Friday

আয়না - আহসানুল হক শোভন | Bangla Boi pdf

SHARE

আয়না -  আহসানুল হক শোভন | Bangla Boi pdf


১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫আয়নাআহসানুল হক শোভন

এক.
এই বাড়িতে ওদের বেডরুম লাগোয়া বাথরুমের আয়নাটা ভীষণ পছন্দ নিশার। আয়নাটা অনেক বড় আর ঝকঝকে। পথিক বলেছে, এটা নাকি ওর দাদার আমলের আয়না। সরাসরি বেলজিয়াম থেকে আনিয়েছিলেন। বর্তমান বাসায় ওটা বসানোর উপযুক্ত জায়গা না পেয়ে পথিক বাথরুমেই লাগিয়েছে।
নিশার ড্রেসিং টেবিলের আয়নাটাও এত বড় নয়। মাঝে মাঝে আয়নাটার আকার দেখে একটু অবাকই লাগে। থাক, তবু ভালো। এতবড় আয়নায় নিজেকে বার বার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে কার না ভালো লাগে? আর সেই কেউটা যদি হয় নিশার মত সুন্দরী, তাহলে তো কথাই থাকে না।
নিশা বাইরে বেড়াতে গেলে সাজগোজ ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে না করে, বাথরুমের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে করে। ওর এই আয়না প্রীতি নিয়ে পথিক বেশ কয়েকবার বিরক্তি প্রকাশ করেছে। নিশা ওসব পাত্তা দেয়না। আসলে ও আয়নাটাকে এতটাই ভালোবেসে ফেলেছে যে, বাসায় কেউ না থাকলে আয়নাটার সাথে একা একা কথা বলে!
একটু আগে পথিক অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেছে। নিশা এখন সারাদিনের জন্য বাসায় একা। পথিক আসবে সেই সন্ধ্যার পর। নিশা কিছুক্ষণ টিভি ছেড়ে চ্যানেল পাল্টায়। নাহ! কোনো চ্যানেলই ভাল্লাগছে না। সময় কাটাতে আয়নায় একটু নিজেকে দেখে আসা যায়।
কি ব্যাপার! আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিশা অবাক হলো। আয়নাটা কি একদিকে একটু বেঁকে আছে? নিশ্চয়ই পথিকের কাজ! নিশা খুব সন্তর্পণে আয়নাটা ধরে সোজা করে দিলো। এখন ঠিক আছে। আরে! সাবানটাও মাটিতে পড়ে আছে! নিচু হয়ে সাবানটা তুলতে গিয়ে নিশার মনে হলো আয়নার ওপাশ থেকে কে যেন ওর দিকে তাকিয়ে আছে। নিশা ঝট করে তাকাতেই নেই হয়ে গেলো!
ভয়ে নিশার শরীরটা ছমছম করে উঠেছে। নিশা মাথা ঝাড়া দিয়ে হেসে ফেললো। সারাদিন বাসায় একা থাকতে থাকতে ওর ভেতর অমূলক ভয় তৈরি হয়েছে। মনে মনে ঠিক করে ফেললো, আজ একটু শপিঙে যাবে। রুপুকে একটা ফোন দিতে হবে।
আয়না -  আহসানুল হক শোভন | Bangla Boi pdf

দুই.
সারাদিন অনেক মজা করলো নিশা আর রুপু। শপিং, ঘোরাঘুরি, বাইরে খাওয়া। সব মিলিয়ে ভালোই কাটলো দিন। বাসায় ফিরতে ফিরতে দূপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলো। বাসায় ফিরে নিশা পোশাক পরিবর্তনের জন্য বাথরুমে ঢুকলো। আয়নাটা আবারও একদিকে বাঁকা হয়ে আছে! সকালবেলাই তো ও নিজ হাতে ঠিক করে রেখে গেলো! এর মধ্যে বাসায় কেউ আসার প্রশ্নই আসে না। তাহলে? এত ভারী জিনিসটা আপনা-আপনি বাঁকা হয়ে যায় কিভাবে?
সারাদিন ঘোরাঘুরি করে নিশা অনেক ক্লান্ত। তাই এটা নিয়ে আর বেশীক্ষণ মাথা ঘামালো না। মনে মনে ভাবলো, পথিক আসলে ওকে সব খুলে বলবে। আয়নাটা আবার ঠিক করে রেখে পোশাক পরিবর্তন করে বিছানায় গিয়ে গা এলিয়ে দিলো। পথিক অফিস থেকে ফেরার আগে একটু গড়িয়ে নেয়া যাক।
পথিক ফিরে আসার পর আয়নার কথা বলতে ভুলে গেলো নিশা। দুজনার খুনসুটিতে কোনদিক সময় দিয়ে পার হয়ে গেলো, টের পাওয়া গেলো না। রাতে খাবার পর ব্রাশ করার জন্য বাথরুমের আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই আবার সেই অনুভূতিটা ফিরে এলো নিশার। মনে হলো, কে যেন আয়নার ভেতর থেকে ওকে দেখছে। বাথরুমে থেকে বেরিয়ে এসে পথিককে সব খুলে বললো নিশা। সব শোনার পর পথিক হঠাৎ করে কেন জানি রেগে গেলো।
“তোমাকে আগেই বলেছিলাম আয়নাটা নিয়ে এত মাতামাতি না করতে। আয়নার ভেতর কখনও মানুষ থাকে? যত্তসব! বাসায় একা থাকলে তুমি আর কখনও এই বাথরুমে যাবে না। ওইদিকের বাথরুমটায় যাবে। মনে থাকে যেন!”
অভিমানে ঠোঁট উল্টে প্রায় কেঁদেই ফেলছিলো নিশা। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলালো। কোথায় ব্যাপারটা নিয়ে পথিক ওকে একটু সাহস যোগাবে, তা না করে উল্টো ওকেই বকাবকি করলো। নিশা আর কোনো কথা বললো না। গায়ে চাদর টেনে চুপচাপ শুয়ে পড়লো। পথিক শুতে এসে ওর গায়ে হাত দিলে তখন মজা বোঝাবে!Bangla Boi pdf
তিন.
সকালে পথিক অফিসে যাবার আগে আবার ওই বাথরুম আর আয়না সম্পর্কে সাবধান করে দিয়ে গেলো। পথিক চলে যেতেই নিশা পথিকের নিষেধ ভুলে আবার আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। আয়নাটা আবারও একটু বাঁকা হয়ে আছে। হাত দিয়ে ঠিক করতে যেতেই নিশার মনে হলো, আয়নার পেছনের টাইলসগুলোর ফিটিং বাথরুমের অন্যান্য টাইলসের ফিটিঙের সাথে মিলে না। কেমন যেন কাঁচা হাতের কাজ বলে মনে হয়। নিশা এক হাত দিয়ে আয়নাটা আরেকটু বাঁকা করে ধরলো। পুরো আয়নার পেছনের টাইলসগুলোর ফিটিং এবড়োখেবড়ো। টাইলসগুলো বসাতে গিয়ে প্রচুর সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত দক্ষ মিস্ত্রির হাতের কাজ এমনটা হবার কথা না। কি ব্যাপার! পথিক কি আয়না লাগানোর সময় ব্যাপারটা খেয়াল করেনি? নাকি খেয়াল করার পর ইচ্ছে করেই এখানে আয়নাটা বসিয়েছে। যাতে টাইলসের বৈসাদৃশ্য কারও চোখে ধরা না পড়ে!
সন্ধ্যায় পথিক বাসায় ফিরতেই নিশা টাইলসের বিষয়টা পথিকের কাছে জানতে চাইলো। পথিকের চেহারায় ভয়ের ছায়া পড়লো। পরমুহূর্তেই আবার মিলিয়ে গেলো। সে জায়গায় স্থান করে নিলো রাগ।
“তোমাকে বলেছিলাম না, ওই বাথরুমে আর না যেতে? তারপরও কেন গিয়েছো, হ্যাঁ?”
কেন আজকে তো আমি ভয় পাইনি!
“না। ওই বাথরুমে তুমি আর যাবে না।”
ঠিক আছে যাবো না। কিন্তু আয়নার পেছনে ওই জায়গাগুলো অমন কেন, সেটা তো বলবে।
“সেটা.. আঁম-মাম-আঁ..” পথিক বলতে গিয়ে থেমে গেলো। “আয়নাটা সেট করতে গিয়ে পেছনের কয়েকটা টাইলস ফেটে গিয়েছিলো। তাই পরে ওগুলো আবার বসানো হয়েছে।”
কিন্তু তুমি তো আয়নাটা দেয়ালের সাথে একেবারে বসিয়ে দাওনি। ঝুলিয়ে রেখেছো। তাহলে এতগুলো টাইলস ফাটতে যাবে কেন? আর মিস্ত্রিরা টাইলস লাগালে কি এত আনাড়িভাবে লাগায়?
“তোমাকে এত প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে নাকি, হ্যাঁ?” রাগে পথিকের পুরো মুখ লাল হয়ে গেছে।
নিশাকে অবাক করে দিয়ে বেডরুম থেকে চাবি নিয়ে বাথরুমের দরজাটা লক করে দিলো পথিক। তারপর চাবিটা নিজের পকেটে ঢুকিয়ে রাখলো।
নিশা কোনো কথা না বলে পথিকের কান্ডকীর্তি দেখছিলো। সামান্য আয়না নিয়ে পথিকের ওভার রিয়্যাক্ট করাটা ওর মোটেও ভালো লাগেনি। রাতে দুজনার মধ্যে আর কোনো কথা হলো না।
সকালে পথিক অফিসে চলে যাবার পর নিশা বাথরুমের চাবিটা অনেক খুঁজলো। খুঁজে পেলো না। তাহলে কি পথিক ওটা সাথে করে নিয়ে গেছে? কাল রাতে টাইলস নিয়ে প্রশ্ন করায় ও এমন ভয় পেয়ে গেলো কেন? কি এমন আছে ওই আয়নাতে?
অনেকগুলো প্রশ্ন মাথায় গিজ গিজ করছে নিশার। যেগুলোর উত্তর বের করতে না পারলে শান্তি পাবে না। এভাবে বাথরুম লক করে চাবি নিয়ে অফিসে চলে যাবার কারণ কি?

More: bangla book online
bengali ebook collection
bengali detective story books pdf free download
bangla golpo book
bengali story books pdf
all bangla books pdf
buy bengali books online
bengali pdf

চার.
আজ অনেক দেরীতে বাসায় ফিরেছে পথিক।
“আজ ফিরতে এত দেরী হলো যে?”
কাজ ছিলো।
“একটা ফোনও তো করতে পারতে। এতবড় বাড়িটায় সারাদিন আমি একা একা থাকি। তার ওপর অনেক রাতও হয়ে গেছে।”
পথিক কোনো উত্তর দিলো না। পোশাক পাল্টে ওদিকের বাথরুমে গিয়ে মুখ-হাত ধুয়ে এলো।
“টেবিলে খাবার দাও।”
খেতে বসে নিশা বললো, “কাল অফিসে যাবার সময় আমাকে বাথরুমের চাবিটা একটু দিয়ে যেও।”
পথিক খাওয়া থামিয়ে নিশার দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। তারপর মাথা নামিয়ে চুপচাপ খেতে লাগলো। নিশা বুঝলো, পথিক ওকে চাবি দেবে না।
পরদিন সকালে পথিক গোসলে ঢোকার পর চাবির রিঙ থেকে বাথরুমের চাবিটা খুলে নিলো নিশা। নিশা অধীর আগ্রহে বসে পথিকের অফিসে যাবার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। মনের মধ্যে একটা ভয় কাজ করছে। পথিক যদি চাবির ব্যাপারটা টের পেয়ে যায়!
বাসা থেকে বের হবার আগে চাবির রিঙটা পকেটে নিয়ে বেরিয়ে গেলো পথিক। বাথরুমের চাবিটার অনুপস্থিতি টের পায়নি!
নিশা চাবি দিয়ে লক খুলে বাথরুমে ঢুকলো। আয়নাটা আবার একদিকে বেঁকে আছে। কি আছে এই আয়নায়? আয়না নিয়ে কিছু বললেই পথিক কেন এত রেগে যায়? আয়নাটা একবার নামিয়ে দেখবে?
নিশা একা একা আয়নাটা নামানোর চেষ্টা করলো। বেশ ভারী। ওর একার পক্ষে নামানো সম্ভব না। কি করা যায়? হঠাৎ রুপুর কথা মনে হলো। ওকে একটা ফোন করে আসতে বললেই হয়। দুজনে মিলে নামানোটা অনেক সহজ হবে।
রুপুর বাসা কাছেই। ফোন দেয়ার মিনিট পনেরোর মধ্যেই রুপু এসে হাজির হলো।
“কিরে, হঠাৎ এত জরুরী তলব!”
বলছি। আগে আমাকে বাথরুমের আয়নাটা নামাতে একটু সাহায্য কর।
“বাথরুমের আয়না? কোনটা? ওই বড় আয়নাটা?” নিশার কথা শুনে রুপু অবাক হয়।
হুম।
“কেন? বিক্রি করে দিবি নাকি? বিক্রি করলে কিন্তু আমি নেবো। প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ!”
আহ! থাম তো! আগে আমার সঙ্গে আয়।
দুজন মিলেও আয়নাটা নামাতে অনেক বেগ পেতে হলো।
“কিরে, এই জায়গার টাইলসগুলো এমন এবড়োখেবড়ো করে বসিয়েছে কে?”
সেই প্রশ্নের উত্তর আমিও খুঁজছি।
“নিশা দেখ, আমি কি খুঁজে পেয়েছি!”
রুপু আয়নার পেছনে একটা খুপরির মত দেখালো। একটা কাঠের ঢাকনা দিয়ে আটকানো। রুপু ঢাকনাটা একপাশে স্লাইড করতেই আয়নার পেছনে ছোট একটা গোপন কুঠুরি দেখা গেলো। রুপু খুপরিটার ভেতর হাত ঢুকিয়ে ভেতর থেকে খাকি রঙের পেটমোটা একটা খাম বের করলো।
“ভেতরে কি আছে, খুলে দেখবো?” রুপু জানতে চায়।
দেখ। নিশা নিজেও উত্তেজনায় কাঁপছে।
খামের মুখটা কোনো কিছু দিয়ে আটকানো নেই। রুপু খামের ভেতর থেকে কিছু ছবি আর একটা পেন ড্রাইভ বের করে আনলো। ছবিগুলো হাতে নিয়ে নিজে না দেখে রুপু নিশার দিকে বাড়িয়ে ধরলো।
“নে, দেখ!”
নিশা ছবিগুলো হাতে নিয়ে প্রথমে কিছুই বুঝতে পারলো না। বেশিরভাগ ছবিতেই শুধু রক্ত। নিশার গা গুলাচ্ছে। একটা ছবিতে কাটা হাত-পা দেখা যাচ্ছে। উফ! কি বীভৎস! আরেকটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে পথিক বাথরুমে টাইলসগুলো লাগাচ্ছে। সর্বশেষ ছবিটায় মৃত মানুষটার অক্ষত শরীরটা দেখে নিশা চিনতে পারলো। আরে! এটা তো রুপুর হাজব্যান্ড, প্লাবন ভাই। উনি তো বছর দুয়েক হলো জার্মানিতে গিয়েছেন।
“রুপু!”
নিশা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেছন থেকে কেউ এসে ওর মুখে রুমাল চেপে ধরলো। নিশার মনে হলো, ও ধীরে ধীরে কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে আর ফিরে আসতে পারবে কিনা, তা নিজেও জানে না।
পাঁচ.
নিশা চোখ মেলে নিজেকে শোবার ঘরে আবিষ্কার করলো। বিছানার পাশে পথিক বসে আছে। একটা চেয়ারে ওদের ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান খোকন ভাই বসে আছেন। রুপুকে আশেপাশে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
“উঁহু! শোয়া থেকে একদম ওঠার চেষ্টা করবেন না। আপনার শরীর এখনও অনেক দূর্বল।”
আমার শরীর ঠিকই আছে, খোকন ভাই। আমি অসুস্থ হইনি। আমাকে ক্লোরোফোম জাতীয় কিছু একটা দিয়ে অচেতন করে ফেলা হয়েছিলো।
“আপনি কি বলছেন এসব?”
এই সোনা, তুমি এসব কি উল্টোপাল্টা বকছো? পথিক উদ্বিগ্ন সুরে বলে ওঠে।
“তুমি খুব ভালো করেই জানো, আমি কি বলছি। আমার ভাবতেই ঘেন্না হচ্ছে, আমি একটা খুনিকে বিয়ে করেছি।”
তুমি কি পাগল হয়ে গেলে নাকি? দেখেছেন, দেখেছেন খোকন ভাই, নিজের স্বামী সম্পর্কে কি সব উল্টোপাল্টা কথাবার্তা বলছে!
“উল্টোপাল্টা বলছি, না ঠিক বলছি সেটা একটু পরেই টের পাবে। আমার ফোনটা কোথায়?”
এই যে, নে ধর। তুই ঠিক আছিস তো? হাতে একটা মগ নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলো রুপু।
“ওরে শয়তানি, তুই এখনও এই বাড়িতে আছিস? নিজের জামাইকে খুন করিয়ে এখন খুব সাধু সাজা হচ্ছে, তাই না? ছবি আর পেন ড্রাইভটা কোথায়?”
কি সব আবোলতাবোল বকছিস? কিসের পেন ড্রাইভ, কোন ছবি?
“বুঝেছি, ওসব তোর কাছে চেয়ে কোনো লাভ নেই। কিন্তু আমিও তোদের ছাড়বো না।”
নিশার ভাই রাজু পুলিশে আছে। নিশা রাজুকে ফোন দিলো।
“হ্যালো ভাইয়া, তুই কয়েকজন পুলিশ নিয়ে এক্ষুণি আমার বাসায় চলে আয়। এখানে একজন খুন হয়েছে। এখন আমাকেও মেরে ফেলার চেষ্টা চলছে।”
নিশা কল কাটতেই পথিক বলে উঠলো, “নিশা, তোমার কোথাও কোনো ভুল হচ্ছে। তুমি বোধহয় খারাপ কোনো স্বপ্ন দেখেছো। গত কয়দিন ধরে তোমার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। মাঝখান থেকে শুধু শুধু রাজু ভাইয়াকে ডেকে পাঠালে।”
“শুধু শুধু ডেকেছি কিনা, তা ভাইয়া আসলেই বোঝা যাবে।”
কিছু সময় পর কলিংবেল বেজে উঠলো। নিশা নিজে উঠে দরজা খুলতে গেলো। ওর মাথাটা এখনও ঝিমঝিম করছে।
“ভাইয়া, তোরা সবাই মিলে একটা খুনির সাথে আমাকে বিয়ে দিয়েছিস।” হাউমাউ করে কেঁদে উঠে ভাইয়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো নিশা।
“কাঁদিস না। কি হয়েছে সেটা আগে খুলে বল।”
পথিক আর রুপু মিলে রুপুর হাজব্যান্ড প্লাবন ভাইকে খুন করেছে। তারপর লাশটা টুকরো টুকরো করে আমাদের বাথরুমে বড় যে আয়নাটা আছে না, ওটার পেছনের দেয়ালে লুকিয়ে রেখেছে।
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে থামলো নিশা।
“আরে থাম, থাম! তোকে কে বললো ওই দেয়ালের ভেতর প্লাবনের ডেড বডি লুকানো আছে?”
আমি নিজে ছবি দেখেছি।
“কোথায় সেই ছবি?”
ওরা লুকিয়ে রেখেছে। ভাইয়া, তুই এক্ষুণি ওই দেয়াল ভাঙ্গার ব্যবস্থা কর।
“আচ্ছা, তুই মাথা ঠাণ্ডা কর। তোর শরীরটা নাকি খারাপ? সারাদিন বাসায় একা একা থেকে আর টিভিতে ভৌতিক সিরিয়াল দেখে তোর মাথাটা পুরোপুরি গেছে।”
ভাইয়া, আমার শরীর একদম ঠিক আছে। তুই দেয়ালটা ভাঙার ব্যবস্থা কর।
“শোন পাগলী! ওই দেয়াল এত পুরু নয় যে, ওটার ভেতর ডেডবডি লুকিয়ে রাখা যাবে।”
ওরা তো প্লাবন ভাইয়ের শরীরটা খণ্ড খণ্ড করে কেটে তারপর ঢুকিয়েছে।
“জেদের বসে শুধু শুধু দেয়ালটা ভেঙ্গে বাসার সৌন্দর্য নষ্ট করিস না।”
ভাইয়া, তুই দেয়াল ভাঙ্গার ব্যবস্থা কর। প্লিজ!
নিরুপায় হয়ে রাজু সঙ্গে নিয়ে আসা পুলিশ দুজনকে বাথরুমের দেয়াল ভাঙার নির্দেশ দিলো। শাবল দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে পুরো দেয়ালটা ভেঙ্গে ফেলা হলো। দেয়ালের ভেতর কিছুই পাওয়া গেলো না। নিশা ভেবে পেলো না, ওর এখন কি বলা উচিৎ!
“ভাইয়া দেখলেন তো, শুধু শুধু বাসার দেয়ালটা ভাঙতে হলো। আমি আপনাকে অনেকদিন থেকেই বলে আসছি, নিশার মানসিক অবস্থা ভালো না। আর আয়না নিয়ে ফ্যাসিনেশনের কথাটাও তো সেদিন আপনাকে ফোনে জানালাম।”
হুম, সেটাই তো দেখছি।
“ভাইয়া, তুই এই শয়তানটার কথা বিশ্বাস করিস না। আমি নিজের চোখে খুনের ছবিগুলো দেখেছি।”
আরে পাগলী! কেউ কাউকে খুন করলে কি প্রমাণ স্বরূপ কখনও ছবি তুলে রাখে?
“ভাইয়া, আমি বলি কি নিশাকে কিছুদিনের জন্য আপনি বাসায় নিয়ে যান। সবার সাথে কয়েকটা দিন কাটিয়ে আসুক। আর ভালো কোনো মানসিক রোগের চিকিৎসকের কাছে দেখান। আমাদের ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান খোকন ভাইও এটাই সাজেস্ট করলেন।”
হুম। ঠিক আছে, আমি নিশাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি।
“ওরে শয়তান! খুনি! এখন তুই আমাকে মানসিক রোগী বানাবার ষড়যন্ত্র করছিস?” নিশা সত্যি সত্যিই মানসিক বিকারগ্রস্থ মানুষের মত চিৎকার দিয়ে উঠলো।
নিশার কথাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে পথিক রুপুর দিকে ফিরে বললো, “রুপু, তুমি কি নিশার ব্যাগ গুছিয়ে দিতে আমাকে একটু হেল্প করবে?”
অবশ্যই, পথিক ভাইয়া।
পথিকের দিকে তাকিয়ে ক্রুর একটা হাসি দিয়ে রুপু ব্যাগ গোছানোর উদ্দেশ্যে ওদিকের ঘরে পা বাড়ালো।
মনের মধ্যে বিকৃত উল্লাস খেলা করছে রুপুর। ওর আর পথিকের এতদিনের প্ল্যান সফল হবার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলো।
SHARE

Author: verified_user