Thursday

Bangla Boi The Boy In Striped Pajama | Bangla Book Review | Bangla pdf

Bangla Boi The Boy In Striped Pajama | Bangla Book Review | Bangla pdf

Bangla Boi The Boy In Striped Pajama | Bangla Book Review | Bangla pdf



Bangla Boi The Boy In Striped Pajama | Bangla Book Reviw | Bangla pdf


বই : দা বয় ইন দি স্ট্রাইপড পাজামাস 
লেখক: জন বয়েন
অনুবাদক : সালমান হক
প্রকাশনী: বাতিঘর
প্রচ্ছদ : ডিলান
পৃষ্ঠা : ১৪৩ 




লেখক পরিচিতি : 
১৯৭১ সালে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরে জন্মগ্রহন করেন। ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত উপন্যাসের সংখ্যা নয়টি । তার মধ্যে দা বয় ইন দি স্ট্রাইপড পাজামাস বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। এই উপন্যাস নিয়ে মিরাম্যাক্স নামে একটা চলচ্চিত্র নির্মান করা হয়েছে। এই উপন্যাসটি এক কোটির বেশি কপি বিক্রি হয়েছে এবং অনুদিত হয়েছে ৫১টি ভাষায়।

অনুবাদক পরিচিতি : Bangla Book Review



সালমান হক, ব্রাক ইউনিভর্সিটি থেকে অনুজীব বিদ্যায় গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছেন,তিনি নিক পিরোগ এর বিখ্যাত ৩ এ এম সিরিজ অনুবাদ করেছেন এছাড়া,তিনি দ্যা ডিভশন অব সাসপেন্স এক্স, ব্রিজ টু টেরাবেথিয়া অনুবাদ করেছেন, তিনি ড্যান ব্রাউন এর অরিজিন এর যৌথ অনুবাদ করেছেন।এই বইটি দিয়ে সালমান হক এর অনুবাদ জগত এর যাত্রা।এছাড়াও তিনি একাধিক মৌলিক থৃলারও রচনা করেছেন।আর সবচে বড় কথা তিনি ভয়ানক বড় বইপোকা।


যাই হোক গল্পের কথায় আসি: Bangla pdf

একটি সঠিক কস্টচিউম নাকি একটা চরিত্র এর মাঝে ঢুকে যেতে সাহায্য করে।

এই গল্পটিও একটি স্ট্রাইপড পাজামাস এর, মানে ডোরাকাটা পাজামার। 
গল্পের শুরু বার্লিন শহরে সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন। ব্রুন নামের এক ছেলে মা বাবা বড় বোন গ্রেটল আর দাদা দাদীকে নিয়েই আনন্দেই দিন কাটছিল। একদিন স্কুল থেকে ফিরে নয় বছরের ব্রুন দেখতে পেলো তার জিনিশ পত্র গুছাচ্ছে তাদের হোম সার্ভিসার মারিয়া।পরবর্তীতে সে জানতে পারে তার বাবার বদলি হয়ে যায় বার্লিন শহর থেকে দুরে কোথায়। তারপর তাদের সেখানে বসবাস শুরু। শুরুতে ব্রুনোর এলাকা এবং বাসা পছন্দ হয়নি কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মানিয়ে নিতেই হয়। এভাবে একমাস তাদের বাসা আউট উইথ এর আশে পাশে দেখা অভিযান শুরু করে। তাদের বাসা থেকে একটু দূরে বর্ডার তীরবর্তি জায়গায় ব্রুন দেখল একটি ছেলে ডোরাকাটা পাজামা পরা দাড়িয়ে আছে। সে ছেলেটির কাছে গেল এবং কথা বার্তা বলল,,, তারপর শুমেল (ডোরাকাটা পাজামা পড়া ছেলেটির নাম) এর সাথে তার ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেলো। ব্রুন প্রায়ই শুমেল এর জন্য বিভিন্ন খাবার নিয়ে আসত। ব্রুন অভিযান প্রিয় মানুষ, তাই তাদের আলোচনার বেশিভাগ অংশই ছিল অভিযান নিয়ে। এভাবেই একবছর অতিক্রম হয়ে গেলে ব্রুনর বাবা সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা বার্লিন এ ফিরে যাবে। এবং ব্রুন তার বন্ধু শুমেল এর জন্য দোটানায় পড়ে যায়। পরে সে শুমেলকে তাদের ফিরে যাওয়ার কথা জানালে শুমেল তাকে যানায় তার বাবা নিখোজ হয়ে গেছে,, । তারপর ব্রুন সিদ্ধান্ত নেয় শুমেল এর বাবাকে খোজার জন্য বর্ডারের ঐ পারে শুমেলদের এরিয়ায় যাবে। তারপরদিন শুমেল ব্রুনোর জন্য এক সুট ডোরাকাটা জামা নিয়ে এলে তা পরে ব্রুনো ঐ পারে যায়। এবং ঐ পারের এমন অবস্থা দেখে হতাশ হয়। তারপর তাদের অভিযান শুরু হয় কিন্তু শুমেল এর বাবাকে ফিরে পাওয়া যায় না হঠাৎ বৃষ্টি এবং সৈন্য দের মার্চ শুরু হলে ব্রুনো আর শুমেল একটি ঘরে দুজনের হাত ধরে বসে থাকে এবং তারপর?? তারপর আর বলা যাবে না বেশি বলে ফেলেছি, তারপর জানতে হলে পরতে হবে জন বয়েন এর দ্যা বয় অন দি স্ট্রাইপড পাজামাস।

পাঠপ্রতিক্রিয়া:
প্রথমত্ব বলি গুডরিডস এ এই বইটি নিয়ে একটিবাংলা রিভিউ দেখলাম না, তাই বড় করে একটি রিভিউ লেখার ইচ্ছা জাগল,, এই বইটি পড়ার ইচ্ছা ছিল আমার অনেক দিন যাবৎ, তো ফাইনালি পড়লাম। ছোট্ট কিন্তু বিস্ময়কর বই। যুদ্ধ নৃশংসতার আর বন্ধুত্বের কাব্যিক উপস্থাপন, যা পাঠকের হৃদয় ছুয়ে যাবেই। এক কথায় হৃদয়স্পর্শি একটা গল্প। বলা যায় পড়তে পড়তে বার বার মন্ত্রমুগ্ধ হয়েছি। বইটি পড়ার মধ্যে কোনো স্থানেও আমার বিন্দুমাত্র অনীহা লাগেনি। সর্বশেষ পরিনতি খুবই লোমহর্ষক এবং পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে আমার বিশ্বাস। সুতরাং এককথায় অসাধারণ।। 

অনুবাদ প্রসঙ্গে: 
আমি কি অনুবাদ পড়েছি নাকি মৌলিক পড়েছি তা ধরতে পারিনি। সত্যিকার অর্থে অনুবাদ এ মৌলিকতা একদম পারফেক্ট ছিল এবং একবারও মনে হয়নি যে আমি অনুবাদ পরছি। 

রেটিং ৫/৫..


- Medul Al Ayhem
Bangla Golpo  Oporadhi By Alif Khan | Bangla Story Online | Bangla Book PDF

Bangla Golpo Oporadhi By Alif Khan | Bangla Story Online | Bangla Book PDF

Bangla Golpo  Oporadhi By Alif Khan | Bangla Story Online | Bangla Book PDF



গল্পের নামঃ "অপরাধী"
.
লেখকঃ আলিফ খান (মেন্টাল)
.
গল্পটা শুরু হয়েছিল সেদিন,,
আমির খান না না সেই আমির খান না।আমির ইন্টার ১ম তে পড়ে।আমিরের বাবা আমির খানের বিরাট ভক্ত তাই ছেলের নাম আমির খানই রেখে দিয়েছে।যদিও আমির অনেক লম্বা আসল আমির খানের মত খাটো নয়।
যাই হোক,আমির খুবই ভিতু ছেলে।এখনকার ছেলেদের মত মেয়ে দেখলেই শিশ কিংবা ফেসবুকে মেয়ে দেখলেই এড দিয়ে চান্স মারা এসবের মধ্যে নেই।
ফেসবুকে নিজের প্রোফাইল পিকটাও আমির খানের দিয়ে রেখেছে।কারন একটাই সে দেখতে কালো। তার নিজের ছবি দিলে সেগুলা স্কিনশট দিয়ে বিভিন্ন ট্রল পেইজে পোষ্ট করে মজা নেয়।
এভাবেই সাদামাটা দিন-কাল চলছিল তার।
একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমির ফেসবুকে ঢুকল।তাকে কেউ একজন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়েছে। একাউন্ট নাম "মাহিয়া মাহি" ছবি দেয়া নাইকা মাহিয়া মাহির।
আমির একসেপ্ট করে ফেসবুক বন্ধ করে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে কলেজ চলে গেল।
কলেজ শেষ করে দুপুরে ফেসবুকে ঢুকল।
কিছুক্ষন পরই সেই মাহিয়া মাহির ম্যাসেজ
.
মাহিঃস্যার আমি বাংলাদেশ থেকে অভিনেত্রী মাহি বলছি
আমিরঃ মজা নেন আমার সাথে
মাহিঃ মজা না করলে কি করবো, একদিন তো মরেই যাব
আমিরঃকে আপনি? আমার পরিচিত কেউ আমার সাথে মজা নিচ্ছেন
মাহিঃ আপনারে চিনলে সত্যি এড দিতাম না
পাথরের টুকরা
আমিরঃ আমি পাথরের টুকরা হইলে, আপনি তেলাপোকার খালামনি
.
এভাবে খুনসুটি কিছুক্ষন চলার পর বন্ধ হয়ে গেল।
রাতে আমিরের এক বন্ধু বলল "মাম্মা এরকম ফেইক একাউন্ট হাজার হাজার ফেসবুকে"
তারপর রাতে আবার ফেসবুকে আসল আমির।
.
আমিরঃ আমার একাউন্টে কোনো ফেইক আইডির জায়গা নাই
মাহিঃ বলদের নানা ফেইক আইডি চিনেন আপনি
আমিরঃ খুব ভাল চিনি।এবং আমি খুব বুঝতে পারছি এটা ফেইক
মাহিঃ হাম্বার দাদা এত বেশি কেন বুঝেন
আমিরঃ সাবধান একদম গালি দিবেন না।আপনার কথাবার্তাই ছেলে ছেলে গন্ধ পাচ্ছি।মেয়েরা এভাবে কথা বলে নাকি
মাহিঃ ০১৯৬****১৪*
আমিরঃ আমার বন্ধুরা বলছে অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করতে আর অপরিচিত নাম্বারে কল না দিতে
মাহিঃ দিলে কি হয়?
আমিরঃ আইডি হ্যাক হয়ে যায়
মাহিঃ ও মোর আল্লা। ওইটা আমার নাম্বার
.
তারপর আমির ফোন দিতেই ওইপাশ থেকে "এত বলদ কেন" 
আমিরঃ এইটা নিশ্চিত চায়না ফোন ভয়েস চেঞ্জ করে কথা বলছেন
মাহিঃ ওকে রাখলাম
আমিরঃ না না ভালই তো লাগছে। সরি
.
এভাবেই শুরুটা।কথা হত ফেসবুকে ফোনে।
আমির জেনেছিল মেয়েটির নাম "তানিশা সুলতানা মাহি" ক্লাস ৯ম এ পড়ে। চিটাগাং থাকে।
এভাবেই ফোনে,ফেসবুকে,ম্যাসেঞ­­্জারে কথা চলছিল। তারপর একদিন আমির মাহিকে দেখতে চাইল।
মাহি তার ৬টা ছবি আমিরকে দিল।
আমিরঃ বাহ তুমি তো নাইকা মাহির চাইতেও বেশি সুন্দর।আকাশের চাঁদ
মাহিঃ পাম পরে দাও।তুমার ছবি দাও
আমিরঃ না না আমি দেখতে অনেক খারাপ।
মাহিঃ এতদিন যাবত কথা বলছি হয়ত বন্ধুর চাইতে কিছুটা বেশি হয়ে গেছো। আমার কি তোমাকে দেখতে ইচ্ছা করে না"
আমিরঃ প্রথমে কি বললা ;
মাহিঃ কিছু না। ছবি দাও
.
আমির তার ছবি দিল।দেখতে কালো,চাপা ভাংগা,চিকন আমিরকে দেখে মাহির রিপ্লে ছিল "প্রথমবার সুন্দর দেখে পা বাড়িয়েছিলাম,এবার অসুন্দর দেখেই পা বাড়াই,দেখি ভালবাসাটা কোথায়? "
তারপর তাদের কথা হত।তাদের কথা বলার মাধ্যম ফেসবুক কিংবা ফোন থেকে ইমু,হোয়াটস এপ এ চলে গেল কিছুক্ষন পর পরই ভিডিও কল।তাদের রিলেশনশিপটা আন-অফিশিয়াললি ভালবাসা হয়ে গিয়েছিল।শুধু মুখে বলা বাকি ছিল।তাদের দুজনেরই আগে রিলেশন ছিল সেগুলা শেয়ার করে নিল।
তারপর একদিন আমির বলছে,,
আমিরঃ আমি আজকে কি স্বপ্নে দেখছি যানো
মাহিঃ কি
আমিরঃ আমার সাথে একটা মেয়ের বিয়ে হইতেসে। পাত্রির ঘোমটা খুলার পর দেখি একদম তোমার মত চেহারা।তারপর আমি অজ্ঞান হয়ে গেছি আর ঘুম থেকে উঠে গেছি।
মাহিঃ আমিও আজকে সেইম স্বপ্ন দেখছি
আমিরঃ দুজনকে সেইম স্বপ্ন দেখানোর মানে কি? তাহলে কি আল্লাহ চায় এটা হোক।
মাহিঃ হয়ত
আমিরঃ আল্লাহ যা চাইবে তা তো আমাদের করতেই হবে বাধ্যতামূলক। তাই আমি মেনে নিলাম শুধু আল্লাহর ইচ্ছায়।
মাহিঃ আমিও।
.
তারপর ভিডিও কলটা কেটে দুজনেরই ঠোটের কোনে মুচকি হাসি।
এভাবে রিলেশনশিপ শুরু।তারপর থেকে কথা বলার মাত্রা আর বেড়ে গেল। রাত ১০টা থেকে সকাল ৫টা অবদি কথা হত।
প্রায় ৬মাস হয়ে গেছে।তারা এখন দুজন দুজনকে ছাড়া ১মিনিট থাকতে পারে না।
এবার তারা প্লানিং করছে দেখা করার।
দুজন মিলে ফিক্সড করলো ১২তারিখ দেখা করবে।আমির ঢাকা থেকে চিটাগাং যাবে।মাহি বোরকা পড়ে দেখা করতে আসবে।
আমিরঃসকাল ১০টায় বাস। কত টাকা নিয়ে বের হব?
মাহিঃ ১০হাজার।
আমিরঃ এত কমে হবে নাকি? আমার জমানো টোটাল ১৫হাজার নিয়েই বের হব এবং আমার মাহিমনির জন্য একটা সারপ্রাইজ গিফট থাকবে
মাহিঃ আমার কিচ্ছু লাগবে না শুধু তোমার হাতে হাত রাখতে চাই।
পরের দিন আমির বাসে উঠে গেছে।বাসে সারাক্ষন কথা বলতে বলতে গেল। চিটাগাং যেই পার্ক এ তাদের দেখা করার কথা সেখানে আমির বসে আছে। হাতে একটা গিফট এবং একটা লাল গোলাপ।
কিছুক্ষন পর আমির দেখতে পাচ্ছে। বোরকা পরে কাধে ব্যাগ ঝুলিয়ে একটা বাচ্চা মেয়ে যার মুখ ঢাকা এদিকেই আসছে। কিছুটা দূরে থাকা অবস্থায় দৌড়ে এসে আমিরকে জড়িয়ে ধরলো। পার্ক এর অন্যরা সবাই তাকিয়ে আছে।মাহি আমিরকে জড়িয়ে ধরে কাদছে।
আমিরঃ এই পাগলী কাদে কেন? ছাড় সবাই দেখছে।
মাহিঃছাড়ব না। 
আমিরঃ আচ্ছা এদিকে মানুষ। চল ওইদিকে যাই।
তারপর তারা একটু ভিতরের দিকে গেল যেখানে মানুষ নেই বললেই চলে।
তারা দুজন বসলো।
.
হঠাত ৫-৬টা ছেলে আসলো। তাদের ঘিরে ধরল, একজন আমিরের গলায় ব্লেড ধরলো।
আমিরঃ প্লিজ যা লাগে নিয়ে যায় কিন্তু আমার মাহির কোনো ক্ষতি করো না।
তখন সেই ৫জনের থেকে ১জন বলে "যা করার তোকেই করবো,ম্যাডামকে করবো কেন?
তখন আমির মাহির দিকে তাকিয়ে দেখে মাহি বোরকা খুলে আধুনিক ড্রেসে দাঁড়িয়ে আছে আর আমিরের দিকে তাকিয়ে হাসছে।
এদিকে ওরা আমিরের মোবাইল,১৩হাজার টাকা সব হাতিয়ে নেয়। ফুলটা পারাচ্ছে সবাই এবং শেষ এ মাহিও একটা পাড়া দিল।
ছেলেগুলা গিফটটা ছিড়ে দেখে "একটা আই-ফোন" 
মাহি আমিরকে বলেছিল তার মোবাইলটা ভাংগা তাই আমির এটা নিয়ে এসেছিল।
ছেলেগুলা সব হাতিয়ে নিয়ে বলছে "ম্যাডাম চাহিদা অনুযায়ী পেলাম না তো"
মাহিঃ ঘাড়ের রক কেটে দে
আমিরঃ দাড়াও দাড়াও আর ৫হাজার টাকা দিতে পারবো।
মাহিঃ জলদি ব্যাবস্থা কর। অন্য ছেলের আসার টাইম হয়ে গেছে।
আমির তার বন্ধুর কাছে রাখা ৫হাজার টাকা বিকাশে এনে ওদের দিল। ওরা ওকে ভাড়া দিয়ে চলে গেল।
আমির প্রায় ৫মিনিট মাটিতেই থুম খেয়ে বসে ছিল।তারপর উঠে আস্তে আস্তে এসে বাসে উঠে গেল।
ঢাকায় এসে তার বন্ধুকে সব বললে,আমিরের বন্ধু বলে,
বন্ধুঃ চল মামলা করমু
আমিরঃ থাম। আদালতের কাঠগড়ায় ওকে দাড়াতে দেখতে পারবো না আমি কিন্তু মনের কাঠগড়ায় ও সারাজীবন অপরাধী হয়ে থাকবে।




-----


Bangla Story Online
-"অর্থি,, ও অর্থি? তোর বাবা এসেছে। তাড়াতাড়ি আয়,, দেখে যা। ডাকছে তোকে।"
অর্থি মায়ের কথার তাল না দিয়ে প্লেটে ভাত বাড়তে লাগলো। দুধ টা গরম হবে কখন কে জানে! আম্মা তো আবার ঘন জ্বাল পড়া দুধ ছাড়া খায় না। এর ভেতর কি একবার গিয়ে দেখে আসবে সত্যিই কি বাবা এসেছে তার মায়ের ঘরে?? হুর.... এটা কি আদৌ সম্ভব নাকি! মায়ের কথা শুনে শুনে নিজের জ্ঞান বুদ্ধি ধীরেধীরে লোপ পাচ্ছে তার....
বেশ খানিকটা সময় নিয়ে দুধ টা জ্বাল করলো অর্থি। তারপর ভাতের মাঝে ঢেলে নিয়ে একদম নরম করে মাখিয়ে দিয়ে নিজের হাত ধুয়ে ফেললো সে। চিনির কৌটো খুলে পাশেই সামান্য চিনি ঢেলে সে পা বাড়ালো মায়ের ঘরের দিকে। এই টুকু সময়ের ভেতর মা একটা বার ডাকেও নি। সেই যে বাবা এসেছে বলে ডাকছিল সেটাই শেষ ডাকা। ঘুমিয়ে টুমিয়ে পড়লো নাকি আবার কে জানে!
ঘরে ঢুকতেই অর্থি দেখলো সে যা ভেবেছিল সেটাই। তার মা ঘুমিয়েই পড়েছে। ডাকবে কি? ভাতের প্লেট আর গ্লাস একপাশে নামিয়ে রেখে হালকা গলায় ডাকলো অর্থি,
-"আম্মা, আম্মা? ঘুমিয়ে পড়েছো?"
শান্তি বেগম এ ডাকের কোনো জবাব দিলেন না। দেখে মনে হচ্ছে গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। দ্বিতীয়বার মাকে ডাকতে গিয়ে গলা কেপে উঠলো অর্থির। গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেও তো আম্মা নিশ্বাস ফেলছে না! আম্মা কি তাহলে আর কোনোদিন তার ডাকের জবাব দেবেন না? ভাবতেই বুকটা কেপে উঠলো অর্থির। খুব ধীরগতিতে সে হাত রাখলো তার মায়ের বুকে। উহু,, বুক ওঠানামা করছে না। এরপর হাতের পালস দেখার জন্য হাত ধরতেই সে টের পেল তার মায়ের হাত টি ঠাণ্ডা বরফ হয়ে রয়েছে। এক অদ্ভুত ঠান্ডা,, এমন ঠাণ্ডাভাব সে কখনওই অনুভব করে নি। মায়ের হাত হাত থেকে নামিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো অর্থি। সে বুঝতে পারছে না এখন কি করবে সে! চিৎকার করে কাঁদবে? ছুটে বের হয়ে যাবে রাস্তায়? লোক ডাকবে? না.. আপাতত একটিও করতে ইচ্ছে করছে না তার। সে মায়ের ফোনটি খুঁজতে লাগলো। কোথায় রেখেছে আম্মা ফোনটি??
ঐতিহ্য চুলোয় রান্না বসিয়েছে। নিহাল সন্ধ্যায় ফেরার সময় খাসির মাংস এনেছে। বায়না ধরেছে আজ রাতে খাসির মাংস দিয়ে গরম ভাত খাবে। প্রথম প্রথম এই গরমের ভেতর এসব ঝামেলা করতে রাজী না হলেও পরবর্তীতে নিহালের বায়নায় কাছে হারতে হয়েছে তাকে। অবশ্য এখন তেমন একটা গরমও লাগছে না। আকাশে মেঘ ধরিয়েছে। বৃষ্টি হবে হয়তো....
-"এই ঐতিহ্য? তোমার ফোন বাজে.."
রান্নাঘর থেকেই চেঁচিয়ে উত্তর দিল ঐতিহ্য,
-"দিয়ে যাও।"
-"আমি কাজ করছি। তুমি নিয়ে যাও।"
কথাটা শোনার সাথে সাথেই মেজাজ টা চরম লেভেলের খারাপ হয়ে গেল ঐতিহ্য। এই ব্যাটার আবদার পূরণ করতেই এতো রাতে এসব রাঁধতে বসেছে সে!!
ঘরে এসে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কিছুটা অবাক হলো ঐতিহ্য। আম্মার নাম্বার থেকে কল এসেছে। বাবা মারা যাবার দিন ওভাবে বাড়ি ছেড়ে বেড়িয়ে আসার পর থেকে কখনোই তার মা তাকে কল করেনি। তাহলে হঠাৎ আজ কি এমন মনে করে কল দিল? তার প্রেগন্যান্সির খবর পেয়েছে নাকি কোনোভাবে!! ফোন রিসিভ করে মৃদু গলায় ঐতিহ্য বললো,
-"হ্যালো,, আম্মা...."
সাথেসাথেই ওপাশ থেকে শুনতে পেল অর্থির গলার আওয়াজ।
-"আপু.......?"
আপু ডাক শোনার সাথে সাথেই বুকের ভেতর থেকে এতদিন পুষিয়ে রাখা অভিমানের পাথর টি নেমে গেল ঐতিহ্যর। এতোদিনের তীব্র এক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেল শেষমেশ...
-"কেমন আছিস রে তুই? রাগ করেছিলি আমার উপর.. না?"
ধীর গলায় উত্তর দিল অর্থি,
-"উহু..."
-"তাইলে এতোদিন একটাবার কল দিস নি কেন! এতোটাই খারাপ কি তোর এই বোনটা? বল,, খুব খারাপ?"
-"উহু...."
-"এই কয়টা মাস এভাবে আমাকে ভুলে থাকতে পারলি তুই? একবারো আমার সাথে কাটানো সময় গুলোর কথা তোর মনে পড়লো না?"
-"মাফ করে দাও আমায়, আপু। আমার ওভাবে সেদিন কথা বলা উচিৎ হয় নি।"
-"আরে বোকা,, কাঁদছিস কেন? আমি তোর ওদিনের কথায় কিছুই মনে করিনি। তুই তো ভূল কিছু বলিস নি।"
-"ভুলই বলেছি.. বাবার যখন যেভাবে মৃত্যু লেখা ছিল সেভাবেই হয়েছে। শুধুশুধু সেদিন না বুঝে যা নয় তাই বলেছি। প্লিজ, আপু আমাকে মাফ করে দাও..."
-"আমি কিছুই মনে করিনি... বাদ দে এসব কথা। তুই কোথায়? কেমন আছিস? আর আম্মার নাম্বার দিয়ে কল দিলি যে!"
মায়ের কথা উঠতেই হুশ ফিরলো অর্থির। সে কি বলতে কল করেছিল,, আর কি বলছে!!
-"হ্যাঁ,, আপু। আ.. আম্মা আর নেই।"
বলেই ব্যাকুল স্বরে কাঁদতে শুরু করলো অর্থি। ঐতিহ্য কিছু সময় নিল সব কিছু বুঝে উঠার। তারপর কাঁপাকাঁপা গলায় বললো,
-"ইন্নালিল্লাহ... কখন কিভাবে? আর কোথায় তোরা?"
-"বাসায়, আপু। প্লিজ, তুমি তাড়াতাড়ি চলে এসো। এখনি আসো, আপু। আম্মাকে এভাবে একা নিয়ে থাকতে ভয় লাগছে।"
হতভম্ব হয়ে ঐতিহ্য বললো,
-"একা মানে? ভাইয়া ভাবি কোথায়?"
-"নেই,, তুমি তাড়াতাড়ি আসো।"
-"হু,, আমি আসছি। তুই একদম ভয় করিস না। পারলে নিচ তলার ভাড়াটিয়া দের কাওকে ডাক।"
-"তুমি তাড়াতাড়ি আসো, আপু।"
ফোন কেটে দিয়ে আর একসেকেন্ড দেরি করলো না ঐতিহ্য। চুলো বন্ধ করে দিয়ে নিহালের সামনে এসে বললো,
-"ওঠো, তাড়াতাড়ি। গুলশান যেতে হবে। আম্মা মারা গেছে। বাসায় কেউ নেই অর্থি ছাড়া। ও খুব ভয় পাচ্ছে। তাড়াতাড়ি যেতে হবে।" 
ঐতিহ্যর কথা শুনে হতবাক হয়ে গেল নিহাল। কি সব বলছে ঐতিহ্য?
-"উঠছো না কেনো? তুমি কি যাবে না আমার সাথে?"
-"যাবো..... কে কল করেছিল?"
ঐতিহ্য বিরক্ত গলায় জবাব দিল,Bangla Book PDF
-"যার ইচ্ছে সে কল করেছিল.. তোমাকে এখন বলতে আমার হবে কে কল করেছিল! আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না তোমার? আমার নিজের আম্মার মৃত্যুর খবর নিয়ে মজা করবো আমি!!"
ঝাড়ি খেয়ে আর কোনো প্রশ্ন করলো না নিহাল। যে অবস্থায় ছিল দুজন সেই অবস্থায়ই বেড়িয়ে পড়লো গুলশান ২ এর উদ্দেশ্যে।
সারারাতে মাহসানের কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না। ফোনটাও বন্ধ। হয়তো অতৈন্দ্রিলা নামের মেয়েটার সাথে এক অপবিত্র খেলায় মেতে আছে। তাই আর রাতে শান্তি বেগমকে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিল না অর্থিরা। দুই বোন মিলে সারারাত মায়ের পাশে বসে স্মৃতিচারণ করতে লাগলো মায়ের। মাঝে সামান্য মাহসান এবং তৃষ্ণার ব্যাপার নিয়েও হালকা আলোচনা হয়ে গেল অর্থি এবং ঐতিহ্যর মাঝে।
খুব ভোরের ট্রেনে তৃষ্ণাকে নিয়ে তৌহিদ রওনা হলো ঢাকার উদ্দেশ্যে। রাতে শাশুড়ি মারা যাবার খবর পেলেও তৃষ্ণার এই অবস্থা নিয়ে রাতেই রওনা হবার সাহস পাচ্ছিল না তৌহিদ। ওদিক থেকে অর্থিও নিষেধ করছিল। তাই ভোরের অপেক্ষাতেই পুরো রাত নির্ঘুমে কাটিয়ে ভোর হবার সাথে সাথেই তৃষ্ণাকে নিয়ে রওনা হলো তৌহিদ। সিটে বসেই বোনের উদ্দেশ্যে বললো,
-"কাঁদছিস কেন! আল্লাহর জিনিশ আল্লাহ নিয়ে গেছে। কেঁদে কেঁটে কি লাভ?"
-"লাভ লোকসান হিসেব করে কেউ কাঁদে না, ভাইয়া।"
-"তারপরও কাঁদবি না। কান্নাকাটি করে নিজের শরীর খারাপ করার কোনো মানে আছে!"
-"তুমি বুঝবে না। আম্মা আমার কাছে কি ছিল আমি জানি.... কেন আমি কাল আসতে গেলাম! আমি না আসলে বোধহয় আম্মার কিছু হতো না।"
-"বোকার মত কথা বলছিস কেন! তোর আশা যাওয়ার সাথে মারা যাবার কি সম্পর্ক! পৃথিবী টা দিনেদিনে কুসংস্কারে ভরে যাচ্ছে।"
তৌহিদের কথার পিঠে কোনো কথা বললো না তৃষ্ণা। পুরো রাস্তা নিরবে অঝোর ধারায় চোখের জল ফেললো সে।
দুপুর ১২ টার দিক বাসায় ফিরলো মাহসান। বাসার সামনে এত ভিড় দেখে কিছুটা অবাক হলো সে। গাড়ি থেকে নেমে উপরে উঠতে যাবে এমন সময় এক ভাড়াটে এসে বললো,
-"আরে ভাই! কোথায় ছিলেন আপনি?"
মুখে বিরক্ত ফুটিয়ে মাহসান জবাব দিল,
-"আপনাকে বলতে হবে!"
মাহসানের উত্তরে কিছুটা লজ্জিত বোধ করলো লোকটি। হালকা কেশে বললো,
-"আমাকে বলতে হবে তেমন কিছু বলি নি। আপনার মা কাল রাতে মারা গেছে। অথচ আপনার কোনো খোঁজখবর নেই। আপনার জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে যোহরের নামাযের পর মাটি ঠিক করেছে। তাই বলছিলাম....."
লোকটির কথা শুনে আর দেরি করলো না মাহসান। দৌড়িয়ে উঠে গেল দোতালায়...
যোহরের নামায শেষে মাটি হয়ে গেল শান্তি বেগমের। ছেলেমেয়ে, আত্মীয়স্বজন পরিবার ছেড়ে চিরকালের মতো সেও বিদায় নিল স্বার্থপর এই পৃথিবী ছেড়ে। তাকে ধোয়ানো থেকে শুরু করে মাটি পর্যন্ত সব দিকের দায় দায়িত্ব পালন করলো তৌহিদ।
বিকেলের মাঝে সব আত্মীয় স্বজন যে যার মত চলে গেল। মহসিন চৌধুরী এবং শান্তি বেগমের একসময়কার এই সুখের নীড়ে শুধু রয়ে গেল তার ছেলেমেয়েরা। নিহাল এবং তৌহিদ মাগরিবের নামাযের উদ্দেশ্যে বের হতেই ঐতিহ্য ঢুকলো তার ভাই মাহসানের ঘরে। মাহসান এই ভরা সন্ধ্যায় ঘর অন্ধকার করে বিছানায় শুয়ে রয়েছে। ঘুমিয়েছে কি?
-"ভাইয়া,, ঘুমিয়েছো?"
চোখ খুলে উঠে বসলো মাহসান। বললো,
-"না,, আয়।"
-"নামাযে গেলে না?"
-"না।"
-"অন্যদিন নাই বা পড়লে। আজ তো আম্মার খাতিরে নামাযে যেতে পারতে।"
ওপাশ থেকে মাহসানের সাড়া না পেয়ে ঘরের আলো জ্বালালো ঐতিহ্য। তারপর ভাইয়ের পাশে গিয়ে বসলো।
-"কিছু কথা ছিল..."
-"বল।"
নিজের মনকে সাহস যুগিয়ে ঐতিহ্য তীক্ষ্ণ গলায় বললো,
-"আমি আর নিহালের সাথে থাকতে চাই না।"
ঐতিহ্যর এ কথায় হতবাক হয়ে মাহসান বললো,
-"কেন! কি সমস্যা?"
-"অনেক সমস্যা।"
-"আমাকে খুলে বল। কিছু করেছে নিহাল?"
-"ও একটা ক্যারেকটারলেস ছেলে, ভাইয়া। ওর মতো বাজে স্বভাবের ছেলের সাথে আমি সারাজীবন কাটাতে পারবো না। ওর আমাকে ছাড়াও বাইরে হাজার টা মেয়ের সাথে রিলেশনশিপ আছে। আমি নিজে চোখে ওকে বাজেবাজে সব মেয়েদের সাথে দেখেছি।"
-"কি সব বলছিস এগুলো! নিহালকে দেখে, ওর সাথে কথাবার্তা বলে তো এসবের কিছুই বোঝা যায় না। তুই কি ঠিকঠাক জেনে বলছিস?"
-"হু... আমি নিজ চোখে দেখেছি।"
বোনের কথায় নিজেকে আর সামলাতে পারলো না মাহসান। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
-"কেন! নিজে ওর হাত ধরে পালিয়ে গিয়েছিলি না! তাহলে আজ আমাকে এসব বলতে আসছিস কেন! পালানোর সময় এসব মনে ছিল না! এখন যা হবে নিজে সামলা। হারামজাদা নিহালের বাচ্চা নিহাল। ওরে দেখেই আমার ক্যারেকটারলেস মনে হইছে। ক্যারেকটারলেস না হলে কোনো শিক্ষক ছাত্রীর সাথে প্রেম করতে পারে! পালিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করতে পারে! ওই কুত্তার বাচ্চা কই রে! ওরে যদি আজ আমি ওর জায়গা না দেখাই দিছি আমার নাম মাহসান না। শালার সাহস দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি আমি। আমার বোনের সাথে বাটপারি করে! কোথায় ওই কুত্তার বাচ্চা?"
বলতে বলতেই ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে গেল মাহসান। ছোট্ট একটা নিশ্বাস ফেলে ঐতিহ্যও পিছু নিল তার ভাইয়ের।
নিহাল এবং তৌহিদ মসজিদ থেকে বের হতেই তৌহিদ বললো,
-"আপনি বাসার দিকে এগোন। আমি দেখি হালকা নাস্তা টাস্তা নিয়ে আসি।"
-"চলুন,, একসাথেই যাই।"
-"আমার সামান্য কাজও ছিল। আপনি যান,, আমি আসছি।"
আর কথা বাড়ালো না নিহাল। মৃদু হেসে রওনা দিল বাড়ির দিকে।
বাসায় ঢোকার সাথেসাথেই মাহসান এসে সরাসরি পাঞ্জাবির কলার চেপে ধরলো নিহালের। পরিস্থিতি কিছু বুঝে উঠবার আগেই নিহালের গালে কষিয়ে থাপ্পড় বসিয়ে দিল মাহসান।
-"শুয়ারের বাচ্চা। ঘরে বউ রেখে বাইরে বেশ্যা দরকার পড়ে তোর? তাইলে বিয়ে করছিলি কেন! বেশ্যাপাড়ায় গিয়ে নিজের শরীরের ঝাঁজ মেটাইতে পারিস নাই? আমার বোনের সাথে চিটারী করিস তুই? চিনোস আমারে? তোর কি হাল করতে পারি আমি সে সম্পর্কে তোর কোনো আইডিয়া আছে? ছোটলোকের বাচ্চা ছোটলোক। আমার বোনকে কষ্ট দিছোস তুই! বান্দির পো আমার বোনরে কষ্ট দিছোস!"
অর্থির ঘরে চুপচাপ শুয়ে ছিল তৃষ্ণা। হঠাৎ মাহসানের চেঁচামেচি শুনে বেড়িয়ে এল ঘর ছেড়ে। ড্রইং রুমে এসে অবাক হয়ে গেল সে। মাহসান ঐতিহ্যর হাজবেন্ডের কলার ধরে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করছে। পাশেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে সেই কান্ড দেখছে ঐতিহ্য এবং অর্থি। কি হচ্ছে এসব!! এগিয়ে গিয়ে মাহসান কাঁধে হাত রেখে তৃষ্ণা বললো,
-"কি করছো এসব! ছাড়ো ওকে! এভাবে গালিগালাজ করছো কেন!"
মাহসান তৃষ্ণার হাত কাঁধ ছেড়ে নামিয়ে দিয়ে বললো,
-"তুই সর এখান থেকে। তোর কাছে জবাবদিহি করতে হবে আমার!"
তৃষ্ণার সাথে এভাবে কথা বলতে দেখে এবারে মুখ খুললো ঐতিহ্য। ভাইয়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো,
-"ছাড়ো ওকে,, ভাইয়া।"
-"ওকে ছাড়বো কি! ওকে আজ বুঝাই দিব কি ভুল টা করেছে ও!"
ভাইয়ের কথায় উঁচু গলায় ঐতিহ্য বললো,
-"ছাড়তে বলেছি ছাড়ো। আর তুমি কি বুঝাবে ওরে! তুমি নিজেই তো একটা ক্যারেকটারলেস। ঘরে বউ রেখে বাইরে শরীরের ঝাঁজ মেটাও। প্রেগন্যান্ট বউকে এই সময়টায় সাপোর্ট না করে বাজে ব্যবহার করো তার সাথে। মাত্রই তো তার নমুনা দেখলাম।"
বোনের এমন কথায় হতভম্ব হয়ে নিহালকে ছেড়ে দিল মাহসান। ওদিক থেকে ঐতিহ্য বলার উপরেই আছে....
-"নিহাল এমন ধরনের ছেলে নয়। নিহালের সাথে সারাজীবন কেন, মরনের পরও আমি ওর সাথে থাকতে চাই। এতোক্ষণ তোমাকে মিথ্যা বলেছি। শুধুমাত্র এটাই বোঝানোর জন্য,,,,, নিজের বোন বোন আর অন্যের বোন কারো বোন নয়? নিজের বোন মেয়ে আর অন্যের বোন কারো মেয়ে নয়? নিজের বোন মানুষ আর অন্যের বোন মানুষ নয়? নিজের বোনের কষ্ট আছে আর অন্যের বোনের কষ্ট নেই? নিজের বোনের বেলায় ঠিকই ষোলো আনা অথচ অন্যের বোনের বেলায় এক আনা!! তুমি ভুলে গেলে আবারো তোমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি, তৃষ্ণা ভাবিও কারোর বোন।"
(চলবে)

Friday

Bangla Romantic Uponnash Free Download | Bangla Story Book | রোমান্টিক এবং ড্রামাটিক উপন্যাস নীলাভ প্রাপ্তী

Bangla Romantic Uponnash Free Download | Bangla Story Book | রোমান্টিক এবং ড্রামাটিক উপন্যাস নীলাভ প্রাপ্তী

Bangla Romantic Uponnash Free Download | Bangla Story Book | রোমান্টিক এবং ড্রামাটিক উপন্যাস নীলাভ প্রাপ্তী

Bangla Romantic Uponnash Free Download | Bangla Story Book | রোমান্টিক এবং ড্রামাটিক উপন্যাস নীলাভ প্রাপ্তী


রোমান্টিক এবং ড্রামাটিক উপন্যাস নীলাভ প্রাপ্তীলেখা: নুসরাত ও সিনথিয়া


পর্ব -45
গিয়ে সবাই দেখল যে বাসার ভেতর সাজানো হয়েছে, সবাই হাসিখুশী! তিন্নিরাও এসেছে, জয়ার মাও এসেছে, মুখ দেখে মনে হচ্ছে যে খুব কেঁদেছেন! যা স্বাভাবিক, হাজার হোক মা তো! নিলান্তির মা তাকে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দিল, একটু পর মিসেস ফেবিওলা আর মার্থা এল, নিলান্তির সার্জারীর কথা তারা বলবে.. জয়ার মা নিজেকে সামলে বলল যে আজ তার আর দুঃখ নাই! শুধু আফসোস আছে কিন্তু নিজের মেয়ের শাস্তি হয়ে ভাল হয়েছে তা তিনি মানছেন.. হঠাৎ বাসার কাজের বুয়া এসে বলল যে দিলরুবা রা এসেছে! তারা এসে সংকোচে ঢুকল এটা ভেবে যে এখনও বুঝি জয়ার দৌরত্ব আছে! নাফিসা তাদের হাসিমুখে বলল যে খুবই শুভ সময়ে তারা এসেছে! এরপর সব বলল.. খুব খুশী তারা! রবিন বলল যে তাদের তো জয়ার এসব ব্যাপারে জানানো হয়েছে অনেক পরেই এরপর বহুদিন দেশে আসা হলনা, গতকাল এসেও জানায়নি সারপ্রাইজ দিবে বলে! এবার সব গুছিয়ে দেশে একবারেই আসা! ওদের আমেরিকায় তেমন ভাল লাগছিলনা! তাছাড়া শাফিনদের নিয়ে খুবই চিন্তায় ছিল.. নিলান্তির মা ওদেরকে নিলান্তির সাথে পরিচয় করাল ছন্দলীনা হিসেবে.. বাড়ির সবাই ওর কথা খুব বলল, নিলান্তির মা হুট করেই বলে ফেলল যে শাফিন আর ছন্দলীনা খুব ভাল বন্ধু, তারা একসাথে মিলে জয়াকে প্রতিহত করেছে, দুজনই নিলান্তিকে ভালমত মনে রেখেছে আর রাখবেও.. দুজন এভাবেই যদি বাকি জীবন কাটিয়ে দেয় খুব ভাল হয়, সবাইকে জিজ্ঞাসা করল যে ব্যাপারটা কেমন হয়? সবাই কন্ফিউজড হল.. শাফিন শুধু নিলান্তির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতে থাকল, নিলান্তিরও লজ্জায় মুখ আরক্ত হল..! রবিন তা লক্ষ্য করে অবাক হল....
রবিন: (শাফিনের হাতে খোঁচা দিয়ে) কিরে শাফিন? এই মেয়ের প্রেমে পরছিস নাকি? এত সহজে নিলান্তিকে ভুলে গেলি? আর কে বলতে পারে যে এই মেয়ের চেহারার আড়ালে জয়ার মত উদ্দেশ্য আছে কিনা! ওর কি স্বার্থ যে এতকিছু করল? (ফিসফিস করে বলল) শাফিন: আরে ভাইয়া, কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর, সব বুঝবা!
নাফিসা: জ্বী আন্টি আপনি যা বলছেন তাই হবে...
শাহেদ: নাফিসা! কি বলতেছ তুমি! মানে হুট করে এই সীদ্ধান্ত কেন??
মিসেস আহমেদ: বড় বৌমা কি কইতাছ..!
শাহেদ: শাফিন, তোরা দুজন কি পছন্দ করিস দুজনকে??
নিলান্তির বাবা: শাহেদ, মেয়ে আমাদের খুব লক্ষী.. চিন্তা করোনা তোমরা.. নাফিসা: আচ্ছা এখন সবাই একটু চুপ করে বসেন! কিছু কথা বলার আর দেখানোর আছে! যা দেখে কিছুক্ষণ বিশ্বাস করা কষ্ট হবে! কিন্তু এই সত্যটাকে মানতেই হবে...
মিসেস আহমেদ: আবার কি দেখাইবা?? নিলান্তির মা: আবার খারাপ কিছু নাতো??
নাফিসা: (হেসে) আরে না! বসেন আপনারা....
এরপর শুরু থেকে সমস্ত কিছু এক এক করে বলতে থাকল নাফিসা! শাফিনও মাঝে দিয়ে দিয়ে বলল, ফেবিওলা এরপর প্লাস্টিক সার্জারীর ডকুমেন্ট দেখাল, মার্থাও ওর ইতালীর কথা সব বলল, আর নাফিসা সেই মেয়ের বিয়ের ছবিও দেখাল যাকে মৃত নিলান্তি ভেবে কবর দেয়া হয়েছিল! নিলান্তির চোখ তখন ছলছল করছে! নিলান্তির মার হাত থেকে খাবারের বাটি পড়ে গেল! হঠাৎ এসব শুনে তিনি সামলে উঠতে পারলেন না! তখনই তানি আর রাকিব এল.. তানি বলল যে ও ই সবার আগে এটা বুঝেছিল নিলান্তির পীঠের জন্মদাগ দেখে আর শাফিন ডিএনএ টেস্টের কথা বলল! নিলান্তির মা শক্ত হয়ে বললেন যে তিনি নিজে একবার আলাদা দেখতে চান.. যথারীতি একটা রুমে গেলেন, দাগ দেখার পর আর সন্দেহের অবকাশ থাকলনা! হাউমাউ করে কান্না শুরু করলেন তিনি আর চড় ও মারলেন নিলান্তিকে যে এতদিন তাদের সাথে থেকেও কেন বলেনি! ওকে ছাড়া ওর পরিবারের সবার কতটা খারাপ অবস্থা হয়েছিল তাও বলল! এরপর মা মেয়ে দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ কাঁদল..!!
রবিন: শাফিন, সরি রে! আমি না বুঝে কি বললাম তোকে!
শাফিন: আরে ভাইয়া! আজ খুশীর দিন! নো সরি...
দিলরুবা: ওয়াও! দ্যাটস এ্যামেইজিং! ভাবী.. তোমার নিলান্তি হারায় নি! মিসেস আহমেদ: সবকিছু শপনের মতন লাগতাছে! তোরা কেউ কিচ্ছু কইলিনা এত্তদিন! আমার মাইয়া যারে ভুল বুইজা কত মন্দ কইছি, আজ তার থেইকা মন ভইরা মাফ চামু...
ইরা: সত্যি নানী আজকে আমিও তোমার সাথে একমত হলাম.. (কেঁদে) আব্বু আম্মুকে ফোন দিয়ে আসতে বলতেছি... অভি: তানি, তুমি আমাকে পর্যন্ত কিছু বললানা!
তানি: আসলে তখন না সময়টা ঠিক ছিলনা.. রাগ করোনা.. সরি..
অভি: ইটস ওকে.. বুঝতে পারছি.. যাক নিলান্তি বেঁচে আছে এর চেয়ে আনন্দের আর কি হইতে পারে..
এদিকে শায়ান আলাইনাও খুশীতে কাঁদল কতক্ষণ! নিলান্তিরা রুম থেকে বের হতেই জড়িয়ে ধরল!
শায়ান: কেন তখন আমাদের ছেড়ে যাওয়ার মত কাজ করছিলা আম্মু?? আমরা কত্তটা হেল্পলেস হয়ে গেছিলাম! সেই ছোট্টবেলাতেও তোমার সাথে থেকেই সুন্দর ভাবে বড় হয়েছি, কেন আমাদের ছেড়ে যেতে চাইছিলা?? আলাইনা: সবাই বলত যে মারা গেলে কেউ আর আসেনা! কিন্তু আমি এটা বিশ্বাসই করতাম না! আজকে আমার কথাই সত্যি হল! হিহিহিহি..
শায়ান: কিন্তু আম্মু আমার অভিমানটা এখনও আছে... নিলান্তি বাচ্চাদের জড়িয়ে ধরে কাঁদল কতক্ষণ!
নাফিসা: আরে আজ কত্ত কত্ত খুশীর দিন আর তোমরা! আর শায়ান বাবা, এত অভিমান রাখতে নাই..
শায়ান: তাহলে প্রমিস কর আম্মু যে আর কখনো ছেড়ে যাবানা!
নিলান্তি: প্রমিস করলাম বাবা.. আলাইনা: আমিও প্রমিস চাই চাই চাই... এরপর সবাই মাফও চাইল নিলান্তির কাছ থেকে. খুব ভারী আর আবেগীয় পরিবেশ সৃষ্টি হল! জয়ার মাও বুকে টেনে নিলেন নিলান্তিকে! আর বললেন যে এখন সবই ঠিক হয়ে গেছে.. এতদিন সব ভুল হচ্ছিল! নাফিসা ইরাকে বলল রাকিবের পরিবারের সবাইকে ডেকে আনতে, নিলান্তির মা পারমিতাকে ফোন দিয়ে আসতে বলল, অর্নব এরমধ্যেই নিশাকে বলেছিল, ও আসল এতক্ষণে.. সবাই হঠাৎ ডাক পেয়ে অবাক হল খুব, এসে সব শোনার পর সবাই আনন্দে ভেসে গেল! নিলান্তিকে তিন্নি আর ওর বান্ধবীরা কতক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকল... নিশা: নিলুরে.. আমাকে মাফ করে দিস! আমি সেসময় তোকে ভুল ভাবছিলাম রে! লজ্জায় এখন নিজের দিকেও তাকাইতে পারবনা..
নিলান্তি: আপু! এমন খুশীর দিনে কাঁদার খুব দরকার? আর তখন সময়টাই খুব খারাপ ছিল..
এই খবর আরও কিছুটা ছড়িয়ে পড়ল! রিনি ওর বাবা বাড়ির সবাইকে বলল, এরপর একএক করে রাজের বাড়ির সবাই, রাফি শিলাদের বাড়ির সবাই, আরশীর বাবার বাড়ির সবাই, আরও কিছু প্রতিবেশীরা অনেকেই এল! সবাই নিলান্তিকে কাছ থেকে দেখতে লাগল খুশীমনে আর দোয়া দিতে থাকল...
শিলা: তাইতো বলি তোমাকে ওদিন কেন এত কাছের কেউ মনে হচ্ছিল!
রাফি: নিলান্তি, আমরা যে কত্ত খুশী ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা! অনেক গুড উইশেস তোমার জন্য থাকল...
রাজ: আমার তো এখনও বিশ্বাসই হচ্ছেনা! তবে খুবই ভাল লাগছে...
নিলান্তি: থ্যান্ক্স আপনাদের সবাইকে আমাকে এতদিন পরও মনে রাখার জন্য..
কণা: আচ্ছা আমি আরশীদের ফোনে জানাই তাহলে, খুব খুশী হবে...
রাফি: হ্যা হ্যা জানায় দে.. আর কাল এদিকে আসতে বলে দে...
পুরো আহমেদ বাড়িতে যেন এখন আনন্দের মেলা বসেছে! নিলান্তি সবাই কে ওর কষ্টের কথাও শোনাল! কিভাবে সাইফের ব্ল্যাকমেইলে ও চলছিল, এরপর ইতালীতে গিয়ে চেহারা বদলে চলা আপনজন দের থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা.. সেসময় ফেবিওলা, আন্নাবেল, মার্থা কত সাহায্য করেছে তা বলল, এছাড়াও পরে সুজানাও ওর সত্য জেনে ওকে কত রকম ভাবে সাপোর্ট দিয়েছে তা বলল.. শাফিন ছাড়া বাড়ির অন্যরা খুবই অবাক হল সুজানার কথা শুনে! নিলান্তি বলল যে সুজানা প্রকৃত বন্ধুর মতই ওকে সাপোর্ট করেছিল! নিলান্তি সুজানাকে ভিডিও কল দিতে অনুরোধ করল, দিয়ে কথা বলে সব জানাল, সবাই ধন্যবাদ জানালো সুজানাকে আর কবে দেশে আসা হবে জানতে চাইল.. নিলান্তির মা বলল সুজানা যেন দেশে এসে তার বাসায় বেড়াতে অবশ্যই আসে.. কিছুক্ষন পর এক এক করে মেহমানরা যেতে থাকল, সমস্যাটা হল রাতে থাকাথাকি নিয়ে.. বাচ্চারা ধরে বসেছে নিলান্তিকে যে ওরা আর ছাড়বেনা.. রাতে ওদের সাথেই ঘুমাতে হবে! কিন্তু তা কি করে হবে! এখন যে শাফিন আর নিলান্তি বিবাহিত নয়! নাফিসা আর মিসেস আহমেদ বলল যে আজ রাত নিশ্চিন্তে নিলান্তি এখানে থাকতে পারে, দু তিনদিনের মধ্যেই বিয়ে করানো হবে.. কিন্তু নিলান্তির মা বাবা বলল যে এভাবে না! তারা এত বড় খুশীতে মেয়ের বিয়ে ধুমধাম করে দিবে.. এটা শুনে শাফিনের মন খারাপ হল... এতদিন পর ওরা কাছাকাছি হয়েও আবার এই বিচ্ছেদ! আর ভাল লাগছেনা! শাফিনের চেহারায় স্পস্ট ফুটে উঠল...
শাফিন: আরে আন্টি আবার এত অনুষ্ঠান.. মানে ঝামেলা! কি দরকার...
নাফিসা: শাফি ইই... ন.... (মজার সুরে) ওনারা ঠিকই বলছে! মেয়েকে এতদিন পর পেলেন.. যেনতেন ভাবে কোনরকম সব পার করবেন? তাদের শখ আহ্লাদ আছেনা? কি নিলান্তি তুমি কি বল?
নিলান্তি: হ্যা.. মানে ঠিকাছে..
শাফিন হতাশ চোখে তাকাল নিলান্তির দিকে! নিলান্তিরও মন চাচ্ছিলনা আরও অপেক্ষা করতে কিন্তু হুট করে কিছু বলতে পারলনা..! এদিকে আলাইনা খুব কাঁদছে রাতে ওদের আম্মু সাথে থাকবে না বলে.. তবে শায়ান এখন একটু বড় তাই ও ব্যাপারগুলো বুঝছে! আর বোনকে বুঝাচ্ছে.. 


Bengali Books Online Free Reading




কিছুক্ষণ পর নিলান্তিরা যাওয়ার জন্য উঠল! খুবই মন খারাপ নিলান্তি শাফিন দুজনেরই! আর হবে নাই বা কেনো? কত কষ্ট কত প্রতীক্ষার পর কাছে আসতে গিয়েও আবারও অপেক্ষা! আর তা কতদিন লাগবে কে জানে! নিলান্তি বার বার ফিরে তাকিয়ে দেখতে লাগল আর চোখ ছলছল করে উঠল.. শাফিন কিছুটা রেগেও আছে নিলান্তির ওপর! নিলান্তি কোন আপত্তি করেনি বলে...
কিছুক্ষণ পর শাফিন ওর রুমে পায়চারী করছে, কিছুই ভাল লাগছেনা ওর! তখন রবিন এল...
রবিন: কিরে খুব মেজাজ খারাপ হচ্ছে? আরে এত্ত কম ধৈর্য কেন তোর??
শাফিন: দেখ ভাইয়া মজা নিও না তো! আমি মজার মুডে নাই একদম...
রবিন: হাহাহাহা.. তোর অবস্থা দেখে আমার খুব মজা লাগতেছে.. হাহাহাহা
শাফিন: আমার জায়গায় হলে বুঝতা...
রবিন: শোন ভাই, মন খারাপ করিস না, একটু ভরসা রাখ! কষ্টের পর অনেক সুখ আসবে.. তোর কি মনে হয় নিলান্তির প্যারেন্ট্স বেশী দেরী করতে চাবে?? এদিকে তোরাও চাবিনা.. আমরা সবভাবে চেষ্টা করব যত আগে হওয়া যায়..
শাফিন: প্লীজ কর...
আভা: ভালই হল.. কালই নিলান্তির বাসায় যাব আর আন্কেল আন্টিকে জিজ্ঞাসা করব যে তাদের মেয়ের বিয়ের ড্রেসের জন্য ডিজাইনার হিসেবে আমাকে পছন্দ হবে নাকি..
দিলরুবা: আরে হ্যা অবশ্যই যাব! আর সবার মনে আছে ওদের আগের বার বিয়েতে নাচ গানের প্রোগ্রামের রিহার্সেল আমি করালাম.. কত মজা হল.. এবার আরও বেশী কিছু করব..
নাফিসা: সব মনে আছে.. আর এবারও কোন কমতি হবেনা...
মিসেস আহমেদ: দেখ যত যাই কর কিন্তু বেশী দেরী কইরনা কইলাম....
শাহেদ: কাল থেকেই প্ল্যানে লেগে পড়ব সবাই... দেরী হবেনা...
এরপর তারা ফারিয়া, ইভান, ফাহিম ফাইজাদের ফোন করে জানাল সব.. সবাই খুব খুশী শুনে... সবাই বলতে থাকল যে বিয়ের সময় আপ্রাণ চেষ্টা করবে দেশে আসার.. এদিকে বাসায় যাবার পর নিলান্তির একের পর এক ফোন আসতে থাকল.. এরমধ্যে আরশী তুবারা মিলে অনেক ক্ষণ কথা বলল.. আত্নীয় পরিচিতরা কথা বলল...
কিছুক্ষণ পর রাতের খাবার খেয়ে শাফিন অনলাইনে কয়েকটা নিউজ পোর্টালে দেখল জয়ার এ্যারেস্ট হওয়া জেলে যাওয়ার নিউজ প্রকাশিত হয়েছে, আস্তে আস্তে ছড়াচ্ছে খবরটা.. এখন নিলান্তির পরিচয়ের খবরটাও যত সম্ভব ছড়াতে হবে..
নিলান্তি কোনমতে কথা শেষ করে ওর পিচ্চি ভাতিজা ভাতিজিদের সাথে খেলতে লাগল.. হাসিখুশী থাকার ভান করলেও ওর মনে খুশী নাই.. অস্থিরতায় ভরে আছে!
নিলান্তির মা: শোন বেশী দেরি করা যাবেনা কিন্তু! মেয়েটা আমার ভাল থাকবেই না ওর সংসার শাফিন আর বাচ্চাদের ছেড়ে..
নিলান্তির বাবা: সময় নিয়ে ধুমধাম করে বিয়ার কথা কি আমি বলছিলাম? ফট করে তুমিই তো বললা..
এদিকে শাফিনদের বাসায় সবাই ঠিক করল যে কাল সকাল সকাল ওরা সেই মেয়েটার বাড়িতে যাবে যাকে নিলান্তি ভেবে কবর দিয়েছিল আর তার বাবা মাকে দিয়ে আসবে মেয়ের কবর জিয়ারতের জন্য..
রাতে শুয়ে শাফিন ফোন দিল...
শাফিন: খুব ভাল লাগছে তাইনা? তোমার তো ইচ্ছাই নাই একসাথে থাকার তাইতো তখন না করলা না...
নিলান্তি: এমন কেন বলতেছ বলতো! আমি তখন কিভাবে যেন কিছুই বলতে পারলাম না! আম্মু কত আশা করল..
শাফিন: ধুর আর ভাল লাগেনা.. এত ধুমধামের কি দরকার!!
নিলান্তি: আমারও ভাল লাগতেছে না...
এরপর দুজনে কতক্ষণ কথা বলল.. আর যেন প্রতীক্ষা সইছেনা ওদের.. কম দুর্ভোগ তো হয়নি এতদিনে...!!
এদিকে জয়া সমানে নিরবে কেঁদে চলেছে.. ওর ভীষণভাবে অতীত স্মৃতী গুলো মনে পড়ছে! লোভে পাপ পাপে মৃত্যু বলে কথা আছে.. ওর শরীরের মৃত্যু না হলেও ও সবার কাছে এখন মৃত! জয়া এখন বেশ ভালমত উপলব্ধী করছে যে মাঝের এই সময়টায় হুট করে বদলে গিয়ে ও ওর নিজের স্বরূপ টাই হারিয়ে ফেলেছিল! এই জয়া আসল জয়া নয়.. জয়া ওর নিজের সমস্ত ভুল খুব ভাল করে বুঝতে পারল আর অনুভব করল..
পরদিন সকাল সকাল শাফিনরা সেই মেয়ের বাবা মাকে আনল.. তাদের মেয়ের কবর দেখাল... বিকালের মধ্যে তাদের পৌঁছে দিতে গেল শাহেদ আর রবিন.. নিলান্তি সেদিন অফিসে গেলনা.. বিকেলে মিসেস ফেবিওলা এসে কিছুক্ষণ থাকলেন.. বললেন তিনি নিলান্তিকে খুবই মিস করছেন বাসায়, কষ্ট হচ্ছে তার কিন্তু আনন্দ তার চেয়েও বেশী হচ্ছে নিলান্তির জন্য..
এর কিছুক্ষণ পর শাফিন এল.. মিসেস ফেবিওলা মজা করে বলল যে ওদের দুজনকে বরং কিছুক্ষণ একা ছাড়া হোক.. এতে দুজনেই লজ্জায় হাসল! এরপর ওরা ছাদে গেল.. নিলান্তির মা আরও অনেকক্ষণ ফেবিওলাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে থাকলেন কিন্তু ফেবিওলা বললেন যে নিলান্তি তার মেয়ের মত.. তার নিজের সন্তান নেই, বোনের মেয়ে আন্নাবেল আর এদেশে নিলান্তি সেই অভাব পূরণ করেছে, এমন কি ফেবিওলা ঠিক করেছে তার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির অর্ধেক আন্নাবেল আর অর্ধেক নিলান্তিকে দিয়ে যাবে..
শাফিন এখনও অভিমান করে আছে নিলান্তির ওপর! নিলান্তি বহু কষ্টে অভিমান ভাঙ্গালো! ছাদের এক কোণায় রাখা দোলনায় বসে কতক্ষণ গল্প করল, দুজনই দুজনকে সাহস জোগাল যে এই অপেক্ষার প্রহর খুব অল্প কয়দিনেই কেটে যাবে.. বেশ সুন্দর সময় কাটালো ওরা কিছুক্ষণ... নিলান্তি শাফিনের বাসায়ও গিয়ে কিছুক্ষণ থেকে আসল...
এদিকে জয়া পরদিন সকালে জানল যে ছন্দলীনাই নিলান্তি! পুলিশ স্টেশনে কয়েকজন পুলিশ মিলে গল্প করে আলোচনা করছিল এ নিয়ে.. শুনে বড়সড় ধাক্কা খেল! তবে আরও বেশী অনুতপ্ত হচ্ছে এখন জয়া.. নিলান্তির সাথে কাটানো অতীত স্মৃতী খুব মনে পড়ছে.. নিজের অন্যায় ভালমতই বুঝছে এখন! আর মরমে মরে যাচ্ছে জয়া..
নিলান্তি আজ অফিসে গিয়ে দেখল যে অফিস স্টাফরা সবাই নিলান্তিকে ওয়েলকাম জানাতে কিছু আয়োজন করে রেখেছে! কিছু পুরনো সহকর্মীরা ছিল যারা খুশীতে কেঁদে দিল..
কিছু ফর্মালিটির জন্য শাফিনকে থানায় যেতে হবে.. নিলান্তিও যেতে চাইল.. গিয়ে হঠাৎ জয়াকে দেখে নিলান্তি কি মনে করে কথা বলতে গেল.. জয়া হাউমাউ করে কেঁদে মাফ চাইল! শাফিন বলল যে এটা মায়াকান্না! জয়া জানে যে নিলান্তির মন খুব নরম তাই মায়া ধরাতে চাচ্ছে যেন নিলান্তি কমপ্লেন তুলে নেয়! কিন্তু তা হবেনা! নিলান্তিও বেশ কতক্ষণ বলল যে জয়া ওর কর্মের প্রাপ্য শাস্তিই পাচ্ছে! এটাই হওয়া উচিৎ.. জয়া কেঁদে বলল যে ও জেল থেকে মুক্তি চাচ্ছেনা শুধুই মাফ চায় এখন! আর অনুরোধ করল শৌখিনকে দেখে রাখতে.. জয়ার অন্যায়ের শাস্তি ওকে না দিতে.. শাফিন আর নিলান্তি কড়াভাবে বলল যে ওদের মন এতো ছোট না! নিলান্তি বলল যে ও প্রথম মাতৃত্বের স্বাদের পূর্ণতা পেয়েছিল শায়ান আলাইনার থেকে.. এখন ছোট্ট শৌখিনকে নিজ বাচ্চা ভাবতেও ওর আপত্তি নাই! বরং খুশী হবে.. আর শাফিনদের বাসার সবাই খুব উদার আর মানবিক..


পর্ব -46 
নিলান্তিরা চলে গেল.. জয়ার প্রচন্ড অনুতাপ হতে লাগল.. আর নিলান্তি শাফিন দের বাসায় গিয়েও কতক্ষণ থাকল, বাচ্চাদের সাথেসাথে শৌখিনকেও আদর করল.. সবাই চাইল যে প্রয়োজনে তারা দত্তক নিবে শৌখিনকে জয়া যদি দায়িত্ব নিতে না চায়! সন্ধ্যায় ইভানের মা বাবা এসে নিলান্তির বাসায় গেল, ইভানের মা কেঁদে অনেক মাফ চাইল নিলান্তিকে সেসময় ভুল বুঝার জন্য..... 
এদিকে সবার পক্ষ থেকেই পুরোদমে বিয়ের আয়োজন চলছে! বিয়েতে দেরী কেউই চাচ্ছেনা.. শাফিন নিলান্তিরও খুশী লাগছে এতে কিন্তু এবারের বিয়েতে এসব আয়োজনের চেয়ে বিয়ে হওয়াটাই মুখ্য ওদের কাছে.. এখনও মনের কোণে একটু ভয় যে কোন অঘটন হবেনা তো? কারন কম ঝড় ঝাপটা পার হয়নি ওরা! কিন্তু সব কিছু স্বপ্নের মতও লাগছে! নিলান্তি ইতালীতে যখন শাফিনের আবার বিয়ের কথা শুনেছিল তখন একটু হলেও ধরেই নিয়েছিল যে নিলান্তি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলেও শেষে ওদের আবার এক হওয়াটা হয়তো হবেনা আর শাফিন তো ভাবেইনি নি তার প্রিয়তমা নিলান্তিকে আবার জীবিত পাবে! 
এদিকে দিলরুবা আর আভা নিলান্তির মা বাবার সাথে আলোচনা করেছে.. তারা খুব খুশী যদি আভা সব প্রোগ্রামের ড্রেস ডিজাইন করে, ঠিক হল যে এবার ওদের প্রী ওয়েডিং ফটোশুটও হবে অর্নবের ফটোগ্রাফীতে.. এছাড়া সব প্রোগ্রামের ফটোগ্রাফীও করবে.. নিলান্তির মিথ্যে মৃত্যুর কথা শোনার পর নিলান্তির সব গয়না নিলান্তির মাকে দেয়া হয়েছিল, নিলান্তি তাই নতুন করে কোন গয়না করতে মানা করল কারণ মাঝের কিছু সময় খারাপ অবস্থা গেল আহমেদ পরিবারের.. এমনকি বেশী জাঁকজমক না করে অল্প খরচে কিছু আয়োজনে সবাই আনন্দ করতে চাইল কারন এখন বাচ্চারা বড় হচ্ছে.. তাছাড়া জয়ার দৌরত্বে নাফিসার ছেলেদের পড়াশুনার ক্ষতিও হয়েছে, তাদের কথাও ভাবতে হবে.. নিলান্তির মা বলল যে তিনি আর নিলান্তির বাবা সমস্ত ভাবে চেষ্টা করবেন.. কিন্তু নিলান্তি কড়াভাবে মানা করল! নিলান্তির বাবা রিটায়ার্ড করেছেন, মাও এখন চাকুরী করেন না.. তাদের সন্ঞ্চয়কে অপচয় করতে মানা করল, তাদের নিজেদের জন্য কাজে লাগাতে বলল বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত.. আর এখন অর্নবেরও অনেক দায়িত্ব.. দুই বাচ্চার বাবা.. নিলান্তির মা বাবা যেন কারও ওপর নির্ভর হয়ে না থাকে তা বুঝাল.. এমনিতে তাদের তিন সন্তানই সারাজীবন সব অবস্থায়ই তাদের দেখবে কিন্তু তবুও নিজের জন্য নিজেরা কিছু করার মাঝে আলাদা শান্তি আছে তাই.. আর নিলান্তিও গত এক বছরে ওর মেধা পরিশ্রম সৃজনশীলতায় আর ফেবিওলার সাহায্যে অনেকটাই সন্ঞ্চয় করেছে.. ও চাইল শাফিনদের পাশাপাশি ও নিজেও কদম মিলিয়ে বিয়ের সমস্ত আয়োজনে ভাগ নিতে... 
বিয়ে নিয়ে সবারই হইচই এর সীমা নেই! ওদিকে দেশের বাইরে থাকা ইভান ফারিয়া আর ফাহিমরা পাগল করে দিচ্ছে যে কবে তারিখ ফিক্স হল? ওরা সে অনুযায়ী দেশে আসবে.. 
এর মাঝেও এক অবাক ব্যাপার হল! নিলান্তি লক্ষ্য করল যে ভর দুপুরে ঘরের এক কোণায় দাঁড়িয়ে নিরবে কাঁদছে ওর মা! আর বাবা হাত বুলিয়ে দিচ্ছে মার মাথায়.. এটা এই প্রথম না! আজ পহেলা সেপ্টেম্বর, নিলান্তি একটু বড় হবার পর থেকেই দেখেছে মাকে প্রতি বছর এই তারিখের দিনেই আপসেট থাকতে বা নিরবে একটু কাঁদতে! কয়েকবার জিজ্ঞাসা করলে মা মানা করেছিলেন কঠিনভাবে! তাই আর হয়নি কিন্তু নিলান্তি প্রতি বছর লক্ষ্য করেছে এই তারিখেই কাঁদতে.. এবার আর ছাড়বেনা! জানতেই হবে যে কি এমন হয়েছিল এই তারিখে! 
কিছুক্ষণ পর একজনের ফোন এল, আহমেদ সাহেবদের ফান্ড দ্বারা একটা মহিলা হোস্টেলেও চালানো হত আগে থেকেই.. নাফিসা ফারিয়া আর পরে নিলান্তি মিলে তা তত্তাবধান করত, ছোট পরিসরে করা কিন্তু কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর বাছাই করে গরীর মেধাবী ছাত্রী বা কর্মজীবী দের সিট দেয়া বিনামুল্যে বা নামমাত্র মুল্যে.. সেখানেরই এক মেয়ে অনিন্দিতা, তেইশ-চব্বিশ বছরের তরুণী, বেশ মেধাবী, বুদ্ধীমতী, অনেক প্রতিভাসম্পন্ন সুন্দরী মেয়ে.. নিলান্তি দেশে আসার পর ব্যাবসা শুরুর সময়ই অনিন্দিতা ওর বুটিকে রিসিপ্শনিস্ট হিসেবে চাকুরী নিতে এসেছিল, বলেছিল আগের কাজের জায়গার সমস্যার কথা.. নিলান্তির কেন জানি প্রথম পরিচয়েই খুব মায়া আর টান সৃষ্টি হল অনিন্দিতার প্রতি! মেয়েটার থেকে ওর পারিবারিক অবস্থা খুঁটিয়ে জানতে চাইল, সরল কিন্তু ব্যাক্তিত্বসম্পন্ন অনিন্দিতা আর দশটা মেয়ের মত পরিবারের সমস্ত দুঃখের কথা একেবারে বলে ফেলেনি বা এক্সট্রা কোন সাহায্যও চায়নি নিলান্তির থেকে.. তবে নিলান্তি খুঁটিয়ে যতটা জানল যে খুব ভাল অবস্থায় বড় হয়নি অনিন্দিতা! কিশোরী থাকাকালেই ওকে কঠিন দায়ীত্ববোধে বড় হতে হয়েছে.. হঠাৎ ওর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ওর পরিবার এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল কিন্তু এখন কিছুটা ঠিক আছে সংগ্রাম করেই, এরপর প্রায়ই নিলান্তি গল্প করত ওর সাথে.. কথায় কথায় একদিন জানল যে অনিন্দিতাকে প্রচন্ড ত্যাগ স্বীকার করে ভালবাসার মানুষকে বিসর্জন দিতে হয়েছে! ওদের এক হবার কোন সম্ভাবনা একদমই নাই.. নিলান্তির যখন আসল পরিচয় সবার কাছে প্রকাশ হল মেয়েটি পরে একদিন নিজে এসে সব শুনল নিলান্তির থেকে আর কেঁদেছিল নিলান্তির কষ্টের কথা শুনে....
আজ অনিন্দিতার জন্মদিন, ওর রুমমেটরা কেক কিনে আয়োজন করেছে আর ও নিজেও সবার জন্য ছোটখাট আয়োজন করেছে, নিলান্তিকে বলতে লজ্জা পাচ্ছে কিন্তু তবুও নিলান্তি আর শাফিনকে একটু কেক খাওয়াতে চায়.. নিলান্তিই তো ওর ত্রাণকর্তা ছিল.. কৃতজ্ঞতা বোধ থেকেই.. নিলান্তি খুশী হয়ে বলল যে ও আসবে বিকেলে... 
এরপর শাফিনকে সব বলল, শাফিন খুশী হল কিন্তু বলল যে ওকে লান্ঞ্চের পরই যেতে হবে ক্লায়েন্ট মিটিং এ আর খুব সময়ও লাগবে! নিলান্তি বরং নাফিসাকে নিয়ে যাক.. নিলান্তি নাফিসা কে সব বলল ঐ মেয়ের ব্যাপারে, নাফিসা বলল যে নিলান্তির বিয়ের কিছু কাজেই ও ব্যাস্ত থাকবে.. কিন্তু এককাজ করা যায় মেয়েটাকে এখানে ডাকা যায়, গল্প করা যায়.. নিলান্তির ভাল লাগল শুনে! নাফিসার আজ ডিনারের দাওয়াত আছে ওর এক খালার বাসায়, নাফিসার সবচেয়ে ছোট খালা তিনি, মায়ের চাচাতো বোন, নাফিসার সমবয়সী.. কিন্তু আগে বিয়ে হওয়ায় তার বড় ছেলে আটাশ বছরের, তারা বেশ সুখী যৌথ পরিবার, আগে থাকত গাজীপুরে, পারিবারিক ব্যাবসা মোটামুটি ধরনের, ঢাকায় বাড়ি করে এখন পুরো পরিবার তাতে উঠেছে.. ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা কাজের জায়গা, খালার ভাশুরের ছেলের বৌয়ের অফিস সব ঢাকায়.. গত বছরে খালার ছেলের বিয়েতে যাওয়া হয়নি তখন বেশ পারিবারিক ঝামেলা চলছিল শাফিনদের তাই.. আজ তাই দুপুরে খেয়েই নিলান্তিসহ বের হবে বৌকে গিফ্ট দেয়ার মত গহনা কিনতে.. নিলান্তি ভাবল যে তখনই অনিন্দিতার জন্যও কিছু কিনবে! ফোন করে বলল যেন ছয়টার মধ্যে চলে আসে অনিন্দিতা আহমেদ নিবাস এ.. নিলান্তি নাফিসার সাথে ফিরে সেখানেই থাকবে.. অনিন্দিতা খুব সংকোচ করল কিন্তু নিলান্তি জোর দিয়ে বলল যেন আসে ও অবশ্যই, না হলে রাগ করবে... অনিন্দিতা চিন্তিত হয়ে পড়ল.. মাকে ফোন দিল, মা বলল যেতে কারন নিলান্তির আন্ডারে এখন কাজ করা হচ্ছে তাছাড়া এখনও ভাল মানুষ আছে বড়লোক দের মধ্যে.. নিলান্তির কষ্টের কাহিনী শুনেও বোঝা যায় যে ও অন্য কষ্ট পাওয়া মেয়েদের কথা ঠিকই বুঝে.. 
নিলান্তি অনেক দেখে সুন্দর একটা গর্জিয়াস গাউন, দুটা সিম্পল কুর্তি, একটা টপস কিনল, নাফিসা অবাক হল! এইমেয়ের প্রতি এত্ত টান কেন জানতে চাইলে নিলান্তি সত্যি নিজেও কোন উত্তর পেলনা.. স্মিত হাসল শুধু...
এদিকে অনিন্দিতা অনেক ভেবে একটা ফুলের তোড়া নিল, প্রথম যাচ্ছে ওর নিলান্তি ম্যাডামের বাসায় কিন্তু ওর সাধ্যে এর বেশী কিছুই যে নেই! নিলান্তি ওকে ডেকে বসাল, আনন্দিত হয়ে ফুলের তোড়াটা নিয়ে রাখল, কেকও এনে রেখেছিল.. বাসার সবাইকে ডেকে পরিচয় করাল, অনিন্দিতা সংকোচে থাকলেও সবার সাথে পরে মিশে গেল! নাফিসা বুঝল যে এই মেয়ে সত্যি আলাদা আর ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন! সাহায্য পাবার জন্য নিজের দুরবস্থা বলে যাচ্ছেনা আর দশ জনের মত! চাল চলন খুবই সভ্য আর সুরুচির পরিচয় দিচ্ছে! কিন্তু বিনয়ের সাথে জানাচ্ছে যে ওর জন্য এত আয়োজনের আর গিফ্টের কি দরকার ছিল? খুব লজ্জিত হল গিফ্ট নিয়ে! বলল যে গিফ্ট আর আয়োজনের আড়ালে নিলান্তি ম্যাডামের আর বাড়ির সবার এত আপনভাবই সবচেয়ে বড় পাওয়া! নিঃসন্দেহে এটা ওর বেস্ট বার্থডে! শুধু মা আর ছোটভাই এখন সাথে থাকলে আর কিছুই লাগতনা! নিলান্তি বলল ওকে আপু করে ডাকতে.. নাফিসার অবাক লাগছিল যে এতক্ষণ ধরে মেয়েটাকে যেন আগে কোথাও দেখেছে মনে হচ্ছিল.. হঠাৎ তিন্নি এল শৌখিনকে নিয়ে, জয়ার সাথে দেখা করিয়ে.. জয়াকে পুলিশ পাহারায় ওদের বাসায় আনা হয়েছিল, শৌখিনকে ওখানেই দিয়ে গিয়েছিল.. একটু পর শাফিন এল, অনিন্দিতার সাথে পরিচয় হল সবার, শাফিন থমকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল অনিন্দিতার দিকে.. তিন্নি সেটা খেয়াল করল! কিছুক্ষণ পর অনিন্দিতা বের হল, নিলান্তি ড্রাইভারকে বলল পৌছে দিতে.. নাফিসার তখন মাথায় এল যে মেয়েটার চোখদুটি যেন কিছুটা নিলান্তির আগের চেহারার মত! নিলান্তির আগের চেহারার মতই অত বেশী সুন্দর না হলেও এদিকটায় অল্পস্বল্প কি যেন মিলে! শাফিনও বিড়বিড় করে সবাইকে বলল যে হঠাৎ ওর মনে হচ্ছিল যেন ও সেই সময়ের নিলান্তিকে কিছুটা দেখছে যখন নিলান্তি শায়ান আলাইনার জন্য প্রায় বাসায় আসত, যখন থেকে ওদের কাছে আসা! মেয়েটার বয়সও ওরকম! 
তিন্নি ভালমত দেখেনি অনিন্দিতাকে তাই আড়ালে নিলান্তিকে বলল যে নিলান্তি খুব বোকামি করছে এমন সুন্দরী উঠতি তরুনীকে বাসায় এনে! যতই শাফিন অনেক বেশী বয়সের হোক নিলান্তির চেয়ে তবু নিলান্তি এখন তিরিশে আর ঐ মেয়ে তেইশে.. নিলান্তি রাগ আর অবাক হল! বলল যে ওদের সম্পর্কের ভিত্তি বিশ্বাসের! আর শাফিন আগে কখনো সুন্দরী কম বয়সী মেয়ে দেখেনি কাজের সুত্রে পরিচিত হয়নি তাতো না! আর ঐ মেয়ের দিকে তাকালোও নিলান্তির সাথে চেহারার মিল পেয়ে যেটা নাফিসাও পেয়েছে... 
তিন্নি ওর ভুল বুঝে অনুতপ্ত হল! কিছুক্ষণ পর নিলান্তি বাসায় যাবার জন্য বের হচ্ছে.. কেউ তো ছাড়তেই চায়না মন থেকে ওকে নিলান্তির নিজেরও যেতে মন চায়না কিন্তু কিছু করার নাই.. 
শাফিন: খুব বিরক্ত হচ্ছি প্রায়ই জানো? কি যে শুরু করল সবাই.. 
নিলান্তি: আমার খুব যে ভাল লাগছে তা না কিন্তু দেখ আমাদের পরিবার আত্নীয় পরিচিতরা সবাই আমাদের ওয়েল উইশার, আমাদের খারাপ সময়ে তারাও দুঃখে ছিল আর চিন্তিত ছিল তাই একটু ধৈর্য ধর.. 
নিলান্তির বাসায় গিয়েই সকালে মায়ের কান্নাটা মনে পড়ল, দেখল মা এখনও থমথমে হয়ে আছে! নিলান্তি নিশাকে ফোনে বলল কাল শুক্রবার সকালে পারলে আসতে.. রাতে অর্নব এডেলিন কে বলল মায়ের কান্নার কথা তাও নির্দিষ্ট এইদিনে! ওরাও চিন্তিত হল.. ঠিক হল যে কাল চারজনে জিজ্ঞাসা করবে.. 
পরদিন নিশা সকালে এলে নিলান্তি কথাটা বলল এরপর সুযোগ বুঝে চারজনে মাকে ধরল আর নিলান্তি শুরু করল যে সেপ্টেম্বরের এক তারিখে এমন কি হয়েছিল যে মা কাঁদে বা থমথমে থাকে? নিলান্তির মা বাবা দুজনই যেন আকাশ থেকে পড়লেন! খুবই অস্বীকার করে যেতে থাকলেন কিন্তু ওরা চারজন একদম জেঁকে ধরল! নিলান্তির মার চোখ ছলছল করে উঠল! তিনি দৌড়ে অন্য রুমে গেলেন, তখন বাবা বলা শুরু করলেন, বললেন যে, একটা অনাকাঙ্খীত ঘটনা ঘটেছিল 1999 সালের এই তারিখে! যা কিছু মহিলার সাথে ঘটে.. সবাই অবাক হয়ে জানতে চাইল যে কি সেটা? নিলান্তির বাবা বললেন, অর্নব 1996 এ হবার পর তারা সীদ্ধান্ত নেন যে আর সন্তান নিবেনা, মধ্যবিত্ত পরিবারে তিন সন্তানই ভালমত পালনের জন্য যথেষ্ট ছিল ভেবে, কিন্তু হুট করে নিলান্তির মা আবার গর্ভবতী হয়ে পড়ে! জানার পর প্রথম দুদিন নিলান্তির মা একটু হতাশার সুরে বলেছিল যে আরও একটা বাচ্চা হতে যাচ্ছে.. চার বাচ্চাকে ভালমত পালন আর বড় করা অনেকটা মুশকিলের ব্যাপার হয়ে যাবে! কিন্তু দুদিন পর থেকে একটু একটু করে মা অনেক খুশী হচ্ছিলেন সেই সন্তান নিয়ে! অনেক স্বপ্ন সাজাতে থাকেন.. তখন ওরা আরও দুরে অন্য এলাকায় থাকত, সেখানের এক হাসপাতালে নেয়া হল ডেলিভারীর জন্য, নির্দিষ্ট দিনে ডেলিভারী হল কিন্তু এক মৃত সন্তান হল! তখন থেকে নিলান্তির মা নিজেকে দোষ দেন যে প্রথম দিকে তার বলা ঐ কথাগুলোর জন্য তাদের সেই সন্তানের এমন হল! 
নিশা: আমি তখন শুনেছিলাম, আমার এখনও মনে পড়ল, এরা দুইজন খুব ছোট ছিল তাই বুঝেনি.. ওদের বলতেও মানা ছিল! কিন্তু মা ঐ ঘটনা এখনও মনে রেখেছে!

Bangla Golper Boi Online Reading
 
নিলান্তি অর্নব এডেলিনরাও কেঁদে ফেলল! সবাই মিলে মাকে বুঝাল যেন নিজেকে অপরাধী না ভাবে কখনও এজন্য.. সে অপরাধী না এক্ষেত্রে... 
দুপুরে শাফিনদের পছন্দের কিছু তরকারি রান্না করে নিয়ে গেল নিলান্তি, খাওয়া শেষে নাফিসা বলল যে কাল কয়েক বছর পর দেখা হল ওর নাসরীন খালার সাথে, তাদের পুরো পরিবারকে শাফিনের বিয়েতে দাওয়াত করতে চায় কারও আপত্তি না হলে.. 
মিসেস আহমেদ: ধুরু বৌমা! হেয় তোমার ছোডকালের খেলারও সাথী আমারও বহুদিন দেখা হয়নাই নাসরীনের লগে আগে মত, অবেশ্যই ডাকবা, ওগো সবাইরে দেখা হইব.. 
শাফিন: তা ভাবী খালার ছেলে তৌসিফ কি করে এখন? আর ওর বৌ? 
নাফিসা: ও ডাক্তার, যবে ঢোকার কয়মাসেই বিয়ে হল, বৌ অনার্স ফাইনালের প্রস্তুতী নিচ্ছে, খুবই ভাল ছাত্রী, খালা খালু আর বাড়ির সবাই এতে খুশী, সবাই চান যে বৌ খুব ভাল রেজাল্ট করুক এরপর মাস্টার্স.. 
শাহেদ: সত্যি তাদের এই ব্যাপারটা খুব ভাল লাগে, খালার ভাশুর তার বৌ এমনকি শ্বশুর শাশুড়ী সবাই ই আধুনিক মাইন্ডের.. আর এত হাসিখুশী পরিবেশ বাসার ছেলেমেয়ে সবাই আর বড়রা মিলেও করে রাখে যে পিকনিক টাইপের লাগে.. তবে তৌসিফটাকে কেমন দেখাল যেন! শুকিয়ে গেছে.. মুখে হাসি নাই.... 
শাফিন: তৌসিফ বেশী শান্তশিষ্ট ওদের বাসার অন্য ছেলেমেয়েদের চেয়ে... 
নাফিসা: হ্যা খুবই ইন্ট্রোভার্ট! খালা তো আফসোস করে বলল যে ছেলে প্রেম ট্রেম কিছুই করতনা হাহাহাহা.... 
নিলান্তি: আচ্ছা আমি অনিন্দিতাকে ইন্ভাইট করি ওর মা ভাই সহ?? 
নাফিসা: হ্যা কেন না?? 
এরপর কিছুদিন কেটে গেল.. বারো তারিখ শাফিনের জন্মদিন, পরিইারের সবাই ঘরোয়া আয়োজনের প্ল্যান করছে, শাফিন নিলান্তি মিলে বুদ্ধী করল যে শাফিন ওদিন সবার কাছে গিফ্ট হিসেবে চাবে যেন ওদের আকদ করা হয় ওদিন এরপর সুবিধামত অনুষ্ঠানের প্রস্তুতী নিয়ে পরে অনুষ্ঠান! নিলান্তি রাজী হল! শাফিন যথারীতি তা বলল, সবাই রাজীও হল, ঠিক হল যে শুধু খুব কাছের মানুষরাই থাকবে আর আকদ বাড়িতে হবে, এরমধ্যে জেল থেকে খবর এল যে জয়া বারবার অসুস্থ হচ্ছে! কাজ করার সময় ঠিকই কাজ করছে কিন্তু তখনও অনবরত চোখের পানি ফেলে, খায়না বলতে গেলে কিছু ঘুমাও নামেমাত্র! এর মধ্যে বকুল বকুলের মা জবারাও দেখা করেছে, সবারই এককথা যে জয়া শুধু বলছে যে ও বদলে গিয়েছিল যেটা আসল ও নয়! 
পরদিন ফাহিম ফাইজারা ফোন দিল, বলল খুব কষ্টে ছুটি ম্যানেজ হয়েছে তাই শাফিনের বার্থডেতে আসা হবে, বিয়েতে আর আসা হলনা! 
পরদিন বকুল আর তিন্নি জেলে গিয়ে জয়ার সাথে দেখা করল, জয়া ওর লিখা একটা চিঠি তিন্নিকে দিয়ে বলল যেন নিলান্তিকে দেয় এবং তার আগে ওরা যেন না খোলে! তিন্নি আর বকুল চিন্তায় পড়ল! জয়া এরপর বারবার শুধু ওকে মাফ করে দিতে বলল.. এরপর তিন্নি নিলান্তিকে চিঠিটা দিল.. নিলান্তিও চিন্তিত হল না জানি কি লিখল জয়া! কোন ব্ল্যাকমেইল না তো! কিন্তু চিঠি পড়ে অবাকই হল! জয়া লিখেছে যে জয়া এত্ত অনুতপ্ত যে নিলান্তির সামনে দাঁড়াতে পারবেনা আর ফোনেও কথা বলতে পারবেনা! ও এরমধ্যে স্থির করেছিল যে শৌখীনকে নিলান্তি আর শাফিনকে দত্তক দিয়ে দিবে আর নিজে এভাবে চলবে কিন্তু এতদিনে বুঝেছে যে টাকা পয়সা ব্যাবসার চেয়ে আপন সম্পর্ক কতটা দামী! দরকার হলে গরিবী হালে থাকবে জেল থেকে বের হয়ে ভাইয়ের বাসায় কাজ করে সেভাবেই শৌখীনকে পালবে! এখন জয়া পুরো নিঃস্ব ঠিকই কিন্তু তবুও শৌখীনকে কাছে রাখতে চায়! জয়া বুঝেছে যে সবাই সব পায়না কিন্তু পাওয়ার চেষ্ঠাটা নিষ্ঠার সাথে করতে হয় হিংসা দিয়ে না! জয়া হিংসা দিয়ে করেছে বলেই এই দশা, ও মুক্তি পেয়ে শৌখীনকে নিয়ে খুব দুরে চলে যাবে.. 
নিলান্তির এবার মায়া হল! তখন সুজানা ফোন দিল, নিলান্তির গলাটা ভার ভার শোনালে জিজ্ঞাসা করল যে কি হয়েছে? নিলান্তি জয়ার কথাগুলি সব বলল... 
পরদিন ফাহিমরা সবাই দেশে এল, এরপর শাফিনের জন্মদিনে দুপুরে আত্নীয় প্রতিবেশীরা সবাই এক হয়ে আনন্দে মেতে উঠল! সন্ধ্যায় আকদ সম্পন্ন হল.. শাফিন নিলান্তি দুজনেই মনে মনে অনেক ধন্যবাদ জানাল আল্লাহ্ কে! আজ তারা আবার এক হল, যেই আশাটা একসময় অসম্ভব লেগেছিল! এ যেন নবজন্ম ওদের....


পর্ব -47 
পরদিন সকাল সকাল নিলান্তি আর শাফিন বেড়াতে যাবে ঠিক হল, শহরের বাইরে... নিলান্তি বাবা মার কাছে থাকবে কয়দিন, সাধারনত আকদ হলে মেয়েরা তাদের বাড়িতেই থাকে তাই.. তবে নিলান্তি মাঝে এসে দুতিন দিন করে থাকবে.. আজ ওরা দুজন অনেক ভাল সময় কাটাল রোজকার ছকবাঁধা জীবনের বাইরে, এরপর বাসায় এসে দেখল বাচ্চারা ঘর গুছিয়ে অনেক সারপ্রাইজ রেখেছে.. অনাবিল আনন্দে ভরে গেল ওদের দুজনের মন! সেই রাতে নিলান্তি থাকল.. 
পরদিন পুলিশ ফোনে জানাল যে জয়া আবার আরো অসুস্থ হয়েছে! একই কয়েদীকে নিয়ে খুব হয়রানী হচ্ছে! তবে জেলে জয়ার আচরনের প্রশংসাও করল পুলিশ....
বিকেলে বেশ কিছু লেহেঙা শাড়ী গাউন বাসায় আনা হল, আভা এবং অন্য বিখ্যাত ডিজাইনারদের বানানো সব! দুই পরিবারের অনেকে মিলে পছন্দ করে আনা কিন্তু তবুও সব দেখে ফাইনাল পছন্দ করবে নিলান্তী আর শাফিন.. নিলান্তির এটা অপচয় মনে হল, প্রথম বিয়ের প্রোগ্রামের ড্রেসই পরতে চাইল! বড়রা সবাই বকা দিল... এরপর ঠিক হল যে আট অক্টোবর শুক্রবারে ওদের বিয়ের অনুষ্ঠান আর নয় তারিখ শনিবার বৌভাত হবে.. আর বৃহষ্পতিবার দুপুরে হলুদ বা মেহেদী টাইপ কিছু.. নিলান্তি আর শাফিন মিলে প্রোগ্রামে পরার কিছু ড্রেস পছন্দ করলেও ফাইনাল করতে পারলনা.. 
রাতে ফোন করে হঠাৎ ছুটি চাইল অনিন্দিতা, কেঁদে বলল যে কাল ভোরে রওনা দিবে ওর মার খুব অসুখ! নিলান্তির চিন্তাও হল এ নিয়ে.. পরদিন নিলান্তি আর শাফিন পরিবারের কয়েকজনকে নিয়ে শপিং এ যেতে চাইল তাদের জন্য বিয়ের ফাংশনের ড্রেস কিনতে.. সবাই মজা নিয়ে বলল যে বর কনে এখনো কিনলনা আর ওরা! তবুও ছাড়লনা... শপিং এ নিলান্তি অনিন্দিতার জন্যও একটা ড্রেস নিল, সবাই অবাক একজন স্টাফকে নিয়ে এতো ভাবায় কিন্তু আবার খুশীও হল কারন সবাই খুব বড় মনের.. সবাই খুব আনন্দ করল, ওদের বিয়েটা আর এক হওয়াটা সবারই যে কাম্য.. নিলান্তি আর শাফিনেরও খুব ভাল লাগছে সবার আনন্দ দেখে, নির্মল আনন্দ! যেখানে হারাবার কোন ভয় নেই...! পরদিন সকালে নিলান্তি ওর বুটিকে গেল, আজ পুরো সময়ই কাজ করবে.. অনিন্দিতার কাছে শুনল যে ওর মা এখন পুরো সুস্থ.. দুপুরে খাওয়ার কতক্ষণ পর অনিন্দিতা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ল! মুখে পানি ছিটিয়েও লাভ হলনা! নিলান্তি ভয় পেল, ডাক্তার ডাকল, কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরল, ডাক্তার বলল যে মারাত্বক লো প্রেসারে এমন.. হয়ত এই দুদিন মায়ের জন্য চিন্তা আর দেখাশোনায় নিজের খাওয়া ঘুমের দিকে নজরই দেয়নি! নিলান্তি ওকে বাসায় নিয়ে যেতে চাইল! অনিন্দিতা মানা করলে ধমক দিল.. 
সকালে তিন্নি ওর শাশুড়ীকে নিয়ে জয়াকে দেখতে গিয়েছিল, জয়া বারবার মাফ চেয়ে বলছিল যে ও এখন শুধু শৌখিনকে নিয়ে থাকতে চায়! এখন ও নিঃস্ব কিন্তু আর কোন লোভ নেই ও আবার আগের সেই ভালমনের জয়া হয়ে গেছে! খুব ছোটখাট কোন চাকরি করে বাসায় ভাইদের কাজ করে ও শৌখিনকে নিয়ে চলতে চায়! এতদিন না বুঝলেও এখন বুঝছে যে মায়ের মমতা কি! আর শুধু টাকা পয়সা সুখ দিতে পারেনা! বাসায় এসে এসব ভেবে চিন্তায় খুব কাঁদছে জয়ার মা... 
নিলান্তি নাফিসাকে ফোন দিল যে ও অনিন্দিতাকে নিয়ে বাসায় যাবে কিন্তু ফোন বিজি পেল, আর দেরী না করে কিছু না ভেবে তাড়াতাড়ি অনিন্দিতাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে গেল! বাসায় সবাই একটু অবাক হল! তবে নিলান্তি বলল যে মায়ের দেখাশুনায় অনিন্দিতা নিজের খেয়াল রাখেনি তাই এই দশা! সবার মনে মায়া জাগল.. তাছাড়া এর আগেও সবাই ওকে খুব পছন্দ করেছিল, অনিন্দিতা গেস্টরুমে কিছুক্ষণ শুয়ে রেস্ট নিল, কিন্তু এভাবে বেশীক্ষণ ভাল লাগলনা তাই উঠে ড্রয়িংরুমে এসে গল্প করল, আজ সংকোচ ভুলে অনেকটা খোলামেলা মিশছে সবার সাথে! শায়ান আলাইনাকে কিছুক্ষণ আর্ট শিখাল, কাগজের বিভিন্ন জিনিস বানানো শিখাল আর কিছুক্ষণ পড়ালও.. সবাই দেখে মুগ্ধ! বেশ ভালই পড়াল কিছুক্ষণ.. অনেক ভাল ইংরেজীর জ্ঞান আছে যা দেখে বুঝা গেল.. অনিন্দিতা জানাল যে ওর ডাক্তারী পড়ার ইচ্ছা হত শুধুই মানুষ সেবার জন্য.. এছাড়া কম্পিউটার ইন্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামিং জানায়ও আগ্রহ ছিল, কিন্তু পরিবারের খারাপ অবস্থায় তার কোনটাই হয়নি.. তবে তাও দুঃখ নেই ওর আসলে যেকোন বিষয়েই খুব পড়তে জানতে আর বাইরের বিভিন্ন কাজে তার প্রয়োগ করতে বেশ ভাল লাগে.. এখন বেশ ভাল লাগছে ওর একাউন্টিং এ পড়ে.. আর বুঝছে যে ব্যাবসা বাণিজ্য তে অনেক পড়াশুনা আর বাস্তবিক জ্ঞান প্রয়োগ করতে হয়, যা নিলান্তি ম্যামকে দেখেও অনেক শিখা.. নিলান্তি ওর আদর্শ! এসব কথায় সবাই আরও মুগ্ধ হল.. দেয়ালে টানানো নিলান্তির আকদ প্রোগ্রামের ছবি দেখে অনিন্দিতা জানতে চাইল যে কে তুলেছে? ওর ফটোগ্রাফির ও নাকি খুব শখ! কিন্তু সুযোগ তো নাই! তবে ফেসবুকে টুকটাক কিছু ফটোগ্রাফি পেজ দেখে.. অর্নবের আর ওর ফেসবুক পেজের নাম শুনে বলল যে ওর লাইক আছে তাতে! নিলান্তির প্রথম বিয়ের ছবিও ও দেখেছিল কিন্তু তখনের চেহারার সাথে এখনের মিলেনা তাই প্রথমে বুঝেনি.. এমনকি অর্নবের তোলা কিছু ছবি ওর অনুপ্রেরণা! ওর এক বান্ধবীর বিয়েতে ও কিছু ছবি তুলেছিল, ফেসবুক লগইন করে দেখালো, বান্ধবীর পরিবারের সাধ্য ছিলনা ফটোগ্রাফার ডাকার তাই আরেক বান্ধবীর দামী স্মার্ট ফোনে তোলা! সবাই আবারও অবাক হল! নন্ প্রফেশনাল হয়েও খুব সুন্দর আইডিয়ায় ছবি তুলেছে.. এমনকি সেই বান্ধবীর এন্গেজমেন্টের আংটির ট্রে, গায়ে হলুদের গয়না, বিভিন্ন ট্রে, বক্স এমনকি ছোট পরিসরেই সুন্দর স্টেজ সাজানো সব ও করেছে.. সত্যি জাদু আছে মেয়েটার হাতে! নিলান্তি বলল যে অনিন্দিতার অনার্স পরীক্ষা শেষে ওকে ভালমত কম্পিউটার কোর্স করায় সাহায্য করবে আর বিভিন্ন কাজেও ওকে কাজে লাগাবে যেমন ছোটখাট ফাংশনের ইভেন্ট সাজানো.. এভাবে আস্তে আস্তে অনেক আগাবে.. সবাই খুশী হয়ে বলল যে সত্যি অনিন্দিতার মত ভাল রিসোর্স আছে নিলান্তির বুটিকে এতো সৌভাগ্য! এরপর নিলান্তি ওকে আরও কিছুক্ষণ রেস্ট নিতে বলল.. এর কিছুক্ষণ পর নিলান্তি নাফিসা নাস্তা বানানোয় লেগে পড়ল.. অনিন্দিতাও উঠে এল.. সবাইকে অবাক করে ও নিজের বানানো গ্রীন টি বানাল! হঠাৎ নাফিসা গেস্টরুম থেকে অনিন্দিতার ব্যাগ হাতে এনে বলল যে এমন সুন্দর ব্যাগ কোথায় কেনা? একটু আনকমন তাছাড়া কাপড়ের ব্যাগ.. কোন হস্তশিল্প মেলায়?? অনিন্দিতা বলল যে এটা ওরই নিজের বানানো! নিলান্তি প্রশংসা করে বলল যে অনিন্দিতা তো অল রাউন্ডার! আলাইনা এখন আবার গানের স্কুলে যায় আর বাসায় আরো ভালমত শিখায় ভুল ধরিয়ে দেয় নিলান্তি.. আলাইনা হারমোনিয়াম নিয়ে গান গেতে বসল.. হঠাৎ কি যে হল, অনিন্দিতার মুখ খুশীতে চকচক করে উঠল গান শুনে.. এমনি শান্ত ও কিন্তু হঠাৎ যেন চন্ঞ্চল হয়ে গেল! আলাইনার কাছে বসে নিজেও কিছুক্ষণ গেল পরে লজ্জাও পেল! কিন্তু সবাই খুশী হয়ে বলল একটা গান গেয়ে শোনাতে, খুব বলার পর অনিন্দিতা গেয়ে উঠল... " আজ দিন এসেছে আমি হারিয়ে যাব.. অন্যরকম এক জীবন পাব.. " এযে অপুর্ব গানের গলা.. তার সাথেসাথে নিলান্তিও গানটা ধরে কতক্ষণ গাইল! তখন তিন্নি এল.. তিন্নিকে খুশী হয়ে এক এক করে সবাই অনিন্দিতার গুণ বলতে লাগল, ব্যাগটা এনে দেখাল আর অনিন্দিতা ওর বানানো গ্রীনটিও খাওয়ালো.. নিলান্তি খাওয়ার পর অনিন্দিতাকে আবার রেস্ট নিতে পাঠাল.. কিন্তু এসব সুবিধার লাগলনা তিন্নির! এই মেয়ে এত যেচে কেনই বা গুণগুলো দেখাচ্ছে! কি ওর উদ্দেশ্য? নিলান্তির কাছে গিয়ে এসব বলল আর বুঝাল যে এত গুণ দেখিয়ে পরিবারের লোকদের বশ করলে তো সবাই নিলান্তিকে অবজ্ঞা করবে আর ঐ মেয়েকে মাথায় করে রাখবে! মেয়েটাকে আর যাই হোক শাফিনের সামনে থাকতে দেয়া যাবেনা.. নিলান্তি বুঝাল যে এসব কিছুই না! নাফিসা আড়ালে সব শুনল! আর তিন্নিকে বলল যে, নিলান্তির সবচেয়ে গুণ শাফিন ওকে ভালবাসে আর ও শাফিনকে.. তাছাড়া নিলান্তি বাচ্চাদের নিজের মা সুজানার চেয়েও অনেক বেশী আদর যত্ন ধৈর্যে মানুষ করেছে! যা এখনো করছে.. পরিবারের সবাইকে অনেক আপন ভাবে সেজন্য সাইফের হুমকিতে নিজে খারাপ হয়েছে তবুও সবদিক রক্ষার জন্য নিজেকে শেষ করতে চেয়েছে.. এই গুণগুলোর কোন তুলনা হয়?? আর এতদিনেও কি তিন্নি এটা বুঝেনি যে এই পরিবারে শুধু সেলাই রান্না জিনিস বানানো এসব দিয়ে বৌকে বিচার হয়না! নাফিসাও শুরু থেকে সবার আদরের কিন্তু ও এসব কিছুই পারতনা শুধু অফিসে প্রথম কয় মাস কাজ করেছে মাত্র.. রান্না জানে মন্দের ভাল কিন্তু ওর মনে সবাইকে আপন করে নেয়ার ইচ্ছা বা ক্ষমতা ছিল.. এটাই বড় ছিল সবার কাছে! তাছাড়া এ পরিবারের সবাই অসহায় দের যথাসম্ভব সাহায্য করে আর মেধাবী বা গুণীদের কদর করে.. নিলান্তিও ঠিক তাই আর এমনিও নিলান্তির মন দয়ামায়ায় পূর্ণ! আর সবাই যেটা দেখল যে অনিন্দিতা আর দশটা সাধারন মফঃস্বলের অসহায় মেয়ের মত না ওর ব্যাক্তিত্ব আলাদা এবং সৎ ও.. সীমিত চিন্তার মেয়ে না ও, অনেক বড় চিন্তা আর স্বপ্ন আছে ওর! তিন্নি খুবই লজ্জিত হয়ে ক্ষমা চাইল! কিন্তু তবুও সাবধানে থাকতে বলল সবাইকে এতো অল্প কদিনে কাউকে বিশ্বাস না করে! নাফিসা পরে সহজ হল আর বলল ব্যাপার না! ওরা সাবধানেই থাকবে.... 
কিছুক্ষণ পর শাফিন এল, তিন্নি এবার জয়ার কথা সব বলল! সব শুনে নিলান্তিরও মনে হল যে জয়া হয়ত বদলে গেছে, সেই আগের মত! বাকি সবারও খারাপ লাগল শুনে, জয়ার মুখদর্শনের ও ইচ্ছা কারও ছিলনা কিন্তু এখন ঠিক করল যে পরিবারের সবাই যাবে জয়ার সাথে কথা বলতে কিছু বোঝাপড়া করতে... কিছুক্ষণ পর সুজানা ভিডিও কল করল, বাসার সবার সাথে কথা বলল, সবাই এখন বেশ সমাদর করে সুজানাকে কারন নিলান্তির খারাপ সময়ে সেও একজন সাথী ছিল, নিলান্তি এক পর্যায়ে জয়ার এখনের কাহিনী গুলো সব বলল, সুজানাও শুনে চিন্তিত হল, তবে আশ্বাস দিল সবাইকে যে এক্ষেত্রে ও যদি কিছু করতে পারে অবশ্যই করবে... 
নাস্তা করে কৌশলে একফাঁকে তিন্নি গেস্টরুমে গেল, অনিন্দিতা তখনও মাথা ব্যাথায় কপালে আঙ্গুল চেপে বসে আছে, তিন্নির কৌতুহল হচ্ছে, মেয়েটার মনে খারাপ কিছু নাই তো! যদি না থাকে তবে খুবই ভাল.. তবু কড়াভাবে কথা বলবে ভেবে আগাল তিন্নি, তখন মুখ তুলে তাকাল অনিন্দিতা, তিন্নি আগের দিন ওর চেহারা তেমন দেখেনি, আজ দেখে অবাক হল! খুব চেনা যেন কেউ! খুব স্নেহের অনুভূতিও হল! এরপর নরম সুরে টুকটাক কথা বলে বের হল, তিন্নি নিজেও অবাক!
কিছুক্ষণ পর অর্নব এল মিষ্টি নিয়ে, গত সপ্তাহে বেশ বড় এক ওয়েডিং ফটোগ্রাফীর কাজ সেরেছে, নিলান্তির বিয়ের এক সপ্তাহ আগের শুক্র আর শনিবার প্রী-ওয়েডিং ফটোশুটের প্লট ঠিক করতে, বাসার ছাদ, শহরের এক এলাকার ভেতরের গ্রামের সুন্দর নদীর তীর, আহমেদ পরিবারের ফার্ম হাউজ এসব ঠিক হল, এছাড়াও আসছে পঁচিশ তারিখ নিলান্তি আর শাফিনের প্রথম বিয়ে বার্ষিকীর ঘরোয়া অনুষ্ঠানও হবে, তাতেও অর্নব ফটোগ্রাফি করবে.. অনিন্দিতা তখন উঠে দরজার কাছে ছিল, এসব শুনে খুব উৎসাহ জাগল তাই বলেই ফেলল... 
অনিন্দিতা: আমার মাথায় একটা প্ল্যান আসল, ধরুন নিলান্তি আপু আর শাফিন ভাই যদি পরিবারের সবার সাথেও ফটোশুট করে একদম ঘরোয়া ভাবে... 
নাফিসা: হাহাহাহা ঘরে তো রোজই থাকে এতে ভ্যারাইটি কি?? 
তিন্নি: আর দেখ তুমি কতই বা বুঝ এসব! অর্নব যা বলছে.. 
অর্নব: না না পয়েন্ট আছে সত্যি ওনার কথায়! দারুন আইডিয়া সত্যি.. তা ওনাকে চিনলাম না.... 
নিলান্তি পরিচয় করাল, অন্যরাও তাল মিলিয়ে ওর গুণ বর্ননা করল, ছবি তোলায় আগ্রহ আছে শুনে অর্নবের বেশ ভাল লাগল, অনিন্দিতার তোলা ছবিরও সুনাম করল.. 
অনিন্দিতা: আমার আরও একটা আইডিয়া এল! যদি কিছু না মনে করেন তো বলতে পারি... 
শাফিন: আরে বল তো! কে কি মনে করবে! শুধু সুন্দর হলেই হবে কারন তোলা হবে তো আমাদেরই ছবি... 
অনিন্দিতা: না মানে নিলান্তি আপু তো রবীন্দ্র সংগীত আর রবীন্দ্রনাথের গল্পের খুব ভক্ত! তাই যদি একটা ফটোশুট হত রবীন্দ্রনাথের গল্পের চরিত্রের মত মানে সেই সময়কার মত গেটাপের.... 
অর্নব: ও মাই গড! মানে এখনই আপনার মাথায় এল আইডিয়া গুলো?? আন বিলিভেবল! সত্যি খুব ট্যালেন্ট আপনার! আপু এই আইডিয়াতে হলে তোদের ফটোশুট আনকমন আর সুপার হিটই হবে! থ্যান্ক্স এ লট! 
কিছুক্ষণ পর অনিন্দিতা বের হল, অর্নব ও, অনিন্দিতাকে নিলান্তিদের গাড়ি করে পৌঁছে দেয়া হবে, অর্নব তখন বলল যেন পড়াশুনা শেষে অবশ্যই ফটোগ্রাফির কোর্স করে, শুভকামনাও দিল! অনিন্দিতা মনেমনে বলল যে আর হয়েছে ওর এসব করা! সংসার আর ব্যাক্তিগত জীবনটাই যেখানে কাটাছেঁড়া ওর! কিন্তু এসব বললনা.. দুঃখের কথা সবাইকে শুনিয়ে সহানুভূতি পেতে চায়না ও! গাড়িতে ওঠার সময় সাইড থেকে অনিন্দিতার মুখটা হঠাৎ ই আবছা ভাবে নিলান্তির কয়েক বছর আগের চেহারার মত লাগল! দেখে অর্নবের বুকটা ধ্বক করে উঠল! হঠাৎ খুব স্নেহময় অনুভূতি হতে লাগল, ভাবল অনিন্দিতা ফটোগ্রাফি শিখতে চাইলে সবরকম সাহায্য করবে! বাসায় গিয়ে অর্নব এ নিয়ে গল্প করল, নিলান্তির মা বাবার ভালই লাগল কিন্তু এডেলিনের একটু মন খারাপ হল! পরদিন শুক্রবার কিন্তু নিলান্তি বুটিকের কাজে মাঝে গ্যাপ দেয়ায় বাসায় কিছু কাজ করতে চাইল, ও তখন মা বাবার সাথে ছিল, অনিন্দিতাকেও আসতে বলল, ও আসার পরও এডেলিন একটু মন খারাপ করে থাকল পরে অর্নবকে খুব কথা বলতে দেখে কষ্ট পেল.. কিছুক্ষণ পর ওদের রুমে.... 
এডেলিন: মেয়েটাকে খুবই ভাল লাগল তোমার তাইনা?? 
অর্নব: (অবচেতন মনে) হ্যা রে খুব! 
এডেলিন: খুব বেশী?? 
অর্নব: হ্যারে! খুব মায়া হল, জানিস সেদিন হঠাৎ দেখে মনে হল কোথাও না কোথাও নিলান্তি আপুর মত! 
এডেলিন অবাক হল! অর্নবের প্রতি ভুল ধারনাটা মুছে গেল... নিলান্তির মা খুব আদর করলেন অনিন্দিতাকে, তিনিও গভীরভাবে অনিন্দিতার চোখে তাকিয়ে হঠাৎ নিলান্তির ছায়া পেলেন! যদিও তার মেয়ে নিলান্তির মত বিশাল মাপের সুন্দরী না কিন্তু যথেষ্ট সুন্দর আর চোখ সামান্য তেমন, আর অল্প বয়সে এত দুঃখ সয়ে, এত দায়ীত্বের ভারে চেহারার কোমলতা যেন নষ্ট হয়ে গেছে কিছুটা! নিলান্তির মা গল্প করে অনিন্দিতার এসএসসি এইচএসসি পরীক্ষার সাল জানলেন, যাবার সময় কিছুটা দুঃখে তিনি বললেন যে আজ তার একজনের কথা খুব বেশীই মনে পড়ছে.. সে যদি এখন থাকতো....!!! 
এরপর ওরা আহমেদ নিবাসে গেল, দেখল আভা এসেছে সেইসাথে তিন্নি তানি, ইরাও.. তানি ঢাকার বাইরে ছিল, অনেকদিন পর দেখা, জড়িয়ে ধরল নিলান্তিকে! এরপর হতাশ হল সবাই যে নিলান্তিরা এখনো প্রোগ্রামে পরার কোন ড্রেস সিলেক্ট করেনি বলে, শাফিন বাসায় ছিল, সবাই দুষ্টুমি করে শাফিনকেও ওদের আড্ডায় বসতে বলল, আভা আবারো ড্রেস দেখাল.. মিসেস আহমেদ একবার খুব করে বললেন যে কোন প্রোগ্রামে বেনারসী পরা যায় কিনা.. কেউ তেমন পাত্তা দিলনা, তিনি চুপ হয়ে গেলেন কিন্তু মুখ দেখে বুঝা গেল যে কষ্ট পেলেন! নিলান্তি তাঁর হাত ধরে সবাইকে বলল যে কোন এক প্রোগ্রামে ও অবশ্যই বেনারসী পরবে! একজন নামকরা মেকআপ আর্টিস্ট মিমিকে ডাকা হয়েছিল, সব প্রোগ্রামে নিলান্তির মেকআপ করবেন তিনি.. নিলান্তি সবাইকে আবারো বলল যে ও অনেক নাচগানের মধ্য দিয়ে আনন্দ চেয়েছিল কিন্তু এত্ত এলাহী আয়োজনের কি দরকার ছিল! সবাই বোঝাল যে এবারের এই বিয়েটা সাধারন না! ওরা দুজন অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এসেছে! একটু বেশী সেলিব্রেট হলে খারাপ কি! সবারই জীবনের মোড় ঘুরে গেছে তাদের আদরের নিলান্তিকে আবারো ফিরে পেয়ে তাই... কিন্তু হলুদ মেহেদীর ফাংশন কিভাবে করে কি করবে কেউ বুঝে ঠিক করতে পারলনা.. কারন আলাদা দুটা ফাংশন একই দিনে কতক্ষন বা করবে.. পরে ঠিক হল যে দুপুরে হলুদ, তারপর বিকালে মেহেদী.. এরপর রাতে কয়েক ঘন্টা প্রোগ্রাম চলবে.. সেদিন মেইনলি পরিবারের লোক আর আত্নীয়রা থাকবে তাই সবাই মিলে মজা করা আর কি! এবার আরও কন্ফিউশন হল যে নিলান্তি শাফিনের গেটআপ, নিলান্তির মেকআপ কেমন হবে! এত লম্বা সময় তার ওপর তিনটা অনুষ্ঠানই ভিন্ন তিন রকমের! একই ড্রেস গেটাপে হবেনা! এবার নিলান্তির বেশ চিন্তা হল! অনিন্দিতা তা বুঝল নিলান্তির মুখ দেখে! এরপর হলুদ আর মেহেদীর আর্টিফিশিয়াল গহনা নিয়েও কথা উঠল, অনিন্দিতার মাথায় কিছু আইডিয়া এসেছিল, হঠাৎ বলে উঠল যে ও শেয়ার করতে চায় অনুমতি পেলে! নিলান্তি আর শাফিন খুশী হয়ে বলতে বলল... 
অনিন্দিতা: বলতে চাচ্ছিলাম যে, একটু আনকমন ভাবে সব হোক! 
তানি: তা তো আমরাও চাই, ভাবছিও... 
অনিন্দিতা: মানে হলুন আর মেহেদীর সময় খুবই হালকা মেকআপ আর গয়না পরা না হোক...!! 
তিন্নি: এই তোমার সাজেশন! গয়না ছাড়া তাও হালকা মেকাপ! বলি বৌ ভারী সাজ আর গয়না না পরে থাকবে, এটা হল কিছু? পাগল নাকি! 
নাফিসা: (ফিসফিস করে) আহ্ তিন্নি, কি হচ্ছে কি! তা অনিন্দিতা, এতে ভাল কি হবে বলে তোমার মনে হয়? বল দেখি... 
অনিন্দিতা: সরি সবাইকে, আসলে বলতে চাচ্ছিলাম যে, পরপর তিনটা প্রোগ্রাম হবার আইডিয়া টা সত্যি ভাল এতে বেশী করে মজা আড্ডা হবে মানে ভ্যারাইটি থাকবে! কিন্তু ভেবে দেখেন, নিলান্তি আপুকে তিন রকম ভাবে হেভি ড্রেস হেভি মেকাপ জুয়েলারী পরালে স্কিনের কি হবে! আর মেইন প্রোগ্রাম তো পরদিন, সেদিন যদি এই তিন প্রোগ্রামের খারাপ ইফেক্ট পড়ে? তাছাড়া হলুদ মেহেদীতে সিম্পল সাজ, সিম্পল ফ্রেশ মেকাপ আর জুয়েলারী ছাড়া আপুর রিয়েল বিউটি, স্মাইলিং ফেস, হেসেখেলে থাকা হাইলাইটেড হলে হয়তো ভাল হয়! একটু আলাদা হয়! 
মিমি: ভেরী গুড পয়েন্ট! রিয়েলী! আরে এমনই তো দরকার... 
তিন্নি: সত্যি?!!!! 
মিমি: আরে হ্যাঁতো! দেখ আমি আমার থিওরীতে মেকআপ করিয়ে আজ নাম করেছি, আমি মেকআপে ন্যাচারাল ফ্রেশনেস হারিয়ে দেইনা, যেমন পরপর তিনটা প্রোগ্রাম রাখলে বারবার হেভী মেকআপে নিলান্তিও ইজি ফিল করবে না, আর হলুদ মেহেদীতে অনেক নাচগান চারপাশে অনেক রং এর মেলা এর মাঝে হালকা স্নিগ্ধ সাজই ভাল.. রিয়েলী ইউনিক আইডিয়া.... 
ইরা: সত্যি আমারো ভেবে মনে হচ্ছে যে ভালই হবে... 
নাফিসা: থাম সবাই, আগে মিয়া বিবিদের থেকে তো শুনি... 
শাফিন: হাহাহাহা আমার খুবই ভাল লাগল, এবার নিলান্তি বলুক... 
নিলান্তি: অনিন্দিতা, আমার মনের কথা পড়ে ফেললা কিকরে??? (হেসে) 
তিন্নি: আই এ্যাম সরি, তখন না বুঝে রিয়েক্ট করছি, ডোন্ট মাইন্ড প্লীজ.... 
অনিন্দিতা: আরে না না আপু.. এভাবে বলবেন না প্লীজ! 
এরপর আরও কিছুক্ষণ অনিন্দিতা থাকল, প্রোগ্রামগুলির ড্রেস নিয়েও ধারনা দিল, বলল হলুদে হালকা কাজের সিল্কের কাঁচা হলুদ কামিজ বা গাউন, আর মেহেদীতে গোলাপী সুন্দর গাউন সাথে ভারী সবুজ পুঁতির মালা.. এরপর রাতে গাড় নীল জামদানী শাড়ী সাথে একটু ভারী সাজ, মাথায় শুভ্র সাদা ফুলের গয়না আর চুল বেলী ফুলের মালায় মোড়ানো.. এসব শুনে আভা খুবই প্রশংসা করতে লাগল! বলল ফ্যাশন ডিজাইনার হলে খুব নাম করবে অনিন্দিতা! নিলান্তির অবাকের শেষ হচ্ছেনা! এত্ত গুণ এই মেয়ের! তার ওপর আবার লেখাপড়ায় ভাল রেজাল্ট আর কত আগ্রহ নিয়ে ক্লাসের পড়া করে বোরিং ও নাকি লাগেনা! অদ্ভুত! এমন আজব পাব্লিক ছিল শুধু নিশা আপু তাই বেরসিক বলত সবাই! অতীত স্মৃতী ভেবে মুচকি হাসে নিলান্তি, আর ভাবে যে এত পড়ুয়া হয়েও এই মেয়ে বেরসিক না! সে প্র্যাক্টিকেলি ব্যাবসা সামলান সহ অন্য কাজ আগ্রহ নিয়ে করে অনেকটা আমার মত! আর ফটোগ্রাফিতেও কত্ত শখ আর ভাল হাত ঠিক অর্নবের মত..!! অনিন্দিতা চলে গেল.. পরদিন সুজানা ফোনে বলল যে কানাডায় কিছু পরিচিত বাঙালী মহিলা আছে যারা মোটামুটি ব্যাবসা করে বা শুরু করছে.. ছোটমোট কাজ অনেক মেয়েকেই দেয়া যাবে, জয়াকে এখানে কিছু ব্যাবস্থা করে দেয়া যায়, বাচ্চাসহ এখানে থাকা খুব সেফ... 
শুনে সবাই শান্তি পেল, সত্যি জয়া চেন্জ হয়েছে বলেই সবার বিশ্বাস... 
পরদিন অনিন্দিতা অফিসে নিলান্তির রুমে কথা বলতে এল, তবে ভয়েভয়ে, নিলান্তি অভয় দিয়ে বলতে বলল, অনিন্দিতা বলল যে নিলান্তি এবং আহমেদ পরিবার তো অনেক চ্যারিটি করে, এমনকি বুটিকের কাজেও অনেক গরীব মহিলাদের রেখেছে, এমনভাবে যদি নিলান্তির হলুদের প্রোগ্রামের স্টেজ আর কিছু জায়গা সাজানোর কাজে তাদের কয়েকজন নেয়া হয়! স্টেজ সাজানোর প্ল্যানে একটা ছবিও দেখাল, একটু অন্যরকম, সেই মতে অনিন্দিতার প্ল্যান আহমেদ পরিবারের কমিউনিটি সেন্টারের ছাদে, ছোট তিনতলা স্টেজ বর কনের জন্য আর তার চারপাশে ছোট বড় অনেক রঙ্গীন নকশা করা মাটির হাঁড়ি সাজানো থাকবে, ছাদের মাঝে দোলনা হবে যার পিঁড়ি রঙ্গীন আর নকশা করা! কোণায় কোণায় টেম্পোরারী রং দিয়ে টুকরো টুকরো আল্পনা! আর বাইরে কিছু জায়গায় ছোটছোট রঙ্গীন ছাতা ঝুলিয়ে রাখা! রঙ্গীন গেট বানানো আর প্রবেশ পথে ছোটছোট আল্পনা, বলতে বলতে যেন হারিয়ে গেল! নিলান্তি অবাক হল! এত্ত সুন্দর স্নিগ্ধ ধারনা বড়বড় ইভেন্ট ম্যানেজিং কোম্পানিও দিতে পারবেনা! রাতেই শাফিনের সাথে শেয়ার করবে! 
এরমধ্যে বিয়ের কার্ড ছাপাতে দেয়া হয়েছে, রাতে বাসায় সবাইকে নিলান্তি অনিন্দিতার আইডিয়া গুলো বলল.. খুব পছন্দ হল সবার! পরদিন লান্ঞ্চের পর নিলান্তি শাফিন বের হল, বাসার সবাই ও হচ্ছে, সবাই জয়ার সাথে দেখা করবে! দেখা করলে জয়া মাফ চেয়ে যেতে থাকল! বেচারী যেন কাঁদতেও পারছেনা! কেঁদেকেঁদে চোখ শুকিয়ে গেছে! কড়াভাবে কথা বলল সবাই, তারপর বলল যে জয়া স্বাভাবিক জীবন চাইলে সবার চেয়ে দুরে অবস্থান করতে হবে যদিও শৌখিনের খবর ঠিকই রাখবে সবাই! জয়া বলল যে ও তাই করবে.. সবাই জয়াকে জামিন দেয়ার ব্যাবস্থা করল! 
এদিকে নিলান্তি সন্ধ্যায় বের হয়ে মিসেস ফেবিওলার কাছে গেল, ও আগেই ফেবিওলা আর আন্নাবেলের জন্য গিফ্ট হিসেবে দুটো লেহেঙ্গা কিনেছিল তা দিল আর কিছুক্ষণ সময় কাটাল, এরপর মার্থার কাছে গেল! মার্থাকে সাদা-গোলাপী রং এর শাড়ী দিল, আর মেহেদী রাতে পরার জন্য বেগুনী সালোয়ার কামিজ! ওদিন গুলোয় যেন ওর নিলাবেবীর খাতিরে একটু রঙ্গীন হয়ে থাকে খুব অনুরোধ করে বলল! মার্থা হেসে বলল যে নিলান্তি সুখে থাকলেই সব রঙ্গীন হবে ওর! 
পরদিন ফোন এল সাইফের জেল থেকে! সাইফ নাকি মরিয়া হয়ে কথা বলতে চাচ্ছে ওর আপন কারো সাথে কথা বলতে কিন্তু কেউ রাজী না, এমন কি ওর বাবা মাও না! 
এদিকে বর কনের বিয়ে বৌভাতের গেটআপই এখনো ঠিক হলনা তাই সবার চিন্তা! আর নিলান্তিও বলল যে একটা ফাংশনে বেনারসী পরবেই! আভাও এখন বুঝতে পারছেনা যে ঠিক কি করবে! সবাই বলল অনিন্দিতাকে আনতে! তো পরদিন রাতে আনা হল! অনিন্দিতা এবার নার্ভাস হল! সবাই অভয় দিলে ও বিয়ের জন্য অর্ধেক বেগুনী অর্ধেক ম্যাজেন্টা রং বেনারসী দেখাল যার পাড়ে হালকা সবুজ রং নকশা, আর মাথার ওড়না গাঢ় টিয়া রং বলল, রংটা খুবই স্নিগ্ধ হবে! আর শাফিনের জন্য বেগুনি পান্জাবী, বৌভাতে অফ হোয়াইট গাউন তাতে রুপালী পাথরের কাজ আর উপরে ও হাতায় একটু লাল সবুজ ফ্লোরাল প্রীন্টের কাজ, ওড়নাও এমন.. আর শাফিনের অফ হোয়াইট পান্জাবীর মাঝে রুপালী পাথরের কাজ, আভা বলল যে খুবই ট্রেন্ডী হয়েছে এই চয়েস! আভার বেস্ট চিন্তাও এত ভাল হতনা! সবার খুব ভাল লাগল অনিন্দিতার সুরুচির পরিচয় পেয়ে! সবাই এও বলল যে অনিন্দিতা চাইলে বিয়ে বৌভাতের ডেকোরেশনের আইডিয়াও দিতে পারে কিন্তু অনিন্দিতা বলল যে এখনো ঐ পর্যায়ের পরিপক্ক ও হয়নি! তবে অনিন্দিতা নিজে একা হাতে নিলান্তির হলুদের কিছু বক্স আর ট্রে বানাতে চাইল.. 
এরমধ্যে বিদেশে থাকা সবাই জোরেসোরে চেষ্টা চালু রাখছে বেশ কদিনের ছুটি নিয়ে দেশে এসে বিয়ে এন্জয় করতে.....
নিলান্তি এরমধ্যে ওদের বিয়ের ইভেন্ট ম্যানেজারের সাথে অনিন্দিতার পরিচয় করাল আর হলুদ মেহেদী প্রোগ্রামের জন্য ওর আইডিয়ার কথা বলল, বলল এসিস্টেন্ট হিসেবে ওকে ঐ কদিন রাখতে আর ওর সাজেশান শুনতে.. অনিন্দিতাকে বলল এটা ওর একটা পার্ট টাইম চাকুরীর মত! অনিন্দিতা খুশীতে কেঁদে ফেলল! নিলান্তি ম্যামের এত্ত দয়া যেখানে ও সামান্য কর্মচারী মাত্র! তবে বড় চাকুরী ওর শীঘ্রই দরকার মা আর ভাইকে যন্ত্রণাময় বাড়িটা থেকে বের করে আনতে..... 
নিলান্তি: পাগলী মেয়ে! তুমি তোমার ট্যালেন্ট দিয়ে এসব পেয়েছ, তুমি ডিজার্ভ কর.. আর কেন জানিনা তোমাকে দেখলে মনে হয় তুমি আমার খুবই কাছের কেউ! (হঠাৎ উদাস হয়ে বলল কথাটা) 
অনিন্দিতা: আমার অনেক ভাগ্য যে আপনার মত মানুষের ছায়ায় আছি, আমার কিছু বোন আছে কিন্তু তারা নামেমাত্র! আপনাকে কেন জানিনা আমার নিজের বোনের মত লাগে... 
নিলান্তি হেসে জড়িয়ে ধরল অনিন্দিতা কে! আর অবাকও হল, মনে হচ্ছে কি যেন ওকে টানছে! বেঁধে রাখতে চাইছে মায়ার বাঁধনে.... 
পঁচিশ তারিখ সন্ধ্যায় আয়োজনে সবাই এল.. এডেলিন কেক বানিয়ে আনল! অনিন্দিতাও এল, নিলান্তি আর আলাইনা দুজন মিলে গান গাইল.. রাতে ফেসবুকে ইভান ছবিগুলো দেখে অতীতের কথা ভেবে কষ্ট পেল... 
ইভান: একটা টাইম মেশিন পেলে ফিরে গিয়ে সব ঠিক করতাম! যদি আমার জীবনে তুমিই একমাত্র হতা... 
পিয়া: থাক না ভুলে যাও! পাস্ট ইজ পাস্ট! আমরা তো ভুল শুধরেছি.. এটাই বড় কথা... 
পরদিন সুজানা সুখবর দিল, বলল জয়াকে মোটামুটি প্রস্তুত করে এখানে এক মহিলার নিজের সুপারশপে কাজের জন্য আনা যাবে কয়েকমাস সময় নিয়ে, এরপর আস্তে আস্তে আরও ভাল কাজ পাবে! সবাই খুব খুব ধন্যবাদ দিল সু্জানাকে আর বকুলদের জানালে তারাও খুশী হল... 
এরপরও আরও কয়েকবার সাইফের জেল হতে ফোন আসল কিন্তু কেউ পাত্তা দিলনা... জয়াকে ছাড়িয়ে এনে কিছু কাজে রাখা হল, স্পোকেন ইংলিশ কোচিং এ দেয়া হল, এতদিনে শৌখিনের জন্যও বেশ মায়া হয়ে গেছে নিলান্তির আর আহমেদ পরিবারের তাই অনুরোধ করল মাঝেমাঝে শৌখিনের সাথে দেখা করাতে তাদের.. ! জয়া খুব কৃতজ্ঞতা দেখাল... 
এরমধ্যে নিলান্তি শাফিনের প্রী ওয়েডিং ফটোশুট হয়ে গেল! ওরা দুজনই মোটামুটি বিখ্যাত ব্যাক্তিত্ব তাই ছবিগুলো ফেসবুকের ওয়েডিং পেজ গুলোয় শেয়ার হল, আর অর্নবেরও বেশ নাম হল! পরদিন ফারিয়ারা এল দেশে, কাল আসবে আহমেদ নিবাসে, ইভানও রাতে ফোনে জানাল যে ওর ফ্লাইট পরশু আর সুজানাদের বৃহষ্পতিবার সকালে, ওরা হলুদে থাকতে পারবেনা বলে সবাই আফসোস করল! ফারিয়া স্বামীসহ পরদিন এল, নিলান্তিকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল.. বলল যে আর কখনো কোন দুঃখ ছোঁবেনা ওদের! পরদিন ইভানরা ল্যান্ড করে সরাসরি আহমেদ নিবাসেই এল, ইভানের মা বাবাও চলে এসেছে এরমধ্যে! শুরুতেই ইভান আর পিয়া আবারো মাফ চাইল নিলান্তি শাফিনের কাছে! কিন্তু ওরা বলল যে এত খুশীর সময়ে খারাপ অতীত মনে করার দরকার নেই! 
পরদিন অনিন্দিতা এসে কাজের অগ্রগতি বলল, ব্যাবস্থা সবই প্রায় হয়েছে.. আর ওর নিজের বানানো বাস্কেটও অনেকটা রেডী.. সবাই খুশী হল, শাফিন বলল ওর নামে ব্যাংকে একাউন্ট করে তাতে এই কাজের কিছু টাকা দিবা কিন্তু লজ্জায় মানা করল অনিন্দিতা! নিলান্তি ধমক দিল, বলল এটা ওর যোগ্য কাজের পুরষ্কার.. নিলান্তিও চায় যে অনিন্দিতা নিজের পায়ে দাঁড়াক ভালমত.. নিলান্তি বলল যে একটা দেশী ম্যাগাজিন এরমধ্যেই ওদের সাথে কন্ট্রাক্ট করেছে যে প্রী ওয়েডিং ফটোশুট, বিয়ের সব প্রোগ্রামের ডিটেইলস নিয়ে লিখবে আর ছবি ছাপাবে, তাদের ফেসবুক পেজেও ছবিসহ লিখাগুলি দিবে.. নিলান্তি তাদের বলেছে যে ওদের প্রী- ওয়েডিং, ড্রেস ভাবনা, হলুদ মেহেদীর সাজ আর সবকিছু সাজানোর ভাবনা এসবে অনিন্দিতার নাম থাকবে! অনিন্দিতা অবাক হয়ে ঘাবড়ে বলল যে এসব কি দরকার! সবাই বুঝাল যে এটা ওর ভবিষ্যৎ এ ভালমত পরিচয় গড়তে সাহায্য করবে! অনিন্দিতা এবার মনেমনে বলল যে সত্যি এটা দরকার! কিছু মানুষকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর জন্য যে ও পারে! ও স্বস্তা কেউ নয়! তাদের উচিৎ জবাব দেয়া যে এখনও বাকি...!! 
নির্দিষ্ট দিনে নিলান্তি শাফিনের হলুদ শুরু! এ যেন রং এর উৎসব!! চারদিক নানা রং এ জমজমাট! এরমধ্যে হাস্যোজ্জ্বল দুই হলুদ পাখি, শাফিন আর নিলান্তি! তারা টিপিক্যাল ভাবে চুপচাপ বসে না থাকে সবার সাথে হেসেখেলে নেচেগেয়ে আনন্দ করল! স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আনন্দ উপভোগ করল! এলাকার প্রতিবেশী আর ঘনীষ্টরা নিলান্তিকে নিয়ে অতীত স্মৃতীও মনে করল.. মেহেদীতে নিলান্তিকে অনেক রং এর মাঝে এক পদ্মফুলের মত দেখাল! রাতের খাবারের পর নিলান্তিকে সাজান হল, নীল রং শাড়ি আর শাফিনের নীল পান্জাবী দুজনের মনে আলাদা ভাললাগার মাত্রা যোগ করল! সবাই মিলে যেন আনন্দের হাট বসাল! নাচ গান নাটক আবৃত্তি সহ অনেক প্রোগ্রাম হল! ফারিয়া আর আলাইনা গান গেল, শায়ান ওর বাবা মার সুন্দর স্কেচ করে দেখাল, ইরা আবৃত্তি করল, এছাড়াও অনেকে নাচ আর মজার নাটকও করল.. এরপর অনুষ্ঠান শেষে নিলান্তি বাবা মার সাথে গেল! রাতে কিছুক্ষণ ফোনে কথা বলল নিলান্তি আর শাফিন.. প্রতীক্ষা যেন শেষই হতে চাচ্ছেনা ওদের! কাল থেকে আবারো যে ওকা পাকাপাকি সংসার করতে যাচ্ছে! মাঝের কিছুটা সময় অনাকাঙ্খীত ঝড় যা ভেঙ্গে দিয়েছিল! সবাই সব হারিয়ে পরে ফিরে পায়না কিন্তু ওরা দুজন পেয়েছে আর খুব ভালমতই পেয়েছে! এসব নিয়ে কথা বলল.. রাত হয়েছে বেশ এখন ঘুমাতে হবে কালকের বিশেষ ক্ষণের অপেক্ষায়! 
পরদিন সকালে নাফিসাকে ফোন করল ওর নাসরীন খালা! বলল যে হলুদ মেহেদীর ছবি আর প্রী ওয়েডিং এর সব ছবি দেখেছে! বাড়ির বাচ্চারা দেখিয়েছে ফেসবুকে.. ছবিগুলোর আর ফাংশনে সাজানোর প্রশংসা করল! যদিও ছবিতে একজনকে দেখে সে অবাক হয়েছে, সে কেনো কিভাবে ওখানে তা জানার ইচ্ছা কিন্তু ফোনে বলবেনা! সামনে বলবে.. গম্ভীর স্বরে বলল.. নাফিসা হাসল আর তাড়াতাড়ি আসতে বলল.. নাসরীনের কাল থেকেই মন ভাল না নিলান্তির প্রোগ্রামে বিশেষ একজনকে দেখে! বাড়ির সবাই খুবই উৎসাহে ছিল বিয়েতে যেতে কিন্তু তাতে সামান্য ভাটা পড়েছে তাকে দেখে! কিন্তু উপায় নেই যেতেই হবে! একবার ভাবল তৌসিফকে সাথে নিবেইনা, যদিও তৌসিফ ছবিগুলো দেখেইনি তাই সেই বিশেষ একজনের কথা জানেনা এখনও কিন্তু নিয়ে গেলে কি না কি হয়! তবে না নিলে নাফিসা খুব প্রশ্ন করবে! ওরা বেশ আদর করে তৌসিফকে ছোট থেকে! না গেলে খারাপই হয়! তবে সাবধানে রাখতে হবে তার থেকে আর কি....!!!


পর্ব -48
পরদিন খুব সকাল থেকেই নাসরীনের বাড়িতে একটু নীরবতা! এটা অস্বাভাবিক ই কারন বাড়ির সবাই এত খোলামেলা আর আধুনিক মনের, বড়রা বাচ্চাদের মন বুঝে আর খুব হইচই এ ভরে থাকে! বাচ্চাদের বন্ধুরা হিংসা করে যে এত ভাল পরিবার তারা পেয়েছে যেভাবে বড়রা এত ফ্রী মাইন্ডেড কিন্তু তবুও এমন কিছু হয়েছিল যার জন্য তৌসিফ ব্যাতিক্রম! আজ সবাই নীরব হয়ে ভাবছে যে কত্ত আনন্দ করার প্ল্যান করেছিল তাদের সেই আত্নীয়ের বিয়ে বাড়ি নিয়ে এমনকি নাফিসাকে আগে বলেছিলও নাসরীন যে ওর ভাতিজা ভাতিজীরা গান গাবে কিন্তু এখন তা হবেনা, বাড়ির বাচ্চারা নিলান্তির সাথে দেখা করায় খুব আগ্রহী ছিল কিন্তু এখন অত উৎসাহ নেই! সবাই কত শপিং করেছিল.. কি থেকে কি হল! এখন অবস্থা এমন যে না গেলে ভাল হয়! মাত্র একজনই এসবের কারন! তৌসিফের বৌ লিলিও চিন্তায় আছে, দ্বিধায় আছে যে ওর কেমন থাকা উচিৎ! নিজেও বুঝতে পারছেনা! তৌসিফকে বিয়েতে না নিয়ে গেলে তো বেস্ট হয় আর ছেলেটা এমনিও ফাংশন পছন্দ করেনা তাই চাবেনা কিন্তু সকালেও নাফিসা ফোনে খুব করে বলল তৌসিফকে আনতে! ওকে ওর বৌসহ সবাই দেখে দোয়া করবে এমনকি মিসেস আহমেদ আর শাহেদও বলেছে! কি করে তাদের কথা ফেলে! সবাই চিন্তিত! তৌসিফ একবার বললও যে ওর যেতে ইচ্ছা নাই, অন্য সময়ের মত খুব জোর করলনা কেউ শুধু বলল যাওয়া জরুরী বাড়ির মুরব্বীও যেখানে বলেছে, গিয়ে তাদেরই মাঝে শুধু থেকে কথা বলে আসবে ও তাতেই হবে!
এবার তৌসিফও অবাক! এতো সহজে এই অল্পতে সবাই খুশী! অথচ কোন বিয়েবাড়িতে ওকে নাচতে হৈ হল্লা করতে বলে! আর আজ সবাইকে অন্যরকম ও লাগছে! তৌসিফের বাবা সবাইকে বুঝালেন যে তাদের ব্যাবসা এখন ভাল হচ্ছে কিন্তু পরে আরও ভাল হবার জন্য কোনভাবে আহমেদ পরিবারের সাহায্য লাগতেও পারে তাই যত পারা যায় সুসম্পর্ক দরকার আর সেই একজনের জন্য তো তা বন্ধ করা যায়না! তাছাড়া এত বড়লোক নামী মানুষ তারা, কত লোকই তাদের আন্ডারে কাজ করে, তারা বহু গরীবদের সাহায্যও করেন কাজ দেন, তো হতে পারে যে সে ওখানে ওরকমই কেউ যে বিয়েতে কিছু কাজ করেছে, তাছাড়া আর কি হবে! এত নামী পরিবারের সাথে কোন সম্পর্ক তো আর হবেনা! তাই চিন্তার কিছু নাই! সবাই একটু নিশ্চিন্ত হল! তৌসিফ একটু শুনল কথাগুলো আর অবাক হল যে কার কথা বলছে! লিলি নীরবে চোখ ছলছল করে দাঁড়িয়ে আছে! নাসরীন তা দেখে বুঝাল চিন্তা না করতে, এখন তৌসিফ অনেকটা সরে এসেছে তার কাছ থেকে, এখন শুধু লিলির! লিলি ভালমত তৈরী করুক ওকে আর নিজেও সুন্দর হয়ে সাজুক...
তৌসিফ: বলছি আমি না গেলে কি হবে না?? আমি চাচ্ছিনা....
তৌসিফের বাবা: না যেতেই হবে...
নাসরীন: বাবা শোন, তোন নাফিসা আপা এত করে বলছে, তোর দুলাভাইও তোর মনে নেই তোর আপা কত্ত আদর করত তোকে সবই ভুলে গেছিস?? আর মেঘ রোদ্দুররাও (নাফিসার ছেলেরা) তোকে কত পছন্দ করত! আর তোর শাফিনভাই তোকে আর মেঘকে নিয়ে সারাদিনই ঘুরত খেলত, সবার কথা একটু ভাব.....
তৌসিফ: ওহ্!
নাসরীন: দ্যাখ, এটা বলতেছিনা যে গিয়ে পুরা দিন থাকতে হবে, বা সবারই সাথে কথা বলতে হবে, শুধু তাদের সাথে কথা বলবি, নতুন বৌয়ের বাড়ির লোকের সাথেও হালকা পাতলা এইতো! তাছাড়া তাদের কাজের কত লোকজন কে না কে কে থাকবে তাদের সাথে তো কথা বলা লাগবেনা.. তাড়াতাড়ি চলেও আসিস...
তৌসিফ নিরবে গেল, সত্যি নাফিসা আপাকে তো ভোলার নয়! ওর সবচেয়ে খারাপ সময়ে নাফিসার সাহায্য পেতে চেয়েছিল কিন্তু তখন শুনল যে তাদের পরিবারে সমস্যা চলছে (জয়া তখন সমস্যা করত), তাই আর বিরক্ত করেনি কিন্তু তখন সব ঠিক থাকলে নাফিসা আপা ঠিকই সাহায্য করত...
নাসরীন: লিলি, মা আমার কাঁদেনা, শোন তৌসিফ বদলে গেছে, (তৌসিফের ভাবী আর বোনদের বলল লিলিকে পার্লারে ভালমত সাজাতে)...
লিলি: কিন্তু আম্মা ঐযে অ......
নাসরিন: ও?? আরে ওকে নিয়ে ভাবতে হবেনা! কে ও? ও তোমারও কেউ না! তুমি নিজের দিকে মনযোগ দেও, নিলান্তির সাথে কথা বলিও.. তোমারও তো বুটিক দেয়ার ইচ্ছা.. সে ব্যাপারে ভালমত কথা বলিও মা....
তৌসিফ বিষন্ন মনে ভাবল যে ওর জীবনটা এভাবেই গেল! আর কিছুই বাকি নেই! এভাবে অন্যের কথা রাখতে আর বড়দের কথার মান রাখতে! কিন্তু তবুও ঐ সময়টায় তো আমি সাহসী ছিলাম! সব বাধা ভেঙ্গে কিন্তু সে কেন আর চাইলনা?? সে কেন এমন করে দুরে সরে গেল?? আর কোন কিছু চাওয়ার নেই জীবনের কাছে! মৃত্যুতেই মুক্তি!
এদিকে নিলান্তি সকাল সকাল উঠে সবার জন্য চা বানাল, মা ধমক দিয়ে বলল আজ আর যেন চুলার কাছে না যায়, নিলান্তি একা বারান্দায় বসে গুণগুণ করল কিছুক্ষণ! আজ মনে প্রাণে অদ্ভুত আনন্দের হিল্লোল বয়ে যাচ্ছে! শাফিনেরও একই অবস্থা! এ যেন অন্যরকম প্রাপ্তী! শাফিন নিলান্তিকে ফোন করল, কিছুক্ষণ গল্প করল ওরা, শাফিনও বারান্দায় এল, দুজন দুজনকে দেখে প্রানোচ্ছল ভাবে হাসল... কিছুক্ষণ পর ফারিয়া এসে লজ্জা দিয়ে বলল ভাইকে যে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারছেনা! এরপর হেসে টেনে নিয়ে গেল, আর নিলান্তির দিকে তাকিয়ে হাত নাড়াল... দুপুর একটায় খুব যত্ন নিয়ে মা নিলান্তিকে খাওয়াল, আজ সব নিলান্তির পছন্দের রান্না, নিলান্তি কাজে সাহায্য করতে চাইলে কেউ করতে দেয়নি.. নিশা আগে থেকেই বাসায় ছিল, এরমধ্যে বাসায় অনেকে এল, আর রাস্তায় ফেবিওলা আন্নাবেল, এই দুই বিদেশিনীকে রঙ্গীন লেহেঙ্গা, চুরি মালা টিপ এ সজ্জিত দেখে উৎসুক মানুষরা তাকিয়ে থাকল! নিলান্তি কে খাওয়ানো শেষে মা হঠাৎ বলল যে অনিন্দিতা কোথায়? নিশা মজা করে বলল যে এখন নিজের মেয়ের দিকে মনযোগ না দিয়ে অন্য মেয়ে নিয়ে ভাবা হচ্ছে! মা কিছুটা লজ্জা পেলেন আর বললেন এমন কিছুনা! মেয়েটা অনেক কিছু করল তাই! কিন্তু সত্য আসলে এটাই যে ক্ষণিকের জন্য উদাস হয়ে গিয়েছিল তার মন, আবারো তার খুব মনে পড়ছে একজনের কথা! সে যদি আজ থাকতে পারত এখানে..... 

best bengali books to read


নিশা: হাহাহাহা আম্মু মজা করে বললাম, জানতো আমারও খুব ভাল লাগছে ওকে আর পড়াশুনার বাইরের এত কাজ করলেও পড়ার প্রতি ফাঁকি নাই ওর! স্কুলে নাকি ফার্স্টই হত পাশাপাশি গান গাওয়া ছবি আঁকাআঁকি করলেও! আর অংকে নাকি বেশ ভাল ব্রেন ছিল অবশ্য এখনো আছে, কিন্তু ব্যাড লাক বলেই অনেক কিছু করা হলনা! নিলান্তির বিয়ের পর আমিও ওকে পড়াশুনায় সাহায্য করব... 

তিন্নি: হ্যা সবাই তো তোমার মত হবে কিনা যে খালি পড়া নিয়া থাকবে...
নিশা: এই তুই কি বললি? শোন যাই হোক তুই যেমন ডাল ব্রেনের ছিলি ওরকম হওয়া ভাল কিছু না, বুঝলি? 
নিলান্তি: আরে থামো তো তোমরা.... 
তানি: ওমা দেখ কারা এসেছে! ওয়াও! লুকিং ভেরী প্রীটি লেডিস...
নিলান্তি: ও মাই গড! প্লীজ কাম... 
আন্নাবেল: কনগ্র্যাচুলেশন নিয়েল্লান্টি... অল অফ ইউ লুকিং সো প্রীটি অলসো! 
অনিন্দিতা আসার পথে, ও খুবই চিন্তায় পড়েছিল যে কি গিফ্ট করবে ওর সামর্থ্য বা কত! তবে নিলান্তি এত্ত করছে ওর জন্য তাই ভাল কিছুই দিবে! সুন্দর একটা শোপিস আর সাথে নিজের বানানো মেরুন রং এর সিল্ক কাপড়ের ক্লাচ ব্যাগ নিল.. 
এরমধ্যে সুজানাও এসেছিল আহমেদ নিবাসে, কিছুক্ষণ থেকে পরে জয়ার সাথে দেখা করতে যেতে চাইল, জয়ার সাথে কথা বলে মন পরীক্ষা করতে চাইল আর ওখানে কাজ করে থাকতে আসলে কতটা ইচ্ছা আছে তা দেখতে.. শায়ান আলাইনারা বাসায় সাভান্নাকে নিয়ে থাকল, ওরাও এখন শৌখিনকে খুব মিস করছে! 
কিছুক্ষন পর মার্থা এল নিলান্তির দেয়া শাড়ি পরে, বলল আজ আর কাল ওর সব কাজ বন্ধ রেখেছে... অনিন্দিতাও চলে এল.. নিলান্তি ফেবিওলার সাথে আলাপ করে বলল যে অনিন্দিতাকে ওর অনার্স ফাইনাল শেষে অনেক কাজের ব্যাবস্থা করে দেয়া হবে... একটু পর শাফিনের ফোন এল! নিলান্তি কিছুটা লজ্জা পেল.. তানি সবাইকে বলল যে নিলান্তিকে কিছুক্ষণ একা ছেড়ে সবাই ড্রয়িংরুমে বসা হোক...
আরশী: আম্মা আপনারা রেডী হয়েছেন? আর তুবা তোর কতক্ষণ লাগবে??
রুমনের মা: হ্যা মামনি দেখ তোমার ঠিক করে দেয়া শাড়ীই পরছি! আর রুমন আসছে নামায পড়ে??
আরশী: খুব সুন্দর লাগছে আম্মা! হ্যা ও আসছে! আরে তুবা তোর হল?? তাড়াতাড়ি করনা! আগে তো সবার সাথে দেখা করে তারপর নিলান্তিদের সাথে দেখা করতে হবে.....
তুবা: শাড়িটা ঠিক করে দেও না...
আরশী: হাহাহাহা আচ্ছা দিচ্ছি...
ওরা সবাই আগে এলাকায় এসে আরশীর বাবা বাড়ি আর রাফিদের বাড়ি কিছুক্ষণ থেকে সবাই একসাথে রওনা হবে ঠিক করে রাখা...
মিন্টু: সবাই তো খেয়েই আসবে, এখন হালুয়া করার কি দরকার ছিল কণা??
কণা: তুমি যেন জান না যে জামাইদের গাজরের হালুয়া কত পছন্দ! দুই চামচ খেলে কিছু হবেনা! মোহন রেডী হল??
মোহন: ভাবী আমি আগে থেকেই রেডী শুধু দোকানটা বন্ধ করে আসলাম...
কণা: তোমাকেও খুব জলদি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে না হলে আজও আরশীটা বলবে যে আমরা তোমার খেয়াল ই রাখিনা, হাহাহাহা....
মোহন: সে দেখা যাবে.....
শিলা: রাফি, এই বেগুনী শাড়িতে আমাকে মানাচ্ছে তো??
রাফি: উম্ নাহ্.. !
শিলা: জানতাম! আমি তো কালো....
রাফি: (শিলার কথা শেষ হবার আগেই চুলে বেলীফুলের মালা পরাল) এটা ছাড়া ইনকমপ্লিট! আর এখনও তুই রং নিয়ে দ্বিধায় থাকিস...!!
শিলা: (মনে আনন্দ বয়ে গেল) সরি আর থাকবনা.. আজ খুব মনে পড়ছে নিলান্তির সাথে প্রথম কথার দিনে, ওদের ছাদে ও আমাকে বলেছিল যে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে আমাকে যা এভাবে কেউ বলে নাই...
রাফি: তবে...!! আমি বুঝি বলি নাই??
শিলা: তুই আলাদা.. জানিস এখনও লজ্জা হয় যে সেসময় কত ভুল বুঝছি নিলান্তিকে!
রাফি: আমিও কম অন্যায় করিনি, কিন্তু তা ছিল পাগলামী যা না বুঝে করা...
কিছুক্ষণ পর আরশীরা সবাই এল, দুই বাড়ি বেড়াল, তারপর মেয়েরা মানে আরশি তুবা শিলা কণা মিলে একটু নিলান্তিদের বাসায় ঢুঁ মারল, তখন পারমিতা এল নিলান্তির পছন্দের বুটের হালুয়া নিয়ে, শুভ সময়ে মিষ্টিমুখ করা তো দরকার... আরশিরা বের হল.. একটু পর একেবারে কমিউনিটি সেন্টার যাবে.. সুজানা ফোন দিয়ে বলল নিলান্তিকে যে ও জয়ার সাথে কথা বলে এখন আহমেদ নিবাসে যাচ্ছে...
একটু পর রিনি এল রাজদের নিয়ে! এসেই নিশাকে জড়িয়ে ধরে বলল পুরনো বিভেদটা আর মনে না রাখতে! সবাই তো শাস্তি পেয়েছিলই আর এখন তো সব ঠিক তাছাড়া আজ কত খুশীর মুহূর্ত! ওরা তো ছোটবেলার বান্ধবী! নিশা চোখ মুছে বলল যে ওর আর কোন রাগ নেই ওর বা রাজদের পরিবারের প্রতি..! রাজ আর শমী অভিনন্দন জানাল নিলান্তিকে.. রাজের মা খুব আদরও করলেন.. কিছুক্ষন পর মেকআপ আর্টিস্ট মিমি এল ওর কিছু এ্যসিস্টেন্ট নিয়ে, এখন নিলান্তিকে সাজানো হবে... নিলান্তির সাথে সাথে অন্য মেয়েদেরও একটু মেকআপ আর হেয়ার স্টাইল করানো হল.. নিলান্তি শাফিনরা বলেছিল যে জয়া চাইলে আসতে পারে শৌখিনকে নিয়ে, জয়ারও ইচ্ছা হচ্ছিল আর অবাক ব্যাপার যে জয়ার খুশীও লাগছিল! কিন্তু তবু গেলনা কারন অনেক লোক থাকবে অকারনেই পাঁচজন পাঁচরকম কথা তুলবে সুন্দর আনন্দময় পরিবেশ খারাপ হবে তাই.. জয়ার মাও যেতে চাইলনা বরং বললেন যে তিনি বাসায় থেকে জয়া র সাথে সময় কাটাবেন, একজন অপরাধীকে ভাল পথে আনতে যা দরকার.. তারা দুজনই ভিডিও কল করে নিলান্তিকে শুভ কামনা দিল.. এছাড়াও নিলান্তিদের কিছু আত্নীয়রা আসলেন...
নিলান্তি অনিন্দিতাকেও একটু সাজতে বলল কিন্তু অনিন্দিতা চাইলনা, মনটা বিশেষ ভাল নেই! ওরও অনেক স্বপ্নের মাঝে এক স্বপ্ন ছিল ভালবাসার মানুষকে বিয়ে করার কিন্তু সেই স্বপ্ন নিয়ে প্রচুর কাটাছেঁড়া হল! আর আশা নেই... তবুও নিলান্তির আর বাকিদের অনুরোধ ফেলা গেলনা.. নিলান্তি আজ পরার জন্য গোলাপি রং লেহেঙ্গা গিফ্ট করেছিল অনিন্দিতাকে, কিন্তু এই রং পরা অনেক আগেই বাদ দিয়েছিল ও! বিশেষ একজনের খুব পছন্দ ছিল ওকে এই রং এর ড্রেসে দেখতে! সম্পর্কের কাটাছেঁড়ায় কিছুই যখন বাকি নেই তখন আর... তবে নিলান্তি বলল বলে পরা, ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! তাও শান্তি যে সেই মানুষটা তো আর ওকে দেখবেনা! একটু সাজায় অপূর্ব লাগছে ওকে.. নিলান্তির মা স্নেহভরা গলায় বললেন মাঝেমাঝে দায়িত্ব আর কাজের ফাঁকে নিজের জন্য সময় বের করে একটু যত্ন নিতে সাজতে তাতে মন ভাল থাকবে! অনিন্দিতার খুব ভাল লাগল তার এই আপনভাব, মা এখন সাথে নেই কিন্তু কেন যেন মনে হল যে মায়ের আদরই পাচ্ছে ও! তবে মনেমনে হাসল, কার জন্য আর যত্ন সাজগোজ করা! এখন একটাই লক্ষ্য খুব পরিশ্রম করে কাজ এর মধ্যে থাকা আর ভাল চাকরী পেয়ে মা আর ভাইকে উদ্ধার করা....
কিছুক্ষণ পর নিলান্তিরা বের হল, শাফিনরা আরও কতক্ষণ পর হবে.. সবারই চোখেমুখে আনন্দ! যেন আনন্দ মিছিল! সবাই হাসিমুখে হাঁটতে লাগল কারন বেশী দুরের রাস্তা না, তবে কিছু বয়ষ্ক মানুষদের রিকশা করে পাঠানো হল, অনিন্দিতার ও বেশ ভাল লাগছে.. আজ কত কত বছর পর এমন আনন্দে শামিল হল! কিন্তু অনিন্দিতার তখনও অজানা ছিল যে কি হতে চলেছে ওর সাথে ওখানে গিয়ে...
রুমন: আরশী জানো সেই প্রথম যখন তোমার প্রতি একটু একটু ভাললাগা হচ্ছিল, রিনি আপুর হলুদ প্রোগ্রামে, তুমি লাল শাড়ী পরে ছিলে, লজ্জাভরা চোখে আমাকে দেখছিলে আর শরবতের গ্লাস দিচ্ছিলে, খুব মায়াভরা লাগছিল...
আরশী: তোমার মনে আছে??
রুমন: কেন থাকবেনা! আর আজ স্মৃতী গুলো জীবন্ত লাগছে, এই এলাকা, রাস্তা এগুলোর সাথে জড়িয়ে থাকা স্মৃতী যে ভুলার নয়...
আরশী: হ্যা আর শুভদিনে ভাল স্মৃতীও মনে পড়ে যেমন আজকে....
নিলান্তিকে স্টেজে বসানো হল, শাফিনরাও রওনা দিয়েছে.. পুরো রাস্তা নাচ গান করতে করতে আসছে! এদিকে এখানে গেট ধরার জন্য প্রস্তুতী নিচ্ছে অনেকে.. বরপক্ষকে ফাঁদে ফেলতে!
এরমধ্যে নাসরীনের পরিবারও চলে এসেছে, এসেই তাদের সাবধানী চোখ খুব খুঁজছিল সেই একজনকে!
এদিকে সবাই খুব হাসি মজায় গেট ধরার ঝামেলা মিটিয়ে বরপক্ষকে ঢুকাল, সবকিছুই স্বপ্নের মত লাগছে শাফিন আর নিলান্তির কাছে! শাফিনের বারবার মনে হচ্ছে যে কিছু সময় হারিয়েই ফেলেছিল নিলান্তিকে! কখনও কল্পনায় ও ছিলনা যে আবার পাবে! তাই আজকের দিনের আনন্দকে মাপা সম্ভব নয়! আর কখনও আলাদা হবনা আমরা! ওরা দুজন একে অন্যের দিকে তাকিয়ে স্মিত হাসল.....


পর্ব -49
রবিন তা দেখে কনুই দিয়ে হালকা ঘুতা দিল শাফিনকে আর মেঘ, ইভানদের নিয়ে এটা বলে হাসাহাসি করল কতক্ষণ... ইভান ওর বন্ধুদের কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরল! কতদিন পর আজ পাঁচজন এক হল! চোখ ছলছল সবার! আবার যেন ফিরে গেছে প্রায় পনের বছর আগের সময়ে.. তবে তখনকার খারাপ দিকগুলোকে দুরে সরিয়ে! আর কোন অভিমান নেই কারো কারোর ওপর! এভাবেই তারা থাকবে বলে প্রতীজ্ঞা নিল....
বকুল: দোস্ত! কেমন আছিস রে! কতদিন পর দেখা...
রাফি: (জড়িয়ে ধরে) ভাল রে, তুই? হ্যারে কতই তো ঠিক করি যে মিট করব কিন্তু হয়ই না! ব্যাস্ততাও কত কিছু কেড়ে নিল দেখ...
শিলা: কেমন আছেন ভাইয়া??
বকুল: ভাল, তুমি?? নারে রাফি, সবকিছুই ইম্পর্টেন্ট...
শিলা: দেখলি? শেখ কিছু.....
রাফি: সেতো জানি রে! ফান করলাম! আগের কিছু কথা মনে পড়ল রে!
বকুল: (তিন্নিকে স্টেজের আশেপাশে ব্যাস্ত দেখে) কত্ত লাকি তুই যে তোর উনি তো সাথে আছেন, সবার তো আমার মত ব্যাড লাক না যে স্পেশাল কেউ থেকেও নাই! (জোরেজোরে তিন্নিকে শুনিয়ে বলল, তিন্নি কটমট চোখে তাকাল)...
তিন্নি: কি বলা হচ্ছে শুনি??
রাফি: আরে এত রাগবেন না, ভয় পায় তো বন্ধু আমার, মিস্ অবন্তী! হাহাহাহা!
তিন্নি: (হেসে) এখনও মনে আছে আপনার? কেমন আছেন আপনারা??
শিলা: ভাল গো.. হ্যাঁ তোমাদের তো খুব মাস্তি চলত ঐ সময়, সবই শুনছিলাম কিন্তু পরে হাহাহাহা...
রাফি: সেসব স্মৃতী কখনই ভোলার না...
বকুল: মিস্ অবন্তী ভুলেই গেছে এই কয়দিন যে বকুল বলে কেউ আছে! সারাদিনই শুধু নিলান্তি আর নিলান্তি....
তিন্নি: ইশ্.. ভুলে যাইওনা আমাদের লাভ স্টোরিতে অনেক কিছুই করছে আমাদের জন্য নিলা, ওকে???
বকুল: সেটা কি আমি জানিনা! নিলান্তি তো আমার কাছে আমার নিজের বোনদের ই মত! যদিও মাঝে ওর জীবনে আসা ঝড়ের কারন ছিল আরেক বোন! যাক সেসব.....
তিন্নি: (দেখাল যে শাফিনকে স্টেজে নিলান্তির পাশের চেয়ারে বসান হয়েছে) এসব বাদ দাও! দেখ নিলা আর শাফিন ভাইকে! কত খুশী তারা. সব ভাল যার শেষ ভাল তার.. দোয়া কর সবাই ওরা যেন বাকি দিনগুলিতে এমনই থাকে! কেন জানিনা অল্প ভয়ও হয় নিলাকে নিয়ে কারন এর আগে অনেক বার এমন হল যে সাজানো গোছানো জিনিসই উল্টিয়ে গেছে! ভয় হয়....
শিলা: ওরা অনেক দুঃখ পার করে আসছে! রাতের পরেই তো দিন হয়....
নাসরীনের ভাতিজা ভাতিজী খুব আধুনিক গান গায়, ভাতিজা ব্যান্ড দল করারও চিন্তা করছে, আজকের দিনই হালকা প্রোগ্রাম রাখা হয়েছে, একটা নাচের প্রোগ্রাম একদল ছোট বাচ্চাদের নিয়ে, আর কয়েকজনের গান, নাসরীনের বাড়ির এমন অবস্থায় ওরা প্র্যাক্টিস করতে পারেনি তাই ভাতিজী পারবেনা বলল, অবশ্য ভাতিজা বেশ অভিজ্ঞ, সে ব্যান্ড সঙ্গীত গাবে.....
অনিন্দিতা এতক্ষণ নিলান্তির কাছেই ছিল, এখন মায়ের ফোন আসায় একটু উঠল আর বাইরের দিক গেল কথা বলতে, তখনই নাসরীনরা পরিবারের সবাই স্টেজে গেল, সেখানে আহমেদ পরিবারের সবাইও ছিল, লিলির সাথে সবার কথা বলাল, আজও শাফিন নিলান্তি চুপচাপ বসে নেই, সাবলীল ভাবেই গল্প করছে! লিলি আর তৌসিফের বোন ভাবীরা অনেক ছবি তুলল নিলান্তির সাথে, তারা আগেও ছবি দেখেছিল নিলান্তির, আজ সামনে দেখে অনেক ভাল লাগল....
নাফিসা: হ্যারে তৌসিফ, জানি তোর এত হইচই ভাললাগে না, কিন্তু চুপচাপ হাসি মুখ করেও তো থাকা যায়! এমন গোমড়া মুখ কেন তোর??
তৌসিফ: (নির্লিপ্ত ভাবে) কই নাহ্!
নাফিসা: লিলি, আমার ভাইটা তোমার সাথে ঘুরতে গিয়েও এমন থাকে নাকি আবার? হাহাহাহা...
লিলি: না মানে...
সবাই হাসল, কিন্তু নাসরীনের পরিবারের বড়দের চিন্তা থেকে গেল, কিছুক্ষণ পর মেঘ রোদ্দুর এসে তৌসিফ কে নিয়ে গেল....
মোহন: সেইযে এলাকা বদলায়ে চলে গেলি, তবু আসা তো যায় মাঝেমাঝে.. তাইনা? আর রাজবাবু তো কাছে থেকেও সময় পায়না...
রাজ: কে বলল দোস্ত! আর হ্যা বিয়ে তো কর আগে তারপর বুঝবি....
রুমন: হ্যারে তোর আর দেরী করা যাবেনা... মেয়ে দেখব??
মোহন: আর আমি! যা যা করছি আগে! কত মেয়ের ক্ষতি করছি নোংরা ভাবছি, আমার জন্য কোন মেয়ের লাইফ নষ্টের কি দরকার...
রুমন: বিলিভ কর এইযে তুই তোর ভুল টা বুঝছিস, চেন্জ হইছিস এটাও অনেক কিছুই...
রাজ: আরে দিপু বাবু আমাদের! ইনিও ব্যাচেলর কিন্তু ব্যাস্ততা দেখে কে! এখন আরও কোর্স করা নিয়েই আছে!
রুমন: এই তানিশা.. দীপু কই??
তানি: ভাইয়া আসতেছে এখুনি....
কিছুক্ষণ পর দীপু ঢুকল মাকে নিয়ে, তখন এরা চার বন্ধু আড্ডা দিতে লাগল আর তানির মা নিলান্তির মার কাছে....
তানির মা: দিনগুলা কিভাবে গেল, তাইনা ভাবি? এখনও চোখে ভাসে তানি আর নিলান্তির ছোটবেলা!
নিলান্তির মা: হ্যা ভাবী.. সময় তাড়াতাড়ি ই চলে যায়....
তানির মা: আমার তানিটার বিয়ার কথাও মনে পড়তেছে, নিলান্তিটা কত কিছুই না করছে.. তানিকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে কত কিছু! ওকে যতই দোয়া দিব কম হবে!
নিলান্তির মা: দোয়া দিতে থাকবেন ভাবী যেন সবসময় আনন্দে থাকে......
অনিন্দিতা অনেকক্ষণ কথা বলে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখল স্টেজে বর বৌয়ের সামনে অনেক ভীড়, তাই ওদিকে গেলনা......
ফারিয়া: এই তুমি রেডী? চল না হয় ঐ রুমে গিয়ে একটু গেয়ে প্র্যাক্টিস করি!
অনিন্দিতা: আমি ফুল্লী রেডী আপু, তাও চলেন, আমি চাই নিলান্তি আপুর জন্য যত বেশী সুন্দর পারা যায় গাব...
ফারিয়া: (হেসে) তোমার গলা এমনিই এত সুন্দর! নিলান্তির এই গুণটা তোমার সাথে খুব মিলে, যদিও নিলান্তি হিন্দী গান বেশী গাইতনা.. তুমি আবার গাও অনেকটা.. ভালই হবে আজ এখানে ওল্ড রোমান্টিক হিন্দী গান গাওয়া হলে...
অনিন্দিতার মন আবারও উদাস হল, কেউ ছিল যে তার গান খুবই পছন্দ করত, বিশেষ করে এই পুরনো দিনের হিন্দী সিনেমার গানগুলো...
তৌসিফও খুব উদাস হয়ে আছে, তবে বাধ্য হয়ে মেঘদের সাথে রেসপন্স করতে হচ্ছে, আর রবিনও গল্প করছে ওর সাথে, মেঘের বন্ধু কয়জন আসতে থাকলে পরিচয় করাচ্ছে, নাফিসা মাঝে একবার এসে দেখে গেল, তখনই মেঘের ক্লোজ ফ্রেন্ড শানায়ার সাথে কথায় ব্যাস্ত হয়ে গেল....
নাসরীনের ভাতিজা
অর্পন কে ইয়াং ছেলে মেয়েরা অনেকেই চিনে উঠতি রকস্টার হিসেবে, ফাংশনে মেঘ রোদ্দুরের আসা মেয়ে বন্ধুরা আর অন্য মেয়েরা যারা ওর ভক্ত এসে সেলফি তুলছে কথা বলছে....
একে একে অনেকেই এসে বরকনের সাথে কুশল বিনিময় করছে.. বড়রা দোয়া দিচ্ছে... নিলান্তির বুটিকের কর্মচারীরাও এসেছে, পাশের এতিমখানার সব বাচ্চারাও এসেছে, নিলান্তি শাফিন তাদের সবার সাথে কথা বলল, বাড়ির কাজের লোক, ড্রাইভার দারোয়ান রাও পরিবার নিয়ে এসেছে, সবাই খুব খুশী.....
এদিকে একটা রুমে গান প্র্যাক্টিস চলছে.. অনিন্দিতা একটা হিন্দী গান গাচ্ছে.. "তুঝছে নারাজ নেহি হ্যায় জিন্দেগী হ্যায়রান হুঁ ম্যা..."
ফারিয়া: এই অনিন্দিতা এত স্যাড সং গাচ্ছ কেন! এত আনন্দের টাইমে এই গান মানায়!
অনিন্দিতা: ভাল হয়নি আপু??
ফারিয়া: আরে গানটা তো সুন্দর, কিন্তু স্যাড টাইপ! আজ আনন্দের গান হবে তাইনা? (অনিন্দিতা একটু ঘাবড়াল) আরে হিপহপ কিছু গাইতে হবেনা স্লো বাট রোমান্টিক আনন্দের গান গাও.....
অনিন্দিতা: ঠিকাছে...
ফারিয়া: তোমার কি কিছু হয়েছে? আমাকে শেয়ার করতে পার.. দেখ ভয় পেওনা, রিলেশন ব্রেকাপ টাইপ হলেও বলতে পার...
অনিন্দিতা: (ভাবল যা ওর জীবনে শুধু এই এক দুঃখই না আরো দুঃখও তো আছে, কিন্তু আজ কেন বিশেষ একজন কে মিস করে দুঃখ পাচ্ছে! কেন মনে হচ্ছে সে কাছেই আছে! এটা ঠিক হচ্ছেনা! নিলান্তি আপু কত কিছু করল ওর জন্য আর তারই বিয়েতে কিনা বেহুদা কিছু ভেবে দিন খারাপ করবে! না এর মানে হয়না) আপু ছিল এমন কিছু কিন্তু তা জাস্ট পাস্ট এখন! এসব না ভেবে শুধু ফিউচার নিয়ে ভাবব.....
ফারিয়া: দ্যাটস্ লাইক গুড গার্ল.....
অনিন্দিতা তখনও জানতনা যে কিছুক্ষণ পরেই কি হতে যাচ্ছে! ওর অতীত ওর সামনে আসতে চলেছে....
নিলান্তি আর শাফিনের ফটোসেশন চলছে, অর্নবের পাশাপাশি আরো দুজন উঠতি মেধাবী ফটোগ্রাফারও আছে, এত বড় অনুষ্ঠানের সব ফটোগ্রাফির দায়ীত্ব একা পালন তো সম্ভব নয়! এদিকে এক রকম ছবি কমিউনিটি সেন্টারের পেছনে বাগানমত জায়গায় আর পানির ফোয়ারার কাছে তোলা হবে.. এতে নিলান্তির পাশে কয়েকজন মেয়ে বন্ধু আর বোনরা থাকবে একরঙ্গা ম্যাজেন্টা রং সিল্ক শাড়ী পরে, তাই তাড়াতাড়ি করে নিশা, তিন্নি, তানি, ইরা, পারমিতা, ফারিয়া, এডেলিন, সুজানা, আভা আর অনিন্দিতারা শাড়ী পরে তৈরী হল.. খুব আনন্দময় ফটোসেশন হল.. সবাই দেখেও খুশী হল সত্যি কতই না আনন্দঘন সময় বয়ে যাচ্ছে! নাসরীনের পরিবারের মেয়েরাও দেখতে যেতে চেয়েছিল কিন্তু সেই বিশেষ একজনকে দেখে আর গেলনা....
এদিকে ছেলেরা সবাইও শাফিনকে নিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা দেখছিল, ওরাও বায়না করল যে শুধুই মেয়েরা কেন ওরাও ছবি তুলবে বরকে নিয়ে! সবাই আরো আনন্দ পেল, কিন্তু তৌসিফকে পাওয়া গেলনা! সবাই ব্যাস্ত হল, আরো অবাক হল যে চটপটে স্মার্ট ছেলে অর্পনও নেই বলে! মেঘ ওদের ডাকতে গেল, তৌসিফের কিছুই ভাল লাগছেনা, আলাদা এক রুমে আছে, আজ খুব বেশীই মিস করছে ওর ভালবাসার মানুষকে আর কেন যেন মনে হচ্ছে সে এখন কাছেই আছে...!! মেঘ ডাকতে এলে নাসরীনের পরিবারের সবাইও বুঝাল যে তৌসিফের মাথা ধরেছে, ও সকালেও অসুস্থ ছিল, আর মান সম্মান রক্ষায় অর্পনকে পাঠাল... ততক্ষণে মেয়েরা সবাই চলে এসেছে ভেতরে শাড়ীগুলো বদলে ফেলতে হবে বলে.. ছেলেরা একটু হাসাহাসিও করল তৌসিফকে নিয়ে, সবাই দুষ্টুমী করে অর্পনকে জিজ্ঞাসা করল যে তৌসিফ বৌকে নিয়ে ঘুরতে টুরতে যায় তো?? অর্পন হেসে কথা কাটিয়ে দিয়ে ওর গার্লফ্রেন্ড ফ্রেন্ডস নিয়ে কথা তুলল.....
অর্পন: হুম আমরা তিনজন ছাড়া তো সবাই ম্যারেড আই মিন ডেড পার্সন এখানে.... ভালই আছি আমরা!
ইভান: হাহাহাহা কেন ভাই বিয়ে করে ভাল থাকা হয়না? আমিতো আছি...
অর্পন: আমি বাবা থাকব না... এত বাইন্ডিং ভাল লাগেনা, তা মেঘ রোদ্দুর তোমরা কি বল??
মেঘ: দেখ একটা সময়ে তো করা লাগবেই...
শাফিন: হাহাহাহা তোমাদের এখনো বয়স হয়নি! এখন পড়া আর ক্যারিয়ার নিয়ে ভাব...
অর্পন: আমি ক্যারিয়ার নিয়ে সিরিয়াস! বাট মেঘ, তোমার কি অবস্থা?? সবই তো বুঝলাম আর দেখলাম......
মেঘ: মা... মানে??
অর্পন: ঐ যে শানায়া... সে শুধুই বেস্ট ফ্রেন্ড? নাকি অন্য কিছু.....
সবাই খুব হাসল, মেঘ লজ্জা পেল...
শাফিন: মেঘবাবু, আমি তো আছি সাথে সব সময়! ভয় পাবিনা কখনো....
বিকেলের নাস্তা পর্ব চলতে থাকল, বুফে সিস্টেমে হচ্ছে, ইভানরা চার বন্ধু একসাথেই থাকল, আর অর্নবকে বার বার বলল ওদের ছবি তুলতে, মাঝেমাঝে বকুল আর রাফিকে নিয়েও তুলল, ইভান তো বিদেশে থাকবে তাই যত পারে সময় গুলোকে ধরে রাখবে!
নিলান্তি শাফিনরা শুধুই বসে না থেকে দাঁড়িয়ে আর হেঁটেও সবার সাথে কথা বলছিল ছবি তুলছিল....
কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ইকবালের সাথে মার্থার দেখা হল! মার্থা রাগী চোখে তাকাল! ইকবাল মাফ চেয়ে বলল যে সেই ঘটনার পর ও বদলে গেছে, ও সঠিক পথে এসেছে, এখন মার্থার ভয় নেই! ইভানের মাও এসে বলল মাফ করে দিতে! নিলান্তিও এল সেখানে......
নিলান্তি: মার্থাদি, ইনি সত্যি চেন্জ হয়ে গেছেন আর অনুতপ্ত ও.. মাফ করে দেও এখন.. প্লীজ...
মার্থা: (নিলান্তিকে জড়িয়ে ধরে) তুমি যখন বলছ অবশ্যই করব....
তানি: নিলু একটু শুনত তো...
নিলান্তি: হ্যা বল....
তানি: ভাইয়া তোর সাথে কথা বলবে...
নিলান্তি: (অবাক হয়ে) দিপু ভাই, আমার সাথে?? কাউকে যব দেওয়া নিয়ে??
তানি: আরে তুই আয় তো আগে....
নিলান্তি গেল, দিপু আমতা আমতা করে বলল, ওর আর নিলান্তির মেকআপ আর্টিস্ট মিমি এর পরিচয় দুবছরের, ওর বসের ম্যারেজ এ্যানিভার্সারিতে বসের বৌয়ের মেকাপ করাতে এসেছিল, তখন কিভাবে যেন কথা এরপর রাস্তায় কয়েকবার দেখা আর ফেসবুক ফ্রেন্ড হয়ে অনেক কথা হওয়া! দিপুকে মিমিই বুঝিয়েছে যে গতানুগতিক পড়ালেখার বাইরেও আরও অনেক কাজে জ্ঞানের জন্য পড়াশোনা আছে, যেমন ও নিজে ওর কাজের জন্য অনেক জ্ঞান অর্জন করে তারপর কাজ করে, দিপু এখন বুঝে যে গতানুগতিক পড়াশোনার বাইরেও দুনিয়া আছে! নিলান্তি খুশী হয়ে বলল যে ও কথা বলবে মিমির সাথে...
তানি: ভাইয়া আমার সারা জীবন আঁতেলের মত চলে শেষে কিনা মেকআপ আর্টিস্ট! হাহাহাহা.. ভাল....
নিলান্তি: আরে মজা নিচ্ছিস কেন রে? ভাইয়া আমি অবশ্যই কথা বলব....
দিপু: থ্যান্ক্স নিলান্তি....
এরমধ্যে প্রোগ্রাম শুরু, উপস্থাপনায় আছে ইরা আর রোদ্দুর, বাচ্চাদের নাচ শুরু হল, শায়ান, আলাইনা, নিশার বাচ্চারাও আছে তাতে.. খুব খুশী হয়ে দেখল নিলান্তি আর শাফিন.. এরপর ফারিয়া গান ধরল, অনিন্দিতা নার্ভাস হচ্ছে, ওরও মনে হচ্ছে এখন কাছেই আছে ওর ভালবাসার মানুষ...!! এরপর অর্পন স্টেজে এল, স্টেজের সামনে অল্প বয়সী আর ইয়াং ছেলেমেয়েরা জড় হল.. নিলান্তি নাসরীন আর ওর পরিবারের মেয়েদের কাছে খুব প্রশংসা করল অর্পনের, ফারিয়া আবার এসে একটা হিন্দী গান গেল, এরপরই অনিন্দিতার পালা! এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকল, নিলান্তির মা তিন্নিকে নিয়ে ওর কাছে গিয়ে সাহস দিল কারন অনিন্দিতা নার্ভাস ছিল...
নিলান্তির মা: বুঝলা মা, ছোটবেলায় আমি নিলুকে স্কুলের প্রোগ্রামে গান গাওয়ার আগে এমন সাহস দিতাম....
অনিন্দিতা: থ্যান্ক্স আন্টি....
রাকিব: মনে আছে কয়েক বছর আগে নিলান্তি আর শাফিন মামার বিয়ের প্রোগ্রামে তোমার উপস্থাপনার কত প্রশংসা করছিলাম....
ইরা: থাকবেনা কেন? সবই মনে আছে...
রাকিব: এরপর থেকেই একটু একটু করে আমাদের কথা বলা দেখা করা...
ইরা: তারপর ভাললাগা.. সেসব ভোলার নয়.. আচ্ছা এখন স্টেজে যেতে হবে ফারিয়া খালার গান শেষের দিকে....
রাকিব: হ্যা যাও...
এদিকে শানায়া আসার পর থেকেই নাফিসার সাথে আছে বেশীরভাগ সময়ে, কিছু সাহায্যও করছে, এখন দুরে মেঘের সাথে গল্প করছে.....
নিলান্তি: (ফিসফিস করে) ভাবী.. তোমার ছেলেরও বিয়ের সানাই বাজল বলে....
নাফিসা: কি? কার???
নিলান্তি: ওদিকে দেখ... মেঘ...
নাফিসা: ও.. আমার খুব ভালই লাগবে শানায়া মেঘের বৌ হলে.. এখন বুঝতে হবে যে ওদের মনে কি আছে...
নিলান্তি: হ্যা ভাবী, সময় খুব তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছে তাইনা?
নাফিসা: হ্যারে... এটাই তো জীবন...



পর্ব -50
এক মধ্যবয়সী লোক খুব খারাপ নজরে দেখছে অনিন্দিতাকে অনেকক্ষণ ধরে.. ফারিয়ার গান শেষে রবীন্দ্র সঙ্গীত গেল অনিন্দিতা, নাসরীনরা পরিবারের সবাই নিশ্চিন্ত যে তৌসিফ একা এক রুমে আছে, কিন্তু কখন যে বের হয়ে আসে কে জানে! অনিন্দিতার গান শেষে এখন আলাইনার পালা, অনিন্দিতা যেখানে দাঁড়াল সেই লোকটা ওখানে এসে গা ঘেঁসে দাঁড়াতে চাইল! সুবিধা লাগলনা অনিন্দিতার, আলাইনার গান শেষ হওয়া মাত্রই দৌড়ে স্টেজে গেল, সুন্দর করে হিন্দী গান ধরল.......
"বাহো মে দারমিয়া দো পেয়ার মিল গ্যায়ে এ এ... জানে কেয়া ভোলে মান... বোলে সুন ইয়ে বাদান.. ধাড়কান বানি জুবান....."
গানটা শুনতেই তৌসিফ চমকে উঠল! এই সুর যে খুব চেনা, তবে কি..!
ও বের হয়ে এল, এসেই চমকে উঠল! এ কাকে দেখছে ও! এক অপ্রত্যাশীত মধুর প্রাপ্তী! অনিন্দিতা গান শেষে তৌসিফকে দেখে হতবাক হল! নার্ভাস হতে থাকল, তৌসিফের ভাবী এটা দেখে নাসরীনকে বলল, তারা বেশ চিন্তায় পড়ল! এত লোকের সামনে কি করা যাবে! অনিন্দিতা হেঁটে অন্যদিকে যেতে চাইল কিন্তু হঠাৎ সামনে পড়ল সেই লোক! অনিন্দিতা ঘৃনাভরা দৃষ্টিতে অন্যদিকে যেতে ধরলে লোকটি হাত ধরে তাড়াতাড়ি আরেক দিকে যেখানে লোকজন একটু কম সেখানে নিল.....
লোক: সুন্দর গাও তুমি যেমন সুন্দর তুমি, অনুষ্ঠানের পর চল আমার সাথে, কত চাও তুমি? অনেক বেশী দিব তোমার চিন্তারও বাইরে! তবু বল...
অনিন্দিতা: কি বলছেন আপনি এগুলা অসভ্যের মত! সাহস কম না...
লোক: শোন তুমি এখানে একা থেকে চাকরি কর, টাকা পাইলে ভাল হয় তুমিও জান, ভাল ঘরের মেয়ে তো মনে হয়না না হলে একা শহরে টাকার জন্য থাকা? তুমি কোন পয়সাওয়ালা লোক টাকা দিতে চাইলে মানা যে করবানা তা ঠিকই জানি, তোমাদের মত এমন বহু মেয়েই আমার দেখা! প্রথম প্রথম একটু ঢং কর তোমরা পরে টাকার কথায়....
সেদিকে তৌসিফ গিয়ে এটা দেখে রাগে ফেটে পড়ল! লোকটাকে ধরতে যাচ্ছিল, অর্নবও ছিল ওখানে ও আগেই দেখেছে, তৌসিফের আগে ও দৌড়ে গিয়ে অনিন্দিতাকে বাঁচাল, আর লোকটাকে মারল! এরপর টানতে টানতে ভেতরে নিয়ে এল....
লোক: আরে আমার কথা শুনেন, এই মেয়ে ভালনা, এ নিজে আমাকে বলছে আমি চাই কিনা এরজন্য পন্ঞ্চাশ হাজার নিবে বলল, আর আপনি আমাকে....
অনিন্দিতা: মিথ্যা বলতেছে এই লোক...
সবাই শোরগোল শুনে সেখানে গেল, আর ক্ষেপে গেল লোকটার ওপর! তবে নাসরীনরা অনিন্দিতাকেই ব্লেইম দিল, বলল যে এটা অসম্ভব না! অনিন্দিতা কাঁদল, তৌসিফ ওকে টিস্যু আর পানি এনে দিল, নাসরীন আর লিলি রক্তচোখে তা দেখল!
লোক: শুনুন এই টাইপ মেয়েরা এমনই ওরা কোথায় টাকা বেশী পাবে খুঁজে! এর আগেও এমন দেখেছি, আরে এই সহজ সরল চেহারার আড়ালে এটাই সত্য! তার ওপর এখানে এই বড় পার্টিতে আমাদের মত পয়সাআলা অনেকে থাকবে ও জানত তাই... এই টাইপ মেয়েরা এমন চান্স ছাড়েনা হাহাহাহা....
নাফিসা: তা মিঃ আপনি এর আগে এমন অনেক মেয়ে দেখেছেন বললেন, আপনি এসব কাজে খুব পাকা দেখি.. আরে আপনি নিজে কি??
লোক: ম্যাডাম, আমরা পুরুষ মানুষ! সুন্দরী কমবয়সী মেয়েরা এমন নিজে এসে বললে কি করে ঠিক থাকি! আপনাদের মত সভ্য মেয়ে মহিলাদের মত না তো এরা! অসহায় হওয়ার ভান করে! আপনারা এদের ঠিক জানেন না আড়ালে কত কি.....
অর্নব: কি বললি তুই? (ঘুসি মারল, শাফিন আর অন্য ছেলেরা সবাইও মারতে এগিয়ে গেল)
লোক: আরে মিয়া আপনার এত লাগে কেন শুনি? কে হয় আপনার? আপনাকে ফাঁদে ফেলছে?
অর্নব: চো ও প (কলার চেপে ধরল)
তৌসিফও এসে মারল লোকটাকে....
অর্নব: শোন ও আমার বোন হয়! খবরদার একটা নোংরা কিছু বললে....
শাহেদ: মিঃ আপনি উঠতি ব্যাবসায়ী, একটু ভাল টাকা পয়সা আসছে আর আপনার এতে এই অবস্থা! শুনেন আমরাও পুরুষ কিন্তু কখনো এমন চিন্তা করিনাই! এখানে আপনাদের মত পুরুষ ও দোষী!
শাফিন: ভাই আমি এরমধ্যে বকুলকে বলছি, পুলিশে ফোন দিল, আসবে ওরা একটু পরেই, আর সিসিটিভি ফুটেজ থাকবে প্রমাণের জন্য.....
নিলান্তির মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল এসবে, চুপ না থেকে একটা বড় ফুলদানী নিয়ে এল, লোকটা তখনও খারাপ বলে যাচ্ছিল, নিলান্তি ফুলদানীটা তুলে মারতে গেল, নতুন বৌয়ের এই রণমূর্তী দেখে সবাই অবাক! কিন্তু সবাই প্রশংসাও করল আর বলল যে মেয়েরা লক্ষী বৌ মানেই এই না যে শুধু চুপ করে বসে থাকবে, বরং অন্যায় দেখে এমন রণমূর্তীও ধারন করতে হবে..! তবে বিপজ্জনক কিছু হওয়া ঠেকাতে কয়েক জন মিলে ধরে আটকাল নিলান্তিকে.. এদিকে লোকটা আমতা আমতা করে বলছে তাকে ছেড়ে দিতে সে আর এমন করবেনা কখনো, কিন্তু কেউ শুনলনা, অর্নব বেশ রেগে কাঁপা কাঁপাভাবে বলল যে ওর বোনের সাথে আজকের করা এই কান্ডের জন্য শাস্তি তো পেতেই হবে...!! এদিকে আর কেউ সেভাবে খেয়াল না করলেও এডেলিন কিছুটা করল যে অর্নব হঠাৎ বেশী পজেসিভ হয়ে গেল আর অদ্ভুতভাবে বলছে যে অনিন্দিতা ওর বোন! নিলান্তিও রাগে কাঁপছে... ছেলেরা অনেকে মিলে ধরে রেখেছে লোকটাকে... এদিকে তৌসিফ শান্তনা দিচ্ছে অনিন্দিতাকে আর অনিন্দিতা কাঁদছে! নাসরীন পড়ল মহা বিপদে! সবার সামনে তৌসিফকে মানাও করতে পারছেনা! লিলি পাথরের মত হয়ে গেছে! কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে নিয়ে গেল লোকটাকে.. তবে নাসরীন বলল যে এমন শুভ অনুষ্ঠান এভাবে খারাপ হল! কিন্তু নিলান্তি শুনে বলল যে এটা মোটেই খারাপ না বরং আরো ভাল হল যে এমন একজন দুষ্কৃতকারী বের হল আর তাকে শাস্তিও দেয়া গেল! কাছের মেয়েরা সবাই জড়িয়ে ধরল নিলান্তিকে.. সবাই প্রশংসা করল নিলান্তির আর নিলান্তির মা অনিন্দিতাকে জড়িয়ে ধরে কিছুটা কেঁদেও দিলেন! তিনি নিজেও অবাক যে অনিন্দিতার ব্যাপারে তিনি এত আবেগী কেন হন? আরও অদ্ভুত যে নিশাও অনিন্দিতাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদল, খুব অবাক সবাই কারন নিশাকে আবেগী হতে দেখা যায়না তেমন! তৌসিফের আরো কথা বলতে মন চাইল অনিন্দিতার সাথে কিন্তু নাসরীন আটকাল! নিলান্তি নিশা আর বাকি সব মেয়েরা অনিন্দিতাকে খুব সাহস দিল, শক্ত থাকতে বলল.. হঠাৎ নিলান্তির বাবাও এসে অনিন্দিতাকে সাহস দিল, বলল এসব ব্যাপারে একা মোকাবেলার সাহস অর্জন করতে! তার মনে পড়তে লাগল নিজের মেয়েদেরও তিনি কিভাবে সাহস দিতেন.. কিছুক্ষণ পর সব ঠিক.. সবাই আনন্দ করছে! অনিন্দিতা নিজেও বাকি সময়টা তৌসিফের আশেপাশে থাকলনা.. মন বিষন্ন হয়ে আছে, কেন আজ আবার নিষ্ঠুর অতীত টা ফিরে আসল! লিলি ওর বোন কিন্তু কথা বলার উপায় নেই! যখনই সব ভুলে নতুন করে চলতে চাইল তখনি আবার সামনে এল! অনিন্দিতা ওয়াশরুমে গিয়ে মাকে ফোনে জানাল যে নাসরীনের পরিবার নিলান্তিদের একরকম আত্নীয় তাই তারা আজ এখানে, তৌসিফও..! অনিন্দিতার মা খুব করে বললেন আজই বাড়ি রওনা দিতে কারন আগামীকালের প্রোগ্রামে থাকা যাবেনা ওর! কিন্তু ঢাকায় থাকলে তো বাহানায় চলবেনা তাই মায়ের অসুখ এই মিথ্যেটা বলে বাড়ি এসে কয়েকদিন থাকতে! অনিন্দিতারও এটাই ঠিক লাগল, ও কিছুক্ষণ পর খুব আনন্দ করল, সবার সাথে কথা বলল, বুঝতে দিলনা যে কষ্টে আছে! ডিনারের কতক্ষণ পর হুট করে বলল যে ওকে আর্জেন্ট বাড়ি যেতেই হবে, ওর মা জ্বর এর ঘোরে ওর নাম খুব করছে! ও খুবই দুঃখীত যে কালকের প্রোগ্রামে থাকতে পারছেনা.. নিলান্তি চিন্তায় ওর বাড়ির কাউকে ফোন দিতে চাইল কিন্তু অনিন্দিতা মানা করল আর বলল যে ওর বাড়ির অন্যরা তো ওদের শুভাকাঙ্খী নয় যা আগেই বলেছে নিলান্তিকে! এখন কি আর করা! শাফিনদের গাড়ি ওকে পৌঁছে দেবে সাথে মেঘ আর ইভান যাবে ঠিক হল, অনিন্দিতা আড়ালে মাকে ফোনে তা জানাল আর বলল ওদের সামনে অসুস্থতার ভান করে থাকতে! এরপর সবার থেকে বিদায় নিল, তৌসিফের ভাবী তা দেখে সাথেসাথে নাসরীনকে জানাল, নাসরীন ভেবেছিল রাতে তৌসিফকে চলে যেতে বলবে যেন কাল কের প্রোগ্রামে না থাকে! কিন্তু এখন এটা শুনে ওরা খুশী... অনিন্দিতা যাবে বলে সবারই মন খারাপ, এই কদিনেই যে খুব আপন হয়েছিল সবার! হঠাৎ অর্নব বলল যে ও যাবে সাথে! অনেকটা এমন ভাবে বলল যেন অনিন্দিতার সুুরক্ষা নিয়ে খুব চিন্তিত, যেমন করে ভাইরা বোনদের নিয়ে ভাবে! এডেলিন খুব অবাক হয়ে এ নিয়ে প্রশ্ন করল....
অর্নব: এডি তুই কি আমাকে উল্টাপাল্টা কিছু সন্দেহ করছিস? আসলে....
এডেলিন: না একটুও না! এত্ত বছর ধরে চেনা তুমি আর হুট করেই এভাবে! কিন্তু অবাক হচ্ছি তুমি যেমন করে তখন সবার সামনে বললা যে ও তোমার বোন..
অর্নব: কি জানিরে কি হচ্ছে আমার সাথে! নিজেও বুঝতেছিনা রে! অনিন্দিতা কে দেখলেই কেন যেন মনে হয় যে ওর প্রতি আমার অনেক দায়ীত্ব..
কিছুক্ষণ পর অনিন্দিতাকে পৌঁছে দিতে বের হওয়া হল, তৌসিফ ভাবছিল যে রাতে কথা বলবে কিন্তু বহু কষ্টে সংযত হল, কাল ফাংশনেই নাহয় কথা হবে! তবে অবাক হল যে ওর বাড়ির লোকরা ওকে কালকের প্রোগ্রামে যেতে একটুও বাধা দিচ্ছেনা!
ওরা পৌঁছালে অনিন্দিতার মা অসুস্থতার ভান করে দেখা করল, কিন্তু যথা সম্ভব আপ্যায়ন করতে চাইল, বাড়ির সবাই তেমন পাত্তা দিলনা, শুধু অনিন্দিতার বিধবা জেঠী এসে আপ্যায়ন করল....
এদিকে নিলান্তির বিদায়ের পালা! বাবার বাড়ি শ্বশুরবাড়ি কাছে হলেও এখন আলাদা একটা অধ্যায় শুরু হচ্ছে যা সুন্দর বটে কিন্তু কিছুটা বেদনারও, আজ থেকে আগের মত করে মা বাবা ভাই ভাবীর সাথে থাকা হবেনা, তাছাড়া মাঝের বেশ কিছু সময় মা বাবাকে চোখেও দেখেনি.. সব ভেবে চোখ অশ্রুসিক্ত হল নিলান্তির, নিলান্তির মাও মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন... অনিন্দিতাকে পৌছে দিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে এল ওরা তিন জন, আহমেদ নিবাসের গেটও সুন্দর মত সাজানো, শায়ান আলাইনা আগে ভেতরে ঢুকে বারান্দা থেকে অনেক অনেক গোলাপ পাপড়ী ফেলল নিলান্তি শাফিনের ওপর! এডেলিন দরজার গিয়ে বলল যে মিষ্টিমুখ না করে ঢোকা যাবেনা. ওর বানানো পেস্ট্রী বর বৌকে খাওয়াল, সবাই মজা করে খুব বলল শাফিনকে নিলান্তিকে কোলে নিয়ে ঢুকতে, শাফিনকে তা করতেও হল, বর বৌয়ের জন্য দুধে আংটি রেখে তা খোঁজার খেলাও রাখল.....
তিন্নি: এই ইরা, মনে আছে? নিলার ফার্স্টবারের বিয়েতে এই আংটি খেলায় আমরা কি করছিলাম??
ইরা: হ্যা তো! হাহাহাহা.. কিন্তু এডেলিন সব নষ্ট করে দিত আরেকটু হলেই... এডেলিন: আরে আপু তোমরাও না এখনও আমাকে... আজকে এমন কিছু করনাই??
তিন্নি: আজ হয়ে উঠেনাই রে...
বকুল: কি এমন করছিলা তোমরা?
ইরা: আমরা প্ল্যান করে বাটিতে কোন আংটিই রাখিনাই, হাহাহাহাহা.....
বকুল: ওতে কি হল?
তিন্নি: বুদ্ধুরাম! আমাদের কাছে এটা হারজিতের ব্যাপার ছিলনা! চাচ্ছিলাম যে দুজনে হাত ধরাধরি করে কতক্ষণ রোমান্স করুক আর কি....
বকুল: শুনলি রাকিব আমাদের উনারা কি করছিল??
রাকিব: হ্যা রে, অন্যদের নিয়া ভালই ভাবতে পারে ওরা...
বকুল: আর নিজেদের বেলা জিরো আমাকে তো খালি ঝাড়ির ওপর...
রাকিব: আর উনি শুধু আবৃত্তী...
ইরা: এই আবৃত্তী ভাললেগেই আমাদের কথা বলা শুরু ভুইলনা....
তিন্নি: আর বকুল তোমাকে তো দেখতেছি ফাংশন গুলা শেষ হোক....
তানি: (চোখের পানি মুছে) তবু তোমরা কত মজা করার চান্স পাইছিলা তখন, আর আমি তো কি এক ঘোরের মধ্যে ছিলাম যে বেস্ট ফ্রেন্ডের এতো আনন্দের সময়ে কাছে থাকতে পারিনাই!
তিন্নি: আহ্ তানি কাঁইদনা তো....
তানি: সত্যি কত বড় ভুলে ছিলাম....
অভি: আরে ভুলের পর সেটা বুঝে শাস্তিও পাইছ আর আবার ফিরে পাইছ বেস্ট ফ্রেন্ডকে আর আরও ডিপ হইছে তোমাদের ফ্রেন্ডশীপ....
ইভান: তানিরে, আমার অন্যায়ের কাছে তোর গুলা কিছুই না আর তুই তো ছোট ছিলি আর আমি বড় ভাই হয়ে.. যাক এখন তো সবাই ঠিক আছি তাই আবার এই আনন্দে মামা আর নিলান্তির ওয়েল উইশার হয়ে আছি...

রবিন: শাফিন, মন দিয়া আংটি খোঁজ, তোকেই আগে পাইতে হবে.. মান বাঁচা আমাদের ছেলেদের....
আভা: নিলান্তি তুমি আরও ভালমত খুঁজ তো.. দেখায় দেও তো....
নিলান্তি শাফিন দুজনই দুজনের হাত দিয়ে একসাথে আংটি তুলল....
সুজানা: নিলান্তি দেখ শায়ান কত সুন্দর কয়টা স্কেচ করেছে...
নিলান্তি: (দেখল যে শায়ান আজকের ফাংশনে নিলান্তি শাফিনের কিছু ছবি মোবাইলে দেখে এঁকেছে খুব নিখুঁত ভাবে, ওদের প্রথমবারের বিয়েরও কিছু ছবি এঁকেছে) ওয়াও! শায়ান বাবা! তুমি অনেক অনেক নাম করবা.. দেখ কত সুন্দর একেছে...
শাফিন: হ্যা পুরোই নিখুঁত.. সব কটাই ফ্রেমে করে রাখব ঘরে....
শায়ান: তোমাদের আগের বিয়েতে তো ছোট ছিলাম তাই পারিনাই এবার তাই আগের কয়টা ছবিও ড্র করলাম... পরদিন নিলান্তি শাফিন দুজনই সকাল সকাল উঠে সবাইকে জাগাল, দেখল নাফিসা আগেই উঠে কি একটা বানাচ্ছে কারও সাথে ফোনে কথা বলে, গিয়ে দেখল সব মহিলাদের জন্য স্পেশাল হারবাল ফেসপ্যাক বানাচ্ছে ফোনে শানায়ার থেকে শুনে শুনে! শানায়ার কাছে টিপস চেয়েছিল যে স্পেশাল কি করা যায়.. মিসেস আহমেদও সকালে গোসল সেরে এলেন, শাফিন নিলান্তি তাঁকে সালাম করল তিনি জড়িয়ে ধরলেন দুজনকে! আজ প্রোগ্রামে তিনি আর নিলান্তির মা দুজন একই রকম শাড়ি পরবেন, নিলান্তি নিজেই ডিজাইন করে বানিয়েছে হালকা নিল গাঢ় নিলে মেলানো হাফ সিল্ক শাড়ি... দিলরুবাও পরিপাটি হয়ে বের হল, ওর পরনে কালো গাউন আর লম্বা বাদামী কোটি...
নিলান্তি: ওয়াও রুবাপা! খুব সুন্দর লাগছে! ঠিক আগের মত...
দিলরুবা: হ্যাগো আমি আবার আগের মত কুল হয়ে থাকব তোমাদের সাথে....
নাফিসা: খুব ভাললাগল রুবাপা...
রবিন: মাতো কয়েক বছর মনমরা হয়ে ছিল আমেরিকায়.. সত্যি মা আমারও খুব ভাল লাগছে.....
আজ সকালে নিলান্তির বাবা বহুদিন পর একা বের হলেন, মেয়ের জন্য কয়েকটা তাজা বেলী ফুলের মালা কিনে আনলেন যেমনটা আগে আনতেন মাঝেমাঝে! খুব পছন্দ যে নিলান্তির! মিষ্টি নিয়ে আহমেদ নিবাসে গেলেন, মালাগুলো দিলে নিলান্তি খুশীতে কেঁদে ফেলল! নিলান্তি সবাইকে চা করে খাওয়াল, আজকের দিন থেকে আবার পাকাপাকি সংসার শুরু হল ওর এখানে, নিলান্তি খুবই খুশী আজ, খুশী যেন উপচে পড়ছে, ওর বাড়ির সবাইও আসল শুধু মা ছাড়া, নিলান্তি ওর পিচ্চি ভাতিজা ভাতিজিদের নিয়ে কতক্ষণ খেলল, অনিন্দিতাকে ফোন করে ওর মার খবর নিল আর নিজের মাকে ফোন করে আসতে বলল, আজ নিলান্তির মার মন খুব উদাসীন! খুব ভাবছেন অনিন্দিতার কথা আর তার সাথে মিলিয়ে অতি আপন একজনের কথা যে আজ তাদের সাথে নেই, কিন্তু থাকতে পারত! থাকলে সে আজ অনিন্দিতার বয়সীই হত..!!
সবার অনুরোধে নিলান্তি একটা গান গেল, এরপর শাফিন অনুরোধ করল "তুমি রবে নিরবে.. হৃদয়ে মম..." এই রবীন্দ্র সঙ্গীতটা গেয়ে শোনাতে, এটা নিলান্তির গাওয়া শাফিনের প্রথম শোনা গান.. সেই বহু বছর আগের কথা...
এরমধ্যে শাহেদের কাছে থানা থেকে ফোন এল যে সাইফ খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছে! কিছু কথা বলার আছে ওর! কিন্তু এত শুভ দিনে কথাটা আর বলল না শাহেদ কাউকে কিন্তু ওর চিন্তিত মুখ দেখে ইভান খুব করে জিজ্ঞাসা করলে আলাদা রুমে ইভানকে বলল শাহেদ....
দুপুরের পরপরই নিলান্তির কাছে অনেকে এল, নিলান্তি তানিকে বলল দিপুকে ফোন দিয়ে এখনি বাসায় আসতে বলতে, মিমিও আসছে কিছুক্ষণের মধ্যে, ওরা দুজন আলাদা কথা বলার সুযোগ পাবে! এদিকে হোটেল থেকে নাসরীনের পরিবারের সবাই এল বাসায়, আজ তারা মহা উৎফুল্ল দেখাচ্ছে! তৌসিফ হাসিমুখে আছে কিন্তু ওর চোখ উৎসুক হয়ে আশেপাশে শুধু অনিন্দিতাকে খুঁজছে!
তিন্নি: নিলা, শাফিনভাই.. আপনাদের সাথে একজন কথা বলতে চায়...
শাফিন: হ্যা তো ডাকো...
তিন্নি: প্লীজ রাগ করবেন না...
নিলান্তি: আরে কে সে??
তিন্নি ওর ফোন দিল নিলান্তিকে, ভিডিও কলে আছে জয়া! খুব শান্ত স্মিত হেসে অভিনন্দন জানাল! আর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলল যে ও এখন নতুন জীবন পেয়েছে! নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে শৌখিনের মা বাবা দুজনের দায়িত্ব পালন করছে.. কথা শেষে নিলান্তি শাফিন খুবই খুশী হল.....
সুজানা: জয়ার ব্যাপার নিয়ে আরো একটা গুড নিউজ আছে....
নিলান্তি: ওয়াও! শেয়ার কর...
সুজানা: আমাদের কাছেই এক বাঙালী লেডী রিসেন্টলী বিজনেস স্টার্ট করবেন, সামথিং লাইক সুপারশপ, সো শী নিড সাম সেলস পার্সন এ্যান্ড জয়া ক্যান ওয়ার্ক দেয়ার ইজিলী.....
নিলান্তি: দ্যাটস গ্রেট! থ্যান্ক্স এ লট...
শাফিন: সত্যি গ্রেট নিউজ.. সুজানা আই এ্যাম সরি তোমার সাথে যা যা খারাপ বিহেভ হয়েছে সেজন্য...
নাফিসা: সুজানা, এক্চুয়ালি উই অল আর সরি!
মিসেস আহমেদ: সত্য কত কিছু করলা মা তুমি আমাগো লাইগা! আমার নেলান্তি মাইয়ারেও বিদাশে দেইখা রাখছিলা....
সুজানা: ওহ্ মাই গড! এত্ত ফরমালিটি! প্লীজ সরি বলার কিছু নাই! আপনাদের পজিশনে আপনারা রাইট ছিলেন...
শাফিন: বাই দা ওয়ে, আরিফ কোথায়?? ডাক তাকে...
সুজানা: ওকে...
শাফিন আরিফকে নিয়ে সবার সাথে গল্প করতে থাকল...
নিলান্তি: তোমার জন্য সারপ্রাইজ রেখেছি আজ....
সুজানা: ওয়াও তাই নাকি??? (তখনই সুজানার মা বাবা এল, সুজানা খুবই খুশী হল)
নাফিসা: নিলান্তির মাথাতেই আইডিয়া টা আসছে! সব অবস্থায় সবারই ছোট ছোট খুশীর প্রতি খেয়াল থাকে ওর....
কিছুক্ষণ পর মেকাপ করানো শুরু হবে, এখন মিমি আর দিপু মিলে একদিকের বারান্দায় কথা বলছে.....
আভা: নিলান্তি আমি ভাবছিলাম যে কিছু ফ্যাশন ফটোশুট প্রোজেক্টের মত করে আমেরিকায় আমি যে ফ্যাশন এজেন্সিতে কিছুদিন কাজ করেছি তাতে পাঠাব, তারা একটা ম্যাগাজিন বানাবে, ছোট উঠতি এজেন্সি, কিন্তু নাম করবে আস্তে আস্তে....
নিলান্তি: ওয়াও! কনগ্র্যাচুলেশন ভাবী...
আভা: আরে পুরা কথা শোন! আমি চাই প্রোজেক্টটা তুমি কর...
নিলান্তি: কিহ্! কিন্তু কেন???
আভা: আসলে আমি তো আমার ট্যালেন্ট অনেক আগে থেকেই দেখিয়েছি এখন তোমার মত নিউ কাউকে সুযোগ করে দিতে চাই, তুমি এই লাইনে স্টার্টিং লেভেলে আর ভালও করেছ বেশ! প্লীজ না করবানা....
নিলান্তি: কিন্তু এটা অন্যায়....
দিলরুবা: আরে পাগলী! ওর ট্যালেন্ট আছে আর থাকবে তাই তো ও নতুন কাউকে পথ দেখাচ্ছে....
শাফিন: ভাবী কি বলে যে থ্যান্ক্স দিব তোমাদের, সত্যি নিলান্তি এই কাজেও খুব ভাল করছে, তার ওপর এমন সুযোগ পেলে ওর আরো নামডাক হবে....
নিলান্তি: কিন্তু কি টপিক হবে??
আভা: বিউটি অফ বেঙ্গলী লেডিস.. আমাদের দেশের সব রকম স্কিন টোনের মেয়েদের দেশীয় পোষাকে ফটোশুট...
নিলান্তি: ইন্টারেস্টিং! মডেলও আমি আশেপাশে থেকেই চুজ করব....
এদিকে তৌসিফ নিলান্তির আশেপাশে ঘুরঘুর করছে অনিন্দিতাকে দেখার আশায়! নিলান্তি তৌসিফকে ডাক দিয়ে গল্প জমাল! তৌসিফ ডাক্তার, শিশু বিষেশজ্ঞ, নিলান্তিরও খুব ইচ্ছা ছিল শিশু বিষেশজ্ঞ হবার সে নিয়ে কিছুক্ষণ গল্প হল.....
তৌসিফ: ভাবী আপনি খুবই সুন্দর গান করেন শুনেছি....
নিলান্তি: থ্যান্ক ইউ....
তৌসিফ: আচ্ছা কাল একজন ছিল যে হিন্দী গানও গেয়েছিল, সে আজও গাবে? আসলে গান আমার খুব প্রিয়...
নিলান্তি: ও অনিন্দিতা? না ভাই, ব্যাড লাক! বেচারীর মা খুব অসুস্থ তাই কাল রাতে বাড়ি গেল, আই হোপ ওর মা জলদি সুস্থ হবেন....
তৌসিফ: ওহ্....
কিছুক্ষন পর শানায়া এল, নাফিসাকে কোন শাড়ীতে কোন হেয়ার স্টাইলে ভাল লাগবে তা খুব দেখাতে লাগল আর সবার সাথেও কথা বলতে লাগল.....
নিলান্তি: কি শুধুই ভাবীকে ড্রেস হেয়ার স্টাইল সাজেস্ট করছো দেখি? (হেসে)
ফারিয়া: হ্যা ব্যাপার কি???
শানায়া: না আমি সবাইকেই বলতাম তো... (লজ্জায় লাল হল)
নিলান্তি: কি মেঘবাবু ওখানে দাঁড়ায় আছ কেন? কিছু বলবা??
মেঘ: না কিছুনা আন্টি (লজ্জায় অন্যদিকে গেল, সবাই হাসল)....
নিলান্তি: হ্যালো মার্থাদি, এত লেট করতেছ কেন তোমরা??
মার্থা: নিলাবেবী, মিসেস ফেবিওলা আর আন্নাবেলকে নিয়ে মাত্র গাড়িতে উঠলাম.. নো টেনশন....
নিলান্তি: তাড়াতাড়ি আস...
সবার মেকাপ করা শেষে এখন কমিউনিটি সেন্টারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া হল, অনুষ্ঠানের মাঝে অনিন্দিতা ফোনে অভিনন্দন জানাল, আর তৌসিফ বের হল সবাইকে বলে, ওর মনে ঝড় বয়ে যাচ্ছে, সীদ্ধান্ত নিল যে কাল সকালই যাবে অনিন্দিতাদের বাড়ি কোন বাহানায়....
যথারীতি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল.. সবাই বাসায় এল.. রাতে ইভান পিয়ার সাথে আলোচনা করল যে ওরা কাল সাইফের সাথে দেখা করতে যাবে, পিয়া ভয় পেল যে এতে অশান্তি যদি হয়! কিন্তু ইভান বলল যে একবার শোনা দরকার যে সাইফ কি বলতে চাচ্ছে.. পরদিন তারা গেল, সাইফ খুব কাঁদল কতক্ষণ! ও অনুতপ্ত এখন! একটা চিঠি লিখল নিলান্তি শাফিনের উদ্দেশ্যে, আর পিয়া কে বলল যে ছায়াও ওর সাথে মিলে প্ল্যানগুলো বানাচ্ছিল তখন, আলাইনাকে কিডন্যাপ করে বিনিময়ে সাইফের নিলান্তিকে আর ছায়ার অর্নব কে চাওয়ার কথা ছিল! যাই হোক ছায়া তো মৃত! তাই ওকে যেন মাফ করা হয় আর সাইফকে যাতে মা বাবা একটু দেখতে আসে, ব্যাস আর কিছু চায়না...


best bengali novels পর্ব - 51



বাসায় এসে ইভান সব বলল, পিয়া কেঁদে সবার কাছে মাফ চাইল ছায়ার হয়ে! নিলান্তি শাফিন বলল যে ইভান তো ভাই আর বাবা মাও দেখতে যেতেই পারে সাইফকে কিন্তু ওরা আর পরিবারের কেউ আর ক্ষমা করবেনা! ইভানের মা বাবা কিছু না বলে শুধু কাঁদল কিছুক্ষণ!
সন্ধ্যায় রাফি শিলা গেল বকুলদের বাসায়, জয়ার সাথে দেখা করতে, জয়াও বেশ খুশী যে ওকে কেউ দেখতে এল বলে.. পরদিন তিন্নিরা দাওয়াত করল নিলান্তি দের, ওরা গিয়ে জয়াকে অনেক সাধুবাদ জানাল, জয়া লজ্জায় সামনে আসতে চাচ্ছিলনা প্রথমে, কিন্তু পরে সহজে মিশে গেল ঠিক অনেক বছর আগের মত! আর বলল যে ওর পাসপোর্ট ভিসা নিয়ে সমস্যা নাই কিন্তু কিছু টাকা জমা হলে ভাল হত যাবার আগে তাই দুই তিন মাসের জন্য হলেও যদি ওকে ছোটমোট কাজ দেয়া যায়.. শুধু শৌখিনের কথা ভেবেই.. নিলান্তি শাফিন হেসে বলল জয়ার সাথে বিয়ের শুরুতে শৌখিনের জন্য যে এ্যাকাউন্ট করা হয়েছিল তা এখনো শৌখিনেরই আছে! জয়া তাজ্জব হল! কেঁদে ওর আগের অন্যায়ের জন্য মাফ চাইল আর নিলান্তি শাফিনের মাহাত্বের প্রশংসা করল...
পরদিন বিকেলে সুজানার ফ্লাইট, বাবার বাসা থেকে বেড়াতে এল আহমেদ নিবাসে, আর বলল যে ওর আগামী কয়মাস পরে আবার আসার চান্স আছে আর জয়ার ব্যাপারে কাজ হয়ে যাবে, শায়ান আলাইনাকে খুব আদর করল, বলল সবসময়ই যোগাযোগ রাখতে, ওকে ভুলে না যেতে, নিলান্তিই ওদের আসল মা কিন্তু তবুও ওকে মনে রাখতে! নিলান্তি বলল যে ও কতটা করেছে জানেনা কিন্তু সুজানা জন্ম দিয়েছে যার তুলনা হয়না! সুজানা বলল যে ও খুব খুশী বাচ্চাদের জন্য নিলান্তিকে ওরা পেয়েছে বলে! নিলান্তি থাকতে ওর কোন চিন্তা নেই, নিলান্তি সাভান্নাকে কতক্ষণ আদর করল, শায়ান আলাইনাও খেলল ওর সাথে, বাড়ির সবাইও বলল যে সুজানার সাথে সবাই যোগাযোগ রাখবে সবসময়ই......
এরপর কদিন শুধু ডিনারের দাওয়াতের শিডিউল থাকল নিলান্তি শাফিনের! এত ভালবাসে যে সবাই ওদের! রাফি, রাজ, ইরা, পারমিতা প্রায় সবার বাসায় হল, নিশা জোর করল ওর বাসায় দুদিন থাকতে ওদের শায়ান আলাইনা সহ! নিশা অফিস থেকে এজন্য ছুটি নিল আর তানিও জোর করে সামনের শুক্রবারটা বুক করল যে পুরো দিন থাকতে হবে ওদের বাসায় আর বিকেলে বেড়াতেও হবে! বেস্ট ফ্রেন্ডের এই আব্দার! তিন্নিও কম যায়না! শনিবার দিনটা বুক করল, বিকেলে তিন্নি বকুল সহ ওরা গেল মুভি দেখতে.. সবার মনে অনাবিল আনন্দ.....
কাল ইভানদের ফ্লাইট, তাই আজ সকালে মা বাবা, ইরাসহ জেলে গেল সাইফকে দেখতে.. বাসায় এসে আবারো মাফ চাইল ইভান নিলান্তির কাছে! নিলান্তি বলল এত বছর পরে ওসব ভুলে যেতে, ইভান ওর ভুল বুঝেছে এটাই অনেক.. ইভান বিকেলে বের হল অভি, সুমিত, রাকিব, বকুলকে নিয়ে, খুব ঘুরল কতক্ষন এলাকায়, অনেক বছর আগের দিনগুলি যেন ফিরে এল, আবার কবে ওরা এক হবে কে জানে! তবে প্রতীজ্ঞা করল যে যোগাযোগ রাখতেই হবে সবার সবার সাথে....!!
মার্থাও একদিন ওর বাসায় এসে নিজ হাতে রান্না করে ওদের দাওয়াত করল, নিলান্তিকে কাছে পেয়ে অনেক সুখ দুখের কথা হল...
নিলান্তি এই একমাস অনিন্দিতার কাজ বন্ধ করাতে চায় অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা আছে বলে! কিন্তু মাসের বেতনটা ঠিকই দেয়া হবে! অনিন্দিতার এটা খারাপ লাগলে নিলান্তি বকা দিয়ে স্নেহের সুরে বলল, খুব ভাল রেজাল্ট করতেই হবে, অনেক ওপরে উঠতে হবে! অনিন্দিতার মা ফোন করে ধন্যবাদ দিয়ে কেঁদে ফেলল, বলল অনিন্দিতার পরীক্ষা শেষে নিলান্তি শাফিনকে একদিন দাওয়াতে যেতেই হবে! নিলান্তিও তাকে আমন্ত্রন জানাল ওদের বাসায়... ফারিয়া এতদিন শ্বশুর বাড়ি ছিল, আজ বিকেলে ফ্লাইট তাই সকালে আহমেদ নিবাসে আসবে, নিলান্তি শাফিন অফিসে গেলনা, ফারিয়াও খুব কেঁদে সবাইকে বিদায় জানাল....
পরশু শুক্রবার নাসরীনের বাড়িতে নিলান্তিদের পরিবারের দাওয়াত, লান্ঞ্চের পর বাড়ি একটু ঘুরে দেখে মহিলারা একঘরে একটু বসল আর বাচ্চারা সবাই ছাদে, তৌসিফের মন উসখুস করছে নিলান্তিকে একা পেয়ে অনিন্দিতার কথা জিজ্ঞাসা করার... নাফিসা আর নিলান্তি খুব প্রশংসা করল নাসরীনদের বাড়ির মেয়েদের, ওদের পরিবার গাজীপুরের শীর্ষস্থানীয় ধনী পরিবার ছিল, এখন ঢাকাতেও বেশ নাম করছে ব্যাবসার দিক দিয়ে, তারাও চ্যারিটি খুব করে, মহিলারা তো নিজেরা তত্বাবধান করে সুবিধাবন্ঞ্চিত মেয়েদের সাহায্যে, এছাড়া সাংস্কৃতীক অনুষ্ঠানেরও তত্বাবধান করে! তৌসিফের ভাবী নিলান্তিরই বয়সী, ভার্সিটির লেকচারার, চটপটে ছেলেমানুষ স্বভাবের কিন্তু গুরুজনরা একটুও মাইন্ড করেনা, সত্যি কত বড় মনের এরা ভাবল নিলান্তি! নাসরীনের ছোটজা ছায়ানটে গান শিখেছিল, খুবই আধুনিক! ছেলে অর্পন তার গুণ পেয়েছে তবে মেয়ে সাশার গলা মোটেই ভালনা, কিন্তু ওভার কনফিডেন্ট সে নিজের স্মার্টনেস আর সবকিছু নিয়ে, নাসরীনের পরিবারের মেয়েরা দারুন পছন্দ করে নিলান্তিকে, ওর আর শাফিনের ভালবাসা নিলান্তির মাঝ সময়ের স্ট্রাগলেরও খুব প্রশংসা সবার.. তবে এক পর্যায়ে নাসরীন বলল যে নিলান্তি নাফিসা আর আহমেদ পরিবারের সবাই খুব বড় মনের সরল সোজা মানুষ তাই যে কেউই সুযোগ নিতে পারে তাই হুট করে কাউকে বেশী আপন না বানিয়ে সাবধান থাকা ভাল, নাফিসা বলল যে ওরা এটা খেয়াল রাখে না হলে তো ব্যাবসা কবেই ভেঙে যেত আর নিলান্তিও খুব বুদ্ধীমতি.. এখন নাসরীন সরাসরি বলল যে অনিন্দিতা ওদের পুর্ব পরিচিত, মেয়েটা তেমন ভাল না তাই ওকে মাথায় না তুলতে! নিলান্তি শকড হল শুনে! নাফিসাও অবাক হল! তখন নাসরীন বলল যে অনিন্দিতার মা ই ভালনা! তিনি অনিন্দিতার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী, আগেরপক্ষের ঘর ভেঙ্গে এই বিয়ে! বিয়েটাও ঠিকঠাক হয়েছিল কিনা সন্দেহ আছে কারন অনিন্দিতার দাদা দাদী আর তাদের আত্নীয়দের অগোচরে হয়েছে, এখন মেয়েও কিছুটা তেমন! তৌসিফের মাথা খেয়েছে! লিলি চাচাত বোন অনিন্দিতার, মা এর উস্কানিতে মেয়ে তৌসিফের মাথা খেয়েছে! নিলান্তির ভাল লাগলনা কথাগুলো! ও বলল, এমন যদি হয়ও তবুও এখন হয়তো অনিন্দিতা বদলে গেছে! কারন ও চাইলেই বৌভাত প্রোগ্রামে থাকতে পারত তৌসিফকে দেখার আসায় ওর মাও থাকতেই বলত নিজে অসুস্থ হলেও! এক্ষেত্রে ওকে অতীত দিয়ে বিচার করা আর ঠিক হবেনা! নাসরীন থতমত খেল তবে বুঝল যে নিলান্তি বেশীই ভালমানুষ তাই.. নাসরীনের ছোট জা বলল যে এটা ঠিক কিন্তু তবু সাবধান থাকা ভাল এত সহজে বিশ্বাস না করে কারন সবাই তার আসল চেহারা সবসময় দেখায় না! নাসরীন তখন জয়ার কথা বলল উদাহরন হিসেবে, নাফিসা তাই খুব বেশী সায় দিল, এরপর প্রসঙ্গ বদলে সবাই আড্ডা জমাল! সাশা আবার একটা গান ধরল, নিলান্তির মন চাচ্ছে কান চেপে রাখতে! তৌসিফের ছোটবোন অহনা নাস্তা বানিয়ে আনল, রান্নায় পারদর্শী সে আর ভাল ছাত্রীও, পরিবারের সবাই মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে সচেতন.. নাস্তা করে সবাই একটু ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছাদ আর বাগানে ঘুরতে লাগল, নিলান্তির কৌতুহল হচ্ছিল শুরু থেকে তৌসিফের জ্যাঠাত বোন বিভাকে নিয়ে, সেও নিলান্তির বয়সী, কিন্তু গুম মেরে আছে! ভালমত কথা বলেনি সবার সাথে আড্ডায় থাকেনি আর কথাবার্তা রাফ টাইপের! লাজুক নয়, সেই সাথে যথেষ্ট সুন্দরী আর স্মার্ট, তাই এই বিহেভ অবাক করছে! নিলান্তি কি মনে করে একা বিভার রুমের দরজায় নক করল... !
বিভা: কি চাই? (প্রচন্ড বিরক্তি)
নিলান্তি: আপনিও আসুননা আমাদের সাথে, অনেক মজা হচ্ছে....
বিভা: সরি, নট ইন্টারেস্টেড.. (মুখের ওপর দরজা লাগিয়ে)
নিলান্তি আঘাত পেয়ে যেতে ধরল, তখনি বিভার গলা......
বিভা: খুব শুনলাম আপনার কথা, তা সত্যিই এত মানুষের উপকার করেন তো নাকি শো অফই বেশী হয়?? 

Bangla Romantic Uponnash Free Download


নিলান্তি: মানে???? 

বিভা: মানে খুব ইজি! সমাজের মাথারা তো সামাজিকতা রক্ষাতেই কত শো অফ করে! এমনকি এই সামাজিকতা খুব করে ফ্যামিলীর মধ্যেও করা হয় আসলে সবার ভাল হচ্ছে কিনা না ভেবে ভালোর মুখোশ রক্ষাকে প্রাইওরিটি দেয়া হয়! যাক বাদ দিন, এ বাড়ির অতি সামাজিক সুশীলদের সাথে এন্জয় করুন গিয়ে.. (ধড়াম করে দরজা বন্ধ করল)... 
নিলান্তি হতবাক হয়ে গেল.... 
তৌসিফ: আপুর হয়ে আমি মাফ চাচ্ছি! কিন্তু যেমন দেখলেন সেটা সত্য না.... 
নিলান্তি: আরে ইটস ওকে! কিন্তু কি সত্য না?? বুঝলাম না.... 
তৌসিফ: সত্যি এটাই যে আপুর মত অনেস্ট এন্ড পিওর হার্ট এই ফ্যামিলীর আর কারোর নাই! 
নিলান্তি: ও.. আচ্ছা ওনার ডিভোর্স হয়েছিল শুনেছি, সেই দুঃখেই কি বিহেভ এমন?? 
তৌসিফ: না তা না... 
নিলান্তি আর কিছু জিজ্ঞাসা করলনা, একটা পরিবারের বেশী ব্যাক্তিগত ব্যাপারে নাক গলানো ঠিক না! 
বাসায় এসে নাফিসা নিলান্তিকে বোঝাল অনিন্দিতাকে এত মাথায় না তুলতে! জয়ার ঘটনার পর থেকে তাদের বিশ্বাস খুব গেছে মানুষের প্রতি! জয়াও যে এমন সরলতা আর অসহায়ত্বের ভান করেছিল! তবে নিলান্তির মন এটা মানতে নারাজ! বলল যে, ও যখন ছন্দলীনা পরিচয়ে ছিল তখনো তো সবাই ওকে খারাপ ভাবত! নাফিসা ওর ভুলটা বুঝল কিন্তু তবুও সাবধান থাকতে বলল সবসময়.... 
পরদিন ফেবিওলা দাওয়াত করল, নিলান্তি একা সকাল সকাল গেল, এনারা তো খুবই আপন নিলান্তির, এদের মাধ্যমেই তো নতুন জীবন ও পরিচয় পেল, লড়াই করে সব ফিরে পাবার শক্তি তো এরাই দিয়েছিল! সেসব বলে অনেক কৃতজ্ঞতা জানাল নিলান্তি! তারপর সবাই বসে গল্প করে ঠিক করল যে ওরা একটা ফান্ড করবে যা বিজনেসে লাগাবে আর মুনাফা লাগাবে অসহায় মেয়েদের কিছু কাজ বা পড়ালেখায় সাহায্য করে! 
এরপর শুক্রবার আরশীদের বাসায় দাওয়াত, এত দাওয়াতে দুজনেরই অবস্থা খারাপ কিন্তু এটা ভেবেও খুশী যে দাওয়াত তো উপলক্ষ্য মাত্র! আসল ব্যাপার তো সবার সাথে এক হওয়া! আর রুমনরা বহু বছর ভাড়াটিয়া ছিল শাফিনদের তাই দেখা করে সময় দেয়া দরকার...... 
আরশীদের বাসায় শুক্রবার সকাল থেকেই আনন্দ! আরশী তুবা আর ওদের শাশুড়ী কোমর বেঁধে রান্না করছে যাতে কোন ত্রুটি না থাকে মেহমানের যত্নের! নিলান্তিরা এল, বেশ ভাল লাগল এই সাজানো সংসার দেখে, আরশী তুবা এখনো বিয়ের আগে যেমন বান্ধবীর মত ছিল তেমনই আছে, রুমন রোহানরা তো ওদের বন্ধুর মত আর ওদের শ্বশুর শাশুড়ীও মা বাবার মতই স্নেহশীল.. রুমনের মা বলল, তারা সবাই এখনো খুব মিস করে আগের এলাকাকে কিন্তু আরশীর অফিস এখানে আর তুবার স্কুলের রাস্তাও সহজ তাই বৌদের সুবিধার জন্যই এখানে থাকা, খাওয়া শেষে সবাই আড্ডা দিল, আরশী হঠাৎ বলল যে মোহনের বিয়ে ঠিক হয়েছে, মেয়ের বাসা এদিকেই, রুমনের বাবার এক রকম আত্নীয়, বড়কথা যে মেয়ে একটা দুর্ঘটনার স্বীকার, ধর্ষীত হয়েছিল, আর তাছাড়া মোহন গত কয়েক বছর ধরে পুরো বদলে গেছে! এখন বাস্তবতা বুঝে, দায়ীত্ব ভালমত বুঝে, তবুও আগের কাজগুলোর জন্য অনুতাপ নাকি কখনো থামাবেনা, মন থেকে যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে বিয়ে করবে সেই মেয়েকে.. নিলান্তি খুবই খুশী হল শুনে আর বলল যে এখন মোহনের প্রতি শ্রদ্ধা হচ্ছে ওর.....
নিলান্তি পরদিন শায়ান আলাইনাকে নিয়ে সকালে মায়ের কাছে গেল, এক মেইড ঠিক করেছে এ বাসার জন্য, প্রৌঢ় মহিলা সে, সব সময় থাকবে, বিশ্বস্ত আর আহমেদ পরিবারের এক কর্মচারীরই বৌ, আগেও কিছুদিন আহমেদ নিবাসে কাজ করেছিল, মেইডের সব খরচ নিলান্তি দিবে, নিলান্তির মা রাজী হচ্ছিল না কিন্তু নিলান্তি বলল যে সন্তান হিসেবে ওর দায়িত্ব থেকে তো পেছাবেনা ও! এডেলিনকে এমবিএ ক্লাসে ভর্তি হতে আর অনলাইনে বেকারীর ব্যাবসা আবার শুরু করতে বলল, এডেলিন ইতঃস্তত বোধ করল শুনে! নিলান্তি সাহস দিল, আর মাকে বলল যেন টিপিকাল ভাবে শুধু বৌয়ের মত না দেখে বরং মেয়ের মতই যেন দেখে এডেলিনকে, ওর পড়ালেখা ব্যাবসায় সহযোগি মনোভাব নিয়ে থাকতে আর অর্নবকে বলল বন্ধুর মতই মনোভাব সবসময় এডেলিনের প্রতি রাখতে, সহযোগীতা করতে, অর্নব হেসে বলল যে এতে কোন ভুলই হবেনা, এডেলিন জড়িয়ে ধরল নিলান্তিকে! বলল সেই অনেক বছর আগে ওর মনে আত্নবিশ্বাস জাগিয়ে ওকে শক্ত করেছিল নিলান্তি, নিলান্তি চলে যাবার পর সবই কেমন যেন ভেঙ্গে গেল! এটা না যে অন্য কেউ ওকে সাহায্য করেনি, বরং অর্নব আর মা বাবা তখনও সাহস দিতেন কিন্তু সবাই মনমরা হয়ে গিয়েছিল নিলান্তির শোকে! কেউ স্বাভাবিক ছিলনা এমনকি এডেলিন নিজেও! কিন্তু এখন আবার সব শুরু করবে নতুন উদ্যোমে! কিন্তু একটা চিন্তা থেকে যায়! নিশার বাচ্চারা এখনও ছোটই আছে, এতদিন আবিরের খালা আর নিলান্তির ফুপি প্রায়ই এসে এসে থেকে ওদের দেখেছে কিন্তু খালার বয়স হওয়ায় আর আসতে পারবেনা আর নিলান্তির ফুপাত ভাইয়েরও বাচ্চা হল, এখন ফুপিকে তার সংসারে থাকতে হবে! তখনই এডেলিনের মা বাবাকে দেখা গেল দরজায় দাঁড়ানো মিষ্টির প্যাকেট হাতে, তাদের ছেলে ভাল চাকুরী পেয়েছে বলে, তারা হেসে বললেন যে তারা থাকতে চিন্তা কি! দিনের বেলা তারা এখানে থেকে বাচ্চাদের দেখবেন! আর নিলান্তির মা বাবা নিশার বাচ্চাদের, নিলান্তির বাবা মা বলল তারা ফ্ল্যাট যেটা বুকিং দিয়েছেন একটু দুরের এলাকায়, তার টাকা কিস্তিতে দিতে হচ্ছে, নিলান্তি খুব করে বলল মা বাবাকে আহমেদ নিবাসের সাথে লাগোয়া বিল্ডিং এর একটা ফ্ল্যাটে থাকতে, আর পাঁচ-ছয়মাস কিস্তির টাকা দিলেই ফ্ল্যাটের পুরো টাকা শোধ হবে! সেই টাকাও নিলান্তিই দিবে বলল, বাবা মা আর অর্নব সংকোচ করল কিন্তু নিলান্তি অভিমান নিয়ে বলল যে মেয়ে বলে ও খেয়াল রাখবেনা তা হয়না! ওর সাধ্য আছে তাই যথাসম্ভব করবে! অর্নব বেশী সংকোচ করলে নিলান্তি স্নেহের সুরে বুঝাল যে এখন এডেলিনের এমবিএ পড়ার খরচ, শুরুর দিকে বেকারির ব্যাবসা দাঁড় করানো এসবের দিকে খেয়াল রাখা জরুরী, ও বড়বোন হিসেবে এটুকু খেয়াল নাহয় রাখল! পরে ফ্ল্যাট হয়ে গেলে মন চাইলে নাহয় যাবে সেখানে! নিলান্তির মা বাবা গর্ব করলেন মেয়েকে নিয়ে কিন্তু তবু শাফিন আর আহমেদ পরিবারকে জানাতে বললেন, নিলান্তি আশ্বাস দিল যে তাদের না জানিয়ে কিছু হবেনা আর তারা খুশীই হবেন.. বিকেলে বের হবার সময় মা জড়িয়ে ধরে রাখল কতক্ষণ নিলান্তিকে! নিলান্তি বলল মায়ের যখনই মন চায় ওকে দেখতে যেতে আর পরের মাস থেকে তো আরো কাছেই থাকা হচ্ছে কিন্তু মা বলল যে তার অদ্ভুত সমস্যা হচ্ছে ইদানীং! অনিন্দিতার কথা ভেবে কেন জানি তার সেই মেয়ে বাচ্চার কথা মনে পড়ে যে মৃত জন্মেছিল! সে বেঁচে থাকলে অনিন্দিতার বয়সী হত! নিলান্তি বুঝল মায়ের কষ্ট! মাতৃত্বের অনুভূতি যে কত গভীর হয় মেয়েদের তাতো ও বুঝে! নিলান্তি মাকে শান্তনা দিয়ে বলল যে অনিন্দিতার পরীক্ষা শেষে ওর মা আসবে বেড়াতে, তখন তাদের দাওয়াত করে দেখা করিয়ে দিবে পুরোদিনই রেখে দিবে! নিলান্তি হেসে বলল কথাগুলো, কিন্তু ও নিজেও অবাক হল যে ওতো অনেক অসহায় মেয়েকে, ওর আন্ডারে কাজ করা কিছু মেয়েকে সাহায্য করেছে তাদের খারাপ সময়ের কথা শুনে প্রেরণা দিয়েছে বহুদিন, সবার প্রতিই মনের টান হত কিন্তু আশ্চর্য যে অনিন্দিতার প্রতি টান হচ্ছে পুরো আলাদা! যেন গভীর কোন যোগ আছে অন্যভাবে ওর সাথে! কিন্তু কেন? সত্যি আশ্চর্য...! 
বের হয়ে একটু রাফিদের বাড়ি যাবে নিলান্তি, আভা যে প্রোজেক্টটা ওকে দিল ও তাতে রেজিস্টেশন করে ওর ডিজাইনের কিছু ছবিও পাঠিয়েছিল অনলাইনে সেই ম্যাগাজিনের ওয়েব সাইটে আর সিলেক্টেডও হয়েছে, নিলান্তি ফটোশুটের একজন মডেল হিসেবে প্রথম শিলার কথা ভেবেছিল! আজ তা বলবে, গিয়ে দেখল রাজ শমীও সেখানে ওদের বাচ্চা নিয়ে বেড়াতে গেছে, সবাই খুব খুশী হল, শিলা ব্যস্ত হয়ে গেল নাস্তা করতে, নিলান্তি জোর করে থামাল, কুশল বিনিময়ের পর আসল কথাটা বলল, শিলা শুনে অবাক! নিলান্তি বলল যে এদেশে বহু রকম রং এর মানুষ আছে এতো একটা বৈচিত্র্য! আর কালো রং এও সাজ খুব সুন্দর হয়, শুধু দরকার লোকদের চিন্তা বদলানো! নিলান্তি তা দেখিয়ে দিতে চায়! রাফি খুশী হয়ে বলল যে শিলা অবশ্যই রাজী হবে আর রাফি তা চায়! ছোট থেকেই দেখছে শিলাকে রং এর জন্য অপমানিত হতে! এই এক জায়গাতে ওর আত্নবিশ্বাস কম হতে! শমীও খুব করে বলল ওকেও একটা চান্স দিতে! কথায় কথায় জানল যে রাজদের বিল্ডিং এর একটা ফ্ল্যাট খালি হচ্ছে, নিলান্তি নিশাকে ফোন দিয়ে জানাল, রাজদেরও বলল যে নিশা ভাড়া নিতে পারে, এদিকে রাফি বলল, ওদের বিল্ডিং এও একটা ফ্ল্যাট খালি হচ্ছে, ও বকুলকে খুব বলেছে আসতে কিন্তু ভাড়া একটু বেশী কারন বড় তিনটা আলাদা রুম আর বকুলদের অবস্থাও ভাল যাচ্ছেনা, রাফি খুব বলেছে যে প্রথম একবছর খুব কমিয়ে রাখবে ভাড়া পরেও কিছু কম রাখবে তাও মানছেনা এদিকে এখন যেখানে আছে খুব কষ্টে! নিলান্তিকে বলল ওদের বুঝাতে... নিলান্তি বাসায় গিয়েই সবাইকে একে একে ফোন দিয়ে বলল তারা মডেল হবে কিনা, ইরা পারমিতা আরশী তুবা রাজী না, ওরা নিজেরা নিজের ছবি নিয়ে কন্ফিইজড থাকে! তানি, তিন্নি রাজী, অনিন্দিতাকেও বলল আর বুঝাল যে এটা ওর পরিচয় বানানোরও একটা ধাপ হবে তবে ওর মায়ের অনুমতি পেলে তবেই! নিলান্তি বলেকয়ে এডেলিন আর নিশাকেও রাজী করল! শাফিন বাসায় ছিল, খুব খুশী নিলান্তির উৎসাহ দেখে আর চাচ্ছেও যে নিলান্তি এতে নাম করুক! শাফিন বলল নিলান্তিকেও মডেল হতে! বাসার সবাইও শুনে অনুরোধ করল, শায়ান আলাইনাও বলল, সবাই চাচ্ছে এটা.. নিলান্তি রাজী হল! নিলান্তি ওর বাবা মার থাকা নিয়ে আর তাদের অনেক খরচ বহন করা নিয়েও জানাল, মিসেস আহমেদ আর নাফিসা খুশী হল যে তারা কাছে থাকবেন! আর বলল যে বাবা মার অসুবিধা বুঝে মেয়েরা কেনই বা সাহায্য করবেনা? এই বাড়ি, ওদের বিল্ডিং গুলো আর সবকিছুতে পরিবারের সবারই অধিকার! আর নিলান্তি নিজ যোগ্যতায় আজ এত কিছু করে নিজে উপার্জন করছে কিন্তু তাতে অবদান তো আগে বাবা মারই তাই অবশ্যই সাধ্যমত সহায়তা করবে.. পরদিন অফিসের পর সন্ধ্যায় তিন্নিদের বাসায় গেল নিলান্তি, বুঝাল রাফিদের বাসায় থাকার ব্যাপারে, জয়া এটা জানতনা কিন্তু শোনার পর বলল, ও কানাডা গিয়ে প্রতিমাসে কিছু টাকা মা আর বকুলদের পাঠাবে ঠিক করেছে, তাহলে সমস্যা তো হবেনা, এই ঘুপচি জায়গায় আর কতদিন! আর শৌখিনের একাউন্টটা তো আছেই তাই নিজের জন্য বেশী দরকার নেই জয়ার! তীর্থ আর দু এক বছরে বড় হবে আর ওদের বড়ভাই অন্য বোনেরাও তো বেড়াতে আসবে তাই আরেকটু বেশী জায়গা তো দরকারই, রাফিদের ফ্ল্যাটে তাই ঠিকঠাক ভাড়াতেই থাকা হবে.. সবাই শুনে অবাক হল! সেই আগের জয়াকে ফিরে পেল বলে.. বকুল তখনই রাফিকে ফোনে জানাল..... 
পরদিন সকালে অনিন্দিতা বলল যে ও ফটোশুটটা করতে পারবেনা! ওর মার আপত্তি নেই কিন্তু ওর দাদাবাড়ির পরিবেশ খুব গোঁড়ামী পূর্ণ তার ওপর ওরা ওখানে আশ্রীত বলা যায়! নিলান্তির খুবই কষ্ট হল অনিন্দিতার সার্বিক অবস্থা ভেবে! সত্যি মেয়েটাকে খুব ভালমত তাড়াতাড়ি স্বাবলম্বী হতে হবে তাহলে ঐ পরিবেশ থেকে বের হতে পারবে মা আর ছোটভাই কে নিয়ে! হঠাৎ তৌসিফকে জড়িয়ে অপবাদের কথা মনে হয়েও কষ্ট পেল, মনে হল যে অন্যায় হচ্ছে অনিন্দিতার প্রতি! বুকের মাঝে খুবই কষ্ট অনুভব হল নিলান্তির! এর আগেও বহু অসহায় মেয়ের কষ্টের কথা শুনেছে তাদের সাহস দিয়ে পাশে থেকেছে কিন্তু এই কষ্ট যেন অন্য রকম! কিন্তু কেন?? তবে কি অন্য কোনভাবে গভীর যোগসুত্র আছে নিলান্তি আর অনিন্দিতার মাঝে..!
কিছুক্ষণ পর নিশা ফোনে জানাল ও আর আবীর সন্ধ্যায় এসে আবীরকে রাজদের বিল্ডিং এর ফ্ল্যাট দেখবে.. নিলান্তি তখন মিটিং রুমে ছিল, ব্রেক চলছিল, শাফিন তখন ওর ক্লায়েন্ট মিটিং এ, খুব মন চাচ্ছিল নিলান্তির একটু কথা বলতে কিন্তু তা হলনা! কি আর করা! মিটিং শেষে ওর রুমে গিয়ে দেখল লাল গোলাপী আর্ট পেপার থ্রীডি লাভ শেপে কেটে দেয়ালে বুলেটিন বোর্ডে লাগানো, কাবার্ডের ওপর একটা সাদা লিলি ফুলের বুকে আর একটা বক্স নীল কাগজে মোড়ানো যার ওপর রুপালি পাথরের ডিজাইন, খুলে দেখল একটা আয়না! তাতে লিপিস্টিক এ লেখা.. "বিকেলে ঘুরতে যাবে?? হারিয়ে যাব কোন অজানায়.." নিলান্তি খুশীতে পাগল হল! ডেস্কে দেখল একটা বড় ট্রে গোলাপী সিল্ক কাপড় লাগানো আর তাতে সাদা পুঁতির কাজ! হাতে বানানো বুঝা যায় কিন্তু বানালো কে? নিলান্তি ওর বুটিকে এমন জিনিস বানায় কিন্তু এখন কে বানালো! কাছে দিয়ে দেখল তার ভেতর কতগুলো নীল রং এর গাঢ় হালকা তিন চার রকম শেডের চুরি আর একজোড়া দুল! যা সিল্ক সুতো আর সাদা পাথরে সাজিয়ে বানানো! নিলান্তি হাতে নিয়ে দেখল, এত্ত গর্জিয়াস করে হাতে বানানো জিনিস! এসব কার থেকে বানিয়ে আনাল শাফিন! তখনই ফোন দিল অনিন্দিতা..... 
অনিন্দিতা: কিগো আপু সারপ্রাইজ কেমন লাগল??
নিলান্তি: আরে অনিন্দিতা! তার মানে তুমি বানাইছো! কিন্তু... 
অনিন্দিতা: শাফিন ভাইও কন্ফারেন্সে আছে কিন্তু..... 
শাফিন: রাখ অনিন্দিতা! তোমার আপুর পছন্দ হয়নাই মনে হয় এসব..... 
নিলান্তি: হবেনা কেন! কিন্তু মেয়েটার পরীক্ষা সামনে আর তুমি.... 
অনিন্দিতা: আপু সারাদিনই শুধু পড়ব তাই বলে? এখন অফিসও নাই আর দুই ঘন্টা শখের কাজ করলাম তোমার জন্য এটা যে কত্ত ভাললাগা! একটু তো ব্রেক ও দরকার তাইনা?? 
নিলান্তি: আচ্ছা ঠিকাছে (হেসে) 
অনিন্দিতা: ওকে এখন আমি কাটছি, তোমরা কথা বল.... 
শাফিন: থ্যান্স এ লট অনিন্দিতা..... 
নিলান্তি: আজ হঠাৎ এত্ত রোমান্টিক?? 
শাফিন: সব সময়ই থাকি কিন্তু স্কোপ হয়না, যাবা নাকি বল.... 
নিলান্তি: (হেসে) লান্ঞ্চ করে বের হব.... 
তখনই এক মহিলা পিয়ন নিলান্তির খাবার গরম করে আনল, হেসে বলল যে কাজ অনেক হয়েছে, খেয়ে তাড়াতাড়ি যেন যায়! নিলান্তি অবাক! সে বলল যে জিনিস গুলো সাজিয়ে রাখা আর নিলান্তি আসার পর শাফিনকে জানানো সে ই করেছে... নিলান্তি হাসল......  

রোমান্টিক এবং ড্রামাটিক উপন্যাস

তাড়াতাড়ি লান্ঞ্চ করে বাসায় গিয়ে নিলান্তি গাঢ় নীল রং এর গাউন পরে মিমিকে ফোনে বলল যে ও এখন ফ্রী আছে কিনা, মিমি খুশী হয়ে ওর পার্লারে আসতে বলল, নাফিসা আর মিসেস আহমেদকে লাজুক মুখে বলল নিলান্তি, তারা খুব মজা নিল কতক্ষণ, আর খুব শুভকামনা দিল.. নিলান্তিকে সুন্দর হালকা সাজাল মিমি, সুন্দর স্টাইলিশ চুলের সাজ করে দিল, নিলান্তি শাফিন মিলে সুন্দর পার্ক টাইপ জায়গায় গেল, আনন্দে হারিয়ে গেল, শাফিন বেলীফুলের মালা কিনে খোঁপায় পরাল, ফুচকা খেয়ে পার্কের লাগোয়া ছোট দোকান থেকে কয়েক রং এর চুড়ি কিনল, কিছু ফুল বিক্রেতা বাচ্চার থেকে অল্প ফুল কিনে অনেক টাকা দিল.. এরপর ফোনে বাচ্চাদের খবর নিল, ভালমত খেয়ে পড়ালেখা করতে বলল, নাফিসা মজা করে বলল চিন্তা না করতে ওরা এখন শুধুই ওদের নিয়ে ভাবতে, এরপর ওরা মুভি দেখতে গেল, নিশা বাসায় এল, তিন্নি বকুল জয়া তখন রাফিদের বাসায় এসেছিল ভাড়া নেয়ার কথা বলতে আর জয়া বলল, ভাড়া কম রাখার দরকার নেই সঠিক ভাড়াই ওরা দিতে পারবে, ওরা এরপর নিলান্তির বাসায় গেল, জয়া নিলান্তির মায়ের কাছে খুব মাফ চাইল, নিলান্তির মা বললেন ওসব দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলতে চান তিনি! নিশা ব্যস্ত হল যে নিলান্তি কখন আসবে আর দেখা হবে! তিন্নি খোঁচা দিয়ে বলল যে নিলান্তি শাফিন একসাথে আছে বিরক্ত করার মানেই হয়না দেখা তো পরেও করা যাবে! নিশা বেরসিক বলেই এমন ভাবল! সবাই খুব হাসল এটা শুনে... নিশা আবীর বাসা দেখল, আবীরের পছন্দ হল, রাজের পরিবারের লোকও খুশী এতে..... 

মুভি দেখে ডিনার করে ফিরল নিলান্তিরা, দুজনে খুব খুশী, স্বপ্নের মত লাগছে সব.... 
দুদিন কেটে গেল, নিলান্তি ফেবিওলা আর শাফিনের সাথে পরামর্শ করে ঠিক করল ওদের শপিং মলের একটা দোকানের ভাড়া আপাতত কাজে লাগাবে কোন বিশ্বস্ত এনজিও এর মাধ্যমে অসহায় নারীদের সাহায্যে... 
নিলান্তি ওর প্রোজেক্টের জন্য ফটোশুট শুরু করল, মডেলদের পোশাকে দেশীয় উপাদান যেমন মসলিন, তাঁত, জামদানী, বেনারসী কাপড় বেশী ব্যাবহার করা হল আর এ নিয়ে রিপোর্টও তৈরী হল, স্টাইলিশ মেকাপ আধুনিক সাজের পাশাপাশি আটপৌরে সাজের মেকাপও করা হল, সবার মেকাপ মিমির পার্লার থেকে করা হল, আর ড্রেস সবই নিলান্তির ডিজাইনে, মডেল যারা হল তারা সবাই খুব খুশী আর শীলার আনন্দ টা খুবই আলাদা! নিলান্তি লক্ষ্য করল একবার মিমির কাছে দিপুর ফোন এল, দিপু সেখানে এল তানির শ্যুট দেখার বাহানায়, ফটোশ্যুট শেষে মিমি দিপুকে একসাথে গল্প করতে দেখল সবার সাথে আলাদা হয়ে হাসিমুখে.. ভাল লাগল নিলান্তির, সত্যি ভালবাসা ওদের থাকলে ওরা এক হোক এই আশাই করে.... 
আমেরিকার সেই ম্যাগাজিন "বিউটি অফ ওয়ার্ল্ড" সন্ধ্যার মধ্যেই তাদের কাছে আসা সব ছবি তাদের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করল, দেশে অনেক মিডিয়া ভিত্তিক পেজেও প্রকাশ হল নিলান্তির প্রশংসা সহ.. সবার এই কথা যে নিলান্তি যেমন মেধাবী ডিজাইনার তেমন ভাল মডেলও.. এরপর দু তিনদিন কেটে গেল, শিলারও প্রচুর প্রশংসা হল, অনেক প্রডাক্টের বিজ্ঞাপনেই শিলাকে মডেল হিসেবে নিতে চেয়ে বিজ্ঞাপন নির্মাতারা যোগাযোগ করল! তারা তাদের বিজ্ঞাপনে দেখাতে চায় যে তাদের ক্রীম/ফেসওয়াশ শুধু রং ফর্সা করার জন্য নয়, স্কিন ভাল করার জন্য.. শিলা হেসে বলে দিল যে ও খুব খুশী কিন্তু ও এখন মডেলিং করতে চায়না, শুধু চায় কালো রং নিয়ে এদেশে মানুষদের প্রচলিত ধারনা বদলে যাক..... 
নাসরীনের পরিবারও জানল এনিয়ে.. তারা আফসোস করল যে নিলান্তি তাদেরও যদি বলত! তবে খুশী হল যে অনিন্দিতা মডেল ছিলনা, ভাবল যে নিলান্তি হয়ত ওদের কথায় এখন অনিন্দিতাকে কম বিশ্বাস করে.. তারা ফোন করে অভিনন্দন জানাল.... 
এদিকে মেঘ শানায়ার মাঝে প্রেম চলছে! ওরা একে অন্যকে বন্ধুর মত জানে প্রায় পাঁচ বছর.. মেঘ এখন পুরোদমেই পারিবারিক ব্যাবসায় কাজ করছে আর বিবিএ এর রেজাল্ট খুব ভাল, সামনে জানুয়ারীতে এমবিএ ক্লাসে ভর্তি হবে.. ও বাসায় সবাইকে জানাল, খুব খুশী সবাই আর শানায়াকে সবাই দেখেছিল, শীঘ্রই সবাই প্রস্তাব নিয়ে যাবে বলল... 
কিছুদিন কেটে গেল, নভেম্বর মাস এখন, নিশা তিন্নিরা এখন এই এলাকায় এল, তার ওপর মা বাবারা আরও কাছে এল, সন্ধ্যায় মিসেস আহমেদ খুব করে ডেকে আনেন নিলান্তির মাকে কিছুক্ষণ গল্প করেন, আর অর্নবের বাচ্চা কল্প ও কীর্তিকে কোলে নিয়ে থাকেন আর বলেন যে তার নাতি নাতনিরা সবাই বড় হয়ে গেছে এখন তাই এতো ছোট পিচ্চিদের দেখে খুবই ভাল লাগে! শাহেদ শাফিন নিলান্তির বাবা মিলে সকালে একসাথে বাসা থেকে বের হয়ে মর্নিং ওয়াকে যান, খুবই মিল দুই পরিবারের সবার ই, নিলান্তির মনে খুব আনন্দ এতে! এডেলিনের বেকারির ব্যাবসার প্রস্তুতীও পুরোদমে নেয়া হচ্ছে, নিলান্তি খুব সাহায্য করছে প্রচারনায়, নিলান্তি ওর কিছু ডিজাইনের ফ্যাশন শো করে গেস্ট দের এডেলিনের বানানো পেস্ট্রী খাওয়াল, এডেলিন আপাতত অনলাইনে অর্ডার নেয়া শুরু করল, পরে আরও বড় কিছু করবে...
নিলান্তি শাফিন কয়দিন পর ঠিক করল বিকেলে বের হবে শানায়া মেঘকে নিয়ে, পরিবারের বড় দুজন বন্ধুর মত মিশলে শানায়ারও জড়তা থাকবেনা, ওরা একদিন বের হয়ে ট্রিট দিল মেঘ শানায়াকে, কিছুক্ষণ পর ওদের দুজনকে একা ছেড়ে নিলান্তি শাফিনও ঘুরল.... 
নিলান্তি ঠিক করল যে সবাই ওদের দাওয়াত করেছিল তাই ওরাও একদিন সবাইকে দাওয়াত করবে বাসায়, বাসার সবার সাথে কথা বলে ঠিক করে সামনের শুক্রবার দাওয়াত রাখল, শানায়াকেও আসতে বলল, সবাই খুশী হয়ে এল, অনিন্দিতাও সেদিন এল, খুব হাসি মজায় দিন কাটল সবার, হঠাৎ অনিন্দিতার ফোন এলে ও বারান্দায় গেল, নিলান্তিও কি ভেবে পেছন পেছন গেল, শুনল যে অনিন্দিতা খুব প্রশান্তি নিয়ে কথা বলছে, একবার শুনল বিভাপু বলে কাউকে বলছে! নিলান্তি এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করল, এও বলল যে নাসরীনের পরিবার ওকে তৌসিফের সাথে জড়িয়ে খুব খারাপ কথা বলেছে! আসল সত্য কি তা নিলান্তি জানতে চায়, আর নির্ভয়ে তা বলতে পারে অনিন্দিতা.. অনিন্দিতার চোখ ভিজে এল, বলল বিভাই একমাত্র ওকে বুঝেছিল, আর এখনও মাঝেমাঝে ফোন করে খোঁজ নেয়! নিলান্তি বুঝল যে সত্যি বিভার মন খুব বড়! অনিন্দিতা বলল যে ও সবই বলবে কিন্তু এখন না, এখন আনন্দের পরিবেশ চলছে.. নিলান্তি অনিন্দিতার চোখ মুছে দিয়ে বলল যে ওর পরীক্ষা শেষে ধীরে সুস্থে একদিন বললেই হবে.. এক সময় সবাই মিলে একেএকে বিদেশে থাকা সব আপনজনদের ফোন করল যেন দুরে থেকেও তারা এই গেট টুগেদারে আছে এমন ভাবানো যায়! 
এরপর একমাস কেটে গেল, সবারই দিনকাল খুব ভাল চলছে, অনিন্দিতার পরীক্ষা খুব ভাল হল, পরীক্ষার মাঝে একদিন নিলান্তির বাবা মা নিলান্তি সহ অনিন্দিতার হোস্টেলে গিয়ে কিছু হালকা খাবার দিয়ে এসেছিল, তারা খুব দোয়া দিয়েছিলেন অনিন্দিতাকে, এছাড়া বাসার সবাই ফোনে খোঁজও নিত.. অনিন্দিতার মা একদিন দাওয়াত করল নিলান্তি শাফিনকে, আগেই মাফ চেয়ে বলল নিজের অসহায়ত্বের কথা, কিন্তু তবুও যতটা পারে আপ্যায়ন হবে বলল, তবে এখন অনিন্দিতার দাদাদাদী বিশেষ এক কারনে ওদের প্রতি সদয় আচরন করে, ওর ছোটভাই এখন পরিবারের একমাত্র ছেলে তাই, আর তারা এখন খুব বয়স্ক, কিছু সেবাযত্ন যা করার অনিন্দিতার মাও অনেকটা করে, তাই চাচার চাচীর বাঁকা দৃষ্টিতেও দাদার কড়া কথায় আপ্যায়নের ব্যাবস্থার ত্রুটি হলনা, পরে অনিন্দিতার চাচা যখন জানল নিলান্তি শাফিন তার মেয়ে জামাই এর আত্নীয় তখন সেও আপ্যায়ন ভালমত করার ব্যাবস্থা করল.. খুব আদর আপ্যায়ন হল ওদের, বেশ ভদ্র শান্ত আর ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন মহিলা অনিন্দিতার মা, আর দশটা গ্রাম্য মহিলার মত না! আচরন কথাবার্তায় সুরুচির পরিচয় দেখা গেল, নিলান্তি ভেবে পেলনা এনাকে নিয়ে এত খারাপ কথা কেন বলল নাসরীন রা! অনিন্দিতার সৎ মা কিছুটা চিল্লাচিল্লি করতে চাইলে সবাই তাকে দুরে পাঠাল কোনরকম, আর নিলান্তি দেখল অনিন্দিতার চাচা বেশ খাতির করতে চাইল আর তোয়াজ করল ওদের, আর চাচী তার মেয়ে লিলির গুনগান করল.. কিন্তু নিলান্তি তো জানে এরা কেমন! তাই মনে মনে ঘৃনা হল.. আসার সময় নিলান্তিও খুব করে বলল যে ওদের বাসায়ও কিছুদিনের মধ্যেই দাওয়াত হবে তখন অনিন্দিতার মাকে আসতেই হবে.. 
নিলান্তি অনিন্দিতাকে ভাল দেখে কম্পিউটার কোর্সে এডমিট করাল, ওদের মেইন অফিপে রিসিপশনিস্টের কাজ দিল পাশাপাশি একাউন্টসের কাজেরও ট্রেনিং করাতে থাকল, এর মধ্যে কয়দিন তৌসিফ নিলান্তির বুটিকের সামনে এসেছিল, ওদের অফিসে এসেও শাফিন নিলান্তির সাথে দেখা করেছে, আসলে অনিন্দিতাকে দেখার উদ্দেশ্য ছিল! একদিন দেখে কথা বলতে গেল কিন্তু অনিন্দিতা পাত্তা দিলনা, ওর যে হাত পা বাঁধা, ক্যান্টিনের দিকে গেল অনিন্দিতা.. তৌসিফ পাগলের মত ওর পিছে পিছে গেল.. নিলান্তি সব খেয়াল রাখছিল, নিলান্তিও গেল, হঠাৎ তৌসিফ নিলান্তিকে দেখে লজ্জা পেল আর নিলান্তি রাগী চোখে তাকিয়ে থাকল! তৌসিফ চলে গেল.. অনিন্দিতা কাঁপা গলায় বলল যে অফিস শেষে কোথাও বসে আজ সব বলবে ও নিলান্তিকে....!!


পর্ব -52
সন্ধ্যায় কফিশপে বসল ওরা, সব বলতে থাকল অনিন্দিতা, মনযোগ দিয়ে খুঁটিনাটি সব শুনে নিলান্তির চোখ ভিজে এল! ঘটনার সারমর্ম এই যে তৌসিফ অনিন্দিতা কেউ দোষী না আর অনিন্দিতা ভালবাসাকে ত্যাগ করেছে পরিস্থিতির জন্য! ভয়ানক আত্নত্যাগ! তৌসিফ প্রথমে ভুল বুঝলেও পরে বুঝেছে, কিন্তু এখন হয়তো কিছুই হাতে নেই! তাই শুধুই শান্তনা দিল আর মন দিয়ে কাজ করতে বলল....
পরদিন বিকেলে শানায়া ওর কাজিন সায়নী আর সায়নীর বন্ধু দ্বীপকে নিয়ে এল, সবাই একই বয়সী, নাফিসা নাস্তা বানাতে গেলে শানায়া সাহায্য করল, নিলান্তিকে ফোন করে তাড়াতাড়ি আসতে বলল, অনিন্দিতাকে কিছু ফাইল দিবে নিলান্তি যা বাসায়, তাই ওকেও আনবে বলল, নাফিসা খুশী হয়ে বলল যে অনিন্দিতাও তো মেঘদের বয়সী, এলে ভালই হবে.. দ্বীপ সায়নী অবাক হল অনিন্দিতাকে দেখে! ওরা স্কুলে ক্লাসমেট ছিল! পরে কোনভাবে আর যোগাযোগ হয়নি, পরে তিনজন মিলে বারান্দায় গেল, শুনল অনিন্দিতার সব করুন কথা......
এই বুধবার নিলান্তির জন্মদিন, সবাই কিছু সারপ্রাইজ প্ল্যান করল, মঙ্গলবার থেকেই কাজের খুব ব্যস্ততা দেখাচ্ছে শাফিন! রাত বারোটায় উইশও করেনি! পরদিন সকাল দুপুরেও শাফিন বা অন্য কেউই না! বাচ্চারাও না! কষ্ট পেল নিলান্তি! সবাই ভুলেই গেল! এদিকে বিকেল থেকে প্রস্তুতী চলছে, নিলান্তি বিভিন্ন বাহানায় শাফিনকে কয়েকবার ফোন দিল, মাকে আর নাফিসাকেও দিল সবাই খুব স্বাভাবিক! তিন্নিকে ফোন দিতেই ব্যস্ততা দেখাল, তানি বলল যে ওর আজ মিটিং আছে আর বিকালে অভির সাথে ঘুরবে, অনিন্দিতাও কিছুই বললনা! তাড়াতাড়ি বাসায় গিয়ে কারও সাথে কথা না বলে রুমে গেল নিলান্তি! এদিকে সবাই প্রস্তুতী নিচ্ছে, বিকেলের মধ্যেই এডেলিন কেক বানিয়ে রেখেছে, এরপর মার্থাসহ অনেক সবজি খিচুড়ী বানাতে থাকল যেমন নিলান্তির পছন্দ, সকালে বাসায় বাবুর্চী এসে রোস্ট বানিয়েছিল সেগুলো ফ্রীজে, তানি দুপুরে কলেজ থেকে এসে আলুর টিকিয়া করতে থাকল, তিন্নি সন্ধ্যায় এসেই নিলান্তির মার সাথে মিলে পায়েস করতে লাগল, শানায়া করে আনবে কুমড়ো ফুলের বড়া, মিসেস ফেবিওলা কিছু পাস্তা অর্ডার করে আনলেন, শাফিন আংটি কিনেছিল, অনিন্দিতা সুন্দর পেপার বাস্কেট বানিয়ে তাতে রাখল আংটির বক্সটা, আয়োজন ভাল হলেও আফসোস হল সবার যে ছুটির দিন হলে আরো কত কি করা যেত! সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে সবাই এল, সবাই জোরেজোরে গান ধরল "হ্যাপী বার্থডে নিলান্তি"! নিলান্তি বের হতেই স্নো স্প্রে করল সবাই, লজ্জা পেল নিলান্তি সবাইকে ভুল ভাবায়! শাফিন নিলান্তির হাত ধরে কেক কাটাল, সবার অনুরোধে শাফিন আংটি পরাল নিলান্তির আঙ্গুলে.. স্নিগ্ধ আনন্দ সবার মাঝে.......
পরদিন নিলান্তি ছুটি নিল, পরশু আলাইনার গানের প্রতিযোগীতা আছে, কয়েকটি স্কুল মিলিয়ে ছোট বড়দের আলাদা বিভাগে, আলাইনা ভয় পাচ্ছে কারন আগে এত বড় প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়নি তাই সারাদিন নিলান্তি সাথে থেকে আরও ভালমত তৈরী করবে ওকে আর সাহসও দিবে! পরদিন সারাদিন পর আলাইনার ভয় কেটে গেল, নিলান্তি বলল বড়দের সবার কাছে দোয়া নিতে, সবাই প্রাণভরে দোয়া করল, সুজানা ভিডিও কল করে শুভেচ্ছা দিল....
সুন্দর গান গেয়ে চারটে স্কুলের ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভের সব প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রথম হল আলাইনা, আলাইনা পুরো ক্রেডিট মাকেই দিল....
এদিকে বারো তারিখে অর্নবের বাচ্চাদের এক বছর হবে, নিলান্তি আর শাফিন ওদের কমিউনিটি সেন্টারে পার্টি করতে চাইল, সন্ধ্যায় বলল, কিন্তু অর্নব চাইলনা, ওর মতে ঘরে পার্টি হলেই ভাল, তারা বলেকয়ে আহমেদ নিবাসের ছাদে আয়োজনের কথা বলল, পরদিন সকালে নিলান্তি কল্প কীর্তিকে দেখতে গেল, বাচ্চা দুটো হামাগুড়ি দিয়ে হাসছে! এডেলিন আফসোসে বলল, কীর্তি নামটা ভাল কিন্তু ওর আর অর্নবের আরেকটা নাম খুব পছন্দ ছিল, তা হল অনন্তী, ওদের জন্মের সময় সবাই জানত যে নিলান্তি মৃত তাই তিন্নি কীর্তির নাম নিলান্তি রাখতে বলেছিল, কিন্তু মা রেগে গিয়েছিলেন, ওরা চাইল মেয়ের নাম অর্নবের অ আর নিলান্তির স্মৃতীতে অন্তী যুক্ত কিছু রাখতে আর বেশ ভাল লাগল অনন্তী নামটা কিন্তু মা এতেও রাগ করলেন! নিলান্তির মার চোখ ছলছল করে উঠল! এডেলিন নিজেকে অপরাধী ভাবল! বলল ওকে বকুক কিন্তু দয়া করে না কাঁদুক! নিলান্তি খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল মাকে যে কাঁদছেন কেন আর কেনই বা এতো সুন্দর নামটা তখন রাখতে দেননি?? তখন মা বললেন যে, এখন তো আর কিছু গোপন নেই, তিনি আসলে নিশা নিলান্তি হবার পর থেকে নিলান্তির বাবা নাসীর আর অন্য আত্নীয়দের সাথে অভিমান করে বলতেন যে বাবার নামের অক্ষরেই দুই মেয়ের নাম হল এই নিয়ম ভাল লাগছেনা! তিনি বাংলার শিক্ষিকা, সাহিত্য গল্প ভালবাসেন, সুন্দর বাংলা শব্দের নাম বানাতে পছন্দ করতেন, তার নাম অন্ঞ্জনা, ছেলের নাম অ দিয়ে হল, কিন্তু পরে যখন গর্ভবতী হলেন আব্দার করলেন যে এবার কোন নিয়ম চলবেনা, ছেলে মেয়ে যাই হোক তার নামের প্রথম অক্ষরেই নাম হবে! মেয়ে হলে নিলান্তির সাথে মিলিয়ে অনন্তী নামটা খুঁজে পেলে এটাই ঠিক করলেন! কিন্তু.... এজন্যই সেদিন তিন্নি যখন বলেছিল যে নিলান্তি মৃত তাই সেই স্মৃতীতে নিলান্তি রাখতে তখন ক্ষেপেছেন কারন মন মানেনি যে নিলান্তি মৃত, একই ভাবে সত্যটা জেনেও তখন মানেননি যে অনন্তী আর আসবেনা তাই মানা করেছিলেন! দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন যে এ হয়তো অন্যদের কাছে পাগলের প্রলাপ কিন্তু এই মিথ্যাও এক মায়ের কাছে আশার মত! নিলান্তি মাকে শান্তনা দিয়ে বলল যে হোক মিথ্যে কিন্তু মায়ের এই ভাবনা টা সম্মানের! এডেলিন ক্ষমা চেয়ে বলল যে আর কখনো ঐ নাম নিয়ে আফসোস করবেনা! নিলান্তির মা এডেলিনের চিবুক ছুঁয়ে আদর করলেন, তিনি বললেন যে ইদানিং তাঁর এই বিশ্বাসটা কেন জানি জাগ্রত হচ্ছে খুব বেশী যে অনন্তী ফিরে আসবে....!!
আজ কল্প কীর্তির জন্মদিন, সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শুরু হল, বেশ ভালমত সব হল....
পরদিন নিলান্তি সন্ধ্যায় দেখল শায়ান একটা পেইন্টিং বানাচ্ছে তেলরং ব্যাবহারে আর নাফিসা কিছু ক্ষেত্রে সাজেশান দিচ্ছে! নিলান্তির মনে পড়ল ওদের প্রথম বিয়ের হানিমুনের পর ও নাফিসার এই অপূর্ণ শখের কথা শুনে আর্ট আরও শেখার প্রেরণা দিয়েছিল নাফিসা শিখেছিলও কিন্তু হয়তো সেই দুর্ঘটনায় সব ওলটপালট হয়ে গেছে! নিলান্তি নাফিসাকে বলল আবার শুরু করতে! শেখা তো আছেই এখন শুধু প্র্যাক্টিস করতে! নাফিসা বলল যে এখন কি তার বয়স আছে! নিলান্তি বোঝাল যে বয়স বাধা নয় এক্ষেত্রে! শায়ানও খুব করে বলল যে ওরা একসাথে পেইন্টিং করবে! শাফিন সেটা শুনে উৎসাহ দিল! নিলান্তি বলল, সামনে তেইশ তারিখ শুক্রবারে অর্নবের ফটোগ্রাফীর প্রদর্শনী যেমন হচ্ছে আহমেদ ইন্ডাস্ট্রীর এক রেস্টুরেন্টের একটা ফ্লোরে, তেমন করে তার পরের শুক্রবারে শায়ান আর নাফিসার অয়েল পেইন্টিং এর প্রদর্শনীও রাখা যায় সেখানে! সবাই শুনে খুশীতে প্রায় লাফিয়ে ওঠে! খাওয়ার পর রাতে শাফিন বলল, নিলান্তি সত্যি অতুলনীয়া অনন্যা!  Bangla Golpo PDF
নিলান্তি পরদিন জানল যে অনিন্দিতা ওর মা ভাইকে আনবে কারন ওর ফ্লোরে একমেয়ে বিয়ে করে সিট ছেড়েছে আরেক মেয়ে পাঁচদিনের ছুটি নিয়েছে তাই তাদের থাকার জায়গা হবে! নিলান্তি খুব বলল তাদের বাসায় থাকতে কিন্তু অনিন্দিতা বলল মা এটা চাবেন না, নিলান্তি ষোল তারিখে তাদের নিয়ে আসতে বলল বাসায়, বাসায় সবাই কেও বলে রাখল, পরদিন অফিস করে এসে আলাইনার হোমওয়ার্ক দেখে মায়ের কাছে গেল নিলান্তি, মা তখনো নিশার বাসায়, বাবা বললেন যে মায়ের গল্প লিখার খুব শখ ছিল আর ভাল গল্প ভাবতেও পারত, কিন্তু বই বের করতে দৌড়াদৌড়ি ঝামেলা ভাল লাগেনা বলে কিছু ভাবেনি! নিলান্তি কষ্ট পেল শুনে যে এতদিনে ও এতজনের প্রতিভা খুঁজে পেলেও নিজের মায়েরটা পায়নি! এটা বড় ব্যার্থতা, মা এলে মাকে চা দিয়ে কথা টি বলল, আর বলল যে মা এখনও লিখতে পারে! আজকাল ফেসবুকে অনেক পেজ আছে গল্প লেখা হয় সেখানে! আর পরে সবাই মিলে ভাল প্রকাশক দেখে বইও ছাপিয়ে নিবে, মা হেসে উড়িয়ে দিয়ে বললেন যে তার বয়স এখন পন্ঞ্চান্ন এরও বেশী, বুড়ো বয়সে এসব! নিলান্তি বুঝিয়ে বলল যে এসবে বয়সটা বিষয় নয় আর খুব অনুরোধ করল লিখতে! বাবা বললেন যে মায়ের ইচ্ছা ছিল তাদের মৃত মেয়ে অনন্তীকে নিয়ে গল্প বানাবে! কাহিনী হবে যে ছোটবেলা হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে একসময় ঠিকই ফিরে পেয়েছে বাবা মা! নায়িকার নামও অনন্তী দিবে! নিলান্তি জড়িয়ে ধরল মাকে আর বলল লিখা শুরু করতে, ছুটির দিনে রেস্ট নিয়ে লিখতে!
এদিকে এক ঝামেলা হল! শানায়ার বাবা যখন জেনেছে মেঘ আহমেদ পরিবারের ছেলে আর কিছুতেই রাজী হচ্ছেন না! শানায়ার দাদার সাথে অনেক বছর আগে একটা দন্ধ হয়েছিল মিঃ আহমেদের সেই ইগো সেও ধরে রেখেছেন! নিলান্তি মেঘকে শান্ত হতে বলল আর বলল, সবাই চেষ্টা করবে তাকে বুঝাতে....
অনিন্দিতার মা ভাই বৃহষ্পতিবার রওনা দিল, রাতে মা অনিন্দিতাকে বলল যে নিলান্তি এক ফেরেশতা! কত কিছুই না করছে ওর জন্য! অনিন্দিতাকে বলল যেন ও কষ্টের কথা বলে বাড়তি সাহায্য কখনো না নেয়! অনিন্দিতা বলল যে মায়ের এই শিক্ষাটা ও মেনে এসেছে! মা স্মিত হেসে বললেন, নিলান্তির এই ঋন তো শোধ করার সাধ্য নেই তাদের কিন্তু যত পারে উপকার করবে.. ভোরে উঠে মা পিঠা বানাতে বসল, কিছু টাকা আছে কিন্তু এতো কমে ভাল মিষ্টি পাবেনা বলে! অনিন্দিতা উঠে রেগে বলল যে ওকে কেন ডাকেনি! মা বলল, এখন কত পরিশ্রম যায় সারাদিন ওর তাই! অনিন্দিতা আরও রেগে বলল যে দাদার বাড়িতেও তো মা এর সারাদিন গাধার মত খাটুনি হয়! নাস্তা করার পর মাকে জোর করে রেস্ট নিতে বলল.. এদিকে নাফিসা বলল যে নিলান্তি তো দেখেছে অনিন্দিতার মাকে, তিনি ভাল তো? তাকে আজ ডাকা ভুল হচ্ছেনা তো? নিলান্তি আশ্বাস দিল, ওরা ভাল, আর তাদের সমস্ত কথা বলল নাফিসাকে, এও বলল যে মা যদি মেয়ে কে তৌসিফের পিছে লাগাতেই চান তাহলে বৌভাত প্রোগ্রামে অনিন্দিতাকে বাড়ি যেতে কখনই বলতেন না!
নাফিসা: তাই যেন হয়! আমারও মন তাই চায় কিন্তু নাসরীন সেদিন কেন এমন বলল কে জানে...
নিলান্তি: ভুল বোঝাবুঝি তো অবশ্যই...
নাফিসা: নাসরীন টা আসলে সহজে অনেক কিছু ভেবে সেটা নিয়াই থাকে....  Bengali Ebook
দুপুরে তারা এল, কথা ব্যাবহারে নাফিসারও মনে হল যে মহিলা খুব ভাল, নাফিসা একবার জিজ্ঞাসা করল, তৌসিফকে জানাবে কিনা কারন তিনি ওর চাচি শাশুড়ী আর এখানে এখন আছেন, অনিন্দিতার মা অনুরোধ করল না জানাতে, তার আনা পিঠার খুব সুনাম করল সবাই, তিনি লজ্জিত হয়ে বললেন যে আরও বেশী কিছু আনার ইচ্ছা ছিল কিন্তু হলনা! আর বারবার কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গেল নিলান্তিকে! দুপুরে খেয়ে কিছুক্ষন রেস্ট নিয়ে ছাদে ঘোরা হল, নিলান্তি বলল ওর মায়ের সাথে দেখা করাবে এখন, অনিন্দিতার মা খুশী হয়ে বললেন যে তিনি সালাম জানাতে চান নিলান্তির মত এত মেধাবী আর মহৎ মেয়ের মাকে! উৎসাহ নিয়ে গেলেন, নিলান্তির মা রেস্ট নিয়ে গল্প লিখছিলেন, অনিন্দিতা আসল শুনে উঠলেন, ড্রইংরুমে যাবার পর অনিন্দিতার মা হাসিমুখে দাঁড়ালেন, কিন্তু মুহুর্তেই থমকে গেলেন নিলান্তির মাকে দেখে! পরে নিলান্তির বাবাকে দেখেও! নিলান্তির মা কুশলাদি জিজ্ঞাসা করলেন অনিন্দিতার গুনগান করলেন, তাদের সার্বিক অবস্থা যা নিলান্তির থেকে শোনা সেসব বলে দুঃখ করলেন, অনিন্দিতার মা চুপচাপ থাকলেন, পরে নিলান্তির মা বলল, তার খুব চেনাচেনা লাগছে অনিন্দিতার মাকে! আগে কখনো দেখেছেন মনে হচ্ছে! শুনে অনিন্দিতার মা একটু শুকনো হাসি হাসলেন, কিছুক্ষণ পর দাঁড়িয়ে তিনি দেয়ালে টাঙ্গানো নিলান্তিদের তিন ভাই বোনের মায়ের সাথে তোলা ছোটবেলার ছবি কতক্ষণ দেখলেন, নাস্তা করে কিছুক্ষণ পর হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলেন! অনিন্দিতা কেঁদে বলল, কাল এত জার্নি করে আজ ভোরেই উঠে অনেক ক্ষণ পিঠা বানিয়েছে বলে এই! সবাই ব্যস্ত হল, ডাক্তার ডাকল, প্রেশার খুবই লো, বাসার কেউ ছাড়তে চাইলেন না এ দশায় কিন্তু তিনিও থাকতে চাননা! কিন্তু নিলান্তি নাফিসার জেদের জন্য থাকা লাগল তবে মাত্র একদিন থাকবেন বলল, নাফিসা নিলান্তিকে বলল নাসরীন কে জানাবে কিনা কিন্তু নিলান্তি মানা করল, শুধু শুধু পরিবেশ খারাপই হবে বলে.. অনিন্দিতার মা শান্ত হয়ে ঘরে রইলেন, প্রায় দুঘন্টা পর কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে সবার সাথে একটু গল্প করলেন আর বারবার কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গেলেন.. সবার বেশ ভাল লাগল কথা বলে কারন সুন্দর বাচনভঙ্গী অনিন্দিতার মার, ভাল গানও জানেন, অনিন্দিতার হাতেখড়ি তার থেকেই, আর সাহিত্যচর্চা পছন্দ করেন, অনিন্দিতার ভাই অনিন্দ্যও খুব অমায়িক, শায়ান আর রোদ্দুরের সাথে খুব ভাব হল, এদিকে নিলান্তির মায়ের পরেও বারবার মনে হল যে কোথায় যেন দেখেছিল আগে অনিন্দিতার মাকে! নিলান্তির বাবা হেসে বললেন যে নিলান্তির মা এ পর্যন্ত মোট চার পাঁচটা স্কুল কলেজে শিক্ষকতা করেছেন, কোন স্কুলে তার ক্লাসেই ছোটবেলা অনিন্দিতা পড়েছিল হয়ত! তাই ছাত্রীর মাকে দেখে চেনা লাগছে! নিলান্তির মা বললেন যে তিনি প্রথম পরিচয়েই অনিন্দিতার খুঁটিনাটি অনেক কিছু জেনেছেন, ও কখনো সেসব স্কুলে পড়েনি! পরদিন সকালে তাড়াতাড়ি বিদায় নিল অনিন্দিতার মা, তিনি বেশীক্ষণ থাকতে চাননা, সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে গেলেন, দুদিন কেটে গেল, নিলান্তিরা খোঁজ নিল তার, এরপর যাবার আগেও দেখা করে গেলেন, নিলান্তি ওর মায়ের সাথে দেখা করাতে চাইলে বাহানা দিলেন যে ওনার দেরী হচ্ছে...! শুক্রবার অর্নবের প্রদর্শনী দেখতে গেল সবাই, খুব মজা করা হল, কিন্তু নিলান্তি খেয়াল করল যে মেঘ গম্ভীর পুরো সময়ে..! নিলান্তি রাতে বাসায় সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করল পরদিন শাফিন আর নাফিসা সহ যাবে শানায়ার বাড়িতে ওর বাবাকে বুঝাতে.. কিছুদিন কেটে গেল, এরমাঝে দুদিন গেল নিলান্তিরা শানায়ার বাসায়, শানায়াও খুব কাঁদল কিন্তু কিছু করা গেলনা!
আজ বুধবার, সন্ধ্যায় শুনা হল যে জয়ার যাবার ব্যাবস্থা হয়ে গেছে আর সুজানা জানাল, জয়া কানাডায় সেই সুপারশপের মালিক বাঙ্গালী মহিলার আন্ডারে কাজ করবে, জয়া পরদিন এই খুশীতে শৌখিনসহ এল মিষ্টি নিয়ে, শৌখিনকে দেখে সবাই মায়া অনুভব করল, শৌখিনও সবাইকে দেখে হেসে কোলে গেল....
এদিকে এ পর্যন্ত অনেক সু্ন্দর সুন্দর পেইন্টিং করে রাখল শায়ান আর নাফিসা, বেশীরভাগই অর্থপূর্ণ বিষয়ের ভিত্তিতে, নাসরীনের বাড়ির সবাইও আসবে, অনিন্দিতা ভয় পেল আসতে কিন্তু নিলান্তি সাহস দিল, পরদিন প্রদর্শনীতে অনেক মানুষ এল, সাংবাদিকরাও এল, বিদেশে থাকা আত্নীয়দের ভিডিও কল করে দেখানো হল, সাংবাদিক আর প্রদর্শনীতে আসা সবার প্রশ্ন ছিল যে কার অনুপ্রেরণায় তারা এতটা আগালেন? শায়ানের ব্যাপারটা আন্দাজ করলেন যে ছেলেকে মা প্রেরণা দিয়েছে, নাফিসা বলল যে ওর পুরো পরিবার ওকে প্রেরণা দিয়েছে কিন্তু সবচেয়ে বেশী দিয়েছে নিলান্তি, তৌসিফ সেখানেও চান্স খুৃঁজল অনিন্দিতার সাথে কথা বলার কিন্তু পেলনা....
পরদিন বিকেলে নিলান্তি আলাইনাকে নিয়ে গেল সুরছন্দ একাডেমীতে যেখানে ওর গানের হাতেখড়ি আর কিছু সময় শিক্ষকতা করা, যেতেই সবাই হাসিমুখে কথা বলতে এল, তারা অনেকেই চিনে জানে নিলান্তিকে! আলাইনা এখন থেকে এখানে গান শিখবে, সংগীত বিভাগের অধ্যক্ষের সাথে কথা হল, তিনি নিলান্তিরও টিচার ছিলেন, খুব খুশী হলেন, একসময় বললেন যে তাদের পার্ট টাইম একজন লাগবে যিনি শুক্রবার বাচ্চাদের ছড়াগান ও বড়দের আধুনিক গান শিখাবেন.. নিলান্তি বাসায় গিয়ে অনিন্দিতাকে বলল যে ও এই কাজ করতে পারে, আসলে যত কাজে মজায় জড়াবে তত দুঃসহ অতীত ভুলবে! অনিন্দিতা সানন্দে রাজী হল... 

Bangla Story Book


নতুন বছর 2023 সাল এখন, তিন তারিখ মঙ্গলবার জয়ার ফ্লাইট, ও তাই এরমধ্যে বড় ভাই বোনদের সাথে দেখা করে আসল, বাসায় মা ভাই ভাবীদের কাছে মাফ চাইল, আহমেদ নিবাসে গিয়েও সবার কাছে মাফ ও দোয়া চাইল, মঙ্গলবার ভালমত কানাডা পৌঁছাল.....

নিলান্তির প্রস্তাবে করা আহমেদ পরিবারের সেই ক্লিনিক আরও বড় পরিসরে হয়েছে গরীব রোগীদের জন্য আরও সুবিধা নিয়ে, এছাড়াও নিলান্তি ওদের ফান্ড করা টাকা এ প্রথমবার দুটো অসহায় মেয়েকে সাহায্য করল বিশ্বস্ত এনজিও এর মাধ্যমে.... একদিন দুপুরে নিলান্তি এক ক্লায়েন্টের অফিসে মিটিং শেষে বের হওয়ার সময় শুনল দুর থেকে কেউ ডাকছে! দেখল বিভা এগিয়ে আসছে! বলল যে সেদিন ও ভুল বুঝেছিল নিলান্তিকে, অনিন্দিতার কাছে শুনেছে নিলান্তি ওকে কত্ত ভাল ট্রীট করে, সেদিন তাদের বাসার মহিলাদের কথা শুনে দুরে সরায়নি যা খুবই ভাল লেগেছে! নিলান্তি খুশী হয়ে বিভাকে বাসায় খুব নিয়ে যেতে চাইল কিন্তু বিভা কথা কাটিয়ে চলে গেল.. বুটিকের সামনে গাড়ি থেকে নেমে দেখল অনিন্দিতা দুরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে একজনের সাথে, কাছে যেতে পরিচয় করাল তার সাথে, ছেলেটি সামীর, ঢাকায় থাকাকালে ওদের প্রতিবেশী ছিল, ওদের পরিবারের বন্ধুর মত, বাবা মারা যাবার পর অনেক সাহায্য করেছিল কিন্তু দাদা বাড়ি গিয়ে যোগাযোগ করা হয়নি, এখন অল্প স্বল্প হয়, নিলান্তিকে সেদিন কফিশপে এর কথাও বলেছিল, নিলান্তি খুশী হয়ে ওদেরকে ভেতরে বসিয়ে চা নাস্তা খাওয়াল বেশ গল্প করল, সামীর ছেলেটি বেশ মজার মানুষ, খোলা মনের, ছোট খাট চাকুরী আর টিউশনি করছে, নিলান্তি মুগ্ধ হয়ে দেখল ওদের দুজনের সাবলীল কথা বলা, সামীর খুব ফ্রীলি গল্প করলেও আচরন বডি ল্যাঙ্গুয়েজে মেয়েদের প্রতি সম্মান প্রকাশ পায়, অনিন্দিতাকেও খুশী আর চিন্তামুক্ত দেখাচ্ছে! বেশ ভাল লাগল নিলান্তির.... 
রাতে শাফিন বলল যে এই বৃহষ্পতি বার সকালে সাজেক ভ্যালীতে বেড়াতে যাওয়া যায় তিন চারদিনের জন্য! এই জানুয়ারী মাসের শীতে ভাল ঘোরার জায়গা... নিলান্তি ইতঃস্তত করল বাচ্চাদের ছাড়া যেতে, তখনই শায়ান আলাইনা হাজির! বলল যে ওরা জানতই নিলান্তি একথা বলবে তাই দাঁড়িয়ে ছিল, যাবার প্ল্যানটা আগে থেকে সবাই জানে! বাচ্চারা বোঝাল যে ওরা বড় হয়েছে, তাছাড়া মাঝে এমন কিছু সময় গেল তখন ওরা নিজেরা নিজে চলা ভালমত শিখেছে, আর নিলান্তি আম্মুর আদর স্নেহ সব সময়ই মনে থাকবেই! বাচ্চারা খুব বলল যেতে.. নিলান্তি ওদের বুকে জড়িয়ে রাখল! খাওয়ার পর সবাই শুয়ে পড়লে শাফিন একা ছাদে গেল নিলান্তির সাথে অভিমান করে! বলল যে এতই সমস্যা নিলান্তির শুধু দুজনে মিলে কোথাও যেতে! ছাদে এসে নিলান্তি বলল যে ওর সত্যি মন চায় শুধু দুজনে ঘুরতে কিন্তু মাঝেমাঝে জড়িয়ে থাকা সবার কথাও ভাবে, আর খুব সরি বলল, শাফিনের অভিমান আস্তে আস্তে ভাঙ্গল, বলল রবীন্দ্র সঙ্গীত গেয়ে শোনাতে.. দোলনায় বসে শাফিনের কাঁধে মাথা রেখে নিলান্তি গেয়ে শোনাল.... 
"তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে
টুকরো করে কাছি , আমি ডুবতে রাজি আছি... আমি ডুবতে রাজি আছি ।
তোমার খোলা হাওয়া…...." 
"ভালবাসি ভালবাসি.... ভালবাসি ভালবাসি..... এই সুরে.. কাছে দুরে.... জলে স্থলে বাজায়... বাজায় বাঁশি.... ভালবাসি ভালবাসি........

Bangla Romantic Uponnash 

এরপর কিছুক্ষণ ছাদের কোণায় দাঁড়িয়ে চন্দ্রবিলাস করল ওরা...... 

পরদিন সকালে নাফিসা খুব খুশী একটা ফোনকলে! ওর এক ফুপাতো ভাই শুভ্র জার্মানী থেকে পিএইচডি করে দেশে আসছে, নাফিসার বড় তিন ভাই অনেক আগে থেকেই পুরো পরিবার নিয়ে বিদেশে সেটেল আর মা মারা গিয়েছিল বহু আগে, বিয়ের পরপর বাবাও.. ভাইরা মাঝেমাঝে শুধু ফোনই দিত, একা অনুভব করত নাফিসা, কাজিনদের তেমন কাছে না পেলেও এই ছোট ভাইটিকে কিছু সময় পেয়েছিল, খুবই আদর করত, আহমেদ নিবাসেও অনেক বছর আগে দুবার এসেছিল ছেলেটা, খুবই চন্ঞ্চল আর মজার ছেলে, মন খারাপ কারো থাকলেও জাদুতে ভালো করে দেয়! শাফিন খুব বলল যে ওরা সাজেক থেকে ফেরার পরই যেন শুভ্রকে বাসায় ডাকে আর কিছুদিন যেন ধরে রাখা হয়! খুব ভাল লাগবে... 
এরমাঝে আরও দুবার শানায়াদের বাসায় সবাই গিয়ে বলেছিল কিন্তু লাভ হয়নি! মেঘ শুধুই মনমরা থাকে! তবে নিলান্তি প্রতীজ্ঞা করল যেভাবেই হোক ওদের এক করবেই! 
আজ লান্ঞ্চের পর সামীর অনিন্দিতাকে ফোনে জানাল ওর এক চেনা বড়ভাই প্রকাশক, বেশ কয়েকজন লেখকের বই ছেপেছে তার সহায়তায়, অনিন্দিতা গল্প করে সামীরকে বলেছিল নিলান্তির মায়ের লেখার ব্যাপারে! অনিন্দিতা খুশীতে বলল নিলান্তিকে! নিলান্তি খুশী হয়ে বলল সামীরকে বিকেলে ডাকতে! সামীর এল, প্রকাশকের সাথে ফোনে কথা হল, তিনি বললেন যে তিনি খুব আগ্রহী কারন শাফিন নিলান্তিরা এত বড় মানুষ! তাছাড়া ফেসবুকে সেই সাহিত্য চর্চার গ্রুপে ইতিমধ্যে তিনি নিলান্তির মায়ের গল্পের পর্বগুলো পড়েছেন.. নিলান্তি শাফিনকে ফোনে জানাল সুখবরটা, নিলান্তি ওদের দুজনকে নিয়ে বেরিয়ে ফুচকা খেল, গল্পের মধ্যে সামীর দুঃখে বলল যে রাজিয়া আন্টিরও (অনিন্দিতার মা) গল্প লেখার খুব শখ ছিল, সুন্দর আবৃত্তিও করত, সামীর ছোটবেলা তার গানের ছাত্র ছিল, নিলান্তি শুনেছিল যে অনিন্দিতার মা আগে বাচ্চাদের গান শেখাত, দেখল অনিন্দিতার চোখ ছলছল করছে! নিলান্তি বলল তার কি আবার সব শুরু করা যায়না? অনিন্দিতা বলল যে দুর্ঘটনার পর এসব মায়ের জীবন থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে! ভাল চাকুরী পেলে এখানে তাদের আনার পর মাকে একটু শান্তি দিবে তারপর অবশ্যই আবার সব শুরু করতে বলবে! সামীর কতক্ষণ শান্তনা আর প্রেরণা দিল অনিন্দিতাকে...... 
সন্ধ্যার পর তানি আর অভি মিষ্টি নিয়ে এল, সব বন্ধুদের বাসায় দিয়ে বাবার বাসায় কিছুক্ষণ থেকে এখানে আসল, জানাল ও একমাসের প্রেগন্যান্ট! নিলান্তি খুশীতে জড়িয়ে ধরল বান্ধবীকে, এরপর বাসার সবাইকে মায়ের গল্প ছাপার ব্যাপারেও বলল, সবাই এরমধ্যে পড়েছিলও ফেসবুকে, নিলান্তি কিছুক্ষণ পর মায়ের কাছে গিয়ে সব বলল, সবাই খুবই খুশী! নিলান্তি বলল মায়ের শারীরিক অবস্থা যদি খারাপ লাগে ওদের মেইড নিশার বাসায় গিয়েও নাহয় কিছু সহায়তা করে দিক, মা হেসে বললেন তার দরকারই নেই! একটু বয়স হতেই শুয়ে বসে ছিলেন না বলেই তো এখনও কত ফিট! বাবা হেসে বললেন এখনও ওদের মা যথেষ্টই সুন্দরী! নিলান্তি বাবা মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, তারা যেন এমনই থাকে সবসময়! এডেলিন ওর ক্লাসের গল্প শোনাল কতক্ষণ আর অর্নব শোনাল যে ওর ফটোগ্রাফীর অনেক নাম বেড়েছে প্রদর্শনীর পর.. নিলান্তি শায়ান আলাইনাকে ডেকে এনে কল্প কীর্তিকে নিয়ে কতক্ষণ খেলল... পরদিন তিন্নি বকুল বেড়াতে এল, ওদেরও খুবই ইচ্ছা সাজেকে ঘুরতে যাবার, কেমন খরচ হবে কিভাবে ব্যাবস্থা নিবে জানতে চাইল, নিলান্তি বলল ওদের সাথে মিলেই নাহয় চলুক ওরা, চারজন খুব মজা হবে! তিন্নি বকা দিয়ে বলল যে নিলান্তি শাফিনের একা গিয়ে শুধু দুজন দুজনকে নিয়েই থাকা উচিৎ! নিলান্তিরা আসার পর তিন্নিরা যাবে! 
রাতে নিলান্তিকে বিভা ফোন দিল, বলল ও শুনেছে নিলান্তির ফান্ডের কথা, ও এখন ব্যাংকার, তাছাড়া নিজের আলাদা বেশ টাকাও আছে. একা মানুষ আর কেউ ওর জীবনে জড়াবেওনা তাই ও সুযোগ বুঝে দান করে গোপনে, বাড়ির লোকের সাথে কথা হয়না, ও চায় নির্দিষ্ট কিছু টাকা নিলান্তিদের ফান্ডে দান করবে আর খেয়াল রাখতে বলল যে খুবই গরীব মেয়ে যারা স্বামীর অত্যাচারে থেকেও মুক্তির উপায় পায়না তাদের বেশী সাহায্য করতে.. এই কষ্ট ও ভাল বুঝে তাই সাজেস্ট করা! আর পরশু যেহেতু নিলান্তিরা বেড়াতে যাবে তাই ওরা ফেরার পর নিলান্তির সাথে দেখা করবে.. নিলান্তি অসংখ্য ধন্যবাদ দিল আর খুব অবাকও হল বিভাকে নিয়ে.... 
পরদিন নিলান্তিকে আবারো এক ক্লায়েন্ট মিটিং এ যেতে হবে, কি মনে করে নিলান্তি মিটিং শেষে সামীরকে দেখা করতে বলল আর বলল অনিন্দিতা কে না জানাতে, অবাক হয়ে সামীর এল, নিলান্তি ওর বাড়ির অবস্থা সবাই কেমন আছে ওর কাজ কেমন চলে জিজ্ঞাসা করল, বলল যে অনিন্দিতা ওকে ওর জীবনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হওয়া সবই বলেছে! তাই জানতে চায় যে এখনো সামীর অনিন্দিতাকে ভালবাসে কিনা? যেহেতু সামীর সবই জানে.. সামীর একটু ঘাবড়াল, এরপর বলল যে ওর মনে এখনো তেমনই ভালবাসা আছে, ও আসলে আগেও জোর করতে চায়নি অনিন্দিতাকে, সম্মানবোধও আছে বলে, তবে যখন জানল অনিন্দিতা তৌসিফকে ভালবাসে তখন নিজেও চেয়েছে অন্য কোন মেয়ের সাথে ভালমত প্রেমে জড়াতে কিন্তু পারেনি আর তখন বাড়ির প্রতি অনেক দায়িত্বে জড়িয়েছিল তাই আজ বাড়ির অবস্থাও ভাল, এখন বিয়ে দিতে চাচ্ছে ওকে কিন্তু সামীরের আসলে ইচ্ছা নাই, অনিন্দিতাকে কখনো জোর করবেনা তবে এখনো অন্য কাউকে তেমন করে ভাবা হয়নি..... 
বাসায় আগেআগে গিয়ে ওর আর শাফিনের কাপড় গোছগাছ করছে নিলান্তি, আর সবাইকে খুব বলছে নিজের খেয়াল রাখতে, বাচ্চাদের বলছে ওরা যেন পড়াশুনা খাওয়া ঘুম ঠিকমত করে, একবার মেঘের কাছে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে শান্তনা দিয়ে বলল আল্লাহ্ এর ওপর ভরসা রাখতে, আর যেভাবেই হোক ওকে আর শানায়াকে এক করাই হবে.. শাফিন নিলান্তির জন্য সুন্দর ফ্যাশনেবল দুটো শাল কিনে আনল.. পরদিন ভোরে উঠে নিলান্তি সবার জন্য নাস্তা বানাল, বলল কদিন থাকবেনা তাই আজ ও বানাবে, নিলান্তির মা বাবা সবাই, নিশা আবির ওদের বাচ্চারাও এল, কদিন যে দেখা হবেনা তাদের নিলান্তির সাথে, নিলান্তি শাফিন সবার কাছে দোয়া ও শুভকামনা নিয়ে বের হল.... 
যথারীতি পৌঁছাল ওরা, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যে বিমোহিত হল! ফ্রেশ হয়ে দুপুরে খেল, রেস্ট নিয়ে বের হতে রেডী হতে থাকল, নিলান্তির জন্য শাফিন একটা নীল রং সালোয়ার কামিজ এনেছিল গোপনে ব্যাগ এর কোণায় রেখে, এখন সারপ্রাইজ দিল! বিকেলে বের হল.. প্রচুর ঘুরল আশেপাশে.. সন্ধ্যার পর রুমে এল, বারান্দায় কিছুক্ষণ চাঁদের আলো উপভোগ করল.. আর নিজেরা নিজেদের কাছে আসার গল্প বলে স্মৃতী চারণ করতে থাকল, সত্যি রোজকার ব্যস্ত রুটিনবাঁধা দিন থেকে বের হয়ে নিরব মনোরম কোথাও সময় কাটানো দরকার যেখানে শুধুই ওরা দুজন থাকবে... বাকি কদিনও খুব ঘোরা হল, দুজনে দুজনের মাঝে হারিয়ে.. পরদিন সোমবার সকালে বাসার জন্য রওনা দিল... 
এদিকে শোনা গেল, শুভ্র এসেছে দুদিন আগে, এখন নিলান্তিরাও ঢাকায়, তাই ওকে ফোন করে আসতে অনুরোধ করা হল.. জানাল যে বুধবারে আসবে, পরদিন নিলান্তি সন্ধ্যায় অনিন্দিতার সাথে বসে বলল সামীরের কথা! বুঝাল যে সামীরই ওর যোগ্য, কারন এখন তৌসিফ বিবাহিত.. আর তখন তৌসিফ ওকে আরেকটু জোরালো ভাবে বিশ্বাস করে আরও কিছুদিন যদি অপেক্ষা করত.... 
অনিন্দিতা: কিন্তু আপু সেতো আমার পক্ষ থেকে ওমন রেসপন্স পাবার পরই এটা করল.... 
নিলান্তি: তাও ঠিক! কিন্তু তৌসিফের আশাও তো নেই এখন তাইনা?? আফটার অল, ও ম্যারেড এখন.....
অনিন্দিতা: জানি আপু কিন্তু আমি আসলে কোন আশাই চাইনা.. এখন আছি এমন বেশতো আছি এখন ভাল চাকরি আর মা অনিন্দ্যকে ভাল লাইফ দিতে চাই.. আর কিছু না.. আর বিয়ে? আপু আমি এ নিয়ে কিছুই আর ভাবিনা এখন যা হবার দেখা যাবে আর সামীর ভাইকে এ্যাজ ইউজুয়াল বড়ভাই এর মতই দেখি আমি.....
নিলান্তি: ওকে অনিন্দিতা.... 
নিলান্তির কষ্ট হল, সত্যি কতটা আঘাতে অনিন্দিতা এমন ভাবছে! এক সময় তো ও নিজেও এমনটা ভাবত কিন্তু ওর জীবন রাঙ্গীয়ে দিতে এল শাফিন.. অনিন্দিতারও যেন এমন কেউ আসে.. নিলান্তি ভাবল, যদি সামীরের ভালবাসা সত্যি এমন গভীর হয় তবে ওদের মিল হওয়া উচিৎ....! 
শুভ্র আগামীকাল আসছে, রাতে ভিডিও কলে সবার সাথে মজা করে অনেক কথা বলল.. বিভা কিছুক্ষণ পর ফোনে নিলান্তিকে বলল যে ও কাল বিকেলে নিলান্তির বুটিকে আসবে.. 
পরদিন শুভ্র ভাবল আগে ও শাফিন নিলান্তির সাথে দেখা করবে তারপর একসাথে বাসায় যাবে... বিভা বিকেলে এল, কম কথাই বলে মেয়েটা তবে খুব স্ট্রেট ফরওয়ার্ড, অনিন্দিতাকে দেখে জড়িয়ে ধরল, এরপর অনিন্দিতা কাজে গেল, চা খেতে খেতে বিভাকে জিজ্ঞাসা করল নিলান্তি যে ও কি বাড়ির লোকের ওপর রেগে আছে? বিভা কাটকাট ভাবে বলল যে এখন এই কথা ছেড়ে ও যে কাজে আসল তা নিয়েই কথা হোক! নিলান্তি কথা বাড়াল না, বিভা একটি চেক দিয়ে গেল.... 
আধা ঘন্টা পর শুভ্র এসে শাফিনের রুমে গেল, শাফিন নিলান্তিকে ডাকল.. শুভ্র পরিচিত হল.. একটা ফুলের বুকে হাতে দিল আর কিছু চকলেট ওদের হাতে দিল, মজা করে বলল যে পাশের সুপার শপেই অনেক কিছু কিনছিল বাসার সবার জন্য.. বের হতে এক মেয়ের সাথে জোরে ধাক্কা! যা এক্সিডেন্ট! ভদ্রভাবে বুঝিয়েও লাভ হলইনা সে কটমট চোখে কতগুলো ত্যাড়া কথা বলল অনেক ক্ষণ... অবাক ব্যাপার... 
শাফিন: হাহাহাহা.. সেই মজা পেলাম! তবে দেইখ ভাই আজ যে মেয়ে তোমাকে এমন করল না একদিন সে ঠিকই তোমার কদর করবে... মিলায় নিও! হাহাহাহা..... 
শুভ্র: ভেরী ফানি ভাই... হাহাহাহা.... 
নিলান্তি: ভাইয়া খুব ভাল হয়েছে এসেছেন, ঘর মজায় ভরে থাকবে... 
বাসায় গিয়ে সবাই মজা করলেও মেঘের গোমড়া মুখ কারও নজর এড়াল না, শুভ্র জিজ্ঞাসা করে জানল, শুনল যে শানায়া অন্য কাউকে বিয়ে করবেনা বাবা জোর করে দিবেও না, কিন্তু এখন এভাবে কিকরে কি করবে বুঝছেনা! হুট করে এখন কিছু করতে চাচ্ছেনা! শুভ্র বলল যে কালই সবাই মিলে ও সহ আবার যাবে আর শানায়ার বাবাকে ও ঠিকই ঠিক করে নিবে! ভাগিনার জন্য এটুকু অবশ্যই করবে..... 
পরদিন ওরা গিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করল শানায়ার বাবাকে, গত কয়দিন এমনিও মন খুব নরম ছিল তার শানায়ার কেঁদে না খেয়ে খারাপ হওয়া অবস্থা দেখে আর শানায়ার চাচা ফুপু অনেক বুঝিয়েছে তাকে যে এসব পুরনো ঝগড়া আঁকড়ে রাখার মানেই নেই! আজ তাই সবার কথা শুনে হ্যাঁ বলে দিলেন! এতে সবাই কত্ত যে আনন্দিত হল বলার বাইরে..! মেঘের বিয়ে নিয়ে কেউ আর দেরী চাইলনা কারন এই দুই বাচ্চাই অনেকদিন হল খুব মানসিক চাপ সয়েছে , নিলান্তি কালই শানায়াকে ওর বুটিকে আসতে বলল প্রোগ্রামের ড্রেসের ব্যাপারে, শানায়া বলল ও হলুদ মেহেদীতে নিলান্তির প্রোগ্রামের মত সাজানো চায়... শানায়া এসে ওর পোষাক পছন্দ করল..... 
বাসায় ঠিক করা হল যে পরিবারের সবাই এবং নিলান্তির পরিবার মিলে পিকনিকে যাবে আহমেদ ইন্ডাস্টীর একটি রিসোর্টে, যা ঢাকার খুব কাছেই অনেক জায়গা জুড়ে মনোরম পরিবেশে.. শানায়াকেও ডাকা হল তবে ওর বাসা থেকে রাতে থাকা মানা করা হল, নিলান্তি অনিন্দিতার কথাও বলল যদি কারও আপত্তি না হয়! সবাই মেনে নিল.. উনিশ তারিখ শুক্রবার খুব সকালে পিকনিকে যাওয়া হল, সবাই খুব উপভোগ করল, এরমধ্যে রাতে লিলি ফোন দিল অনিন্দিতাকে! ধরলনা অনিন্দিতা, কিন্তু অবাক হল.....
পিকনিক থেকে পরদিন সন্ধ্যায় ফিরল সবাই, শুভ্র পরদিন নিজ বাসায় গেল, মেঘের বিয়ের সময় আবার আসবে.. ঠিক হল ফেব্রুয়ারীর দুই তারিখে বিয়ে হবে.. বিদেশে থাকা আপনজনরা অনেকে আসতে পারবেনা বলে আফসোস করল, শুধু শাফিনের মেজো বোন পারবে.... 
এরমধ্যে সেই প্রকাশক ফোনে জানাল যে নিলান্তির মায়ের বই এর কাজ প্রায় শেষ! আরও এক গল্পও তিনি লিখেছিলেন, দুটো গল্প একই বই এ, সামনে একুশে বই মেলায় বই প্রকাশিত হবে! নিলান্তি খুব উচ্ছসিত হয়ে শাফিনকে জানাল, বাসায় মিষ্টি নিয়ে গেল, মিসেস আহমেদ নিলান্তিকে বললেন মাকে এ বাসায় নিয়ে আসতে, আসার পর সবাই তাকে অজস্র অভিবাদন জানাল! খুশীতে চোখে পানি এল নিলান্তির মায়ের! গল্প নিয়ে সবাই জানতে চাইল, একসময় তিনি সব খুলে বললেন তার মৃত বাচ্চাকে নিয়ে ঘটনা.. সবাই কষ্ট পেল আর তাকে শান্তনা দিল.. 


এরপর কিছুদিনে মেঘের বিয়ের সমস্ত প্রস্তুতি শেষ হল....


আনন্দঘন পরিবেশে মেঘ শানায়ার হলুদ মেহেদী অনুষ্ঠান হল, বিয়ের দিন সবাই আসতে থাকল, অবাক ব্যাপার, বিভাও এল! তৌসিফ অনিন্দিতাকে কাছে আনতে! অনিন্দিতা তৌসিফের দিকে তাকালই না তৌসিফ কথা বলতে চাইলেও! কিন্তু বেশীক্ষণ পারলনা! তখন নিলান্তিও ওর আশেপাশে, অনিন্দিতা দেখল, তৌসিফের চোখজোড়া জলে পূর্ণ! করুন ভাবে তাকিয়ে আছে! অনিন্দিতা আড়ালে খুব কাঁদল! বুক ফেটে যাচ্ছে ওর! নিলান্তি কাছে গিয়ে কিছু না বলে শুধু জড়িয়ে ধরে রাখল! খুব দুঃখ পেল! ভাবল যে কি হবে ওদের পরিনতি??? কিছুক্ষন পর সায়নী আর দ্বীপ এসে অনিন্দিতার কান্নাভেজা চোখ দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে জানতে চাইল কি হয়েছে? একসময় ঘনীষ্ট বন্ধু ছিল, সে অধিকারেই বলল, অনিন্দিতা ওর অপুর্ণ প্রেমের গল্প বলল তৌসিফের পরিচয় গোপন রেখে! ওরা শান্তনা দিল অনিন্দিতাকে আর গল্প করল....
বিভা একটু রেগে বলল যে কেন অনিন্দিতা কথা বলতে চাচ্ছেনা তৌসিফের সাথে? এমনকি বাইরে কথা বলারও চান্স করে দিতে চাইল....
অনিন্দিতা: না আপু! আমি আসলে চাচ্ছিনা.. খুব লো হবে ব্যাপারটা...
বিভা: কি লো রে? সমাজ কিছু চাপিয়ে দিল আর ওমনি? আমার মাথা খাসনা.. ছেলেটার মুখ দেখছিস একবারও? এদিকে আমারও মেজাজ খারাপ করে দিছে এখানের এক বান্দর ছেলে....
অনিন্দিতা: বিভাপু আমি চাচ্ছিনা, আর না.. 
(চলে গেল ওখান থেকে) 

Bengali Story Books

নিলান্তি সব শুনল! রাগ হল নাসরীনের পরিবারের মেয়েদের ওপর! অনিন্দিতা কত সৎ! অথচ তাদের কি নিচু চিন্তা ওকে নিয়ে! কিন্তু কেন? নাসরীন খালা তো স্বভাবে এমন নয়!
নিলান্তি ভাবছে, ভাগ্য ব্যাপারটা কি অদ্ভুত! একই জায়গায় দুই ভালবাসার মানুষ আজ বৈধভাবে এক হল, আর আরেক জোড়া দুঃখের অতলে! নিজের ভাগ্যকে খুবই ভাল বলল নিলান্তি যে নিজের করে পেয়েছে শাফিনকে, মাঝে কিছু ঝড় যাওয়ার পরও! কিন্তু অনিন্দিতা তো অন্য বহু দিকেও খুব কষ্ট পেয়েছে, এদিকেও এমন কেন হতে হল! নিলান্তি দোয়া করল অনিন্দিতা ওর প্রাপ্য সুখ যেন অবশ্যই পায়..! অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি এসে কিছু হাসি মজার কাজ করে আংটি খেলার আয়োজন হল, নিলান্তি আর মন খারাপ করে থাকলনা, সন্তানসম মেঘের এই দিনে এটা ঠিক হবেনা! নিলান্তি তিন্নি আর ইরাকে ডেকে বলল আংটি বাটিতে না রাখতে....
তিন্নি: হ্যারে নিলা তুই তো দেখি দুষ্টু হয়ে গেছিস.. ব্যাপার কিরে...
ইরা: তা যা বলেছ.. হাহাহাহা....
শুভ্র: ওয়াও সো নাইস আইডিয়া...
নিলান্তি: আরে ভাই.. আস্তে বলেন...
শুভ্র: ওহোকে ভাবী.. চিল..!!
খেলা শেষে খুব হাসাহাসি হল, সবাই শুভ্রকে বলল বিয়ে করতে, শুভ্র একটু চুপ থেকে কয়েক বছর আগে প্রেম থেকে পাওয়া আঘাতের কথা বলল, হেসে বলল, ও একবছর কষ্টে থেকে নিজেকে পরে তৈরী করেছে দ্বিগুন প্রানোচ্ছল ভাবে! আপন মানুষদের জন্য! নাফিসা ভাইকে জড়িয়ে ধরল! একসময় শুভ্র হেসে বলল, সেদিনের রাস্তায় ধাক্কা খাওয়া মেয়েকে আজ ফাংশনেও দেখল! তখন ব্যাস্ততায় কাউকে বলা হয়নি! সবাই ভাবল বৌপক্ষের কেউ! শানায়া বলল খোঁজ নিবে! শুভ্র বলল, ও বেশ মজাই পেয়েছে মেয়েটার এতো রাগী ভাবে! গল্প আড্ডা শেষে সবাই নিজ ঘরে গেল, নিলান্তি হঠাৎ শাফিনকে জড়িয়ে ধরল, শাফিন চমকে উঠে একটু ঠাট্টা করল কিন্তু নিলান্তির ভেজা চোখ দেখে ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করল যে কি হয়েছে.. নিলান্তি বলল কিছু অনুভূতির কথা! ও খুবই ভাগ্যবতী শাফিনকে পেয়ে! শাফিন হেসে জিজ্ঞাসা করল, হঠাৎ এই কথা কেন? তখন নিলান্তি অনিন্দিতার সব কথা বলল, সবার ভাগ্য ভাল হয়না কিন্তু নিলান্তি সত্যি খুব লাকি! শাফিন নিলান্তির হাত দুটি শক্ত করে ধরে বলল, ও নিজেও খুব লাকি! ওর জীবনেরও তো কোন দিশা ছিলনা! অপূর্ণই হত নিলান্তি না এলে!
পরদিন সকালে সবাই শানায়াকে নিয়ে হাসি মজায় মেতে থাকল, শানায়া প্রথমে একটু ভয় পাচ্ছিলো কিন্তু সবাই ভয় কাটাল, শানায়া নিজেকে ভাগ্যবতী ভাবল যে জীবনসঙ্গীর পাশাপাশি মনের মত পরিবারও পেয়েছে..!! বিকেলে বৌভাত প্রোগ্রামেও তৌসিফ করুন চোখে একদৃষ্টে শুধু তাকিয়ে থাকল অনিন্দিতার দিকে.. একবার লিলি সুযোগ বুঝে অনিন্দিতার হাত ধরে বলল ওর কিছু বলার আছে! অনিন্দিতা অবাক হল কিন্তু কথা বলবেনা, আর কোন সমস্যা হোক লিলির তা ও চায়না, হাত ছাড়িয়ে চলে গেল, লিলি থামতে বললেও শুনলনা.. অনুষ্ঠান শেষে বাসার সবাই নাসরীন আর ওর স্বামীকে খুব থাকতে বলল রাতে, হঠাৎ নাফিসা কে ছাদে ডেকে গোমড়া মুখে নাসরীন বলল যে অনিন্দিতা কেন এত আসে? নাফিসা বলল, তারা কেউই খারাপ কিছু দেখেনি অনিন্দিতার মাঝে আর নিলান্তি খুবই বুদ্ধিমতী! অনিন্দিতার মাও এসেছিল শুনে হঠাৎ অন্যরকম ভাবে রাগে ফুঁসল নাসরীন! বলল ঐ মহিলাকে নিয়ে বলার পরও কেন ওরা এলাও করল? নাফিসা বলল, যদি অনিন্দিতার সাথে তৌসিফের বিয়ে হতও খারাপ হতনা, পড়ালেখায় ভাল, চাল চলনে লিলির চেয়ে স্মার্ট! আর নাসরীনও টিপিকাল মহিলা ছিলনা! বলত, বিয়েতে ছেলেমেয়ের দুজনকে পছন্দ হওয়া খুব জরুরী আর এতও টিপিকাল ছিলনা যে বাবা মার দোষ দিয়ে বাচ্চাদের বিচার করবে, আজ তাহলে এমন কেন???
নাসরীন: তুই বুজবিনা রে....
নাফিসা: বুঝতে চাই! কারন তুই তো টিপিকাল ছেলের মাদের মত ছিলিনা...
নাসরীন: ঘুম পাচ্ছেরে.. চল যাই.....
নিলান্তি ওদের মিষ্টি খেতে ডাকতে এসেছিল, সব শুনল, এখন চলে গেল, খুব অবাক হল....!!
দুদিন পর শাফিনের মেজো বোনদের ফ্লাইট, যাবার সময় ফাহিম আর ফাইজা বলল যে ভিডিও চ্যাটে সবাইকেই রেগুলার করে যোগাযোগ করতেই হবে ওদের সাথে...
পরদিন তানি মিমিকে নিয়ে বাসায় এল, বলল যে মিমি দিপুর প্রেম চলছে, বিয়েও হবে তাড়াতাড়ি! মিমি লজ্জা পেল, নিলান্তি খুশীতে বাসায় সবাইকে বলল, দিপুকে ফোনে সবাই অভিবাদন জানাল, বাসায়ও ডাকল....
পহেলা ফাল্গুনে আলাইনার গানের প্রোগ্রাম আছে, সকালে স্কুলে আর বিকেলে একাডেমীতে, অনিন্দিতাও সেদিন গাবে, একাডেমী থেকে কার্ড দেয়া হল নিলান্তিকে, যদি সময় বের করে এসে গায় সেজন্য, একসময়ের কৃতী ছাত্রী ও শিক্ষিকা ছিল এখানের বলে! নিলান্তির ভাগনি আইজা ক্লাস থ্রীর ছাত্রী, এই প্রথম স্কুলে গাবে, নিলান্তি আইজা আর আলাইনার একই রকম কমলা রং ছোট সুন্দর শাড়ী বানিয়েছিল স্কুলে পরতে, আর সুরছন্দতে পরার জন্য নিলান্তি আর আলাইনার একই রকম টিয়া রং শাড়ী ডিজাইন করল, ভোরে উঠে সব বড়দের থেকে দোয়া নেয়াল আলাইনাকে, সুজানাকে ভিডিও কল দিয়েও দোয়া নেয়াল, বাসার সবাই মহা উৎসাহে স্কুলে গেল! টিচাররা খুব সুনাম করলেন আলাইনার, দুপুরে খেয়ে মা মেয়ে একই ভাবে সাজল, একই রং চুড়ি, মালা, টিপ পরে! নিলান্তি আইজাকেও আজ একাডেমীতে নিয়ে যাবে অনুষ্ঠান দেখাতে, ওকেও সেখানে গান শিখতে ভর্তি করা হবে, খালার মতই গানের টান আছে তাই! অনিন্দিতা বিকেলে এল একসাথে যাবে বলে, নিশা অফিসে তাই নিলান্তি মাকে বলেছিল আইজাকে নিয়ে আসতে, অনিন্দিতা আইজাকে কোলে নিয়ে থেকে আদর করল, আর সবাইকে বলল ছোটদের গানের ক্লাস ও নেয় তাই খুব ভাল শিখাবে আইজাকে.. হঠাৎ নাফিসা ঘরে ঢুকে খুব বেশীই অবাক হল এক ব্যাপারে অনিন্দিতার কোলে আইজাকে দেখে, দুজনের মুখ কোথাও কিভাবে যেন মিল পাওয়া যাচ্ছে মাঝেমাঝে..! পরদিন ভ্যালেন্টাইন্স ডে, সবাই মিলে মেঘ শানায়ার জন্য তাদের রেস্টুরেন্টে এক রুম বুক করে রাখল নিলান্তির আইডিয়ায়, মেঘ শানায়া খুব ধন্যবাদ জানাল ওকে! বিকেলে শাফিন নিলান্তি ফুচকা খেল, এক মনোরম লেক পার্কে ঘুরল, শাফিন নিলান্তির জন্য ঝুমকো কিনে পরিয়ে দিল.. রাতে নিলান্তি শাফিনকে একটা শার্ট গিফ্ট করল যা সারপ্রাইজ ছিল... পরদিন বাসার বড়রা সবাই মিলে মেঘ শানায়াকে নেপালে হানিমুনে যাবার জন্য টিকেট গিফ্ট করলেন.....
নিলান্তির মার বই বেশ ভালই চলছে বইমেলায়, এরমধ্যে দু তিনদিন তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল ছেলেমেয়েরা সময় করে.. নিলান্তি অনিন্দিতাকে বলেছিল ওর মাকেও আনতে যেহেতু তার সাহিত্য চর্চা পছন্দ, তিনি পরদিন শুক্রবারে এলেন, বইয়ের স্টলে নিলান্তির মার পাশে বসে থাকলেন... সন্ধ্যায় ইতঃস্তত ভাবে নিলান্তিকে বললেন রবিবারে অনিন্দিতা কে ছুটি দেয়া যাবে কিনা, নিলান্তি দিল, অনিন্দিতার মা বাড়িতে অদ্ভুত কাজ করলেন! প্রায় সময় মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বারবার বলছেন, তাকে ছাড়া থাকার অভ্যাস করতে! অনিন্দিতা কাঁদল, মায়ের মরণব্যাধী হয়নি তো? জোর করে পরদিন ঢাকায় এনে ভাল ডাক্তার দেখাল, নিলান্তি কিছু সাহায্য করতে চাইলে নিলনা, নিজের জমানো টাকায় দেখাবে বলল.. নিলান্তি বকা দিল, অনেকগুলো টেস্ট জরুরী কারন তিনি এমন কথা বারবার বলছেন সিরিয়াস রোগের সম্ভাবনা বেশী, অনিন্দিতা জমানো টাকায় কত পারবে! তাছাড়া কোন স্টাফ খুব বিপদে পড়লে সাহায্য করাই হয়, আর অনিন্দিতাকে আর দশজনের মত শুধুই স্টাফ ভাবেনা এতদিনে বুঝা উচিৎ! অনিন্দিতা কি বলে ধন্যবাদ দিবে ভেবে পেলনা শুধু কেঁদে গেল! মাঝের এক সময়ে ওকে বাসায় আনা হল, বাসার সবাই শান্তনা দিল, সবাই জানে যে মা ছাড়া ওর বড় কেউ নেই! নিলান্তি একফাঁকে নাফিসাকে বলল যে ওর নিজে দেখা, অনিন্দিতা পুরো এড়িয়ে চলে তৌসিফকে! সেদিন বিভার সাথে বলা কথার ব্যাপারেও বলল, যদি অনিন্দিতা তৌসিফের ঘাড়ে ঝুলতেই চাইত তাহলে এত সুযোগ মিস করতনা! তবু নাসরীনরা ওকে দোষ দেয় যা অন্যায়! নাফিসা শুনে বলল এরপর নাসরীন এমন বললে চুপ থাকবেনা.. এই সত্যগুলো সব বুঝাবে..! টেস্টের রেজাল্ট পেতে কিছুদিন লাগবে, এই কদিন সবাই তাকে বাসায় থাকতে বলল, কিন্তু তিনি চাইলেননা, মেয়ের হোস্টেলে থাকবেন বললেন....
পরদিন নিলান্তি খবর পেল, ওর আমেরিকার সেই ম্যাগাজিনে পাঠানো ছবিগুলো বেশ ভাল ক্যাটাগরি পেয়েছে, শীঘ্রই ম্যাগাজিনে ছাপবে! পুরষ্কারের টাকাও পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে.. নিলান্তি খুশীতে সবাইকে জানাল, বিকেলে আরও একটা সুখবর পেল ফোনে এবং মেইলে, ইতালীতে বঙ্গ সম্মেলনের আয়োজন হবে, ও সফল তরুন উদ্যোক্তা হিসেবে আমন্ত্রীত! তখনই জানাল শাফিনকে! আর নিলান্তির বুটিক শাফিনের অফিসের সবাইও জেনে অনেক অভিবাদন জানাল, বুটিকের মেয়েরা কেক আনাল, আর শাহেদ শাফিন মিলে মিষ্টি কিনে অফিসে সবাইকে দিল, অফিস স্টাফরা সবাই ফুলের তোড়া দিল! অনিন্দিতা ওর মাকে জানাতে তিনি এসে জড়িয়ে ধরলেন নিলান্তিকে, বাসায় সবাইও খুব আয়োজন করছে.. শাহেদ আগেই অনেক মিষ্টি কর্মচারীদের দ্বারা বাসায় পাঠাল, এলাকার পরিচিতদের বাসায় দেয়া হবে.. নিলান্তি সন্ধ্যায় ফেবিওলাকে বাসায় আসতে বলল, সবাই মিলে তার সাথে ইতালীর জায়গা নিয়ে গল্প জমাল.. পরদিন সকালে শাফিন শাহেদ শুনল যে ব্যাবসায়িক কাজে দুতিন দিনের জন্য ইতালী যেতে হবে, শাহেদ শুধু শাফিনকে যেতে বলল একই সময় নিলান্তিরও সম্মেলন বলে! মার্চের পাঁচ তারিখে সম্মেলন, আর তিন চার তারিখে শাফিনের কাজ... পরদিন নিলান্তির একাউন্টে পুরষ্কারের টাকা এল, অফিস শেষে তাদের বাসায় গেল যারা মডেল হয়েছিল তাদের অংশ দিতে, সবার সাথে সময় কাটাল.. পরে নিশা, অর্নব এডেলিনের অংশও দিল.. পরদিন আভা, রবিন, দিলরুবার জন্য এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের ড্রেস উপহার নিয়ে গেল, আভার ত্যাগের জন্যই তো আজ এই অর্জন! আর বলল বঙ্গ সম্মেলনে পরার ড্রেস যেন আভা ডিজাইন করে দেয়! আনন্দিত হল ওরা সবাই... এদিকে ফেবিওলা বলল, ও দেশে যাবে নিলান্তিদেরই সাথে, কিছু কাজ আছে তখনই করে নিতে! আর আন্নাবেল আছে ওখানে, ও আগেই শাফিন নিলান্তিকে দাওয়াত করে রেখেছে! খুব খুশী নিলান্তি! বাসার সবাই আফসোসে বলল, এটা শাফিন নিলান্তির দ্বিতীয় হানিমুন হতে পারত কিন্তু হলনা! শাফিন মজা করে বলল যে এটার পরেই নাহয় হবে! সবাই হাসল কিন্তু সিরিয়াসলি বলল যে হতে ই হবে! নিলান্তির মনে আনন্দ বয়ে গেল.. এদিকে সম্মেলনের জন্য নিলান্তি সবার সাহায্যে স্পীচ ও প্রেজেন্টেশন বানাচ্ছিল কদিন ধরে.....
অনিন্দিতার মার টেস্টগুলির রিপোর্ট এল, ব্লাড প্রেসার ওঠানামা করছে, হাই এর দিকে যাচ্ছে যা হঠাৎ অতিরিক্ত চিন্তায় হয়! অনিন্দিতা বলল, এখন বাড়ির অবস্থা একটু নিয়ন্ত্রনে আর ও কাজ করছে ভাল পরিবেশে ভাল বসের অধীনে, অনিন্দ্যও ভাল পরীক্ষা দিল তাহলে কি এত চিন্তা! মা স্মিত হাসলেন, নিলান্তি অনিন্দিতাকে বলল মায়ের জন্য দরকারি ঔষধ রেগুলার পাঠাতে, নিলান্তির মাকে অর্নব হাসপাতাল নিয়ে গেল, তিনি শান্তনা দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন অনিন্দিতার মাকে, অনিন্দিতার মা নিরবে কাঁদলেন! অর্নব বারবার জানতে চাইল অনিন্দিতা সব ম্যানেজ করতে পারবে কিনা কিছু সাহায্য লাগবে কিনা.. পরদিন সকালে অনিন্দিতার মাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়া হল...
বিকেলে আভা এল নিলান্তির ড্রেস নিয়ে, নিলান্তি শাফিন আগে বাসায় এল, সবার থেকে দোয়া নিল, সবাইকে নিজের খেয়াল রাখতে বলল, রাতে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুমাল....
পরদিন সকাল সকাল ফেবিওলা এল, নিলান্তির মা বাবা অন্য আপনজনরাও এল বিদায় দিতে, বের হয়ে দেখল অনিন্দিতাও এসেছে, শুভকামনা দিল, অর্নব আর শাহেদ এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে এল... যথাসময়ে দুজনে পৌঁছাল, বিকেলে আন্নাবেলের বাসায় দাওয়াতে গেল.. আর ফেবিওলা ওদের সেই চার্চ আর অর্ফানেজে নিয়ে গেল যেখানে নিলান্তি প্রায় সময় কাটাত অনাথ বাচ্চাদের সাথে যখন ও সবার কাছে মৃত ছিল.. অর্ফানেজের কিছু বাচ্চারা দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরল নিলান্তিকে.. শাফিনেরও খুব ভাল লাগল.. অনেক ক্ষণ থাকল সেখানে.. রাতে মার্থা ফোন দিল, জরুরী কাজে ঢাকার বাইরে ছিল বলে বিদায় জানাতে পারেনি, শুভকামনা দিল...


Read All
  • bengali novel pdf free download
  • online bangla novel reading
  • all bangla books pdf free download
  • bangla romantic novel pdf free download
  • bengali ghost story books pdf free download
  • bengali books pdf free
  • bengali story book download
  • best books in bengali
  • bangla boi free download site
  • bangla boi bangla
  • bangla book website
  • bangla classic books
  • all bangla ebook
  • bangla golper boi pdf file free download
  • bangla golper boi pdf download
  • bd book pdf
  • bangla novel pdf file download
  • bangla novel pdf free download
  • bengali books online download
  • bengali spiritual books pdf free download