Wednesday

Bangla Novel - Lekhok By Junayed Hossen

SHARE

               Bangla Novel - Lekhok By Junayed Hossein 

Bangla Novel - Lekhok By Junayed Hossen - Actress Cover
Bangla Novel - Lekhok By Junayed Hossen - Actress Cover

১.বইমেলার ৩৭ নম্বর স্টলে শান্তিতে দিবানিদ্রা যাচ্ছেন সাঈদ মুক্তাদির। পেশায় তিনি একজন সাইকো-থ্রিলার লেখক। এ বছর ভালোই কাটতি যাচ্ছে তার বইগুলো। বিশেষ তার সাইকো গল্পগুলোর কাটতি অন্য লেখকদের মনে ঈর্ষা জাগানোর মতো।
আমাদের দেশে ভালো সাইকো থ্রিলার লেখকের সংখ্যা খুবই কম। তাই পাঠকদের কাছে বিদেশী লেখকদের প্রাধান্য বেশিই। সেই তুলনায় দেশী লেখকদের মধ্যে কম সময়েই পাঠকদের মনে বেশ ভালো জায়গা করে নিয়েছেন সাঈদ মুক্তাদির। এর কারণ তার লেখার কিছু অনন্য বিশেষত্ব। ভদ্রলোক খুব ভালো মৃত্যুচিত্র উপস্থাপন করতে পারেন তার লিখায়। মৃত্যুর বর্ণনা গুলো হয় নিখুঁত আর বেশ জীবন্ত। তার কোনো চরিত্রের সাথে গোলমাল বাধলে বা হঠাৎ তার কাছে ভালো না লাগলেই
তাকে খুন করেন অত্যন্ত নিখাদ আর সুচারু ভাবে। প্রতি কলমের আচড়ে যেন প্রাণ নিতে উস্তাদ তিনি।

Bangla Novel - Lekhok 



একবার এক প্রধান চরিত্র তার বিপরীত মেয়ে চরিত্রকে খুন করেছিলো। ব্যাপারটা ঘটার পর তার আর সেটা পছন্দ হয়নি। তাই পুরো গল্পের গতিপথ পাল্টে দিয়ে তিমি প্রধান চরিত্রকেই খুন করেন।
মাঝেমাঝে তার এই ক্ষমতা তাকেই বিস্মিত করে। কি সহজ একটা প্রাণ নেওয়া! শুধুমাত্র কয়েকটা কলমের খোঁচা,ব্যস, শেষ হয়ে যায় এক জলজ্যান্ত চরিত্র। লেখালিখির এপর্যায়ে এসে ব্যাপারটা তাকে যথেষ্ট আত্মতৃপ্তি দেয়।
বিকাল ৪টায় প্রকাশনীর সম্পাদকের ডাকে ঘুম ভাঙে তার। অনেক বেলা হয়েছে। বাসায় যেতে হবে। তড়িঘড়ি করে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসার দিকে রওনা হলেন তিনি। একমাত্র কাজের মেয়েটা এতোক্ষণে চলে গিয়েছে হয়তো।
ব্যক্তিজীবনে বড্ড একা উনি। বিয়ে করেননি,তাই বউ বাচ্চার যন্ত্রণাও তার পোহাতে হয় না। একা বাসায় তার একমাত্র সঙ্গী তার মিউজিক রুম। সাউন্ডপ্রুফ এই রুমে তার অবসর সময় কাটে।তাছাড়া তার ধানমন্ডি ফ্ল্যাটের বাকি রুমগুলো খালিই পড়ে থাকে। অন্যসব লেখকদের মতো তার লিখার কোনো নির্দিষ্ট রুম বা অতি পছন্দের জায়গা নেই। তিনি সব সময়ই একটি নোটবুক আর কলম তার সাথে রাখেন। যখনই মাথায় কিছু আসে তখনই লিখতে বসে যান।
মিউজিক রুমটার কথা মনে পড়লো। তার জীবনের শ্রেষ্ঠ খুন তিনি মিউজিক রুমেই করেছিলেন। রক মেটালের প্রতি বিতৃষ্ণা তার অনেক পুরানো। তিনি রবীন্দ্র ভক্ত। সুকুমারও খারাপ লাগে না। সেবার তিনি মারতে ব্যবহার করেছিলেন রক মেটাল। বন্ধ সাউন্ড প্রুফ রুমে তাকে বসিয়ে চারটি স্পিকারে ফুল সাউন্ডে সারারাত গান শুনিয়েছিলেন। অবশ্য সারারাত শুনার সৌভাগ্য হয়তো তার হয়নি! গানের সুরের টানে রাতের কোনো এক প্রহরে মারা যায় লোকটি। কানে জমে থাকা কয়েক ফোটা শুকনো রক্তের ছোপ তাকে এক পৈশাচিক আনন্দ দিয়েছিলো। তার শখের রুমে পুলিশের আনাগোনা পছন্দ হতো না বলে এটি নিয়ে আর ইনভেস্টিগেশনও করাননি তিনি।
ফ্ল্যাটের প্রতিটি রুমেই আছে এমন খুনের চিণ্হ। খুনের প্লট হিসেবে তিনি তার বাসাটাকেই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন। তার বেডরুমেই খুন করেছিলেন এক মেয়েকে। খুব সম্ভবত সেজন্য তাকে গল্পের নামটাও পাল্টাতে হয়েছিলো। তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু মেয়েটিকে খুন করার সময় সাইকো প্যাথটির তৃপ্ত হাসি আর মেয়েটির ভয়ার্ত চোখ তাকে যে আনন্দ দিয়েছিলো, এর তুলনা হয় না!
তাছাড়া একবার ড্রয়িংরুমে এক বাবা তার মেয়েকে খুন করেছিলেন। কতোই বা বয়স হবে মেয়েটির; ১২-১৩ বছর। তবে মেয়েটির চোখ ছিলো অসম্ভব সুন্দর। যেন ছোট দুটি দিঘী টলমল করছে। মেয়েটির মা ছিলো একটু বোকাসোকা টাইপ। তা না হলে মেয়ের খুন দেখে কেউ ঐভাবে দড়ি নিয়ে সিলিং এর সাথে ঝুলে যায়?
ও হ্যা! কিচেন! কিচেনে এক উপন্যাসে তিনি এক কাজের মেয়ের রোস্ট করেছিলেন। ব্যাপারটা তিনি সত্যিই উপভোগ করেছিলেন। পুড়তে থাকা নড়মাংসের কল্পিত গন্ধ আর মেয়েটির আর্তচিৎকার এখনো তার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ খুনের অনুভূতি দেয়। তিনি খুনি; কেউ জানুক আর না জানুক, মানুক বা না মানুক তিনি খুনি। তাতে কি? পাঠকতো পেয়েছেন তিনি। তারাও ভালোবেসে গ্রহণ করছে তার পৈশাচিক সৃষ্টিগুলো। তার বইগুলো গরম পাকোড়ার মতো বিক্রি হয়েছে একেকটা। অর্থ-সম্পদের কষ্ট মিটেছে অনেক আগেই। এখন খানিকটা শখ,আনন্দ আর খুনের নেশা। 


Bangla Novel 



বাসায় ফিরতে প্রায় ৫টা বেজে গেলো। যা ভেবেছেন ঠিক তাই। দরজায় তালা ঝুলছে। মানে কাজের মেয়েটা চলে গিয়েছে। ছোট্ট একটা নিশ্বাস ফেলে তালা খুললেন তিনি। ভাবলেন ফ্রেশ হয়ে একটু ঘুমানো যাক ঘন্টাখানেক। এই ভেবে বেডরুমের দিকে পা বাড়ালেন তিনি। পর্দা সরাতেই দেখলেন বিছানায় বসে আছে ক্ষত বিক্ষত দেহের এক মেয়ে। সারা শরীর থেকে চুয়িয়ে চুয়িয়ে রক্ত পড়ছে ক্ষত থেকে। এতো ঠিক সেই মেয়েটি যাকে তার বেডরুমেই খুন করেছিলো এক সাইকোপ্যাথ। তার দিকে ঘুরে তাকালো মেয়েটি। হ্যা, সেই চোখজোড়া,সেই ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি, হাসিটি ধরে রেখেই মেয়েটি কৌতুকের সুরে বলল, "স্যার,ভালো আছেন?" নাহ, এ কিভাবে সম্ভব? হ্যালুজিনেশন হচ্ছে তার। চোখ বন্ধ করলেন তিনি। পাশের রুমে কে যেন স্কিললেট শুনছে। কান ফেটে যাচ্ছে তারপরও কমছে না এই শব্দ। 'মনস্টার' এর এই লাইনগুলোই যেন বারবার শুনতে পাচ্ছেন তিনি,
I must confess that I feel like a monstar..
I..I..I feel like a monstar...
সামনের রক্তাক্ত মেয়েটিকে অগ্রাহ্য করে তিনি ছুটলেন মিউজিক রুমে। তার আরাম কেদারায় বসে আছে একজন। কানের কাছের ছোপ ছোপ রক্তের দাগ তার পরিচয় বলে দিচ্ছে। "গান শুনবেন স্যার?" স্পিকারের গানের শব্দ ছাপিয়ে লোকটির কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন তিনি। তারপর শিরদাঁড়া হিম করা এক হাসি। কি করে সম্ভব এগুলো? এরা তো তারই সৃষ্টি। এরা অবাস্তব। এদের অস্তিত্ব নেই,থাকতে পারে না। হ্যালুজিনেশন এগুলো; ভাবতে ভাবতে চোখ বন্ধ করে পিছনের দিকে হাটতে লাগলেন তিনি। পিঠের কাছে কিছু একটা ঠেকলো হঠাৎ। চোখ ঘুরিয়ে পিছনে তাকাতেই দেখলেন এক মহিলা গলায় দড়ি দিয়ে সিলিং এর সাথে ঝুলে আছে। মুখে এক দুর্বোধ্য হাসি নিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। নাহ, আর নেওয়া যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে এখনি মাথা ঘুরে পরে যাবেন তিনি। তখনই তার পাঞ্জাবী খামচে ধরলো ১২-১৩ বছর বয়সের এক মেয়ে। মেয়েটির চোখগুলো অসম্ভব সুন্দর, ঠিক যেন কালো দুটি দীঘি টলমল করছে সেখানে। মেয়েটির পেটে একটি ছুরি গেঁথে আছে। তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে মেয়েটি বলল, "আংকেল, আংকেল, দেখুন না আম্মু ওখানে ঝুলে আছে, কথা বলছে না। দেখুন না একটু"। তিনি নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারছেন না। হঠাৎ কিচেনে শুরু হয়ে গেলো থালা বাসনের তুমুল ভাংচুর। খানিক বাদে ঝলসানো মুখের এক মেয়ে উকি দিয়ে ভাঙা ভাঙা গলায় বলল "রোস্টে লবণ কতটুকু দিবো স্যার?"
ব্যস, যথেষ্ট হয়েছে, আর নেওয়া সম্ভব হচ্ছেই না কোনোভাবেই। পাশের চেয়ারটায় বসে পড়ে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠলেন, "তোমরা সব আমার সৃষ্টি। আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি। তোমরা কোনোভাবেই বাস্তব হতে পারো না। অস্তিত্ব নেই তোমাদের। যাও তোমরা, চলে যাও।"
চোখ খুলেই দেখতে পেলেন রুমের এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে পাঁচটি ছায়ামূর্তি। তারা যাচ্ছে না, কাছে এগিয়ে আসছে। ক্রমেই স্পষ্টতর হচ্ছে তাদের চেহারা। সবার মাঝখানে একটি ছোট্ট মেয়ে, বয়স তার ১২-১৩বছর হবে। তার চোখগুলো অসম্ভব সুন্দর, যেন দুটো দীঘী টলমল করছে গভীরে!
২. একটা টেবিলের দুপাশে দুজন লোক বসে আছে। একজন রিনরিনে গলায় বলল, "সাঈদ মুক্তাদিরকে কেন মারলে? ভালোই তো চলছিলো সিরিজটা।"
অপরজন গমগমে কন্ঠস্বরে সোজাসাপ্টা উত্তর দিলো, " ওকে আর ভালো লাগছিলো না।"
SHARE

Author: verified_user