Tuesday

বিবেকহীনদের দিকে তাকাতেই ইচ্ছে করে নাহহ..

SHARE
২০১৩ সাল। সবে অনার্স ১ম বর্ষ চলছে।
বুঝলাম ঢাকার মতো জায়গায় চলতে
গেলে টিউশন অপরিহার্য। তাই অামার
এক ফুপিকে ধর্না দিতে থাকলাম একটা
টিউশন খুজে দেওয়ার জন্য। উনিও
রীতিমত যথেষ্ট চেষ্টা করে
যাচ্ছিলেন কিন্তু কিছুতেই টিউশন
মিলছিল না । অবশেষে ফুপির একটা
পরিচিত মহিলা একটা টিউশনের
সুসংবাদ নিয়ে অাসলেন। দু বোনকে
পড়াতে হবে। বড়টা ইন্টারমিডিয়েট।
ওকে ইংলিশ দেখাতে হবে। অার
ছোটটা ৫ম শ্রেণী। ওকে ইংরেজী
অংক অার বিজ্ঞান পড়াতে হবে।
পেমেন্ট ১৫০০/- টাকা। ফুপি জিজ্ঞেস
করলেন পড়াবি কিনা?? অামিতো এক
বাক্যে বলে দিলাম পড়াব। মনে মনে
ভাবতে থাকলাম অামি তখন পর্যন্ত
স্যারদের টিউশন ফি ৮০০/- টাকা পর্যন্ত
দিয়েছি। এর উপরে যায়নি । তখন মনে
মনে লাড্ডুই ফুটতেছিল। পরদিন স্টুডেন্ট
এর বাসায় ঐ মহিলা নিয়ে গেলেন
পরিচয় করিয়ে দিতে। সাথে ফুপিও
গেলেন।
কিন্তু যাওয়ার পর ফুপি এবং অামি একটু
থমকেই গেলাম। একেবারে বস্তিতে
ছোট একটা ঘর। ঘরে একটা নয় তিনটে
মেয়ে। বড়টা প্রতিবন্ধী। অার বাকি
দুটো অামার কাছে পড়বে। বাসায় ওরা
ছারা কেউ থাকেনা। বাবা মা রাত
নয়টার পর বাসায় অাসে। ফুপি
অামাকে ইঙ্গিতে না বললেন।
টিউশনটা নিস না । অামি তবুও নিলাম।
ফুপিকে বললাম থাক না। নতুন টিউশন
নেওয়ার অাগে পর্যন্ত। যাহোক ১ মাস
যাওয়ার পর ওরা অামাকে ১হাজার
টাকা দিলো। অার বললো এর বেশি
দিতে পারবেনা । ফুপি তখন এই
অজুহাতে অামার ঐ টিউশন বন্ধ করে
দিলেন। অার ক্লাস 3 এর দুইটা কিউট
বাচ্চার পড়ানোর একটা টিউশন এনে
দিলেন। দেখি বাচ্চা দুটো অামাকে
পেয়ে খুবই খুশি । ফিসফিস করে ওদের
মাকে বলছে এতো ছোটো স্যার হয়!!!!
অাল্লাহ কি চিকনা!!! অার মিটমিট
করে হাসছিল। ওদের অাম্মুরা চোখ
ইশারা দিয়ে না হাসার জন্য বলছিল
কিন্তু ওরা হেসেই যাচ্ছিল। অার
অামার পেমেন্ট দিবে ১৫০০/-
টিউশনটা করাতে গিয়ে বুঝলাম
টিউশনে অাবার নাস্তাও দেয়। তাও
অাবার হেব্বি... যাহোক ভালোই
চলছিলো। তার কিছুদিন পরে ফুপি
একটা কোচিং এর খোজ দিলেন। ওরা
ডাকলো। অামাকে বলল প্রতিদিন ২
ঘন্টা দিতে হবে। সিডিওলে যে
ক্লাস থাকবে ওটার প্রিপারেশন
নিয়ে অাসবে হবে। অামি বললাম ঠিক
অাছে। কিন্তু পেমেন্ট কতো দিবেন?
বললো ২০০০/- এর বেশি দিতে
পারবোনা। মনে মনে চিন্তা করলাম
২০০০/- কিন্তু মন্দ নয়। নাই মামার চেয়ে
কানা মামাই ভালো। পরে বুঝছিলাম
সবগুলি অামাকে নতুন বুঝতে পেরে
এতো ঠকিয়েছে....
অার এখন শিখে গেছি টিউশনের
টাকা কিভাবে চাইতে হয়। অার কোন
টিউশনের কতো টাকা??? অাপনাদের
১ম টিউশনের অভিজ্ঞতা শুনতে চাই....


--

আমার লাইফে এই ক্ষুদ্র বয়সে অসংখ্য
টিউশন ধরা দিয়েছে।
আমাকে বেশীর ভাগ সময় নিয়োগ
দেওয়া হয়েছে এক্সামের তিন মাস
আগে..কিংবা ৫ মাস আগে। তখন উঠে
পড়ে-দৌড়ায়ে..স্টুডেন্ট কে লাথি
উষ্ঠায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়াতে
হয়!
আর,এরকম প্রত্যেকটা টিউশন হয়েছে
মধ্যবিত্তদের ঘরে। টাকা অল্প,তার উপর
প্রত্যেকটা দিন অভিভাবক এসে তার
ফেমিলীর স্ট্রাকচার শুরু করে..শেষে
স্টুডেন্ট কে ভালো করে পড়ানোর
লেকচারটা শুনাবেই।
মাস তো ৪১/৪২ দিনে শেষ হতো।
৬৪ দিনে একবার একমাসের টাকা
পেয়েছিলাম।
.
ভাগ্যের নির্মম পরিহাষ, মাস শেষে
অভাক লাগতো পৃথিবীটাকে।
এত পরিশ্রমের পরেও গুটি কয়েক টাকা
পেতাম।
বর্তমানে,
অল্প কয়েকটি টিউশন করি। এরা আপাত
দৃষ্টিতে ত্রুটি করছে না।
আলহামদুলিল্লাহ..
যদিও বিনামূল্যে গত ১ বছর একজন পড়েই
যাচ্ছে।
এরা মারা গেলে কবরে কি জবাব
দিবে?
আমি তো মাফ করে দিসি ২ মাসের
সময়..!
২৫ হাজার টাকা দিয়ে এলইডি টিভি
নিয়ে স্যারকে এসে গল্প বলে।
অথচ,স্যারের ২ হাজার টাকার কথা
চিন্তা করে নাহহ।
অভিযোগ নেই কারো উপর । তবে
বিবেকহীনদের দিকে তাকাতেই
ইচ্ছে করে নাহহ..



SHARE

Author: verified_user