেটাও নেই ওর মাঝে। শেষ পর্যন্ত চারদিনের মৌনব্রত অভিমান ছেড়ে ও ঘুমন্ত সিদ্দিককে ঘুম হতে জাগালো।
-গল্প শুনবো ।
-গল্প!
সিদ্দিক চোখ বড় করে বিষ্ময় নিয়ে তাকালো তমার দিকে! তমার এ মাঝ রাতে গল্প শুনতে চাওয়াটা বোধগম্য হলো না ওর । তাছাড়া সেদিন সন্ধায় ও তমাকে থাপ্পরের পর হতে তমা ওর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে । আজ নিয়ে চার দিন হলো, বলা চলে মৌনব্রত নিয়েছে তমা । এখন সেই মৌনব্রত ছেড়ে হঠাৎ মাঝ রাতে ঘুম হতে ডেকে তুলে গল্প শুনতে চাওয়া বিষ্ময়কর তো বটেই, অতিমাত্রায় পাগলামি। তমা তো কোন ছোট বাচ্চা নয় যে তাকে গল্প শোনাতে হবে!
- হু, গল্প । সেজন্যই তো তোমাকে জাগালাম। তার আগে আমি বলি শোনো, সুন্দর একটা সপ্ন দেখলাম একটু আগে , তুমি আর আমি বসে লুডু খেলছি আর একটা পরীর মতো সুন্দর মেয়ে এসে খেলাটা নষ্ট করে দিল!
-এটা সুন্দর সপ্ন হয় কিভাবে?
সিদ্দিক জানতে চাইলো। দুজন খেলছে, তৃতীয় কেউ এসে তা নষ্ট করে দিল, এমন সপ্ন সুন্দর হয় কিভাবে ও ভেবে পেলো না। তাছাড়া ও কিছুটা বিরক্ত, ওকে মাঝ রাতে ঘুম হতে ডেকে তোলায়। তবে তা প্রকাশ করলো না।
- সম্পূর্ণটা শোনো তো! তবু আমরা রাগলাম না। তুমি মেয়েটাকে কাছে টেনে কঁপালে চুমু দিলে, মেয়েটাও তোমার কঁপালে চুমু দিল। আমি তা দেখে হেসে উঠলাম, যদিও বিষয়টা কোন হাস্যকর নয় তবু হাসলাম। জানো তো মেয়েটি কে?
- তা কিভাবে জানবো? সপ্নটা তো আর আমি দেখি নি!
সিদ্দিক ভেবে পেলো না কোন মেয়ে হতে পারে! তবে মেয়েটা যে পিচ্চি, তা বুঝতে পারলো। পিচ্চি নয়, বড় কোন মেয়ের কপালে ও চুমু দিলে তা দেখে তমা কখনই হাঁসতো না, সে সপ্নই হোক আর কল্পনায় হোক। এই তো বিয়ের পর পরের ঘটনাটা । শালীর সাথে একটু ঠাট্টাতামাসা করতেই তমা রেগে গিয়ে লম্পট বলে গালি দিয়েছিল ওকে । তখন দুজনের মধ্যে সীমান্তের কাটাতার ছিল, তাতেই যে রিয়েক্ট দিয়েছিল সে ! অবশ্য সেটা অতীত। এর পর আর কখনো তমা ওকে লম্পট বলে নি।
- আমাদের মেয়ে সূচনা। তমা- সিদ্দিকের মেয়ে সূচনা ! কি সুন্দর নাম তাই না?
-সুন্দর তো! কিন্তু আমাদের মেয়ে মানে! আমি আবার বাবা হলাম কবে?
- আমি সপ্নের যা দেখেছি তাই বলছি। তুমি এখনো বাবা হও নি , হবে তো না কি? মেয়ের নাম রাখবো সূচনা। সে দেখতে ঠিক ঐ সপ্নের পরীর মতোই হবে।
- কিন্তু মেয়েটা যে আমাদের বুঝলে কি করে?
- শোনো তো, বলা শেষ করতে দাও। সেই সময় কেন জানি আমারো খুব ইচ্ছে হলো তোমার ঠোটে কিস করি, কিন্তু মেয়ের সামনে কিভাবে তা করি! সেই সময় আমাদের মেয়েটা তোমাকে কি বলেছে জানো?
- কি?
বেশ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলো সিদ্দিক । বিরক্তিবোধ টা এখন আর নেই। ভালোই লাগছে মধ্য রাতে জেগে তমার মুখে সপ্নের কাহিনী শুনতে। অবশ্য ওর কাছে মনে হচ্ছে তমা আসলে কোন সপ্নই দেখে নি, বানিয়ে বলছে! দুদিন হতে কোন কথা বলে নি ওর সাথে, কথা না বলে আর কতক্ষণ থাকা যায়? সেজন্য ওর সাথে কথা বলার জন্যই এ সপ্নের ঘটনা সাজিয়েছে। তার পর সেটা বিশ্বাসযোগ্য করতে মাঝ রাতে ওকে ঘুম হতে ডেকে তুলে তা বলতেছে এখন।
- আব্বু আমাকে পাপ্পি দিলে, আম্মুকেও দাওনা....
- আর আমি কি দিয়েছি?
- আরে না, তার আগেই তো ঘুম ভেঙ্গে গেল!
- এখন দেই...
বলেই সিদ্দিক তমাকে টেনে ওর সামনে নিয়ে এলো, তমার ঠোটের দিকে ওর ঠোট নিয়ে যেতেই তমা ওর কাছ হতে সরে গেল এক প্রকার জোর করেই।
- না! তুমি আমাকে ছুবে না বলে দিলাম। মাঝ রাতে ডেকে তুলে কথা বলেছি বলে ভেবো না আমি তোমাকে মাফ করে দিয়েছি। ঝগড়া করার সময় মনে থাকে না?বিয়ের আগে খুব কল্পনা করতাম আমার স্বামী আমাকে প্রায় রাতে গল্প শোনাবে, প্রেমের গল্প। কিন্তু তুমি! একটা রাতেও কোন গল্প শোনালে না আমায়। এখন আমাকে সুন্দর একটা গল্প শোনাও, তাহলে হয়তো মাফ করতে পারি!
একটা আসক্তি, আবেগ, ভালোবাসা, আকাঙ্খ্যা ছিল সিদ্দিকের ঠোটে..., সেটা তমা নষ্ট করে দিয়েছে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে। অন্য সময় হলে ও হয়তো রাগ করতো সে কারনে। কিন্তু তমা ওকে ঘুম হতে ডেকে তুলেছে গল্প শুনতে। আর ও গল্প বলতে পারে না। সেজন্য বললো।
-ঘুমাবো! মধ্য রাতে গল্প বলে কেউ!
- ঘুমাবে? পানি ঢেলে দিবো বিছানায়, তখন দেখবো কেমনে ঘুমাও।
সিদ্দিক বুঝলো তমাকে গল্প শোনাতেই হবে। শোনাতেই হবে, তো মিছে মিছি কেন?
- গল্প বলতেই হবে?
- হ্যা।
- তাহলে শর্ত আছে।
- কি শর্ত?
জানতে চাইলো তমা।
- গল্প বলা শেষ হলে তুমি আমাকে কিস করবা।
- না, তা হবে না। আমি পারবো না।
- না পারলে কি করার! আমার চোখে ঘুম, ঘুমাবো!
- আচ্ছা, বলো । তবে শুধু কিস। অন্য কিছু না।
সিদ্দিক বলতে শুরু করলো।
- একটা মেয়ে। অনেক সুন্দর। বলে বোঝাতে পারবো না কতটা। তোমার মতো নাক, তোমার মতোই কান, তোমার মতোই মুখ, সব তোমার মতো।
- সব আমার মতো! তুমি গল্প বলছো না আমাকে বর্ননা করছো! মন ভোলাচ্ছো?
- আরে না, সম্পূর্ন টা বলি শোনো আগে। মেয়েটাকে আমি খুব ভালোবাসি। খুব খুউব। মেয়েটাকে যখন প্রথম দেখি, প্রথম দেখাতেই মেয়েটাকে কিস করি। জানো মেয়েটা আমাকে হিল খুলে পিটিয়েছিল!
সিদ্দিক যে কোন গল্প বলছে তা বুঝতে কষ্ট হলো না তমার। ওর নিজের জীবনের গল্প ওটা। শুধু ওর নয়, সিদ্দিক আর ওর দুজনের জীবনের গল্প। ও চুপ করেই রইলো। ওর চোখে ভেসে উঠছে দৃশ্য গুলো। সিদ্দিক বলছে...
- তার পর কি হলো, মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে গিয়ে দেখি সেই মেয়েই কনে! ততক্ষণে কাবিননামায় সই দিয়ে দিয়েছি। জানো তো নিজের উপর রেগে গেসলাম খুব, কেন যে মেয়ে না দেখেই বিয়ে করতে গেছি!
- এখনো কি সেই রাগ আছে নিজের উপর?
তমা জানতে চাইলো উঠলো।
- না, তা হবে কেন? এখন সেই মেয়েটাই আমার প্রান। ওকে অনেক অনেক ভালোবাসি।।
বলতে বলতে সে তমাকে কাছে টেনে নিল। তমা কোন বাধা দিল না।
- আমিও। প্রথমে খুব ঘৃনা করতাম তোমাকে! ওভাবে ট্রেনে কিস করার পর হতে । কিন্তু এখন, তোমাকে ছাড়া নিজেকে কল্পনাও করতে পরি না, তোমাকে....
তমা আরো কিছু বলতো, বলতে পারলো না। ততক্ষনে সিদ্দিকের দুই ঠোট ওর ঠোট জোড়ার দখল নিয়ে নিয়েছে।।তমা'র ঘুম ভেঙ্গেছে একটা সপ্ন দেখে। খুব রোমাঞ্চকর ছিল সপ্নটা, কিন্তু হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় সপ্নটা পুরোটা দেখতে পারে নি! ঈশ! ঘুম আর একটু দেরিতে ভাঙলে কি হতো! সপ্নের রোমান্টিক শিহরন এখনো ওর মধ্যে অনুভব করতেছে সে। পাশে ঘুমন্ত সিদ্দিকের দিকে তাকালো ও, ইচ্ছে করছে ওকে জরিয়ে ধরে....! উফ, কি সব ভাবছে সে? আজ চারদিন হতে সিদ্দিকের সাথে কোন কথা বলে নি ও। সিদ্দিক অনেক চেষ্টা করেছে ওর অভিমান ভাঙাতে, মাফ চেয়েছে, কান ধরেছে তবু কথা বলেনি ও। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে অভিমান করে থাকাটাই ভুল হয়েছে!
না সিদ্দিকের সাথে কথা না বললে আর ঘুমাতে পারবে না সে। সপ্নে যা দেখেছে তা ওকে বলতে হবে। তাছাড়া আজ আর ঘুমানোর ইচ্ছেটাও নেই ওর মাঝে। শেষ পর্যন্ত চারদিনের মৌনব্রত অভিমান ছেড়ে ও ঘুমন্ত সিদ্দিককে ঘুম হতে জাগালো।
-গল্প শুনবো ।
-গল্প!
সিদ্দিক চোখ বড় করে বিষ্ময় নিয়ে তাকালো তমার দিকে! তমার এ মাঝ রাতে গল্প শুনতে চাওয়াটা বোধগম্য হলো না ওর । তাছাড়া সেদিন সন্ধায় ও তমাকে থাপ্পরের পর হতে তমা ওর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে । আজ নিয়ে চার দিন হলো, বলা চলে মৌনব্রত নিয়েছে তমা । এখন সেই মৌনব্রত ছেড়ে হঠাৎ মাঝ রাতে ঘুম হতে ডেকে তুলে গল্প শুনতে চাওয়া বিষ্ময়কর তো বটেই, অতিমাত্রায় পাগলামি। তমা তো কোন ছোট বাচ্চা নয় যে তাকে গল্প শোনাতে হবে!
- হু, গল্প । সেজন্যই তো তোমাকে জাগালাম। তার আগে আমি বলি শোনো, সুন্দর একটা সপ্ন দেখলাম একটু আগে , তুমি আর আমি বসে লুডু খেলছি আর একটা পরীর মতো সুন্দর মেয়ে এসে খেলাটা নষ্ট করে দিল!
-এটা সুন্দর সপ্ন হয় কিভাবে?
সিদ্দিক জানতে চাইলো। দুজন খেলছে, তৃতীয় কেউ এসে তা নষ্ট করে দিল, এমন সপ্ন সুন্দর হয় কিভাবে ও ভেবে পেলো না। তাছাড়া ও কিছুটা বিরক্ত, ওকে মাঝ রাতে ঘুম হতে ডেকে তোলায়। তবে তা প্রকাশ করলো না।
- সম্পূর্ণটা শোনো তো! তবু আমরা রাগলাম না। তুমি মেয়েটাকে কাছে টেনে কঁপালে চুমু দিলে, মেয়েটাও তোমার কঁপালে চুমু দিল। আমি তা দেখে হেসে উঠলাম, যদিও বিষয়টা কোন হাস্যকর নয় তবু হাসলাম। জানো তো মেয়েটি কে?
- তা কিভাবে জানবো? সপ্নটা তো আর আমি দেখি নি!
সিদ্দিক ভেবে পেলো না কোন মেয়ে হতে পারে! তবে মেয়েটা যে পিচ্চি, তা বুঝতে পারলো। পিচ্চি নয়, বড় কোন মেয়ের কপালে ও চুমু দিলে তা দেখে তমা কখনই হাঁসতো না, সে সপ্নই হোক আর কল্পনায় হোক। এই তো বিয়ের পর পরের ঘটনাটা । শালীর সাথে একটু ঠাট্টাতামাসা করতেই তমা রেগে গিয়ে লম্পট বলে গালি দিয়েছিল ওকে । তখন দুজনের মধ্যে সীমান্তের কাটাতার ছিল, তাতেই যে রিয়েক্ট দিয়েছিল সে ! অবশ্য সেটা অতীত। এর পর আর কখনো তমা ওকে লম্পট বলে নি।
- আমাদের মেয়ে সূচনা। তমা- সিদ্দিকের মেয়ে সূচনা ! কি সুন্দর নাম তাই না?
-সুন্দর তো! কিন্তু আমাদের মেয়ে মানে! আমি আবার বাবা হলাম কবে?
- আমি সপ্নের যা দেখেছি তাই বলছি। তুমি এখনো বাবা হও নি , হবে তো না কি? মেয়ের নাম রাখবো সূচনা। সে দেখতে ঠিক ঐ সপ্নের পরীর মতোই হবে।
- কিন্তু মেয়েটা যে আমাদের বুঝলে কি করে?
- শোনো তো, বলা শেষ করতে দাও। সেই সময় কেন জানি আমারো খুব ইচ্ছে হলো তোমার ঠোটে কিস করি, কিন্তু মেয়ের সামনে কিভাবে তা করি! সেই সময় আমাদের মেয়েটা তোমাকে কি বলেছে জানো?
- কি?
বেশ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলো সিদ্দিক । বিরক্তিবোধ টা এখন আর নেই। ভালোই লাগছে মধ্য রাতে জেগে তমার মুখে সপ্নের কাহিনী শুনতে। অবশ্য ওর কাছে মনে হচ্ছে তমা আসলে কোন সপ্নই দেখে নি, বানিয়ে বলছে! দুদিন হতে কোন কথা বলে নি ওর সাথে, কথা না বলে আর কতক্ষণ থাকা যায়? সেজন্য ওর সাথে কথা বলার জন্যই এ সপ্নের ঘটনা সাজিয়েছে। তার পর সেটা বিশ্বাসযোগ্য করতে মাঝ রাতে ওকে ঘুম হতে ডেকে তুলে তা বলতেছে এখন।
- আব্বু আমাকে পাপ্পি দিলে, আম্মুকেও দাওনা....
- আর আমি কি দিয়েছি?
- আরে না, তার আগেই তো ঘুম ভেঙ্গে গেল!
- এখন দেই...
বলেই সিদ্দিক তমাকে টেনে ওর সামনে নিয়ে এলো, তমার ঠোটের দিকে ওর ঠোট নিয়ে যেতেই তমা ওর কাছ হতে সরে গেল এক প্রকার জোর করেই।
- না! তুমি আমাকে ছুবে না বলে দিলাম। মাঝ রাতে ডেকে তুলে কথা বলেছি বলে ভেবো না আমি তোমাকে মাফ করে দিয়েছি। ঝগড়া করার সময় মনে থাকে না?বিয়ের আগে খুব কল্পনা করতাম আমার স্বামী আমাকে প্রায় রাতে গল্প শোনাবে, প্রেমের গল্প। কিন্তু তুমি! একটা রাতেও কোন গল্প শোনালে না আমায়। এখন আমাকে সুন্দর একটা গল্প শোনাও, তাহলে হয়তো মাফ করতে পারি!
একটা আসক্তি, আবেগ, ভালোবাসা, আকাঙ্খ্যা ছিল সিদ্দিকের ঠোটে..., সেটা তমা নষ্ট করে দিয়েছে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে। অন্য সময় হলে ও হয়তো রাগ করতো সে কারনে। কিন্তু তমা ওকে ঘুম হতে ডেকে তুলেছে গল্প শুনতে। আর ও গল্প বলতে পারে না। সেজন্য বললো।
-ঘুমাবো! মধ্য রাতে গল্প বলে কেউ!
- ঘুমাবে? পানি ঢেলে দিবো বিছানায়, তখন দেখবো কেমনে ঘুমাও।
সিদ্দিক বুঝলো তমাকে গল্প শোনাতেই হবে। শোনাতেই হবে, তো মিছে মিছি কেন?
- গল্প বলতেই হবে?
- হ্যা।
- তাহলে শর্ত আছে।
- কি শর্ত?
জানতে চাইলো তমা।
- গল্প বলা শেষ হলে তুমি আমাকে কিস করবা।
- না, তা হবে না। আমি পারবো না।
- না পারলে কি করার! আমার চোখে ঘুম, ঘুমাবো!
- আচ্ছা, বলো । তবে শুধু কিস। অন্য কিছু না।
সিদ্দিক বলতে শুরু করলো।
- একটা মেয়ে। অনেক সুন্দর। বলে বোঝাতে পারবো না কতটা। তোমার মতো নাক, তোমার মতোই কান, তোমার মতোই মুখ, সব তোমার মতো।
- সব আমার মতো! তুমি গল্প বলছো না আমাকে বর্ননা করছো! মন ভোলাচ্ছো?
- আরে না, সম্পূর্ন টা বলি শোনো আগে। মেয়েটাকে আমি খুব ভালোবাসি। খুব খুউব। মেয়েটাকে যখন প্রথম দেখি, প্রথম দেখাতেই মেয়েটাকে কিস করি। জানো মেয়েটা আমাকে হিল খুলে পিটিয়েছিল!
সিদ্দিক যে কোন গল্প বলছে তা বুঝতে কষ্ট হলো না তমার। ওর নিজের জীবনের গল্প ওটা। শুধু ওর নয়, সিদ্দিক আর ওর দুজনের জীবনের গল্প। ও চুপ করেই রইলো। ওর চোখে ভেসে উঠছে দৃশ্য গুলো। সিদ্দিক বলছে...
- তার পর কি হলো, মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে গিয়ে দেখি সেই মেয়েই কনে! ততক্ষণে কাবিননামায় সই দিয়ে দিয়েছি। জানো তো নিজের উপর রেগে গেসলাম খুব, কেন যে মেয়ে না দেখেই বিয়ে করতে গেছি! বাংলা উপন্যাস
- এখনো কি সেই রাগ আছে নিজের উপর?
তমা জানতে চাইলো উঠলো।
- না, তা হবে কেন? এখন সেই মেয়েটাই আমার প্রান। ওকে অনেক অনেক ভালোবাসি।।
বলতে বলতে সে তমাকে কাছে টেনে নিল। তমা কোন বাধা দিল না।
- আমিও। প্রথমে খুব ঘৃনা করতাম তোমাকে! ওভাবে ট্রেনে কিস করার পর হতে । কিন্তু এখন, তোমাকে ছাড়া নিজেকে কল্পনাও করতে পরি না, তোমাকে....
তমা আরো কিছু বলতো, বলতে পারলো না। ততক্ষনে সিদ্দিকের দুই ঠোট ওর ঠোট জোড়ার দখল নিয়ে নিয়েছে।।তমা'র ঘুম ভেঙ্গেছে একটা সপ্ন দেখে। খুব রোমাঞ্চকর ছিল সপ্নটা, কিন্তু হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় সপ্নটা পুরোটা দেখতে পারে নি! ঈশ! ঘুম আর একটু দেরিতে ভাঙলে কি হতো! সপ্নের রোমান্টিক শিহরন এখনো ওর মধ্যে অনুভব করতেছে সে। পাশে ঘুমন্ত সিদ্দিকের দিকে তাকালো ও, ইচ্ছে করছে ওকে জরিয়ে ধরে....! উফ, কি সব ভাবছে সে? আজ চারদিন হতে সিদ্দিকের সাথে কোন কথা বলে নি ও। সিদ্দিক অনেক চেষ্টা করেছে ওর অভিমান ভাঙাতে, মাফ চেয়েছে, কান ধরেছে তবু কথা বলেনি ও। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে অভিমান করে থাকাটাই ভুল হয়েছে!
না সিদ্দিকের সাথে কথা না বললে আর ঘুমাতে পারবে না সে। সপ্নে যা দেখেছে তা ওকে বলতে হবে। তাছাড়া আজ আর ঘুমানোর ইচ্ছেটাও নেই ওর মাঝে। শেষ পর্যন্ত চারদিনের মৌনব্রত অভিমান ছেড়ে ও ঘুমন্ত সিদ্দিককে ঘুম হতে জাগালো।
-গল্প শুনবো ।
-গল্প!
সিদ্দিক চোখ বড় করে বিষ্ময় নিয়ে তাকালো তমার দিকে! তমার এ মাঝ রাতে গল্প শুনতে চাওয়াটা বোধগম্য হলো না ওর । তাছাড়া সেদিন সন্ধায় ও তমাকে থাপ্পরের পর হতে তমা ওর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে । আজ নিয়ে চার দিন হলো, বলা চলে মৌনব্রত নিয়েছে তমা । এখন সেই মৌনব্রত ছেড়ে হঠাৎ মাঝ রাতে ঘুম হতে ডেকে তুলে গল্প শুনতে চাওয়া বিষ্ময়কর তো বটেই, অতিমাত্রায় পাগলামি। তমা তো কোন ছোট বাচ্চা নয় যে তাকে গল্প শোনাতে হবে!
- হু, গল্প । সেজন্যই তো তোমাকে জাগালাম। তার আগে আমি বলি শোনো, সুন্দর একটা সপ্ন দেখলাম একটু আগে , তুমি আর আমি বসে লুডু খেলছি আর একটা পরীর মতো সুন্দর মেয়ে এসে খেলাটা নষ্ট করে দিল!
-এটা সুন্দর সপ্ন হয় কিভাবে?
সিদ্দিক জানতে চাইলো। দুজন খেলছে, তৃতীয় কেউ এসে তা নষ্ট করে দিল, এমন সপ্ন সুন্দর হয় কিভাবে ও ভেবে পেলো না। তাছাড়া ও কিছুটা বিরক্ত, ওকে মাঝ রাতে ঘুম হতে ডেকে তোলায়। তবে তা প্রকাশ করলো না।
- সম্পূর্ণটা শোনো তো! তবু আমরা রাগলাম না। তুমি মেয়েটাকে কাছে টেনে কঁপালে চুমু দিলে, মেয়েটাও তোমার কঁপালে চুমু দিল। আমি তা দেখে হেসে উঠলাম, যদিও বিষয়টা কোন হাস্যকর নয় তবু হাসলাম। জানো তো মেয়েটি কে?
- তা কিভাবে জানবো? সপ্নটা তো আর আমি দেখি নি!
সিদ্দিক ভেবে পেলো না কোন মেয়ে হতে পারে! তবে মেয়েটা যে পিচ্চি, তা বুঝতে পারলো। পিচ্চি নয়, বড় কোন মেয়ের কপালে ও চুমু দিলে তা দেখে তমা কখনই হাঁসতো না, সে সপ্নই হোক আর কল্পনায় হোক। এই তো বিয়ের পর পরের ঘটনাটা । শালীর সাথে একটু ঠাট্টাতামাসা করতেই তমা রেগে গিয়ে লম্পট বলে গালি দিয়েছিল ওকে । তখন দুজনের মধ্যে সীমান্তের কাটাতার ছিল, তাতেই যে রিয়েক্ট দিয়েছিল সে ! অবশ্য সেটা অতীত। এর পর আর কখনো তমা ওকে লম্পট বলে নি।
- আমাদের মেয়ে সূচনা। তমা- সিদ্দিকের মেয়ে সূচনা ! কি সুন্দর নাম তাই না?
-সুন্দর তো! কিন্তু আমাদের মেয়ে মানে! আমি আবার বাবা হলাম কবে?
- আমি সপ্নের যা দেখেছি তাই বলছি। তুমি এখনো বাবা হও নি , হবে তো না কি? মেয়ের নাম রাখবো সূচনা। সে দেখতে ঠিক ঐ সপ্নের পরীর মতোই হবে।
- কিন্তু মেয়েটা যে আমাদের বুঝলে কি করে?
- শোনো তো, বলা শেষ করতে দাও। সেই সময় কেন জানি আমারো খুব ইচ্ছে হলো তোমার ঠোটে কিস করি, কিন্তু মেয়ের সামনে কিভাবে তা করি! সেই সময় আমাদের মেয়েটা তোমাকে কি বলেছে জানো?
- কি?
বেশ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলো সিদ্দিক । বিরক্তিবোধ টা এখন আর নেই। ভালোই লাগছে মধ্য রাতে জেগে তমার মুখে সপ্নের কাহিনী শুনতে। অবশ্য ওর কাছে মনে হচ্ছে তমা আসলে কোন সপ্নই দেখে নি, বানিয়ে বলছে! দুদিন হতে কোন কথা বলে নি ওর সাথে, কথা না বলে আর কতক্ষণ থাকা যায়? সেজন্য ওর সাথে কথা বলার জন্যই এ সপ্নের ঘটনা সাজিয়েছে। তার পর সেটা বিশ্বাসযোগ্য করতে মাঝ রাতে ওকে ঘুম হতে ডেকে তুলে তা বলতেছে এখন।
- আব্বু আমাকে পাপ্পি দিলে, আম্মুকেও দাওনা....
- আর আমি কি দিয়েছি?
- আরে না, তার আগেই তো ঘুম ভেঙ্গে গেল!
- এখন দেই...
বলেই সিদ্দিক তমাকে টেনে ওর সামনে নিয়ে এলো, তমার ঠোটের দিকে ওর ঠোট নিয়ে যেতেই তমা ওর কাছ হতে সরে গেল এক প্রকার জোর করেই।
- না! তুমি আমাকে ছুবে না বলে দিলাম। মাঝ রাতে ডেকে তুলে কথা বলেছি বলে ভেবো না আমি তোমাকে মাফ করে দিয়েছি। ঝগড়া করার সময় মনে থাকে না?বিয়ের আগে খুব কল্পনা করতাম আমার স্বামী আমাকে প্রায় রাতে গল্প শোনাবে, প্রেমের গল্প। কিন্তু তুমি! একটা রাতেও কোন গল্প শোনালে না আমায়। এখন আমাকে সুন্দর একটা গল্প শোনাও, তাহলে হয়তো মাফ করতে পারি!
একটা আসক্তি, আবেগ, ভালোবাসা, আকাঙ্খ্যা ছিল সিদ্দিকের ঠোটে..., সেটা তমা নষ্ট করে দিয়েছে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে। অন্য সময় হলে ও হয়তো রাগ করতো সে কারনে। কিন্তু তমা ওকে ঘুম হতে ডেকে তুলেছে গল্প শুনতে। আর ও গল্প বলতে পারে না। সেজন্য বললো।
-ঘুমাবো! মধ্য রাতে গল্প বলে কেউ!
- ঘুমাবে? পানি ঢেলে দিবো বিছানায়, তখন দেখবো কেমনে ঘুমাও।
সিদ্দিক বুঝলো তমাকে গল্প শোনাতেই হবে। শোনাতেই হবে, তো মিছে মিছি কেন?
- গল্প বলতেই হবে?
- হ্যা।
- তাহলে শর্ত আছে।
- কি শর্ত?
জানতে চাইলো তমা।
- গল্প বলা শেষ হলে তুমি আমাকে কিস করবা।
- না, তা হবে না। আমি পারবো না।
- না পারলে কি করার! আমার চোখে ঘুম, ঘুমাবো!
- আচ্ছা, বলো । তবে শুধু কিস। অন্য কিছু না।
সিদ্দিক বলতে শুরু করলো।
- একটা মেয়ে। অনেক সুন্দর। বলে বোঝাতে পারবো না কতটা। তোমার মতো নাক, তোমার মতোই কান, তোমার মতোই মুখ, সব তোমার মতো।
- সব আমার মতো! তুমি গল্প বলছো না আমাকে বর্ননা করছো! মন ভোলাচ্ছো?
- আরে না, সম্পূর্ন টা বলি শোনো আগে। মেয়েটাকে আমি খুব ভালোবাসি। খুব খুউব। মেয়েটাকে যখন প্রথম দেখি, প্রথম দেখাতেই মেয়েটাকে কিস করি। জানো মেয়েটা আমাকে হিল খুলে পিটিয়েছিল!
সিদ্দিক যে কোন গল্প বলছে তা বুঝতে কষ্ট হলো না তমার। ওর নিজের জীবনের গল্প ওটা। শুধু ওর নয়, সিদ্দিক আর ওর দুজনের জীবনের গল্প। ও চুপ করেই রইলো। ওর চোখে ভেসে উঠছে দৃশ্য গুলো। সিদ্দিক বলছে...
- তার পর কি হলো, মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে গিয়ে দেখি সেই মেয়েই কনে! ততক্ষণে কাবিননামায় সই দিয়ে দিয়েছি। জানো তো নিজের উপর রেগে গেসলাম খুব, কেন যে মেয়ে না দেখেই বিয়ে করতে গেছি!
- এখনো কি সেই রাগ আছে নিজের উপর?
তমা জানতে চাইলো উঠলো।
- না, তা হবে কেন? এখন সেই মেয়েটাই আমার প্রান। ওকে অনেক অনেক ভালোবাসি।।
বলতে বলতে সে তমাকে কাছে টেনে নিল। তমা কোন বাধা দিল না।
- আমিও। প্রথমে খুব ঘৃনা করতাম তোমাকে! ওভাবে ট্রেনে কিস করার পর হতে । কিন্তু এখন, তোমাকে ছাড়া নিজেকে কল্পনাও করতে পরি না, তোমাকে....
তমা আরো কিছু বলতো, বলতে পারলো না। ততক্ষনে সিদ্দিকের দুই ঠোট ওর ঠোট জোড়ার দখল নিয়ে নিয়েছে।।

--

                                   "এক নারীর বিশ্বাস ভঙ্গের গল্প"


-তুমি সবকিছু ভিডিও করতেছো তাই না?
ছেলেটার শরীরের নিচে শুয়ে থাকা মেয়েটা প্রশ্ন করে ছেলেটাকে।
- আরে নাহ্
- এসব যেন কেউ না দেখে, তাহলে কিন্তু আমার মরে যাওয়া ছাড়া পথ থাকবে না।
- কি যে বলো! আমি এখনই ডিলেট করে দিবো।
- তুমি খুব ভাগ্যবান
- কেন?
- বিয়ের আগেই সব পাচ্ছো, শোনো তুমি আমাকে ঠকাবে না ত! তাহলে কিন্তু আমি আত্মহত্যা করবো! তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবো না কখনো।
ছেলেটা মেয়েটার কথার জবাব দেয় না, তার শ্বাস প্রঃশ্বাস এর গতি বেড়েই চলে, দুরে কোথাও দুটো কুকুর ঘেউ ঘেউ করে ওঠে এবং সেই বিরক্তিকর স্বরে ঘেউ ঘেউ করতেই থাকে। বোঝা যায় কোন কারনে তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেছে! এদিকে মেয়েটা, ছেলেটা, মেহগনি কাঠের বিছানা তালে বেতালে দুলছে......
এরপর দিন যায়, আসে নিত্য নতুন দিন। প্রায়ই ছেলেটার শয্যাসঙ্গিনী হয় মেয়েটি। কখনো স্বেচ্ছায়, কখনো অনিচ্ছাসত্ত্বেও সে বাধ্য হয়। তার পর হঠাৎ একদিন আরো একটা ভুল করে। যার ফলে মেয়েটা প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়।
এর পর সে ছেলেটাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। ছেলেটা তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে বিয়ের চাপ দেয়ার পর হতে। পেটের বাচ্চাটাকে নষ্ট করতে বলে ছেলেটা।
এর মধ্যে হঠাৎ করেই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে সেই ভিডিওটা! সেই সাথে সবার মোবাইলে মোবাইলে, ছেলেরা দৃশ্যটা দেখে আর হস্তমৈথুন করে! বেশ তৃপ্তিকর ও যৌনাবেদন ময় একটি ভিডিও!
মেয়েটার তখন বেঁচে থাকার জন্য কিছুই থাকে না! সে তো কোন পর্ন স্টার নয় ! তার লজ্জাবোধ আছে, যদিও ছেলেটার কাছে সে তার লজ্জাবোধ, সতিত্ব, বিশ্বাসের অমূল্য সম্পদ তুলে দিতে দ্বীধা করে নি! তার কারনে তার পরিবার সমাজে আর মাথা উচু করে চলতে পারে না, পাড়া পড়শি সকলের হতে মুখ লুকিয়ে থাকে।
মেয়েটা নষ্ট বলে পরিচিতি পায়। এর পর মেয়রটা আত্মহত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে কিংবা বিষ খেয়ে। বাংলা গল্প
এরপর একদল দোষ দেয় মেয়েটাকে! সে নষ্টা কিংবা বেষ্যা! অপর দল দোষ দেয় ছেলেটাকে, তবে এ দলের সদস্য খুব নগন্য ! এই যে দুই দল, কেউ মেয়েটাকে দোষারোপ করে, কেউ ছেলেটাকে এরা সবাই এক গোয়ালের গরু। দোষ দুজনেরই আছে, ছেলে মেয়ে উভয়ের, তা কম কিংবা বেশি।
এরকম ঘটনা এখন প্রায়ই ঘটছে। প্রায় ক্ষেত্রেই মেয়েরা আত্মহত্যা করছে, কেউবা বাচ্চা নষ্ট করছে, এসব ঘটনা অন্যরা শুনছে। তবু প্রেমিকের টানে নিজের দেহকে বিলিয়ে দিচ্ছে আবারো। জানা কিংবা অজান্তে আবার মোবাইলে ক্যামেরা বন্দি হচ্ছে সে দৃশ্য! এর পর আবার....তবু সচেতন হয় না কেউ!
ঠিক আছে, ছেলেটাকে ভালোবাসো। ছেলেটাও ভালোবাসে তোমাকে। এখন ছেলেটা চাচ্ছে তোমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে। তুমি রাজি হচ্ছ না, তখন সে তোমাকে বিভিন্ন কথাই বলতেই পারে।
বলতে পারে তুমি তাকে ভালোবাসো না! বিশ্বাস করো না! এখন তুমি যে তাকে ভালোবাসো তার প্রমান দিতে তার সাথে তোমাকে শুতে হবে! তার কাছে দেহ বিলিয়ে দিতে হবে!
এখন কি করবে? কি করা উচিৎ? সেই ভুল করতে চাও? ক্যামেরা বন্দি হোক সে দৃশ্য তা চাও? না! তাহলে ভুল করবে। ছেলেটাকে ভুলে যেতে হবে তোমার। কারন সে তোমাকে নয় তোমার দেহ চাচ্ছে শুধু ভোগের জন্য।
দ্বীতিয়ত ছেলেটা তোমাকে ভালোবাসার পরীক্ষা দিতে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে বলতেছে! ওয়েল, তুমিও ছেলেটার পরীক্ষা নাও! কতটা সে ভালোবাসে তোমাকে?
বলো, সে তোমাকে বিয়ে করুক। অবশ্যই তা হতে হবে ছেলের পরিবারের লোকদের জানিয়ে। বিয়ের পর তার সাথে কাটাতে পারো, তখন আর ক্যামেরা বন্দি হবে না তোমার নগ্ন শরীর। কোন পুরুষই চাবে না তার স্ত্রীর শরীর অন্য কেউ দেখুক। তবে প্রেমিক তা চাইতেই পারে, তা স্বাভাবিক।।
আপুদের বলছি সতর্ক হন, আমরা পুরুষেরা একটু সুযোগসন্ধানী, সুযোগ নিতে ভুল করি না। আপনারা সুযোগ সৃষ্টি করবেন না। তবে সব পুরুষ সমান নয়।
সর্বশেষে বলবো, পবিত্র ভালোবাসাকে আসুন অপবিত্র করা হতে বিরত থাকি। একে অন্যের বিশ্বাসের মূল্যয়ন করি। কারন বিশ্বাসই আমাদের বাঁচার প্রেরনা।
লেখা: নুর আলম সিদ্দিক
( পূর্ব কথা : এক বন্ধু একটা লিংক পাঠিয়ে বললো, বন্ধু দেখ ভিডিওটা, ভালোবাসা আর বিশ্বাসের মূল্যয়ন কিভাবে হচ্ছে আজকাল আমাদের মাঝে ! ভালো মনে ক্লিক করলাম লিংকে, একটা ভিডিও এলো। ভিডিওটা দুটো যুবক যুবতীর........। দেখলাম- স্পষ্ট কথোপকথন ভিডিওতে শুনতে পেলাম। তা হতে বুঝলাম ওনারা প্রেমিক প্রেমিকা। ওই ভিডিওর কথোপকথনই উপরের প্রথমাংশে তুলে দিয়েছি আমি। মেয়েটা বিশ্বাস করেছিল ছেলেটিকে, আর সেই বিশ্বাস ছেলেটি অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়েছে !)
SHARE

Author: verified_user