Friday

Bangla Detective Golpo Khun By Mosharrop Hossen

SHARE
খুন  মোশাররফ হোসেন

 Bangla Detective Golpo Khun By Mosharrop Hossen 

-রফিক ? 
-জ্বী ওস্তাদ
-জাইগা আছস?
-জ্বী ওস্তাদ
-ঘুমাবি না ? 
-ঘুমামু । আপনি আগে ওই খুনের ভিডিওটা দেখা শেষ করেন, তারপর আপনি ঘুমাই গেলে আমি ঘুমামু ।
-তুই কি প্রতিদিন আমি ঘুমানোর পরে ঘুমাস ?
-না ওস্তাদ ।
-তাইলে ?
- শুধু আপনি যেদিন খুন কইরা আসেন, ওইদিন আপনার আগে ঘুমাইতে পারি না । ভয় লাগে ।
মজিদ জানে রফিক কেন ঘুমায় না । তারপরেও হঠাত আজকে রফিকের মুখ থেকেই শুনতে চাইল কারনটা ।
-মানে কি ? খুইলা ক হারামজাদা ।
-আপনি প্রতিবার খুন কইরা আইসা যখন খুনের ভিডিওটা দেখেন, তখন আপনি ঘামতে থাকেন । ঘাইমা পরে গোসল কইরা যখন ভেজা গায়েই সিগারেট খাইতে খাইতে একা একা কথা কন, তখনও ঘামতে থাকেন, ফ্যানের নিচেও ঘামতে থাকেন । তখন আমার ভয় লাগে । খুব বেশি ভয় লাগে । তাই ঘুমাইতে পারি না ।
কিছুক্ষন আগেই মজিদ একজনের গলা কেটে এসেছে । এই কাজটা সাধারনত সে ভিক্টিমের চোখে চোখ রেখে করে । কিন্তু আজকে পারে নি । ছেলেটা ভয়ে দৌড় দেয়াতে প্রথম কোপটা পিছন দিক দিয়েই দিতে হয়েছে । এটা নিয়ে সে তখন থেকেই মনে খুত খুত করছে । এই খুতখুতানি নেক্সট খুনের আগ পর্যন্ত যাবে না । খুবই অস্বস্তিকর ব্যাপার ।
খুতখুতানি কমানোর জন্য রুটিন অনুযায়ী এখন মজিদের গোসল করা উচিত ।
অনেকক্ষন ধরে গোসল করে এসে ভেজা গায়েই সিগারেট ধরাল মজিদ । মজিদ জানে রফিক এখনো জেগে আছে ।
-রফিক
-জ্বী ওস্তাদ
-জাইগা আছস এখনো?
-হ ওস্তাদ
-একটা কথা জিজ্ঞাসা করি ?
-করেন
-তুই সবসময় ওস্তাদ ওস্তাদ করস ক্যান ?
-আমার আব্বা ছোটবেলায় বলছিল কারো কাছ থেকে সামান্য কিছু শিখলেও তাকে ওস্তাদ মানতে ।
-তুই তর বাপের সব কথা মানস ?
-মানতে পারি না । মানতে পারি নাই । মানতে পারলে আজকে হয়ত আপনার সাথে দেখা হইত না ।
-আমার কাছ থেকে তাইলে কী শিখছস ?
-পুরাপুরি শিখি নাই এখনো । শিখতাছি কেমনে খুন করে ।
-তাইলে তর ভাগ্য খারাপ । খুন করা শেখা যায় না । খুন করতে হইলে আগে নিজেরে খুন হইতে হয় ।
-বুঝলাম না ওস্তাদ ।
হাতের সিগারেট নিভে গিয়েছে মজিদের । একটা লম্বা দম নিয়ে সিগারেটটা আবার ধরাল মজিদ ।
-আজকের মত এইরকমই চান্নি পসর রাইত ছিল সেদিন । রাতে খাওয়া দাওয়া কইরা ঘুমাইছি দুইজনে । মাঝরাইতে গরমে হঠাত কইরাই ঘুম ভাইঙ্গা গেল । পাশে দেখি সে নাই । মনে করছি বাথরুমে গেছে । আমি ঘুমাইয়া গেছি । সকালে উইঠাও দেখি নাই সে । সারা ঘরে নাই । সারাদিন যত জায়গায় খোঁজ নেয়া যায় নিলাম । কোনো খবর পাইলাম না, কেউ জানে না । কোনো ঝগড়া নাই ঝাটি নাই, কিন্তু হুট কইরাই হারাইয়া গেল সে । পাগলের মত হইয়া গেলাম আমি ।
একটু থামল মজিদ । লম্বা করে কয়েকটা পরপর টান দিল গোল্ডলীফে ।
আবার বলা শুরু করল সে ।
-ঠিক সাড়ে তিনমাস পরে খোঁজ পাইলাম তার । নতুন জামাই নিয়া নরসিংদির পাঁচদোনায় এক ভাড়া বাসায় থাকে । ওইদিন ঘোর অমাবশ্যার রাতেও এক জোড়া চোখে আমি ষ্পষ্ট ভয় দেখছি, আর এক জোড়া চোখে দেখছি তাচ্ছিল্য । দুই কোপে দুই কল্লা আলাদা কইরা ফেলছিলাম সেদিন, চোখে চোখ রাইখা ।
থামল মজিদ । অনেকক্ষন কোনো কথা নাই মুখে । ধীরে ধীরে যেন রাতের অন্ধকার আর নিস্তব্ধতা জমাট বাধছে !
হঠাতই মুখ খুলল মজিদ ।
-ভালবাইসা বিয়া করছিলাম মাইয়াডারে । তার কল্লায় যখন চাপাতিটা নামাইয়া আনতেছিলাম, তার চোখে তাচ্ছিল্য ছাড়া আর কিচ্ছু দেখি নাই । সামান্য ভালবাসা থাকলেও সেদিন চাপাতি নামাইতাম না । তারে নিয়া আমি আবার ঘর করতাম, সব কিচ্ছু ভুইলা যাইতাম আমি ।
আবার থামল মজিদ । তার গলাটা মনে হচ্ছে একটু ধরা । তার কি কান্না পাচ্ছে ? তার তো কান্না পাওয়ার কথা না ।
এবার একঢোক পানি খেল সে । সিগারেটে আবার লম্বা টান দিল ।
-রফিক
-জী ওস্তাদ ?
-সেদিন মাইয়াডারে খুন করার সময় আমি খুন হই নাই । খুন হইয়া গেছি তারও একটু আগে । যখন তার চোখে তাচ্ছিল্য দেখছি । Bangla Detective Golpo
বলেই চেয়ারে বসে পড়ল মজিদ । ফ্যানের নিচেই দরদর করে ঘামাতে শুরু করল সে ।
মানুষ যখন বুঝতে পারে সে খুন হয়ে গেছে, তখন সে ঘামতে থাকে, দরদর করে ঘামতে থাকে ।
এরপরে যখনই মনে পড়ে সে খুন হয়ে গিয়েছে, তখনই ঘামতে থাকে । ফ্যানের নিচেও ঘামতে থাকে ।
SHARE

Author: verified_user