Wednesday

ইতি আমি চিরকুট

SHARE

                     ইতি আমি চিরকুট




এতো অশ্রুতে একদিন সব ভেসে যাবে
দেখিস।পারলে জলদি কোনো মন্ত্র
শিখিয়ে দিস,নরম কাঁদামাটির আমি
যেন শক্ত ইট হই একদিন।
বোনটা যখনি কোথাও বেড়াতে
যায়,জানিনা বুকের কোথায় যেন
একটা চাপা ব্যাথা হয় খুব।
সেবার যখন এস.এস.সির পর সপ্তাহ
খানেক খালামনির বাড়ী বেড়াতে
গেলো। জানিস, ও মাত্র সিড়ি বেয়ে
নামলো,আমি মরা কান্না জুড়ে
দিলাম।জানালা দিয়ে ওকে দেখা
যাচ্ছিলো তখনও। আম্মু বকেছে সেদিন
খুব,এতো কান্নার কি আছে!গত বছর
মায়ের সাথে নানুবাড়ী গেলো
যখন,প্রতিদিন ফেসবুকে কতো কথা। বুকু
নামটা ওকে তখনি দেই আমি,আদর
করে,ভালোবেসে।
কাল ভাইয়ার শ্বশুরবাড়ী যাবে ও,পরশু
ফিরবে।
শোনার পর থেকে কষ্ট হচ্ছে খুব।
আজ ওকে নিয়ে চশমা কিনতে গেলাম।
অবশেষে কিপ্টা আমি প্রায় ৪ বছর পর
চশমা কিনছি।হাসিস না তুই,আমি
এমনি! এরপর মনে হলো মোমো কিনে
খাওয়াই বাচ্চাটাকে।কতো সেলফি
কতো ছবি তুললাম,আর সাথে গল্পের
ডালি। আমাদের জুতা কেনার জন্য
শপিংয়েও গেলাম।
অনেকদিন ধরে ছেলেদের স্লাইডিং
জুতার সখ খুব ওর। আজ খুঁজে পেলো,কিন্তু
প্রায় তিনগুণ দাম চেয়ে বসলো
দোকানদার। আর ও বাচ্চাদের মতো
দামাদামি শুরু করে দিলো(ভিক্ষা
চাওয়ার মতো করে,খুব বিচ্ছিরি
দেখাচ্ছিলো)!!আমি শুধু বলেছি এমন
ভাবে বলেনা বুকু,পঁচা দেখায়!চলে
আসো।
রাগ করে বাসায় চলে আসতে চাইলো
ও।বললো ও এমনি,ভালো না লাগলে
কিছু করার নেই!
আমি কিন্তু ওকে নিষেধ করিনি।ওর
ব্যাক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ
করিনি, কখনো করবোওনা। তবে হ্যাঁ
আমার প্রতি ওর বিরক্ত কাজ করা
স্বাভাবিক। ও হয়তো বড় হয়েছে কিন্তু
রাস্তায় চলতে পারেনা।পৃথিবীতে
অশ্লীল মানুষের অভাব নেই তুই জানিস!
সারাক্ষণ তাই টেপ রেকর্ডারের মতো
কানের কাছে ঘেনঘেন করি "বুকু সুন্দর
করে হাঁটো, ড্রেস ঠিক করো, ওখান
থেকে সরো,আপুর হাত ধরো,আপুর
পিছনে হাঁটো"
বলতে হয়,ও পছন্দ না করলেও বলতে হয়।
ফুটপাতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে
দোকানদারের সাথে বাকবিতণ্ডা
;এটা ছেলেদের জুতার দোকান!!তুই
বুঝতে পারছিস?
ওর রাগ দেখে আমি বললাম,"আমার জুতা
টা তো কেনা হলো না!আচ্ছা চলো!"
রাগ করলাম আমিও।
এরপর থেকে হাঁটতে হাঁটতে খুব জোরে
জোরে বকতে লাগলো আমাকে।
রাস্তা ভর্তি এতো মানুষ তার উপর
জ্যাম! সবাই দেখছিলোরে! লজ্জায়
মনে হচ্ছিলো আমি মাটিতে ঢুকে
যাই।
বলেছি ওকে আস্তে বলো! সবাই শুনছে!!
শুনলো না! "আমার এতো রাগ কেনো?ওর
পছন্দের জুতা কিনতে যাওয়ার সময় এমন
করলাম কেনো!আর কখনোই আমার সাথে
আসবেনা।একা চলবে এবার, আমি
কিসের এতো রাগ দেখাই......আরো
অনেক কিছু বললো!" যখন বললাম, এতো
মানুষের সামনে! আমাকে সন্মান না
করো,অসন্মানটুকু অন্তত করোনা!
বিনিময়ে শুনতে হলো,এখন তো
কাঁনবা,পারোই তো একটা কাজ!
হ্যাঁ,আমি এটাই পারি!আর কিছু
পারিনা....!
আমার রাগ গুলো অভিমানগুলো... সব
অশ্রুতে গিয়ে শেষ হয়!
ওকে রিকশায় উঠিয়ে দিয়ে রাস্তা
ভ্রমণে বের হলাম।সন্ধ্যায় লেকে
যেতে ভয় হয়। নয়তো ওটা সবচেয়ে
ভালো জায়গা।একটা ব্রিজ আছে
ওখানে, যেখানে দাঁড়ালে রাস্তার
ব্যাস্ত মানুষ দেখা যায়। দেখা যায়
টলটলে শান্ত জল। এ শহরে শান্ত জল
দেখা খুব মুশকিল।
রাতে রাস্তায় কতো মানুষ,কিন্তু
অন্ধকারটা যে কান্নার জন্য সবচেয়ে
ভালোরে।
কান্নায় কষ্ট কমে আমার,তবে অশ্রুগুলো
জায়গা আর সময় বুঝেনা।বাঁধ ভেঙে
পরতেই থাকে, আটকাতে পারিনা
আমি।
আমি জানি এখানে কান্নার কিছু
নেই।ঐ যে বললাম,আমি এমনি,বোকা
মেয়েটা, কান্না ছাড়া যে আর কিছুই
পারেনা।
আমি কখনোই আশা করিনা বুকু আমাকে
সন্মান করবে,কখনোই না।
এ কথাটা হয়তো তোকে বলা হয়নি
আমার। আমি কখনোই কারো কাছে কিছু
আশা করিনা, ভালোবাসার
বিনিময়ে ভালোবাসাটুকুও ফেরত
চাইনা আমি কখনোই।নিঃস্বার্থ
ভালোবাসার সংজ্ঞাটা তুই
জানিস,তোকে আর কি বলবো বল?
নিঃস্বার্থভাবে কোনো কিছুর
বিনিময় ছাড়াই, কখনোই পুরোনো কিছু
মনে না রেখে ভালবাসতে পারি
আমি।
বাচ্চাদেরকে পড়াতে কেনো
ভালোবাসি জানিস? ওরা
ভালোবাসে তাই।এটাও জানি, আমি
চলে গেলে ওরা আমাকে ভুলে যাবে।
শূণ্যস্হান পূরণ হয়ে যায় সবসময়ই। তারপরও
এই ক্ষণিকের ভালোবাসা টুকুর কাঙাল
আমি।
বিন্দু বিন্দু সন্মান জমাতে
ভালোবাসি খুব।সন্মানের জন্য কিছুটা
লোভীও বলতে পারিস আমাকে।
টাকা অর্জন খুব কঠিন কিছুনা,কিন্তু
সন্মান? কষ্ট করতে হয় সন্মানের জন্য।তাই
নিজেও কখনো কাউকে সন্মান করতে
না পারলেও অসন্মান করিনা।
এতোক্ষণ তোর কাছে কোনো
অভিযোগ করিনি আমি।
বোন হতে পারার মতো সৌভাগ্যের
জন্যই হয়তো আমি সৌভাগ্যবতী।তোকে
বলে বুঝাতে পারবোনা "আপু" শব্দটায়
কতোটা ভালোবাসা জড়ানো
থাকে।নিজের জীবনটা সার্থক মনে হয়
তখন, যখন দেখি ছোট দুইটা বাচ্চার বোন
আমি।
শোন তোকে একটা কথা বলি,তুই এতো
ব্যস্ত থাকিস,আমার প্রতিটা চিঠির
জবাব দিস না কিন্তু, নিষেধ করলাম।
তুই শুধু পড়ে গেলেই হবে। জমানো
কথাগুলো না বললে আমার দম আটকে
যায় তাই তোকে লিখি।তুই শুধু পড়িস
কেমন? সময়ের স্রোতে সবাই ব্যাস্ততার
রঙে মাখা।কারো সময় কই বল আমার
মলিন চিঠি পড়ার? সবার কাছে তো
চিঠি ভালোবাসা নয়,বরং বিরক্তিকর
আদিখ্যেতায় মাখা টুকরো কাগজ।
শীঘ্রই তুই হাতে লেখা একটা চিঠি
পাবি,কিছু কারণে পাঠাইনি এখনো।
ভালো থাকিস তুই। আজ বলবোনা
ভালো থাকিস আমার চিঠির মতো।
আজকের চিঠিটা মলিন!
আজ ভালো থাকিস সমুদ্রের তীরে
আছড়ে পরা জলরাশির মতো।
ইতি আমি চিরকুট
SHARE

Author: verified_user