Saturday

Bangla Books 3rd Person Singuler Number

SHARE

Bangla Books 3rd Person Singuler  Number


থার্ড পার্সন সিংগুলার নাম্বার লিখা: Sakib Zamil Dipu




রাজশাহী থেকে খুলনা যাব।
প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি। ট্রেনের নাম সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস। ট্রেন আসতে এখনও ঘন্টাখানেক বাকি।
এত আগে স্টেশনে আসা বোধহয় উচিত হয় নি। পুরো প্লাটফর্ম জনমানবশূন্য!
আমার হাতে একটা ইগলু কোন আইসক্রিম।
আইসক্রিমের প্যাকেট টা খুলে প্রথম কামড় বসাতে যাব, এমন সময় নারীকন্ঠের আওয়াজে চমকে উঠলাম।
পেছন ফিরে দেখি একজন তরুনী আমাকে ডাকছে,
.
-"ভাই,আপনার কাছে পানির বোতল হবে?"
.
আমি খেয়াল করে দেখলাম মেয়েটা কাশছে। কাশির দমকে চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
আমি কি করব বুঝতে না পেরে বললাম,
.
-"আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমার কাছে কোন পানির বোতল নেই। তবে একটা ইগলু কোন আইসক্রিম আছে। আপনি চাইলে খেতে পারেন। আমি এখনও মুখ দেইনি।"
.
-"কি আশ্চর্য! আপনি কি মশকরা করছেন আমার সাথে?"
.
-"মশকরা করব কেন? আমার কাছে এছাড়া অন্য কিছু নেই দেয়ার মত"
.
আমার কথায় মেয়েটা রেগে গেছে। কাশির দমক বেড়ে গেছে তার। কাশতে কাশতে বসে পড়েছে। আমি অবস্থা বেগতিক দেখে দৌড় লাগালাম। একটা মাম ৫০০ মিলির বোতল কিনে নিয়ে মেয়েটাকে দিলাম। সে এক ঢোক পানি খেয়েই বমি করে দিলেন। আমি পড়লাম বিপদে। আশেপাশে কেউ নেই যে ডাকব। এ মুহূর্তে কি করা উচিত সেটাও বুঝছি না। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকলাম। মেয়েটা একসময় নিজেই স্বাভাবিক হয়ে উঠলো।
আমাকে পানির বোতলটা ফিরিয়ে দিয়ে 'থ্যাংকস' বলল।
আমি এবার মেয়েটার দিকে একটু ভালো করে লক্ষ করলাম। মেয়েটার পরনে খুবই সাদামাটা সালোয়ার কামিজ। মাথায় হিজাব। বাচ্চা বাচ্চা চেহারা। দেখে বয়স অনুমান করা মুশকিল।
নীরবতা ভঙ্গ করে বললাম,


Bangla Book Free Download | Aj Chitrar Biye By Humayun Ahmed



.
-"খুলনা যাবেন?"
.
-"জ্বী। আপনি?"
.
-"হুম,আমিও। কোন কাজে যাচ্ছেন নাকি বেড়াতে?"
.
-"বলতে পারেন বেড়াতেই। দেখা করতে যাচ্ছি একজনের সাথে!"
.
-"বয়ফ্রেন্ড জাতীয় কারো সাথে? ক্ষমা করবেন। আমি শুধু অনুমান করলাম। "
.
-"আপনার অনুমানশক্তি ভালো। আপনি ঠিক বলেছেন। "
.
-"অনুমতি দিলে আরো কিছু অনুমান করার চেষ্টা করতে পারি!"
.
-"হা হা হা। অনুমতি দিলাম। চেষ্টা করুন। "
.
-"আপনার চেহারায় বাচ্চা ভাব থাকলেও আমার ধারনা আপনার বয়স তেইশের কম না। বয়ফ্রেন্ডের সাথে রিলেশন আছে কমপক্ষে চার-পাঁচ বছর। তবে এত দীর্ঘ সময়ের রিলেশনেও আপনাদের দেখা হয় খুবই কম!"
.
-"আপনার অনুমানশক্তির প্রশংসা না করে পারছি না। তবে প্রথম দুটো ঠিক হলেও শেষেরটা ভুল!"
.
-"ওহ আচ্ছা। যাহোক, আমি ইমন। কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ছি। থার্ড ইয়ার।"
.
আমি হ্যান্ডশেকের জন্য হাত বাড়িয়ে দিই। উনি খানিকটা ইত:স্তত করে হাত ধরতে যাবেন এসময় ট্রেনের ইঞ্জিন স্টার্ট নেয়ার শব্দ পেলাম। উনি একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললেন, "আমি ইরা। নাইস টু মিট ইউ। আবার দেখা হবে"
.
বলেই ঝটপট ট্রেনে উঠে পড়লেন।
আমিও দেরী না করে নিজের বগিতে উঠে পড়লাম। ভিড় ঠেলে নিজের সিট পেলাম এবং একই সাথে চমকে উঠলাম।
আমার পাশের সিটে ইরা বসে আছে। আমাকে দেখে সে বিলিয়ন ভোল্টের শক খেয়েছে এমন একটা এক্সপ্রেশন দিল!
.
-"হোয়াট এ কো-ইনসিডেন্স। এটা কি সত্যিই আপনার সিট?"
.
আমি টিকিটের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললাম,
-"টিকিটে তো তাই লেখা আছে!"
.
-"যাক ভালো হলো। একা একা বোর হয়ে যেতাম। গল্প করতে করতে যাওয়া যাবে!"
.
-"আমি কিন্তু গল্প জমাতে পারি না"
.
-"ভাব নিচ্ছেন?"
.
-"ভাব নেয়ার কিছু নেই। খুবই রুঢ় বাস্তবতা! "
.
-"সেটা দেখা যাবে। বসুন তো আগে!"
.
আমি সিটে একটু দুরত্ত বজায় রেখে বসলাম। ট্রেনে গতি বাড়ার সাথে সাথে আমাদের গল্প জমে উঠছিল। আমি এমনিতে আড্ডা কিংবা গল্প জমানোর ক্ষেত্রে প্রচন্ড দুর্বল অথচ তার সাথে কিভাবে কিভাবে জানি হয়ে যাচ্ছিল!
খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আমরা 'আপনি' থেকে 'তুমি' তে নেমে আসলাম।
আমরা নিজেদের শখের বিষয় থেকে শুরু করে ক্যারিয়ার,রিলেশনশিপ, ফ্যামিলি এমনকি ধর্ম, রাজনীতি এসব নিয়েও আলাপ করছিলাম। মনে হচ্ছিল আমি যেন হারিয়ে গেছি। অন্য এক জগতে হারিয়ে গেছি। এ জগত অদ্ভুত এক ঘোরের জগত!
.......
রাত আটটা। আমার পাশের সিটে ইরা ঘুমিয়ে পড়েছে। ট্রেনের জানালা খোলা। খোলা জানালা দিয়ে বাতাস এসে তার চুল এলোমেলো করে দিয়েছে। আমি আড়চোখে তাকালাম। ঘুমন্ত অবস্থায় মেয়েদের সৌন্দর্য বোধহয় হাজারগুন বেড়ে যায়! তার উপর যদি চুল এলোমেলো থাকে তাহলে আপনি বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকতে পারবেন না!
বুকের ঠিক মাঝখানটায় অদ্ভুত শূন্যতা অনুভব করবেন। এ অনুভূতির উৎস আমার জানা নেই!
......
ম্যাসেঞ্জারের টুং টাং শব্দে ইরার ঘুম ভাঙল।
ব্যাগ থেকে ফোন বের করে ম্যাসেঞ্জার অন করে সে খুশি হয়ে গেল।
.
-"জানো! রিফাত মেসেজ দিয়েছে। আমার জন্য একগাদা ফুল আর চকলেট নিয়ে ওয়েট করছে স্টেশনে। পুরাই গাধা একটা!"
.
-"ওহ! হাউ সুইট। অনেক কেয়ারিং বুঝি?"
.
-"অন্নেক! আমাকে ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না। আমার জন্য কত পাগলামো করেছে ও জানো? যেদিন প্রথম প্রপোজ করে সেদিন তো কেঁদে ফেলেছিল গাধাটা.............
......
ইরা বলেই চলেছে। আমি চুপচাপ শুনে যাচ্ছি শুধু। কিছুক্ষন আগেই ইরাকে নিয়ে অদ্ভুত একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। সেটাকে তাড়ানোর চেষ্টা করছি। বুঝাতে চেষ্টা করছি, আমি যেটা ভাবছি সেটা শুধুই একটা সাময়িক অনুভূতি মাত্র।
কিছুই অনুভূতি প্রকাশ করতে নেই। মনের অগোচরে লুকিয়ে রাখতে হয়। সেটাই বোধহয় সবার জন্য ভালো!
....
ট্রেনের জানালা দিয়ে হু হু শব্দে বাতাস ঢুকছে। আমি আড়চোখে একবার ইরার দিকে তাকালাম। মোবাইলের স্ক্রিনে নিবদ্ধ তার চোখ ছলছল করছে।
ম্যাসেঞ্জারের টুংটাং শব্দে চলছে দুজন মানুষের আবেগ বিনিময়।
ভালোবাসা দীর্ঘজীবী হোক। বেঁচে থাকুক ভালোবাসা। তৃতীয় পক্ষের অনুপ্রবেশ সেখানে বড্ড বেমানান!
.
লিখা: Sakib Zamil Dipu
SHARE

Author: verified_user